মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এবার আমরা সবাই নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছি। সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনে দেশকে সত্যিকার অর্থে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এ সময় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ আমরা একটি ভিন্ন পরিবেশে স্বাধীনতা দিবস পালন করছি। একটি মুক্ত ও ফ্যাসিস্টমুক্ত পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করছি। তবে দুঃখের বিষয়, আমাদের এই দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই।”
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার রাতে বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি গভীর দুঃখ ও সমবেদনা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এখনো অনেক যাত্রীর অবস্থান অজানা। তিনি বলেন, দেশব্যাপী এই ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। অসংখ্য হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “অনেক দিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অমনোযোগিতার কারণে এই ধরনের জীবনহানি ঘটছে। সতর্ক থাকলে অনেক প্রাণহানি ও ক্ষতি এড়ানো যেত।” তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। মির্জা ফখরুল নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “রাস্তা হতে হবে একদম সিধে। মুই কিন্তু রাডার ফিট করছু। সবদিকে নজর আছে আমার। কে কী করছেন, সব জানি।” সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর ক্ষমতায় এলেও নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীর্ষ নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এদিন বক্তব্যে ফখরুলের কণ্ঠে ছিল কঠোরতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামান্য বিচ্যুতিও বরদাশত করা হবে না। এমন হলে নেতৃত্ব হারানোর পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। একদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরানোর তাগিদ, অন্যদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, সামনে কঠিন সময় আসছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়বে এবং এর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তেল সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানান তিনি। পাম্প ভাঙচুর বা অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে বলেন, মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোনোভাবেই আইনের বাইরে গিয়ে শক্তি প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ধর্মের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না। তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমেই মানুষের সেবা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সৎ জীবনযাপন ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব, রাজনৈতিক স্লোগানে নয়। কৃষকদের সহায়তায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে, যার আওতায় সারা দেশে কয়েক কোটি নারীকে আনা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার খাল খননের মেগা প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার কথাও জানান তিনি। এদিনের কর্মসূচিতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা ও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হঠাৎ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়া কিছু ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, রাজনীতিকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে এবং গণতন্ত্রকেও স্বাভাবিক নিয়মে এগোতে দেওয়া উচিত। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “এরা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে আসে। এগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। রাজনীতি চলুক, গণতন্ত্র চলুক – তাদের নিজস্ব গতিতে।” তিনি আরও বলেন, “বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখে রাজনীতিকে থামানো বা গণতন্ত্রকে আটকে দেওয়ার কোনো মানে নেই। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া উচিত।” স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে। আওয়ামী লীগ কিছু চেষ্টা করলেও জনগণ তাদের রিজেক্ট করেছে। তাই লাভ হচ্ছে না।”
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় ভারত। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সহযোগিতা জোরদার করার বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। ভারতীয় হাইকমিশনার আরও জানান, ভবিষ্যতে এমন প্রকল্প ও কর্মসূচিতে ভারত সরকার কাজ করতে আগ্রহী, যেগুলো উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সহযোগিতা জোরদার করার বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। ভারতীয় হাইকমিশনার আরও জানান, ভবিষ্যতে এমন প্রকল্প ও কর্মসূচিতে ভারত সরকার কাজ করতে আগ্রহী, যেগুলো উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (১ মার্চ) সকাল ৯টায় ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, হাসপাতালটি ঘুরে দেখে তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পেয়েছেন। তবে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “এখানে একটি মেডিকেল কলেজ করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়েছে এবং স্থানও নির্ধারণ করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত ও উন্নত হবে।” তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ চালু হলে বর্তমান ২৫০ শয্যার হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে জেলার সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় চাহিদার তালিকা দিতে বলা হয়েছে। সরকারিভাবে সেসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাসপাতালে একটি অতিরিক্ত লিফট স্থাপনের কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী হাসপাতালের সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও যেন জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত করা যায়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরতদের বিষয়টিও পর্যালোচনায় রয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহ হয়েছে। আশা করছি, ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, শূন্য থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পদগুলোতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের যেসব পদ বর্তমানে খালি রয়েছে, সেগুলোতে নির্বাচন কবে হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করা হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি দুর্বল অবস্থায় রয়েছে— এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এতটা নেতিবাচক নয় যতটা উপস্থাপন করা হচ্ছে। তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে এবং ব্যাংকিং খাতও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও ভালো করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন করা হবে। শুক্রবাভ ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ঠাকুরগাঁও নিজ বাসভবনে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়কে জনগণের ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন নয়, এটি জনগণের দল। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল একে ‘রাজনৈতিক বিজ্ঞান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে উগ্রবাদের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যখনই গণতন্ত্রকে চেপে ধরা হয় এবং মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখনই এ ধরনের শক্তির উত্থান ঘটে। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন এবং বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে না দেওয়ার কারণেই জামায়াতেরএই অবস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে, বাংলাদেশের জনগণ ইতোমধ্যে তাদের রিজেক্ট করেছে। বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। জনগণ সুস্থ ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে সব অপপ্রবণতা রুখে দিতে সক্ষম হবে। নির্বাচনী জয় প্রসঙ্গে মহাসচিব বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও ৩১ দফার প্রতি জনগণের পূর্ণ সমর্থন ছিল বলেই এই ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ বা ভূমিধস বিজয় সম্ভব হয়েছে। জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতিতে অটল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের নিয়েই ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করা হবে। জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ফখরুল জানান,সনদের যেসব অংশে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ৩১ দফাও পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে। রংপুর বিভাগে জামায়াতের ভালো ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এর বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে বৃহত্তর দিনাজপুরের ১১টি আসনের সবকটিতেই বিএনপি জয়ী হয়েছে, সেখানে জামায়াত একটি আসনও পায়নি। আমরা যদি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাজনৈতিকও সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে পারি, তবে যেকোনো উগ্রবাদী প্রবণতা দূর করা সম্ভব।
আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক সাহসী ও ইতিবাচক বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, বিএনপি তা সাদরে গ্রহণ করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে জনগণের রায়কে বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী মির্জা ফখরুল সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিএনপি এবার একটি বিশাল ব্যবধানে জয়ী হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি জামায়াতের ছড়ানো বিভিন্ন অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখনগর ইউনিয়নের দোলুয়াপাড়ায় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানোর ঘোর বিরোধিতা করেন। নিজেকে একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "আমি ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করেছি। যারা সেই সময়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ কারণেই আমরা জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতার আসনে দেখতে চাই না।" সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, "আপনারা সুরক্ষার প্রশ্নে অনেকেই চিন্তিত। আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্যারান্টি দিচ্ছি—আপনাদের সুরক্ষায় কোনো গাফিলতি হবে না। আসুন, আমরা হিন্দু-মুসলিম এক হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্য ধানের শীষে ভোট দেই।" জনসভায় তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জানান, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা ভাবছেন। ক্ষমতায় আসলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য, শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পাওয়া সম্ভব হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফখরুল বলেন, "এবার নির্বাচিত হলে আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি চালু করব এবং একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করব। বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মা-বোনদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে যাতে তারা ঘরে বসেই আয় করতে পারেন।" পথসভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রবীণ এই নেতার বক্তব্যে নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে এবং এনজিও থেকে নেওয়া নারীদের কিস্তির ঋণের দায়িত্ব সরকার নেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নে নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ সুদসহ মাফ করে দেওয়া হবে। আর নারীদের জন্য ভালো খবর—আপনারা এনজিও থেকে কিস্তিতে ঋণ নেন না? তারেক রহমান বলছেন, ওই ঋণ সরকার নিয়ে নেবে। আমরা যখন সরকারে ছিলাম, তখন ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মাফ করেছিলাম এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করেছিলাম। এবারের নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে এবার ভালো নির্বাচন হবে। সবাই ভোট দিতে পারবে। ভালো মানুষ ও ভালো দলকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার সুযোগ আছে। আপনারা সবাই ভোট দিতে চান। তিনি বলেন, আমাদের দরকার এমন সরকার যার অভিজ্ঞতা আছে এবং আমানতের খেয়ানত করে না। প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবার আওয়ামী লীগ নেই, নৌকা মার্কা নেই—এবার দাঁড়িপাল্লা। দাঁড়িপাল্লা অনেক আগে থেকে রাজনীতি করে আসছে, কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি। এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। আমার ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়িতে বিদ্যুতের তারসহ সবকিছু পাকিস্তানিরা খুলে নিয়ে গিয়েছিল। বহু মানুষ হত্যা করা হয়েছে, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি হয়েছে। যারা বাংলাদেশকে মানতে চায়নি, শুধু বাংলাদেশ নয়—পাকিস্তান ও চায়নি—তাদের কী করে ভোট দেব? মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। এ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে বিভাজনের রাজনীতি বড় বাধা। যারা ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা এলে দেশের স্বার্থের বিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন কারো কাছ থেকে এক কাপ চাও গ্রহণ করিনি। সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।