ভাইরাল

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ংকর ‘বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জের’ বলি ১৫ বছরের কিশোরী, শোকস্তব্ধ বাবা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিপজ্জনক এক ট্রেন্ডের বলি হলো ১৫ বছর বয়সী কিশোরী লিয়া প্রেসন। তথাকথিত 'বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জ'-এ অংশ নেওয়ার পর 'ব্রেন ডেড' অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল সে। অবশেষে তার শোকস্তব্ধ বাবা রিচার্ড প্রেসন এক হৃদয়বিদারক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত্যুর সাথে লড়াই করে তাঁর মেয়ে চিরবিদায় নিয়েছে।   ২০২০ সালে প্রথম শুরু হওয়া এই 'বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জ' সম্প্রতি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে গিয়ে হ্যালুসিনেশন বা কল্পনার জগতে ভাসার আশায় মাত্রাতিরিক্ত অ্যালার্জির ওষুধ (বেনাড্রিল) সেবন করতে হয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, এই ওষুধের অতিরিক্ত ডোজ দ্রুত মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আমেরিকায় সাধারণত ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এই ওষুধটি ফার্মেসিতে বিনা প্রেসক্রিপশনে (ওভার-দ্য-কাউন্টার) বিক্রি করা হয়।   জানা যায়, লিয়া এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবন করেছিল। ওষুধ খাওয়ার পরপরই তার শরীরে তীব্র খিঁচুনি শুরু হয় এবং জীবন বাঁচাতে সে লড়াই করে যাচ্ছিল। গত ১৪ জুন চিকিৎসকরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ব্রেন ডেড' বা মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার মস্তিষ্কের কোনো কার্যকারিতাই অবশিষ্ট নেই। তারপরও পরিবার আশায় বুক বেঁধেছিল, হয়তো কোনো অলৌকিক উপায়ে মেয়েটি আবার তাদের মাঝে ফিরে আসবে। কিন্তু সব প্রার্থনা আর চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে লিয়া।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কৃষক কার্ড নিয়ে ভাইরাল হওয়া টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেন আর নেই

কৃষক কার্ড গ্রহণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া টাঙ্গাইলের সেই কৃষক কবির হোসেন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই কবির হোসেন বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে গেলে ইসিজি পরীক্ষার পর তার হৃদযন্ত্রের সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করে কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।   তবে সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পরপরই তিনি পুনরায় বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কবির হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড গ্রহণ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন কবির হোসেন। সে সময় তাকে ‘ভুয়া কৃষক’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আনুষ্ঠানিক তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, কবির হোসেন একজন প্রকৃত কৃষক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, তিনি দীর্ঘকাল ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজের জমিসহ বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ধানমন্ডি ৩২-এর ধ্বংসস্তূপকে ইসরায়েলের হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি দাবি!

বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষী ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ধ্বংসাবশেষের ছবি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভয়াবহ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে— ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ধ্বংসস্তূপের ওই ছবিটি আসলে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের। ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নামে ছড়ানো একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্ট থেকে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের একটি ভবন ধসে পড়েছে। কিন্তু ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ‘রুমর স্ক্যানার’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা ছবিটির অসংগতি ধরিয়ে দিয়েছেন। তারা দেখিয়েছেন, ছবিতে থাকা ভবনের স্থাপত্যশৈলী, চারপাশের পরিবেশ এবং ধ্বংসাবশেষের ধরণ হুবহু ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের সাথে মিলে যায়। উল্লেখ্য, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার সময় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের এই ঐতিহাসিক ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত ও অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত হয়। সেই স্থানীয় ঘটনার ছবিকেই এখন আন্তর্জাতিক সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ‘কনটেক্সট-স্ট্রিপিং’ বা প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের অপকৌশল চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যুদ্ধে এক দেশের ধ্বংসযজ্ঞের ছবি অন্য দেশের বলে চালিয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো একটি বিপজ্জনক প্রবণতা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার সময়ে কোনো ছবি বা সংবাদ শেয়ার করার আগে তার উৎস যাচাই করে নেওয়ার জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কের কাছে ১ বিলিয়ন ডলার ও সবচাইতে সুন্দরী কনে দাবি উগান্ডার সেনাপ্রধানের

উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা তুরস্কের কাছে এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। তিনি সোমালিয়ায় উগান্ডার দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং সেই দেশের সবচাইতে সুন্দরী নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আল্টিমেটাম দেন।  জেনারেল মুহুজি অভিযোগ করেন, সোমালিয়ায় উগান্ডার সেনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি রক্ষা করলেও এর বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করছে তুরস্ক।  তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই দাবি মানা না হলে উগান্ডায় অবস্থিত তুর্কি দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তুর্কি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট উগান্ডার আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি তিনি উগান্ডার নাগরিকদের তুরস্কে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেনারেল মুহুজি উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। ইতিপূর্বেও তিনি ইতালির নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে এবং বিনিময়ে ১০০টি গরু দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে তার এমন আচরণের জন্য প্রেসিডেন্ট মুসেভেনিকে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়েছিল। এবার তুরস্ককে ঘিরে তার এই নতুন দাবি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
জোসেফ আকিনফেনওয়া-ডনাস, যিনি আজ বিশ্বজুড়ে 'জোবয়' নামেই পরিচিত
ভাইরাল এড শিরান কভার থেকে গ্লোবাল স্টার: জোবয়ের বিশ্বজয়ের অবিশ্বাস্য গল্প

সাধারণ এক কিশোরের শোবার ঘরে বসে গাওয়া গান যে তাকে বিশ্বমঞ্চের পাদপ্রদীপে নিয়ে আসবে, তা হয়তো জোবয় (Joeboy) নিজেও কখনো ভাবেননি। ২০১৭ সালে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা এড শিরানের 'শেপ অব ইউ' (Shape of You) গানটির একটি কভার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন নাইজেরিয়ান তরুণ জোসেফ আকিনফেনওয়া-ডনাস, যিনি আজ বিশ্বজুড়ে 'জোবয়' নামেই পরিচিত। সেই একটি ভিডিওই বদলে দিয়েছে তার জীবন। সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই আফ্রো-পপ তারকার উত্থানের চমকপ্রদ কাহিনী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোবয়ের সেই কভার ভিডিওটি নজর কেড়েছিল নাইজেরিয়ান মিউজিক লিজেন্ড মিস্টার ইজি-র (Mr Eazi)। তিনি জোবয়ের প্রতিভা দেখে তাকে তার সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম 'এম্পাওয়া আফ্রিকা' (emPawa Africa)-তে অন্তর্ভুক্ত করেন। জোবয় জানান, তিনি তখন কেবল শখের বশে গান করতেন। কিন্তু তার কণ্ঠের জাদু মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। মিস্টার ইজি-র সান্নিধ্যে আসার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় তার সুপারহিট সিঙ্গেল 'বেবি' (Baby), যা তাকে নাইজেরিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর 'বিগিনিং' (Beginning) গানটি তাকে বিশ্বব্যাপী মিউজিক চার্টের শীর্ষে নিয়ে যায়। জোবয়ের এই সাফল্য কেবল তার একার নয়, বরং এটি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় মিউজিক জনরা 'আফ্রো-বিটস' (Afrobeats)-এর জয়জয়কারকেই প্রমাণ করে। বার্না বয় বা উইজকিডের মতো তারকাদের কাতারে এখন উচ্চারিত হয় জোবয়ের নাম। তার গানের বিশেষত্ব হলো এর সহজ কথা এবং মেলোডিয়াস সুর, যা সহজেই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। বর্তমানে জোবয়ের গান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে কয়েকশ কোটিবার শোনা হয়েছে। তিনি এখন বিশ্বজুড়ে কনসার্ট করছেন এবং বড় বড় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করছেন। তবে এত সাফল্যের পরও শিকড়কে ভোলেননি এই শিল্পী। তিনি চান তার এই যাত্রার মাধ্যমে আফ্রিকার নতুন প্রতিভাদের জন্য পথ তৈরি করতে। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোবয় বলেন, "আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষের ভেতরেই একটি গল্প আছে। আমার গল্পটি শুরু হয়েছিল একটি ছোট ঘর থেকে, আর আজ আমি বিশ্বকে আমার গান শোনাচ্ছি। এটি স্বপ্নের মতো মনে হলেও কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক সুযোগের ফল।" ডিজিটাল যুগের আশীর্বাদ আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশ্বসেরা হওয়া সম্ভব, জোবয় আজ সেই তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
এক তরুণীর সাফল্য
হাসপাতালের ঝাড়ুদার থেকে সেই হাসপাতালেরই ডাক্তার, ভাইরাল হল এক তরুণীর সাফল্য

