বাংলাদেশ

র্বাচনে দাড়িয়ে কাফের হলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম

র্বাচনে দাড়িয়ে কাফের হলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
কাজী  নজরুল ইসলাম
কাজী নজরুল ইসলাম

ফরিদপুরে ভোটের ময়দানে  সহযোগিতা চাইতে গেলে তমিজউদ্দিন খানের সমর্থকদের মধ্য থেকেই সেদিন কবি নজরুলকে ‘কাফের’আখ্যা দেয়া হয়েছিল। নিরাশ না হয়ে কবি বরং তাদের কবিতা শোনার আহ্বান করেন। তার স্বকণ্ঠে ‘মহররম’কবিতা শুনে কবির সমালোচনাকারীদের চোখে অশ্রুধারা নেমে এল,কিন্তু ভোটের প্রতিশ্রুতি মিলল না।

 

১৯২৬ সালের শেষ দিকে যখন ‘ভারতীয় কেন্দ্রীয় আইনসভা’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়,কবি কাজী নজরুল ইসলাম তখন সারা বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি। অবশ্য ইতোমধ্যেই গোঁড়া মুসলিমও প্রতিক্রিয়াশীলদের দেয়া ‘কাফের’ ফতোয়াও কবির কাঁধে পড়েছে। নির্বাচনে কংগ্রেস-সমর্থিত অর্থাৎ স্বরাজ পার্টির প্রার্থী ছিলেন কবি নজরুল।

 

নির্বাচনে ভোটদাতাদের সংখ্যা ছিল১৮ হাজার ১১৬ জন।প্রত্যেক ভোটদাতা দুটি করে ভোট দিতে পারতেন।প্রার্থী দাঁড়িয়েছিলেন পাঁচজন।তার অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মুসলিম লীগের প্রার্থী,বরিশালের বামনার জমিদার মুহম্মদ ইসমাইল চৌধুরী(তিনি ছিলেন রাজবাড়ীর পদমদীর জমিদার নবাব মীর মোহাম্মদ আলীর ভ্রাতুষ্পুত্রী আসমাতুন্নেছার স্বামী), টাঙ্গাইলের জমিদার আব্দুল হামিদ গজনভী, ঢাকার নবাববাড়ির আব্দুল করিমও মফিজ উদ্দিন আহমেদ।

 

অবশ্য বাংলা একাডেমির জীবনীপঞ্জিতে ওই নির্বাচনে কবি নজরুলের সঙ্গে তমিজউদ্দিন খানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেবার রাজবাড়ীর (খানখানাপুর) তমিজউদ্দিন খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মুসলিম লীগ থেকে নিম্ন আইন পরিষদ (গোয়ালন্দও ফরিদপুর সদর মহকুমা)আসনে।

 

স্বরাজ পার্টি-কংগ্রেস থেকে নির্বাচন করেন ফরিদপুরের তরুণ জমিদার চৌধুরী মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে লাল মিয়া।আর কেন্দ্রীয় আইনসভায় সমগ্র ঢাকা বিভাগ থেকে মুসলমানদের জন্য দুটি আসন সংরক্ষিত ছিল, যার একটিতে কবি নজরুল প্রার্থী ছিলেন।

 

ওই নির্বাচনে মূলত পীর-মাশায়েকদের সমর্থননির্ভর হয়েই মুসলিম প্রার্থীরা ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। ফরিদপুরের পীর মহসিন উদ্দিন দুদুমিয়া বা পীর বাদশা মিয়া (১৮১৯-১৮৬২) নির্বাচনে সেবার ফতোয়া দিয়েছিলেন বেশ কায়দা করে, কেন্দ্রীয় পরিষদে স্বরাজ পার্টির কবি নজরুল আর নিম্ন আইন পরিষদে বিপরীত দলের প্রার্থী লাল মিয়াকে। পীর সাহেবের ‘ফতোয়া’ হাতে নিয়ে নজরুল ছুটে এসেছিলেন ফরিদপুরে, তমিজউদ্দিনের উদ্দেশে।ওঠেন পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীনের বাড়িতে। পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন লিখেছেন সেই নির্বাাচনী স্মৃতিকথা, একদিন গ্রীষ্মকালে হঠাৎ কবি আমার পদ্মাতীরে আসিয়া উপস্থিত।তিনি কেন্দ্রীয় আইনসভার সভ্য হইবার জন্য দাঁড়াইয়াছেন। কবি তখন তাঁর সুটকেস হইতে এক বান্ডিল কাগজ বাহির করিয়া আমার হাতে দিয়া বলিলেন,এই দেখ, পীর বাদশা মিয়া আমাকে সমর্থন দিয়া ফতোয়া দিয়েছেন।

