আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২১:৫৫
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য দেশে যাওয়ার সবচেয়ে বড় ব্যয়ের একটি হলো বিমান ভাড়া। বিশেষ করে ঈদ, সামার ভ্যাকেশন, শীতকালীন ছুটি কিংবা বছরের শেষভাগে বাংলাদেশমুখী যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় টিকিটের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে ভ্রমণ খাতের অভিজ্ঞরা বলছেন, কিছু কার্যকর কৌশল জানা থাকলে একই যাত্রায় কয়েকশ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।

 

বর্তমানে অধিকাংশ যাত্রী সরাসরি একটি শহর থেকে ঢাকা পর্যন্ত টিকিট খোঁজেন। কিন্তু অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীরা বলছেন, অনুসন্ধানের ধরন পরিবর্তন করলেই অনেক সময় বড় ধরনের মূল্য পার্থক্য দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো একাধিক শহরভিত্তিক বা মাল্টি-সিটি অনুসন্ধান। অনেক ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা এবং ফেরার সময় ভিন্ন কোনো মার্কিন শহরে অবতরণের বিকল্প বেছে নিলে প্রচলিত যাতায়াত টিকিটের তুলনায় কম ভাড়া পাওয়া যায়।

 

ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যেসব ফ্লাইটে অপেক্ষার সময় বা ট্রানজিট দীর্ঘ হয়, সেগুলোর ভাড়া সাধারণত তুলনামূলক কম থাকে। অধিকাংশ যাত্রী দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চান বলে স্বল্প ট্রানজিটের ফ্লাইটের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি ট্রানজিটযুক্ত কিছু ফ্লাইটে উল্লেখযোগ্য মূল্যছাড় দেখা যায়।

 

বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করাও অনেকের জন্য লাভজনক হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, আটলান্টা বা অন্য কোনো শহর থেকে সরাসরি বাংলাদেশগামী টিকিটের তুলনায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি কিংবা অরল্যান্ডো থেকে একই সময়ে কম ভাড়ার টিকিট পাওয়া যায়। অনেক প্রবাসী প্রথমে স্বল্পমূল্যের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে অন্য শহরে গিয়ে সেখান থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করে খরচ কমিয়ে থাকেন।

 

জর্জিয়ার আটলান্টাভিত্তিক বাংলা ট্রাভেলের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ মামুন বলেন, ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নমনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট একটি দিনের পরিবর্তে পুরো সপ্তাহ বা মাসজুড়ে ভাড়ার তুলনা করলে দেখা যায়, মাত্র এক বা দুই দিনের ব্যবধানে টিকিটের দামে কয়েকশ ডলারের পার্থক্য হতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই সুবিধা সহজেই পাওয়া যায়।

 

অনেক অভিজ্ঞ যাত্রী ‘ওপেন-জ’ পদ্ধতিও ব্যবহার করেন। অর্থাৎ এক শহরে পৌঁছে অন্য শহর থেকে ফেরার টিকিট কাটা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেউ ঢাকায় পৌঁছে ফেরার যাত্রা চট্টগ্রাম বা সিলেট থেকে শুরু করলে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া কম পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

 

আরেকটি জনপ্রিয় কৌশল হলো যাত্রাকে দুই বা ততোধিক অংশে ভাগ করা। উদাহরণস্বরূপ, আটলান্টা থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত একটি টিকিট এবং নিউইয়র্ক থেকে ঢাকা পর্যন্ত আলাদা আরেকটি টিকিট কেনা। অনেক সময় এই পদ্ধতিতে মোট ব্যয় কম হয়। তবে ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ট্রানজিট সময় রাখার পরামর্শ দেন, যাতে একটি ফ্লাইট বিলম্বিত হলেও পরবর্তী যাত্রা ব্যাহত না হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা নীতির আওতায় অনেক এয়ারলাইন্স ও বুকিং প্ল্যাটফর্ম টিকিট কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনা খরচে বাতিল বা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। ফলে যাত্রীরা ভালো ভাড়া পেলে দ্রুত বুকিং করে পরে প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, গভীর রাত বা ভোরবেলার ফ্লাইটেও অনেক সময় তুলনামূলক কম ভাড়া দেখা যায়। একই সঙ্গে ভাড়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখলে মূল্য কমার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে প্রচলিত কিছু তথাকথিত ‘গোপন কৌশল’ সব সময় নিরাপদ বা গ্রহণযোগ্য নয়। বিমান সংস্থার নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে যাত্রা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সব সময় বৈধ ও স্বীকৃত উপায়ে টিকিট কেনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

ভ্রমণ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম পরিকল্পনা, বিভিন্ন শহর ও বিমানবন্দরের ভাড়া তুলনা, নমনীয় তারিখ নির্বাচন, দীর্ঘ ট্রানজিট গ্রহণের মানসিকতা এবং একাধিক রুট যাচাই—এই কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি পরিবারের বিমান ভাড়ায় কয়েকশ থেকে এক হাজার ডলারেরও বেশি সাশ্রয় হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

