মোজতবা খামেনি

মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখনও দেশেই অবস্থান করছেন

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজের দেশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন না।   রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেদভ বলেন, “জনগণের বোঝা উচিত, তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, নতুন নেতা দেশে আছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত আছেন।”   তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিই মূল কারণ। এখনও পর্যন্ত খামেনির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।   এর আগে বিভিন্ন মহলে খামেনির অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। জনসমক্ষে না আসায় এমন গুঞ্জন ছড়ায় যে, তার বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেঁচে আছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
‘ইরানের তেল দখল করতে চাই’ খারগ দ্বীপ কবজায় নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল করতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।   তেল দখলের ছক ও ভেনেজুয়েলা মডেল সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের রণকৌশল তুলে ধরে বলেন, “আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ হলো ইরানের তেল দখল করা। হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ নেব, আবার হয়তো নেব না। তবে আমাদের সেখানে বেশ কিছু সময় অবস্থান করতে হতে পারে।” তিনি এই সামরিক অভিযানকে বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় চালানো অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে ওয়াশিংটন দেশটির তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল।   ১০ হাজার মার্কিন সৈন্যের প্রস্তুতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পেন্টাগন ইরানে কয়েক সপ্তাহের সম্ভাব্য স্থল হামলার জন্য প্রায় ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০ মেরিনসহ সাড়ে তিন হাজার কর্মী সেখানে পৌঁছেছেন এবং আরও কয়েক হাজার সদস্য বর্তমানে পথে রয়েছেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খারগ দ্বীপ দখল করতে পারলে ইরান তার তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি ক্ষমতা হারাবে, যা তেহরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে।   ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু ও আল্টিমেটাম ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা চালিয়েছে এবং আরও ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু তাঁদের নিশানায় রয়েছে। তিনি তেহরানকে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলীতে রাজি হওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ইরানের অবশিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।   শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও মোজতবা খামেনি প্রসঙ্গ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, শুরুর দিকের হামলায় শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর তেহরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ঘটছে। তিনি পুনরায় দাবি করেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্ভবত মৃত অথবা গুরুতর আহত। ট্রাম্পের ভাষায়, “ছেলেটি হয় মারা গেছে অথবা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা তার কাছ থেকে কোনো খবরই পাচ্ছি না।” যদিও তেহরান এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে যে তাদের নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ ও নিরাপদ রয়েছে।   পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ‘ইরানি উপহার’ সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তানের ‘দূতদের’ মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তেহরান ‘উপহার’ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী তেল ট্যাঙ্কারের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০-এ উন্নীত করেছে। ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই অনুমতি দিয়েছেন বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন।   সূত্র: এনডিটিভি  

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি হয় মৃত নয়তো খুব খারাপ অবস্থায় আছেন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো ইতিমধ্যে মারা গেছেন অথবা তিনি অত্যন্ত সংকটজনক শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই দাবি করেন যা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।   গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ট্রাম্প জানান যে গত কয়েকদিন ধরে মোজতবা খামেনিকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না এবং তেহরানের উচ্চপর্যায়ে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরণের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্যি হয় তবে তা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হবে। মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। তার মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার খবর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে হোয়াইট হাউস ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন | ফাইল ছবি
ইরানিদের ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’ থাকার অঙ্গীকার পুতিনের

