বিশ্বকাপ

ভিনিসিয়ুস–কাসেমিরোদের উচ্ছ্বাস। রয়টার্স
শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

সব শঙ্কা, স্নায়ুচাপ আর নাটকীয়তার অবসান ঘটল শেষ মুহূর্তের এক দুর্দান্ত আক্রমণে। নির্ধারিত সময়ের খেলা যখন ১-১ সমতায় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল।   হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল জাপানের দখলে। ২৯ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাইশু সানো দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে জাপানকে এগিয়ে দেন। গোলের পর কোচ হাজিমে মোরিয়াসু দলকে আরও রক্ষণাত্মক করে তোলেন। ৫-৪-১ ছকে গড়ে ওঠা জাপানের শক্ত রক্ষণে প্রথমার্ধজুড়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে ব্লু সামুরাইরা।   বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাসেমিরো দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে সমতায় ফেরান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।   গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ প্রচেষ্টা গোলরক্ষক জিওন সুজুকির স্পর্শে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না ব্রাজিল।   ম্যাচের শেষভাগে একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৬৫ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এনদ্রিক ও রায়ানের গতিময় ফুটবলে ক্রমেই চাপে পড়ে জাপানের রক্ষণভাগ।   ৮৫ মিনিটে রায়ানের ফ্রি-কিক এবং পরে ব্রুনো গিমারাইসের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে অতিরিক্ত সময়ই যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এরই মধ্যে ৮৯ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন কাসেমিরো। তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও।   তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত পাস ধরে জাপানি ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির কিছুই করার ছিল না।   শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি জাপান। ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। নেইমারকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রেখেই গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল তুরস্ক

আগের দুই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ছিল তুরস্কের জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই, আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রুপপর্ব অপরাজিত থেকে শেষ করার সুযোগ।   তবে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে তুরস্ক। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে স্বাগতিকদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে তারা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট, এডওয়ার্ড নর্টন ও ওয়েন উইলসন। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।   ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে কর্নার থেকে পাওয়া বল নিচু শটে জালে পাঠিয়ে গোল করেন সেল্টিকের ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি। এটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ৩০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন ক্লিন্ট ডেম্পসি।   তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। বারিস আলপার ইলমাজের চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে চলতি বিশ্বকাপে দলের প্রথম গোল করেন আরদা গুলের।   এরপর বাঁ দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে অরকুন ককচুর শট বারিস আলপার ইলমাজের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। এই গোলের আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরদা গুলের।   বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলও পায় তারা। ২০ গজ দূর থেকে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।   এরপর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির।   অন্যদিকে তুরস্কও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকে। কেনান ইলদিজের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বারিস আলপার ইলমাজও একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কান উজুনের ছোঁয়া থেকে আসা বল জালে পাঠিয়ে তুরস্ককে ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় এনে দেন কান আয়হান।   এই জয়েও অবশ্য টুর্নামেন্টে তুরস্কের ভাগ্য বদলায়নি। দুই হার ও এক জয় নিয়ে তারা গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।  

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়াম | ছবি: কেরা নিউজ
বিশ্বকাপ ভেন্যুতে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কড়া অবস্থানে এফবিআই

চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম এবং ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকার আকাশে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। ডালাস এফবিআই ইতিমধ্যে ডজন ডজন অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে পাইলট ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। খেলা চলাকালীন এবং এর আগে-পরে স্টেডিয়ামের আশপাশের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় যেকোনো ধরণের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   ডালাস এফবিআইয়ের বিশেষ কর্মকর্তা আর. জোসেফ রথ্রক জানিয়েছেন, গত ১১ জুন থেকে ডালাস স্টেডিয়াম এবং ফেয়ার পার্কের ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তারা এ পর্যন্ত ৫৪টি অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছেন। তিনি জানান, বেশিরভাগ ড্রোন চালকই জানেন না যে খেলা উপলক্ষে সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা (TFR) জারি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে থেকে ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডালাস স্টেডিয়ামের চারপাশের ৩ নটিক্যাল মাইল এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় এই উচ্চতা সর্বোচ্চ ৪০০ ফুট।   এফবিআই জানিয়েছে, আকাশে কোনো ড্রোন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে সেটিকে প্রাথমিকভাবে একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইতিমধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপরাধে লুইস মাউরিসিও ফ্লোরেস অর্ডনিজ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক হন্ডুরান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গত ১৪ জুন জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ঠিক আগে ডালাস স্টেডিয়ামের प्रतिबंधित আকাশসীমায় একটি অবনিবন্ধিত ড্রোন ওড়াচ্ছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।   স্থানীয় পেশাদার ড্রোন চালক এবং 'দ্য ডালাস ড্রোন গাই' নামে পরিচিত ৪২ বছর বয়সী সেথ ব্রুকস অন্য চালকদের এই নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শখের বশে বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ড্রোন ওড়াতে হলেও মার্কিন বিমান প্রশাসন (FAA)-এর লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ড্রোন ওড়ানো লুকিয়ে করা অসম্ভব, কারণ ড্রোন চালু করলেই তার উচ্চতা, ব্যাটারির তথ্য এবং রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ইমেল আকাশে ডিজিটাল সংকেত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, যা সহজেই ট্র্যাক করা যায়।   গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রোন ওড়ালে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা ও ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন সরকার বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ ড্রোন-প্রতিরোধী প্রশিক্ষণ দিয়েছে। স্টেডিয়ামের আশেপাশে কোনো অবৈধ ড্রোন ওড়াতে দেখলে অবিলম্বে তা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ ফুটবল ভক্তদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে এফবিআই।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে বিশ্বকাপের নকআউটে জায়গা করে নিল ইকুয়েডর l ছবি: সংগৃহীত
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ইকুয়েডর

