ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সংঘাত আরও বাড়ানোর চেষ্টা করলে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কাছ থেকে ওয়াশিংটন এমন শিক্ষা পাবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির নামে প্রচারিত একটি লিখিত বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হওয়ার মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এল। বিবৃতিতে খামেনি বলেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র বারবার লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর মূল্যহীন ও বিশ্বাসযোগ্যতাহীন। যুক্তরাষ্ট্রকে ‘মহাশয়তান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন দেশটির নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। খামেনি বলেন, “মার্কিন শত্রু যখন সংঘাত আরও উসকে দিয়ে বড় ধরনের মূল্য ও অপমানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তাদের জানা উচিত, ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।” ইরান সমর্থিত বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠী ও মিত্র শক্তিকে তেহরান সাধারণত ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সেতু, রেলপথ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। খামেনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বস্ততা ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে দেশ রক্ষায় নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি ইরানের জনগণকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি। গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল সংঘাত নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করা। তবে পরে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় সেই উদ্যোগ এখন কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরকে ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন’ এবং ‘বিশ্বাসযোগ্যতাহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র বারবার সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখা যায় না। শনিবার প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে। তার ভাষায়, এসব ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীন’। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত যে ইরানি জাতি এবং ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ তাদের জন্য এমন শিক্ষা রেখে দিয়েছে, যা তারা ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত আরও উসকে না দেওয়ারও সতর্কবার্তা দেন। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ার পর দুই দেশ আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করেছে। নতুন করে সামরিক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপের দাবি করেছে। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সংকটের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বাত্মক যুদ্ধের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মহসেন রেজায়ি এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে ইরান আর কেবল সমপর্যায়ের বা গতানুগতিক প্রতিশোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো দেশের 'রাজনৈতিক সীমান্ত' আর নিরাপদ থাকবে না বলেও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। মার্কিন হামলার জবাবে ইরান যে যেকোনো মুহূর্তে পুরোদমে আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলেছে এই ঘোষণায়। এদিকে মার্কিন বাহিনী টানা সপ্তম রাতের মতো শুক্রবার ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর সদরদপ্তর হিসেবে পরিচিত বন্দর আব্বাসের আশপাশের বেশ কয়েকটি সেতু, নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো এবং ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর করার পাশাপাশি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবিতে মার্কিন হামলায় বন্দর আব্বাসের একটি সেতু ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির কাছে সিরিক ও কেশম দ্বীপেও তীব্র বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন এই আগ্রাসনের জবাবে বসে নেই তেহরানও। জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পালটা মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতের মিনা আল আহমাদি বন্দরে মার্কিন নৌবহরের জ্বালানি সহায়তা কেন্দ্র এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমান ঘাঁটি ও একটি গোয়েন্দা তথ্য কেন্দ্রে হামলা করেছে। অন্যদিকে, জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১০টি ইরানি মিসাইল জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে ভূপাতিত করেছে বলে জানা গেছে। সেখানে কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে জর্ডানে দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন; যদিও পেন্টাগন এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। এই পালটাপালটি হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র এক মাস আগে শুরু হওয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে 'শেষ' বলে ঘোষণা করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি আর ইরানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষপাতী নন। অন্যদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাউদিও যুক্তরাষ্ট্রকে সমঝোতা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত 'আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের' কারণে তেহরান 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক'-এর আওতায় থাকা নিজেদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে এবং সেগুলো আর বাস্তবায়ন করছে না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় উপস্থিত থাকছেন না তার ছেলে মোজতবা খামেনি। বাবার শেষ বিদায়ে ছেলের অনুপস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে চরম নিরাপত্তা শঙ্কাকে সামনে আনা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই ভয়াবহ হামলায় নিহত হন আলী খামেনি। তার মৃত্যুর পর থেকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলের লাগাতার হুমকির কারণেই এই কঠোর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ হাকিম এলাহি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকির কারণেই মোজতবা খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ প্রকাশ্যে দাবি করেন, তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু বা ‘ডেথ টার্গেট’ হলেন মোজতবা খামেনি। সরাসরি এমন হত্যা হুমকির পর সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনী। তাই শোকের এই স্পর্শকাতর মুহূর্তেও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দেশটির প্রশাসন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন উসকানিমূলক ও আগ্রাসী বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছিল। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যার রেশ ধরেই এবার মোজতবা খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণ বাতিল করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরকে ঘিরে নতুন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি। তিনি দাবি করেছেন, এই সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের কর্মকর্তারা আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার পরিচয় দিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এক বার্তায় খামেনি বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও চাপ প্রয়োগ দেখা গেছে। খামেনি বলেন, “উদ্যমী ও অনুগত ইরানি জাতি জেনেছে যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের কর্মকর্তারা সহমর্মিতা ও সদিচ্ছা নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন।” ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ, ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়। খামেনি জানান, শুরুতে এই সমঝোতা নিয়ে তার কিছু সংরক্ষণ ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দেওয়া আশ্বাস এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থানের পর তিনি চুক্তির অনুমোদন দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং তথাকথিত প্রতিরোধ ফ্রন্টের অবস্থান রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক কোনো দাবিও গ্রহণ করা হবে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা এখন ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ভবিষ্যতে সরাসরি আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আমরা প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নিচ্ছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইরান ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করবে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, উভয় দেশ এখন ৬০ দিনের একটি আলোচনাকালে প্রবেশ করেছে। এই সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত ও বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানোও যেতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে উভয় পক্ষ ঘোষিত শর্তগুলো কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত খামেনির মন্তব্যের সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের ওপরই ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অগ্রগতি নির্ভর করবে।