একটি অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। যুক্তরাষ্ট্রের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী, শে টেইলর-অ্যালেন, জীবনের এক পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করতে চলেছেন — যে হাসপাতালে তিনি জন্মেছিলেন এবং এক সময় ঝাড়ুদারের কাজ করেছিলেন, সেই একই হাসপাতালে এবার তিনি ডাক্তার হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন।   গত শুক্রবার তিনি জানতে পারেন যে তিনি তার প্রথম পছন্দের রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম, ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনে সুযোগ পেয়েছেন। খবরটি জানার পর নিজের আনন্দের মুহূর্তের একটি ভিডিও তিনি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন, যা খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং কয়েক মিলিয়নের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেছে।   ৩২ বছর বয়সী টেইলর-অ্যালেন জানান, তিনি শুধু ইয়েল নিউ হ্যাভেন হাসপাতালে জন্মই নেননি, ১৮ বছর বয়সে তিনি সেখানে ঝাড়ুদার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। তখন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে একদিন একই হাসপাতালে তিনি ডাক্তার হিসেবে ফিরে আসবেন।   তিনি বলেন, খবরটি শোনার পর তিনি এতটাই আনন্দিত হয়ে পড়েছিলেন যে লাফাতে লাফাতে মনে হচ্ছিল মাটি ভেঙে যাবে। বর্তমানে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের শিক্ষার্থী এবং মে মাসে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগে রেসিডেন্সি শুরু করবেন।   টেইলর-অ্যালেন জানান, ছোটবেলায় তিনি ডাক্তার হওয়ার কথা ভাবেননি। কলেজে পড়ার সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি মাকে সাহায্য করতে গিয়ে চিকিৎসকদের কাজ কাছ থেকে দেখেন, তখনই তার মনে হয় তিনি ডাক্তার হতে চান।   মায়ের অসুস্থতার সময় তিনি ইয়েল হাসপাতালেই ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। সেই সময় তিনি হাসপাতালের এক কর্মকর্তার সঙ্গে নিজের পরিবারের সমস্যার কথা বলেন, এবং সেই কর্মকর্তা তাদের সাহায্য করেন। সেই ঘটনাই তাকে অনুপ্রাণিত করে অন্য মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতে।   তিনি বলেন, সেই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝিয়েছিল যে একজন মানুষ অন্যের জীবনে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, আর তখনই তিনি ঠিক করেন যে তিনি একদিন ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।   ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের চেয়ার ডা. লিসা লেফার্ট এক বিবৃতিতে জানান, তারা ডা. শে টেইলর-অ্যালেনকে তাদের দলে পেয়ে খুবই আনন্দিত এবং তিনি ভবিষ্যতে রোগীদের সেবা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।   এই সাফল্যের গল্প অন্য তরুণীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। টেইলর-অ্যালেন বলেছেন, কেউ যদি স্বপ্ন দেখে, তাহলে তাকে থামানো উচিত নয়। তিনি বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাদের খুব প্রয়োজন, এবং তারা চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০