 

পূর্ববঙ্গের এত বড় বিখ্যাত পীর যা বলবেন, মুসলিম সমাজ তা মাথা নত করে মেনে নেবে। জসীম,তুমি ভেবো না। নিশ্চয় সবাই আমাকে ভোট দেবে। ঢাকায় আমি শতকরা নিরানব্বইটি ভোট পাব। তোমাদের ফরিদপুরের ভোট যদি কিছু আমি পাই তা হলেই কেল্লাফতে। ফরিদপুরে ভোটের সহযোগিতা চাইতে গেলে তমিজউদ্দিন খানের সমর্থকদের মধ্য থেকেই সেদিন কবি নজরুলকে ‘কাফের’ আখ্যা দেয়া হয়েছিল। নিরাশ না হয়ে কবি বরং তাদের কবিতা শোনার আহ্বান করেন। তার স্বকণ্ঠে ‘মহররম’কবিতা শুনে কবির সমালোচনাকারীদের চোখে অশ্রুধারা নেমে এল,কিন্তু ভোটের প্রতিশ্রুতি মিলল না। কবি জসীমউদ্‌দীন লিখেছেন- আমরা দুইজনে উঠিয়া ফরিদপুর মৌলবী তমিজউদ্দীন খানের বাড়ি আসিয়া উপস্থিত হইলাম। তমিজ উদ্দীন সাহেব আইনসভার নিম্ন পরিষদের সভ্যপদের প্রার্থী ছিলেন।তাঁহার প্রতিদ্বন্দ্বী ফরিদপুরের তরুণ জমিদার বন্ধুবর লালমিঞা সাহেব। আমরা লালমিয়া সাহেবের সমর্থক ছিলাম।কবিকে দেখিয়া তাঁহারা সবাই আশ্চর্য হইয়া গেলেন।কবি যখন তাঁহার ভোট অভিযানের কথা বলিলেন, তখন তমিজউদ্দীন সাহেবের একজন সভাসদ বলিয়া উঠিলেন,তুমি তো কাফের। তোমাকে কোন মুসলমান ভোট দিবে না।

 

তিনি হাসিয়া বলিলেন, আপনারা আমাকে কাফের বলছেন, এর চেয়েও কঠিন কথা আমাকে শুনতে হয়। আমার গায়ের চামড়া এত পুরু যে,আপনাদের তীক্ষ্ন কথার বাণ তা ভেদ করতে পারে না। তবে আমি বড়ই সুখী হব, আপনারা যদি আমার রচিত দু-একটি কবিতা শোনেন।

 

কবিকে তখন সবাই ঘিরিয়া বসিলেন।কবি আবৃত্তি করিয়া চলিলেন। কবি যখন তাঁহার ‘মহররম’ কবিতাটি আবৃত্তি করিলেন,তখন যে ভদ্রলোকটি কবিকে কাফের বলিয়াছিলেন তাঁরই চোখে সকলের আগে অশ্রুধারা দেখা দিল।

 

তমিজউদ্দিন খান তখন ভারতবর্ষের মুসলমান নেতৃত্বের মধ্যে স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব এবং ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন মধ্যাহ্নে নিজের বাড়ি থেকে কবি নজরুলকে অভুক্ত রেখে তাঁর প্রতি যে বিরূপ আচরণ করেছিলেন, তাকে কোনোভাবেই শিষ্টাচারসম্মত বলে স্বীকার করা যায় না।কবি জসীমউদ্‌দীনের বর্ণনায় সেই মর্মবাণীই প্রতিধ্বণিত হয়েছে-
আমি কবির কানে কানে বলিলাম,এইবার আপনার ইলেকশানের কথা ওঁদের বলুন।’
কিন্তু কে কাহার কথা শোনে! কবি আবৃত্তি করিয়াই চলিয়াছেন। তখন আমি সবাইকে শুনাইয়া বলিলাম, আপনারা কবির কবিতা শুনছেন- এঅতি উত্তম কথা।কিন্তু কবি একটি বড় কাজে এখানে এসেছেন। আসন্ন ভোট-সংগ্রামে কবি আপনাদের সমর্থন আশা করেন।এই বিষয়ে কিছু আলোচনা করুন।

 

