বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে যার নাম চিরভাস্বর, তিনি পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রুপালি পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার জীবনের ওপর নির্মিত বায়োপিক 'মাইকেল' (Michael)। তবে সিনেমাটি মুক্তির আগেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি বিখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট'-এ প্রকাশিত এক রিভিউতে সিনেমাটির নানা দিক উঠে এসেছে। সিনেমাটিতে মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাইপো জাফর জ্যাকসন। রিভিউ অনুযায়ী, পর্দার মাইকেল হিসেবে জাফর ছিলেন অনবদ্য। তার নাচ, হাঁটাচলা এবং কণ্ঠের জাদুতে দর্শক বারবার আসল মাইকেল জ্যাকসনকেই খুঁজে পাবেন। বিশেষ করে জ্যাকসনের আইকনিক কনসার্ট এবং মিউজিক ভিডিওগুলোর রি-ক্রিয়েশন দর্শকদের নস্টালজিক করে তুলবে। রিভিউতে বলা হয়েছে, পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকা এই সিনেমায় জ্যাকসনের কালজয়ী সব গান এবং অসাধারণ সাফল্যের গল্পগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো এখানে অনেকটা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ বা আইনি জটিলতার বিষয়গুলো যেভাবে বিস্তারিত আসার কথা ছিল, সিনেমাটি সেখানে অনেকটাই রক্ষণশীল। মনে হতে পারে, এটি মাইকেলের ইমেজকে উজ্জ্বল করার একটি প্রয়াস। বিশাল ক্যানভাসে মাইকেলের শৈশব থেকে মহাতারকা হয়ে ওঠার গল্পটি দারুণভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। কস্টিউম থেকে শুরু করে কোরিওগ্রাফি—সবকিছুতেই ছিল নিখুঁত ছাপ। তবে গল্পের গাঁথুনিতে কিছুটা নাটকীয়তার অভাব অনুভব করতে পারেন সাধারণ দর্শকরা। সব মিলিয়ে, মাইকেল জ্যাকসন ভক্তদের জন্য এটি একটি বড় উপহার হতে যাচ্ছে। বিতর্ক ছাপিয়ে একজন শিল্পীর অসাধারণ শৈল্পিক যাত্রাই এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব এবং সময়ের আলোচিত পরিচালক রায়হান রাফী—এই দুই তারকাকে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। গুঞ্জন উঠেছিল, রাফীর আগামী সিনেমায় নাম ভূমিকায় দেখা যাবে অপূর্বকে। এমনকি আগামী বছরের ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই সিনেমার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই গুঞ্জনের সত্যতা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন স্বয়ং নির্মাতা। সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে রায়হান রাফী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ একটি 'ফেক নিউজ' বা ভুয়া খবর। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, "অপূর্বর সাথে নতুন কোনো সিনেমা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি, এমনকি আপাতত এমন কোনো ভাবনাও নেই। যারা এই খবর ছড়িয়েছেন, তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তথ্য দিচ্ছেন।" বর্তমানে রাফী ব্যস্ত আছেন তার আসন্ন সিনেমা 'প্রেশার কুকার' নিয়ে। এই সিনেমাটিকে তিনি একটি 'আর্টিস্টিক' বা শৈল্পিক ধারার কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাফী আরও জানান, সিনেমাটি নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী কারণ এটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য 'লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল' থেকে সিনেমাটির প্রিমিয়ারের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। উৎসবের পাশাপাশি দেশীয় প্রেক্ষাগৃহেও তার কাজ নিয়ে দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর সেন্সর বোর্ডের নানা জটিলতার পর দেশের প্রেক্ষাগৃহে কেন মুক্তি পেল না ‘শনিবার বিকেল’? বিশেষ করে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী যখন নিজেই সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন, তখন কেন এই সিনেমা আলোর মুখ দেখল না—এমন প্রশ্নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি ব্যাখ্যা দিলেন নির্মাতা। ফারুকী জানান, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক কোনো ভয় বা উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলার অনীহা নেই, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে নিছক ব্যবসায়িক বাস্তবতা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সিনেমাটি যখন ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘সনি লিভ’-এ মুক্তি পায়, এরপর ইন্টারনেটে এর হাজার হাজার পাইরেটেড লিংক ছড়িয়ে পড়ে। যারা সিনেমাটি দেখতে চেয়েছেন, তাদের বড় অংশই ইতিমধ্যে তা দেখে ফেলেছেন। যারা সিনেমাটি হলে আনার দাবি তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে ফারুকী বলেন, অনলাইনে সহজলভ্য একটি ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া ব্যবসায়িকভাবে আত্মঘাতী। বাংলাদেশের বাজারে একটি সুপারহিট ছবিও ডিস্ট্রিবিউশন খরচ বাদ দিয়ে কতটুকু মুনাফা করে, তা ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মানুষ ভালো করেই জানেন। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কেউ যেমন এখন ‘ব্যাচেলর’ সিনেমাটি নতুন করে হলে মুক্তি দিতে বলবেন না, ঠিক তেমনি ‘শনিবার বিকেল’ নিয়েও ব্যবসায়িক কোনো সম্ভাবনা বাকি নেই। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও শৈল্পিক সত্তা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে তিনি কখনোই পিছপা হননি এবং হবেনও না। তার মতে, একজন শিল্পীর জন্য যেমন ধর্মীয় উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলা জরুরি, তেমনি চেতনার নামে মানুষ গুম বা খুনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ঈদ এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। বছরের অন্য সময় প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে হিমশিম খেলেও দুই ঈদকে ঘিরে তৈরি হয় ভিন্ন মাত্রার উন্মাদনা। এবার সেই উন্মাদনা রেকর্ড ছুঁতে যাচ্ছে—ঈদ উপলক্ষে মুক্তির ঘোষণায় রয়েছে ১২টি সিনেমা। তবে সীমিত প্রেক্ষাগৃহ, বড় বাজেটের প্রতিযোগিতা এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত কয়টি ছবি প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পাবে? শাকিব খানের ‘প্রিন্স’: সময়ের সঙ্গে দৌড়: নব্বইয়ের দশকের অপরাধজগতকে পটভূমি করে নির্মিত ‘প্রিন্স’ শুরু থেকেই আলোচনায়। শাকিব খানের বিপরীতে আছেন কলকাতার জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও তাসনিয়া ফারিণ। বিদেশি লোকেশন, অ্যাকশন ও বড় বাজেটের কারণে ছবিটি ঈদের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত। যদিও শুটিংয়ের শেষ লট এখনও বাকি, নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ জানিয়েছেন—শুটিং, সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং ও মিউজিক একসঙ্গে এগোচ্ছে। তবে সময়মতো কাজ শেষ না হলে মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। নিশোর ‘দম’: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সারভাইভাল গল্প: রেদওয়ান রনির পরিচালনায় আফরান নিশো অভিনীত ‘দম’-এর বড় অংশের শুটিং হয়েছে কাজাখস্তানে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সারভাইভালধর্মী এ ছবিতে আরও আছেন চঞ্চল চৌধুরী ও পূজা চেরী। বর্তমানে পোস্টপ্রোডাকশন চলছে। কনটেন্টনির্ভর গল্পের কারণে শহুরে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে ছবিটি। ‘মালিক’ ও ‘রাক্ষস’: সাইফ চন্দনের পরিচালনায় আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত ‘মালিক’ এখন পোস্টপ্রোডাকশনে। মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’-এ সিয়াম আহমেদ ও সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে অ্যাকশন–ভিত্তিক গল্পে। দুটি ছবিই তরুণ দর্শকদের লক্ষ্য করে নির্মিত। ‘দুর্বার’, ‘ট্রাইব্যুনাল’, ‘প্রেশার কুকার’: থ্রিলার ‘দুর্বার’-এ প্রথমবার জুটি হচ্ছেন সজল ও অপু বিশ্বাস। চট্টগ্রামের আলোচিত একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘ট্রাইব্যুনাল’ সামাজিক বার্তা–নির্ভর সিনেমা। রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ নারী–কেন্দ্রিক গল্প নিয়ে নির্মিত, যেখানে অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি ও মারিয়া শান্ত। নির্মাতার ভাষায়, এই শহর মেয়েদের জন্য এক প্রেশার কুকার। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’: তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নির্মিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে। সাবিলা নূর অভিনীত এ ছবির শুটিং শেষ, চলছে পোস্টপ্রোডাকশন। নির্মাতার দাবি, নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হয়েছে। অনুদান ও অন্যান্য ছবি:পরীমনি অভিনীত সরকারি অনুদানের ছবি ‘ডোডোর গল্প’, রাশিদ পলাশের ‘রঙবাজার’, জাহিদ জুয়েলের ‘পিনিক’ এবং বদিউল আলম খোকনের ‘তছনছ’—সব মিলিয়ে মুক্তির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। তবে সব ছবিই যে প্রেক্ষাগৃহ পাবে, তা নিশ্চিত নয়। হল–সংকট: সংখ্যার লড়াইয়ে ঝুঁকি: দেশে বর্তমানে মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে সক্রিয় প্রেক্ষাগৃহ প্রায় ৬০-৭০টি। ঈদে বন্ধ থাকা কিছু হল চালু হলেও ১২টি সিনেমার জন্য এ সংখ্যা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন প্রদর্শকরা। তাঁদের মতে, সর্বোচ্চ তিন থেকে চারটি বড় ছবি মুক্তি পেলেই ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।