আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ নেতার ছেলের মরদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে ধোঁয়াশা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মেরিনা ডেল রে এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ প্রকৌশলী শাকিব আলীর (৩২) মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তার এই রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

 

জানা গেছে, শাকিব আলী ওই অ্যাপার্টমেন্টে একাই বসবাস করতেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে প্রাথমিকভাবে অনেকেই হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করছেন।

 

নিহত শাকিব আলী জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সুপরিচিত চিকিৎসক, আটলান্টা প্রবাসী আওয়ামীলীগ নেতা এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)-এর কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক ও শাকিরা আলী বাচ্চির একমাত্র ছেলে।

 

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, ডা. মানিক ও তার স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তবে গত ৩-৪ দিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের মনে উদ্বেগ ও সন্দেহ তৈরি হয়। পরে সোমবার সকালে মেরিনা ডেল রে-তে ছেলের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন।

 

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

 

শাকিব আলী পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এবং তিনি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে মাত্র ছয় মাস আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থানান্তরিত হন।

 

তার অকাল মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী, জর্জিয়া বাংলাদেশ সোসাইটি এবং ফোবানা’র কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। জর্জিয়াসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

 

জর্জিয়া বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আরেফিন বাবুল এই দুঃসময়ে আলী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ইতোমধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

এদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের চেয়ারপারসন রবিউল করিম বেলাল, নির্বাহী সচিব খালেদ আহমেদ রউফ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রহমান জহির, আহ্বায়ক ড. জয়নুল আবেদীন, আহ্বায়ক কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম চৌধুরী, সদস্য সচিব প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল, সাবেক চেয়ারপারসন অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর, রেহান রেজা, মাসুদ চৌধুরী রব, জসিম উদ্দিন, সহ-সচিব এন্থনি পিউস গোমেজ এবং নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ মাহিন উদ্দিন দুলাল পৃথকভাবে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

 

মরহুম শাকিব আলীর রূহের মাগফিরাত কামনা করা হচ্ছে। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন এবং তার পরিবারকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ‘লিটল বাংলাদেশ’: পার্কচেস্টারে গড়ে উঠছে প্রবাসী বাঙালির কমিউনিটি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি, যা স্থানীয়দের কাছে এখন ‘লিটল বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত।   ইউনিয়নপোর্ট রোড ও স্টারলিং অ্যাভিনিউকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই এলাকায় বাংলাদেশি সংস্কৃতি, খাবার, ধর্মীয় কার্যক্রম ও ছোট-বড় ব্যবসার এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে দেখা যায় বাংলা ভাষাভাষী মানুষের ভিড়।   স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাক রফিক আহমেদ জানান, তাঁর পরিচালিত একটি রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাঙালি গ্রাহক আসেন। তাঁর ভাষায়, এখানে এলে মনে হয় যেন ছোট্ট একটি বাংলাদেশে আছি।   একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কমিউনিটির সদস্য সুমাইয়া মীম। তিনি বলেন, এখানে নিজের মানুষ, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সবকিছুই পাওয়া যায়, যা প্রবাস জীবনে এক ধরনের স্বস্তি দেয়।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রঙ্কসের কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ৯ এলাকায় ১২ হাজারের বেশি পরিবারে বাংলা ভাষা ব্যবহৃত হয়, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। সাউন্ডভিউ এলাকাও এর অন্তর্ভুক্ত।   বাংলাদেশি অভিবাসীদের এই এলাকায় বসতি গড়ার শুরু ১৯৯০-এর দশকে। মূলত বৈচিত্র্যভিত্তিক ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে এখানে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের আগমনে এই কমিউনিটি আরও বিস্তৃত হয়।   কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সদস্য মোহাম্মদ মুজুমদার বলেন, শুরুতে অল্প কয়েকজন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও পরিচিতদের আগমনে এই কমিউনিটি বড় হয়ে উঠেছে।   সম্প্রতি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক বাংলাদেশি কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো কমিউনিটি শোকাহত হয় এবং স্থানীয় মসজিদে বিপুল মানুষের উপস্থিতি কমিউনিটির ঐক্যকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।   স্থানীয়দের মতে, একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে পার্কচেস্টার এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে এখানে বসবাসকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

ন্যাটোর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: সম্পর্কে ফাটলের আশঙ্কা