তমিজউদ্দীন সাহেব চালাক লোক।কবিকে তিনি আড়ালে ডাকিয়া লইয়া গেলেন।পাঁচ-ছয় মিনিট পরে হাসি মুখেই,আসিয়া কবি আবার পূর্ববৎ কবিতা আবৃত্তি করিয়া চলিলেন।
তাঁহাদের ভিতর হইতে একটি লোকও বলিল না,এত বেলায় আপনি কোথায় যাইবেন, আমাদের এখান হইতে খাইয়া যান।আমার নিজের জেলা ফরিদপুরের এই কলঙ্ক-কথা বলিতে লজ্জায় আমার মাথা নত হইয়া পড়িতেছে। কিন্তু এ কথা না বলিলে,সেই যুগে আমাদের সমাজ এত বড় একজন কবিকে কি ভাবে অবহেলা করিতেন,তাহা জানা যাইবে না।
জসীমউদ্‌দীন রাগে দুঃখে অপমানে অভিমানে ফরিদপুর শহরে খাবার হোটেলের খোঁজে বের হন, সেই মাছি ভন ভন,তেলচিটচিটে বালিশ নির্গত পূতিগন্ধময় পরিবেশ অতিক্রম করে অবশেষে কবিকে নিয়ে বাড়ন্ত বেলায় মধ্যাহ্ন আহারপর্ব সমাধা করেন।
কবি নজরুল প্রবন্ধে জসিমউদ্‌দীন লিখেছেন সেই মর্মন্তুদ এবং করুণ কথা,
‘পথে আসিতে আসিতে কবিকে জিজ্ঞাসা করিলাম,
তমিজউদ্দীন সাহেবের দল আমাদের সমর্থন করবেন। এবার তবে কেল্লাফতে!’
কবি উত্তর করিলেন,না হে, ওঁরা বাইরে ডেকে নিয়ে আগেই আমাকে বলে দিয়েছেন, আমাকে সমর্থন দিবেন না। ওঁরা সমর্থন করিবেন বরিশালের ইসমাইল সাহেবকে।তখন আমার রাগে দুঃখে কাঁদিতে ইচ্ছা হইতেছিল। রাগ করিয়াই কবিকে বলিলাম, ‘আচ্ছা কবিভাই! এই যদি আপনি জানিলেন,তবে ওঁদের কবিতা শুনিয়ে সারাটা দিন নষ্ট করলেন কেন?
কবি হাসিয়া কহিলেন,ওঁরা শুনতে চাইলে, শুনিয়ে দিলুম।’

 

একথার আর কী উত্তর দিব? কবিকে লইয়া হোটেলের সন্ধানে বাহির হইলাম। তখনকার দিনে ফরিদপুরে ভালো হোটেল ছিল না। যে হোটেলে যাই, দেখি মাছি ভন ভন করিতেছে। ময়লা বিছানা-বালিশ হইতে নোংরা গন্ধ বাহির হইতেছে।তারই মধ্যে অপেক্ষাকৃত একটি পরিষ্কার হোটেল বাছিয়া লইয়া কোনো রকম ভোজনপর্ব সমাধা করিলাম।
তমিজউদ্দিন খান বা তার কিছু অনুসারীই শুধু নয়,তখনকার দিনে মুসলমান সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী কিছু সাময়িকপত্রও সংবাদপত্র নজরুলের বিরোধিতায় একেবারে মুখর হয়ে উঠেছিল। মুসলিম মাশায়েখ সমাজের সমর্থন ছাপিয়ে এসব প্রতিক্রিয়াশীলের বহুমুখী প্রচারণায় কবি ফরিদপুরে এসে বুঝতে পারলেন ভোটযুদ্ধে তার অবস্থান কোথায়? ভেবেচিন্তে কবি অবশেষে জামানতের টাকা রক্ষার তাগিদে ঢাকার দিকে চলে যান। জসিমউদ্‌দীন লিখেছেন-

 

প্রথম ভোটের দিন কবিকে ভোট গ্রাহক অফিসারের সামনে বসাইয়া দিলাম।কবির সামনে গিয়া ভোটাররা ভোট দিবেন।পরদিন সকালে,কবি আমাকে বলিলেন,দেখ জসীম,ভেবে দেখেছি,এই ভোটযুদ্ধে আমার জয় হবে না। আমি ঢাকা চলে যাই।দেখি, অন্ততপক্ষে জামানতের টাকাটা যাতে মারা না যায়।
ভারতীয় আইন পরিষদের১৯২৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী তমিজ উদ্দিন খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। ফরিদপুরের সেবারের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি  সম্পর্কে লিখলেও কবি নজরুলের প্রসঙ্গে তিনি কিছুই উল্লেখ করেনন

