ইমিগ্রেশন

ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরি
ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যে আটক ভারতীয় গবেষককে ফের বন্দি করতে চেয়েও ব্যর্থ ট্রাম্প প্রশাসন

ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের কারণে গত বছর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ভারতীয় গবেষক বদর খান সুরিকে ফের হেফাজতে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। বৃহস্পতিবার ২-১ ভোটে দেওয়া রায়ে ফোর্থ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস সুরিকে মুক্ত রাখার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে মামলাটি ভার্জিনিয়া থেকে টেক্সাসে স্থানান্তরের সরকারের দাবিও নাকচ করেছে আদালত।   এই রায় শুধু সুরির ব্যক্তিগত মামলার জন্য নয়, ইমিগ্রেশন হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আটকাদেশের বৈধতা সরাসরি ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন কি না, সেই বৃহত্তর আইনি প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের মামলায় অন্য দুটি ফেডারেল আপিল আদালত বিপরীত সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ইউএস সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।   ভারতীয় নাগরিক বদর খান সুরি ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির পোস্টডক্টরাল ফেলো। তিনি একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা ICE তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর প্রায় ছয় সপ্তাহ তাকে টেক্সাসের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।   সুরির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তার গ্রেপ্তারের সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছিল, পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে তার যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিতি বিরূপ পরিণতি তৈরি করতে পারে বলে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্ধারণ করেছিলেন। সরকার তার সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম এবং ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যের বিষয়টিও সামনে এনেছিল।   সুরি ও তার আইনজীবীরা সরকারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার মতামত প্রকাশ এবং তার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক স্ত্রীর পারিবারিক যোগাযোগের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সরকার অবশ্য তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বৈধতা দাবি করে আসছে।   ২০২৫ সালের মে মাসে ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সুরিকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। বিচারক তার হেফাজত নিয়ে গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং মামলাটি ভার্জিনিয়ার পরিবর্তে টেক্সাসে পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নেয়।   ২৩ জুলাই ফোর্থ সার্কিটের তিন বিচারকের প্যানেল ২-১ সিদ্ধান্তে সরকারের আপিল প্রত্যাখ্যান করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেন, সুরির মতো কোনো ননসিটিজেন তার চলমান ইমিগ্রেশন মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষা না করেই হেফাজতের বৈধতা নিয়ে ফেডারেল আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।   এখানেই মামলাটির গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন সামনে এসেছে, হেবিয়াস কর্পাস। শতাব্দীপ্রাচীন এই আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে সরকারি হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তি আদালতের কাছে জানতে চাইতে পারেন, তাকে আটকে রাখার বৈধ আইনি ভিত্তি রয়েছে কি না।   ফোর্থ সার্কিটের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা বলেছেন, ইমিগ্রেশন মামলা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে সেই আইনি সুরক্ষা কার্যত অর্থহীন হয়ে যেতে পারে। কারণ ইমিগ্রেশন মামলা নিষ্পত্তি হতে কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে আটক হওয়া এবং টানা ৬৬ দিন বন্দি থাকার পর নিজ দেশে ডিপোর্ট হওয়া লিথুয়ানিয়ান নারী অ্যারাইডা গুল্ড। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে গ্রেপ্তার, মার্কিন সেনার স্ত্রীকে ডিপোর্ট করল আইসিই

আমেরিকান আর্মি ভেটেরানের লিথুয়ানিয়ান স্ত্রী অ্যারাইডা গুল্ডকে গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে যাওয়ার পর আটক করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। টানা ৬৬ দিন বন্দি রাখার পর শিকাগো ও’হেয়ার বিমানবন্দর থেকে তাকে লিথুয়ানিয়ায় ডিপোর্ট করা হয়। গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে বিয়েটি বৈধ বলে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তাঁকে একই ভবনে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।   আমেরিকান সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) তাদের বিয়ে ও পিটিশন অনুমোদন করলেও ২০০৯ সালের একটি পুরনো রিমুভাল অর্ডারের অজুহাতে তাঁকে আটক করা হয়। মূলত রাস্তাঘাটে জ্যাম থাকায় ২০০৯ সালে আদালতের শুনানিতে দেরি করে পৌঁছানোর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই একটি আদেশ জারি হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি না মেনেই আইসিই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবার ও আইনজীবী।   লিথুয়ানিয়ার নাগরিক অ্যারাইডা ২০০০ সালে বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ৫৩ বছর বয়সী এই নারী গত দুই দশক ধরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানকে লালন-পালন করেছেন। ইউএস আর্মি ভেটেরান মার্ক গুল্ডের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দাম্পত্য জীবন কাটালেও তাঁদের কোনো সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ এমন কড়া পদক্ষেপ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।   আটকের পর অ্যারাইডাকে ইলিনয় থেকে কেনটাকি এবং পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে ঘুরিয়ে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে পরিবারের সদস্য বা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি। আইসিইর ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের অবস্থা চরম অস্বাস্থ্যকর বলে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন। ডিপোর্টেশনের ফ্লাইটের আগে তাঁকে শুধু কিছু নগদ অর্থ ও জরুরি সরঞ্জাম দেওয়ার অনুমতি পান তাঁর স্বামী।   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, নির্ধারিত ভিসার মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দেশে না ফেরায় ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিয়ে অনুমোদন পেলেই আইনি নিরাপত্তা পাওয়া নিশ্চিত হয় না বলেও তারা দাবি করে। অ্যারাইডার আইনি দল ইতিমধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডে জরুরি আবেদন দাখিল করেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী দীপক কুমার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ মিলিয়ন ডলারের রাসায়নিক চুরির অভিযোগে ভারতীয় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য থেকে দেওয়া বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার (২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলার) মূল্যের চুরি হওয়া ‘টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার’ বহনের অভিযোগে দীপক কুমার (৩১) নামে এক অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হেফাজতে রয়েছেন।   পেন্সিলভেনিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরির চালানটি ছিল ‘মিতসুবিশি মেটেরিয়ালস করপোরেশন’-এর, যা ২৪ জুন সংগ্রহের কথা ছিল। কিন্তু সংগৃহীত হওয়ার পর ২৬ জুন চালকের সাথে যোগাযোগ করা না গেলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। পরদিন 'ফ্লক ক্যামেরা সিস্টেম' ব্যবহার করে ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।   গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্ত চালক তিনটি পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন—একটি অবৈধ ওয়ার্ক ভিসা, নিউইয়র্কের একটি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যাকফারল্যান্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তিনি আইসের হেফাজতে আছেন। উদ্ধার হওয়া এই টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার মূলত সাঁজোয়া বিধ্বংসী গোলা-বারুদ, সিরামিক, লেজার, অপটিক্যাল পণ্য এবং হাই-টেক জানালায় ব্যবহৃত হয়।   সাময়িক ফেডারেল ওয়ার্ক পারমিট (ইএডি) থাকা অভিবাসীদের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের নীতির কারণে কীভাবে একজন অবৈধ অভিবাসী এত বড় ট্রাকের চালক হলেন, তা নিয়ে এখন সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
আইস ডিটেনশন সেন্টারে অমানবিক পরিবেশ: চিকিৎসা সংকটে ধুঁকছেন হাজারো অভিবাসী
আইস ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের বাস্তবতা: চিকিৎসা সংকট, অমানবিক পরিবেশে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যেই দেশটির বৃহত্তম ICE (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। প্রতিবেদনে আটক অভিবাসীদের বর্ণনায় চিকিৎসা সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, আইনি সহায়তার সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার মতো নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।    দ্য নিউ ইয়র্কারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে টেক্সাসের এল পাসোতে অবস্থিত ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা ডিটেনশন সেন্টারের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দ্রুত সম্প্রসারিত এই কেন্দ্রটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে রাখা শুরু হয়।    প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেককে সপ্তাহের পর সপ্তাহ সূর্যের আলো ছাড়াই ভবনের ভেতরে থাকতে হয়েছে। কোথাও কোথাও নষ্ট টয়লেট, দূষিত পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কথাও উঠে এসেছে। কয়েকজন বন্দি অভিযোগ করেছেন, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী না থাকায় তারা নিজেদের পোশাক ব্যবহার করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছেন।    প্রতিবেদনে কিউবার বংশোদ্ভূত রে নামের এক অভিবাসীর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। বহু বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে ICE-এর বিকল্প তদারকি কর্মসূচির আওতায় কর্মকর্তাদের কাছে হাজিরা দিতেন। কিন্তু একদিন নিয়মিত রিপোর্ট করতে গিয়েই তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। তার স্ত্রী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, জানান—একটি স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন মুহূর্তেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।    অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, অনেক অভিবাসীর জন্য আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে জামিনের সুযোগও সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি এমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়েছিল, যার আগে বড় আকারের অভিবাসী ডিটেনশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। এ বিষয়েও ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।    অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, আটক ব্যক্তিদের মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত এবং কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অবস্থান হলো, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বহিষ্কার কার্যক্রম কার্যকর করতে ডিটেনশন ব্যবস্থা আইনানুগভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ICE-এর অভিযান বৃদ্ধি, নতুন ডিটেনশন সেন্টার চালু এবং আটক ধারণক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে নারী বিক্ষোভকারীকে গুলি, গ্রেপ্তার আইসিই ডিটেনশন সেন্টারের কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) পরিচালিত একটি বন্দিশিবিরের সামনে বিক্ষোভকারী এক নারীকে গুলি করার অভিযোগে ওই শিবিরের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, জিও গ্রুপের পরিচালিত অরোরা আইসিই প্রসেসিং সেন্টারের কর্মী ৪২ বছর বয়সী ব্র্যান্ডন বুথ গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দিশিবিরের কাছাকাছি একটি রাস্তায় নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা বন্দিশিবিরের প্রবেশপথ আটকে রাখায় তিনি এবং অন্যান্য কর্মীরা ভেতরে ঢুকতে পারছিলেন না।   পুলিশ জানিয়েছে, অপেক্ষারত অবস্থায় দুজন নারী বিক্ষোভকারী কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান এবং তাদের গাড়ির ছবি তুলে সেখান থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন। ঠিক তখনই ব্র্যান্ডন বুথ তার ব্যক্তিগত পিস্তল দিয়ে ওই দুই নারীকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে এক নারীর শরীরের নিম্নাংশে গুলি লাগে। ঘটনার পরপরই বুথ গাড়ি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও মাত্র দুই ব্লক দূর থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ ওই নারীকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় বুথের বিরুদ্ধে হামলা ও দ্বিতীয় মাত্রার হত্যাচেষ্টার (অ্যাটেম্পটেড সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার) গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   অরোরা পুলিশের প্রধান টড চেম্বারলেইন এই ঘটনাকে একটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অন্যান্য গোলাগুলির মতো এই ঘটনাটিও সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অরোরাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না; একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে সাংবিধানিক অধিকারের চরম গুরুত্ব থাকলেও সেখানে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। উল্লেখ্য, কলোরাডোর একমাত্র এই আইসিই বন্দিশিবিরটি জিও গ্রুপ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে, যেখানে ১,৫০০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাদের একজন অফ-ডিউটি কর্মী একটি গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত বলে তারা অবগত হয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
আইসিই হেফাজতে ক্যানসারজয়ী অভিবাসী, চিকিৎসার অভাবে ৩ বার হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিইর হেফাজতে থাকা এক ক্যানসারজয়ী অভিবাসীকে চিকিৎসাজনিত জটিলতায় তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আদালতের নথি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত রেকর্ডে উঠে এসেছে, হেফাজতে থাকার সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি। বিষয়টি নতুন করে আইসিই হেফাজতে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।    নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি একজন রোমানিয়ান নাগরিক। ২০২৫ সালে জরুরি ট্রিপল বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১৬টি ওষুধ সেবনের প্রয়োজন ছিল। পরে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়, কিছু সময় তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ পাননি এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তার চিকিৎসা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এর ফলে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে তিন দফা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।    আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তির আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে আটক রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়া তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।    এদিকে আইসিই বরাবরের মতোই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা হয়।    এ ঘটনা এমন এক সময় সামনে এলো, যখন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও কেএফএফ হেলথ নিউজের যৌথ অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন আটককেন্দ্রে চিকিৎসা অবহেলার শত শত অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতের নথিতে বহু আটক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থতা, প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া এবং চিকিৎসায় বিলম্বের অভিযোগ করেছেন।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই হেফাজতে অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন আটককেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা সুবিধা ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানালেও আইসিই বলছে, তাদের স্বাস্থ্যসেবা জাতীয় মানদণ্ড অনুসারেই পরিচালিত হয়।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই-এর একদিনের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩৮ জনকে I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
টেক্সাসে আইসিইর রেকর্ড অভিযান, একদিনে গ্রেপ্তার ২৩৮ অবৈধ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের অধীনে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় মাত্র একদিনেই রেকর্ড ২৩৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্যমতে, রিও গ্র্যান্ড ভ্যালি অঞ্চলে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি একদিনে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের নতুন রেকর্ড।   সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৮ জুনের এই বড় পরিসরের অভিযানে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন এবং মাদক রাখার মতো গুরুতর অপরাধের সাজা খাটার পূর্ব-রেকর্ড রয়েছে। আইসিই-এর হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের পরিচালক হুয়ান আগুডেলো এক বিবৃতিতে বলেন, "জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সততা ফিরিয়ে আনাই আইসিই-এর চলমান লক্ষ্য। সমাজ থেকে একজন একজন করে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করে আমেরিকান সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করব।"   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই রেকর্ড গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ম্যানুয়েল মোরালেস-জেরোনিমো নামে এক মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যাকে 'পায়সাস' গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আইসিই জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মারধর করে জখম করা, মাদক ও গাঁজা রাখা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং তিনবার অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।   এছাড়া এই অভিযানে জোসে আলফ্রেডো কাস্তিলো-মেন্ডোজা নামের আরও এক মেক্সিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও আগে থেকে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন ও অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের রেকর্ড রয়েছে।   এদিকে, আইসিই-এর 'ট্রাফিক স্টপ' বা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। তল্লাশিকালে সাম্প্রতিক কিছু প্রাণঘাতী ঘটনার জেরে ওঠা সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার এই ঘোষণার দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিএইচএস-এর ওই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আইসিই-এর ট্রাফিক স্টপকে 'অপরাধ দমনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর হাতিয়ার' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই তল্লাশি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে ফ্লোরিডায় ট্রাকের ধাক্কায় যুবক নিহত। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় ট্রাকের ধাক্কায় মেক্সিকান যুবকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট অগাস্টিনে মার্কিন ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবক একটি বড় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোলের কর্মকর্তা ডিলান ব্রায়ান এক বিবৃতিতে জানান, সকাল ৭টার আগে সেন্ট অগাস্টিনের একটি গ্যাস স্টেশন এবং কনভেনিয়েন্স স্টোরের পার্কিং লটে একটি গাড়ি এসে থামে। গাড়িটিতে চারজন আরোহী ছিলেন। মার্কিন ইমিগ্রেশন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার পর ওই চারজনই পায়ে হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ২৮ বছর বয়সী এক যুবক দৌড়ে একটি ব্যস্ত রাস্তা পার হতে গেলে একটি বড় ট্রাকের সামনে পড়েন এবং ধাক্কা লেগে মারা যান। ট্রাকের চালক তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ব্রায়ান জানান।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর এই ঘটনার বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৪ জুলাই ফ্লোরিডার সেন্ট জনসের কাছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একটি অভিযান চালায়। এতে মেক্সিকান এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘটনাটি ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোল ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্তকারী সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত করছে।   ফ্লোরিডায় এই ঘটনা ছাড়াও অতি সম্প্রতি টেক্সাস ও মেইনে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনায় আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে।   জ্যাক্সনভিলের ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন এই মৃত্যুকে একটি মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ইমিগ্রেশন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন।   ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এড়াতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত বছরের গ্রীষ্মে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পালানোর সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় ৫২ বছর বয়সী গুয়াতেমালার নাগরিক রবার্তো কার্লোস মন্টয়া ভালদেস মারা যান। এছাড়া গত অক্টোবরে ভার্জিনিয়ার নরফোকের একটি হাইওয়েতে ট্রাফিক তল্লাশির সময় কর্মকর্তাদের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে ২৪ বছর বয়সী হন্ডুরাসের নাগরিক জোসুয়ে কাস্ত্রো রিভেরা পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান।   এই ঘটনার পর মেক্সিকো সরকার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলদের কাছে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হেফাজতে বা অভিযানের সময় অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলো ফৌজদারি বিচারের আওতায় আনার জন্য পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। নিহত মেক্সিকান যুবকের বিস্তারিত পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

তাবাস্সুম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
আইসিই-এর গাড়ি তল্লাশি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই-এর গাড়ি তল্লাশি কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত, আসছে নতুন নির্দেশনা

