যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচিত পদে ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব এখনো সীমিত। এ পর্যন্ত ১০ জনেরও কম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এ ধরনের পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে লড়ছেন আবের কাওয়াস। আগামী ২৩ জুন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরো থেকে সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-১২ এর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাওয়াসের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ফিলিপিনো-আমেরিকান আইনপ্রণেতা স্টিভেন রাগা। প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচিত হলে আগামী জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজধানী অ্যালবানিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পেয়েছেন কাওয়াস। এর আগে ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে মামদানির প্রচারণাকে সমর্থন করেছিলেন স্টিভেন রাগা। কাওয়াস বলেন, “মামদানি আন্দোলন বহু তরুণ এবং প্রগতিশীল বামপন্থির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি হতাশা কাটিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।” তিনি জানান, সেই রাজনৈতিক গতি ও জনসমর্থন ধরে রাখার লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।
২০২৫ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়লাভের আগে মেয়র মামদানিকে একজন বহিরাগত প্রার্থী হিসেবে দেখা হতো। ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিনামূল্যে বাস ভ্রমণের মতো নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তবে ফিলিস্তিন প্রশ্নে তার দৃঢ় অবস্থানই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তার অবস্থানের কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। তবু ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান প্রাইমারি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কাওয়াসের ব্যক্তিগত জীবনও অভিবাসন ও বাস্তুচ্যুতির অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তিনি একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি নিজের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিমদের ওপর নজরদারি ও নিরাপত্তা অভিযান বাড়লে তার নথিপত্রহীন বাবাকে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) আটক করে। প্রায় তিন বছর আটককেন্দ্রে রাখার পর তাকে জর্ডানে ফেরত পাঠানো হয়।
বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার যে অভিযোগ উঠছে, কাওয়াস জানান তার পরিবারও একসময় একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি এবং তার ভাইবোনেরা দীর্ঘ সময় একক অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে বড় হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে কাওয়াস বলেন, “আমি চাই না এমন ঘটনা আর কারও সঙ্গে ঘটুক।” নিউইয়র্কের কুইন্সের পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে গঠিত সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-১২ একটি বৈচিত্র্যময় এলাকা। এর আওতায় রয়েছে অ্যাস্টোরিয়া, লং আইল্যান্ড সিটি এবং সানিসাইডের মতো জনবহুল অঞ্চল।
হিজাব পরিহিত কাওয়াস ইতোমধ্যে কয়েকটি ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছেন। সেখানে আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিল এবং ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচারণা সংগঠনের সঙ্গে তার অতীত কাজের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ইসরাইলপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এসব সংগঠনের সমালোচনা করে আসছে।
কাওয়াস জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি মসজিদভিত্তিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের মাধ্যমে অভিবাসীদের অধিকার, ভাষাগত সহায়তা এবং পুলিশি সংস্কার নিয়ে কাজ করেছেন। তার মতে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে আরও কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল করতে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে বিভিন্ন পটভূমির মানুষকে আইনসভায় প্রবেশ করতে হবে।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নির্বাচন করাকে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বলেও মনে করেন। মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে মুসলিম-আমেরিকান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানির ঘটনা গত ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গত মার্চে নিউইয়র্কের পরিচিত ফিলিস্তিনি-আমেরিকান অধিকারকর্মী নার্দিন কিসওয়ানির বাসভবনে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মাসে দীর্ঘদিন আটক থাকার পর ১ লাখ ডলার বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পান ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী লেকা কর্দিয়া।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় রাতেও সহিংসতায় রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে। সোমবারের এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর শুরু হওয়া উত্তেজনা বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, যেখানে বেলফাস্টের উপকণ্ঠ নিউটাউনাবিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ির দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। নিউটাউনাবিতে সংঘর্ষের ঘটনাটি দ্বিতীয় রাতের সহিংসতার সবচেয়ে তীব্র দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড (পিএসএনআই) জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই রাতে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে বাড়িঘর, গাড়ি ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্য সরকারের সূত্র অনুযায়ী, সহিংসতায় অন্তত কয়েক ডজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের বসতবাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশের কারণে অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আইনগত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, মানুষের পরিচয় বা পটভূমির কারণে তাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে সোমবার রাতে সংঘটিত এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর। পুলিশ জানায়, ৩০ বছর বয়সী এক সুদানীয় নাগরিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আহত স্টিফেন ওগিলভি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও বিভাজন না ছড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৩ সালে ইউরোপ হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং আশ্রয় আবেদন করেছিলেন। তার বৈধভাবে থাকার অনুমতি ছিল। তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কুল আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানি ও ভুল তথ্য পরিস্থিতি আরও দ্রুত অবনতি ঘটাচ্ছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে একাধিক পশ্চিমা দেশ। এ সহিংসতায় অর্থায়ন, সহায়তা এবং সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর একযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স ও নরওয়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) ঘোষিত এই পদক্ষেপের আগে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে মোট ছয়টি দেশ এখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নেটওয়ার্ক, অর্থায়নকারী এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়েছে। চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চরম সহিংসতার জন্য দায়ী কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তারা একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, তার দেশ ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচসহ কয়েকজন বসতি নেতা এবং মোট ২১ জন বসতি স্থাপনকারীকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাজ্য মূলত অর্থপ্রবাহ বন্ধে জোর দিয়ে একটি নির্মাণ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, যাদের সম্পদ ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডাও একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের ওপর অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কূটনীতিকদের মতে, পশ্চিম তীরে চলমান এই সহিংসতা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ওই এলাকায় লাখ লাখ ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত। অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থতার প্রতিফলন এবং এটি আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি পক্ষ বলছে, এসব নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে বসতি স্থাপনের বিষয়টিকে চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে। পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গান্জ আরও এক ধাপ এগিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন এবং পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই চলমান, তবে নতুন এই বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও কূটনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় বিকল্প রুট ব্যবহার করে ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সৌদি আরব। লোহিত সাগর ঘেঁষা ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে চলতি জুনেই দেশটি ইউরোপের বাজারে আগের চেয়েও বেশি জেট ফুয়েল পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক শিপিং ট্র্যাকার কেপলার ও ভরটেক্সার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কেপলারের হিসাবে, জুনের প্রথম সপ্তাহে ইয়ানবু বন্দর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যে দৈনিক প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ব্যারেল জেট জ্বালানি পাঠানো হয়েছে, যা ২০২৫ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ভরটেক্সার হিসেবে এই সরবরাহ দৈনিক প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই রুট দিয়ে সৌদির দৈনিক রপ্তানি ছিল প্রায় ৭৭ হাজার ব্যারেল। তবে সাম্প্রতিক এই সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে সৌদি আরব দ্রুত বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরকে ব্যবহার করে ইউরোপমুখী জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই ইউরোপে সবচেয়ে বেশি জেট জ্বালানি যেত এবং তখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল জ্বালানি পরিবহন করা হতো। একই সময়ে ভারত, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি মিলিয়ে ইউরোপের মোট চাহিদা ছিল গড়ে দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়া থেকে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ বেড়েছে। গত মে মাসে এই দুই দেশ থেকে সম্মিলিত সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। এর আগে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে জুন মাসেই ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে ইউরোপের কয়েকটি বড় এয়ারলাইনস এই আশঙ্কাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের দাবি, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব যদি দীর্ঘমেয়াদে এই বিকল্প রুটে সরবরাহ ধরে রাখতে পারে, তাহলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।