ইরানের নতুন বছর ‘নওরোজ’ উপলক্ষে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব ও জনগণকে বিশেষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুতিন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় পুতিন জোর দিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে মস্কো তেহরানের একনিষ্ঠ বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।   ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পুতিন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানি জনগণ মর্যাদার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এছাড়া মস্কো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুকে ‘নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি হলেও মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য সামরিক বা বাস্তব সহায়তা পাওয়া যায়নি। যদিও 'পলিটিকো' এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন প্রস্তাবের কথা উঠেছিল, তবে মস্কো সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদী একটি ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হলেও তাতে কোনো ‘পারস্পরিক প্রতিরক্ষা’ বা সরাসরি যুদ্ধে সহায়তার ধারা নেই। এছাড়া রাশিয়া স্পষ্ট করেছে যে, তারা ইরানে পারমাণবিক অস্ত্রের বিকাশ চায় না, কারণ এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে তেলের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হলেও ইরানের এই যুদ্ধে মস্কোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঈদ ও নওরোজ বার্তা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি ফার্সি নতুন বছর 'নওরোজ' এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত বার্তা প্রদান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি আধ্যাত্মিকতার বসন্ত এবং প্রকৃতির বসন্তের মিলনক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসাথে তিনি বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান।   মোজতবা খামেনি তার বার্তায় নতুন সৌর বছরকে "জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার নিরিখে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিয়েই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।   তবে সরকার পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের মাত্রা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে, মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান কোনো হামলা চালায়নি তুরস্ক বা ওমানের বিরুদ্ধে: সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ইরান বা তার মিত্র বাহিনী তুরস্ক বা ওমানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি।   শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও ওমানে সংঘটিত হামলাগুলো ইরানের কোনো কর্মকাণ্ড নয়। তিনি এগুলোকে “শত্রুদের সাজানো ঘটনা (ফলস ফ্ল্যাগ)” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এসব ঘটনার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।   তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাজানো হামলা অন্যান্য দেশে ঘটতে পারে।   এছাড়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন খামেনি। তিনি দুই দেশকে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে ইরান তাদের সহায়তায় প্রস্তুত।   খামেনি আরও বলেন, “এই দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ যেন একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে।”   সূত্র: আল-জাজিরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি/ফাইল ছবি
শত্রু দমনে ঐক্যের ডাক মোজতবা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্যই শত্রু পক্ষকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। খামেনির দাবি, একই সঙ্গে রোজা রাখা ও ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ইরানিরা যে অদম্য মনোবল দেখিয়েছে, তার ফলে প্রতিপক্ষরা এরই মধ্যে দুর্বল হতে শুরু করেছে।   আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে খামেনি অভিযোগ করেন, বহিরাগত শত্রুরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ইরান মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে খামেনি বলেন, সমষ্টিগত শক্তি ও জনগণের সংহতিই এই শক্তিগুলোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ করে দেবে। তার মতে, ইরানি সমাজের অভ্যন্তরীণ সংহতিই আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাপ মোকাবেলায় সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এবং এটিই শেষ পর্যন্ত শত্রুর পরাজয় নিশ্চিত করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মোজতবা খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি — “প্রতিটি রক্তের ফোঁটার হিসাব নেওয়া হবে”

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “প্রতিটি রক্তের ফোঁটার মূল্য আছে, এবং অপরাধী হত্যাকারীদের খুব শিগগিরই সেই মূল্য দিতে হবে।”   বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ প্রকাশিত এক শোকবার্তায় তিনি কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৬৯ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে লিখেছেন—   “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত।”   ইরানের সরকারি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সংঘটিত এক হামলায় আলী লারিজানি নিহত হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নিরাপত্তা ও কৌশলগত নীতিনির্ধারণী মহলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন এবং দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুকে ইরান “শহীদত্ব” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।   শোকবার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেসব শক্তি ষড়যন্ত্র ও হামলা চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনা ইরানের মনোবল ভাঙতে পারবে না, বরং দেশ আরও কঠোর অবস্থান নেবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এবং উচ্চপর্যায়ের কোনও কর্মকর্তার মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।   আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই ঘটনার পর ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লারিজানি হত্যার জবাবে ‘চরম মূল্য’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিকে হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।   বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি লারিজানিকে ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর একজন গুরুত্বপূর্ণ ও অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে হত্যার মধ্য দিয়ে শত্রুপক্ষ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এই রক্তের হিসাব অচিরেই নেওয়া হবে।   ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের খবরে বলা হয়, সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তাঁর পুত্রসহ নিহত হন। একই রাতে পৃথক হামলায় দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও প্রাণ হারান।   এর পরদিন দিবাগত রাতে আরেক দফা হামলায় ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এটিকে ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন।   চলমান সংঘাতের শুরুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। এরপর মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।   এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, তাদের সামরিক বাহিনীকে এখন থেকে যেকোনো জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা ও পাল্টা হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল মোজতবা খামেনিকে হত্যার হুমকি দিলো

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনিকে খুঁজে বের করে হত্যার হুমকি দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এফি ডেফরিন বলেন, “যারা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হবে, তাদের আমরা লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাড়া করতে থাকব।”   এক সাংবাদিক মোজতবা খামেনির অবস্থার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে ডেফরিন জানান, “আমরা তার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে কিছু জানি না। তবে যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যক্রমে এগোবে, তাদের আমরা ছাড়ব না। আমরা তাদের খুঁজে বের করব এবং প্রয়োজন হলে নিঃশেষ করব।”   ডেফরিন আরও বলেন, ইরানের প্যারামিলিটারি বাসিজ বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাতে বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।   এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইস’রায়েল নতজানু না হলে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই: মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশ ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তবে মোজতবা খামেনি তা সরাসরি নাকচ করেছেন।   তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত পরাজয় স্বীকার করছে, নতজানু হচ্ছে এবং ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না।”   ওই কর্মকর্তা আরও জানান, প্রথম বৈঠকেই খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় ও কঠোর অবস্থান নেন। বৈঠকের স্থান ও খামেনির সরাসরি উপস্থিতি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো গত সপ্তাহেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা দিতে মিত্র দেশগুলো এখনও সরাসরি এগোয়নি, ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি

মধ্যস্থতাকারীদের পাঠানো উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে আগে পরাজয় স্বীকার করতে হবে, অন্যথায় শান্তি নিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রথম বৈঠকেই তিনি এই কঠোর ও প্রতিশোধমূলক অবস্থানের কথা জানান।   জানা গেছে, অন্তত দুটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছিল। তবে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির সময় আসেনি। ইরানি শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকারী, ফলে তার এই অবস্থান সংঘাত নিরসনের পথকে আরও জটিল করে তুলেছে।   এক সপ্তাহের কিছু সময় আগে ধর্মীয় পরিষদের মাধ্যমে বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হন মোজতবা খামেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন ছবি প্রকাশ্যে আসেনি। তিনি হামলায় আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন থাকলেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। এদিকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, যাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।   চলমান এই যুদ্ধের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি এখনো প্রায় বন্ধ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি চালুর বিষয়ে মিত্রদের সহায়তা চাইলেও আশানুরূপ সাড়া পাননি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং ভয়াবহ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পেরিয়ে যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন মোজতবা খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন। কয়েক দিনের সেই অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উঠে আসেন তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times–এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইরে থেকে বিষয়টি সহজ বা পূর্বনির্ধারিত মনে হলেও বাস্তবে ইরানের ক্ষমতার অন্দরমহলে চলেছে তীব্র প্রতিযোগিতা। নতুন নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় আলেমদের পরিষদ, সামরিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়।   উত্তরসূরি নির্বাচনে গোপন বৈঠক ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে ৮৮ সদস্যের আলেমদের পরিষদ Assembly of Experts–এর ওপর। পরিষদটি ৩ মার্চ একটি গোপন ভার্চুয়াল বৈঠকে বসে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়া পর্যন্ত ভোট চলার কথা।   প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের হামলায় কুম শহরে পরিষদের সদর দপ্তরের আশপাশে ক্ষয়ক্ষতি হয়।   ক্ষমতার লড়াই: কট্টরপন্থী বনাম মধ্যপন্থী নতুন নেতা নির্বাচনকে ঘিরে ইরানের ক্ষমতার ভেতরে দুটি বড় শিবির তৈরি হয়। কট্টরপন্থী শিবিরে ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের প্রভাবশালী জেনারেলরা। তারা আলি খামেনির নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে ছিলেন এবং মোজতবা খামেনির পক্ষে অবস্থান নেন।   অন্যদিকে মধ্যপন্থী শিবিরের নেতারা নতুন নেতৃত্ব এবং তুলনামূলক নমনীয় নীতির পক্ষে যুক্তি দেন। তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি–কে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সামনে আনেন। তবে সামরিক নেতৃত্বের শক্ত অবস্থান এবং প্রতিশোধের রাজনীতির কারণে শেষ পর্যন্ত পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এমন একজন নেতার পক্ষে মত দেন, যিনি কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারবেন।   শেষ পর্যন্ত জয় মোজতবার প্রথম দফা ভোটেই মোজতবা খামেনি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পান। পরে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে তাঁর নাম ঘোষণা বিলম্বিত করা হয়। এ সময় মধ্যপন্থীরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। সেখানে ৮৮ সদস্যের মধ্যে ৫৯ জন মোজতবা খামেনির পক্ষে ভোট দেন। ফলে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন।   এরপর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিশ্চিত করে মোজতবা খামেনির পোস্টটি ভুয়া

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মোজতবা খামেনি এমন কোনো পোস্ট করেননি এবং খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।   অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত পোস্টটি মোজতবা খামেনির নামে খোলা একটি ‘প্যারোডি’ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার করা হয়েছে। অ্যাকাউন্টটির ইউজারনেম ‘MrKhameneiSpoof’, যেখানে ‘Spoof’ শব্দটি দিয়ে এটি যে একটি ব্যঙ্গাত্মক বা অনুকরণধর্মী অ্যাকাউন্ট, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া অ্যাকাউন্টের বায়োতে এটিকে ‘কমেন্ট্রি অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং সম্প্রতি এর নামও পরিবর্তন করা হয়েছে।   মোজতবা খামেনির প্রকৃত অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে এমন কোনো বার্তার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও নেতানিয়াহুর মৃত্যু সংক্রান্ত কোনো খবর প্রকাশিত হয়নি। মূলত একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মিথ্যা তথ্যটি প্রচার করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় আহত মোজতবা খামেনি মস্কোতে চিকিৎসাধীন—আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দাবি

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরায়েলি হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম।   কুয়েতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জারিদার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ রুশ সামরিক বিমানে করে তাকে গোপনে মস্কোতে নেওয়া হয়। সেখানে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই খবর আসে যে ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ও দ্য সান আল জারিদার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্টের উদ্যোগে মস্কোর একটি বিশেষ স্থানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি কিছু অসমর্থিত সূত্রে বলা হয়েছে, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হতে পারেন।   তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। ফলে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মোজতবা খামেনি সুস্থ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।   লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আলজাদিদ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং দেশের চলমান পরিস্থিতি তিনি সরাসরি তদারকি করছেন।   গত ৮ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তবে ১২ মার্চ দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার একটি ভাষণ প্রচার করা হয়, যা একজন উপস্থাপক পড়ে শোনান।   সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেন, চলমান যুদ্ধের ন্যায্য সমাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে—এমন যেকোনো আঞ্চলিক উদ্যোগকে ইরান স্বাগত জানাবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলোর জাহাজের জন্য তা বন্ধ রাখা হবে।   তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ আলোচনার টেবিলে নেই।   এদিকে মোজতবা খামেনির অবস্থান ও জীবিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ মার্চ) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।”   তবে একই সঙ্গে খামেনির মৃত্যুর খবরকে গুজব বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, যদি খামেনি জীবিত থাকেন, তাহলে নিজের দেশের স্বার্থে তার ‘বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত’ নেওয়া উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ।
মোজতবা খমেনি বেঁচে থাকলেও তার ক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ জানান, ইরান সরকারের নতুন এই অধ্যায়কে ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।  তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে তিনি এই নতুন নেতাকে নিয়ে সন্তুষ্ট নন। অনেক সূত্রের মতে মোজতবা খামেনি একজন চরমপন্থী ধর্মীয় নেতা, তবে তিনি আসলেই ক্ষমতায় আছেন কি না তা দেখার বিষয়।” ওয়াল্টজ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “এই মুহূর্তে তিনি আদৌ জীবিত কি না, সেটিই অস্পষ্ট। আর বেঁচে থাকলেও দেশটির ওপর তার কতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।” এর আগে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “আমি জানি না তিনি বেঁচে আছেন কি না। এখন পর্যন্ত কেউ তাকে জনসমক্ষে দেখাতে পারেনি।” বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে সৃষ্ট এই অস্থিতিশীলতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন, কোনো সমস্যা নেই: ইরান

