সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
অর্থনীতি

লোকসানে ১৭ ব্যাংক: দুই বছরে সিএসআর ব্যয় কমল ৪৫ শতাংশ

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬ ০:৫৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকিং খাত এক চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক কোনো নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। মুনাফা কমে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়ের রেকর্ড।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ২০২২ সালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, যা দুই বছরের ব্যবধানে ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে চলে এসেছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ অনিয়ম এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

 

ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার পেছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও একটি বড় কারণ। আগে রাজনৈতিক চাপে বিভিন্ন অনুদান বা অনুষ্ঠানে ব্যাংকগুলোকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হতো, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে ব্যয়ের চেষ্টা করলেও বাস্তবে ‘অন্যান্য’ খাতেই সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে। বিপরীতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকসহ মোট ১১টি ব্যাংক আলোচিত সময়ে সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। অন্যদিকে, লোকসানে থাকা ১৭টি ব্যাংকের মধ্যে এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ প্রদান করেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সিএসআর খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

অর্থনীতি

View more
পেশাভেদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, কয়েক বছরের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স
আমেরিকায় কোন পেশায় আয় বেশি? জেনে নিন, ঘণ্টাপ্রতি বেতনসহ ১০টি কাজের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ফার্মাসিস্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপার, নার্স ও দক্ষ কারিগরি পেশায় ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে ছয় মাসের কোর্স করলেই এসব কাজে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৮০ ডলার আয় নিশ্চিত, এমন ধারণা সঠিক নয়। পেশাভেদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, কয়েক বছরের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স প্রয়োজন হয়।   ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের বিএলএস প্রকাশিত মে ২০২৫ সালের জাতীয় মধ্যম বেতন ধরে নিচে ১০টি পেশার তুলনা তুলে ধরা হলো। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেতনের ১০ পেশার র‌্যাঙ্কিং নয়। উচ্চশিক্ষানির্ভর ও কারিগরি কয়েকটি পরিচিত পেশার আয় ও প্রবেশের যোগ্যতা বোঝানোই এই তুলনার উদ্দেশ্য। মধ্যম বেতন বলতে এমন অঙ্ক বোঝায়, যার চেয়ে অর্ধেক কর্মী বেশি এবং অর্ধেক কম আয় করেন। এটি নতুন কর্মীর শুরুর বেতন নয়। এখানে ঘণ্টাপ্রতি তুলনামূলক অঙ্ক বের করতে বার্ষিক মধ্যম বেতনকে বছরে ২ হাজার ৮০ কর্মঘণ্টা দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। ফলে অঙ্কগুলো আনুমানিক সমতুল্য হার, প্রত্যেকের বাস্তব ঘণ্টাভিত্তিক মজুরি নয়।   ফার্মাসিস্ট ফার্মাসিস্টদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯১০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৬৭ দশমিক ৭৫ ডলার। এই পেশায় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্মেসি শিক্ষা ও লাইসেন্স লাগে। বিদেশে ফার্মেসি পড়লেই সরাসরি মার্কিন লাইসেন্স পাওয়া যায় না। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বোর্ডস অব ফার্মেসির তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি স্নাতকদের লাইসেন্স পরীক্ষার আবেদন করার আগে এফপিজিইসি সার্টিফিকেশনের শর্ত পূরণ করতে হয়।  সফটওয়্যার ডেভেলপার সফটওয়্যার ডেভেলপারদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৬৫ দশমিক ৩৮ ডলার। এই বেতন সফটওয়্যার ডেভেলপারদের নির্দিষ্ট শ্রেণির তথ্য। সফটওয়্যার টেস্টার বা কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স অ্যানালিস্টদের বেতন আলাদা। স্বল্পমেয়াদি কোর্সকে এই মধ্যম বেতন পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    কনস্ট্রাকশন ম্যানেজার নির্মাণ প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাজেট ও বাস্তবায়ন তদারকিতে নিয়োজিত কনস্ট্রাকশন ম্যানেজারদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৯০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৫৫ দশমিক ২৮ ডলার। সাধারণত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি ও কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বড় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিগ্রির পাশাপাশি নির্মাণকাজের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেয়।  