- প্রচ্ছদ
- Topic
ইমিগ্রেশন
যুক্তরাষ্ট্রে করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার নীতিতে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের ফেডারেল আপিল কোর্ট আইআরএসের এমন একটি নীতি বন্ধ রাখার আগের আদালতের আদেশ বহাল রেখেছে। ওই নীতির মাধ্যমে আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ থাকা প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের সর্বশেষ ঠিকানা চেয়েছিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার করদাতার ঠিকানা আইসিইকে দিয়েছিল। আপিল কোর্টের তিন বিচারকের বেঞ্চ বলেছে, তথ্য দেওয়ার যে পদ্ধতি আইআরএস ব্যবহার করেছিল, তা ফেডারেল আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেনি। আইআরএস ও আইসিইর মধ্যে করা একটি চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের জুলাই থেকে আইসিই করদাতাদের সর্বশেষ জানা ঠিকানা চাওয়া শুরু করে। আইসিইর অনুরোধে এমন ব্যক্তিদের তথ্যও ছিল, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন ছিল। মামলাটি করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ ছিল, করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ফেডারেল আইনে যে কঠোর নিয়ম রয়েছে, আইআরএসের নতুন পদ্ধতিতে তা পাশ কাটানো হয়েছে। আদালতও বলেছে, তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ব্যক্তির তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল না। এই রায়ের গুরুত্ব অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক ইমিগ্র্যান্ট নিয়মিত ট্যাক্স ফাইল করেন। ফেডারেল আইনে সাধারণভাবে আইআরএসের কাছে থাকা করদাতার তথ্য গোপন রাখার ওপর কঠোর সুরক্ষা রয়েছে। আপিল কোর্টের সিদ্ধান্ত সেই সুরক্ষার সীমা এবং সরকারের তথ্য ব্যবহারের ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে আইআরএস কোনো পরিস্থিতিতেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করতে পারবে না। নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ হলে কর সংক্রান্ত কিছু তথ্য শেয়ার করার সুযোগ রয়েছে। মঙ্গলবারের রায়ের মূল বিষয় হলো, আইসিইর জন্য ঠিকানা সংগ্রহ ও শেয়ার করার যে নির্দিষ্ট পদ্ধতি আইআরএস ২০২৫ সালে চালু করেছিল, সেটি ফেডারেল আইন অনুযায়ী বৈধ ছিল না। এখন এই সিদ্ধান্তের পর আইআরএস ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। মঙ্গলবারের রায়ের মাধ্যমে আপিল কোর্ট আপাতত ওই তথ্য শেয়ারিং নীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সরকার। নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরাও সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস-এর নিয়ম অনুযায়ী ‘যোগ্য বিদেশি’ হিসেবে বিবেচিত হতে হবে। এসএসআই হলো সীমিত আয় ও সম্পদ থাকা ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাত ধরনের অভিবাসন মর্যাদায় থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রথমত, যারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন, তারা এই তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে নির্দিষ্ট শ্রেণির আমেরেশিয়ান অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়ত, ১৯৮০ সালের ১ এপ্রিলের আগে কার্যকর থাকা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের নির্দিষ্ট ধারার আওতায় যারা শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন, তারাও যোগ্য হতে পারেন। তৃতীয়ত, ওই আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী অন্তত এক বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিশেষ অনুমতি বা ‘প্যারোল’ পাওয়া বিদেশিরাও এসএসআই সুবিধার আওতায় পড়তে পারেন। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। পঞ্চমত, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম পাওয়া বিদেশিরাও এই তালিকায় রয়েছেন। ষষ্ঠত, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা দেশত্যাগ স্থগিত করা হয়েছে, তারাও নির্দিষ্ট শর্তে এসএসআই সুবিধা পেতে পারেন। সপ্তমত, আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘কিউবান বা হাইতিয়ান প্রবেশকারী’ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিরা এবং এসএসআইয়ের ক্ষেত্রে একই মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরাও এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তালিকায় থাকা কোনো একটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলেই এসএসআই পাওয়া নিশ্চিত নয়। বিদেশিদের ক্ষেত্রে আয়, সম্পদ এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্তও পূরণ করতে হবে। একইভাবে, শুধু দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই কেউ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হয়ে যাবেন না। এদিকে, বিদেশিদের সরকারি সুবিধা নেওয়া নিয়ে ডেনমার্কেও সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সরকার। কাজ বা পড়াশোনার অনুমতিতে থাকা বিদেশিরা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা নিলে তাদের বসবাস বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি তাদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যরাও দেশটিতে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।
২০১৭ সালের চীনের গোল্ডেন উইক ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া তিন চীনা নারীকে ঘিরে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। ছবিতে দেখা যায়, মুখ ব্যান্ডেজে ঢাকা ও ফুলে থাকা অবস্থায় তারা হাতে পাসপোর্ট নিয়ে বিমানবন্দরে বসে আছেন। ছড়িয়ে পড়া দাবিতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর তাদের চেহারা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে এতটাই অমিল হয়েছিল যে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি এবং তাদের দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়। তবে পরে জানা যায়, ঘটনাটির এই বর্ণনা নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় ভাইরাল দাবিটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিন নারীকে পরিচয় যাচাই করতে আটকে রাখা বা ফ্লাইটে উঠতে না দেওয়ার দাবির পক্ষে কোনো বাস্তব তথ্য পাওয়া যায়নি। ছবিটি প্রথমে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে চীনা টেলিভিশন উপস্থাপক জিয়ান হুয়াহুয়া প্রকাশ করেছিলেন। পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, গোল্ডেন উইকের ছুটিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করানোর পর ওই নারীরা দেশে ফেরার সময় সমস্যায় পড়েছেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটিকে আরও নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়। এমনকি তাদের পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার আইন মন্ত্রণালয় সেই দাবিকে ‘তথ্যভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করে। ফলে ভাইরাল ছবিটি সত্য হলেও ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বিমানবন্দরে আটকে পড়ার পুরো গল্পকে সত্য ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জারি করাতে যাওয়া বিদেশি রোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়টি নতুন নয়। অস্ত্রোপচারের পর মুখে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে ভ্রমণের সময় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে কিছু ক্লিনিক বিদেশি রোগীদের অস্ত্রোপচারের তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে থাকে। সৌন্দর্য বাড়ানোর আশায় প্লাস্টিক সার্জারি করলেও অস্ত্রোপচারের পরপরই ভ্রমণ করলে শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি পরিচয় যাচাই নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে তিন চীনা নারীকে ঘিরে ২০১৭ সালের ভাইরাল ঘটনাটি যে বিমানবন্দরে আটকে পড়ার সত্য ঘটনা ছিল, সে দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) ডিটেনশন সেন্টারে বন্দিদের সাথে স্বজনদের আলিঙ্গন বা শারীরিক স্পর্শ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে অবস্থিত প্রায় ১,৬০০ বন্দি ধারণক্ষমতার 'ক্যালিফোর্নিয়া সিটি' নামের এই বন্দিশালায় গত এক বছর ধরে 'কন্টাক্ট ভিজিট' বা সরাসরি সাক্ষাতের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। কোরসিভিক নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত এই কারাগারে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরিবারের সদস্যরা কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে শুধু ফোনেই কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রিয়জনকে একটু ছুঁয়ে দেখার বা সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের দেওয়া হচ্ছে না। এই অমানবিক নিয়মের কারণে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বন্দি ও তাদের স্বজনরা। তেরেসা রেয়েস নামের এক মা ৩২০ মাইল পাড়ি দিয়ে ছেলের ৩২তম জন্মদিনে দেখা করতে এলেও তাকে একটু জড়িয়ে ধরতে বা কোনো উপহার দিতে পারেননি। অন্যদিকে, অ্যালেন টেসন নামের এক ফিলিপিনো-বংশোদ্ভূত বন্দি গত ফেব্রুয়ারি থেকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তার স্ত্রী সামান্থা সানচেজ বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অথচ কাঁচের দেয়ালের কারণে স্বামীর একটু স্পর্শ বা মানসিক সমর্থন থেকে তিনি পুরোপুরি বঞ্চিত। সামান্থা ও তার সন্তানেরা এখন ব্যয়বহুল ভিডিও কলের ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কন্টাক্ট ভিজিট নিষিদ্ধ করা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি বন্দিশালার জন্যই একটি চরম ও বিরল সিদ্ধান্ত। তারা অভিযোগ করছেন, বন্দিদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরতের আদেশে বাধ্য করতেই এমন কারাগার-সদৃশ অমানবিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর অডিটে উঠে এসেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা খোদ কোরসিভিকের নিজস্ব নীতির পরিপন্থী, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলে শারীরিক স্পর্শের সুযোগ দেওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও মাদক পাচারের আশঙ্কার কথা বললেও, দর্শনার্থী কক্ষে টেবিল ও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অমানবিক এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন বন্দি ও তাদের পরিবার। 'হাগস বিয়ন্ড বারস' (Hugs Beyond Bars) নামক একটি প্রচারণার মাধ্যমে তারা একজোট হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া কোলাবোরেটিভ ফর ইমিগ্রান্ট জাস্টিস (CCIJ)-এর মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সহায়তায় তারা সরাসরি কারারক্ষী বা ওয়ার্ডেনের কাছে চিঠি দিচ্ছেন এবং কংগ্রেসে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তার খোঁড়া যুক্তিতে কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম বহাল রাখলেও, স্বজনদের একটাই দাবি— দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষে প্রিয়জনকে অন্তত একবার আলিঙ্গন করার মানবিক অধিকারটুকু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সদস্য ও তার খালাকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। কলোরাডোর বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী মাইরা পল শুলেনবার্গ এবং তার ৩০ বছর বয়সী ভাগনে জন পল রিভেরার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব মিসৌরির ইউএস অ্যাটর্নি অফিস। ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) নিবিড় তদন্তের পর তাদের এই সুপরিকল্পিত প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি রিভেরার বিরুদ্ধে শপথ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব অর্জন এবং জাল নথিপত্র ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফিলিপাইনে জন্মগ্রহণকারী শুলেনবার্গ পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। অন্যদিকে, তার ভাগনে রিভেরা ২০১৭ সালের মার্চ মাসে জে-১ (J1) এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এর কয়েক মাস পরই শুলেনবার্গ ইউএসসিআইএস-এর কাছে একটি পিটিশন (ফর্ম আই-১৩০) জমা দিয়ে দাবি করেন যে, রিভেরা তার নিজের সন্তান। এই মিথ্যা দাবির সপক্ষে তিনি ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা একটি পরিবর্তিত বা জাল জন্মনিবন্ধন সনদও যুক্ত করেন। এই প্রতারণার ওপর ভিত্তি করেই রিভেরা প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডের মর্যাদা লাভ করেন। স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পর রিভেরা মার্কিন বিমানবাহিনীতে যোগ দেন এবং মিসৌরির হোয়াইটম্যান এয়ার ফোর্স বেসে কর্মরত অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি ইমিগ্রেশন সুবিধা পেতে কোনো ধরনের মিথ্যা বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার কথা শপথপূর্বক অস্বীকার করেন। ফলশ্রুতিতে, ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তবে তার এই প্রতারণার অবসান ঘটে যখন তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে তার প্রকৃত মাকে স্পনসর করার উদ্যোগ নেন। আসল মাকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা করার জন্য তিনি ইউএসসিআইএস-এর কাছে যে আবেদনটি জমা দেন, সেখানে সম্পর্ক প্রমাণের জন্য তিনি নিজের আসল জন্মনিবন্ধন সনদটি যুক্ত করে বসেন। সিস্টেমে পূর্বের এবং বর্তমান নথির মধ্যে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়লে তদন্ত শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের এই বিশাল জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই ষড়যন্ত্রের দায়ে খালা শুলেনবার্গ সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। অন্যদিকে, ভাগনে রিভেরার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং তার মার্কিন নাগরিকত্বও বাতিল হয়ে যেতে পারে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই), হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশন এবং মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ তদন্ত শাখার যৌথ প্রচেষ্টায় এই মামলাটির তদন্ত পরিচালিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডানবারি শহরের রাস্তায় হঠাৎ করেই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)। গত ৩ সেপ্টেম্বর চালানো এই আকস্মিক অভিযানে অন্তত ৫০ জনকে আটক করেছেন ফেডারেল এজেন্টরা। রাজ্যজুড়ে অভিবাসন সংক্রান্ত ধরপাকড় ও নজরদারি আরও কঠোর করার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কানেকটিকাটের বিভিন্ন রাস্তায় এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে সম্প্রতি আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। ডানবারি শহরে চালানো সাম্প্রতিক এই অভিযানটি ছিল বেশ সুপরিকল্পিত। আটককৃতদের বর্তমান অবস্থা বা তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মূলত নথিপত্রবিহীন বা অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করেই এই ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। রাজ্যজুড়ে আইসিই-এর এমন আকস্মিক ও কঠোর তৎপরতায় স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তায় ফেডারেল এজেন্টদের টহল বৃদ্ধির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযানের সমালোচনা করলেও, ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এটি তাদের নিয়মিত আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রমেরই একটি অংশ। আগামী দিনগুলোতে কানেকটিকাটের অন্যান্য শহরেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘অপারেশন রোটেন অ্যাপল’ বা পচা আপেল অভিযানের আওতায় প্রায় ২ হাজার ২০০ অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত খুনি, ধর্ষক এবং মাদক চোরাকারবারি রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন মঙ্গলবার জানিয়েছেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী বা গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই এই অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। সামনে এমন আরও বড় পরিসরের অভিযান চালানো হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মোট ২ হাজার ১৯৭ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুলিন সাংবাদিকদের জানান, নিউইয়র্কের মেয়র এবং গভর্নর স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইসিই-এর সহযোগিতার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় এ ধরনের বিশাল অভিযানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি মেয়র মামদানীর সমালোচনা করে বলেন, তিনি জনগণের নিরাপত্তা ও চাহিদার বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ফেডারেল সরকারের কাজে স্থানীয় প্রশাসন অসহযোগিতা অব্যাহত রাখলে আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনে আরও বেশি এজেন্ট মোতায়েন করা হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন মুলিন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইউক্রেনীয় নাগরিক বোগদান ডেট্রোভিচ গ্রেন রয়েছেন, যার বিরুদ্ধে হত্যা ও অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত। এছাড়া শিশু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত কলম্বিয়ার আন্দ্রেয়াস বারনাল চিকুইতো, জার্মানিতে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত ভারতীয় নাগরিক পালবিন্দর সিং এবং ভেনেজুয়েলার কার্লোস মেন্ডেজ-অ্যাকোস্টাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেয়র মামদানী গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আইসিই-এর সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। একইভাবে গভর্নর হোকুলও রাজ্য পুলিশকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করে আইন পাস করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মতে, এসব চরমপন্থী নীতির কারণে ১৩ হাজারের বেশি অপরাধী অভিবাসী নিউইয়র্কের রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে আইন অমান্যকারী এসব 'স্যাংচুয়ারি' বা আশ্রয়দাতা রাজ্য ও শহরগুলোতে ফেডারেল তহবিল পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের স্বজনদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসন ব্যবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য প্রধানত চার ধরনের আত্মীয়কে স্পনসর করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোন। তবে প্রতিটি সম্পর্কের জন্য আলাদা ভিসা ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার শর্ত রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান সাধারণত ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এই ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর ভিসার নির্দিষ্ট সংখ্যাগত সীমা নেই। এ ছাড়া ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিকের বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ ক্যাটাগরিতে পারিবারিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এবং ২১ বছরের বেশি বয়সী বা বিবাহিত সন্তানরা ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। এসব ক্ষেত্রে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা দেওয়া হয় এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে শুধু আত্মীয়তা থাকলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। স্পনসরকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয় এবং আবেদনকারী স্বজনকেও অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ছাড়া গ্রিন কার্ডধারীদের পারিবারিক স্পনসরশিপের সুযোগ মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় সীমিত। তারা সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য আবেদন করতে পারেন। অর্থাৎ, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়। তবে কোন আত্মীয় কত দ্রুত ভিসা পাবেন, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি ও ভিসা নম্বরের প্রাপ্যতার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন মার্কোস গাসপার-দা সিলভা। একজন মার্কিন নাগরিকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই ব্রাজিলীয় নাগরিক আইনি প্রক্রিয়ার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হাতে আটক হন। এরপর তাঁকে প্রায় সাত মাস কাটাতে হয় বন্দিশিবিরে। চলতি মাসের শুরুতে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তাঁকে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দিলে অবশেষে তিনি মুক্তি পান। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরিবারের কাছে ফিরলেও এই দীর্ঘ বন্দিজীবন তাঁকে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত করেছে যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্তির পরও তাঁর মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। সংবাদমাধ্যম পোর্টল্যান্ড প্রেস হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি আবেগের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু আমার ভেতরে এখন কোনো আবেগই অবশিষ্ট নেই।" মার্কোসের দাবি, বন্দিশিবিরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষ সেখানে গাদাগাদি করে থাকতো। মাসের পর মাস তাঁকে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি, মানহীন খাবার, পানের অযোগ্য পানি এবং চরম চিকিৎসাসংকটের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি দাঁতের তীব্র ব্যথায় ভুগলেও তাঁকে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রাখা হয়েছে এবং কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। তবে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র এই অভিযোগগুলোকে 'অতিরঞ্জিত' আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, আইসিই-এর বন্দিশিবিরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ কারাগারগুলোর চেয়েও উন্নত মান বজায় রাখা হয় এবং সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের গণ-নির্বাসন অভিযানের প্রতিশ্রুতির মাঝেই মার্কোসের মতো বৈধ গ্রিন কার্ড ও ভিসা আবেদনকারীদের এভাবে আটকের ঘটনা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে ব্রাজিলে সিভিল অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করার সময় মৃত্যুর হুমকি পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মার্কিন নাগরিক আলেসিয়াকে বিয়ে করে আইনি পথেই স্পাউসাল গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থাতেই গত জানুয়ারিতে কাজে যাওয়ার পথে তাঁকে হঠাৎ আটক করে আইসিই। এরপর ম্যাসাচুসেটস থেকে অ্যারিজোনা পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যের বন্দিশিবিরে তাঁকে ঘুরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পান। বর্তমানে তিনি তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন এবং মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে একজন পর্তুগিজ-ভাষী থেরাপিস্টের সহায়তা নিচ্ছেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজতে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফিরছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষিকা ভেঙ্কটা নরসমাম্বা ভাসামশেট্টি। একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার সাড়ে সাত হাজার ডলারের জামিন মঞ্জুর করেছেন। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ভেঙ্কটাকে 'পলাতক হওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এই রায় দেন। নর্থ ক্যারোলিনার স্টেট সিনেটর জে চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুক্তির খবরটি নিশ্চিত করে লেখেন, "ভেঙ্কটা বাড়ি ফিরছেন।" তার ভার্চুয়াল জামিন শুনানিতে ৫০ জনেরও বেশি স্বজন ও সহকর্মী অংশ নেন এবং তার মুক্তির দাবিতে খোলা একটি পিটিশনে আট হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। ভেঙ্কটার এই আইনি জটিলতার শুরু হয় ২০২২ সালে। অসুস্থ বাবাকে দেখতে সেসময় তিনি ভারতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে তার ছয় মাসের বেশি সময় লেগে যায়। এরপরই ডিএইচএস অভিযোগ তোলে যে, দীর্ঘসময় দেশের বাইরে থাকায় তিনি তার বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা হারিয়েছেন। গত ১৯ মে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক প্রমাণের অভাবে সরকারের এই অভিযোগ খারিজ করে দেন এবং তাকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থাকার অনুমতি দেন। তা সত্ত্বেও আইসিই কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ বহাল রাখে। সবশেষ গত ১১ আগস্ট মেয়েকে নিয়ে শার্লটের আইসিই অফিসে হাজিরা দিতে গেলে ভেঙ্কটাকে আকস্মিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে জর্জিয়ার আরউইন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এই বয়স্ক নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। তার পরিবারের অভিযোগ, গুরুতর ইনসুলিন-নির্ভর ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও বন্দিদশায় তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও উপযুক্ত খাবার দেওয়া হয়নি। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ভেঙ্কটা ২০১৩ সালে গ্রিন কার্ড পান। নর্থ ক্যারোলিনায় দীর্ঘ তিন দশক ধরে বসবাস করা এই নারী ওয়েক কাউন্টির পাবলিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন এবং তার দুই মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অবশেষে জামিন পাওয়ায় পরিবারের কাছে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। এই রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সিনেটর জে চৌধুরী বলেন, এই দুঃস্বপ্নের অবসান হওয়ায় তিনি আনন্দিত, তবে ভেঙ্কটা বা অন্য কারও সঙ্গেই এমন অবিচার হওয়া উচিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক মার্কিন নৌসেনার বাবাকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যখন তাকে আটক করা হয় তখন তার ছেলে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরীতে করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হয়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ফ্লোরিডার কি ওয়েস্ট এলাকায় নিয়মিত গাড়ি তল্লাশিকালে লুইস ম্যানুয়েল আভিলেস রোয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করেন বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টরা। আটক লুইসের স্ত্রী আর্জেলিয়া আভিলেস জানান, পেশায় 'হ্যান্ডিম্যান' বা খুচরা মেরামতকর্মী তার স্বামী নিজের গাড়িটি মেকানিকের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। মূলত নিকারাগুয়া থেকে আসা লুইস গত ১৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং এখানে কাজ করার বৈধ অনুমতিপত্রও (ওয়ার্ক পারমিট) তার রয়েছে। আর্জেলিয়া আক্ষেপ করে বলেন, তার স্বামী পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে দিনরাত পরিশ্রম করেন এবং তিনি সন্তানদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ একজন আদর্শ বাবা। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছেলে জশুয়া আভিলেস ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, যে দেশ তাকে সবকিছু দিয়েছে, সেই দেশের জন্যই তিনি গত নয় মাসের বেশি সময় ধরে সাগরে যুদ্ধ করছেন। এমন অবস্থায় দেশে তার বাবাকেই অপরাধীর মতো আটকে রাখা হয়েছে জেনে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। জশুয়া আরও জানান, তারা বাবার গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ইমিগ্রেশনের সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন এবং বর্তমানে কেবল অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এই আটকের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি, পরিবারের কোনো সদস্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত থাকলেও তা ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন আইন থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি হতে পারে না। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত লুইসকে আইসিই-এর ডিটেনশন সেন্টার বা আটককেন্দ্রেই থাকতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সামরিক পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টি সম্প্রতি মারাত্মক প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত হাজার হাজার মামলায় ভরে গেছে ফেডারেল আদালত। গত এক বছরেই ফেডারেল বিচারকরা ১৬ হাজারেরও বেশিবার আইসিই-এর আটকে রাখার নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এর আগে এক মার্কিন সেনার স্ত্রীকেও জোরপূর্বক ব্রাজিলে নির্বাসন ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। অন্যদিকে, টানা ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসমান ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জাহাজের নৌসেনাদের মানসিক অবস্থা ও অমানবিক কর্মপরিবেশ নিয়েও ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল, গতিশীল ও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক করতে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ের একটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)। 'ইমিগ্রেশন বায়োমেট্রিকস অ্যান্ড আইডেন্টিটি সার্ভিসেস' বা আইবিআইএস (IBIS) নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন, উন্নত ডেটা অ্যানালিটিকস এবং এনটিটি রেজোলিউশন প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) অধিগ্রহণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত দরপত্র প্রকাশ করা হতে পারে এবং ২০২৭ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএস আইবিআইএস (IBIS)-কে সম্পূর্ণ নতুন কোনো বায়োমেট্রিক ডেটাবেজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি, বরং এটিকে সংস্থাটির পরিচয় ব্যবস্থাপনা, অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং ও তথ্য বিশ্লেষণের একটি সমন্বিত ক্লাউডভিত্তিক আধুনিক আইটি সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছে। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো 'এনটিটি রেজোলিউশন' প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্যের ভিন্নতা সত্ত্বেও সরকারি বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে একই আবেদনকারীকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আধুনিক এই ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং সিস্টেমের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর। এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি দূর থেকেই আবেদনকারীদের পরিচয়পত্র ও কাজের অনুমতির নথি যাচাই করতে ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের আলাদা বাণিজ্যিক সফটওয়্যার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন, নথির বারকোড ও মেশিন-রিডেবল জোন যাচাই এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR)-এর মতো সুবিধার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করা যাবে, যা প্রচলিত সরাসরি নথিপত্র পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাবে। একই সঙ্গে কাগজভিত্তিক আবেদন থেকে ধাপে ধাপে পুরোপুরি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পথ তৈরি করছে সংস্থাটি। গত ১১ আগস্ট কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মের আওতায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফর্ম অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা পেয়েছে ইউএসসিআইএস, যা বছরে প্রায় ৬০ লাখ আবেদনকারীকে প্রভাবিত করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ইমিগ্রেশন জালিয়াতি রোধ, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কঠোর ইমিগ্রেশন পরিবেশের মধ্যেই এক মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার সুখবর জানিয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ওই তরুণের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী তরুণটিকে ‘মেধাবী’ ও ‘দরিদ্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টে তিনি জানান, সঠিক উপায়ে এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় তার ল’ ফার্মের সহযোগিতায় তরুণটি আমেরিকান গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। একই পোস্টে মঈন চৌধুরী তার ল’ অফিসের দক্ষ ও অভিজ্ঞ স্টাফদের প্রশংসার কথাও উল্লেখ করেন। তবে ওই পোস্টে গ্রিন কার্ডটি কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরির মাধ্যমে পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এটি পারিবারিক, কর্মসংস্থানভিত্তিক, অ্যাসাইলাম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইমিগ্রেশন আবেদন ও গ্রিন কার্ডের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস থেকে এক বছরের বেশি সময়ও লাগতে পারে। ২০২৬ অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ভিত্তিতে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে মধ্যম প্রক্রিয়াকরণ সময় ছিল প্রায় ১০ দশমিক ৯ মাস। অন্যান্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস ক্যাটাগরিতে এই সময় আরও বেশি ছিল। এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে একাধিক আইনি লড়াইও চলছে। সর্বশেষ ২১ আগস্ট এক ফেডারেল বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বর্তমান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান আইনি টানাপোড়েনের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে এসেছে। এমন একটি পরিবর্তনশীল ইমিগ্রেশন পরিবেশে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন তরুণের গ্রিন কার্ড পাওয়ার খবর তার পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য নিঃসন্দেহে আনন্দের। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন আবেদন নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা অনেকের কাছে এ ধরনের সফলতার খবর আশার বার্তাও হয়ে উঠতে পারে। তবে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট কেসে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পেছনে কোন ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরি বা আইনি প্রক্রিয়া কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও পাচারের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় আন্ডারকভার অভিযান চালিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পাঁচজন সন্দেহভাজন শিশু নিপীড়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে যারা অনলাইনে ও বাস্তবে তৎপর, মূলত তাদের হাতেনাতে ধরতেই ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে জোকসান আপারিসিও সান্তোস নামের ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মেক্সিকান নাগরিক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। বাকি চারজন হলেন ব্রায়ান ড্যাডি, লোগান ট্রিগ, টিলিয়ান হাটন এবং মিয়ানমার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ল এহ—যাঁরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এইচএসআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনেরই আগে থেকে শিশুদের ওপর যৌন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাঁরা পুলিশের ‘সেক্স অফেন্ডার’ রেজিস্ট্রিতেও তালিকাভুক্ত