টেক্সাস এবং মেইন অঙ্গরাজ্যে দুটি পৃথক প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাময়িকভাবে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি এবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনার জেরে মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে জননিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন সরাসরি এই নির্দেশনা জারি করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তল্লাশি অভিযানের ওপর আরোপিত এই স্থগিতাদেশটি চিরস্থায়ী নয়, বরং সম্পূর্ণ সাময়িক। মূলত চলমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বিরতি নেওয়া হয়েছে।   জানা গেছে, আইসিই কর্মকর্তাদের রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির নিয়মকানুন ও কৌশল বিষয়ে নতুন করে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক শত শত বিদেশি শ্রমিক। ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়াজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানে আটক ২৯০ জন বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ দেশজুড়ে একযোগে পরিচালিত বড় ধরনের অভিযানে ৫০৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে। আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯০ জন বাংলাদেশি। অবৈধভাবে অবস্থান, বৈধ কাগজপত্রের অভাব এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।   সোমবার (১৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এ তথ্য জানান। দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮টি স্থানে একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, পুলিশ এবং স্থানীয় সরকারের মোট ৮৭৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।   অভিযানের সময় নিয়োগকর্তা ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২ হাজার ২৬০ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫০৩ জনকে আটক করা হয়।   আটকদের মধ্যে বাংলাদেশের ২৯০ জন ছাড়াও মিয়ানমারের ১০১ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬৬ জন, নেপালের ৩৮ জন, ভারতের ৩৬ জন এবং অন্যান্য দেশের ১০ জন নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ২১ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৫ জন নারীও রয়েছেন। পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সবাইকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে বৈধ ভ্রমণ বা কাজের অনুমতিপত্র না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। আবার অনেকেই যে খাতে কাজ করার অনুমতি পেয়েছিলেন, তার বাইরে অন্য খাতে কাজ করছিলেন। উদাহরণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্মাণ খাতে কাজের ভিসা নিয়ে কেউ কেউ পোশাকের দোকান বা অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, যা ভিসার শর্তের পরিপন্থী।   কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কয়েকজন ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীকেও আটক করা হয়েছে। তাদের কার্ডের সত্যতা ও বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।   এদিকে তদন্তে সহায়তার জন্য আরও ১২০ জনকে বিশেষ নোটিশ (বোরাং ২৯) দেওয়া হয়েছে। নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।   জাকারিয়া শাবান বলেন, অবৈধ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশিদের মাধ্যমে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি জানান, সারা দেশে দুই শতাধিক ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে, যার প্রায় অর্ধেকই ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে অবস্থিত।   মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ কর্মঅনুমতি, নির্ধারিত খাতে কাজ এবং ভিসার শর্ত মেনে চলা বাধ্যতামূলক। দেশটির কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং অবৈধ কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম I ছবি: সংগৃহীত
আইসের গুলিতে মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা মেক্সিকোর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টের গুলিতে এক মেক্সিকান নাগরিক নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মেক্সিকো। বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।   তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে মেক্সিকান নাগরিকদের ওপর এমন দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাই তারা শুধু কূটনৈতিক চিঠি চালাচালি বা আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রেসিডেন্ট শিনবাউম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বৈধ অভিবাসন নথিপত্র না থাকার কারণেই এক মেক্সিকান নাগরিককে আটকের নামে প্রাণ দিতে হলো।   গত মঙ্গলবার হিউস্টনে এই প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) দাবি করেছে, তারা অবৈধভাবে বসবাসকারী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে একটি নির্দিষ্ট তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল। লরেঞ্জো সালগাদো আরউজো নামের ওই মেক্সিকান নাগরিককে গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলে তিনি তা অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন।   আইস কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, লরেঞ্জো তার গাড়ি দিয়ে আইসের একটি গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং এক এজেন্টকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে ওই এজেন্ট গুলি চালালে লরেঞ্জো গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।   তবে এই ঘটনার পর বুধবার নিহতের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা পুরো ঘটনার একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নিহত লরেঞ্জো সালগাদো আরউজোর ছেলে জানিয়েছেন, তার বাবা প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। এমনকি তিনি তার ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের বৈধ অনুমতিপত্র পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলেন। বৈধতা পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা একজন দীর্ঘস্থায়ী বাসিন্দাকে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
নর্থ ক্যারোলিনায় স্টপ সাইন অমান্য করে পিকআপের ধাক্কায় ৬ বছরের শিশু নিহত | ছবি: সংগৃহীত
স্টপ সাইন অমান্য করে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর; অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনায় স্টপ সাইন অমান্য করে সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছর বয়সী ক্যালি টোলার নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার মা কেলি টোলার এবং ৪ বছর বয়সী ছোট ভাই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।     স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী জেইমে সান্তিয়াগো করোনা একটি ডজ র‍্যাম পিকআপ ট্রাক চালিয়ে উচ্চগতিতে একটি স্টপ সাইন অমান্য করেন। এরপর তার গাড়িটি কেলি টোলারের এসইউভির সঙ্গে সজোরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ৬ বছরের ক্যালি। গুরুতর আহত অবস্থায় তার মা ও ছোট ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।     তদন্তে আরও জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় করোনার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল ছিল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মিসডিমিনর ডেথ বাই ভেহিকেল, বাতিল লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো, স্টপ সাইন অমান্য করা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।     এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করেছে। স্থানীয় ফৌজদারি মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হতে পারে। এরপর তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।     ঘটনাটি উত্তর ক্যারোলিনাজুড়ে শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহত মা ও ছোট ছেলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সিতে অবস্থিত মার্কিন শ্রম বিভাগের কার্যালয় ‘ফ্রান্সিস পার্কিন্স ডিপার্টমেন্ট অব লেবার বিল্ডিং’ | ছবি: গেটি ইমেজেস
গ্রিন কার্ডের নিয়মে বড় পরিবর্তন: আমেরিকায় বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী হওয়া আরও কঠিন করছে ট্রাম্প প্রশাসন!

