পকেটে এক ডলারও খরচ নয়, বিনা খরচে নিউইয়র্ক ঘুরে বেড়ানোর নতুন কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে অনেক বাসিন্দা এখন ‘নো-স্পেন্ড ডে’ বা ‘শূন্য খরচের দিন’ ধারণাকে বেছে নিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই—প্রয়োজনীয় যাতায়াত ছাড়া পুরো দিনটি কোনো অর্থ ব্যয় না করে শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা এবং বিনা মূল্যের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানো।
নিউইয়র্ক পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রবণতায় অংশ নেওয়া অনেকেই বাড়িতে কফি বা ম্যাচা তৈরি করে দিন শুরু করেন। এরপর সেন্ট্রাল পার্কে হাঁটা, বিনা মূল্যের জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি ঘুরে দেখা, নিজস্ব খাবার নিয়ে পিকনিক করা কিংবা শহরের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে সময় কাটিয়েই দিন উপভোগ করেন।
নিউইয়র্কের বাসিন্দা অ্যালি গিবসন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জনপ্রিয় হওয়ার আগেই তিনি এমনভাবে দিন কাটানো শুরু করেছিলেন। তার ভাষায়, নিউইয়র্কের আসল সৌন্দর্য পার্ক, স্থাপত্য, রাস্তার প্রাণচাঞ্চল্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে, যা উপভোগ করতে সব সময় অর্থের প্রয়োজন হয় না। তিনি দাবি করেন, গত ১৩ বছরে এভাবে চলার মাধ্যমে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পেরেছেন।
গিবসনের পছন্দের তালিকায় রয়েছে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির রোজ মেইন রিডিং রুম, চেলসির আর্ট গ্যালারি, হাই লাইন, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ফেরি এবং গ্রীষ্মকালে সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত বিনা মূল্যের ‘শেকসপিয়র ইন দ্য পার্ক’ নাট্য প্রদর্শনী। টিকিট না পেলে তিনি ব্রায়ান্ট পার্কের ফ্রি মুভি নাইট, উন্মুক্ত কনসার্ট কিংবা পার্কে বসে মানুষজনের চলাফেরা দেখেও সময় কাটান।
‘এনওয়াইসি ফর ফ্রি’ নামের প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা রেবেকা গেটি বলেন, নিউইয়র্কে নিয়মিত বিভিন্ন ফ্যাশন পপ-আপ, বিউটি ইভেন্ট ও প্রচারণামূলক আয়োজন হয়, যেখানে কোনো অর্থ ছাড়াই অংশ নেওয়া যায়। তার মতে, আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করলে প্রায় প্রতি সপ্তাহান্তেই বিনা খরচে উপভোগ করার মতো নানা সুযোগ পাওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে সীমিত আয়ের কারণে ব্রিয়ান এলিয়ট বাড়িতে রান্না করেন, বন্ধুদের সঙ্গে নিজস্ব খাবার নিয়ে পিকনিক করেন, বিনা মূল্যের রানিং ক্লাবে অংশ নেন এবং নির্দিষ্ট দিনে ফ্রি প্রবেশের সুযোগ থাকা জাদুঘরগুলো ঘুরে দেখেন। এমনকি প্রতিবেশীরা ফেলে দেওয়া ব্যবহারযোগ্য আসবাব সংগ্রহ করেও তিনি দৈনন্দিন খরচ কমিয়ে আনেন।
আরেক বাসিন্দা এরিক চ্যানের মতে, নিউইয়র্ক এমন একটি শহর, যেখানে কোথায় কী পাওয়া যায় তা জানা থাকলে কোনো অর্থ ব্যয় না করেও দারুণ সময় কাটানো সম্ভব। তিনি বাড়ির তৈরি কফি নিয়ে বের হওয়া, সেন্ট্রাল পার্কের বিনা মূল্যের সামারস্টেজ কনসার্ট, পিয়ার–২৬–এ ফ্রি কায়াকিং এবং ব্রুকলিন ব্রিজে হাঁটাকে নিজের পছন্দের তালিকায় রেখেছেন।
এ ছাড়া শিশুদের জন্য নিউইয়র্ক সিটি পার্কসের বিনা মূল্যের খেলাধুলা, ব্রায়ান্ট পার্কের স্টোরিটাইম এবং ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কের উন্মুক্ত শিল্পচর্চার মতো আয়োজনও পরিবারের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অংশগ্রহণকারীদের মতে, একটু পরিকল্পনা ও তথ্য থাকলেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই নিউইয়র্ক শহরের অনেক আকর্ষণীয় স্থান ও কার্যক্রম উপভোগ করা সম্ভব।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে একটি এমআরআই স্ক্যানের খরচ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাল হওয়া একটি তুলনায় দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি এমআরআই করানোর জন্য রোগীকে যে পরিমাণ অর্থ নিজ পকেট থেকে ব্যয় করতে হতে পারে, সেই অর্থের চেয়েও কম খরচে চীনে বিমান ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেলে থাকা এবং এমআরআই করিয়ে ফিরে আসা সম্ভব। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও মার্কিন সাময়িকী ফর্চুন এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ব্যয়ের উচ্চ হার এবং স্বাস্থ্যবিমার জটিল কাঠামোর কারণে অনেক রোগীকেই ডিডাক্টিবল ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ হিসেবে উল্লেখযোগ্য অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে একটি সাধারণ ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাও অনেকের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে এমআরআইয়ের খরচ হাসপাতাল, অঙ্গভেদে পরীক্ষার ধরন, কনট্রাস্ট ব্যবহারের প্রয়োজন এবং বীমা সুবিধার ওপর নির্ভর করে কয়েকশ ডলার থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। একই পরীক্ষার জন্য হাসপাতালভেদে মূল্যেও বড় পার্থক্য দেখা যায়। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এমআরআইয়ের মূল্য স্বচ্ছতার অভাব এবং হাসপাতালভেদে ভিন্ন মূল্য নির্ধারণ রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, চীনের বড় শহরগুলোর সরকারি ও উন্নত হাসপাতালগুলোতে একই ধরনের এমআরআই তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে করা যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-পর্যটন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেখানে একটি এমআরআইয়ের মূল্য সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। বিমান ভাড়া, কয়েক রাতের হোটেল এবং অন্যান্য ভ্রমণ ব্যয় যোগ করলেও মোট খরচ অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু হাসপাতালের এমআরআই বিলের চেয়ে কম পড়তে পারে। তবে প্রকৃত ব্যয় শহর, হাসপাতাল, পরীক্ষার ধরন এবং ভ্রমণ মৌসুম অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্য বৈষম্য চিকিৎসা পর্যটনের প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে। আগে যেখানে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মূলত প্রসাধনমূলক অস্ত্রোপচার বা দাঁতের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন অনেক রোগী ব্যয়বহুল ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের জন্যও বিদেশমুখী হচ্ছেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শুধু খরচ নয়, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, পরবর্তী ফলো-আপ, ভাষাগত যোগাযোগ, চিকিৎসা নথির গ্রহণযোগ্যতা এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা, স্বাস্থ্যবিমার কাঠামো এবং রোগীদের ব্যক্তিগত ব্যয়ের চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
পকেটে এক ডলারও খরচ নয়, বিনা খরচে নিউইয়র্ক ঘুরে বেড়ানোর নতুন কৌশল
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ সদস্যের পদোন্নতি উদযাপন করল বাপা
বাংলাদেশিদের জন্য স্থায়ী হচ্ছে মার্কিন ভিসা বন্ড, জমা দিতে হতে পারে ২০ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক সেনাসদস্যকে (ইউএস আর্মি ভেটেরান) বিয়ে করার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই গ্রিন কার্ড পাওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এক ভারতীয় নারী। তিনি দাবি করেন, সামরিক সদস্যের জীবনসঙ্গী হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভিডিওতে ওই নারী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যের স্ত্রী হিসেবে তিনি দ্রুত গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। তার ভাষ্য, সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য বিদ্যমান কিছু প্রশাসনিক সুবিধার কারণেই আবেদনটি স্বল্প সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, তিনি বিশেষ সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি প্রদর্শন করছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন, সাধারণ অভিবাসীদের দীর্ঘ অপেক্ষার বাস্তবতার সঙ্গে তার অভিজ্ঞতার মিল নেই। অন্যদিকে অনেকেই ওই নারীর পক্ষে অবস্থান নেন। তাদের মতে, তিনি কেবল নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এবং কোথাও দাবি করেননি যে সবার ক্ষেত্রেই একই সময়ে গ্রিন কার্ড পাওয়া সম্ভব। তাই তাকে সমালোচনা করা অযৌক্তিক। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তির সময় আবেদনকারীর ক্যাটাগরি, নথিপত্রের সম্পূর্ণতা, নিরাপত্তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক সুবিধা বা দ্রুত প্রক্রিয়া থাকলেও, তা সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ভিডিওটি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা, সামরিক পরিবারের জন্য বিদ্যমান সুবিধা এবং গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার বৈষম্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ইসলাম ও আরব স্টাডিজ শেখাতে নতুন কারিকুলাম
নিহত মার্কিন সেনার শেষকৃত্যে বক্তব্যের অপেক্ষায় থেকেও ডাক পেলেন না মেয়র মামদানি
ওহাইওতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বাড়ি ধ্বংস, কারণ খুঁজছে দমকল ও তদন্তকারীরা
আগস্ট মাসজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে শতাধিক প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা বিক্রয়, উৎপাদন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো কর্মী কমানোর নোটিশ জমা দিয়েছে। এতে হাজারো কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জমা পড়া ‘ওয়ার্কার অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যান্ড রিট্রেনিং নোটিফিকেশন (WARN)’ নোটিশের ভিত্তিতে আগস্টে অন্তত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এসব নোটিশ যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের আগে নিয়োগকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হয়। ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছে মাইক্রোসফট, ওয়েলস ফার্গো, সিভিএস হেলথ, টার্গেট, নর্ডস্ট্রম, জেপি মরগান চেজ, অ্যামাজন ফ্রেশ, ওয়ালমার্ট, ম্যাকডোনাল্ডস, অ্যাকসেঞ্চার, ডিএইচএল, বায়োটেক ও ওষুধ শিল্পের একাধিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানি। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই হবে না; কোথাও কয়েকজন, আবার কোথাও শত শত কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। এসব ছাঁটাইয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, আবার কেউ ব্যবসায়িক পুনর্গঠন, ব্যয় কমানো বা বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে। কর্মী ছাঁটাই বাড়লেও এর অর্থ সব খাতে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। অনেক কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাস করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। চলতি বছরজুড়েই প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, খুচরা বিক্রয় এবং উৎপাদন খাতে বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করেছে। বিশেষ করে এআইভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল অনেক প্রতিষ্ঠানের জনবল নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। ([যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টজুড়ে ছাঁটাইয়ের ঢেউ, শতাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানোর শঙ্কা
গোপন অঙ্গে লুকানো কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় যাত্রী বিমানবন্দরে আটক
আমেরিকায় ভালো আয়, তবু মাস শেষে টাকা থাকে না? জেনে নিন ৭ বড় ভুল