ডেলিভারি দিতে এসে শিশু অপহরণ ও হত্যা

ডেলিভারি দিতে এসে শিশু অপহরণ ও হত্যা—আদালতে ফেডেক্স ড্রাইভারের স্বীকারোক্তি

ফটো: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (সংগৃহীত)
ট্রাম্পের বাজেটে প্রতিরক্ষায় ৪৩% বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে ৩০% কাট—নতুন বাজেট ঘিরে তোলপাড়

ওয়াশিংটন ডিসি । যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবিত বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রস্তাবে প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ৪৩.৭% বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও স্টেট ডিপার্টমেন্টে প্রায় ৩০% পর্যন্ত কাটছাঁট করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।   হোয়াইট হাউস প্রকাশিত বাজেট প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বাজেট মূলত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির দিকে জোর দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আধুনিক ইতিহাসে অন্যতম বড় সামরিক বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সহায়তা, কূটনৈতিক কার্যক্রম এবং উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাটছাঁটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   শুধু আন্তর্জাতিক খাতই নয়, শ্রম, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসন খাতেও উল্লেখযোগ্য হ্রাসের প্রস্তাব এসেছে। বিশেষ করে শ্রম খাতে প্রায় ২৫% এবং কৃষিতে প্রায় ১৯% পর্যন্ত বাজেট কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এই বাজেট যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে—যেখানে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু সামাজিক ও কূটনৈতিক খাত সংকুচিত হচ্ছে।   ডেমোক্র্যাট নেতারা ইতোমধ্যে এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি “জনগণের প্রয়োজনীয় খাতগুলোকে দুর্বল করবে।” অন্যদিকে, সমর্থকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।   সব মিলিয়ে, বাজেটটি কংগ্রেসে পাস হওয়ার আগে আরও তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের পেছনে দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত

বিটকয়েনে বড় বিনিয়োগে ট্রাম্প পরিবারের ক্ষতি প্রায় এক বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়: হোয়াইট হাউস

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় মার্কিন অভিনে ম্যাথিউ পেরি মৃত্যু রহস্য: সাজা পাচ্ছেন ‘কেটামিন কুইন’

ছবি: সংগৃহীত
‘প্রস্তর যুগ’ থেকে ‘স্বর্ণযুগ’: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে উত্তেজনাকর সেই শেষ মুহূর্তগুলো

এক চরম নাটকীয়তা আর ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া চরমসীমা (ডেডলাইন) শেষ হওয়ার মাত্র ৯০ মিনিট আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়। হুমকি ও পাল্টা হুমকি: ধ্বংসের কিনারে বিশ্ব মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে উদ্দেশ্য করে এক চরম হুঁশিয়ারি দেন। তিনি হুমকি দেন যে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টার (গ্রিনিচ মান সময় মধ্যরাত) মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং পুরো ‘সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এমনকি কয়েক দিন আগেই তিনি ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ (Stone Age) পাঠিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই ‘গণহত্যামূলক’ হুমকিতে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ধস নামে এবং বিশ্বনেতারা পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা শুরু করেন। মাঠের পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা যখন ওয়াশিংটনে চরমসীমা ঘনিয়ে আসছিল, তখন মাঠের পরিস্থিতি ছিল রণক্ষেত্র। ইরানের খারেগ দ্বীপে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানও পাল্টা হুমকি দেয় যে, তারা এই অঞ্চলের সব জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিষয়ক একটি প্রস্তাব রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়ে বাতিল করে দেয়। তারা ট্রাম্পের হুমকিতে ইরানের পক্ষ নিয়ে মার্কিন অবস্থানকে ‘একপেশে’ বলে আখ্যা দেয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও সমঝোতা এই চরম উত্তেজনার মাঝে দৃশ্যপটে আসে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের কাছে দুই সপ্তাহের জন্য ডেডলাইন পেছানোর আহ্বান জানান এবং ইরানকে ‘সদিচ্ছা’ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক আলোচনার পর অবশেষে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফার একটি ‘কার্যকর’ শান্তি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা আলোচনার ভিত্তি হতে পারে। এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ‘প্রস্তর যুগ’ থেকে ‘স্বর্ণযুগ’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের সুর পুরোপুরি বদলে যায়। কয়েক দিন আগে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিলেও বুধবার তিনি এক পোস্টে বলেন, “বিশ্ব শান্তির জন্য এক বড় দিন! এটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’ (Golden Age) বয়ে আনতে পারে।” সামনের চ্যালেঞ্জ দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে এই চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। সাময়িক এই স্বস্তি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে ‘খুব শিগগিরই’ সরাসরি বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে পারছে না ৬২ শতাংশ বাসিন্দা

0 Comments