যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা এবং যৌন অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ১৭ জন স্বাভাবিক উপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সোমবার দেশটির বিচার বিভাগ এই ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে, অপরাধের ইতিহাস গোপন করে বা কোনো ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে ফেডারেল আদালতের আদেশের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করার বিধান রয়েছে। যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটির অপব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এই জিরো-টলারেন্স বা শূন্য-সহনশীলতা নীতি কার্যকর করছে।
অপরাধের তথ্য গোপন করে যারা অবৈধভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করতে প্রশাসন সব ধরনের আইনি পথ ব্যবহার করছে। জালিয়াতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে বিচার বিভাগের এই ব্যাপক নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান নিয়ে দেশটির অভিবাসন আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, আগে অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই আইনি প্রক্রিয়াটি এখন নিয়মিত ব্যবহার করায় সাধারণ অভিবাসীদের মনে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন সিএআইআর ভার্জিনিয়ার একটি বড় পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে চার মুসলিম শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মামলাটি করা হয়েছে ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পাবলিক স্কুলসের বিরুদ্ধে, যা ওয়াশিংটন ডিসির উপশহরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত একটি বৃহৎ স্কুল জেলা। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার অন্তর্ভুক্ত থমাস জেফারসন হাই স্কুল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এমএসএ) সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করে একটি ভিডিও তৈরি করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের জিজ্ঞাসা করছে তারা এমএসএ সভায় অংশ নেবে কি না। কেউ “না” বললে অন্য শিক্ষার্থীরা মজার ছলে তাদের ধরে নিয়ে যায়, যা মামলার ভাষ্যে একটি হাস্যরসাত্মক স্কিট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সিএআইআরের দাবি, এতে কোনো হুমকি, অস্ত্র বা বাস্তব সহিংসতার ইঙ্গিত ছিল না এবং একই ধরনের ভিডিও অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে মামলায় বলা হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সাসপেন্ড করে এবং তাদের আচরণকে ইহুদি-বিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করে শাস্তিমূলক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া এক শিক্ষার্থীকে ফিলিস্তিনের মানচিত্র সংবলিত সোয়েটশার্ট পরতে নিষেধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সিএআইআরের আইনজীবীদের মতে, একই ধরনের আচরণের জন্য অন্যান্য শিক্ষার্থী গোষ্ঠীকে শাস্তি না দিয়ে কেবল মুসলিম শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী, সমান সুরক্ষা ধারা এবং ফেডারেল নাগরিক অধিকার আইনের লঙ্ঘন। স্কুল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছে, ভিডিওটি শিক্ষার্থী অপহরণের মতো দৃশ্য উপস্থাপন করেছিল, যা স্কুল পরিবেশে অনুপযুক্ত ও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি কিছু শিক্ষার্থীর জন্য মানসিকভাবে আঘাতজনক হতে পারে। ইহুদি সম্প্রদায়ের কিছু সংগঠনও ভিডিওটির সমালোচনা করে বলেছে, অপহরণের দৃশ্যের সঙ্গে মিল থাকায় এটি সংবেদনশীল সময়ের জন্য অনুপযুক্ত ছিল। মামলাটি এখন মূলত নির্ভর করছে মুসলিম শিক্ষার্থীরা অন্য গোষ্ঠীর তুলনায় ভিন্ন আচরণের শিকার হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের ওপর। আদালতে যদি প্রমাণ হয় যে ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য হয়েছে, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার মামলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সিএআইআর ক্ষতিপূরণ, শাস্তিমূলক রেকর্ড বাতিল এবং ভবিষ্যতে এমন ব্যবস্থা বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চেয়েছে।