ডেন্টাল হাইজিনিস্ট ডেন্টাল হাইজিনিস্টদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৯৮ হাজার ১০০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪৭ দশমিক ১৬ ডলার। তাঁরা মুখ ও দাঁতের রোগের লক্ষণ পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক সেবা দেন। সাধারণত ডেন্টাল হাইজিনে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। কোন কাজ কতটুকু তত্ত্বাবধানে করা যাবে, তা রাজ্য ও কর্মস্থলভেদে আলাদা।    রেজিস্টার্ড নার্স রেজিস্টার্ড নার্স বা আরএনদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৯৭ হাজার ৫৫০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪৬ দশমিক ৯০ ডলার। হাসপাতাল, আবাসিক পরিচর্যাকেন্দ্র ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বেতন ভিন্ন হয়। নার্সিং শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া এই পদে কাজ করা যায় না। জাতীয় মধ্যম বেতনের অঙ্ককে শুরুর বেতন বা ওভারটাইমসহ আয় হিসেবে ধরা ঠিক হবে না।  অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অডিটর অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও অডিটরদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৮৩ হাজার ৬৮০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৪০ দশমিক ২৩ ডলার। সাধারণত অ্যাকাউন্টিং বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। এই পেশাকে বুককিপিংয়ের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। বুককিপিং, অ্যাকাউন্টিং ও অডিটিং ক্লার্কদের পৃথক শ্রেণিতে বার্ষিক মধ্যম বেতন ৫০ হাজার ৬৭০ ডলার, ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৩৬ ডলার।    প্লাম্বার, পাইপফিটার ও স্টিমফিটার এই তিন ধরনের কাজের সম্মিলিত শ্রেণিতে বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬৩ হাজার ৮০০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৩০ দশমিক ৬৭ ডলার। ফলে এই অঙ্ক শুধু আবাসিক প্লাম্বারদের বেতন হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক হবে না। কাজ ও লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী যোগ্যতা বদলায়। কিছু রাজ্যে প্লাম্বিং কনট্রাক্টরের লাইসেন্স পেতে মাস্টার প্লাম্বারের যোগ্যতা প্রয়োজন হয়।  ইলেকট্রিশিয়ান ইলেকট্রিশিয়ানদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬৩ হাজার ১৯০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ৩০ দশমিক ৩৮ ডলার। বিএলএস অনুযায়ী, অধিকাংশ ইলেকট্রিশিয়ান চার থেকে পাঁচ বছরের অ্যাপ্রেন্টিসশিপের মাধ্যমে কাজ শেখেন। শিক্ষানবিশদের বেতন পুরোপুরি প্রশিক্ষিত কর্মীদের চেয়ে কম থাকে এবং দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে তা বাড়ে।  এইচভিএসি টেকনিশিয়ান হিটিং, এয়ার কন্ডিশনিং ও রেফ্রিজারেশন যন্ত্র স্থাপন ও মেরামতের কর্মীদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৬১ হাজার ১০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৯ দশমিক ৩৩ ডলার। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রম সাধারণত ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদি হতে পারে। তবে শিক্ষাক্রম শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় মধ্যম বেতন পাওয়া নিশ্চিত নয়।    ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টর ট্রেইলার চালক এই শ্রেণির চালকদের বার্ষিক মধ্যম বেতন ৫৮ হাজার ৬৪০ ডলার। ঘণ্টাপ্রতি সমতুল্য প্রায় ২৮ দশমিক ১৯ ডলার। এটিকে সব ট্রাকচালকের নির্ধারিত ঘণ্টাভিত্তিক মজুরি হিসেবে ধরা যাবে না। একইভাবে অল্প কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে মাসে ছয় থেকে নয় হাজার ডলার আয় নিশ্চিত বলা জাতীয় মধ্যম বেতনের তথ্য দিয়ে সমর্থন করা যায় না।  এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, বেশি আয়ের পেশায় প্রবেশের পথও এক রকম নয়। কোনো পেশায় উচ্চশিক্ষা দরকার, কোনো পেশায় দীর্ঘ শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ, আবার কোনো ক্ষেত্রে তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি কোর্স দিয়ে প্রস্তুতি শুরু করা যায়।   বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বেতনের পাশাপাশি আগের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা, প্রশিক্ষণের মোট খরচ, লাইসেন্সের শর্ত এবং স্থানীয় চাকরির সুযোগ বিবেচনা করা জরুরি। জাতীয় মধ্যম বেতন ব্যক্তিগত চাকরির অফার নয়। রাজ্য, অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বভেদে প্রকৃত বেতন বদলাবে।  

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১:১১
নতুন মালিক বেন্ডিং স্পুনস

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি

ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ

ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

চট্টগ্রাম বন্দর ছবি:সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে খসড়া চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছে।   চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় এনসিটি বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কনটেইনারভিত্তিক পণ্য পরিবহনে এই টার্মিনালের ভূমিকা রয়েছে।   সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে concession agreement বা দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা চুক্তির মাধ্যমে টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত, মেয়াদ এবং অপারেটরের নামসহ বিস্তারিত তথ্য চূড়ান্ত নথি প্রকাশের পর আরও স্পষ্ট হবে।   এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এর পক্ষে যারা যুক্তি দেন, তারা আন্তর্জাতিক মানের পরিচালনা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য সুবিধার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, চুক্তির শর্ত, স্বচ্ছতা এবং দেশের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২, ২০২৬ ৭:১১
তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ

বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ

বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ
সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ

টানা সাড়ে পাঁচ বছর অবমূল্যায়নের পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের তারল্য উন্নতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার ওপর চাপও কমেছে।    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন হয়েছে। ২০২১ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা। পরে তা বেড়ে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় পৌঁছায়। এরপর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডলারের দর কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে, অর্থাৎ ওই সময়ে টাকার মূল্য ০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।    টাকার এই শক্তিশালী হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে রেমিট্যান্স প্রবাহের উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭০২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে তারল্য পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ২৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এটি ৪৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের BPM6 পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভও একই সময়ে ১৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।    রিজার্ভ বাড়ার পেছনে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপও ভূমিকা রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮ জুন পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ক্রয় রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে।    বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন ২০২৬-এর বৈদেশিক মুদ্রাবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই মাসের শেষে ডলারের বিপরীতে টাকার রেফারেন্স বিনিময় হার ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আরও নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করেছে এবং বাজারের লেনদেনের ভিত্তিতে দৈনিক রেফারেন্স হার প্রকাশ করছে।    টাকার মূল্য বাড়ার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। ডলারের বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে জ্বালানি, খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো আমদানি পণ্যের জন্য স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে ডলারে নেওয়া বৈদেশিক দায় পরিশোধের ক্ষেত্রেও টাকার চাপ কমে। তবে এর বিপরীতে রপ্তানিকারকরা ডলার আয়ের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা পেতে পারেন, ফলে বিনিময় হার শক্তিশালী হওয়ার প্রভাব বিভিন্ন খাতে ভিন্ন হতে পারে।   অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ, পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য এবং শক্তিশালী রিজার্ভ ধরে রাখা গেলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। তবে আমদানি ব্যয়, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য, রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরও ভবিষ্যতে টাকার বিনিময় হার নির্ভর করবে। ফলে সাম্প্রতিক শক্তিশালী অবস্থানকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় রূপ দিতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও বাজারের ভারসাম্য ধরে রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১:৫০
মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে ছবি: সংগৃহীত

টেকসই উন্নয়নে শক্তিশালী ডিজিটাল সংযোগ অপরিহার্য: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশ ভ্রমণে বাংলাদেশিদের বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচের অনুমতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। ছবি: সংগৃহীত

আবারও চালু এলএনজি এক্সিলারেটের টার্মিনাল, গ্যাস সরবরাহে স্বস্তি

0 Comments