কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আজ শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের মৎস্য আহরণ বন্ধ হচ্ছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে হ্রদে মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের এক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সাধারণত প্রতি বছর ১ মে থেকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হলেও, এ বছর হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল রাত ১২টার আগে ধরা মাছসমূহ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবহন সম্পন্ন করতে হবে।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন হ্রদসংলগ্ন সকল বরফকল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। একইসঙ্গে অবৈধভাবে মাছ ধরা ও বাজারজাতকরণ রোধে হ্রদসংলগ্ন এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে কঠোর মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রায় সহায়তার জন্য সরকারিভাবে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ চাল বরাদ্দ দেওয়া হবে। হ্রদের প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই আগাম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এই ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৬ তলায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি ব্যবহার করতেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভবনের এই একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর আরেক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. মাহাদি আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও অবস্থিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে একান্ত সচিব নিজের কক্ষে প্রবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই টেবিলের ওপর থেকে ল্যাপটপটি রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল না এবং কক্ষটিতে বেশ কিছু মানুষের উপস্থিতিও ছিল। পরবর্তীতে আশপাশে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি ও তল্লাশি চালিয়েও ল্যাপটপটির কোনো সন্ধান মেলেনি। তবে সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে দাবি করা হয়েছে, খয়েরি রঙের শার্ট ও অ্যাশ রঙের প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একটি কালো ব্যাগ হাতে ভবন থেকে বের হয়ে যান। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের ধারণা, ওই ব্যক্তির ব্যাগের ভেতরেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি থাকতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা নিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৬ তলার মতো সংবেদনশীল স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দর্শনার্থীরা সেখানে অবাধে চলাফেরা করতে পারেন এবং লিফট থেকে নামার পর কোনো ধরনের নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই সরাসরি দপ্তর এলাকায় প্রবেশ করা যায়, যা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্যই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সার্বিক বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম জানান, চুরির ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছিল। তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় লোকবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিশাল এই ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য, যা পুরো ভবনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। জনবল বাড়ানো হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, চুরি যাওয়া ল্যাপটপের মালিক মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ম্যাটারিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সালমা সুমাইয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কলাম্বিয়া (মিজু)-তে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেবেন। রুয়েটের ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থীর অর্জনকে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। কারণ শুধু পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগই নয়, সালমা পেয়েছেন সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক গবেষণা সহায়তা, যার আওতায় তাঁর টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ থাকবে। পাশাপাশি মাসিক গবেষণা বৃত্তি বা স্টাইপেন্ডের মাধ্যমে তাঁর জীবনযাত্রা ও গবেষণাসংক্রান্ত ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। রুয়েট ম্যাটারিয়ালস ক্লাব এবং বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রস্তুতি, একাডেমিক সাফল্য এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহের ফল হিসেবেই এই সুযোগ অর্জন করেছেন সালমা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাঁর এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কলাম্বিয়া একটি সুপরিচিত নাম। এটি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিজ (এএইউ)-এর সদস্য, যেখানে দেশটির শীর্ষ গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সংগঠনের সদস্যপদ বিশেষ মর্যাদার বলে বিবেচিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকৌশল অনুষদও যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিতভাবে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১২৪তম। ফলে সেখানে গবেষণার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে ভর্তি হওয়া এখন অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর লক্ষ্য। সালমা সুমাইয়ার এই সাফল্য সেই ধারাবাহিকতারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। রুয়েটের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, সালমার এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। গবেষণার প্রতি একাগ্রতা, একাডেমিক দক্ষতা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা সম্ভব, সেটিই প্রমাণ করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতে, সালমার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি রুয়েটের ম্যাটারিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার মান এবং গবেষণার সক্ষমতারও প্রতিফলন। তাঁর এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। ক্যাম্পাসজুড়ে ইতোমধ্যে তাঁর সাফল্য নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক, সহপাঠী এবং সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই অর্জন রুয়েটের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে। উচ্চশিক্ষার পথে সালমা সুমাইয়ার এই নতুন যাত্রা শুধু তাঁর নিজের নয়, দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সক্ষমতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তাঁর এই সাফল্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যে নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এ বৈঠকে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরবে বাংলাদেশ। বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের প্রথম এজেন্ডাতেই থাকবে সীমান্ত হত্যা এবং পুশইন বন্ধের দাবি। বাংলাদেশের অভিযোগ, গত দুই বছরে ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আরও শতাধিক মানুষকে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করছে বিজিবি। এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন ও হেলিকপ্টারের চলাচল। বিজিবির দাবি, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ড্রোন এবং কিছু ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হবে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী নদী ও খালের মাধ্যমে ত্রিপুরা থেকে আসা শিল্পবর্জ্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠবে। বাংলাদেশ এ সমস্যার সমাধানে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাব দিতে পারে বলে জানা গেছে। প্রথমবারের মতো সীমান্তসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্যের বিষয়টিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। বিজিবির মতে, এসব প্রচারণা সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে বিএসএফ সীমান্তে কথিত হামলা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সীমান্ত বেড়া নির্মাণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় তুলতে পারে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার।