নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির ধাক্কায় এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কস এলাকায় জরুরি সেবার ডাকে সাড়া দিতে যাওয়া ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) একটি ট্রাকের ধাক্কায় এক পথচারী নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে এই ভয়ংকর দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে ব্রঙ্কসের ইন্টারভেল এভিনিউ এবং চিশলম স্ট্রিটের কাছাকাছি মোড়ে এই প্রাণহানির ঘটনাটি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, নিহত ওই নারী শুক্রবার রাতে ইন্টারভেল এভিনিউয়ের পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক সেসময় উত্তর দিকে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা এফডিএনওয়াই-এর 'ফায়ার ইঞ্জিন ৮২' নম্বর ট্রাকটি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ফায়ার সার্ভিসের ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সংস্থার ৩৪ বছর বয়সী এক কর্মী। দুর্ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় সেন্ট বার্নাবাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় নিহত ওই নারীর নাম, পরিচয় বা বয়স সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) এরই মধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চালকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অন্যদিকে, নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নতুন করে কোনো তথ্য বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে ১৫ বছর বয়সী কিশোর জাভিটস ফ্রিমপং। ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর হাজার হাজার মাইল দূরে ঘানায় থাকা মায়ের কাছে পৌঁছানোর পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন ছেলের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন মা। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার সকালে ব্রঙ্কসের ক্রোটোনা পার্ক এলাকার কাছে। স্কুলে যাওয়ার সময় কিশোরটিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।নিহত জাভিটসের বাবা থমাস ফ্রিমপং প্রায় এক বছর আগে ছেলেকে ঘানা থেকে নিউইয়র্কে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর থেকে বাবা-ছেলে নিউইয়র্কে থাকলেও তার মা ঘানাতেই বসবাস করছিলেন।সন্তানের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর মায়ের সবচেয়ে বড় চাওয়া এখন ছেলেকে শেষবারের মতো দেখা এবং শেষ বিদায় জানানো। ঘটনাটি জানার পর নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেন। শনিবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন তিনি।মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাম্প নিহত কিশোরের মাকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন, যাতে তিনি ঘানা থেকে নিউইয়র্কে এসে ছেলের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পারেন।তবে মেয়রের ঘোষণায় ভিসা ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। শনিবার ব্রঙ্কসের ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় নিহত কিশোরের স্মরণে এক আবেগঘন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।পরিবারের সদস্য, বন্ধু, প্রতিবেশী, ধর্মীয় নেতা এবং ঘানার প্রবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। ফুল, প্রার্থনা, কান্না ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তাঁরা জাভিটসকে স্মরণ করেন।নিউ জার্সি থেকেও একজন মা কেবল একজন কিশোরের মৃত্যুতে শোক জানাতে সেখানে ছুটে আসেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জাভিটসকে চিনতেন না, কিন্তু একটি তরুণ প্রাণের এমন মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল নিহত কিশোরের বাবার স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হওয়া। শোকাহত বাবাকে সান্ত্বনা দিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে তিনি চলে যান।নিহত কিশোরের বাবা জানিয়েছেন, স্কুলে তার ছেলেকে উত্ত্যক্ত করা হতো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই শিক্ষার্থীকে ছেলেকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তবে পুলিশ এখনো এই ঘটনার সঙ্গে স্কুলের বুলিংয়ের কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি। হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। শনিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। জাভিটসের মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসিন্দারা শুধু বিচার দাবি করছেন না, তাঁরা স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা এবং বন্দুক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপও চাইছেন।একটি শিশু প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সেই যাত্রা আর বাড়ি ফেরা হলো না। অন্যদিকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা মা সন্তানের শেষ মুহূর্তেও পাশে থাকতে পারেননি। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বন্দুক সহিংসতা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, ভেঙে দেয় একটি পরিবার এবং পুরো সম্প্রদায়ের স্বপ্ন।নিউইয়র্কের বাসিন্দারা এখন জাভিটসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সুখবর, কর ফেরতের আবেদনের শেষ দিন আজ