বিশ্বকাপের মঞ্চে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল ইকুয়েডর। ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং নবাগত কুরাসাওয়ের সঙ্গে হতাশার ড্রয়ের পর অনেকেই ইকুয়েডরের বিদায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শক্তিশালী জার্মানদের হারিয়ে ঠিকই রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট আদায় করে নিয়েছে দলটি।   লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্বকাপে এসেছিল ইকুয়েডর। কিন্তু মূলমঞ্চে শুরুতে সেই চেনা ছন্দের দেখা মেলেনি। বিশেষ করে যে কুরাসাওকে জার্মানি ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল, তাদের সঙ্গেই পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল ইকুয়েডরকে। তবে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সেই জার্মানদের হারিয়েই ইতিহাস গড়ল তারা।   এর আগে জার্মানির বিপক্ষে দুবারের দেখায় কখনোই জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। ২০০৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক জার্মানির কাছে ৩-০ এবং ২০১৩ সালের প্রীতি ম্যাচে ৪-০ গোলে হেরেছিল তারা। কাকতালীয়ভাবে সেই ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ ২০ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে পা রাখল ইকুয়েডর।   ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য পিছিয়ে পড়েছিল ইকুয়েডর। দ্বিতীয় মিনিটেই ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে গোল করে জার্মানিকে লিড এনে দেন লেরয় সানে, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৮তম গোল। তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি টানা দুই জয়ে আগেই নকআউট নিশ্চিত করা জার্মানরা। নবম মিনিটে জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে পেদ্রো ভিতে পাস দেন নিলসন আঙ্গুলোকে। বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার এক ড্রিবলিং ও দুর্দান্ত শটে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ইকুয়েডরকে সমতায় ফেরান তিনি।   ম্যাচজুড়ে জার্মানদের রক্ষণে কড়া পরীক্ষা নেওয়া ইকুয়েডর কাঙ্ক্ষিত লিড পায় ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে। গঞ্জালো প্লাতা ইকুয়েডরের হয়ে দলের জয়সূচক গোলটি করেন। কর্নার থেকে উড়ে আসা একটি বল ধরতে ৪০ বছর বয়সী তারকা গোলরক্ষক নয়্যার এগিয়ে এলে তড়িৎ গতিতে বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে ইকুয়েডরের ঐতিহাসিক জয় ও নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেন প্লাতা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বকাপে নিজেদের দল না থাকায় চীনের অনেক মানুষ জাপান দলের সমর্থক হয়ে উঠেছে। ছবিটি জাপানের ম্যাচ চলাকালে সাংহাইয়ের এক বারে তোলা। ছবি : এএফপি
চীনাদের হৃদয়ে জাপান: ফুটবল যেখানে হার মানায় রাজনীতিকে

সাংহাইয়ের একটি স্পোর্টস বারে তখন উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। বিশাল পর্দায় জাপানের আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যেই আয়াসে উয়েদার হেডে বল জড়িয়ে গেল জালে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের চতুর্থ গোল। সঙ্গে সঙ্গে নীল জার্সি পরা সমর্থকদের চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো বার।   দৃশ্যটি হয়তো খুব স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসরে এমন উন্মাদনা প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম ছিল। যারা জাপানের গোল উদযাপন করছিলেন, তারা জাপানি নন; তারা চীনা।   ইতিহাস, রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে চীন ও জাপানের সম্পর্ক কখনোই খুব সহজ ছিল না। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের স্মৃতি, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক নানা উত্তেজনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে সীমান্ত, জাতীয়তা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে।   সাংহাইয়ের সেই সমর্থকগোষ্ঠীর অন্যতম সংগঠক ফ্যান বলেন, তাদের জাপান-প্রেমের উৎস রাজনীতি নয়, শৈশবের স্মৃতি। তার ভাষায়, “আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জাপানি অ্যানিমে দেখে বড় হয়েছি। বিশেষ করে ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই।”   তবে শুধু অ্যানিমেই নয়, জাপানকে সমর্থনের পেছনে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ফ্যানের মতে, জাপান এখন এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে সফল প্রতীক। বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন কোনো এশীয় দল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে, তখন অনেক চীনা সমর্থকও নিজেদের স্বপ্ন ও প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান সেই দলে।   এই অনুভূতির পেছনে বাস্তবতারও ভূমিকা রয়েছে। চীনের ফুটবল এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পায়নি। দেশটি মাত্র একবার, ২০০২ সালে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছিল। সেই আসরে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল এবং একটি গোলও করতে পারেনি। অন্যদিকে জাপান নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলোয়াড় পাঠাচ্ছে এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।   জাপান নিয়ে বই লেখা চীনা লেখক ফু জিনইউর মতে, দেশটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী যুব উন্নয়ন কাঠামো এবং সুসংগঠিত ফুটবল সংস্কৃতি। তার ভাষায়, জাপান এখন এমন একটি দল, যারা ইউরোপীয় মানের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে সক্ষম।   তবে চীনে জাপানকে সমর্থন করা সব সময় সহজ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার কারণে অনেক ভক্তকে সমালোচনা, বিদ্রূপ এবং অপমানের মুখোমুখি হতে হয়। কেউ কেউ তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আখ্যা দেন।   পূর্ব চীনের ৩০ বছর বয়সী আকি ইয়াং জাপান জাতীয় দলকে ঘিরে একটি জনপ্রিয় ফ্যান পেজ পরিচালনা করেন। অনুসারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কটূক্তিও বেড়েছে। তবু তিনি থামেননি। কারণ তার বিশ্বাস, ফুটবল মানুষের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল ভাঙতে পারে।   একই বিশ্বাস পোষণ করেন ফ্যানও। তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি সেতু তৈরি করা।” কথাগুলো হয়তো আদর্শবাদী মনে হতে পারে। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই খেলা এমন অনেক কিছু করতে পারে, যা রাজনীতি পারে না।   এটি অপরিচিত মানুষকে বন্ধু বানায়, প্রতিপক্ষ দেশের পতাকাকেও সম্মান করতে শেখায় এবং কখনো কখনো পুরোনো বৈরিতার মধ্যেও একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করে।   সাংহাইয়ের সেই উচ্ছ্বসিত বিকেল তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের গল্প নয়। এটি এমন এক মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ কখনো কখনো জাতীয়তার চেয়ে আনন্দ, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ভালোবাসা এবং রাজনীতির চেয়ে খেলাকে বড় করে দেখে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
অস্টিন ফ্রাঙ্কলিন (বাঁয়ে) ও কেভিন আকোতো। ছবি: ফক্স
বিশ্বকাপের সব ম্যাচ দেখেই ৫০ হাজার ডলার পাচ্ছেন দুই ফুটবল ভক্ত

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন ছয়টি করে ম্যাচ চলছে। টানা এতগুলো ম্যাচ দেখা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য সেটিই এখন পূর্ণকালীন চাকরি। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ দেখার বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার করে।   মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ানের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ (প্রধান বিশ্বকাপ দর্শক) হিসেবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এই দুই ফুটবলপ্রেমী। নিজেদের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা কথা বলেছেন বিবিসির সঙ্গে।   নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কাচে ঘেরা একটি বিশেষ কিউবিক্যাল। পথচারীরা বাইরে থেকে তাদের দেখতে পারেন, আর ভেতরে বসেই তারা দেখছেন বিশ্বকাপের ম্যাচ।   কাচঘেরা ওই ঘরে রয়েছে রিক্লাইনার চেয়ার, বাদামি চামড়ার সোফা, বড় পর্দার দুটি টেলিভিশন এবং একটি ফুসবল টেবিল। পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা মার্চেন্ডাইজ ও বিভিন্ন ধরনের খাবারও রাখা হয়েছে।   কেভিন বলেন, “বিশ বছর বয়সী একজন তরুণ যেমন স্বপ্নের ঘরের কথা কল্পনা করে, এটি ঠিক তেমনই। একজন ফুটবল ভক্ত হিসেবে আপনি যা যা চাইবেন, প্রায় সবই এখানে আছে।”   ফ্লোরিডায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন কেভিন। অন্যদিকে অস্টিন ফিলাডেলফিয়ার একজন কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সার। হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়ে তারা এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের কাজ শুধু ম্যাচ দেখা নয়, বিশ্বকাপ ঘিরে ভক্তদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা।   বিশ্বকাপের পুরো আসরজুড়ে কাজ চালিয়ে যেতে হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন তারা। কেভিন বলেন, “আমি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, অস্টিনও ক্লান্ত। তাই এই জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” অস্টিনের মতে, অভিজ্ঞতাটি অনেকটা সামার ক্যাম্পের মতো। একেকটি দিন যেন অন্য দিনের সঙ্গে মিশে যায়।   তিনি বলেন, “এটা একটা বিশাল ম্যারাথন। কাজটা শুনতে সহজ—সোফায় বসে ফুটবল দেখা। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ ক্লান্তিকর।”তবে তাদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়ও আছে। শিফট শেষ হওয়ার পর টাইমস স্কয়ারের কাচঘেরা ঘরে থাকতে হয় না। তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন।   এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন কেভিন ও অস্টিন। একদিন আর্জেন্টাইন বারবিকিউ উপভোগ করার সময়ই তারা দেখেছেন লিওনেল মেসির একটি ঐতিহাসিক গোল, যা তাকে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাদের কাজের আরেকটি আকর্ষণ হলো, যেসব দেশের ম্যাচ চলছে, সেসব দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য।   ম্যাচের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গেও সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। টাইমস স্কয়ারে জড়ো হওয়া হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের সঙ্গে কথা বলেছেন। নরওয়ের ভক্তদের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদযাপনও কাছ থেকে দেখেছেন। অস্টিন বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, তাদের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প শোনাই এই কাজের সবচেয়ে আনন্দের অংশ।   তার ভাষায়, “অনেক সময় আমি ভুলেই যাই যে আমি টাইমস স্কয়ারে বসে আছি এবং মানুষ আমাকে দেখছে। ম্যাচে এতটাই ডুবে থাকি যে হঠাৎ চারপাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাই।” বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে দুইজনের মত কিছুটা আলাদা। কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানাকেও সমর্থন করছেন। অস্টিন নরওয়ের সমর্থক। তার মতে, আর্লিং হলান্ডের নেতৃত্বে দলটি শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে।   তিনি বলেন, “স্পেন বা ফ্রান্সের নাম বলা সহজ। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ভাগ্য সহায় হলে নরওয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারে।” এই ব্যতিক্রমী চাকরি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন।নরওয়ের সমর্থক ইমুন্ড লিল্যান্ড ও তার মেয়ে ক্যামিলের মতে, কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া ১০৪টি ম্যাচ টানা দেখা কিছুটা বাড়াবাড়ি। অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী ম্যাথিউ মেন্ডেজ মনে করেন, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।   তবে ২০ বছর বয়সী মিগুয়েল সানচেজের চোখে এটি স্বপ্নের চাকরি। তার মন্তব্য, “বিশ্বকাপ দেখার জন্য টাকা পাওয়া? এটা তো মাঠে গিয়ে খেলা দেখার চেয়েও ভালো। সত্যিই অবিশ্বাস্য!”

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে চাপে ফেলল ব্রাজিল l ছবি: সংগৃহীত
ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে চাপে ফেলল ব্রাজিল

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। আর এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের প্রথমার্ধেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গেছে সেলেসাওরা। বল দখলে স্কটিশরা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের ধার এবং ফিনিশিংয়ে পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই আধিপত্য বিস্তার করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্কটল্যান্ড যেখানে গোলের জন্য নেওয়া কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, সেখানে ব্রাজিলের নেওয়া ১১টি শটের মধ্যে ৩টি অন টার্গেটে ছিল।   ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় ব্রাজিল, যা অনেকটা উপহার হিসেবেই পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। রাফিনিয়ার ইনজুরিতে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানের প্রেসিংয়ে বল হারিয়ে বসেন স্কটিশ সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাককেনা। দুর্বল এই ডিফেন্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান ভিনিসিয়ুস।   স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে অনায়াসে বোকা বানিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোলটি তুলে নেন তিনি। এরপর ২২ মিনিটের মাথায় আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন এই তারকা। তবে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে শট নেওয়ার আগে এক স্কটিশ ডিফেন্ডারকে পেছন থেকে ট্যাকল করায় ভিএআর (VAR) যাচাই শেষে রেফারি গোলটি বাতিল করেন। পিছিয়ে পড়ে স্কটল্যান্ড আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালালেও সেগুলো খুব একটা কার্যকর ছিল না।   বাতিল হওয়া গোলের আক্ষেপ ভিনিসিয়ুস মেটান প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে। অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া ৫ মিনিটের তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের নিখুঁত এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলটি পূরণ করে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে চিরচেনা নাচে মেতে ওঠেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধে ম্যাথিউস কুনহা ও রায়ান নিজেদের পাওয়া দারুণ কিছু সুযোগ হাতছাড়া না করলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিরতির আগেই ব্রাজিলের লিড আরও বড় হতে পারত।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ইরান দলের ভ্রমণ বিধি শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে ইরান। নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলটির সামনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বস্তির খবর পেয়েছে ইরানি ফুটবল দল। তাদের ওপর আরোপিত ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরানের জাতীয় ফুটবল দল এখন তাদের ম্যাচের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচের ক্ষেত্রে দলটিকে কেবল ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে শিথিলতার পরও কিছু বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ শেষে একই দিন দেশ ছাড়তে হবে ইরান দলকে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দলটি বর্তমানে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অবস্থান করছে। সেখান থেকে বুধবার সিয়াটলের উদ্দেশে যাত্রা করবে তারা। বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইরান দলের অংশগ্রহণ ঘিরে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দলটির ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক বাধা দেখা দেয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে। কিন্তু নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া ইরান দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় দলটির প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, শুরু থেকেই ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি বলেন, “প্রথম দুই ম্যাচে তাদের যাতায়াত ও অবস্থান কীভাবে পরিচালিত হয়, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলাম। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এখন দীর্ঘ ভ্রমণ সময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেওয়া হয়েছে।” এদিকে মাঠের লড়াইয়েও ইরানের সামনে বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে জয় পেলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারবে দলটি। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যেও ইরানের পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে ভ্রমণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা, বেস ক্যাম্প পরিবর্তন এবং ভিসা জটিলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও দলটি প্রতিযোগিতায় নিজেদের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। এখন মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে ঘিরে ইরান শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তে দলটির প্রস্তুতি কিছুটা সহজ হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত বাজাতেই দর্শকদের ধিক্কার ও দুয়োধ্বনি

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ 'জি'-এর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। তবে খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামজুড়ে আবারও এক নজিরবিহীন ও বৈরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাঠে যখন ইরানের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হচ্ছিল, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক তীব্র ক্ষোভে দুয়োধ্বনি ও ভুভুজেলা বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের নিজেদের প্রথম ম্যাচেও একই ধরনের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল দলটিকে।   ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের ফিফা ঘোষক উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্য করে ‘শান্তির জন্য হাততালি’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে সেই আহ্বানে খুবই মৃদু সাড়া পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের এই বিশ্বকাপ অভিযান এমন এক সময়ে শুরু হলো যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছেন।   ম্যাচটি শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ জন বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে ইরান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা এই ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখতে চান না, কারণ এতে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করা বোঝাবে। মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর বিপুলসংখ্যক ইরানি নাগরিক দেশ ছেড়ে ফ্লোরিডা ও লস অ্যাঞ্জেলেসে আশ্রয় নেন। বর্তমানে ইরানের বাইরে লস অ্যাঞ্জেলেসকেই ইরানি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় বাসস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শুরু থেকেই দলটির বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে চরম বিতর্ক চলছিল। এর আগে জানুয়ারি মাসে ইরানে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের ওপর সরকারের কঠোর দমনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে সম্প্রতি ইরানি ফুটবল দল তাদের প্রশিক্ষণ শিবির অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া তাদের বেশ কয়েকজন স্টাফকে মার্কিন ভিসা না দেওয়া এবং সমর্থকদের টিকিট বাতিল করার বিষয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন।   ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো মিথ্যা অজুহাতে ইরানি দলকে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে সোমবার সকালে এক জরুরি শুনানির পর ইরানের বিপ্লব-পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক পতাকা স্টেডিয়ামে বহনের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন মার্কিন আদালত। ওই পতাকায় বর্তমান পতাকার মতোই রং থাকলেও মাঝে একটি সিংহ ও সূর্যের প্রতীক রয়েছে, যা দেশটির পূর্ববর্তী শাহ আমলের শাসনের প্রতিনিধিত্ব করে।   ফিফার নিয়মানুযায়ী স্টেডিয়ামের ভেতর যেকোনো ধরনের ‘রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক’ পোশাক এবং পতাকা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে বিচারক কার্টিস কিন তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, বাক-স্বাধীনতা অবশ্যই অত্যন্ত পবিত্র এবং সমাজের অন্যতম ভিত্তি। তবে কোনো বেসরকারি সম্পত্তির ওপর বেসরকারি পক্ষের ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং পূর্ববর্তী মামলার নজির অনুযায়ী এটি একটি যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ। তাই ফিফার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা আবেদনটি খারিজ করা হলো।

তাবাস্সুম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের পর অবসর নিয়ে কোরআনের হাফেজ হতে চান মরক্কোর তারকা ফুটবলার

পেশাদার ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে থাকা একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সাধারণত নতুন চুক্তি, বড় কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া কিংবা আরও শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথা শোনা যায়। কিন্তু মরক্কোর জাতীয় দলের ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউয়ির ভাবনা একেবারেই ভিন্ন। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ধর্মীয় জীবনে আরও বেশি সময় দিতে চান তিনি। এমনকি বিশ্বকাপের পর অবসরের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এই তারকা ফুটবলার।   সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি পডকাস্টে দেওয়া মাজরাউয়ির সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানান, ভবিষ্যতে পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে একজন হাফেজ হতে চান। শুধু তাই নয়, একদিন মসজিদে ইমামতিও করার ইচ্ছা রয়েছে তার। মাজরাউয়ি বলেন, “হয়তো বিশ্বকাপের পর আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবন খুব ছোট। আমি পুরো কোরআন মুখস্থ করতে চাই এবং একদিন মসজিদে ইমাম হতে চাই।”   তার এই বক্তব্য বিশ্বকাপ চলাকালে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ বর্তমানে তিনি মরক্কো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ইউরোপের অন্যতম বড় ক্লাব Manchester United-এর নিয়মিত খেলোয়াড়। ফলে অনেকের কাছেই এমন পরিকল্পনা বিস্ময়কর মনে হয়েছে। মাজরাউয়ি জানান, কোরআন মুখস্থ করার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয় রমজান মাসে। ওই সময় তিনি নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন যে তার জানা সূরার সংখ্যা খুবই সীমিত।   এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নামাজে আমি কয়েকটি নির্দিষ্ট সূরা পড়তাম। পরে উপলব্ধি করি, আমি আসলে খুব কম সূরা জানি। বিষয়টি আমাকে ভাবতে বাধ্য করে। তখনই আমি কোরআন মুখস্থ করার সিদ্ধান্ত নিই।” মরক্কোর এই ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার জীবনে ধর্মই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফুটবল, খ্যাতি কিংবা পেশাগত সাফল্যের আগে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে স্থান দেন।   তার ভাষায়, “আমার জীবনের এক নম্বর বিষয় হলো আমার ধর্ম। জীবনে যখন কিছু পরিকল্পনামতো হয় না, তখন ধর্ম আমাকে শক্তি দেয়। এটি আমাকে পথ দেখায় এবং কঠিন সময়ে স্থির থাকতে সাহায্য করে।” বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম নায়ক মাজরাউয়ি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। সেই অভিযানে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।   চলমান বিশ্বকাপেও নিয়মিত মাঠে দেখা যাচ্ছে তাকে। ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর দুটি ম্যাচে মোট ১৭০ মিনিট খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল। নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া মাজরাউয়ি ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি খেলেছেন AFC Ajax-এ। পরে যোগ দেন FC Bayern Munich-এ। বর্তমানে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন এবং ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।   তবে পেশাদার ফুটবলে এখনও অনেক বছর খেলার সুযোগ থাকলেও মাজরাউয়ির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। বিশ্বকাপের পর তিনি সত্যিই অবসরের সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআন মুখস্থ করার স্বপ্ন যে তার জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে, সে বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
চাকরির দ্বিতীয় দিনেই গাড়িচাপায় নিহত বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামের দায়িত্বে থাকা ২২ বছরের নিরাপত্তারক্ষী

যুক্তরাষ্ট্রের সোফাই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে মাত্রই নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন অ্যারন এভারি নামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণ। কিন্তু সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভ্যান নেস অ্যাভিনিউ দিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে তিনি গাড়িচাপার শিকার হন এবং এর পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার দিনটি ছিল তার নতুন চাকরির মাত্র দ্বিতীয় দিন।   এভারির অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। তার খালা নরমা কুইন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, এমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা তাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। তবে এই শোকের মাঝেও শনিবার আজুসার 'ওয়ানলিগ্যাসি' হাসপাতালে এক আবেগঘন পরিবেশে স্বজনরা এভারির মরণোত্তর অঙ্গদানের মহৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।   চিকিৎসকেরা যখন তার মরদেহ অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন হাসপাতালের কর্মীরা দুপাশে দাঁড়িয়ে এই তরুণকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। জানা গেছে, এভারির হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, লিভার এবং কিডনি দান করা হয়েছে, যা অন্তত আটজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সক্ষম বলে জানিয়েছে ওয়ানলিগ্যাসি কর্তৃপক্ষ।   ওয়ানলিগ্যাসির কর্মকর্তা ব্লাঙ্কা কোহেন জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক লাখেরও বেশি এবং কেবল ক্যালিফোর্নিয়াতেই প্রায় ১৯ হাজার মানুষ জীবন রক্ষাকারী অঙ্গের জন্য অপেক্ষায় আছেন। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি প্রকট।   পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জাতীয় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রোগীদের ২৭ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ, অথচ নিবন্ধিত দাতাদের মধ্যে তাদের হার মাত্র ১৫ শতাংশ। চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি ঐতিহাসিক আস্থাহীনতাকেই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।   এদিকে, প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোর চূড়ান্ত বেদনার মাঝেও তার অঙ্গ দিয়ে অন্য কারও জীবন বাঁচার সম্ভাবনায় কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজছে এভারির পরিবার। কুইন ভারাক্রান্ত মনে মজা করে বলেন, গ্রহীতারা হয়তো এভারির অঙ্গ পেয়ে তার মতোই গেমার হয়ে উঠবেন। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, এভারিকে চাপা দেওয়া গাড়িচালককে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে এবং সে সম্ভবত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় (ডিইউআই) গাড়ি চালাচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নিহতের চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে বর্তমানে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) তহবিল গঠন করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইকুয়েডরকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কুরাসাও

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর কুরাসাওকে নিয়ে খুব বেশি আশা ছিল না কারও। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে এমন একটি হতাশাজনক শুরুর পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, পরের ম্যাচগুলোতেও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটির জন্য।   কিন্তু ফুটবল যে অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই আবারও প্রমাণ করল কুরাসাও। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে তারা। রোববার (২১ জুন) কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ইকুয়েডরের। বলের দখল, আক্রমণের সংখ্যা এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি দলটি।   ইকুয়েডরের গোল না পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিলেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম। পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন তিনি। ম্যাচে মোট ১৫টি সেভ করেন রুম, যা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলকিপিং প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দূরপাল্লার শট, কাছ থেকে নেওয়া ফিনিশিং কিংবা হেড, সব ধরনের প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক।   দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেও তারা কুরাসাওয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এলয় রুম। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বাধিক সেভের রেকর্ড এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৫টি সেভ করে সেই রেকর্ডের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন রুম।   ম্যাচের আগে কাগজে-কলমে পরিষ্কার ফেবারিট ছিল ইকুয়েডর। বিশ্বকাপে তাদের অভিজ্ঞতা, খেলোয়াড়দের মান এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। তবে কুরাসাও মাঠে নেমে ভিন্ন এক গল্প লিখেছে। দলটির খেলোয়াড়রা শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন।   এই ড্র কুরাসাওয়ের জন্য শুধু একটি পয়েন্ট নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষ। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফল অর্জন করল তারা। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়া কুরাসাও ফুটবলের জন্যও একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।   অন্যদিকে ইকুয়েডরের জন্য এটি বড় ধাক্কা। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারিয়েছে দলটি। পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েও গোল করতে না পারার হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। শেষ বাঁশি বাজার পর কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, এই ড্র তাদের কাছে কতটা মূল্যবান। জয়ের সমান আনন্দ নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি।   আর সেই ঐতিহাসিক ফলের নায়ক একজনই, গোলরক্ষক এলয় রুম। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের নাম স্মরণীয় করে রাখল কুরাসাও।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
সমালোচনার জবাবে যা বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   পর্তুগালের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচের শুরুতে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে বিরতির আগেই ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদো পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে থাকেন।   ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ। তিনি মাত্র ২৫টি টাচ করতে সক্ষম হন। তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে ছিল না। ফলে তার শুরুর একাদশে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থকদের একটি অংশ।   তবু এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার হিসেবে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩, যা পর্তুগালের সর্বোচ্চ।   ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো বলেন, শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তবে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। কিন্তু এটা এখনো শেষ হয়নি। মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।”   রোনালদোর এই বার্তাকে সমর্থকরা দলকে মানসিকভাবে চাঙা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ গোলদাতাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া যুক্তিসংগত নয়, কারণ গোলের প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।   পর্তুগাল এখন গ্রুপ পর্বে পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে আবর্জনা পরিষ্কার, কিন্তু ঘরের কাজে নয়? ভাইরাল মিমে জাপানি পুরুষদের কটাক্ষ

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে জাপানি সমর্থকদের একটি পরিচিত দৃশ্য আবারও আলোচনায় এসেছে। খেলা শেষে স্টেডিয়ামে পড়ে থাকা আবর্জনা নিজেরাই পরিষ্কার করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা। তবে এবার সেই প্রশংসার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ভিন্ন ধরনের বিতর্ক।   নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপানের বিশ্বকাপ ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা যায় জাপানি সমর্থকদের। বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে তাদের এই আচরণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হয়ে আসছে। দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণের উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই তাদের উল্লেখ করা হয়।   কিন্তু এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে একদিকে দেখা যায়, একজন জাপানি ফুটবল সমর্থক স্টেডিয়ামের আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। অন্যদিকে একটি ঘরোয়া দৃশ্যে একজন নারী বাসন ধুচ্ছেন, আর জাতীয় দলের জার্সি পরা একজন পুরুষ সোফায় আরাম করে বসে আছেন।   ছবিটির নিচে লেখা ছিল, “অনুগ্রহ করে ঘরেও এটি করুন।” সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই মিমটি হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে। অনেকেই এটিকে জাপানি সমাজে গৃহস্থালি কাজের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।   মিমটির মূল বার্তা হলো, স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার মতো দায়িত্বশীল আচরণ যদি প্রশংসার যোগ্য হয়, তাহলে একই দায়িত্ববোধ ঘরের কাজেও দেখা উচিত। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাজার করা, শিশু লালন-পালন এবং অন্যান্য অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের ক্ষেত্রে পুরুষদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।   অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি কাজের ক্ষেত্রে জাপানি পুরুষদের অংশগ্রহণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিচের দিকে রয়েছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও সরকারি তথ্য বলছে নারী ও পুরুষের মধ্যে গৃহস্থালি কাজের ব্যবধান এখনও উল্লেখযোগ্য।   জাপান সরকারের ২০২১ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, পুরুষরা দৈনিক গড়ে ৫১ মিনিট গৃহস্থালি ও পরিচর্যাসংক্রান্ত কাজে ব্যয় করেন। অন্যদিকে নারীরা একই ধরনের কাজে প্রতিদিন গড়ে ৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট সময় দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়লেও পরিবারে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে এখনও ঐতিহ্যগত ধ্যানধারণার প্রভাব রয়েছে। ফলে অনেক পরিবারে গৃহস্থালি কাজের বড় অংশ নারীদের ওপরই থেকে যায়।   সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাল হওয়া এই মিমটি কেবল একটি হাস্যরসাত্মক ছবি নয়; বরং এটি জাপানি সমাজে লিঙ্গভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।   এদিকে অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী মনে করেন, স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার জন্য জাপানি সমর্থকদের প্রশংসা করা উচিত, তবে একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।   বিশ্বকাপের মাঠে জাপানি সমর্থকদের ইতিবাচক আচরণ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি একটি ভাইরাল মিম দেশটির সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। ফলে ফুটবল মাঠের বাইরেও জাপানের সমাজব্যবস্থা ও পারিবারিক সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেসির জাদুতে মুগ্ধ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা, ব্রাজিল দলে খেলার রসিকতাও করলেন

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।   সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেসির বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাস্যরসের ভঙ্গিতে লুলা বলেন, তিনি মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর জন্য সই করানোর কথা ভাবছেন।   ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এটি রসিকতা হিসেবে বলা, তবুও মেসির পারফরম্যান্স যে প্রতিপক্ষ দেশের নেতাদেরও মুগ্ধ করছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লুলার বক্তব্যে।   এদিকে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ব্রাজিল ড্র দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। এই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন লুলা। তিনি বলেন, স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছে, সেটি আরও খারাপ ফলাফল।   এবারের বিশ্বকাপ মেসির জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছে। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার পাশে বসিয়েছে সর্বাধিক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে।   আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২২ জুনের ওই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে মেসির দল।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভিসা জটিলতা শেষে স্বস্তি, বিশ্বকাপে ছেলেকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মা

কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার (Vozinha) মা শেষ পর্যন্ত তার ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আগেই তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   বুধবার এক বিবৃতিতে জেফ্রিস জানান, ভোজিনিয়ার মায়ের ভিসা দ্রুত ইস্যু করা হবে এবং সব ধরনের ফি মওকুফ করা হয়েছে। ফলে তিনি আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন।   তিনি আরও বলেন, “সব ফি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মওকুফ করা হয়েছে। এখন মা ও ছেলের পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেয়া শহরের ভিসা টিম ভোজিনিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।   এর আগে ভোজিনিয়া জানান, তার মা ভিসা সংক্রান্ত খরচ ও বন্ডের কারণে আগের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের মধ্যে একটি, যাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ভিসা বন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান না ছাড়ার উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই নিয়ম চালু রয়েছে।   তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসা বন্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এর আওতায় খেলোয়াড়, কোচ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভোজিনিয়ার মায়ের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন বা সক্রিয় প্রক্রিয়ার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।   ভোজিনিয়া সম্প্রতি বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি সেভ করেন এবং দলের ঐতিহাসিক ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের খেলোয়াড়ি জীবন মূলত পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঘিরে।   ম্যাচ শেষে তার পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে কেপ ভার্দে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকো ম্যাচের আগে ফিফার স্পন্সর হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একটি বিতর্কিত খনি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের জেরে দক্ষিণ কোরিয়ান এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা শহরে বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশবাদী সংগঠন 'মাইটি আর্থ'-এর ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে ‘নোংরা স্টিল সরবরাহ চেইনের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। হুন্দাই মূলত দক্ষিণ আমেরিকার খনি কোম্পানি 'টার্নিয়াম' থেকে ইস্পাত তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ আকরিক লোহা কেনে। এই টার্নিয়াম কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি মেক্সিকোর দুজন মানবাধিকার কর্মীকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং মেক্সিকোর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নিখোঁজ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের দাবিতে গুয়াদালাজারার প্লাজা দে লা লিবেরাসিওনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।   জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে টার্নিয়াম কোম্পানির গ্রামীণ এলাকা ধ্বংসের নীতির তীব্র সমালোচনা করার পর গুয়াদালাজারা থেকে দুজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তারা হলেন—বিখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী রিকার্ডো আরতুরো লাগুনেজ গাসকা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা আন্তোনিও দিয়াজ ভ্যালেন্সিয়া। খনি বিরোধী এক সভা থেকে ফেরার পথে তারা নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি মহাসড়কের পাশে গুলিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আন্দোলনকারীরা হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে 'স্পোর্টসওয়াশিং' বা খেলাধুলার আড়ালে অপরাধ ঢাকার অভিযোগ এনেছেন এবং টার্নিয়াম কোম্পানিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর দাবি তুলেছেন।   হুন্দাই এবং কিয়া বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার হিসেবে কাজ করছে। তারা খেলোয়াড়, রেফারি এবং কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে প্রায় ১ হাজার গাড়ি এবং ৫০০টিরও বেশি বাস সরবরাহ করেছে। বিশ্বকাপের মেক্সিকো অংশে এই বিক্ষোভ বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচের দিনও মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামের বাইরে আন্দোলনরত শিক্ষকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলেন।   অবশ্য টার্নিয়াম মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই গুমের ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা সবসময় আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে এই বিক্ষোভের বিষয়ে হুন্দাই কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তাবাস্সুম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে জয়ের পর জার্মান শিবিরে উদ্বেগ, ক্যাম্পে বিষধর ‘কপারহেড’ সাপের উপস্থিতি

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করার পর জার্মান জাতীয় দলের শিবিরে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার উইনস্টন-সালেমে অবস্থিত দলের বেস ক্যাম্পে বিষধর ‘কপারহেড’ সাপের উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।   জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ক্যাম্পের ভেতরে একটি বিষাক্ত সাপ দেখা যাওয়ার পর থেকে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “গতকালই আমরা আমাদের ক্যাম্পের ভেতর একটি সাপ দেখতে পাই। পরে আমাদের জানানো হয় যে সেটি বেশ বিষাক্ত ছিল। এর কামড় খেলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটতে হবে। এরপর থেকেই সবার মাঝে ভয় কাজ করছে।”   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাম্পে দেখা পাওয়া সাপটি ছিল ‘কপারহেড’ প্রজাতির। এই বিষাক্ত সাপটি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঞ্চলে সাধারণত দেখা যায়। রাজ্যটিতে প্রায় ৩৭ প্রজাতির সাপের বসবাস রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।   কিমিখ আরও বলেন, এই পরিস্থিতি মাঠের প্রস্তুতির বাইরেও খেলোয়াড়দের বাড়তি সতর্কতায় রাখতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো আসরে সাধারণত কৌশল, ইনজুরি আর পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিয়েই খেলোয়াড়রা চিন্তা করে। কিন্তু এখানে মাঠের ঘাসে কী আছে, সেটাও ভাবতে হচ্ছে।”   তিনি জানান, সাপটি বিষাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে পুরো দলই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়রা এখন মাঠে পা ফেলার আগে আশপাশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।   জার্মানি তাদের পরবর্তী ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মাঠের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের ক্যাম্প নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জে থাকবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক! আলজেরিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিলেন মহাতারকা

ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনার তিনটি গোলই এসেছে মেসির পা থেকে, আর তাতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।   বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড, শিরোপা ও ব্যক্তিগত অর্জনের মালিক হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি তিনি। অবশেষে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে সেই অপূর্ণতাও দূর করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বিরতির পরও তার দুর্দান্ত ছন্দ অব্যাহত থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ বারবার চেষ্টা করেও তাকে থামাতে পারেনি।   এই ম্যাচটি মেসির জন্য আরও একটি বিশেষ উপলক্ষ হয়ে এসেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে তিনি আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি একটি বিরল অর্জন, যা তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও আরও বাড়িয়েছেন মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনাকে শিরোপার স্বাদ দেওয়া এই তারকা ২০২৬ বিশ্বকাপেও একইভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ৩৮ বছর বয়সেও তার ফিটনেস, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং গোল করার দক্ষতা ফুটবলবিশ্বকে মুগ্ধ করছে।   ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মেসির এই কীর্তি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই এটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করছেন।   বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারের আসরেও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। আর প্রথম ম্যাচেই অধিনায়কের এমন ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স দলটির সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, সময়ের সঙ্গে তার প্রতিভার দীপ্তি কমেনি; বরং নতুন নতুন অর্জনে আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে তার কিংবদন্তির গল্প।   তবে ম্যাচটি চলমান থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরিসংখ্যান ম্যাচ শেষে পরিবর্তিত হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে | ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন ও ফিফার নতুন নিয়মে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন এক অন্যরকম ডায়াসপোরা টুর্নামেন্ট

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে অভিবাসন এবং ঔপনিবেশিক সম্পর্ক খেলোয়াড়দের জাতীয় পরিচয় নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া জর্জ মুরহাউস ইংল্যান্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার প্রথম ঘটনা। সেই আসরে মার্কিন দলে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আরও পাঁচজন ফুটবলার ছিলেন, যারা তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বকাপেও এই চিত্র আরও ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে বহু খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় এক দেশে হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা অন্য দেশে।   এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৯২ জনই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করা দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মাত্র আটটি দল ছাড়া বাকি সব দলের স্কোয়াডেই অন্তত একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কুরাসাও, যাদের স্কোয়াডের একজন ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে মরক্কো ও কাতারের মতো দলগুলো প্রকৃত অর্থেই বহুজাতিক রূপ ধারণ করেছে, যেখানে ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই দেশের বাইরে জন্মেছিলেন।   বিশ্ব ফুটবলে খেলোয়াড় সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৯৮ জন ফরাসি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৭৬ জনই ফ্রান্সের বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে আলজেরিয়া, যাদের দলে সর্বোচ্চ ১৩ জন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে হাইতি, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সেনেগাল দলের ১০ জন খেলোয়াড় ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করলেও পারিবারিক শিকড়ের টানে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের দেশের হয়ে মাঠে নামছেন।   ফিফার জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়মে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। নাগরিকত্বের পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্মসূত্র অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে ন্যূনতম পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়। ২০০৪ সালের আগে বয়সভিত্তিক দলে খেললে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে শর্তসাপেক্ষে ২১ বছর বয়সের আগে একবার জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০২০ সালে এই নিয়ম আরও শিথিল করা হয়, যার ফলে দিয়েগো কস্তা বা ডেকলান রাইসের মতো তারকারা প্রীতি ম্যাচ খেলার পরও অন্য দেশের জাতীয় দলকে বেছে নিতে পেরেছেন।   খেলোয়াড়দের এই জটিল আন্তর্জাতিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্পেনে জন্ম নেওয়া মুনির আল হাদ্দাদির মামলাটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ২০১৪ সালে স্পেনের হয়ে মাত্র ১৩ মিনিট খেলার কারণে মরক্কোর হয়ে তার খেলার আবেদন প্রথমে বাতিল হলেও ২০২০ সালের নতুন নিয়মে তিনি খেলার অনুমতি পান। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২১ বছরের আগে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললেও তিন বছর অপেক্ষা করে একবার জাতীয়তা পরিবর্তন করা যাবে। তবে শুধুমাত্র খেলার উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব কেনা যাবে না, খেলোয়াড়কে দেশের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে।   বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রতিভাদের খুঁজে বের করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ স্কাউট নিয়োগ করছে। তারা ট্রান্সফার মার্কেটের মতো ডাটাবেস ব্যবহার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, লিংকডইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করছে। এমনকি জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ফুটবল ম্যানেজার’-এর ডেটা ব্যবহার করে চিলির ফুটবল ফেডারেশন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বেন ব্রেরেটন দিয়াজের মায়ের চিলিয়ান নাগরিকত্বের তথ্য খুঁজে বের করে। জন্মভূমি ও পূর্বপুরুষের দেশের মধ্যকার এই টানাপোড়েনই আধুনিক বিশ্বকাপকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য বহুজাতিক মঞ্চে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে নেইমার-ভিনিসিয়ুসকে ‘এলিয়েন অপহরণ করবে’, ব্রাজিলীয় জ্যোতিষীর দাবি ঘিরে তোলপাড়

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের এক আধ্যাত্মিক গুরু ও জ্যোতিষী দাবি করেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ভিনগ্রহী প্রাণীদের আগমন ঘটতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে শত শত মানুষ নিখোঁজ হতে পারেন।   ব্রাজিলে ‘ভো বাহিয়ানা’ নামে পরিচিত এই নারী জ্যোতিষীর প্রকৃত নাম এলিসাঞ্জেলা দে সুজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত জ্যোতিষশাস্ত্র, ট্যারোট পাঠ এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, কয়েকবার একই ধরনের স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ চলাকালে আকাশ থেকে বিশাল মহাকাশযান নেমে আসে।   তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি ছোট মহাকাশযান মাঠের কিছু খেলোয়াড়কে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আরও বড় একটি মহাকাশযান বা ‘মাদারশিপ’ এসে স্টেডিয়ামের আশপাশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে নিজেকেও সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দেখেছেন।   ভো বাহিয়ানা আরও বলেন, তার দেখা দৃশ্যগুলোতে দুই ধরনের ভিনগ্রহী প্রাণী ছিল। একদলকে তিনি শান্ত ও উন্নত বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে আরেক দলকে তিনি আক্রমণাত্মক ও সরীসৃপ-সদৃশ প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করেন, যাদের আচরণ ছিল ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক। তার দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৬ সালের ২৪ অথবা ২৬ জুনের দিকে ঘটতে পারে। তিনি তার অনুসারীদের ওই সময় মায়ামির স্টেডিয়াম এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন।   ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্রাজিল জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের নামও উঠে এসেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো ফুটবলাররাও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন। পাশাপাশি স্কটল্যান্ড দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, পৃথিবীতে ভিনগ্রহী প্রাণীর উপস্থিতি বা মানুষের অপহরণের মতো ঘটনার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এ ধরনের দাবিকে বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থন করার সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অস্বাভাবিক ও চমকপ্রদ দাবি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বপ্ন, কল্পনা বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার বর্ণনা বাস্তব ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে প্রচারিত হয়। কিন্তু সেগুলোকে যাচাইযোগ্য তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক নয়।   এদিকে এই ভবিষ্যদ্বাণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে নিছক কল্পকাহিনি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া আরেকটি ভাইরাল আলোচনার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছেন। অনেক ব্যবহারকারী হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করে লিখেছেন, যদি সত্যিই ভিনগ্রহীরা পৃথিবীতে আসে, তবে তারা হয়তো ফুটবল ম্যাচ দেখতেই আসবে।   বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রতি আসরেই নানা গুজব, ভবিষ্যদ্বাণী ও আলোচনার জন্ম হয়। তবে মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে এলিয়েন আগমন এবং গণ-অপহরণের এই দাবি এখন পর্যন্ত কেবল একটি ব্যক্তিগত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, সরকারি সতর্কতা বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০