গাজায় চলমান মানবিক সংকটের কথা যেন কখনো ভুলে না যান, সে জন্য গাজার শিশুদের আঁকা একটি ছবি নিজের সরকারি কার্যালয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেছেন, ছবিটি প্রতিদিন তাকে গাজার শিশু ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং মানবিক সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়।
সানচেজের ভাষ্য, একটি শিশুর আঁকা এই ছবির প্রতীকী গুরুত্ব তার কাছে অনেক বেশি। এটি শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়, বরং যুদ্ধের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের বাস্তবতা ও অসহায় অবস্থার একটি স্মারক। তাই তিনি ছবিটি এমন জায়গায় রেখেছেন, যেখানে প্রতিদিন কাজের সময় তার চোখে পড়ে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি বারবার অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পেন সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থান নেওয়া দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সেই সময় স্পেনের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নরওয়েও একই সিদ্ধান্ত নেয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সানচেজ একাধিকবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। তার মতে, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে নিরীহ শিশু ও সাধারণ মানুষকে, আর গাজার শিশুদের আঁকা সেই ছবিটি প্রতিদিন তাকে সেই বাস্তবতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও জোকালো চত্বরের অদূরে সশস্ত্র হামলায় একজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকে ‘সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণ’ হিসেবে দেখছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। মেক্সিকো সিটির নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয়ের তথ্যমতে, বেলিসারিও দোমিঙ্গেস ও রিপুবলিকা দে ব্রাসিল সড়কের সংযোগস্থলে মোটরসাইকেলে এসে হামলাকারীরা তিন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত দুই ব্যক্তি, দুজনেরই বয়স ৩৯ বছর, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পরপরই মোটরসাইকেলে করে সন্দেহভাজন হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে অভিযান চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল সান্তো দোমিঙ্গো স্কয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রের একটি ব্যস্ত এলাকা, যা দীর্ঘদিন ধরে জাল নথি তৈরি ও বিক্রির জন্য পরিচিত। যদিও মেক্সিকো সিটির কিছু এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে, রাজধানীর পর্যটন ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের এত কাছে এ ধরনের প্রকাশ্য বন্দুক হামলার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। কর্তৃপক্ষ এখনও হামলার উদ্দেশ্য বা নিহত-আহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে এটিকে পূর্বপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ।
ভারত সীমান্তসংলগ্ন দুটি বিমানঘাঁটিতে চীন অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি ও স্যাটেলাইট ইমেজিং প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর (Vantor)-এর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই তথ্য দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনের শেষ ভাগ এবং জুলাইয়ের শুরুতে তোলা উপগ্রহ চিত্রে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের হোটান বিমানঘাঁটিতে সাতটি এবং তিব্বতের দামশিয়ুং বিমানঘাঁটিতে আরও চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। হোটান বিমানঘাঁটি লাদাখের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে, দামশিয়ুং বিমানঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। প্রতিবেদনটি বলছে, ভারতের মুখোমুখি কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমান প্রকাশ্য বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশী এনডিটিভিকে বলেন, হোটান ও দামশিয়ুং ঘাঁটিতে জে-২০-এর উপস্থিতি দেখায় যে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স (PLAAF)-এর নিয়মিত সক্ষমতায় পরিণত হয়েছে। তার মতে, ভারতের জন্য এখন কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা আরও জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ। জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ চীনের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান। এর বিশেষ নকশা ও কম রাডার প্রতিফলনের সক্ষমতার কারণে এটি শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই স্টিলথ প্রযুক্তি আকাশযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে। ভারতের বর্তমান বহরে থাকা রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ কিংবা মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উন্নত হলেও এগুলো স্টিলথ প্ল্যাটফর্ম নয়। ভারত বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিমান পূর্ণাঙ্গভাবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সেটিও প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে। এদিকে চীনের জে-২০ উৎপাদনের গতিও দ্রুত বাড়ছে। দ্য ওয়ার জোন-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে চীনের হাতে প্রায় ৫০টি জে-২০ থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-এর মধ্যে পৌঁছেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, বেইজিং বছরে ১২০টিরও বেশি জে-২০ তৈরি করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের বহরে এক হাজারের কাছাকাছি স্টিলথ যুদ্ধবিমান থাকতে পারে। এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা আম্বালা ও হাসিমারা ঘাঁটিতে মোতায়েন আছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল কেনার চুক্তি হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য আরও ১১৪টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ এবং মিগ-২৯ বহরের আধুনিকায়ন কর্মসূচিও চলমান। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চীনের উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উপগ্রহ চিত্রে যুদ্ধবিমান দেখা গেলেও তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বা সংঘাতের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে একে নিশ্চিতভাবে দেখার সুযোগ নেই। সীমান্ত পরিস্থিতি ও সামরিক মোতায়েন নিয়ে দুই দেশই নিয়মিত নজরদারি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার কার্যালয় জানিয়েছে, সফরকালে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও অংশ নেবেন। গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে নেতানিয়াহু বলেন, বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকা সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরিধি বাড়ানো এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার অভিজ্ঞতায় এমন সংকটপূর্ণ সময়ে দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতা, উভয়ই প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটি হবে দুই নেতার অষ্টম বৈঠক। তার দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার তুলনায় তার সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বৈঠক হয়েছে ট্রাম্পের। নেতানিয়াহুর ভাষায়, এটি যেমন সম্মানের বিষয়, তেমনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় দায়িত্বও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি, লেবানন সীমান্তের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্বাভাবিকীকরণ উদ্যোগ এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য নীতিও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের জন্যই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বৈঠক শেষে কী ধরনের সিদ্ধান্ত বা যৌথ ঘোষণা আসে, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করবে।