আমেরিকায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা বিদেশী কর্মীদের জন্য এবার বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান যেন সহজে বিদেশী কর্মীদের স্থায়ী নাগরিকত্বের জন্য স্পন্সর (আবেদন) করতে না পারে, সেজন্য নিয়মনীতি আরও কঠোর করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করছে দেশটির শ্রম বিভাগ।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের কারণে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এর ফলে আমেরিকায় কর্মরত হাজার হাজার বিদেশী দক্ষ পেশাজীবীর স্থায়ী হওয়ার পথ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।   সাধারণত কোনো বিদেশী কর্মীকে গ্রিন কার্ড দিতে হলে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে 'পার্ম' (PERM) নামক একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এটি হলো এক ধরনের লেবার সার্টিফিকেশন বা শ্রম অনুমোদন প্রক্রিয়া।   এই নিয়মে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হয় যে, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য তারা কোনো যোগ্য মার্কিন নাগরিক খুঁজে পায়নি। এছাড়া বিদেশী কর্মী নেওয়ার কারণে স্থানীয়দের বেতন বা কর্মসংস্থানে কোনো ক্ষতি হচ্ছে না—তাও নিশ্চিত করতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ জানিয়েছে, ২০০৪ সালের পর এই 'পার্ম' নিয়মে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তাই বর্তমান শ্রমবাজারের কথা মাথায় রেখে এবার এই পুরো প্রক্রিয়াটি আধুনিকায়নের নামে আরও জটিল ও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   নতুন এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগদাতাদের কর্মী খোঁজার প্রক্রিয়া এবং কাগজের নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন শ্রম বাজার পরীক্ষার নিয়মগুলো আরও কড়া করা হবে।   শ্রম বিভাগের নতুন এজেন্ডা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানিতে কর্মী ছাঁটাই হলে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি আরও জোরদার করা হবে। অর্থাৎ, কোনো সংস্থায় ছাঁটাই চললে সেখানে বিদেশী কর্মী স্পন্সর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়মের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া শুধু ধীরগতিরই হবে না, বরং ছোট-বড় কোম্পানিগুলোর আইনি ও প্রশাসনিক খরচও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সামান্য অস্পষ্টতার কারণেও আবেদন সরাসরি বাতিল বা কড়া তদন্তের মুখে পড়তে পারে।   অবৈধ অভিবাসী দমনের পাশাপাশি বৈধভাবে আমেরিকায় আসার এবং স্থায়ী হওয়ার পথগুলোকেও সংকুচিত করার যে নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্ত তারই অংশ। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ডের জন্য ইন-কান্ট্রি 'অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস' কমিয়ে কনসুলার প্রসেসিং বা নিজ দেশে ফিরে ইন্টারভিউ দেওয়ার নিয়মও জোরদার করার চেষ্টা করছে।   এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি (H-1B) ভিসার নিয়ম এবং বিদেশী কর্মীদের ন্যূনতম বেতনের কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল। নতুন এই 'পার্ম' ব্যবস্থার পরিবর্তন কার্যকর হলে আমেরিকার আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কর্পোরেট খাতে কর্মরত বাংলাদেশীসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়বেন।   সূত্র: নিউজউইক

তাবাস্সুম জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: অভিবাসি মাইকেল রোজাস ও তার স্ত্রী (সংগ্রহীত)
ফ্লোরিডায় বার্ষিক হাজিরা দিতে গিয়েই ৫ মাস ধরে আটক, মুক্তির পর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন অভিবাসী

ফ্লোরিডায় প্রতি বছরের মতো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর নির্ধারিত বার্ষিক হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন কিউবান অভিবাসী মাইকেল রোজাস। কিন্তু নিয়মিত ওই চেক-ইনই তার জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। সেখান থেকে তাকে আটক করে ফ্লোরিডার বিতর্কিত অভিবাসী আটককেন্দ্র ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’-এ পাঠানো হয়। প্রায় পাঁচ মাস পর মুক্তি পেয়ে তিনি কেন্দ্রটির পরিবেশ ও বন্দিদের জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী রোজাস গত বছরের অক্টোবরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মিরামার ইমিগ্রেশন অফিসে হাজিরা দিতে যান। অতীতেও তিনি একই নিয়ম মেনে হাজিরা দিয়েছেন। তবে এবার তাকে ছেড়ে না দিয়ে আইস হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।   মুক্তির পর রোজাস দাবি করেন, প্রায় সাড়ে চার মাস আটক থাকাকালে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ ছিল না এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগও ছিল অত্যন্ত সীমিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি কক্ষে ৩২ জন বন্দির জন্য ছিল মাত্র তিনটি টয়লেট। টয়লেটের ওপর নজরদারি ক্যামেরা বসানো ছিল এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলতে কিছুই ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ ফ্লোরিডার গরমে পড়ে থাকা খাবার বন্দিদের পরিবেশন করা হতো। এ সময়ে তার ওজন প্রায় ৪৫ পাউন্ড কমে যায়।   রোজাসের স্ত্রী রোক্সানা তোরেস জানান, তার স্বামীর মুক্তির পথ তৈরি হয় ‘হেবিয়াস করপাস’ নামে পরিচিত একটি আইনি আবেদনের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানস্বীকৃত এই প্রক্রিয়ায় আদালতের কাছে সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোনো ব্যক্তিকে কী আইনি ভিত্তিতে আটক রাখা হয়েছে। তোরেস বলেন, ডিটেনশন সেন্টারের বাইরে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার সময় আরেক বন্দির স্ত্রীর কাছ থেকে তিনি এই আইনি উপায় সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে গত মার্চে রোজাসকে ক্রোম ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকেই তিনি মুক্তি পান।   ২০০৪ সালে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন রোজাস। পরে একটি হত্যা মামলায় সহযোগিতার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ১৩ বছর কারাভোগ করেন। কারামুক্তির পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে প্রতি বছর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হাজিরা দিতে হতো। সেই নিয়মিত হাজিরা দিতেই গিয়ে এবার তিনি দীর্ঘদিন আটক থাকেন।   বর্তমানে রোজাস মুক্ত থাকলেও তার পায়ে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরানো হয়েছে এবং তার অভিবাসন-সংক্রান্ত মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে তাকে আবারও মিরামার ইমিগ্রেশন অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যে অফিস থেকে তাকে গতবার আটক করা হয়েছিল।   রোজাসের অভিযোগ সম্পর্কে সিবিএস নিউজের পক্ষ থেকে আইসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে সংস্থাটি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য আরও সময় চেয়েছে। ফলে আটককেন্দ্রের পরিবেশ নিয়ে রোজাসের বর্ণনার বিষয়ে আইস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