ছিলেন। স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি প্রমাণ করে যে, সমাজে শিশুদের ওপর যৌন শোষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের গভীর ও বাস্তব ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। এইচএসআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিশু নিপীড়কদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে এবং কমিউনিটির শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোসের বিয়ের বয়স তখন মাত্র দুই দিন। নববধূর সামরিক আইডি সংগ্রহ ও সেনা পরিবারের সুবিধাগুলো চালুর উদ্দেশ্যে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে গিয়েছিলেন তারা। অ্যানি পেশায় একজন শিক্ষিকা, যিনি শিশু বয়স থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ভিজিটর সেন্টারে ম্যাথিউয়ের সামরিক আইডি, বিয়ের সনদ ও অ্যানির হন্ডুরাসের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর তারা পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এর বদলে সেখানে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা হাজির হন। এরপর পরিবারের চোখের সামনেই অ্যানিকে হাতকড়া পরিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা যায়, অ্যানির বয়স যখন মাত্র ২০ মাস, তখন তার পরিবার একটি ইমিগ্রেশন শুনানিতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়। মূলত সেই কারণেই তখন শিশু অ্যানির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশ বা রিমুভাল অর্ডার জারি হয়েছিল। যদিও তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং আইনি বৈধতা পেতে তারা আইনজীবীর মাধ্যমেও চেষ্টা করছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামরিক পরিবারের সদস্যদের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর বিশেষ নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাদের এই বিপদে পড়তে হয়। আটকের পাঁচ দিন পর আইসিই অ্যানিকে মুক্তি দিলেও, তাকে পায়ে একটি জিপিএস মনিটর পরিয়ে পাঠানো হয়েছে। শিশু বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের দেশ ভাবা অ্যানি এখন কেবল একটু মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন।
টেক্সাসের একটি স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আটজনকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছিল। ১৪ আগস্ট এল পাসো এলাকায় এই অভিযান চালানো হয় বলে আইসিই জানিয়েছে। আইসিই এল পাসোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার এনফোর্সমেন্ট সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ওই স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মেক্সিকোর, দুজন ব্রাজিলের, একজন গুয়াতেমালার এবং একজন হন্ডুরাসের নাগরিক। আইসিই জানিয়েছে, আটজন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট হওয়ার পর আবারও দেশে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অনুযায়ী অবৈধভাবে পুনঃপ্রবেশের ফেডারেল অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আরও দুজনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন জজের দেওয়া চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ বা ফাইনাল অর্ডার অব রিমুভাল রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া একজন মেক্সিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে বলে আইসিই জানিয়েছে। ডিপোর্টের পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি ফেডারেল আইনে গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আগেও ডিপোর্ট হওয়া কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি ফেডারেল ক্রিমিনাল মামলাও হতে পারে। মামলার পরিস্থিতি ও ব্যক্তির আগের রেকর্ডের ওপর সম্ভাব্য শাস্তি নির্ভর করে। একই সময়ে টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগে বড় ধরনের ফেডারেল কার্যক্রমের তথ্যও প্রকাশ করেছে ইউএস অ্যাটর্নির অফিস। ৭ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সেখানে ইমিগ্রেশন ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অপরাধে ২৯২টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ১৪ আগস্টের সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব মামলার মধ্যে আগে ডিপোর্ট হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। ওই সরকারি প্রতিবেদনে ব্রাজিলের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, যাকে এর আগে তিনবার ডিপোর্ট করা হয়েছিল। মেক্সিকোর আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও তিনবার পূর্ববর্তী ডিপোর্টেশনের পর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের আওতায় ৬৮টি কাউন্টি রয়েছে। প্রায় ৯৩ হাজার বর্গমাইলের এই অঞ্চলে এল পাসো, সান অ্যান্টোনিও ও অস্টিনের মতো বড় শহর রয়েছে এবং মেক্সিকোর সঙ্গে প্রায় ৬৬০ মাইল সীমান্ত রয়েছে। আইসিইর এই অভিযান এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
চলতি মাসের শুরুতে নিউইয়র্ক হারবারে স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছে নৌকাডুবির ঘটনায় ম্যানুয়েল আর্নেস্তো হার্নান্দেজ-উমানা নামের এক ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। গত ৮ আগস্ট ঘটা ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারী ও তার পাঁচ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) তথ্যমতে, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ওই ব্যক্তি সেসময় নৌকার চালকের আসনে ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ হার্নান্দেজ-উমানার বিরুদ্ধে অসদাচরণ এবং জাহাজের কর্মকর্তা হিসেবে কর্তব্যে অবহেলার দুটি অভিযোগ এনেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণেই নৌকাটি উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া ১২ জন যাত্রীকে সামান্য আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ফেডারেল আদালতে প্রথম শুনানির পর এক বিচারক হার্নান্দেজ-উমানাকে মুক্তি দিলেও, অবৈধ অভিবাসী হওয়ার কারণে পরবর্তীতে তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে কোস্টগার্ড ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস (সিজিআইএস)। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক জশ প্যাকার জানান, বেআইনিভাবে ভাড়ায় চালিত নৌকার ব্যবসা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে এবং এই ক্ষেত্রে চালকের অবহেলার কারণেই এমন অচিন্তনীয় ট্র্যাজেডি ঘটেছে। ডিএইচএস সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন বলেন, এই অপরাধী অবৈধ ও বেপরোয়াভাবে লাইসেন্সবিহীন নৌকায় পর্যটকদের ঘোরাচ্ছিলেন। কোস্টগার্ড ও আইসের কঠোর পরিশ্রমে তাকে রাস্তা এবং জলপথ থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বিচারের মুখোমুখি হওয়ার পরপরই তাকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তার স্ত্রীর গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা তাকে আটক করলেও ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। ৭৭ বছর বয়সী মাউঙ্ক "মঙ্ক" বারাজোনের স্ত্রী ৪৬ বছর বয়সী কলম্বিয়ান নাগরিক গ্লোরিয়া বারাজোনকে গত জুলাই মাসে নিউজার্সি থেকে মিয়ামি যাওয়ার পথে নেওয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) গ্রেপ্তার করে। সম্প্রতি মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রীদের এ ধরনের আটকের ঘটনা বেশ বেড়েছে। তবে নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো আক্ষেপ আছে কি না—নিউজউইকের এমন প্রশ্নের জবাবে বারাজোন স্পষ্ট জানিয়েছেন, "না, একেবারেই না। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় থাকলে আমাদের দেশের অবস্থা আরও খারাপ হতো।" বারাজোন জানান, তার স্ত্রী ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং ১৫ বছর আগে তাদের বিয়ের পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করেন। গত তিন বছর ধরে তারা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আটকের সময় গ্লোরিয়ার গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। এমনকি তিনি ফ্লোরিডার রিয়েল আইডি ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেয়েছিলেন। গ্লোরিয়াকে প্রথমে নিউজার্সিতে রাখা হলেও পরে লুইজিয়ানা এবং সাউথ টেক্সাস আইস প্রসেসিং সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। বারবার এই স্থানান্তরের ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে এবং আইনজীবীদের খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন বারাজোন। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ৩০ জুলাই একটি সুনির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানের সময় গ্লোরিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটির দাবি, ভিসার অনুমোদিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে তিনি দেশের আইন লঙ্ঘন করেছেন। তবে স্ত্রীর এমন পরিস্থিতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বারাজোন বলেন, তিনি ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ কাজের সাথে একমত। তিনি অপরাধী ও গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তারের শতভাগ পক্ষে, তবে মার্কিন নাগরিকদের স্ত্রীদের এভাবে আটক করা অনুচিত বলে মনে করেন। তিনি এ ঘটনার জন্য ট্রাম্পকে নয়, বরং 'কিছু খারাপ আইস কর্মকর্তার' দায় দেখছেন। স্ত্রীর মুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই প্রবীণ ব্যবসায়ী। আইনি খরচ মেটাতে তাকে নিজের মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং আত্মীয়দের কাছ থেকেও হাজার হাজার ডলার ঋণ নিতে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি হৃদরোগসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিদের কাছে সাহায্য চেয়েও বন্দি স্ত্রীর স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্রের অভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় তেমন কোনো সহায়তা পাননি তিনি। সবশেষে বারাজোন বলেন, অবৈধ অভিবাসী বিশেষ করে অপরাধীদের জন্য আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেমন কড়াকড়ি থাকা উচিত, তেমনি মার্কিন নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু নথিতে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই তেহরানের অনুরোধে নির্দিষ্ট কিছু ইরানি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের করা একটি তথ্যের অধিকার (ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন অ্যাক্ট বা ফোয়া) সংক্রান্ত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই গোপন নথিগুলো প্রকাশ্যে আসে। এতে দেখা যায়, ইসরায়েলে অবস্থিত আইসিই কার্যালয়, কাতার সরকার এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে একটি গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করছিল। এই বিষয়টিকে অনেকেই অত্যন্ত বিতর্কিত বলে মনে করছেন, কারণ যে সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানিদের স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্ত করার কথা বলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই তারা বিরোধী মতাবলম্বীদের একই সরকারের হাতে তুলে দিচ্ছিল। নথিগুলো থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আইসিই-এর এক কর্মকর্তা ইমেইলে নিশ্চিত করেন যে, ইরান দূতাবাস নির্দিষ্ট তিনজনের জন্য ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করেছে এবং তাদের ২৯ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইটে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছে। আইসিই কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বন্দিশিবির থেকে এই ইরানিদের জড়ো করে তেহরানের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছিলেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ফেরত পাঠানো এই ইরানিদের মধ্যে প্রকাশ্যে সমকামী এবং খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণকারী ব্যক্তিরাও ছিলেন, যা ইরানের আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ ও কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ইমেইলগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি সরাসরি হোয়াইট হাউসের নির্দেশে বা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছিল। এমনকি তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকা সত্ত্বেও আইসিই ভুল করে এক ইরানিকে ওই ফ্লাইটে তুলে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে কাতারের মাধ্যমে ইরানিদের ফেরত পাঠানোর একটি পরিকল্পনা করা হলেও দুই দেশের মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের শেষে সফলভাবে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক দূতাবাস না থাকায় ওয়াশিংটনে পাকিস্তান দূতাবাসের মাধ্যমে ইরানি কূটনীতিকরা এসব বিষয় পরিচালনা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। আইসিই-এর হেফাজতে থাকা ইরানিদের অভিযোগ, এক ইরানি কূটনীতিক তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। আইসিই মোট ১০০ জনেরও বেশি ইরানিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল, যাদের মধ্যে অনেককে ইরানে পৌঁছানোর পরপরই সেদেশের গোপন পুলিশ তলব ও জিজ্ঞাসাবাদ করে। সবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন নাগরিকত্বের পথ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বাস্তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যাক্স ফাইল করা কিংবা আইনগত অধিকার না থাকা অবস্থায় ভোট দেওয়ার মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের কার্যকর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাচারালাইজেশনের সময় ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক বসবাস, বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য এবং ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো বিষয় যাচাই করতে পারে। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা। সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের জন্য একজন গ্রিন কার্ডধারীকে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই সময় পাঁচ বছর। মার্কিন নাগরিকের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে বা নাগরিকত্বের যোগ্যতা শেষ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অনুপস্থিতি ন্যাচারালাইজেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস ভেঙে গেছে বলে ধরে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তখন আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রেই তার স্থায়ী বসবাস বজায় ছিল। আর একটানা এক বছর বা তার বেশি দেশের বাইরে থাকা সাধারণভাবে নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাসে আরও বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অনুপস্থিতি গ্রিন কার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা স্ট্যাটাস বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা রয়েছে। রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষা হয় না। রি-এন্ট্রি পারমিট মূলত দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দার উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হতে পারে। নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক বসবাস সংরক্ষণের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স রিটার্ন। আইআরএসের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে বৈধ গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি ফেডারেল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে রেসিডেন্ট এলিয়েন হিসেবে বিবেচিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মতোই বিশ্বব্যাপী আয় রিপোর্ট করার নিয়মের আওতায় পড়েন। তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভুলভাবে নিজেকে নন-রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন করলে বিষয়টি পরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন অবস্থান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে দাবি করার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতে পারে। তবে ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ট্রিটির নিয়ম থাকতে পারে। ফলে সব পরিস্থিতিতে একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়। বিদেশে আয়, দ্বৈত ট্যাক্স রেসিডেন্সি বা ট্যাক্স ট্রিটির সুবিধা নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ট্যাক্স পেশাজীবী বা ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো ভোট দেওয়া। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের অধিকার দিলেও এটি মার্কিন নাগরিকত্ব নয়। ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া বেআইনি। ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালে ন্যাচারালাইজেশন সংক্রান্ত নীতিমালায় বেআইনি ভোট, বেআইনিভাবে ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার বিষয়গুলো নিয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে। তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধরনের নির্বাচনের নিয়ম এক নয়। কিছু অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই "গ্রিন কার্ডধারী কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন না" এমন সার্বিক বক্তব্য সঠিক নয়। কিন্তু ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ এবং অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে ভোট দিলে গুরুতর ইমিগ্রেশন পরিণতি হতে পারে। বিশেষ করে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় নিজেকে ভুলভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বেআইনি ভোট বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি কিছু ক্ষেত্রে শুধু ন্যাচারালাইজেশন আবেদনকেই প্রভাবিত করে না, ডিপোর্টেশনের আইনি ভিত্তিও তৈরি করতে পারে। তাই গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের প্রস্তুতি শুধু এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার সময় শুরু হয় না। বিদেশে কতদিন থাকা হচ্ছে, ট্যাক্স কীভাবে ফাইল করা হচ্ছে এবং ভোট বা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা কী, এসব বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো ভুল ইতোমধ্যে হয়ে থাকলে তা গোপন করার পরিবর্তে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা নিরাপদ। কারণ একই ঘটনা একজনের ক্ষেত্রে সামান্য ব্যাখ্যার বিষয় হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তার ইমিগ্রেশন ইতিহাস ও পরিস্থিতির কারণে গুরুতর আইনি সমস্যা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির অন্তত ১২টি এলাকায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস-এর অভিযান এবং নজরদারি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সতর্ক করেছে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। হঠাৎ করে এই ধরপাকড় অভিযান বেড়ে যাওয়ায় শহরজুড়ে বসবাসরত অনিবন্ধিত অভিবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও অনেকেই যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে ভুগছেন। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে শহরের বেশ কয়েকটি সুপরিচিত এলাকায় আইসের তৎপরতা ব্যাপকভাবে চোখে পড়েছে। এর মধ্যে ম্যানহাটনের ইনউড ও ওয়াশিংটন হাইটস এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পোর্ট রিচমন্ড ও স্ট্যাপলটন এলাকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ব্রুকলিন বোরোর সানসেট পার্ক, ডাইকার হাইটস, বেনসনহার্স্ট এবং সাইপ্রেস হিলসেও আইস সদস্যদের আকস্মিক উপস্থিতি ও অভিযানের খবর পাওয়া গেছে। মূলত যেসব এলাকায় অভিবাসীদের ঘনবসতি বেশি, কৌশলগতভাবে সেসব জায়গাতেই এই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রুকলিন ও ম্যানহাটনের পাশাপাশি কুইন্সের মতো বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও এই অভিযানের তীব্র আঁচ লেগেছে। স্থানীয় অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, কুইন্সের এলমহার্স্ট, ইস্ট এলমহার্স্ট, কলেজ পয়েন্ট এবং করোনা এলাকায় আইসের দৃশ্যমান উপস্থিতি বেড়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত ২৭ জুলাইয়ের পর থেকে কেবল কুইন্স এলাকাতেই দুই ডজনের বেশি ব্যক্তিকে আটকের সুনির্দিষ্ট তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ভয়াবহ ভীতির সঞ্চার করেছে। তবে এই ধরপাকড় পরিস্থিতি ঠিক কতটা ব্যাপক, সে বিষয়ে সরকারিভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক অভিযানের কোনো পূর্ণাঙ্গ বা আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে অভিবাসী সংগঠনগুলোর তালিকাভুক্ত প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিন নিয়মিত অভিযান চলছে কি না, তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তা সত্ত্বেও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অভিবাসীদের নিজেদের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে আইনজীবীদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।