জুলাই আন্দোলনের অংশীজনদের মতামত নিয়েই হবে সংবিধান সংশোধন: বিশেষ কমিটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধনের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই চেতনা ও ‘জুলাই সনদ’ ধারণ করেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিটি এই বৈঠককে জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
এ লক্ষ্যে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্য, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, শিক্ষক প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের সদস্য, বিরোধী দলের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিটির মতে, সংবিধান সংশোধন এমনভাবে সম্পন্ন করা হবে যাতে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের এই প্রক্রিয়ার অংশ বলে মনে করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সময়োপযোগী সংবিধান রেখে যাওয়ার লক্ষ্যেও কাজ করবে কমিটি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান, নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মাহমুদুল হক রুবেলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও কমিটির সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreকুমিল্লায় মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া ১৩ বছরের অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ি এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর আগে শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে মরদেহ উদ্ধারের খবরে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের তদন্তে অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং তার সঙ্গে সর্বশেষ কারা ছিলেন, এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি মাথায় আঘাতের ধরনসহ অন্যান্য আলামতও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
দুপুরের পরই প্রকাশ হতে পারে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন
যে কোনো সময় আসতে পারে এক দফা দাবি জামায়াত আমিরের হুশিয়ার
মাত্র ২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশে চাকরি পেলেন সিলেটের রিজভী ইসলাম
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা করে একই বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেছেন সানজানা। এবার বুয়েটের সেই একাডেমিক পথ পেরিয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন বিশ্বখ্যাত প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে। বুয়েটে ভর্তি হওয়ার আগে প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনার লক্ষ্য থাকলেও সেখানে শিক্ষকতা করবেন, এমন পরিকল্পনা শুরু থেকেই তাঁর ছিল না। তবে বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম দিন থেকেই শিক্ষকতা পেশার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নিয়মিত একাডেমিক কাজ, পড়াশোনা ও গবেষণার প্রস্তুতি চালিয়ে যান তিনি। পাশাপাশি বুয়েটের শিক্ষাজীবনও উপভোগ করেছেন। পিএইচডির জন্য সানজানা প্রায় ১০ থেকে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের পর মাত্র ১০ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকারেই তাঁর সামনে খুলে যায় পিএইচডির সুযোগ। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বিশ্বখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ তাঁর একাডেমিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হয়ে উঠেছে। এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই পথচলার নানা দিক তুলে ধরেছেন সানজানা। সেখানে এইচএসসি পর্যায় থেকে শুরু করে বুয়েটে ভর্তি হওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি এবং একাডেমিক কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। বুয়েটে পড়াশোনার পাশাপাশি কীভাবে একাডেমিক কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনকে সামলে চলেছেন, সেই অভিজ্ঞতাও উঠে এসেছে তাঁর কথায়। একই সঙ্গে বুয়েটে শিক্ষকতা পেশায় আসার কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি। পিএইচডির প্রস্তুতি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, সাক্ষাৎকার এবং শেষ পর্যন্ত প্রিন্সটনে সুযোগ পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিও ছিল তাঁর এই পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী থেকে একই বিভাগের শিক্ষক এবং সেখান থেকে প্রিন্সটনে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া তাঁর একাডেমিক যাত্রায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সূত্র: বিয়ন্ড স্টোরিস
স্ত্রীর অপারেশন নিয়ে দুশ্চিন্তায় অজ্ঞান স্বামী, ভিডিও ভাইরাল
সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতির তদন্ত করুন: নাহিদ ইসলাম
শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে ঢাকা, স্বার্থ রক্ষার কথা জানাল ভারত
বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৫৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইউএনবি ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনের মৃত্যুর সংখ্যাই চলতি বছরের যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ। চলতি বছরের শুরু থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনেই ৭৯ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির চিত্র তুলে ধরছে। হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশই ঘটেছে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে। রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে ২২ হাজার ৫৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের পুরো আগস্ট মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২২ হাজার ৫৩৬ জন। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের মাত্র ১৭ দিনেই আগস্টের পুরো মাসের রোগীসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এ পরিসংখ্যান থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কত দ্রুত বেড়েছে তার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। শুধু মৃত্যুর সামগ্রিক সংখ্যা নয়, দৈনিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। ৮ সেপ্টেম্বর এক দিনেই নয়জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়, যা চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন দিনে নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর খবরও এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হন। পাঁচজন মৃতের মধ্যে চারজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে এবং একজন রংপুর বিভাগের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই পাঁচজনের মৃত্যুর পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৬। আর বছরের শুরু থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা পৌঁছায় ৫৮ হাজার ৪০০ জনে। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৯২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। ১৭ সেপ্টেম্বরের হিসাবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তখনও ৪ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। সর্বশেষ পাঁচ মৃত্যুর একটি রংপুর বিভাগে হওয়ার তথ্যও দেখায় যে ডেঙ্গুর গুরুতর প্রভাব ঢাকার বাইরেও রয়েছে। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ মৃত্যুর চারটিই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় হওয়ায় রাজধানীতে পরিস্থিতির গুরুত্বও স্পষ্ট। ডেঙ্গু মূলত এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। এডিস মশার প্রজননের জন্য বাসাবাড়ি বা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানির ছোট ছোট উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে শুধু বড় জলাশয় পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ শেষ হয় না। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন অংশ কিংবা পানি জমে থাকতে পারে—এমন জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বরকে অবহেলা না করাও জরুরি। বিশেষ করে তীব্র জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অন্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের কার্যকারিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করা না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর দ্রুত বৃদ্ধি। আগস্টের পুরো মাসে ২২ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেপ্টেম্বরের মাত্র ১৭ দিনেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে ২২ হাজার ৫৫৪ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে বছরের মোট ১৭৬ মৃত্যুর মধ্যে ৭৯টিই ঘটেছে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে। পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে নতুন সংক্রমণের প্রবণতা, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, আবহাওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিরা কত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন—এসব বিষয়ের ওপর। আপাতত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান স্পষ্ট করছে যে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে চলতি বছরের ডেঙ্গুর সবচেয়ে গুরুতর মাস হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে একদিকে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্যদিকে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বাসাবাড়িতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা—সবগুলো বিষয়ই এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ পরিসংখ্যান তাই সাধারণ মানুষের জন্যও সতর্কবার্তা। সেপ্টেম্বরের বাকি দিনগুলোতে সংক্রমণের প্রবণতা কমে আসে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে প্রথম ১৭ দিনের তথ্য বলছে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখনই সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
আল-আজহারে দশ কেরাতে সর্বোচ্চ সনদ পেলেন বাংলাদেশি রায়হান মাহমুদ
যে জেলায় পোস্টিং, সেখানেই বিয়ে! ওসি মাহবুবকে নিয়ে বিতর্ক