ইলিনয়ে আইসের অভিযানে আটক অভিবাসী
পুলিশ স্টেশনে আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হলো না, ইলিনয়ে আইসের অভিযানে আটক অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কান্ট্রি ক্লাব হিলস শহরের একটি পুলিশ স্টেশনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হাতে আটক হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী এক অভিবাসী। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি পুলিশ স্টেশনের লবিতে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় তার পিছু নেওয়া আইসের কর্মকর্তারা দরজা খুলে স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা ওই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেন।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কান্ট্রি ক্লাব হিলস পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আইসের 287(g) টাস্ক ফোর্স মডেলের আওতায় একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ফেডারেল তত্ত্বাবধানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করতে পারেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্পর্শে আসা বহিষ্কারযোগ্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইসকে সহায়তা করেন।   তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে আটক ব্যক্তিকে ‘অপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, তার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ ছিল বা তিনি কোনো অপরাধে দণ্ডিত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।   ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কঠোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের সমর্থকেরা অভিযানের প্রশংসা করে একে আইনের যথাযথ প্রয়োগ বলে উল্লেখ করছেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা পুলিশ স্টেশনের ভেতরে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসের কার্যক্রম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে 287(g) কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় পুলিশ বিভাগগুলোর ভূমিকা এবং ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে তাদের সমন্বয় নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কোর্টহাউসে অভিবাসী গ্রেপ্তারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে স্থগিতাদেশ, স্বস্তিতে লাখো অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে আসা অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক। ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত নীতির ওপর জাতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত বলেছেন, আদালতকে অভিবাসী গ্রেপ্তারের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।   ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ পি. কেসি পিটস মঙ্গলবার ৭১ পৃষ্ঠার এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই নীতিকে যুক্তিহীন এবং প্রশাসনিক পদ্ধতি আইন (Administrative Procedure Act) পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এবং ইমিগ্রেশন আদালত পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ আদালতে তাদের পদক্ষেপের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   বিতর্কিত নীতির আওতায় আইস কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশন আদালতে শুনানির জন্য উপস্থিত হওয়া অভিবাসীদের কোর্টরুমের বাইরে থেকেই আটক করতে পারতেন। অভিবাসী অধিকারকর্মীদের মতে, এর ফলে বহু মানুষ আদালতে হাজির হতে ভয় পাচ্ছিলেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকছিলেন।   রায়ে বিচারক পিটস উল্লেখ করেন, যেসব অভিবাসী ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে আদালতে হাজির হচ্ছেন, তাদের একই কারণে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই গ্রেপ্তার করা নীতিগতভাবে অসংগত। তিনি বলেন, প্রশাসনের এই নীতি একটি ভুল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।   শুধু আদালতে গ্রেপ্তারের বিষয় নয়, অভিবাসীদের দীর্ঘ সময় আটক রাখার নীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন বিচারক। তিনি এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার মাধ্যমে আটকদের ১২ ঘণ্টার বেশি হেফাজতে রাখার সীমাবদ্ধতা কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছিল।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, সান ফ্রান্সিসকোর একটি ইমিগ্রেশন কেন্দ্রে অনেক অভিবাসীকে ১২ ঘণ্টার বেশি, কখনও রাতভর বা একাধিক দিন আটক রাখা হয়েছিল। বিচারক বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।   রায়ের সমালোচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল সামাজিক মাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কোনো ইমিগ্রেশন বিচারক বহিষ্কারের নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তার মতে, এ বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ বিচারিক সক্রিয়তার উদাহরণ।   অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্থান, অভিবাসীদের ভয় দেখিয়ে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্র নয়। আদালতে উপস্থিত হওয়া এবং স্বাধীন থাকার মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন।   এই রায় জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই এর প্রভাব পড়বে। এর আগে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতও একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছিল। ম্যানহাটনের ফেডারেল বিচারক কেভিন ক্যাসটেল রায়ে বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি না থাকলে ইমিগ্রেশন আদালতে গ্রেপ্তারকে ন্যায্যতা দেওয়া কঠিন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায় যারা উদ্বিগ্ন ছিলেন, তাদের জন্য রায়টি সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এসেছে।   তবে আইনি লড়াই এখানেই শেষ নয়। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ২৭০ অভিবাসী আটক | ছবি: এনএসটিপি
মালয়েশিয়ায় পুলিশের তাড়া খেয়ে ময়লার ড্রামে লুকালেন বাংলাদেশি শ্রমিক, আটক বাংলাদেশিসহ ২৭০

