পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটে যোগ দিচ্ছে না জার্মানি ও পোল্যান্ড। ইরান ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনার মাঝে পোলিশ প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধে তার দেশ কোনো ধরনের সেনা মোতায়েন করবে না। সরকারি এক বৈঠকের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টাস্ক জানান, ইরান সীমান্তে কোনো অভিযানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা পোল্যান্ডের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পোল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা সন্দেহের অবকাশ নেই। পোল্যান্ড বর্তমানে ইউক্রেন সীমান্তের যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকেই বেশি মনোযোগী। টাস্ক উল্লেখ করেন, পোল্যান্ডের স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী বর্তমানে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। তাই দূরবর্তী কোনো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়ারশ। অন্যদিকে, জার্মান চ্যান্সেলরও একই সুরে কথা বলেছেন। তার মতে, চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই। বরং আলোচনার মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। ইরান বনাম আমেরিকা-ইসরায়েল জোটের সরাসরি যুদ্ধ আজ তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করল। পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনীতি এখন খাদের কিনারায়, যেখানে একদিকে তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। খারাগ দ্বীপে মার্কিন বোমাবর্ষণ ও জ্বালানি যুদ্ধের হুমকি ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র 'খারাগ দ্বীপে' মার্কিন বিমান বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপ দিয়েই রপ্তানি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত তেল অবকাঠামো রক্ষা করা হলেও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাল্টা জবাবে আইআরজিসি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে ঘোষণা করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। আমেরিকা তাঁর তথ্যের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে এ পর্যন্ত ১,৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮,৫৫১ জন আহত হয়েছেন। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৭৩ জন। যুদ্ধ এখন আর ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাতার, বাহরাইন ও ওমানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। সৌদি আরব পাঁচটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ওমানে ড্রোন পতনে দুইজন নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক নেতৃত্ব যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তার খাতিরে বাহরাইন ও সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য 'ফর্মুলা ওয়ান' রেস স্থগিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ২,৫০০ মেরিন সেনাসহ যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ত্রিপোলি' মোতায়েন করেছে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী। সংকট মোকাবিলায় কানাডা জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি ৩৬ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বিমান ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সাধারণ মানুষকে বিপাকে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্ব এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়বে। কূটনৈতিক প্রভাব হ্রাসের ভয়ে অনেক দেশ এখন ওয়াশিংটনকে এড়িয়ে সরাসরি তেহরানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিস্ফোরক দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভবত ইরানকে নেপথ্যে থেকে সহায়তা করছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রেক্ষিতে পুতিন কি ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছেন? জবাবে নিজের চিরাচরিত ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয় তিনি কিছুটা সাহায্য করছেন।" তবে এই সহায়তার পেছনে তিনি সরাসরি বাইডেন প্রশাসনের ইউক্রেন নীতিকে দায়ী করেছেন। ট্রাম্পের মতে, যেহেতু আমেরিকা ইউক্রেনকে সর্বাত্মক সাহায্য করছে, তাই পুতিনও ইরানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে একটি 'পাল্টা পদক্ষেপ' হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন যে, কেবল রাশিয়া নয়, চীনও একই ধরনের সমান্তরাল কৌশল গ্রহণ করতে পারে। ইতিপূর্বে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্ত অতি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। যদিও পেন্টাগনের বর্তমান প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে, ইরান ইস্যুতে রাশিয়া বা চীনের ভূমিকা খুব একটা বড় নয়, তবে ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।
