বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের কাছে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কয়েকটি কোচ লাইনচ্যুত হওয়ার পর উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ৮টার মধ্যে দুর্ঘটনায় পড়া ৯টি কোচের মধ্যে ৪টি উদ্ধার করে পাবনার ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৫টি কোচ উদ্ধারের কাজ এখনও চলছে। সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের ইনচার্জ খাতিজা খাতুন জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া কোচগুলো ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি কোচ উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে লাইন মেরামতের কাজও চলছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে, সান্তাহার জংশন থেকে ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে আদমদীঘি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায়। ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, লাইনে চলমান সংস্কার কাজের কারণে সেখানে সতর্কতার জন্য লাল পতাকা রাখা ছিল। কিন্তু চালক সেই সংকেত না মেনে ট্রেন চালালে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল এবং আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার চার ঘণ্টা পরে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ৪টি বগি লাইনে তুলে সরানো সম্ভব হয়েছে। উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার যাত্রী এই ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ পদ্ধতি চালু করেছে। এ পদ্ধতিতে দুর্ঘটনাস্থলের একপাশে ট্রেন থেকে যাত্রীরা নেমে হেঁটে বা অন্য যানবাহনে পার হয়ে অপেক্ষমান ট্রেনে উঠে যাচ্ছেন।
বগুড়ার শেরপুরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে দেড় বছরের এক শিশুকন্যা। গুরুতর আহত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুটির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং শিশুটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আতিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় আহত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শিশুটির চিকিৎসার সকল ব্যয়ভারও তিনি গ্রহণ করেছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে, যখন ঢাকা থেকে রংপুরগামী ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি মাইক্রোবাস বগুড়ার শেরপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শিশুটির আরও তিনজন স্বজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, নিহতদের মরদেহ রংপুরের কাউনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে দাফন সম্পন্ন হবে। নিহতরা ঈদ উদযাপনের জন্য পরিবার নিয়ে রংপুর যাচ্ছিলেন।
বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে একটি মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায়। নিহতরা হলেন শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং গাড়ির ড্রাইভার রিন্টু (৪৭)। আহতদের মধ্যে আছে শিশু ফাতেমা (১০) ও আরহাম (৭)সহ নয়জন। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ঈদের ছুটিতে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। ছোনকা এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তে গাড়িতে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতায় যাত্রীদের বের হওয়া খুবই কঠিন ছিল। শেরপুর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন জানিয়েছেন, আহতদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন মারা যান। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার পর নিহতদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আমজনতার দলের মহাসচিব তারেক রহমানের বাবা আব্দুল লতিফ আর নেই। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তারেক রহমান নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ইফতারের আগ মুহূর্তে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বাবা আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। তিনি লেখেন, “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
বগুড়ায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সাইফুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহত সাইফুল ইসলাম শহরের মাহবুব নগর এলাকার নওশেদ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের খতিব ছিলেন এবং পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাহবুবনগর এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ভর্তি করেন। হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বিকেলে স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পথেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের ছেলে অভিযোগ করেন, জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। বগুড়া সদর থানা–এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুনিরুল ইসলাম জানান, জমি–সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের জন্য আগামী ১০ মার্চ বগুড়া সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিবগঞ্জের ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় শাহ সুলতান বলখী (রহ.) মাজার মসজিদে জুমার নামাজের আগে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এই সফরের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের কল্যাণে সরকারের নতুন এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সূচনা করবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের (পাইলটিং) জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সুবিধাভোগী ও কর্মসূচির বিস্তারিত: প্রকল্পের রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি নিবন্ধিত পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। মূলত পরিবারের নারী সদস্যরা এই কার্ডের জন্য নিবন্ধিত হবেন। একটি ওয়ার্ডের যোগ্য বিবেচিত সকল পরিবারকেই এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন: কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সুবিধাভোগী নির্বাচনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী চার মাস এই পাইলটিং কার্যক্রম চলবে, যার সফলতার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
পহেলা বৈশাখ অর্থাৎ আগামী ১৪ এপ্রিলের আগেই বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. আবদুর রহমান মাছউদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। নির্বাচন কমিশনার জানান, কালবৈশাখী বা বর্ষা মৌসুমের সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকতেই এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ শেষ করতে চায় কমিশন। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে জয়ী হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একাধিক আসনের সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে ইসি আসনটি শূন্য ঘোষণা করে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের নিয়ম রয়েছে। অন্যদিকে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় আরপিও অনুযায়ী ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, এই আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করে ভোট নেওয়া হবে। তবে এই আসনের ক্ষেত্রে আগের বৈধ প্রার্থীদের নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। নির্বাচন কমিশন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দুই আসনের পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
দীর্ঘ সময়ের আক্ষেপ আর বঞ্চনার ইতি টেনে অবশেষে মন্ত্রিসভায় কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব পেল বগুড়াবাসী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত মঙ্গলবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। তাঁর এই প্রাপ্তিতে পুরো জেলাজুড়ে বইছে খুশির জোয়ার। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী পান ৯৩ হাজার ভোট। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই জননেতা বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি বিপুল ভোটে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তি এক ঐতিহাসিক ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকে আর কেউ এই সুযোগ পাননি। ফলে মীর শাহে আলমের মাধ্যমে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনের সবকটিতেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। মীর শাহে আলমের পাশাপাশি জয়ী হওয়া আবদুল মহিত তালুকদার ও মোরশেদ মিল্টনও এক সময় সফল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এখন জাতীয় পর্যায়ে বগুড়ার ভাগ্য বদলে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মীর শাহে আলম বলেন, “জনগণ যে বিশ্বাস নিয়ে আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি তার মর্যাদা রক্ষা করব। শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই বগুড়াকে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন উন্নয়নের মডেলে রূপান্তর করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। দল ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে অবস্থিত হযরত শাহ সুলতান বলখী মাহীসাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে তিনটার দিকে তিনি এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-২ আসনের বিএনপি মনোনয়নপ্রত্যাশী মীর শাহে আলমসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। শিবগঞ্জে পৌঁছালে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও হাত নেড়ে স্বাগত জানান। এতে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমান রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার। এর আগে দুপুরে তিনি বগুড়া শহরের হোটেল নাজ গার্ডেনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।