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশিসহ ২৭০ জন শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম অনলাইন নিউ স্ট্রেইটস টাইমস-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে সেলাঙ্গরের পোর্ট ক্লাংয়ের তেলোক গং শিল্প এলাকার একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় এই ‘অপস মেগা’ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশ কারখানায় প্রবেশ করতেই শ্রমিকদের মাঝে হুড়োহুড়ি লেগে যায় এবং তারা দিগ্বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।   গ্রেফতার এড়াতে অভিবাসী শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও অদ্ভুত জায়গায় আত্মগোপন করেন। এর মধ্যে ২০ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি তরুণ শ্রমিক কারখানার ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ময়লাভর্তি একটি বড় রোল-অন বা রোল-অফ (রোরো) কনটেইনারের ভেতরে ময়লার আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন। তল্লাশির একপর্যায়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে সেখান থেকে হাতেনাতে আটক করেন। আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই তরুণ কথা না বলে হাতজোড় করে বারবার ইংরেজিতে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরবর্তীতে তাঁর এক সহকর্মী মালয় ভাষায় অনুবাদ করে জানান যে, ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখে ভয়েই তিনি ময়লার ড্রামে লুকিয়েছিলেন।   একই কারখানায় অন্য দুই বাংলাদেশি শ্রমিককে কাঠ কাটার মেশিনের পেছনে এবং আসবাবপত্রের বড় বড় বাক্সের আড়ালে ধুলোবালির মধ্যে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়। আটকের সময় তাঁদের শরীর ও চুল কারখানার কাঠের গুঁড়ো ও ময়লায় ধূসর হয়ে গিয়েছিল। এর আগে সকাল ৮টার দিকে মেরু এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু হয়, যেখানে প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে গোপন নজরদারি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল ইমিগ্রেশন বিভাগ।   সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন জানান, মেরুর প্লাস্টিক কারখানায় ৬৬ জন শ্রমিকের নথিপত্র পরীক্ষা করে ১৮ জনকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি ও ১ জন করে নেপাল ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। অন্যদিকে, তেলোক গংয়ের আসবাবপত্র কারখানায় ৫২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ২৫২ জনকে আটক করা হয়। এই ২৫২ জনের মধ্যে ১৭৫ জন বাংলাদেশি, ৩৯ জন পাকিস্তানি, ৩৩ জন নেপালি, ৪ জন মিয়ানমারের এবং ১ জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক রয়েছেন।   ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটককৃত সকল শ্রমিকের বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং তারা সবাই পুরুষ. প্রাথমিক তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই শেষে দেখা গেছে, আটককৃতদের সিংহভাগই মালয়েশিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকে ওয়ার্ক পারমিট বা পাসের শর্ত লঙ্ঘন করে নির্ধারিত খাতের বাইরে কাজ করছিলেন। কয়েকজন শ্রমিক নিজেদের বৈধ দাবি করলেও অভিযানের সময় মূল কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন।   মোট ৫০ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল এই ঝটিকা অভিযানটি পরিচালনা করে. মোহদ খুসাইরি কামারুদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, এই ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযান শুধু কারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং ম্যাসেজ পার্লারের মতো জায়গাগুলোতেও তা চালানো হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   সূত্র: নিউ স্ট্রেইটস টাইমস

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তির পরও কাটছে না ট্রমা, টেক্সাসের ডিটেনশন ক্যাম্পে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ গ্রিন কার্ডধারীর

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বা ICE-এর হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন এক গ্রিন কার্ডধারী নারী। চ্যারিটি গ্রেস মুকামুরি নামের ৪৩ বছর বয়সী এই নারী টেক্সাসের এল পাসোয় অবস্থিত ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি থেকে গত ৩ জুন মুক্তি পান। দীর্ঘ কয়েক মাসের বন্দিদশা তাকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত করেছে যে, পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখন তাকে থেরাপির সাহায্য নিতে হচ্ছে।   জিম্বাবুয়ের বংশোদ্ভূত মুকামুরি ২০০১ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরবর্তীতে বৈধ গ্রিন কার্ড লাভ করেন। ওকলাহোমার টুলসায় গৃহহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য তিনি 'ইসাইয়া ৫৪ প্রজেক্ট' নামের একটি অলাভজনক সংস্থাও পরিচালনা করতেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তার বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ এনে ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও তার পরিবারের দৃঢ় দাবি, মুকামুরির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২ জুন এল পাসো ইমিগ্রেশন কোর্টের বিচারক স্টিফেন রুহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন।   বন্দিদশায় থাকাকালীন মুকামুরি চরম অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হন বলে দাবি করেছেন। গণমাধ্যম 'নিউজউইক'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তিনি জানান, ডিটেনশন ক্যাম্পে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হতো এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত নাজুক। এমনকি গ্রেপ্তারের পর প্রথম আড়াই মাস পর্যন্ত তাকে কোনো আইনজীবীর সাথে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। ক্যাম্পের ভেতরের এই দুরবস্থার খবর গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ উল্টো তার ওপর মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করে। তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তছনছ করা হয়, বিছানা কেটে তল্লাশি চালানো হয় এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।   