অর্থনীতি

বিনিয়োগ খাতে নতুন আশার সংকট

Unknown জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0

জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালেও বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের হার আগের অর্থবছরের তুলনায় নাটকীয়ভাবে ৫৮ শতাংশ কমেছে। এমনকি গত বছরের বিনিয়োগ সম্মেলনের পরও বড় কোনো বিনিয়োগ প্রস্তাব আর আসেনি।

 

২০২৪ সালের ৭-১০ এপ্রিল বিডা আয়োজিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ৫ কোটি টাকা, যা তখন প্রশংসা কুড়িয়েছিল। ওই সম্মেলনে প্রায় ৩,১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন:

  • নিবন্ধন ধস: ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রস্তাবিত মোট বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬,০৫৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৮% কম।

  • বিডা চেয়ারম্যানের সফর: বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য ও কাতারসহ ৮টি দেশ সফর করলেও দৃশ্যমান ফল পাওয়া যায়নি। উল্টো যুক্তরাজ্য থেকে নিট এফডিআই প্রবাহ ৪১ শতাংশের বেশি কমেছে।

 

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ উৎস দেশ চীন থেকে বিনিয়োগ আসার পরিবর্তে প্রবাহ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পরিমাণ ৮৯ শতাংশ কমেছে। প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফর এবং বিডার সেমিনারের পরও চীনা বিনিয়োগকারীরা ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছেন।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ার পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ দায়ী:

  • জ্বালানি সংকট: শীত মৌসুমেও চলমান লোডশেডিং এবং তীব্র গ্যাস সংকট শিল্পোদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

  • লজিস্টিক বাধা: দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিসের ব্যর্থতা আজও বিদ্যমান।

  • আস্থার সংকট: একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছেন।

 

বিডার তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীন, জাপান ও সৌদি আরব শীর্ষে থাকলেও ২০২৪-২৫ সালে চিত্র বদলে গেছে। গত অর্থবছরে শীর্ষে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া (১,৮২০ কোটি টাকা)। এরপর চীন (৬২০ কোটি টাকা), যুক্তরাষ্ট্র (৪১০ কোটি টাকা) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (৩১০ কোটি টাকা)।

 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বিনিয়োগ প্রস্তাব কমে যাওয়া প্রত্যাশিত ছিল। একটি রূপান্তরকালীন প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে চান না। এছাড়া জ্বালানি ও অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগ পরিস্থিতি ফেরার সম্ভাবনা কম।”

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন অবশ্য মনে করেন, বিদেশি বিনিয়োগ রাতারাতি আসে না এবং গত বছরের সম্মেলনের ফল পেতে আরও সময়ের প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

অর্থনীতি

View more
ছবি - সংগৃহিত
কবে নাগাদ স্বাভাবিক হতে পারে জ্বালানির দাম, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আগে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের নিয়মিত ও স্থিতিশীল চলাচল নিশ্চিত হওয়া জরুরি।   মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও ইউরোপে রপ্তানি হওয়া বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই পথটি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।    তুফটস ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম স্টাডিজের অধ্যাপক রকফোর্ড উইটজ আল জাজিরাকে জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র পাঁচটি এবং বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সাতটি জাহাজ পার হয়েছে। এই বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনো অনেক দেরি।   বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ এবং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসার অধ্যাপক উষা হ্যালি জানান, ইরাকের মতো দেশগুলো স্টোরেজ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল, যা পুনরায় চালু করতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যাবে। বিশেষ করে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে, যদি নতুন করে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়।   এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৩.৩ শতাংশ থেকে আরও নিচে নেমে যেতে পারে।    সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা মনে করেন, যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে এবং এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ। আপাতত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে বেশি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা জাহাজ প্রত্যাখ্যান, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে রাশিয়ার তলব

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দামে বড় পতন, কমল প্রায় ১৬ শতাংশ

ছবি - সংগৃহিত

১৯৭০ এর দশকের জ্বালানি তেল সংকটের সময় কী হয়েছিল?

ছবি - সংগৃহিত
কৃষকদের ঋণ মওকুফে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ

ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় সরকার কৃষিঋণ মওকুফ এবং স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   তিনি আজ (৬ এপ্রিল) সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।   অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। তবে সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাজেটে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যার ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন।   অর্থমন্ত্রী কৃষকদের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতি ও কর্মসূচির আওতায় সহজ শর্তে ও তুলনামূলক কম সুদে কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।     তিনি আরও বলেন, গম ও ভুট্টা উৎপাদন বাড়াতে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এই স্কিমটি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর আওতায় কৃষকরা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন।এছাড়া ডাল, তেলবীজ, ভুট্টা ও মসলা জাতীয় আমদানি বিকল্প ফসল উৎপাদনে উৎসাহ দিতে ৪ শতাংশ হারে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলোকে সুদ ভর্তুকি প্রদান করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ফেব্রুয়ারিতেও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬.০৩%

ছবি: সংগৃহীত

তাবিথ আউয়াল ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ফিরলেন

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
লোকসানে ১৭ ব্যাংক: দুই বছরে সিএসআর ব্যয় কমল ৪৫ শতাংশ

২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকিং খাত এক চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক কোনো নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। মুনাফা কমে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়ের রেকর্ড।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ২০২২ সালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, যা দুই বছরের ব্যবধানে ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে চলে এসেছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ অনিয়ম এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।   ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার পেছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও একটি বড় কারণ। আগে রাজনৈতিক চাপে বিভিন্ন অনুদান বা অনুষ্ঠানে ব্যাংকগুলোকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হতো, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে ব্যয়ের চেষ্টা করলেও বাস্তবে ‘অন্যান্য’ খাতেই সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে। বিপরীতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকসহ মোট ১১টি ব্যাংক আলোচিত সময়ে সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। অন্যদিকে, লোকসানে থাকা ১৭টি ব্যাংকের মধ্যে এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ প্রদান করেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সিএসআর খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মাইলফলক

ফাইল ফটো।

রোববার থেকে ব্যাংকের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন: জেনে নিন নতুন নিয়ম

ছবি - সংগৃহিত

কিভাবে বাড়ে কমে তেলের দাম - কলকাঠি কার হাতে ?

0 Comments