হাম আক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার, নিউইয়র্ক-নিউজার্সিসহ ৪৭ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে সংক্রমণ
নিউ ইয়র্কে আজ থেকে স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, ৮ লাখের বেশি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
নিউইয়র্কের কুইন্সে পাতালরেল ব্যবহারকারী হাজার হাজার যাত্রীর জন্য আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। পুরোনো সিগন্যাল ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং রেললাইনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সংস্কারের কারণে টানা প্রায় ৯ দিন এ ট্রেনের একটি অংশে চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি (এমটিএ)। এমটিএর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১৬ নভেম্বর সোমবার ভোর ৫টা পর্যন্ত রকওয়ে বুলেভার্ড স্টেশন থেকে ওজোন পার্ক-লেফার্টস বুলেভার্ড স্টেশন পর্যন্ত এ ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।এই সময়ে ১০৪ স্ট্রিট, ১১১ স্ট্রিট এবং লেফার্টস বুলেভার্ড এলাকার যাত্রীদের নিয়মিত পাতালরেলের পরিবর্তে বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে হবে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট রুটে বিনা মূল্যে শাটল বাস চালাবে এমটিএ। এসব বাস রকওয়ে বুলেভার্ড থেকে ওজোন পার্ক-লেফার্টস বুলেভার্ড পর্যন্ত যাতায়াত করবে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৩ থেকে ৫ মিনিট পরপর এবং অন্যান্য সময়ে প্রায় ১০ মিনিট পরপর বাস চলবে। লেফার্টস বুলেভার্ডমুখী বাসের নির্ধারিত স্টপেজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৯৩ স্ট্রিট ও লিবার্টি অ্যাভিনিউ, রকওয়ে বুলেভার্ড ও ৯৭ স্ট্রিট, রকওয়ে বুলেভার্ড ও ১০২ স্ট্রিট, ১১১ স্ট্রিট ও লিবার্টি অ্যাভিনিউ এবং লেফার্টস বুলেভার্ড ও লিবার্টি অ্যাভিনিউ।যাত্রীরা রকওয়ে বুলেভার্ড স্টেশনে এ ট্রেন থেকে নেমে শাটল বাসে উঠতে পারবেন। একইভাবে ফিরতি যাত্রায় বাস থেকে নেমে এ ট্রেনে উঠতে হবে। এই সংস্কারকাজ চলাকালে লেফার্টস বুলেভার্ড শাখায় চলাচলকারী এ ট্রেনগুলো রুট পরিবর্তন করে হাওয়ার্ড বিচ-জেএফকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ, যেসব যাত্রী সাধারণত লেফার্টস বুলেভার্ড থেকে এ ট্রেনে যাতায়াত করেন, তাদের রকওয়ে বুলেভার্ডে নেমে বিকল্প বাস ব্যবহার করতে হবে।তবে রকওয়ে বুলেভার্ড থেকে হাওয়ার্ড বিচ-জেএফকে বিমানবন্দর এবং ফার রকওয়ে শাখায় ট্রেন চলাচল অব্যাহত থাকবে। এমটিএর এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নিউইয়র্কের পুরোনো পাতালরেল সিগন্যাল ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা।কুইন্স ও ব্রুকলিনের এ এবং সি লাইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে কয়েক দশক আগের সিগন্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় এসব পুরোনো সরঞ্জাম সরিয়ে কমিউনিকেশনস-বেইজড ট্রেন কন্ট্রোল বা সিবিটিসি প্রযুক্তি স্থাপন করা হবে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের অবস্থান আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। ফলে নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ট্রেন চালানোর সুযোগ তৈরি হবে।এই বৃহৎ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। প্রকল্পটি এ ও সি লাইনের প্রায় ৪২ মাইল রেলপথ এবং ২৩টি স্টেশনকে অন্তর্ভুক্ত করছে। সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে কর্মদিবসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী চলাচল করেন। কুইন্সের ওজোন পার্ক, সাউথ রিচমন্ড হিল, ১০৪ স্ট্রিট ও ১১১ স্ট্রিট এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের যাতায়াতে বাড়তি সময় হাতে রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন এ ট্রেনে করে কর্মস্থলে যান, তাদের বাস পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। একইভাবে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদেরও আগেই ভ্রমণ পরিকল্পনা করা উচিত। যাদের হুইলচেয়ার বা বিশেষ চলাচল-সহায়তা প্রয়োজন, তারা বিকল্প বাসের প্রবেশগম্যতা সম্পর্কে আগে এমটিএর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।এমটিএ যাত্রীদের যাত্রার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও এমটিএ অ্যাপে সর্বশেষ আপডেট দেখার পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি, তবু মূল্যস্ফীতির চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির চাপে দিশেহারা ভোটাররা, খাবার নাকি ওষুধ কিনবেন সেই দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ
মিশিগানের সেনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের কোন্দল, প্রচারণায় স্টিভেন্সকে নিষিদ্ধ করলেন এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবা ও হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। ফেডারেল স্বাস্থ্যনীতি পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব, চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি স্বাস্থ্যবিমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের আওতায় বিমা কেনা পরিবার এবং মেডিকেইডের ওপর নির্ভরশীল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম মাইস্টেটলাইনের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসেবাকে মধ্যবর্তী নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিমার খরচ ও সরকারি সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে। নির্বাচনের পর স্বাস্থ্যনীতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হেলথ ইন্স্যুরেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক মানুষ চাকরির মাধ্যমে বিমা পান। আবার অনেকে সরকারি মার্কেটপ্লেস থেকে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক হেলথ ইন্স্যুরেন্স কেনেন। নিম্ন আয়ের যোগ্য বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে মেডিকেইড। বয়স্ক এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে মেডিকেয়ার। অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বা ওবামাকেয়ারের আওতায় ফেডারেল মার্কেটপ্লেস এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব মার্কেটপ্লেস থেকে স্বাস্থ্যবিমা কেনার সুযোগ রয়েছে। যোগ্য আবেদনকারীরা আয়ের ভিত্তিতে প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট পেতে পারেন। এই সহায়তা মাসিক বিমার প্রিমিয়াম কমাতে ব্যবহৃত হয়। ফলে সরকারি সহায়তার পরিমাণ পরিবর্তিত হলে অনেক পরিবারের নিজস্ব খরচও পরিবর্তিত হতে পারে। স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম ছাড়াও ডিডাক্টিবল, কোপে এবং আউট অব পকেট খরচ সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিমার মাসিক প্রিমিয়াম তুলনামূলক কম হলেও চিকিৎসার সময় রোগীকে উল্লেখযোগ্য অর্থ দিতে হতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যবিমার প্রকৃত খরচ বুঝতে এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও স্বাস্থ্যনীতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা স্বনিয়োজিত, ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেন কিংবা চাকরির মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স পান না, তাঁদের অনেকে ব্যক্তিগতভাবে বিমা কিনে থাকেন। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম ও সরকারি সহায়তার পরিবর্তন সরাসরি পারিবারিক বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। মেডিকেইডের ক্ষেত্রেও ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির আওতায় কারা স্বাস্থ্যসেবা পাবেন, কীভাবে যোগ্যতা যাচাই হবে এবং কোন ধরনের চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করে। তবে সব অঙ্গরাজ্যে মেডিকেইডের যোগ্যতা ও পরিচালনব্যবস্থা এক নয়। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নীতিগত মতপার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত স্বাস্থ্যবিমার আওতা ও সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় অঙ্গরাজ্যগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে থাকেন। তবে নির্দিষ্ট নীতির ক্ষেত্রে দলগুলোর ভেতরেও মতভিন্নতা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যনীতি, সরকারি অর্থায়ন এবং স্বাস্থ্যবিমাসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ওপর। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যমান স্বাস্থ্যবিমার সব নিয়ম পরিবর্তিত হয়ে যাবে, এমন নয়। স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজেদের বর্তমান কভারেজ, নবায়নের সময়সীমা এবং প্রযোজ্য সরকারি সহায়তার শর্ত সম্পর্কে সচেতন থাকা। কোনো নীতিগত পরিবর্তন কার্যকর হলে তা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা তাই শুধু দলীয় প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চিকিৎসার খরচ, বিমার প্রিমিয়াম এবং সরকারি সহায়তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের বাস্তব উদ্বেগও এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সাইয়েদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা
জন্মদিনের দুই দিন আগে হ্যালোইন অনুষ্ঠানে বেলুন গলায় আটকে শিশুর মৃত্যু