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বাংলাদেশ

View more
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে জাহাজ

মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের জাহাজটি আগামী বুধবার বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   জানা গেছে, বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাতে জাহাজটির অবস্থান আন্দামান সাগরে ছিল। এর আগে গত ৩ এপ্রিল মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এই জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে।   Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) জানিয়েছে, জাহাজটিতে প্রায় ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এদিকে, এলপিজি ও এলএনজি নিয়ে আরও দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এর মধ্যে নাইজেরিয়া থেকে আসা ‘কুল ভয়েজার’ জাহাজে রয়েছে এলএনজি এবং চীন থেকে আসা ‘গ্যাস জার্নি’ জাহাজে রয়েছে এলপিজি। খালাস কার্যক্রম শেষে জাহাজ দুটি বুধবার বন্দর ত্যাগ করবে বলে জানা গেছে।   চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বর্তমানে বন্দরের জলসীমায় একাধিক জাহাজ অবস্থান করছে এবং চারটি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাসের কাজ চলছে।   এর আগে ৩১ মার্চ ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ নামে একটি জাহাজ এবং ৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে ‘শ্যান গ্যাং ফা শিয়ান’ নামে আরেকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ জাহাজ থেকে ভাটিয়ারিতে এলপিজি খালাস করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

উন্নত চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর গেলেন বিএনপি মহাসচিব

ছবি: সংগৃহীত

শিশির মনিরকে লাল কার্ড দেখালো রাবি শিক্ষার্থীদের একাংশ, নেপথ্যে ছাত্রদল

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে জ্বালানি তেল বিরোধী অভিযান: সাড়ে ৪ লাখ লিটার তেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩১

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান ইসলাম। ছবি: ফেসবুকের সৌজন্যে
নারী সেজে টিকটক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার, চাইলেন ক্ষমা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে নারী সেজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরির অভিযোগে গত রবিবার (৫ এপ্রিল) তাকে বহিষ্কার করে ছাত্রদল। তবে রেদোয়ান লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি কেবল বিনোদনের উদ্দেশ্যে নারী সেজে টিকটক করতেন।   রেদোয়ান ইসলাম ফেসবুকে ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন, যার ফলোয়ার সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি। ওই পেজে তাকে বিভিন্ন নারীসুলভ পোশাকে ও মেকআপে দেখা যেত, যা দেখে তিনি যে পুরুষ তা বোঝা কঠিন ছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রদল তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।     ঘটনার পর নিজের ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে রেদোয়ান সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি লেখেন, “আমি এগুলো মজার ছলে ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করেছিলাম। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমাকে এখন থেকে রাস্তায় দেখলে কেউ খারাপ কথা বলবেন না, স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করুন।” তিনি আরও দাবি করেন যে, তিনি কোনো ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নন, বরং একজন সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাত্র।   ইতোমধ্যেই রেদোয়ান তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছেন এবং বিতর্কিত কন্টেন্টগুলো সরিয়ে ফেলেছেন। তিনি নেটিজেনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো গুজব না ছড়ানো হয়। তবে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
বাবা আজগর আলী সরদার ও ছেলে সজল আলী ওরফে সজল সরদার। ছবি: সংগৃহীত।

ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে সনাতন ধর্মের মেয়েকে বিয়ে: ছেলেকে ত্যাজ্য করলেন বাবা

ছবি: প্রতীকী

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত

এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা রুখতে সরকারের ৭ পদক্ষেপ

ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটে বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে সরকার, এলএনজি আমদানিতে নতুন উদ্যোগ

বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।   অর্থমন্ত্রী জানান, বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে খাদ্য ও জ্বালানি—দুই খাতেই স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।   তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অনিয়ম দূরীকরণ, ঋণ আদায় জোরদার এবং আমানতকারীদের সুরক্ষায় সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।   নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ‘জিটুপি’ পদ্ধতির মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো হবে।   এছাড়া রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করা এবং সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সার্ভার রুমে আগুন, ফ্লাইট ইমিগ্রেশন সাময়িক বন্ধ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। ফাইল ছবি

এ মাসের শেষ দিকে বেইজিং যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

0 Comments