যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাক অব দ্য ইয়ার্ডস এলাকায় একদল মানুষের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুইজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতের পরপরই ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও দুজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩২ শিকাগো এবং শিকাগো পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় ১২টা ২৬ মিনিটে দক্ষিণ উড স্ট্রিটের ৫১০০ ব্লকে কয়েকজন মানুষ বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানে এসে হঠাৎ জনসমাগম লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। হামলার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনের মাথা, বুক ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তিনি মারা যান। অপর এক ব্যক্তি পেটে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
আহতদের মধ্যে ২৩ বছর বয়সী এক নারী মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পায়ে, ৩০ বছর বয়সী এক নারী উরু ও হাতে, ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শরীরের মধ্যাংশে এবং ২১ বছর বয়সী এক তরুণ পিঠে আঘাত পেয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
নিহতদের একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে তার পরিবার ও সহকর্মীরা। তিনি আইজ্যাক "ওয়েভি" ব্র্যাডলি নামে পরিচিত একজন অভিজ্ঞ শেফ। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি শিকাগোর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, করপোরেট অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত আয়োজনের খাবার ব্যবস্থাপনায় কাজ করেছেন।
পরিবার ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাডলি শহরের একাধিক পরিচিত রেস্তোরাঁর মেনু তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বৃহৎ অনুষ্ঠান ও করপোরেট ক্যাটারিং সেবাতেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মী, বন্ধু ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ব্র্যাডলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে তাকে উদার, সহানুভূতিশীল এবং সবার প্রিয় মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, শিকাগো একজন প্রতিভাবান ও নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবীকে হারিয়েছে।
তবে দ্বিতীয় নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।
তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন। হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে কুক কাউন্টি ক্রাইম স্টপার্স হামলার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পল রাদারফোর্ড এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং এর প্রভাব বহু পরিবার ও প্রতিবেশী এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায়।
তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ও তথ্য জানা ব্যক্তিদের সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামান্য একটি তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শিকাগো পুলিশ বিভাগের এরিয়া ওয়ান গোয়েন্দা ইউনিট ঘটনাটির তদন্ত করছে। হামলার কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
চীনে ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ার আন্দোলন ও পরবর্তী দমন অভিযানের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। পাঠ্যপুস্তক, সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেটের নানা স্তরে এই অধ্যায়ের উল্লেখ কার্যত নিষিদ্ধ। তবে প্রযুক্তিনির্ভর সেন্সরশিপের যুগেও ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসকে আড়াল করার দীর্ঘ প্রচেষ্টা উল্টো অনেক তরুণের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গন কিংবা বিনোদন জগতের নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা এমন প্রশ্ন করতে শুরু করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের তিয়ানআনমেনের ইতিহাসের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। তিয়ানআনমেন আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১৯৮৯ সালের এপ্রিল মাসে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক নেতা হু ইয়াওবাংয়ের মৃত্যুর পর বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তারা দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিও তুলতে শুরু করেন। ক্রমেই আন্দোলনটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নেয়। এতে যোগ দেন শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মে মাসে শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। চীনা সরকার প্রথমদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও পরে আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। ২০ মে সামরিক আইন জারি করা হয়। এরপর ৩ জুন রাত থেকে ৪ জুন ভোর পর্যন্ত বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় সামরিক অভিযান চালানো হয়। ট্যাংক ও সশস্ত্র সেনাবাহিনী ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করা হয়। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়। তবে চীনা সরকার এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কখনো প্রকাশ করেনি। তিয়ানআনমেনের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত প্রতীক হয়ে আছেন ‘ট্যাংকম্যান’ নামে পরিচিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। ১৯৮৯ সালের ৫ জুন ট্যাংকের বহরের সামনে একা দাঁড়িয়ে পড়া সেই ব্যক্তির ছবি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়। তাঁর পরিচয় বা পরবর্তী ভাগ্য সম্পর্কে আজও নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি। গত কয়েক বছরে চীনে এই ঘটনার স্মৃতি মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট ফিল্টারিং এবং কঠোর অনলাইন সেন্সরশিপের মাধ্যমে তিয়ানআনমেন-সংক্রান্ত শব্দ, ছবি কিংবা ইঙ্গিত দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। তবে চলতি বছর নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফিগার স্কেটার Alysa Liu-কে ঘিরে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাঁর সাফল্যের পর চীনের সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বাবা আর্থার লিউ সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়। আর্থার লিউ ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে অনেক তরুণ জানতে চান, কেন তিনি এত আলোচিত ব্যক্তি। সেই অনুসন্ধানই অনেককে তিয়ানআনমেন আন্দোলনের ইতিহাসের দিকে নিয়ে যায়। চীনের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম রেডনোটে এ বিষয়ে করা কিছু পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক ব্যবহারকারী বিকল্প উৎস থেকে তথ্য খুঁজতে শুরু করেন। কেউ কেউ বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে জনপ্রিয় লাইভস্ট্রিমার Li Jiaqi-এর এক অনুষ্ঠানে ট্যাংকের আকৃতির একটি আইসক্রিম কেক প্রদর্শনের পর অনুষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে বহু তরুণ প্রথমবারের মতো তিয়ানআনমেনের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন। চীনের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও এ বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত সীমিত। সরকারি পাঠ্যবইয়ে ঘটনাটির উল্লেখ প্রায় অনুপস্থিত। কোথাও কোথাও এটিকে শুধু ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করতে বাধ্য হন। একসময় হংকং ছিল তিয়ানআনমেন স্মরণ অনুষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র। প্রতি বছর হাজারো মানুষ মোমবাতি প্রজ্বালন করে নিহতদের স্মরণ করতেন। তবে ২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর সেই আয়োজনও বন্ধ হয়ে যায়। স্মরণসভা, জাদুঘর এবং প্রকাশ্য আলোচনা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ঘটনার স্মৃতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা সহজ নয়। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের নানা পথ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ যতই কঠোর হোক, নতুন প্রজন্মের একাংশ ইতিহাসের অজানা অধ্যায়গুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তাদের অনেকেই হয়তো প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন না। তবে সামাজিক মাধ্যম, ব্যক্তিগত আলোচনাচক্র কিংবা বিকল্প তথ্যসূত্রের মাধ্যমে তারা ১৯৮৯ সালের সেই ঘটনার উত্তর খুঁজছেন। ফলে তিয়ানআনমেন আজ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং স্মৃতি ও বিস্মৃতির লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবেও নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে আসছে।
ইরানের কাছে এখনো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুতের প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান উত্তেজনা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। রোববার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে এখনো কিছু সামরিক সক্ষমতা রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “তাদের এখনো সক্ষমতা রয়েছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিছু ড্রোন আছে। আমি বলব, শতাংশের হিসেবে হয়তো তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ২১ বা ২২ শতাংশ এখনো বাকি আছে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য মে মাসে দেওয়া তার আগের এক বক্তব্যের তুলনায় ভিন্ন। ওই সময় তিনি ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র মজুত প্রায় ১৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও তিনি বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের ফলে ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী শুক্রবার দাবি করে, তারা ওমান উপসাগরে দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ‘সতর্কতামূলক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর দুই দিন আগে কুয়েত জানায়, ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে, যা তারা “জঘন্য আগ্রাসন” হিসেবে উল্লেখ করে। এই উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। ট্রাম্প বলেন, ইরানের জন্য একটি চুক্তিতে আসা ছাড়া বিকল্প নেই। এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, “তারা শক্তিশালী, তারা গর্বিত, তবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা তারা কখনো করার কথা ভাবেনি, কিন্তু এখন তাদের সেগুলো করতেই হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সামরিক ঘটনার ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ। বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান। অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান। ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়। ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন। তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।