ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ড্রোন যুদ্ধ কৌশল প্রয়োগ করছে ইরান—এমনটাই মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ফাইবার অপটিক তার দিয়ে নিয়ন্ত্রিত এফপিভি (FPV) ড্রোনের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্যামিং-প্রতিরোধী ড্রোন বাগদাদে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটির ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এসব হামলায় একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফাইবার অপটিক নিয়ন্ত্রিত এসব ড্রোন ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে থামানো যায় না, যা প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনেকাংশে অকার্যকর করে দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে স্থল ও নৌ অভিযান চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাহিনীকে এমন এক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হতে পারে, যেখানে ড্রোনই প্রধান হুমকি—যা ইরাক বা আফগানিস্তানের পূর্ববর্তী যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে ভিন্ন। ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কফম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এফপিভি ড্রোন প্রযুক্তি ও এর সামরিক প্রভাব পুরোপুরি অনুধাবনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনীর সাবেক এয়ার মার্শাল মার্টিন স্যাম্পসনের মতে, পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী এ ধরনের ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোন প্রযুক্তি উন্নত করতে মস্কো যেমন কাজ করছে, তেমনি সেই অভিজ্ঞতা তেহরানও গ্রহণ করছে। ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রি জাগোরোদনিয়ুক বলেন, দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, যুদ্ধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠেছে এফপিভি ড্রোন। অনেক ক্ষেত্রে ২০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ড্রোন নিয়ন্ত্রিত ‘কিল জোন’ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে। তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো এই নতুন ধরনের যুদ্ধ বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও ব্যয়বহুল স্টিলথ যুদ্ধবিমান মার্কিন এফ-৩৫ লাইটনিং-২ সফলভাবে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ছোঁড়া ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মার্কিন সামরিক আধুনিক ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তি ও স্টিলথ সক্ষমতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সেন্টকমের নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ওপর একটি কমব্যাট মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ বিমান আঞ্চলিক বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছে। বিভিন্ন ওপেন সোর্স ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ কোটি ডলার মূল্যের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি মাত্র ৩ হাজার ডলার ব্যয়ে নির্মিত সম্পূর্ণ ইরানি প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর বিমানের পেছনে আগুনের শিখা দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেক বিশ্লেষক। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার প্রভাব কেবল একটি বিমান হারানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে ইরান এফ-৩৫ বিমানের ‘ইনফ্রারেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ বা হিট সিগনেচার ডাটা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা মস্কো ও বেইজিংয়ের মতো প্রতিপক্ষের জন্য অমূল্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর ফলে মার্কিন আকাশসীমার শ্রেষ্ঠত্ব বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং এফ-৩৫ পাইলটরা এখন থেকে আর নিজেদের ‘অদৃশ্য’ মনে করতে পারবেন না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি মার্কিন সামরিক বিমান হারানো গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার, এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল এবং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কারের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল সরঞ্জাম। এই ঘটনাটি মার্কিন সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: প্রেস টিভি।
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় ড্রোন হামলা শনাক্ত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাডার প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে চীন। নতুন এই এআই অ্যালগরিদম রাডারকে যেকোনো চলমান লক্ষ্যবস্তুকে বিভিন্ন দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করা, গতিশীল তথ্য সংগ্রহ এবং এমনকি বিভ্রান্তিকর বা ভুয়া ড্রোন শনাক্ত করতেও সক্ষম করে তুলবে। বুধবার (১১ মার্চ) চীনের শীর্ষ বিমান প্রতিরক্ষা রাডার বিশেষজ্ঞ শু জিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক রাজনৈতিক অধিবেশন ‘টু সেশনস’-এ শু জিন জানান, পরীক্ষায় দেখা গেছে নতুন এই এআই প্রযুক্তি রাডারের লক্ষ্য শনাক্ত করার ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছে। বিশেষ করে নিচু উচ্চতায় উড়তে থাকা বিপুল সংখ্যক ড্রোন শনাক্ত করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। শু জিন বর্তমানে চীনের বিমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান 'চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন' (সিইটিসি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে দুই পক্ষই বিপুল সংখ্যক স্বল্পমূল্যের আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে। একসাথে অনেক ড্রোন যখন সমন্বিতভাবে কাজ করে বা দায়িত্ব ভাগ করে নেয়, তখন প্রচলিত রাডার ব্যবস্থার ওপর তা বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। প্রচলিত