আন্তর্জাতিক

এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাক করে এবার খোদ বিশ্বকাপ ফুটবলে হামলার হুমকি দিল ইরানের হ্যাকার গ্রুপ

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৩:৩
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের অত্যাধুনিক ড্রোন হ্যাক করার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে 'হান্দালা' নামের ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গ্রুপ। শুধু তাই নয়, আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলারও সরাসরি হুমকি দিয়েছে তারা। শুক্রবার অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস এই তথ্য সামনে আনে।

 

সাইট ইন্টেলিজেন্স প্রকাশিত হান্দালার এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সন্ত্রাসবাদ দমনে এফবিআইয়ের ব্যবহৃত ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (এফপিভি) ড্রোনগুলোতে গত কয়েক মাস ধরেই তারা অবাধে অনুপ্রবেশ করে আসছে। ফেসিয়াল রিকগনিশন ও গাড়ির লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণের মতো উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন এই ড্রোনগুলোর ধারণ করা প্রতিটি সংবেদনশীল ছবি ও সন্দেহভাজনদের গোপন তথ্য এখন হ্যাকারদের হাতে।

 

বিশ্বকাপের নিরাপত্তায় চরম শঙ্কার কথা জানিয়ে বিবৃতিতে হ্যাকার গ্রুপটি আয়োজকদের সতর্ক করে বলেছে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দলকে তারা মোটেও পছন্দ করে না।

 

এফপিভি ড্রোন সর্বত্র বিরাজমান এবং যেকোনো সময় যেকোনো দলের বাসের ভেতরে এসব ড্রোন হামলা চালাতে পারে বলে তারা প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে। সম্ভাব্য এই ঝুঁকি এড়াতে এবং অননুমোদিত আকাশযানের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর চারপাশে নিজস্ব ড্রোন মোতায়েন করছে এফবিআই।

 

পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে, তার চারপাশে যেকোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

তবে হান্দালার এই হ্যাকিংয়ের দাবির সত্যতা নিয়ে তীব্র সন্দেহ পোষণ করেছে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ। হ্যাকাররা হ্যাক হওয়া ড্রোনের প্রমাণ হিসেবে যেসব ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তা মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি ভিডিও বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

মূলত মার্কিন পুলিশ বিভাগের টর্নেডোর ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজে ব্যবহৃত একটি সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের প্রচারণার অংশ ছিল ওই ভিডিও ফুটেজ। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই মার্কিন বিচার বিভাগ এ ধরনের সাইবার হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল।

 

গত মার্চে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে তার ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ফাঁসের দাবিও করেছিল এই হান্দালা গ্রুপ। দুর্ধর্ষ এই হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের শনাক্তে সহায়তাকারীর জন্য ইতিমধ্যেই ১ কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন) পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত, ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।   ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার ওমান সাগরে ইরানি তেলবাহী প্যালাউ-ফ্ল্যাগযুক্ত জাহাজ এম/টি সেটেবেলো চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন কক্ষে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে আগুন ধরে যায় এবং বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পরে তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বারবার নির্দেশ অমান্য করার কারণে ওই জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এ ধরনের হামলা বন্ধ হওয়া উচিত।” ঘটনার পর নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।   এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   ভারতের শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং রাজনৈতিক মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুতে সরকারকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।   ভারতের সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নস বলেছে, বিদেশি সামরিক অভিযানে ভারতীয় শ্রমিকদের মৃত্যুতে সরকারকে স্পষ্ট ও দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে।   নিহতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের শেষ মুহূর্ত সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এক নাবিকের বাবা বলেন, তার সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।   ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় সমুদ্র শ্রমিক সরবরাহকারী দেশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির তিন লাখেরও বেশি নাবিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাহাজে কাজ করেন, যার বড় অংশই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলাচল করে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে।   ভারতের বিরোধী দলগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৪:৪৪
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারে মার্কিন কূটনীতিকের মৃত্যু, তদন্তে এক থাই নারী গ্রেপ্তাত

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

এফবিআইয়ের ড্রোন হ্যাক করে এবার খোদ বিশ্বকাপ ফুটবলে হামলার হুমকি দিল ইরানের হ্যাকার গ্রুপ

