পারমাণবিক অস্ত্রই বিশ্বকে আরেকটি বৈশ্বিক বা মহাযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করার একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধক বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। নতুন করে বহুদেশীয় পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এমন বিস্ফোরক দাবি করা হলো। বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যখন ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে, তখন রাশিয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই পারমাণবিক শক্তির ওপর এত বছর ধরে থাকা বিভিন্ন আইনি সীমাবদ্ধতাও কার্যত উঠে গেছে। এখন পর্যন্ত চুক্তিটি নবায়ন বা এর বিকল্প কোনো নতুন সমঝোতা করার বিষয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। যদিও উভয় দেশই উচ্চপর্যায়ের সামরিক সংলাপ পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। মস্কোয় আয়োজিত এক পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাস্তবে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়া এখন পৃথিবীতে আমাদের আর কোনো বড় শক্তি অবশিষ্ট নেই। এটিই একমাত্র মূল বিষয়, যা এখনো পুরো বিশ্বকে একটি বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধ থেকে রক্ষা করে চলেছে। পেসকভ আরও উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কিছু নতুন ধরনের অ-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি হবে, যার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা পারমাণবিক অস্ত্রের সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ইউক্রেনে চার বছরের সামরিক অভিযান চলাকালীন একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র বারবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন পারমাণবিক হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে আসছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে শুধু রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো প্রস্তাব রয়েছে। যদিও চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বাড়ছে, তবে তা এখনো রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক ছোট। আর সে কারণেই বেইজিং প্রকাশ্যেই ওয়াশিংটনের এমন চাপ ও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, যদি চীনকে নতুন কোনো চুক্তির আওতায় আনা হয়, তাহলে মার্কিন পারমাণবিক মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকেও সেই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন সীমিত করার কোনো কার্যকর আন্তর্জাতিক চুক্তি বর্তমানে বিশ্বে বলবৎ নেই। ২০১০ সালে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ ছিল স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী যুগে টিকে থাকা সর্বশেষ বড় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। এর আওতায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনকৃত পারমাণবিক ওয়ারহেড রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিকবার চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে না মানার অভিযোগ তুলেছিল। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের বিষয়ে তার প্রচেষ্টায় তারা কোনো বাধা সৃষ্টি করেননি। ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তাদের জন্য পরিস্থিতি আরো উন্নত হয়েছে।’ ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার জন্য তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞ। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীনের প্রেসিডেন্ট জিনপিংকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। তিনি নিরপেক্ষ, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন এবং আমি এর প্রশংসা করি। আমি ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই; তিনি খুবই নিরপেক্ষ ছিলেন। তারা আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরো অনেক কঠিন করে তুলতে পারতেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন ও রাশিয়া চাইলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারত। তবে তারা তা না করে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়তে থাকায় যুদ্ধের প্রভাব এখন দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। মস্কো অঞ্চলের আবাসিক ভবন, সেন্ট পিটার্সবার্গের আশপাশের এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি জনমনে অস্বস্তি ও যুদ্ধ ক্লান্তির অনুভূতি বাড়ছে। গত ১৭ মে মস্কোর উপকণ্ঠের জেলেনোগ্রাদ এলাকায় একটি ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হন ৫৬ বছর বয়সী এলেনা ভ্লাদিমিরোভনা। ভোররাতে ড্রোনের শব্দে ঘুম ভাঙার পর তিনি জানালা দিয়ে একাধিক ড্রোন দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর একটি বিস্ফোরণে তার অ্যাপার্টমেন্টের একটি কক্ষে আগুন ধরে যায়। এলেনা জানান, তিনি ও তার ছেলে প্রথমে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা পোষা কুকুরকে নিয়ে ভবন থেকে বের হয়ে যান। ওই হামলায় ভবনের কয়েকটি তলা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। রুশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন ইউক্রেন ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। এতে মস্কো অঞ্চলে অন্তত তিনজন নিহত হন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওই হামলাকে “সম্পূর্ণ ন্যায্য” বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, ইউক্রেন রাশিয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে যুদ্ধ বন্ধ করা প্রয়োজন। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মস্থান সেন্ট পিটার্সবার্গেও সম্প্রতি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালে শহরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। পরে নতুন হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। ক্রনস্টাড এলাকার এক বাসিন্দা জানান, রাতভর ড্রোনের গুঞ্জন ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শব্দে ঘুমানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ভবনটি আক্রান্ত হতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা আতঙ্কিত ছিলেন। ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের আঘাতে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় পেট্রোল রেশনিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে অর্থনৈতিক সংকোচন, ইন্টারনেট ব্যবহারে নতুন সীমাবদ্ধতা, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। ফ্রান্সভিত্তিক গবেষক ও সামাজিক নৃতত্ত্ববিদ আলেকজান্দ্রা আরখিপোভা বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর বাসিন্দাদের কাছে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছিল যে যুদ্ধ তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে না। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। জেলেনোগ্রাদের বাসিন্দা ম্যাকসিম, যিনি নিরাপত্তার কারণে নিজের পুরো নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, ড্রোন হামলার পর তার বাসার দরজা কর্তৃপক্ষ ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেছে। এতে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “মানুষ মারা যাচ্ছে, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই যুদ্ধের সমাপ্তি হওয়া উচিত।” রাশিয়ার স্বাধীন জরিপ সংস্থা লেভাদা সেন্টারের এপ্রিল মাসের এক জরিপে দেখা যায়, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা শান্তি আলোচনার পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন ২৭ শতাংশ। মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে খিমকি শহরেও একই দিনে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানে। স্থানীয় বাসিন্দা নাদেজদা বলেন, হামলার পর থেকে সামান্য শব্দেও তিনি চমকে ওঠেন। আরেক বাসিন্দা ইয়েলেনা জানান, হামলার রাতে দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে ড্রোনের শব্দ শুনেছেন তারা। তার প্রত্যাশা, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
ইরানের নতুন বছর ‘নওরোজ’ উপলক্ষে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও জনগণকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুতিন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় পুতিন জোর দিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে মস্কো তেহরানের একনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পুতিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানি জনগণ মর্যাদার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এছাড়া মস্কো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হলেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সামরিক বা বাস্তব সহায়তা পাওয়া যায়নি। যদিও 'পলিটিকো' এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন প্রস্তাবের কথা উঠেছিল, তবে মস্কো সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদী একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হলেও তাতে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’ বা সরাসরি যুদ্ধে সহায়তার ধারা নেই। এছাড়া রাশিয়া স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইরানে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ চায় না, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে তেলের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ইরানের এই যুদ্ধে মস্কোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।