২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকিং খাত এক চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক কোনো নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। মুনাফা কমে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়ের রেকর্ড।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ২০২২ সালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, যা দুই বছরের ব্যবধানে ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে চলে এসেছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ অনিয়ম এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার পেছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও একটি বড় কারণ। আগে রাজনৈতিক চাপে বিভিন্ন অনুদান বা অনুষ্ঠানে ব্যাংকগুলোকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হতো, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে ব্যয়ের চেষ্টা করলেও বাস্তবে ‘অন্যান্য’ খাতেই সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে। বিপরীতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকসহ মোট ১১টি ব্যাংক আলোচিত সময়ে সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। অন্যদিকে, লোকসানে থাকা ১৭টি ব্যাংকের মধ্যে এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ প্রদান করেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সিএসআর খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে এই অর্জনের মধ্যেও রপ্তানিতে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে দেশটি মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এই সময়ে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৫০ কোটি ডলার, ফলে এবার রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। চীনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় ধরনের পতন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। ফলে তাদের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলার রপ্তানি করে চতুর্থ এবং ভারত ৭২ কোটি ডলার রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য বেড়েছে, তবে ভারতের রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবেই বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির অবস্থানে এই পরিবর্তন এসেছে। চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে অনেক ক্রেতা বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকেছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রবণতা পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এদিকে পাল্টা শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার ফলে শুল্কহার কিছুটা কমানো হলেও নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কামানের গোলার গর্জনের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দামে এখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে যা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে হরমজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখন প্রায় রুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং জোগান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় এক বিশাল ধস নেমেছে যা আন্তর্জাতিক বাজারকে পুরোপুরি অস্থির করে তুলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তেলের দাম মূলত কার নিয়ন্ত্রণে থাকে—এই প্রশ্নটি এখন সবচাইতে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে যেখানে সাধারণ মানুষের কোনো হাত নেই। ঐতিহাসিকভাবে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ওপেকের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর জোট এবং তাদের মিত্র দেশগুলো যারা তেলের উৎপাদন কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সউদী আরব ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো যখনই তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেয় তখনই বিশ্ববাজারে এর অভাব দেখা দেয় এবং দাম তরতর করে আকাশপানে ছুটতে শুরু করে। তবে বর্তমানে কেবল ওপেকের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয় বরং আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক চালও তেলের দাম নির্ধারণে অত্যন্ত বড় ও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার ফলে তেলের বাজারে যোগানের চেয়ে চাহিদার এক অসম টানাপোড়েন মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। তেলের দাম বাড়ার পেছনে কেবল যুদ্ধই দায়ী নয় বরং বড় বড় কর্পোরেট হাউসের ফটকা কারবার এবং বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক ধারণাও সমানভাবে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে। যখনই কোনো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা বাজে তখনই ভবিষ্যতের অভাবের কথা চিন্তা করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয় যা পরোক্ষভাবে তেলের দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এই তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং এর ফলে যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম এখন সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচ বেড়ে যায় যার ফলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন যা মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়। সার ও সেচ কাজের জন্য ব্যবহৃত জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন খরচও বহুগুণ বাড়ছে যা সরাসরি চাল, ডাল ও তেলের খুচরা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করছে। হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এবং বর্তমানে এই নৌপথটি নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। এই একটি সরু জলপথ যদি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় তবে পুরো বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার এবং বড় বড় শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই উচ্চমূল্য এক মরণফাঁদ কারণ তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি বড় অংশই কেবল তেল আমদানিতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে যা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। আমেরিকা যখন তাদের কৌশলগত তেলের মজুদ থেকে বাজারে তেল ছাড়ে তখন সাময়িকভাবে দাম কিছুটা কমে এলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও সমঝোতা। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে তেলের দাম এখন কেবল একটি ব্যবসায়িক পণ্য নয় বরং এটি একটি মরণঘাতী রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে যা দিয়ে বিশ্ব শাসন করা হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা মানেই হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করা যা বড় দেশগুলো তাদের নিজেদের স্বার্থে প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে চলেছে এবং সাধারণ মানুষ ভুগছে। পরিশেষে বলা যায় যে তেলের বাজার এখন এমন এক গোলকধাঁধায় আটকে গেছে যেখান থেকে বেরিয়ে আসা কেবল কূটনৈতিক আলোচনা ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমেই সম্ভব বলে মনে হয়। বিশ্ব শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং জ্বালানি কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বড় ও নামকরা বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে এবং তেলের এই লাগামহীন দৌড় না থামলে বিশ্ব এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) আর্থিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ১২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারমূল্য উধাও হয়ে গেছে। বৈশ্বিক আর্থিক বাজারগুলোর মধ্যে আমিরাতের এই ধসকে অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধের এই এক মাসে দুবাইয়ের শেয়ারবাজারের সূচক ১৬ শতাংশ এবং আবুধাবির সূচক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে দুবাই ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট (DFM) হারিয়েছে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং বড় বাজার আবুধাবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ (ADX) হারিয়েছে ৭৫ বিলিয়ন ডলার। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার পাশাপাশি আমিরাতের পর্যটন ও এভিয়েশন খাতের স্থবিরতা এই ধসকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বিশ্বের ব্যস্ততম দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়া আমিরাতের জিডিপিতে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর্থিক বিশ্লেষক এবং শিক্ষাবিদ হ্যায়থাম আউন আল জাজিরাকে জানান, এই ধসটি মূলত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক এবং অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। তবে তিনি একে একটি ‘সাময়িক ধাক্কা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক কাঠামোর ক্ষতি করবে না। তা সত্ত্বেও, দুবাইকে বিশ্বের শীর্ষ চারটি আর্থিক কেন্দ্রের একটিতে পরিণত করার যে ১০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে, যুদ্ধের এই নেতিবাচক প্রভাব তাতে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ থেমে গেলে বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।