খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ হওয়া উচিত। কোনো শিক্ষক যদি তার অবস্থান ও প্রভাবের অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ করেন, তাহলে তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদান-প্রদান হওয়া কিছু বার্তার কপি এবং অন্যান্য নথিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর দাবি, শুরুতে অভিযুক্ত শিক্ষক তার সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রাখলেও পরে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর ধরনের বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। এসব বার্তার কারণে তিনি মানসিকভাবে অস্বস্তিতে পড়েন এবং বিষয়টি সহপাঠী ও বিভাগীয় প্রতিনিধিদের জানান।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করতে দ্বিধায় ছিলেন। তবে পরবর্তীতে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
তার ভাষ্য, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি চান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন।
এদিকে অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় এবং এরপর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে।
তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, মোবাইল ফোন হারানোর কথিত ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়ে যোগাযোগ এবং গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা হয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট অপব্যবহারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে।
ক্যাম্পাসে আলোচিত এই ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্তের ফলাফল এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা তৈওয়েব আলী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে স্ত্রী ও তিন কন্যার মুখে হাসি ফোটানোর আশা ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই প্রবাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুর সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি তার মরদেহ। ফলে শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখতে এবং বাবাকে একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার স্ত্রী ও তিন কন্যা। নিহত তৈওয়েব আলী (৫৩) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হালিম মোল্যার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে নানা চেষ্টা করছিলেন তৈওয়েব আলী। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় করে সৌদি আরবে যান। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল। সৌদি আরবে গিয়ে তিনি রড মিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই ঋণের প্রায় দুই লাখ টাকা এখনও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকেরা তার লিভার ক্যান্সার শনাক্ত করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সৌদি আরবে অবস্থানরত পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এবং দূর সম্পর্কের কিছু আত্মীয় মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে মরদেহ দেশে পাঠানোর কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। নিহতের স্ত্রী বিউটি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়েছিলেন। সংসারের জন্য কত স্বপ্ন ছিল তার। এখনও দুই লাখ টাকার বেশি ঋণ বাকি আছে। তিন মেয়েকে নিয়ে এখন কীভাবে চলব জানি না। সাতদিন হয়ে গেল, কিন্তু তার মরদেহ এখনও দেশে আসেনি। শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেশে থাকাকালে তৈওয়েব আলী কৃষিকাজের পাশাপাশি দিনমজুরি ও অন্যান্য শ্রমভিত্তিক কাজ করতেন। তার উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে গেলেও সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গ্রামের মানুষও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, যদি তৈওয়েব আলী বৈধভাবে সৌদি আরবে গিয়ে থাকেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়, তাহলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যথাযথ নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় থাকলে সাধারণত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এদিকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথভাবে দাফনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। তাদের একটাই প্রত্যাশা, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যেন স্ত্রী ও তিন কন্যা শেষবারের মতো তাদের প্রিয় মানুষটিকে দেখতে পারেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ হওয়া উচিত। কোনো শিক্ষক যদি তার অবস্থান ও প্রভাবের অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রতি অনৈতিক আচরণ করেন, তাহলে তা শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, পুরো শিক্ষাঙ্গনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদান-প্রদান হওয়া কিছু বার্তার কপি এবং অন্যান্য নথিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর দাবি, শুরুতে অভিযুক্ত শিক্ষক তার সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রাখলেও পরে ব্যক্তিগত ও অস্বস্তিকর ধরনের বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। এসব বার্তার কারণে তিনি মানসিকভাবে অস্বস্তিতে পড়েন এবং বিষয়টি সহপাঠী ও বিভাগীয় প্রতিনিধিদের জানান। লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, প্রথমদিকে তিনি বিষয়টি প্রকাশ করতে দ্বিধায় ছিলেন। তবে পরবর্তীতে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষ্য, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি চান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং এমন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন। এদিকে অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যায় এবং এরপর থেকে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, মোবাইল ফোন হারানোর কথিত ঘটনার পরও সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন একাডেমিক বিষয়ে যোগাযোগ এবং গবেষণাসংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা হয়েছে। ফলে অ্যাকাউন্ট অপব্যবহারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হবে। ক্যাম্পাসে আলোচিত এই ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তদন্তের ফলাফল এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন সবার নজর।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্কুলের ছাত্রাবাসে আইফোন চুরির অপবাদে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত মেহেদী হাসান (১৪) ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। নিহতের পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, সোনাপুর বাজার এলাকার রাঘবপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিন ও শারমিন আক্তারের ছেলে মেহেদী হাসান একাডেমির ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করত। গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে গেলে মেহেদীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। একাডেমির আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফোন হারানো শিক্ষার্থীসহ ৯ জন সিনিয়র ছাত্র মেহেদীকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, মৃত্যুর ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্তরা মেহেদীর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়। পরে মেহেদীকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে মেহেদীকে মারধর করা হয়েছিল। তবে শুধুমাত্র মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ জন্য লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টার দিকে কয়েক শ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলের সামনে জড়ো হন। পরে রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আবাসিক শিক্ষক ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রতিষ্ঠানের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর লাশ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়। নিহত শিক্ষার্থীর চাচা জুয়েল রানা বলেন, ‘আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’ পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।