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি–এর শারীরিক অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, খামেনির শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।   শনিবার ‘এমএস নাউ’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা পুরোপুরি সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার দায়িত্ব পালন করছেন।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, মুজতবা খামেনি সম্ভবত আহত হয়েছেন এবং তার শরীরে গুরুতর আঘাত বা অঙ্গহানির আশঙ্কা রয়েছে।   এই দাবি অস্বীকার করে আরাগচি বলেন, খামেনির কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তিনি ইতোমধ্যেই জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন এবং তার দায়িত্ব আগের মতোই পালন করে যাবেন।   এদিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম ভাষণেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুজতবা খামেনি। তিনি ইঙ্গিত দেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।   একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নতুন যুদ্ধফ্রন্ট খুলে দেওয়া হবে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির

হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বক্তৃতায় তিনি এ ঘোষণা দেন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।   বক্তৃতায় মোজতবা খামেনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে।   ইরানের পাশে ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী খামেনি বলেন, হুতি বিদ্রোহী–সহ ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও তাদের ‘দায়িত্ব পালন করবে’। পাশাপাশি ইরাক–এর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন তিনি।   বক্তৃতায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, হামলার মুখেও সেনাবাহিনী দেশকে পরাধীনতা ও বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে।   তিনি বলেন, “দেশ যখন চাপের মুখে এবং আক্রান্ত, তখন যারা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই যোদ্ধাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।”   নতুন সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, “আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব।” মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে   মোজতবা খামেনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে এবং এই হামলা চলতে থাকবে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। প্রথম দিনের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর ৮ মার্চ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।   সূত্র: Al Jazeera

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ফাইল ছবি: রয়টার্স
শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা মোজতবা খামেনির

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ইরানিদের রক্তের বদলা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শহীদদের প্রতিদান দিতে ইরান কোনো দ্বিধা করবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ৮ মার্চ তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।   বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ মোট ১৬৮ জন নিহত হয়েছে বলে তিনি জানান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই ভাষণে নতুন নেতা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে সব ঘাঁটি বন্ধ করার আলটিমেটাম দিয়েছেন, অন্যথায় সেগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন।   আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছেন মোজতবা খামেনি। তিনি জানান, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী এবং তাদের লক্ষ্য কেবল মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো। যতদিন ইরানের জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে, ততদিন এই প্রতিরোধ ও হামলা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ইরানের ভবিষ্যতের স্বার্থে সর্বোচ্চ নেতার পদের গুরুত্ব বজায় রাখার ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনির প্রথম বার্তা শিগগিরই প্রকাশ

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো একটি বার্তা প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। তার অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ।   টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়েছে, ‘ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনির প্রথম বার্তা কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।’   তবে বার্তাটি ভিডিও আকারে নাকি লিখিত বিবৃতি হিসেবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।   চ্যানেলটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বার্তায় শহীদ বিপ্লবের নেতা আলি খামেনি, জনগণের ভূমিকা ও দায়িত্ব, সশস্ত্র বাহিনী, নির্বাহী সংস্থা, প্রতিরোধ ফ্রন্ট এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি শত্রুদের মোকাবিলার বিষয় তুলে ধরবেন মোজতবা খামেনি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0