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা নওশীন ও নোভার নতুন উদ্যোগ ‘এন ক্যাফে ৩৬৫ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতোমধ্যে ক্যাফেটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। লং আইল্যান্ডের ওয়ানটাঘ এলাকায় অবস্থিত নতুন এই প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ক্যাফে সংস্কৃতি, পরিবারবান্ধব পরিবেশ এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ মিলনস্থল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাদের এই উদ্যোগ। উদ্বোধনের পর থেকেই সেখানে ভিড় করছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতজনরা উপস্থিত হয়ে নওশীন ও নোভাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসার বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নওশীন ও নোভা জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ‘এন ক্যাফে ৩৬৫’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। তাদের ভাষায়, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন যেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন, পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে পারবেন এবং একই সঙ্গে মানসম্মত খাবার ও সেবা উপভোগ করতে পারবেন। ক্যাফেটিতে কফি, বিভিন্ন ধরনের পানীয়, স্ন্যাকস ও মূল খাবারের পাশাপাশি রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। উদ্যোক্তারা জানান, খাবারের মান ও পরিবেশ—দুই দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোলও। অভিনয়ের পাশাপাশি খাদ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেও পরিচিত তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে হিল্লোল জানান, ২০১৭ সালে তার খাদ্যভ্রমণ ও খাবার নিয়ে কাজের শুরু। এরপর বিভিন্ন সময়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে গত বছর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বাসার কাছেই একটি রেস্টুরেন্ট স্পেস পাওয়ার পর তার স্ত্রী নওশীন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল হন। হিল্লোল লেখেন, শুরুতে এটি শুধু একটি ক্যাফে হিসেবে ভাবা হলেও ধীরে ধীরে সেটি পূর্ণাঙ্গ রেস্টুরেন্ট ও বারে রূপ নেয়। তিনি জানান, মাংসের সব আইটেমে হালাল উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ খাবারের রেসিপি নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আলু প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ল্যাম্ব শ্যাঙ্ক রান্না—সবকিছুই ইন-হাউজ পদ্ধতিতে করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে রাখা হয়েছে ঢাকার জনপ্রিয় খাবার কাচ্চিও। মজার ছলে তিনি লেখেন, এবার আমেরিকানদের কাচ্চি খাওয়া শেখানোর চেষ্টা করবেন তারা। নিজের স্ট্যাটাসে হিল্লোল আরও উল্লেখ করেন, ‘এন ক্যাফে’ নামটি অনেকেই নওশীনের নামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেও এর অর্থ আসলে ‘নিউইয়র্ক ক্যাফে’। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে এটি লং আইল্যান্ডে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও খাবারকে আরও পরিচিত করে তুলবে বলেও আশা করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন রেকর্ড ভাঙা খরা চলছে, তখনো থেমে নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের বিস্তার। এক অনুসন্ধানী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির পরিকল্পিত নতুন এআই তথ্যকেন্দ্র বা ডাটা সেন্টারগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই তৈরি হচ্ছে চরম খরাকবলিত এলাকাগুলোতে। অনুমোদন পাওয়া ৮০৯টি নতুন তথ্যকেন্দ্রের মধ্যে ৫১৭টিই এমন সব অঞ্চলে অবস্থিত, যেগুলো গত এক বছর ধরে তীব্র পানির সংকটে ভুগছে। এই তথ্যকেন্দ্রগুলোতে থাকা হাজার হাজার কম্পিউটার দিনরাত সচল রাখার কারণে সেগুলো প্রচুর উত্তপ্ত হয়। এই কম্পিউটারগুলো ঠান্ডা রাখতে প্রতিদিন লাখ লাখ গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। হিসাব অনুযায়ী, একটি বড় তথ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ গ্যালন পানি লাগে, যা ৫০ হাজার মানুষের দৈনিক পানির চাহিদার সমান। গবেষকরা জানিয়েছেন, চ্যাটজিপিটি বা এ ধরনের এআই মাধ্যমে মাত্র ১০০ শব্দের একটি বার্তা লিখলেই তথ্যকেন্দ্র ঠান্ডা করতে প্রায় ৫০০ মিলিলিটার পানি খরচ হয়ে যায়। গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট এবং আমাজনের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা এই তথ্যকেন্দ্রগুলোর পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। তারা মূলত সস্তা জমি, কম কর এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মরুভূমি ও খরাপ্রবণ এলাকাগুলোকে বেছে নিচ্ছে। কারণ শুষ্ক আবহাওয়ায় কম্পিউটার যন্ত্রাংশ সহজে নষ্ট হয় না। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে এই খাতে বার্ষিক পানির চাহিদা ১৭ বিলিয়ন গ্যালন থেকে বেড়ে ৭৩ বিলিয়ন গ্যালনে পৌঁছাবে। এই বিপুল পরিমাণ পানির চাহিদার কারণে স্থানীয় কৃষক, খামারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষকে পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বলা হলেও এই তথ্যকেন্দ্রগুলোকে প্রায় আনলিমিটেড পানি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধ তৈরি হচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ম চাপানোর আইন পাসের কথা ভাবা হচ্ছে।