মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের অধীন নিরাপত্তা স্ক্রিনিং কার্যক্রম ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এই বাজেট প্রস্তাবটি ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তরের মাধ্যমে কংগ্রেসে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছোট বিমানবন্দরগুলোকে একটি বিশেষ অংশীদারিত্ব কর্মসূচির আওতায় এনে বেসরকারি কর্মীদের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি বিমানবন্দরে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা সরকারি তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ব্যবস্থায় নিরাপত্তা মানদণ্ড একই থাকলেও কর্মী নিয়োগ ও বেতন নির্ধারণের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর।
সাম্প্রতিক আংশিক সরকারি অচলাবস্থার সময় অনেক নিরাপত্তাকর্মী বেতন না পাওয়ায় বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। তবে যেসব বিমানবন্দরে বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল, সেখানে এই ধরনের সমস্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রশাসনের দাবি, বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বছরে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব এবং এতে একটি সমস্যাগ্রস্ত সংস্থার সংস্কারও শুরু হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ছোট বিমানবন্দরগুলোতে বেসরকারি নিরাপত্তা স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক হতে পারে। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম ও প্রশিক্ষণ সরকারি সংস্থার অধীনেই থাকবে। ফলে যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় বড় কোনো পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, বেসরকারিকরণ হলে নিরাপত্তার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মুনাফা অর্জনের প্রবণতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সমালোচকেরা মনে করিয়ে দেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর নিরাপত্তা পুরোপুরি বেসরকারি খাতে ছিল, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের নিরাপত্তা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
বিশ্বের অনেক দেশেই বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত যুক্ত রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনায় মানুষের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির পিএইচডি শিক্ষার্থী লরেন ফোর্টিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এমন একটি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরির চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতের নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট, বিশেষ করে ছোট মাইক্রোরিঅ্যাক্টরকে অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার পথ তৈরি করতে পারে। ২৪ জুলাই এমআইটি নিউজ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফোর্টিয়ারের গবেষণার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বর্তমানে এমআইটির নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পিএইচডি শিক্ষার্থী। ফোর্টিয়ারের গবেষণার মূল লক্ষ্য নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের জন্য এমন একটি সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরি করা, যা প্ল্যান্টের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে পারবে। তবে গবেষণাটি এখনো উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টগুলো মানুষ ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বা শিগগিরই সব অপারেটরকে সরিয়ে দেওয়া হবে, এমন নয়। ফোর্টিয়ারের এই গবেষণার ধারণা এসেছে তার নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে দক্ষিণ চীন সাগরে একটি মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারে নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনা তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার অনেক প্রক্রিয়া অত্যন্ত শ্রমনির্ভর এবং অপারেটরদের হাতে সম্পন্ন করতে হয়। সেখান থেকেই তার মনে প্রশ্ন আসে, নিরাপত্তা বজায় রেখে এসব কাজের আরও বেশি অংশ স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব কি না। পরবর্তী সময়ে নৌবাহিনী তাকে অনুমোদিত কয়েকটি বিষয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ দিলে তিনি এমআইটিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নেন। মাস্টার্সের গবেষণায় তিনি নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য একটি সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেম তৈরি করেন এবং সিমুলেটরের মাধ্যমে সেটি পরীক্ষা করেন। ২০২৫ সালে মাস্টার্স শেষ করার পর একই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে পিএইচডি শুরু করেন ফোর্টিয়ার। তার গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য ভবিষ্যতের মাইক্রোরিঅ্যাক্টর। এগুলো প্রচলিত বড় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের তুলনায় অনেক ছোট এবং প্রত্যন্ত এলাকাতেও স্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু ছোট একটি রিঅ্যাক্টর পরিচালনার জন্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত কর্মী রাখতে হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। ফলে বাণিজ্যিকভাবে এসব রিঅ্যাক্টর কার্যকর করার ক্ষেত্রে অটোমেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিও মাইক্রোরিঅ্যাক্টরকে এমন ছোট নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর হিসেবে বর্ণনা করেছে, যেগুলো সীমিত স্থানীয় অপারেশনাল সহায়তায় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত জনপদ ও শিল্প এলাকায় এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ফোর্টিয়ারের পরিকল্পনায় মানুষের ভূমিকা একেবারে বাদ দেওয়া হচ্ছে না। বরং মানুষ ও কম্পিউটারের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যে কাজ ভালোভাবে করতে পারে সেটি কম্পিউটার করবে, আবার প্রয়োজন হলে মানুষ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। এমআইটির প্রতিবেদনে ফোর্টিয়ার বলেছেন, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের বর্তমান ব্যবস্থাগুলো মূলত মানুষের জন্য তৈরি। তার গবেষণায় সেই কাঠামোকে এমনভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে, যাতে মানুষ ও মেশিন দুটিই প্রয়োজন অনুযায়ী প্ল্যান্ট পরিচালনার অংশ হতে পারে। গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট নিয়ন্ত্রণে তিনি বর্তমানে মেশিন লার্নিংভিত্তিক এআই ব্যবহার করছেন না। এর পরিবর্তে ফাইনাইট স্টেট অটোমাটা নামের একটি প্রচলিত অটোমেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় প্রতিটি পদক্ষেপ নির্দিষ্ট ঘটনা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ফলে সিস্টেম কেন একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং এরপর কী করবে, সেটি স্পষ্টভাবে অনুসরণ করা যায়। ফোর্টিয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেশিন লার্নিংয়ের মতো ডেটানির্ভর প্রযুক্তির কার্যক্রম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের প্রয়োজনীয় মান অনুযায়ী যাচাই করার মতো ব্যবস্থা এখনো তাদের হাতে নেই। এ কারণেই গবেষণায় প্রচলিত এবং সহজে যাচাইযোগ্য অটোমেশন প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গবেষণাটি এগিয়ে নিতে ফোর্টিয়ার আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির হিউম্যান সিস্টেম সিমুলেশন ল্যাবরেটরির গবেষকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০২৪ সালে তিনি আইডাহো ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে ইন্টার্নশিপ করেন। পরের বছর নিউক্লিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টিংহাউসে ইন্টার্নশিপ করে স্বয়ংক্রিয় অপারেশন নিয়ে নিজের ধারণাগুলো আরও পরীক্ষা করার সুযোগ পান। তার গবেষণা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির স্বীকৃতিও পেয়েছে। ২০২৫ সালের ইনোভেশনস ইন নিউক্লিয়ার এনার্জি রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টুডেন্ট কম্পেটিশন এর বিজয়ীদের একজন ছিলেন ফোর্টিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রে এমন গবেষণা এমন এক সময়ে এগোচ্ছে, যখন দেশটিতে অ্যাডভান্সড নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ও মাইক্রোরিঅ্যাক্টর প্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি জানিয়েছে, তাদের উদ্যোগের আওতায় একাধিক অ্যাডভান্সড রিঅ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক মাইলফলক অর্জন করেছে। ফোর্টিয়ারের গবেষণার পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো ছোট পরিসরে পরীক্ষিত সুপারভাইজরি কন্ট্রোল সিস্টেমকে আরও বড় ও জটিল নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের জন্য উপযোগী করে তোলা। তার গবেষণার একটি পরীক্ষামূলক মডেলে এমআইটি রিসার্চ রিঅ্যাক্টরের সিস্টেম ও পদ্ধতি ব্যবহার করে রিঅ্যাক্টর স্টার্টআপের কিছু কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা দেখানো হয়েছে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক পর্যায়ে সফলভাবে প্রয়োগ করা গেলে ছোট নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট পরিচালনায় প্রয়োজনীয় জনবল ও পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় মাইক্রোরিঅ্যাক্টর স্থাপনের অন্যতম বড় বাস্তব বাধা মোকাবিলায়ও অটোমেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের বেশি সময় পরও আবেদনকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে আবেদনকারীদের সরকারি নির্দেশনা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করে। মূলত আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, অর্থাৎ পাবলিক চার্জ সংক্রান্ত যাচাই পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পজ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সব ধরনের মার্কিন ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যবস্থা মূলত ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্টসহ সাধারণ নন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই নির্দিষ্ট পজের আওতায় পড়ে না। পজের আওতাভুক্ত দেশের আবেদনকারীদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়া বা নির্ধারিত কনস্যুলার ইন্টারভিউতে অংশ নেওয়া বন্ধ হয়নি। ইন্টারভিউ নির্ধারণও চলতে পারে। তবে পজের আওতায় থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যু স্থগিত রয়েছে। তালিকার বাইরে থাকা দেশের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে আবেদনকারী ডুয়াল ন্যাশনালদের জন্যও ব্যতিক্রম রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট এক্সসেপশন প্রযোজ্য হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসমর্থিত তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে থাকেন। বাস্তবে সেগুলো অনেক সময় শুধুই অনুমান। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পরিকল্পনা করবেন না।” তার মতে, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত নীতি ও আইনি পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় আবেদনকারীদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। কোনো আদালতের আদেশ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে সেটি কাদের ক্ষেত্রে এবং কতটা প্রযোজ্য, তা যাচাই না করে নিজের মামলার ক্ষেত্রেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও আবেদনকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মইন চৌধুরী। তার ভাষ্য, আবেদনকারীর নিজের কেস, পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং জমা দেওয়া নথিপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। কনস্যুলার কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তরও সঠিক ও সত্য তথ্যের ভিত্তিতে দিতে হবে। তিনি বলেন, “আইন জানুন, আইন মানুন। কোনো ইউএস এম্বাসিতে কখনো মিথ্যা তথ্য দেবেন না এবং মিথ্যা বা জাল ডকুমেন্ট জমা দেবেন না।” স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৭৫ দেশের এই পজের কারণে আগে ইস্যু করা বৈধ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস প্রক্রিয়াও এই নির্দিষ্ট স্টেট ডিপার্টমেন্টের কনস্যুলার ভিসা পজের আওতায় পড়ে না। বাংলাদেশ এই ৭৫ দেশের তালিকায় থাকায় বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারভিত্তিক ও অন্যান্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের ওপর সিদ্ধান্তটির সরাসরি প্রভাব পড়ছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও ভিসা ক্যাটাগরি আলাদা হতে পারে। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অন্য কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের মামলার চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে না নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বশেষ সরকারি তথ্য এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্রে এক নবজাতক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। গোপনে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শিশুটির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মায়ের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্মের বিষয়টি আগে থেকে পরিবার বা সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়নি। প্রসবের পর নবজাতকটির অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুসন্ধান শুরু করে। পুলিশের অভিযোগ, শিশুটির বাবা-মা প্রথমে নবজাতকের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে তারা দাবি করেন, শিশুটিকে নিয়ে করা কথাবার্তা নাকি ‘মজা’ বা কৌতুকের অংশ ছিল। তবে তদন্তকারীরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। কারণ নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিশুটির প্রকৃত অবস্থান খুঁজে বের করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর পুলিশ শিশুটির জন্ম, প্রসবের পরিস্থিতি এবং এরপর কী ঘটেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কোনো নবজাতকের অবস্থান গোপন করা বা শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে তদন্তকারীরা শিশুটিকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে শিশুটির বর্তমান অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।