মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ পাহাড়ায় জাপানি নৌবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি এক বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রোববার জাপানের সরকারি সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপান, চীন, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন বন্ধুরাষ্ট্রকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নীতিনির্ধারক প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জানান, আইনি দিক থেকে সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে না দিলেও, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জাহাজ পাঠানো অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল একটি বিষয়। জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সামরিক হস্তক্ষেপের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। গত সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের জন্য কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা জাপানের নেই। আগামী বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বৈঠকের আগে এই দাবি টোকিওকে বেশ চাপে ফেলেছে। শুল্ক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার কথা থাকলেও এখন ট্রাম্পের এই সামরিক দাবিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোবায়াশি আরও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, তাই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে জাপানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
ইরানের হাতে অবরুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যত অচল করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে সুরক্ষা দিতে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনা করছেন। তবে এই পরিকল্পনাকে 'ভয়াবহ বিপজ্জনক এক মিশন' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক রোজমেরি কেলানিক। তার মতে, এই সরু জলপথের উত্তর দিকে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান থাকায় তারা সহজেই ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাতে পারে। প্রণালীটি এতটাই সংকীর্ণ যে, উপকূল থেকে হামলা চালানো হলে মার্কিন বা অন্য দেশের যুদ্ধজাহাজের পক্ষে তা ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্প সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ লিখেছেন যে, তিনি আশা করছেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোও এই পথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমেরিকার সাথে যোগ দেবে। যদিও কোন কোন দেশ প্রকৃতপক্ষে রাজি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ১৭টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্স যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে প্যারিস। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এ ধরনের যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। বর্তমানে ফরাসি নৌবাহিনীর রণতরিগুলো পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে। এছাড়া ফ্রান্স জানায়, তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশটি এখনো প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তামূলক নীতির মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৪ মার্চ) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো—যারা ইরানের এই কৃত্রিম বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে এই পথটি উন্মুক্ত রাখতে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান এই প্রণালি বন্ধের যে চেষ্টা করছে তা প্রতিহত করতে সম্মিলিত শক্তির প্রয়োজন। এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করা সব তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় পারাপারের ব্যবস্থা করবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস করা হলেও ছোট ড্রোন বা মাইনের মাধ্যমে তারা এখনও নৌপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। তাই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌ-উপস্থিতি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে কোন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে অতিরিক্ত সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আরও প্রায় ২,২০০ মার্কিন মেরিন এবং নৌবাহিনীর তিনটি উভচর যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা বলেছেন, এই বাহিনী একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের অংশ, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। প্রয়োজনে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিন দিক থেকেই সামরিক সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এই ইউনিটের। তারা আরও জানান, এই মোতায়েনের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি স্থলযুদ্ধে নামছে। বরং সামরিক কমান্ডারদের হাতে অতিরিক্ত বিকল্প রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে ওঠায় যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ওই অঞ্চলে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নৌ-সেনা আহত হয়েছেন। ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (৫ম ফ্লিট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ মার্চ রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলা বা শত্রুদেশের আক্রমণের কারণে ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আগুনের কারণ যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট নয় এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট (ইঞ্জিন কক্ষ) বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়নি।" আহত দুই নৌ-সেনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা জাহাজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সমর্থনে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল (Fully Operational) রয়েছে এবং এর সামরিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌ কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের দামামা এখন চরম সীমায়। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ১৬টি মাইন পাতা যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, সমুদ্রপথে মাইন বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অকার্যকর মাইন বহনকারী ইরানি নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, এটি তারই প্রতিফলন। তবে সংঘাত কেবল সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই; ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তেহরানে নতুন করে বিমান হামলার ঘোষণা দিয়েছে। একইসাথে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ। অন্যদিকে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে বেজে উঠছে সাইরেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই চরম উত্তেজনার মাঝে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি আমেরিকান ওই অঞ্চল ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাজ্যও বিশেষ বিমানে তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা এখন তেহরান থেকে বৈরুত, আর রিয়াদ থেকে দুবাই—পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আঁচ এবার গিয়ে লেগেছে ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সীমান্ত রক্ষায় এক শক্তিশালী পদক্ষেপ নিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি শনিবার এক জরুরি ভিডিও বার্তায় সাইপ্রাসে একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট) মোতায়েনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মেলোনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ মূলত ‘ইউরোপীয় সংহতি’ প্রদর্শন এবং সংঘাত প্রতিরোধে ইতালির সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে পুনরায় উল্লেখ করেন যে, ইতালি কোনোভাবেই এই যুদ্ধের অংশ নয় এবং তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে ইচ্ছুক নয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মোতায়েনকৃত 'ফেডেরিকো মার্টিনেঙ্গো' ফ্রিগেটটি ইতালীয় নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী রণতরী। ১৬০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ ক্রু এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সজ্জিত এই জাহাজটি গত শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ ইতালির তারান্টো বন্দর থেকে সাইপ্রাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়েও বেশ সক্রিয় রোম। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন মেলোনি। এর পাশাপাশি মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পাল্টায় ইরানি হামলার আশঙ্কায় থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে মেলোনি সরকার। মূলত আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইতালির প্রধান লক্ষ্য।
ভারত মহাসাগরের অতন্দ্র প্রহরী হওয়ার যে উচ্চাভিলাষী দাবি ভারত করে আসছিল, সম্প্রতি এক মার্কিন হামলায় তা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। গত বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘আইরিস দেনা’ (IRIS Dena) ডুবে যাওয়ার ঘটনা ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব ও নিরাপত্তা প্রদানের সক্ষমতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক নৌ-মহড়া ‘মিলান’-এ অংশ নিয়ে ফেরার পথে লঙ্কার জলসীমার মাত্র ৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে আক্রান্ত হয় ইরানি জাহাজটি। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই হামলাকে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলায় অন্তত ৮০ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক নিখোঁজ রয়েছেন। মোদি সরকারের ‘গার্ডিয়ান’ ইমেজে ধাক্কা: মাত্র কয়েক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় নৌবাহিনীকে ভারত মহাসাগরের ‘গার্ডিয়ান’ বা অভিভাবক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু নিজের ঘরের আঙিনায় ভারতের আমন্ত্রিত এক ‘অতিথি’ জাহাজকে রক্ষা করতে না পারা বা হামলার বিষয়ে আগে থেকে কোনো তথ্য না থাকা নয়াদিল্লির জন্য কৌশলগতভাবে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করেছে। কৌশলগত উভয়সংকট: প্রাক্তন নৌ-কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন এক কঠিন ‘ক্যাচ-২২’ পরিস্থিতিতে। প্রশ্ন উঠেছে, ভারত কি এই মার্কিন হামলার কথা আগে থেকে জানত? যদি জানত, তবে তা বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। আর যদি না জানত, তবে তা ভারতের গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ সীমাবদ্ধতাকেই প্রকট করে তোলে। অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ আল জাজিরাকে বলেন, “যদি ভারত এই হামলা সম্পর্কে অন্ধকারে থেকে থাকে, তবে তা ওয়াশিংটনের সাথে আমাদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে চিন্তার কারণ।” কূটনৈতিক নীরবতা ও সমালোচনা: ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর ভারতীয় নৌবাহিনী একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিলেও মার্কিন হামলার বিষয়ে কোনো নিন্দা বা কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমনকি নিহত ইরানি নাবিকদের প্রতি শোক প্রকাশে মোদি সরকারের ‘অনীহা’ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে অভিযোগ করেছেন যে, মোদি সরকার ভারতের জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে দেশের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি ধ্বংস করছে। আঞ্চলিক প্রভাবের ভবিষ্যৎ: বিশ্লেষক শ্রীনাথ রাঘবন মনে করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত ভারতের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ‘জোট নিরপেক্ষ’ আন্দোলনের নেতা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সংকটে পড়তে পারে। ভারত মহাসাগরকে নিজের প্রভাব বলয় হিসেবে দাবি করা নয়াদিল্লির জন্য ‘আইরিস দেনা’ ডুবির ঘটনা কেবল একটি সামরিক বিপর্যয় নয়, বরং একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত পরাজয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজকে টর্পেডো ছুড়ে ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ভারত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো নিক্ষেপ করা হলে সেটি মাঝসমুদ্রেই তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় যুদ্ধজাহাজে থাকা অন্তত ৮৭ জন নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কী ঘটেছিল? পেন্টাগনের তথ্যানুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগরে টহলরত একটি মার্কিন ফাস্ট-অ্যাটাক সাবমেরিন থেকে মাত্র একটি ‘Mk-48’ টর্পেডো নিক্ষেপ করা হয়। নিখুঁত নিশানায় টর্পেডোটি ইরানি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena)-কে আঘাত করে। জাহাজটি মওজ-শ্রেণির (Moudge-class) একটি ফ্রিগেট ছিল, যা বঙ্গোপসাগরে এক নৌ-মহড়া শেষে নিজ গন্তব্যে ফিরছিল। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ঘটনাটি ঘটে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানিয়েছেন, হামলার সময় জাহাজটিতে ১৮০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে এবং মরদেহ উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পেন্টাগনের বক্তব্য প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই অভিযানকে ‘নিস্তব্ধ মৃত্যু’ (Quiet Death) হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন শত্রুপক্ষের জাহাজকে টর্পেডো দিয়ে ধ্বংস করল। এটি আমেরিকার বৈশ্বিক সক্ষমতার এক বিশাল নিদর্শন।” জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী এ পর্যন্ত ইরানের ২,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং ইরানের প্রায় ২০টি নৌযান ধ্বংস করেছে। তার দাবি, এই অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলে ইরানের নৌ-শক্তি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মার্কিন নৌবাহিনীর ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গত আট দশকে মার্কিন সাবমেরিন বহুবার মোতায়েন হলেও সরাসরি টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি। নিরাপত্তা জনিত কারণে সংশ্লিষ্ট সাবমেরিনটির নাম প্রকাশ করেনি পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা এবং ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পেন্টাগন জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ওই অঞ্চলে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হতে পারে।
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ইরানি নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেট (মাঝারি রণতরী) ডুবির ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে দেশটির নৌবাহিনী। বুধবার শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিথা হেরাথ দেশটির পার্লামেন্টে এক বিবৃতিতে জানান, ‘আইরিস দেনা’ নামক ওই ইরানি যুদ্ধজাহাজটিতে মোট ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। জাহাজটি থেকে বিপদসংকেত পাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার সামরিক বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে জাহাজটি ঠিক কী কারণে ডুবতে শুরু করেছিল, সে বিষয়ে শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেরাথ কেবল জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি নৌবাহিনীর এই ফ্রিগেটটি শ্রীলঙ্কার গল উপকূলে অবস্থানকালে ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন হয় এবং জরুরি সংকেত পাঠায়। বাকি নাবিকদের অবস্থা ও জাহাজটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কার মুখে সাইপ্রাসে নিজেদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ও কর্মীদের নিরাপত্তায় ড্রোন বিধ্বংসী অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার এবং রাজকীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ 'এইচএমএস ড্রাগন' (HMS Dragon) মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানান, "সাইপ্রাস এবং সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সামরিক সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে এবং সেখানে ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স ডেস্ট্রয়ার দ্রুত পৌঁছাবে। মূলত সোমবার সাইপ্রাসের ব্রিটিশ বিমান ঘাঁটি 'আরএএফ আক্রোতিরি'তে একটি ড্রোন আঘাত হানার পর এই কঠোর পদক্ষেপ নিল ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় তারা সর্বদা প্রস্তুত এবং মিত্রদের নিরাপত্তায় এই রক্ষণাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীর ৯টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জাহাজগুলোর মধ্যে কিছু “বেশ বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ” ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, “আমরা বাকিগুলোর পেছনেও লেগেছি তারা খুব শীঘ্রই সমুদ্রের তলদেশে যাবে। আলাদা একটি হামলায় তাদের নৌ-সদর দপ্তরও প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তাদের নৌবাহিনী এখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে।” এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সতর্ক নজরে রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।