লেবাননে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এবার এই তালিকায় যোগ দিলেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের স্থল অভিযান হবে একটি ‘ভয়াবহ ভুল’। বিপজ্জনক এই পরিস্থিতির মুখে বৈরুতের জন্য ৯ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০.৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে মাদ্রিদ। আলবারেস স্পষ্ট করে বলেন যে, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয় এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করা জরুরি। একইসাথে তিনি হিজবুল্লাহর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরায়েল অভিমুখে রকেট হামলা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেন আলবারেস। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরান বিরোধী অভিযানে স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সম্পর্কচ্ছেদের হুমকি দিয়েছিলেন, তারপরও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর চলমান 'গজব লিল-হক' অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪৬৪ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ৬৬৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই অভিযানের সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে তালেবানের ১৮৮টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩১টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। মন্ত্রী আরও বিস্তারিত তথ্যে জানান, অভিযানে আফগান তালেবানের অন্তত ১৯২টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান জুড়ে ৫৬টি কৌশলগত অবস্থানে 'কার্যকরভাবে' আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে আঘাত হানা একটি ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে রহস্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের গেরাশ অঞ্চলে অনুভূত ৪.৩ মাত্রার এই কম্পনটি কি কেবলই প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি তেহরানের কোনো গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার ফল—তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে পেন্টাগন ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ভূমিকম্প নাকি পারমাণবিক পরীক্ষা? স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় গেরাশ এলাকায় এই মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে এটি একটি সাধারণ ভূকম্পন এবং এতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন এক তত্ত্ব ডালপালা মেলছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনাকে অনেকেই তেহরানের ‘গোপন শক্তি প্রদর্শন’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মত ও রহস্যের সূত্রপাত: ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালা অঞ্চলটি প্রাকৃতিকভাবেই ভূমিকম্পপ্রবণ। ফলে ৪.৩ মাত্রার এই কম্পন স্বাভাবিক টেকটোনিক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে। তবে সন্দেহ বাড়ছে অন্য একটি কারণে। ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় অত্যন্ত গোপনীয় ‘টোনোপাহ টেস্ট রেঞ্জ’ (Area 51-এর নিকটবর্তী) এলাকায় শতাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের স্পর্শকাতর এলাকায় কাছাকাছি সময়ে এই ভূকম্পন পারমাণবিক পরীক্ষার জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে কি না, তা যাচাই করতে স্যাটেলাইট ইমেজ এবং সিসমিক ডেটা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুদ্ধকালীন প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়া ও লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দফায় দফায় হামলার পর তেহরান বারবার প্রতিশোধের হুমকি দিয়ে আসছিল। এর মাঝেই ফাত্তাহ হাইপারসনিক মিসাইল প্রদর্শন এবং এখন এই রহস্যময় ভূমিকম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই পারমাণবিক বিস্ফোরণের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি, তবে গেরাশের এই কম্পন যে সাধারণ ভূমিকম্পের চেয়ে বেশি কিছু হতে পারে—সেই আশঙ্কায় কাঁপছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটিতে সরাসরি ‘আগুন ধরিয়ে দেওয়া’ হবে। সোমবার আইআরজিসি-র প্রধান কমান্ডারের উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি এক বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালী এখন থেকে বন্ধ। যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে পার হওয়ার চেষ্টা করে, তবে বিপ্লবী গার্ড এবং নৌবাহিনীর যোদ্ধারা সেই জাহাজগুলো পুড়িয়ে দেবে।” উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে ইরান দাবি করেছে, তারা ইতিমধ্যেই একটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ‘এথে নোভা’ (ATHE NOVA) নামক ওই ট্যাঙ্কারটি দুটি ড্রোনের আঘাতে বর্তমানে জ্বলছে বলে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। কেন এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সরকারের পতনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার খবর পাওয়া যায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর খবরের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ অস্থিরতা শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতিমধ্যেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনি সংকেত: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটের প্রভাবে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রুট দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই আক্রমণকে সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং একটি ‘গুণ্ডামিপূর্ণ আচরণ’ (gangster-like conduct) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে পিয়ংইয়ং। আজ রোববার (১ মার্চ, ২০২৬) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই অবস্থান ব্যক্ত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে পরিচালিত এই হামলা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও মদদে সংঘটিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার মুখপাত্রের মতে, ওয়াশিংটনের এই সামরিক পদক্ষেপ কেবল একটি অবৈধ আগ্রাসনই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অবমাননা। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আধিপত্যবাদী এবং সামরিক হুমকির যে চেহারা, তা আজ এই হামলার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একে ‘নির্লজ্জ গুণ্ডামিপূর্ণ আচরণ’ বলে অভিহিত করেছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এ ধরনের আগ্রাসন কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না এবং কোনো অবস্থাতেই তা সহ্য করা হবে না। তারা বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘স্বার্থপর ও আধিপত্যবাদী’ উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এক বিশাল সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ পেয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। উত্তর কোরিয়া এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসী মনোভাবকেই দায়ী করছে।
আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এবং তার দাসদের ইতিহাস সংরক্ষণে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কোর্ট। ফিলাডেলফিয়ায় ওয়াশিংটনের বাড়িতে দাসদের স্মরণে তৈরি স্থায়ী প্রদর্শনী এবং ভিডিও ইনস্টলেশন সরিয়ে ফেলার যে তোড়জোড় চলছিল, আদালত তাতে সরাসরি বাধা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশেষ একজিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে আমেরিকার পাঠ্যক্রম ও সংস্কৃতি থেকে 'কলঙ্কিত ইতিহাস' সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মূলত আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা জনকদের নেতিবাচক ভাবমূর্তি আড়াল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে আদালতের বিচারক ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টাকে জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাস '১৯৮৪'-এর সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে ইতিহাস বিকৃত করার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। বিচারকের স্পষ্ট বার্তা—কোনো রাজনৈতিক নির্দেশে বাস্তব ইতিহাসকে মুছে ফেলা সম্ভব নয় এবং এটি সম্পূর্ণ অন্যায়। এই রায়ের ফলে আমেরিকার দাসপ্রথার সেই নির্মম ইতিহাস জনসমক্ষে প্রদর্শিত হওয়ার অধিকার বজায় থাকল।
ওয়াশিংটন ডি.সি. — মধ্যপ্রাচ্যে আবারো ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ। ইরানকে একটি কঠোর পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তিতে বাধ্য করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা সর্বোচ্চ চাপের নীতিকে চূড়ান্ত রূপ দিচ্ছে। একদিকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের পরোক্ষ আলোচনা, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে সামরিক উপস্থিতিকে নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। সামরিক তৎপরতা ও ট্রাম্পের আল্টিমেটাম - প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পেন্টাগন পারস্য উপসাগরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর সাথে যোগ দিতে পাঠিয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-কে। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা: হয় একটি ব্যাপকভিত্তিক চুক্তিতে আসা, না হয় "ভয়াবহ সামরিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়" মেনে নেওয়া। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন কেবল প্রদর্শনীর জন্য নয়; বরং ২০২৫ সালের জুন মাসের সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিধ্বংসী সংঘাতের পর ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় রাখতেই এই রণকৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। জেনেভা বৈঠক: কূটনীতির শেষ চেষ্টা? - মঙ্গলবার থেকে জেনেভায় শুরু হওয়া এই পরোক্ষ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি পৃথক বৈঠক করেছেন। আলোচনার অমীমাংসিত সূত্রগুলো : পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা: ওয়াশিংটন দাবি করছে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: ইসরায়েলের কড়া হুঁশিয়ারির মুখে ট্রাম্প প্রশাসন এবার ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও চুক্তির আওতায় আনার জেদ ধরেছে। নিষেধাজ্ঞা বনাম নিরাপত্তা: তেহরান তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতির চাকা সচল করতে অবিলম্বে জ্বালানি ও ব্যাংকিং খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ইরানের পাল্টা হুঙ্কার - মার্কিন চাপের মুখে তেহরানও তাদের সামরিক শক্তির জানান দিচ্ছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) হরমুজ প্রণালীতে ‘ইন্টেলিজেন্ট কন্ট্রোল’ নামক একটি বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ মহলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই আলোচনার টেবিলে তোলা হবে না এবং যেকোনো উস্কানির কঠোর জবাব দেওয়া হবে। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও অনিশ্চয়তা - ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং গত বছরের সামরিক সংঘাতের ফলে এই আলোচনাকে ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানে বিক্ষোভকারীদের প্রতি ওয়াশিংটনের খোলাখুলি সমর্থন এবং স্টারলিংক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট সচল রাখার বিষয়টি তেহরানকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন জেনেভার একটি বন্ধ দরজার বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। চুক্তি না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।