বর্তমানে পরিবারের কাছে ফিরে স্বস্তি পেলেও ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়ংকর স্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। মুকামুরি জানান, সেখানে আটকে থাকা অন্যান্য নারীদের অমানবিক জীবনযাপনের কথা ভেবে তার হৃদয় এখনো ভেঙে যায়। মূলত ভেতরের সত্যটা বিশ্ববাসীকে জানানোর তাড়না থেকেই তিনি মুখ খুলেছেন। ডিটেনশন ক্যাম্পের এই ভয়ংকর মানসিক ট্রমা ও ক্ষত সারিয়ে পরিবারকে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে দাগি অবৈধ অভিবাসীদের তালিকা প্রকাশ, গভর্নর ও মেয়রকে দুষছে আইস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে খুন এবং শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। একইসঙ্গে সংস্থাটি নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং মেয়র জোহরান মামদানির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আশ্রয়দাতা (স্যাংচুয়ারি) নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। আইস-এর দাবি, জ্যামাইকা, এল সালভাদর, ইকুয়েডর এবং হন্ডুরাস থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এসব ব্যক্তি হত্যা, ধর্ষণ এবং শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   আইস নিউইয়র্ক সিটি শাখার ফিল্ড অফিস ডিরেক্টর কেনেথ জেনালো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্যাংচুয়ারি বা আশ্রয়দাতা রাজনীতিকরা আইন মান্যকারী নাগরিকদের চেয়ে অপরাধী অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে আইস কর্মকর্তারা খুনি ও ধর্ষকদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।   মূলত নিউইয়র্কের শীর্ষ এই দুই নেতার সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের পরই আইস এই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাল। সম্প্রতি গভর্নর ক্যাথি হোকুল এমন একটি আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে স্থানীয় পুলিশ এবং ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল বা পার্কের মতো সর্বজনীন স্থানে আইস এজেন্টদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র জোহরান মামদানি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে নিউইয়র্ককে রক্ষায় আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করবে। আইস-এর মতে, এই ধরনের নীতি নিউইয়র্ককে আরও অনিরাপদ করে তুলছে এবং সহিংস অপরাধীদের পুনরায় অপরাধ করার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।   প্রকাশিত তথ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অপরাধীর নাম ও তাদের অপকর্মের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন জ্যামাইকার নাগরিক মোসিয়াহ রাইট, যিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও মিনেসোটায় হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এছাড়া এল সালভাদরের হোসে ফুয়েন্তেস-সারাভিয়া, ভিসেন্তে মেজিয়া-মার্কেজ, ব্লাস আলবার্তো দিয়াজ এবং বেঞ্জামিন কুইজাদার মতো অপরাধীরা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য ঘটনায় জড়িত।   ইকুয়েডরের হোসে ইজরায়েল চাপা ফ্লোরেস এবং হন্ডুরাসের ফ্র্যাঙ্কলিন সাউল বানেগাস-সেভালোসও শিশু নির্যাতন এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত। আইস জানিয়েছে, জঘন্য এই অপরাধীরা বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   আইস-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারির পর থেকে নিউইয়র্কে আইস-এর ডিটেইনার বা আটকের অনুরোধ অগ্রাহ্য করার কারণে প্রায় ৬,৯৪৭ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই মুক্তিপ্রাপ্তদের অপরাধের তালিকায় ২৯টি হত্যাকাণ্ড, ২,৫০৯টি হামলা, তিন শতাধিক ডাকাতি এবং অসংখ্য মাদক ও যৌন অপরাধের ঘটনা রয়েছে।   এছাড়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউইয়র্কের বিভিন্ন কারাগারে থাকা সাত সহস্রাধিক অবৈধ অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইস-এর সক্রিয় পরোয়ানা রয়েছে, যারা শতাধিক খুন এবং কয়েকশ ভয়ানক অপরাধে যুক্ত থাকার পরও স্থানীয় আইনের কারণে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, যেসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে মার্কিন করদাতার অর্থে পরিচালিত সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে বেশি, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ট্যুরিস্ট (পর্যটন) বা স্টুডেন্ট (শিক্ষা) ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া (Vetting process) আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই পর্যালোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত থাকবে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মিশর, রাশিয়া এবং থাইল্যান্ডসহ মোট ৭৫টি দেশ।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদনে প্রত্যাখ্যানের হিড়িক: উদ্বেগে প্রবাসী বাংলাদেশীরা

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম প্রত্যাশীদের জন্য সময়টা এখন চরম চ্যালেঞ্জের। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ির ফলে অ্যাসাইলাম আবেদনের অনুমোদনের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অনেক আবেদনকারীকে সরাসরি বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দ্রুততম সময়ে অ্যাসাইলাম মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। আগে যেখানে একটি মামলার রায় আসতে বছরের পর বছর সময় লাগত, এখন কয়েক মাসের মধ্যেই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের ফলে অনেক আবেদনকারী পর্যাপ্ত প্রমাণাদি উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছরের মধ্যে আবেদন করার নিয়মটি কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে অ্যাসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লেও অনুমোদনের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ২.২ মিলিয়নের বেশি অ্যাসাইলাম আবেদন ঝুলে আছে এবং ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলার সংখ্যা ৩.৬ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এই পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিরা জানান, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আবেদনকারীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে বা দালালদের খপ্পরে পড়ে অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করছেন। তদন্তে এই জালিয়াতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ হারানোর পাশাপাশি দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। প্রতিটি আবেদন এখন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিদের অনেক আবেদনে ভুল ও মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ মিলছে, যা ইমিগ্রেশন বিভাগের নজরে আসছে। মিথ্যা তথ্যের দায়ভার সম্পূর্ণ আবেদনকারীর। এর ফলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” আইনজীবীদের পরামর্শ হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য ও পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সাথে রাখতে হবে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা বা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্যাতিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া আবেদন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০