 

নুরুল্লাহ সাঈদ
আটলান্টা, জর্জিয়া. যুক্তরাষ্ট্র

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
বিলিয়নেয়ারের ১১০ বছর পর বিশ্ব পেল প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার

একসময় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের উত্থান ঘটত তেল, ইস্পাত কিংবা রেলপথের মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পখাত থেকে। বিংশ শতকের শুরুতে তেল ব্যবসার মাধ্যমে জন ডি. রকফেলার হয়েছিলেন বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার। সেই ঘটনার ১১০ বছর পর বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন অধ্যায়। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।   আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক এবং প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্যের রেকর্ড উত্থানের পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।   বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ইলন মাস্কের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তার বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মূল্যও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।   বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে অবশ্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে মাস্ককে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি ছিলেন। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। মাত্র সাড়ে ছয় বছরের ব্যবধানে সেই সম্পদ প্রায় ৩৮ গুণ বেড়ে ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক অর্থনৈতিক ইতিহাসে এত দ্রুত সম্পদ বৃদ্ধির নজির খুব কমই রয়েছে। ২০২০ সালের পর টেসলার শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করে। একই সময়ে স্পেসএক্স বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে এবং একের পর এক বড় প্রকল্প হাতে নেয়। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়।   ইলন মাস্ক প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির আসনে বসেন ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। সে সময় তিনি অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজসকে পেছনে ফেলেছিলেন। এরপর টেসলার শেয়ারদরের ওঠানামা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কারণে কয়েকবার তার অবস্থান পরিবর্তিত হলেও শেষ পর্যন্ত আবারও তিনি শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন।   বিশ্বের প্রথম বিলিয়নেয়ার জন ডি. রকফেলারের গল্পও অর্থনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একজন সহকারী হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। পরে তেল ব্যবসায় প্রবেশ করে গড়ে তোলেন স্ট্যান্ডার্ড অয়েল। ১৯১৬ সালে তার সম্পদ এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা সে সময়ের বিশ্ব অর্থনীতিতে ছিল অভাবনীয় ঘটনা। শেয়ারবাজারে স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের ব্যাপক উত্থান তাকে ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নেয়ারে পরিণত করে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, রকফেলারের যুগ ছিল জ্বালানি খাতের আধিপত্যের যুগ। অন্যদিকে মাস্কের উত্থান প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতির প্রতীক। এই দুই ব্যক্তির সাফল্যের মধ্যে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের ব্যবধান থাকলেও উভয়েই নিজ নিজ যুগের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রতিনিধিত্ব করেন।   বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার মাধ্যমে ইলন মাস্ক শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের নতুন রেকর্ডই গড়েননি, বরং দেখিয়ে দিয়েছেন যে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সম্পদ কাঠামোতে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।   তবে মাস্কের এই রেকর্ড নতুন বিতর্কও উসকে দিয়েছে। একদিকে যেমন অনেকেই এটিকে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্যের প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ারের আবির্ভাব শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২২:৪৬
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিমান টিকিট কম দামে পাওয়ার কিছু কার্যকর ট্রিক

ছবি: সংগৃহীত

গুগলের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের প্রতিবাদে পিচাইয়ের বক্তৃতা বর্জন

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ক্রীড়া উন্মাদনা সহিংস রূপ নিল, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বিশ্বকাপ বাস

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অর্ডার ভুলকে কেন্দ্র করে রেস্তোরাঁ কর্মীর ওপর দুই বোনের নৃশংস হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে খাবারের অর্ডারে ভুলের জেরে এক রেস্তোরাঁ কর্মীর ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ব্রায়ানা এবং কিয়েরিআনা লং নামের দুই বোনকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৩০ মে ডেট্রয়েটের একটি চিকেন রেস্তোরাঁয় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হামলার বিস্তারিত তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী এক নারী কর্মীর কাছ থেকে ভুল খাবার পাওয়ার পর ওই দুই বোন তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা জোরপূর্বক কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে ওই কর্মীর ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ চালান।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ক্ষুব্ধ দুই বোন রেস্তোরাঁর ভেতরে ওই কর্মীকে ধাওয়া করে বিভিন্ন হাঁড়ি-পাতিল দিয়ে আঘাত করতে থাকেন। এমনকি তাঁরা ওই কর্মীর মাথার দিকে ফুটন্ত গরম তেল ছুড়ে মারারও চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে ওই কর্মী পাল্টা কিছু জিনিসপত্র ছুড়ে মারলে, দুই বোন একটি ছুড়ি তুলে নিয়ে ওই কর্মীর পেটে আঘাত করেন। হামলার সময় এক বোন ওই কর্মীকে হত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কর্মীকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। হামলার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে পুলিশ ওই দুই বোনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।   সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, অভিযুক্তদের একজন ব্রায়ানা ঘটনার সময় নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং আদালতে হাজিরা দেওয়ার মাত্র চার দিন আগে তিনি এক সন্তানের জন্ম দেন। শুনানিতে ব্রায়ানার আইনজীবী দাবি করেন, ভুল অর্ডারের পর ওই কর্মী দুর্ব্যবহার করায় এবং প্রথমে জিনিসপত্র ছুড়ে মারায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ৪ দিন বয়সী নবজাতক সন্তানের দোহাই দিয়ে বিচারকের কাছে মুক্তির আকুতি জানান সদ্য মা হওয়া ব্রায়ানা।   তবে বিচারক এই বর্বরোচিত হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রায়ানাকে ২৫ হাজার ডলার এবং কিয়েরিআনাকে ১ লাখ ডলারের নগদ জামিনের নির্দেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ২০:১
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় পার্সেল দিতে এসে গ্রাহকের বিড়াল নিয়ে উধাও আমাজন কর্মী

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে নিকস ভক্তদের ভয়ংকর তাণ্ডব, স্কুল বাসে আগুন ও ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে ১১২ পাউন্ড মাদকসহ দুই সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৭ লাখ ডলারের স্কলারশিপ—সব ছেড়ে স্বপ্নের কলেজে ভার্জিনিয়ার তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক হাইস্কুল পড়ুয়া তরুণী অবিশ্বাস্য এক শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ পেয়েও সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। লেকল্যান্ড হাইস্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্রী অ্যালেক্সিস মরিসন দেশের ৭০টিরও বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। সেই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর জন্য মোট ৪৬ লাখ ৭০ হাজার ডলারের (প্রায় ৪.৬৭ মিলিয়ন) চোখধাঁধানো স্কলারশিপের প্রস্তাব আসে।   কিন্তু সব পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিয়েছেন, যেখানে তাঁকে নিজের পকেট থেকেই পড়াশোনার সিংহভাগ খরচ চালাতে হবে।   জানা গেছে, ভার্জিনিয়া টেক এবং ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির মতো স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মরিসনকে বিনা খরচে পড়াশোনা করার সুযোগ (ফুল রাইড স্কলারশিপ) দিয়েছিল।   কিন্তু তিনি ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে বার্ষিক টিউশন ফি কমপক্ষে ২৩ হাজার ডলার, অথচ প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে মাত্র ৮ হাজার ডলার বৃত্তি প্রদান করেছে।   এত বড় আর্থিক সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে মরিসন জানান, ক্লেমসন মূলত তাঁর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। ভর্তির চিঠি পাওয়ার মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "সুযোগ পাওয়ার খবরটি শুনে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সে সময় সারা ঘরে আমাদের আনন্দ, চিৎকার আর কান্নার রোল পড়ে গিয়েছিল।"   অ্যাকাডেমিক ফলাফলের দিক থেকে নিজের স্কুলের শীর্ষ পাঁচজনের মধ্যে না থাকলেও, মরিসনের আবেদনপত্রটিকে অনন্য করে তুলেছিল তাঁর শিক্ষাবহির্ভূত নানা কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস।   ৪.১ জিপিএ অর্জনের পাশাপাশি তিনি ৩০০ ঘণ্টারও বেশি স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছেন। এ ছাড়া তিনি ন্যাশনাল অনার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন এবং অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়িয়েছেন।   তিনি এত বেশি কলেজে আবেদন করেছিলেন যে, একপর্যায়ে নিজেই তার হিসাব হারিয়ে ফেলেন। এভাবেই তিনি ভার্জিনিয়ার অন্যতম কাঙ্ক্ষিত কলেজ আবেদনকারীতে পরিণত হন।   মেয়ের এই সিদ্ধান্তে বাবা জেমস অবশ্য ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছেন। তিনি মজা করে বলেন, "অন্তত সে এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছে যারা কিছু আর্থিক সুবিধা তো দিচ্ছে।" মরিসনের হাতে বর্তমানে ১০ হাজার ডলারের একটি বেসরকারি স্কলারশিপও রয়েছে।   তাঁর বাবা আরও জানান, পড়াশোনার অতিরিক্ত খরচ মেটাতে তাঁর নিজস্ব 'জিআই বিল' এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা ব্যবহার করা যাবে। আগামী ফল সেমিস্টার থেকে ক্লেমসন ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে নিজের স্বপ্নের পড়াশোনা শুরু করবেন অ্যালেক্সিস মরিসন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৪, ২০২৬ ১৭:২২
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

জেপিমরগ্যানের সাবেক বসের বিরুদ্ধে ‘যৌনদাস’ বানানোর অভিযোগের মামলা দুর্বল হচ্ছে

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির কাছে স্কাইডাইভারবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১২

ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী, এসি চালানোর খরচে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

0 Comments