মোজতবা খামেনি

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ | ছবি: সংগৃহীত
চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানে পুনরায় ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ইরান যদি নতুন শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি তেহরানকে এই সতর্কবার্তা দেন। হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে।   বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ইরানের আর কোনো কার্যকর নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই। তিনি বলেন, এই প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন। এছাড়া তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন চীন ইরানে কোনো প্রকার অস্ত্র পাঠাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে।   সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, তবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ইরানে প্রবেশকারী ও বের হওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।   ইরানকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেগসেথ হুঁশিয়ারি দেন যে, ভুল পথ বেছে নিলে দেশটির বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাত ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়বে। মূলত ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ ও হুমকির পথ বেছে নিয়েছে পেন্টাগন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা কেমন—যা জানা গেল

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।   প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তিনি সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনো তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং কোনো ভিডিও বা ছবিও প্রকাশিত হয়নি।   রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই হামলায় তাঁর মুখ ও এক বা উভয় পায়ে আঘাত লাগে। একই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এবং জনসমক্ষে অনুপস্থিতি ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনও দেশেই অবস্থান করছেন

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজের দেশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন না।   রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেদভ বলেন, “জনগণের বোঝা উচিত, তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, নতুন নেতা দেশে আছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত আছেন।”   তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিই মূল কারণ। এখনও পর্যন্ত খামেনির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।   এর আগে বিভিন্ন মহলে খামেনির অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। জনসমক্ষে না আসায় এমন গুঞ্জন ছড়ায় যে, তার বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেঁচে আছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘ইরানের তেল দখল করতে চাই’ খারগ দ্বীপ কবজায় নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।   তেল দখলের ছক ও ভেনেজুয়েলা মডেল সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের রণকৌশল তুলে ধরে বলেন, “আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ নেব, আবার হয়তো নেব না। তবে আমাদের সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করতে হতে পারে।” তিনি এই সামরিক অভিযানকে বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে ওয়াশিংটন দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।   ১০ হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রস্তুতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য প্রায় ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০ মেরিনসহ সাড়ে তিন হাজার কর্মী সেখানে পৌঁছেছেন এবং আরও কয়েক হাজার সদস্য বর্তমানে পথে রয়েছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খারগ দ্বীপ দখল করতে পারলে ইরান তার তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষমতা হারাবে, যা তেহরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে।   ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু ও আল্টিমেটাম ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং আরও ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু তাঁদের নিশানায় রয়েছে। তিনি তেহরানকে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলীতে রাজি হওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের অবশিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও মোজতবা খামেনি প্রসঙ্গ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, শুরুর দিকের হামলায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর তেহরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ঘটছে। তিনি পুনরায় দাবি করেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত মৃত অথবা গুরুতর আহত। ট্রাম্পের ভাষায়, “ছেলেটি হয় মারা গেছে অথবা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা তার কাছ থেকে কোনো খবরই পাচ্ছি না।” যদিও তেহরান এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে যে তাদের নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ ও নিরাপদ রয়েছে।   পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ‘ইরানি উপহার’ সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তানের ‘দূতদের’ মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান ‘উপহার’ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০-এ উন্নীত করেছে। ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই অনুমতি দিয়েছেন বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন।   সূত্র: এনডিটিভি  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি হয় মৃত নয়তো খুব খারাপ অবস্থায় আছেন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো ইতিমধ্যে মারা গেছেন অথবা তিনি অত্যন্ত সংকটজনক শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই দাবি করেন যা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।   গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ট্রাম্প জানান যে গত কয়েকদিন ধরে মোজতবা খামেনিকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না এবং তেহরানের উচ্চপর্যায়ে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরণের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্যি হয় তবে তা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হবে। মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। তার মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার খবর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে হোয়াইট হাউস ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

Unknown মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন | ফাইল ছবি
ইরানিদের ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ থাকার অঙ্গীকার পুতিনের

ইরানের নতুন বছর ‘নওরোজ’ উপলক্ষে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও জনগণকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুতিন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় পুতিন জোর দিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে মস্কো তেহরানের একনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।   ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পুতিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানি জনগণ মর্যাদার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এছাড়া মস্কো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হলেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সামরিক বা বাস্তব সহায়তা পাওয়া যায়নি। যদিও 'পলিটিকো' এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন প্রস্তাবের কথা উঠেছিল, তবে মস্কো সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদী একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হলেও তাতে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’ বা সরাসরি যুদ্ধে সহায়তার ধারা নেই। এছাড়া রাশিয়া স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইরানে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ চায় না, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে তেলের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ইরানের এই যুদ্ধে মস্কোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঈদ ও নওরোজ বার্তা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি ফার্সি নতুন বছর 'নওরোজ' এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত বার্তা প্রদান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি আধ্যাত্মিকতার বসন্ত এবং প্রকৃতির বসন্তের মিলনক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসাথে তিনি বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান।   মোজতবা খামেনি তার বার্তায় নতুন সৌর বছরকে "জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার নিরিখে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিয়েই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।   তবে সরকার পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের মাত্রা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে, মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান কোনো হামলা চালায়নি তুরস্ক বা ওমানের বিরুদ্ধে: সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ইরান বা তার মিত্র বাহিনী তুরস্ক বা ওমানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি।   শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ওমানে সংঘটিত হামলাগুলো ইরানের কোনো কর্মকাণ্ড নয়। তিনি এগুলোকে “শত্রুদের সাজানো ঘটনা (ফলস ফ্ল্যাগ)” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।   তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাজানো হামলা অন্যান্য দেশে ঘটতে পারে।   এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন খামেনি। তিনি দুই দেশকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ইরান তাদের সহায়তায় প্রস্তুত।   খামেনি আরও বলেন, “এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ যেন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে।”   সূত্র: আল-জাজিরা।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
মোজতবা খামেনি/ফাইল ছবি
শত্রু দমনে ঐক্যের ডাক মোজতবা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই শত্রু পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। খামেনির দাবি, একই সঙ্গে রোজা রাখা ও ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানিরা যে অদম্য মনোবল দেখিয়েছে, তার ফলে প্রতিপক্ষরা এরই মধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে।   আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে খামেনি অভিযোগ করেন, বহিরাগত শত্রুরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইরান মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, সমষ্টিগত শক্তি ও জনগণের সংহতিই এই শক্তিগুলোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করে দেবে। তার মতে, ইরানি সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতিই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং এটিই শেষ পর্যন্ত শত্রুর পরাজয় নিশ্চিত করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0