মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গনে দায়িত্ব পালনরত এক মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দেশটির রাজধানী নয়পিদো ও ইয়াঙ্গনের কূটনৈতিক মহলে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এপিকে নিশ্চিত করেছে যে ইয়াঙ্গনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে কর্মরত ওই কূটনীতিক প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। তবে নিরাপত্তা ও তদন্তের স্বার্থে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াঙ্গনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল নামের একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই কূটনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেলটি বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের কাছে বেশ পরিচিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।
ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিয়ানমারে কর্মরত কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের তিন সদস্য এপিকে জানিয়েছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে একজন থাই নারীকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মৃত্যুর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখছেন না এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক ঘটনার দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক নারীর জন্য কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে ওই নারীর পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এখন পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্ত চলমান থাকায় তারা অতিরিক্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারে বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের কারণে বিদেশি মিশনগুলোর কার্যক্রমও বাড়তি সতর্কতার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে বর্তমান ঘটনায় রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, নাকি এটি ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা হোটেলের নিরাপত্তা ফুটেজ, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।
মার্কিন কূটনীতিকের এই অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ গঠন বা মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কার্যত শেষ হয়েছে এবং দুই দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অধিকার না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের প্রধান শর্ত ছিল। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ইরান জানিয়ে দিয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদিত হয়নি। সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র্যালিতে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করেছি। তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং এটাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য।” পরে একই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি “চমৎকার চুক্তির” কাছাকাছি রয়েছে এবং প্রায় সব বিষয়েই সমঝোতা হয়ে গেছে। দিনের শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও পরে ট্রাম্প জানান, কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় পরিকল্পিত নতুন বিমান হামলা স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, সমঝোতার খসড়া প্রায় প্রস্তুত এবং সপ্তাহান্তের মধ্যেই ইউরোপে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির কেন্দ্রবিন্দু হলো ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে দূরে রাখা। তিনি ইঙ্গিত দেন, সমঝোতা চূড়ান্ত হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-নিয়ন্ত্রণও তুলে নেওয়া হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের এই আশাবাদের বিপরীতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তার অভিযোগ, আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নতুন শর্ত যোগ করছে, যা সমঝোতার পথকে জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও সামরিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের পর কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই আলোচনায় দোহারের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে। সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। নতুন হামলার আশঙ্কা কমে আসায় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণার পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না। কারণ আলোচনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নির্ধারণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও ব্যবধান রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে আশাবাদ তৈরি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে, যেখানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। এক মাস আগেও, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি।” তার এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্যকে অনেকেই অসংবেদনশীল বলে মনে করেন। তবে পরবর্তীতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বাড়েনি। তার ভাষায়, “আমি এই সংখ্যাগুলো পছন্দ করি কারণ এতে আমার পূর্বাভাসই প্রতিফলিত হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে।” অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরান-সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানির দাম আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন নিয়মিত পেট্রোলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৫ ডলার, যা গত ফেব্রুয়ারির শেষে ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার। শুধু জ্বালানিই নয়, বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন এবং যোগাযোগ খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিএলএস। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও চাপের মুখে পড়ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর আমলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমান হার সেই তুলনায় কম হলেও, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ তাৎক্ষণিকভাবে কমার সম্ভাবনা সীমিত। বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসা এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে সরাসরি অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে এবং তার প্রতিফলন সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় রাতেও সহিংসতায় রূপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করেছে। সোমবারের এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর শুরু হওয়া উত্তেজনা বুধবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, যেখানে বেলফাস্টের উপকণ্ঠ নিউটাউনাবিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ির দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। নিউটাউনাবিতে সংঘর্ষের ঘটনাটি দ্বিতীয় রাতের সহিংসতার সবচেয়ে তীব্র দিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড (পিএসএনআই) জানায়, মঙ্গলবার রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই রাতে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী অভিবাসীদের লক্ষ্য করে বাড়িঘর, গাড়ি ও একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে একাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়ে পড়ে। যুক্তরাজ্য সরকারের সূত্র অনুযায়ী, সহিংসতায় অন্তত কয়েক ডজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের বসতবাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ঠিকানা প্রকাশের কারণে অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আইনগত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, মানুষের পরিচয় বা পটভূমির কারণে তাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে সোমবার রাতে সংঘটিত এক ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর। পুলিশ জানায়, ৩০ বছর বয়সী এক সুদানীয় নাগরিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আহত স্টিফেন ওগিলভি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও বিভাজন না ছড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৩ সালে ইউরোপ হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং আশ্রয় আবেদন করেছিলেন। তার বৈধভাবে থাকার অনুমতি ছিল। তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কুল আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানি ও ভুল তথ্য পরিস্থিতি আরও দ্রুত অবনতি ঘটাচ্ছে।