ইরান যদি নতুন শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি তেহরানকে এই সতর্কবার্তা দেন। হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ইরানের আর কোনো কার্যকর নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই। তিনি বলেন, এই প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন। এছাড়া তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন চীন ইরানে কোনো প্রকার অস্ত্র পাঠাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, তবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ইরানে প্রবেশকারী ও বের হওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ইরানকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেগসেথ হুঁশিয়ারি দেন যে, ভুল পথ বেছে নিলে দেশটির বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাত ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়বে। মূলত ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ ও হুমকির পথ বেছে নিয়েছে পেন্টাগন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনো তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং কোনো ভিডিও বা ছবিও প্রকাশিত হয়নি। রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই হামলায় তাঁর মুখ ও এক বা উভয় পায়ে আঘাত লাগে। একই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজের দেশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন না। রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেদভ বলেন, “জনগণের বোঝা উচিত, তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, নতুন নেতা দেশে আছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত আছেন।” তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিই মূল কারণ। এখনও পর্যন্ত খামেনির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। এর আগে বিভিন্ন মহলে খামেনির অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। জনসমক্ষে না আসায় এমন গুঞ্জন ছড়ায় যে, তার বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেঁচে আছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। তেল দখলের ছক ও ভেনেজুয়েলা মডেল সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের রণকৌশল তুলে ধরে বলেন, “আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ নেব, আবার হয়তো নেব না। তবে আমাদের সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করতে হতে পারে।” তিনি এই সামরিক অভিযানকে বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে ওয়াশিংটন দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। ১০ হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রস্তুতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য প্রায় ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০ মেরিনসহ সাড়ে তিন হাজার কর্মী সেখানে পৌঁছেছেন এবং আরও কয়েক হাজার সদস্য বর্তমানে পথে রয়েছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খারগ দ্বীপ দখল করতে পারলে ইরান তার তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষমতা হারাবে, যা তেহরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে। ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু ও আল্টিমেটাম ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং আরও ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু তাঁদের নিশানায় রয়েছে। তিনি তেহরানকে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলীতে রাজি হওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের অবশিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও মোজতবা খামেনি প্রসঙ্গ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, শুরুর দিকের হামলায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর তেহরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ঘটছে। তিনি পুনরায় দাবি করেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত মৃত অথবা গুরুতর আহত। ট্রাম্পের ভাষায়, “ছেলেটি হয় মারা গেছে অথবা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা তার কাছ থেকে কোনো খবরই পাচ্ছি না।” যদিও তেহরান এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে যে তাদের নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ ও নিরাপদ রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ‘ইরানি উপহার’ সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তানের ‘দূতদের’ মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান ‘উপহার’ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০-এ উন্নীত করেছে। ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই অনুমতি দিয়েছেন বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন। সূত্র: এনডিটিভি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো ইতিমধ্যে মারা গেছেন অথবা তিনি অত্যন্ত সংকটজনক শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই দাবি করেন যা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ট্রাম্প জানান যে গত কয়েকদিন ধরে মোজতবা খামেনিকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না এবং তেহরানের উচ্চপর্যায়ে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরণের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্যি হয় তবে তা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হবে। মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। তার মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার খবর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে হোয়াইট হাউস ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের নতুন বছর ‘নওরোজ’ উপলক্ষে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও জনগণকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুতিন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় পুতিন জোর দিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে মস্কো তেহরানের একনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পুতিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানি জনগণ মর্যাদার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এছাড়া মস্কো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হলেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সামরিক বা বাস্তব সহায়তা পাওয়া যায়নি। যদিও 'পলিটিকো' এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন প্রস্তাবের কথা উঠেছিল, তবে মস্কো সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদী একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হলেও তাতে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’ বা সরাসরি যুদ্ধে সহায়তার ধারা নেই। এছাড়া রাশিয়া স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইরানে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ চায় না, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে তেলের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ইরানের এই যুদ্ধে মস্কোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি ফার্সি নতুন বছর 'নওরোজ' এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত বার্তা প্রদান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি আধ্যাত্মিকতার বসন্ত এবং প্রকৃতির বসন্তের মিলনক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসাথে তিনি বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান। মোজতবা খামেনি তার বার্তায় নতুন সৌর বছরকে "জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার নিরিখে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিয়েই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সরকার পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের মাত্রা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে, মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ইরান বা তার মিত্র বাহিনী তুরস্ক বা ওমানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি। শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ওমানে সংঘটিত হামলাগুলো ইরানের কোনো কর্মকাণ্ড নয়। তিনি এগুলোকে “শত্রুদের সাজানো ঘটনা (ফলস ফ্ল্যাগ)” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাজানো হামলা অন্যান্য দেশে ঘটতে পারে। এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন খামেনি। তিনি দুই দেশকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ইরান তাদের সহায়তায় প্রস্তুত। খামেনি আরও বলেন, “এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ যেন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে।” সূত্র: আল-জাজিরা।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই শত্রু পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। খামেনির দাবি, একই সঙ্গে রোজা রাখা ও ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানিরা যে অদম্য মনোবল দেখিয়েছে, তার ফলে প্রতিপক্ষরা এরই মধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে। আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে খামেনি অভিযোগ করেন, বহিরাগত শত্রুরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইরান মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, সমষ্টিগত শক্তি ও জনগণের সংহতিই এই শক্তিগুলোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করে দেবে। তার মতে, ইরানি সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতিই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং এটিই শেষ পর্যন্ত শত্রুর পরাজয় নিশ্চিত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।