ছবি: সংগৃহীত

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাম্প থেকে তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ভারত

ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে ৪ মার্কিন বিমান, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী চারটি সি-১৭ পরিবহন বিমান ইতিমধ্যেই ইউরোপের উদ্দেশে ওয়াশিংটন থেকে রওনা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আসন্ন জেনেভা সফরে প্রয়োজন হতে পারে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সরঞ্জাম পরিবহন করছে এই বিশালাকার বিমানগুলো। শুক্রবার (১২ জুন) মার্কিন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে চলমান দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির খসড়াটি সম্পূর্ণ চূড়ান্ত হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপের মাটিতে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সামনে রেখেই মার্কিন সামরিক ফ্লাইটগুলো জরুরি ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের অত্যন্ত চমৎকার আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষ ইতিমধ্যে একটি সুন্দর সমঝোতায় পৌঁছেছে।   ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক অনুসারে বর্তমানে দুই দেশের মাঝে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হবে। চুক্তির প্রাথমিক খসড়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।   নতুন এই সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। পাশাপাশি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলের সমস্ত নৌপরিবহন কার্যক্রম যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ইরানের দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি হচ্ছে—তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। এর মধ্যে ইরানের বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী বড় ছাড়ও দেওয়া হতে পারে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি নিয়ে চরম আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তি নিয়ে তেহরান এখনও কোনো ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস দাবি করছে, চুক্তিটি এই মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল বিমান মোতায়েন এবং ইরানের এমন বিপরীতমুখী মন্তব্যের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি আসলেই চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষর হবে কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৫:২২
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত হত্যা কমাতে দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠক সম্পন্ন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূলের ১৯ সাংসদের দল ছাড়ার আভাসে বড় সংকটে মমতা

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ শেষের দাবি ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলল ইরান

ছবি: সংগৃহীত
সামরিক ড্রোন পাঠানোর দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ শুক্রবার (১২ জুন) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট হাইভোল্টেজ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পরিচালিত ওই ড্রোন অভিযানের গোপন পরিকল্পনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন শুরু থেকেই সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিচারক তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শত্রুপক্ষকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করার গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।   আদালতে পেশ করা অভিযোগ অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠিয়ে দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টি করাই ছিল ইউনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি মূলত এই উত্তেজনাকে পুঁজি করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে সামরিক আইন জারির একটি মোক্ষম অজুহাত তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তবে সাবেক এই রক্ষণশীল নেতা আদালতের কাঠগড়ায় তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইউনের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, তিনি কখনো এই ড্রোন অভিযানের নির্দেশ দেননি এবং এটি সামরিক আইন জারির চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠানোর একটি স্বাভাবিক সামরিক প্রতিক্রিয়া ছিল এই ড্রোন মিশন।   এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া থেকে জানা যায়, এর আগে গত এপ্রিল মাসে দেশটির সরকারি প্রসিকিউটররা ইউনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন, যা আদালত বহাল রাখলেন। এই ঐতিহাসিক রায় ক্ষমতাচ্যুত রক্ষণশীল এই নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া একাধিক আদালতের রায়ের সর্বশেষ সংযোজন। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক শীর্ষ প্রসিকিউটর থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া ইউনের বিতর্কিত সামরিক আইন জারির সিদ্ধান্তটি দেশটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটে ফেলেছিল, যার রেশ এখনো কাটেনি।   বিতর্কিত এই নেতার আইনি জটিলতা এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্য আরেকটি মামলায় সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে তাকে ইতিমধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে সংবিধান আদালত তার অভিশংসন বহাল রাখার পর গত বছর ইউনকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে দেশে অনুষ্ঠিত আগাম সাধারণ নির্বাচনে উদারপন্থী নেতা লি জে-মিয়ং বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে নতুন সরকার গঠন করেন। বর্তমানে কারাগারে বন্দি থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন অবশ্য শুক্রবারের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ পাবেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ২:২৯
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট ইরানের

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

মস্কোতে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলা, নিহত ক্রেমলিনের শীর্ষ আর্টিলারি চিফ দামির দাভিদভ

ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকান হামলায় ৩ নাবিক নিহত, মার্কিন দূতকে তলব করল ভারত

0 Comments