পদ্ধতিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোনকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ায় এআই-চালিত রাডার এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শু জিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, আত্মঘাতী ড্রোন আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় চীন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নিম্ন-উচ্চতার আগাম সতর্কতা রাডার প্রযুক্তিতে এআই অ্যালগরিদমকে চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করার কাজ করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধকৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে এক হাজার কেজি বা তার বেশি পেলোড বহনে সক্ষম মিসাইল ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেবে ইরান। রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে মিসাইলের সংখ্যা কমিয়ে তাদের ধ্বংসক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কৌশলের ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান তুলনামূলক কম খরচের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়। এতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করে প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষা মিসাইল ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। তবে বর্তমানে তেহরান খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারে বেশি জোর দিচ্ছে। এসব মিসাইল উচ্চগতিসম্পন্ন এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে, যা উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক টন বিস্ফোরক বহনকারী মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলে তা বড় ধরনের সামরিক অবকাঠামো অচল করে দিতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১১টি উন্নতমানের ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সর্বশেষ অভিযানে আরও দুটি ড্রোন হারানোর পর এ সংখ্যা ১১–তে পৌঁছেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনগুলো এমকিউ–৯ রিপার মডেলের, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক মানববিহীন আকাশযান হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের ড্রোন মূলত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও সীমিত সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এগুলো কার্যকর হলেও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসম্পন্ন দেশের বিরুদ্ধে এগুলো তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রতিটি এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনের মূল্য কয়েক কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসেবে ১১টি ড্রোন হারানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রিপার ড্রোনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ মাইল, যা আধুনিক যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা অঞ্চলে এগুলো সহজেই প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখোমুখি হলে এমন ড্রোন ব্যবহারে ঝুঁকি বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান-এর কম খরচে তৈরি ড্রোন হামলা প্রতিরোধ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ড্রোন ধ্বংস করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় পশ্চিমা সামরিক পরিকল্পনায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের একটি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। অথচ সেটি ধ্বংস করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে ব্যয় হতে পারে ৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত। এই ব্যয় বৈষম্যকে সামরিক কৌশলবিদদের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ইরান একযোগে ইসরায়েলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার এবং সৌদি আরব-এ অবস্থিত মার্কিন ও মিত্র সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০০-এর বেশি ড্রোন ছুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার কৌশল ব্যবহার করছে। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের তথ্য বলছে, ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে বর্তমানে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ‘শাহেদ’ সিরিজের ড্রোন মজুত থাকতে পারে। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত ৫০০ ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতাও রয়েছে দেশটির। ২০২৫ সালের জুন মাসের সংঘাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সে সময় মাত্র ১২ দিনে ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) প্রায় ১৫০টি ‘THAAD’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, যার মূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে প্রতিটি। এসব ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় উৎপাদনে কয়েক বছর সময় লাগে। স্টিমসন সেন্টার–এর সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হার উৎপাদনের চেয়ে বেশি হওয়ায় মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে প্যাসিফিক ফোরাম–এর উইলিয়াম আলবার্ক জানিয়েছেন, অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগে থেকেই সীমিত ছিল। চলমান সংঘাতে কয়েক দিনের মধ্যেই এসব অস্ত্রের মজুত শেষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ব্যয় কমাতে পশ্চিমা সামরিক মহল এখন ‘এপিকেডব্লিউএস’ গাইডেড রকেট এবং ইসরায়েল–এর ‘আয়রন বিম’ লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে লেজার প্রযুক্তির সীমিত ইউনিট বর্তমানে কেবল ইসরায়েলেই চালু রয়েছে। সাবেক ইসরায়েলি নৌ কমান্ডার ইয়াল পিনকো সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের কাছে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে এবং দেশটি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সর্বাত্মক সামরিক কৌশল গ্রহণ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।