আমেরিকা

যুক্তরাষ্টের ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় করাকড়ি; দিতে হবে অগ্রিম ১৫০০০ হাজার ডলারের বন্ড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা নীতির এক বিশেষ পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, দেশটি বর্তমানে পারিবারিক (Family-based) এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক (Employment-based) অভিবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট এবং বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ক্যাটাগরিতে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও গত জানুয়ারি মাস থেকে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

 

বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা 'পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স' বেশি গ্রহণ করেন, সেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো এবং কেবল আর্থিকভাবে সচ্ছল ও দক্ষ ব্যক্তিদের অভিবাসন নিশ্চিত করা।

 

নতুন এই নীতিমালার অন্যতম বিতর্কিত এবং আলোচিত দিক হলো 'স্পেশাল বন্ড' বা বিশেষ জামানত ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বা তার স্পনসরকে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত বিশেষ বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এই অর্থটি মূলত একটি গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দ্রুত সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না। এই নিয়মটি বিশেষ করে সেই সব আবেদনকারীদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে যাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ রয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য আমেরিকার স্বপ্ন পূরণ হওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

তবে নীতিমালায় কড়াকড়ি আসলেও আবেদনের মূল ধাপগুলোতে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। বর্তমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) থেকে পিটিশন অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। এরপর যাবতীয় নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসি-তে (NVC) পাঠানো হয়। সবশেষে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এনভিসি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যাকলগের কারণে সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি ভেদে এই অপেক্ষার সময় কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।

 

প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত পেশার দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও, সাধারণ ইমিগ্রেশন এখন সম্পূর্ণভাবে নতুন বন্ড পলিসি এবং পাবলিক চার্জ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে। তাই যারা নতুন করে আবেদন করার কথা ভাবছেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড প্রদানের মানসিক প্রস্তুতি এবং সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল এই কঠিন বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্টের ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় করাকড়ি; দিতে হবে অগ্রিম ১৫০০০ হাজার ডলারের বন্ড

২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা নীতির এক বিশেষ পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, দেশটি বর্তমানে পারিবারিক (Family-based) এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক (Employment-based) অভিবাসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট এবং বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই ক্যাটাগরিতে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও গত জানুয়ারি মাস থেকে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   বিশেষ করে যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা 'পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স' বেশি গ্রহণ করেন, সেই সব দেশের নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে মার্কিন প্রশাসন। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো এবং কেবল আর্থিকভাবে সচ্ছল ও দক্ষ ব্যক্তিদের অভিবাসন নিশ্চিত করা।   নতুন এই নীতিমালার অন্যতম বিতর্কিত এবং আলোচিত দিক হলো 'স্পেশাল বন্ড' বা বিশেষ জামানত ব্যবস্থা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বা তার স্পনসরকে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১৮ লাখ টাকা) পর্যন্ত বিশেষ বন্ড জমা দিতে হতে পারে। এই অর্থটি মূলত একটি গ্যারান্টি হিসেবে কাজ করে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দ্রুত সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না। এই নিয়মটি বিশেষ করে সেই সব আবেদনকারীদের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে যাদের আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ রয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের জন্য আমেরিকার স্বপ্ন পূরণ হওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তবে নীতিমালায় কড়াকড়ি আসলেও আবেদনের মূল ধাপগুলোতে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। বর্তমান প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রথমেই যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) থেকে পিটিশন অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। এরপর যাবতীয় নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার বা এনভিসি-তে (NVC) পাঠানো হয়। সবশেষে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ভিসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এনভিসি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যাকলগের কারণে সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি ভেদে এই অপেক্ষার সময় কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।   প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত পেশার দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তা থাকলেও, সাধারণ ইমিগ্রেশন এখন সম্পূর্ণভাবে নতুন বন্ড পলিসি এবং পাবলিক চার্জ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে। তাই যারা নতুন করে আবেদন করার কথা ভাবছেন, তাদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড প্রদানের মানসিক প্রস্তুতি এবং সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল এই কঠিন বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬% শিশুর নিশ্বাসে বিষ! অনুদান দিলেও ঘরের বাতাস সামলাতে ব্যর্থ আমেরিকা

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিস্যাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মাহিয়ান আরাফ সিয়াম

ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টিক সিটির মেয়রের অভিষেক গালা ৩০ মে, কমিউনিটির জন্য বড় তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচি। প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসব পায় প্রাণবন্ত রূপ।   ডেট্রয়েটের দুর্গা মন্দিরে ১৯ এপ্রিল দিনব্যাপী নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়। বৈশাখী সাজে সজ্জিত মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা, অঞ্জলি, আরাধনা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন ছিল। মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশন করা হয় নানা ধরনের খাবার ও মিষ্টান্ন। বিকেলে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। শিশুদের অংশগ্রহণে বিশেষ পরিবেশনা এবং দর্শক-শ্রোতাদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ছিল অন্যতম আকর্ষণ। দিনব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন শহর থেকে আগত মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ ছিল মুখর।   একই দিন ওয়ারেন শহরের কালী মন্দিরেও নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়। বিকেলে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। ঢাকঢোলের তালে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরে নতুন বছরকে বরণ করে নেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক গান, দেশাত্মবোধক ও লোকগীতি পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। শিশুদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও মুখে রং আঁকার আয়োজন।   এ ছাড়া হ্যামট্রাম্যাক শহরের রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে ১৮ এপ্রিল দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এতে গণেশ পূজা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়।   আয়োজকরা জানান, প্রবাসে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উৎসব আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
জামিল লিমন ও নাহিদা ব্রিস্টি | ছবি: সংগৃহীত

ট্যাম্পায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর খোঁজে জোর তৎপরতা, এখনো মেলেনি সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত।

ভ্রমণে দীর্ঘ লাইন থেকে মুক্তি! যুক্তরাষ্ট্র সহজ হচ্ছে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া

ছবি: সংগৃহীত

হাইকমান্ডের আস্থাহীনতায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি; সংরক্ষিত আসনেও উপেক্ষিত প্রবাসী নারী নেত্রীরা

যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ টি শহরে সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা যায়
যুক্তরাষ্ট্রের যে ১০ টি শহরে সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা যায়

বিগত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভূখণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নিউইয়র্ক এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো এখনো নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও, টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর দ্রুত উত্থান নতুন এক সমীকরণ তৈরি করেছে।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত 'নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথ'-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০টি ধনী শহরের তালিকায় কোটিপতিদের (মিলিয়নেয়ার) সংখ্যা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।   তালিকার শীর্ষে অবিসংবাদিতভাবে অবস্থান করছে নিউইয়র্ক সিটি। ৩৮৪,৫০০ জন মিলিয়নেয়ার নিয়ে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সম্পদ কেন্দ্র। মূলত ওয়াল স্ট্রিট এবং বৈশ্বিক রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের কারণে শহরটি তার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।   দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো ও সিলিকন ভ্যালি নিয়ে গঠিত ‘দ্য বে এরিয়া’। ৩৪২,৪০০ জন মিলিয়নেয়ারের এই অঞ্চলটি মূলত প্রযুক্তি খাতের অভাবনীয় উন্নতির ফসল। অন্যদিকে, হলিউড ও মিডিয়া শিল্পের কেন্দ্র লস অ্যাঞ্জেলেস ২২০,৬০০ জন মিলিয়নেয়ার নিয়ে তৃতীয় স্থান দখল করেছে।   শিকাগো এবং হিউস্টন তালিকার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নাম। শিকাগোতে ১৭১,১০০ জন মিলিয়নেয়ার বাস করেন, যারা শহরটির বৈচিত্র্যময় উৎপাদন ও সেবা খাতের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে, জ্বালানি খাতের কেন্দ্র হিউস্টন ৮১,৮০০ জন মিলিয়নেয়ার নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।   এর ঠিক পরেই রয়েছে ডালাস, যেখানে ৭২,৪০০ জন মিলিয়নেয়ারের বাস। টেক্সাসের এই দুটি শহরের দ্রুত প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণভাগের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।   তালিকায় সপ্তম থেকে দশম অবস্থানে যথাক্রমে রয়েছে সিয়াটল (৫৩,১০০), বোস্টন (৪৫,০০০), মায়ামি (৩৮,৮০০) এবং অস্টিন (৩২,০০০)। অস্টিন এবং মায়ামির উত্থান বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই দুটি শহরে কোটিপতিদের বৃদ্ধির হার ছিল বিস্ময়কর।   বিশেষ করে অস্টিন এখন ‘সিলিকন হিলস’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে, যা বড় বড় টেক জায়ান্টদের আকর্ষণ করছে।   সবশেষে, এই পরিসংখ্যান কেবল শহরের সম্পদই দেখায় না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিবর্তনকেও তুলে ধরে। একদিকে নিউইয়র্ক ও শিকাগোর মতো শহরগুলো তাদের ঐতিহাসিক স্থায়িত্ব ধরে রেখেছে, অন্যদিকে অস্টিন ও মায়ামির মতো শহরগুলো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে ভবিষ্যতের নতুন সম্পদ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।   এই ১০টি শহর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সম্পদের একটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নোবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন, গ্রিন কার্ডধারীদের যা জানা জরুরি

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ ও বিতর্কে চাপে ট্রাম্প, জনপ্রিয়তা নেমেছে সর্বনিম্নে

0 Comments