এইচএসসি পরীক্ষার আগেই এমআইটিতে ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন চাঁদপুরের সিফাতের
এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগেই বিশ্বের অন্যতম সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)-তে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সুযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন করে নজির গড়েছেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সিফাত। তার এই অর্জন শুধু চাঁদপুর নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
চাঁদপুর শহরের চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাসকারী সিফাতের গ্রামের বাড়ি মতলব দক্ষিণ উপজেলার নওগাঁ গ্রামে। তার বাবা মো. নাসির উদ্দিন মতলব রয়মনেনসা মহিলা কলেজের শিক্ষক এবং মা কামরুন নাহার হাজীগঞ্জ মডেল কলেজের শিক্ষক।
ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার স্বপ্ন ছিল সিফাতের। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি নিয়মিত অংশ নেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গণিত, প্রোগ্রামিং এবং ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে। ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফল হিসেবে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন তিনি।
এর আগে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন সিফাত। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত এবং এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে সিফাত বলেন, এমআইটিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন, এমন নিশ্চয়তা কখনোই ছিল না। তবে লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে তিনি নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন। সেই অধ্যবসায়ই তাকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এমআইটি প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অত্যন্ত সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীকে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি করে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান। এবার সেই গৌরবের তালিকায় যুক্ত হলো চাঁদপুরের মেধাবী তরুণ সিফাতের নাম।
শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে সাফল্য, একাডেমিক কৃতিত্ব এবং ধারাবাহিক দক্ষতার সমন্বয়ই সিফাতকে এই অর্জনের পথে এগিয়ে দিয়েছে। তার সাফল্য দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreরাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবৈধ ভিওআইপি, জিএসএম গেটওয়ে এবং অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তি সরঞ্জাম, ছয় হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, বিদেশি মদ ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন—ঝর্না চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) এবং শে ই রান (৪২)। ডিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি স্মার্টফোন, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ছয় হাজারের বেশি সক্রিয় সিমকার্ড, ২০টি জিএসএম গেটওয়ে ডিভাইস, ২৬ বোতল বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়। ডিবির প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঝর্না চাকমা জিয়ানা পুরো ভবনটি ভাড়া নিয়ে এর চতুর্থ ও পঞ্চম তলা কয়েকজন চীনা নাগরিকের কাছে সাবলেট দেন। সেখানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চক্রটি সাধারণ মানুষকে চাকরির প্রলোভন, বিশেষ অফার কিংবা স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত আয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠাত। ওই বার্তায় থাকা লিংকে প্রবেশ করলেই ভুক্তভোগীরা প্রতারণার ফাঁদে পড়তেন এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেত চক্রটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে প্রতারকরা বিশেষ প্রযুক্তিও ব্যবহার করত। একটি মোবাইল ডিভাইসের সঙ্গে বাহ্যিকভাবে একাধিক সিম স্লট সংযুক্ত করে একই সময়ে ১২টি সিম পরিচালনা করা হতো। এতে প্রতারণার অভিযোগ এলেও সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত বলে জানিয়েছে ডিবি। পুলিশ বলছে, জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইস ও সিমকার্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে চক্রটির কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এইচএসসি পরীক্ষার আগেই এমআইটিতে ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন চাঁদপুরের সিফাতের
‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে শুরু করেছিলাম, দেখে ফেলায় শেষ করতে পারিনি’
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ- অপরাধপ্রবণ শহর ঢাকা
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় একটি দাখিল মাদরাসার মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় দুই দশক ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। অভিযোগে বলা হয়েছে, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন। মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান বিষয়টি সামনে এনে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে ওই মাদরাসায় নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিনকে বিধিবহির্ভূতভাবে ওই মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালের নিয়োগে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা উত্তোলন শুরু হয়। এমনকি ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতেও মৃত শিক্ষকের ওই ব্যাংক হিসাব থেকেই বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। মাদরাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তার দাবি, গত ২০ বছরে সরকারের লাখ লাখ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং সরকারের অর্থও পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন দাবি করেন, হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি বেতন তোলেননি। তবে কোন হিসাব থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন—এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে বিবেচিত নয়। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিবাচক বার্তা, আসছে ২৫ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল
১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৩তম বিসিএসের দুই স্বাস্থ্য ক্যাডারের মৃত্যু, শোক প্রকাশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
কবর খননের সময় ২৪ বছর আগের মরদেহ অক্ষত থাকার দাবি, কুমিল্লায় চাঞ্চল্য
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া দুটি সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্কের অবসান হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ব্যাগ ও বস্তায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি। মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে থাকা ব্যাগে ছিল একটি জর্দার কৌটা ও পান, আর ফার্মগেটে পাওয়া বস্তাটি ছিল সম্পূর্ণ খালি। শনিবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুটি স্থানে পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকার খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনে সন্দেহজনক ব্যাগটি প্রথমে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এতে কৌটাসদৃশ একটি বস্তু শনাক্ত হওয়ায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে সেটিকে নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরে ব্যাগ খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে একটি জর্দার কৌটা ও পান ছাড়া অন্য কোনো বিপজ্জনক বস্তু নেই। অন্যদিকে, তেজগাঁও থানার আওতাধীন ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পড়ে থাকা একটি বস্তা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তার ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু ছিল না; সেটি খালি অবস্থায় দলা পাকিয়ে রাখা হয়েছিল। ডিএমপি জানিয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক বস্তু বা কার্যকলাপ সম্পর্কে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেএনএফের আতঙ্ক কাটিয়ে বান্দরবানের পাহাড়ে ফিরেছে ২২১ বাস্তুচ্যুত পরিবার
শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেফতার