মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান উন্মোচন করেছেন, যা এখন থেকে তাঁর সরকারি বাহন বা 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' হিসেবে ব্যবহৃত হবে। গত বছর কাতার সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিলাসবহুল বিমানটি গ্রহণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের উপকণ্ঠে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের একটি হ্যাঙ্গারে বিশাল এই বিমান থেকে নেমে এসে ট্রাম্প বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং উপস্থিত সামরিক সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
নতুন এই বিমানটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এর মতো অনন্য বিমান সম্ভবত আর দ্বিতীয়টি তৈরি হবে না। আগের বিমানের চেয়ে আকারে বেশ বড় হওয়ায় এটি রাখার জন্য সম্পূর্ণ নতুন ও বিশেষ একটি হ্যাঙ্গার নির্মাণ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেন, আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে ওয়াশিংটনের আকাশে এক বিশাল ফ্লাইওভারে নেতৃত্ব দেবে বিমানটির এই নতুন সংস্করণ।
মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের বাহন হিসেবে চূড়ান্তভাবে ব্যবহৃত হওয়ার আগে বিমানটি শিগগিরই এর 'চূড়ান্ত পরীক্ষা' বা কমিশনিং ফ্লাইটে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে বিমানটিতে লাল, সাদা ও নীল রঙের নতুন প্রলেপ দেওয়া হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার জন্য এতে যুক্ত করা হয়েছে সামরিক পর্যায়ের অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি। তবে বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা নান্দনিকতার চেয়ে আভিযানিক নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় এর ভেতরের মূল নকশা, বিলাসবহুল চামড়ার আসন এবং কাঠের প্যানেলিংয়ে খুব একটা পরিবর্তন আনা হয়নি।
গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসা সামরিক গ্রেডের ৭৪৭-২ বিমানটির জায়গা নেবে নতুন এই এয়ার ফোর্স ওয়ান। বিদেশি সরকারের কাছ থেকে এত দামি উপহার নেওয়ায় স্বার্থের সংঘাত বা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে যে সমালোচনা উঠেছিল, তা আগেই কড়া ভাষায় নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যেখানে বিনা খরচে এমন একটি আধুনিক বিমান পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অযথাই সামরিক বাহিনী ও জনগণের করের শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ করার কোনো মানে হয় না। জানা গেছে, ২০২৮ সালে বিমানবাহিনীর কাছে বোয়িংয়ের নতুন বহর হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত কাতারের দেওয়া এই বিমানটিই মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রধান বাহন হিসেবে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
বৃহস্পতিবার মস্কোর একটি প্রধান তেল শোধনাগারে ভুলবশত আঘাত হেনেছে রাশিয়ারই একটি দিকভ্রান্ত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র। এর ফলে শোধনাগারটির বিশাল ছাদ 'উড়ন্ত সসারের' মতো শূন্যে উড়ে যায়, যা একটি বিস্ময়কর ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশে থাকা ইউক্রেনের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া রাশিয়ার সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সরাসরি শোধনাগারের স্টোরেজ ট্যাংকে আঘাত হানে। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ট্যাংকের গোলাকার ছাদটি মাশরুম আকৃতির ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি করে আকাশে উড়ে যায় এবং পরে মাটিতে আছড়ে পড়ে। স্ব-নির্বাসিত রুশ সামরিক বিশ্লেষক ইয়ান মাতভিভের টেলিগ্রামে পোস্ট করা ক্লিপ অনুসারে, রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই শোধনাগারটি ইউক্রেনের হামলার কারণে আগে থেকেই জ্বলছিল এবং সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই মিসাইলটি আঘাত হানে। এই স্থাপনাটি মস্কো অঞ্চলের মোট জ্বালানি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি সরবরাহ করে থাকে এবং গত মঙ্গলবারও এখানে হামলা চালানো হয়েছিল। ভুলের এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর মস্কো কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, "মস্কোয় তেলজাত পণ্যের সরবরাহ এবং শহরের সমস্ত গ্যাস স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।" যুদ্ধের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা হিসেবে ইউক্রেন যখন রুশ রাজধানীর দিকে আক্রমণ শানিয়েছিল, তখনই এই ভুলের ঘটনা ঘটে। শোধনাগার ধ্বংসের এই ঘটনা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য সর্বশেষ অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে কিয়েভের একটি ঐতিহাসিক মঠে ক্রেমলিনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। মস্কোর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউক্রেন বারবার রাশিয়ার তেল অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ইউক্রেনের সর্বশেষ এই হামলার বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, "যদি ইউক্রেন পোড়ে, তবে আপনাদের মস্কোও পুড়বে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করার কিয়েভের যে প্রচেষ্টা, এই হামলা তারই অংশ। তিনি বলেন, "আগ্রাসন শেষ করার সময় এসেছে, এই যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে।" এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে তাঁর একটি "গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় কল" হয়েছে এবং এই সপ্তাহে জি৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনে মিত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সমর্থন নিশ্চিত করেছেন তিনি। ইউক্রেনের হামলার জবাবে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মস্কো এর পাল্টা জবাব হিসেবে নিজেদের হামলা আরও জোরদার করবে। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক মন্তব্যে ভোলোদিন বলেন, "তাদের এই পদক্ষেপ আমাদের পাল্টা ব্যবস্থা নিতে এবং আরও শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে কঠোরতর আঘাত হানতে বাধ্য করবে।" কট্টর জাতীয়তাবাদী ও মিডিয়া মুঘল কনস্ট্যান্টিন মালোফেয়েভ রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে এর জবাব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং "ভদ্রলোকের মতো" যুদ্ধ করার জন্য ক্রেমলিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মালোফেয়েভ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, "যুদ্ধ মানে যেকোনো মূল্যে বিজয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের পূর্বপুরুষরা পুরো দেশের শক্তিকে একত্রিত করে ঠিক এই উদ্দেশ্যেই অর্থাৎ জেতার জন্যই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও মজুত করেছিলেন, এখন সেগুলো ব্যবহারের সময় এসেছে।" চলতি মাসের শুরুতে পুতিনের নিজ শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ একটি গুরুতর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। এই হামলার সময় তিনি অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) নেতাদের সাথে দেখা করতে মস্কো থেকে প্রায় ৪৩০ মাইল পূর্বে কাজানে অবস্থান করছিলেন। সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
লেবাননের ভূখণ্ড ও সাধারণ মানুষকে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ইসরাইলের বিরুদ্ধে গত ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের তীব্র অভিযোগ এনেছে। হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাতৃভূমি রক্ষায় যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের যোদ্ধারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া ওই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী প্রতিরোধ বাহিনী’ শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং নিজেদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষায় তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসরাইল যে অভিযোগ তুলেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা আখ্যা দিয়ে দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহ জোর দিয়ে বলেছে, ইসরাইলি শত্রু পক্ষ বাস্তবে কখনোই কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত বা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেনি। এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, যতদিন প্রয়োজন মনে হবে ততদিন ইসরাইলি সেনারা লেবাননের মাটিতে অবস্থান করবে। সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার জন্য গোষ্ঠীটিকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে বলেও তিনি কড়া ভাষায় প্রতিজ্ঞা করেন। এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) লেবাননে সব ধরনের সামরিক অভিযান ও সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি উদ্যোগের তোয়াক্কা না করেই ঘোষণা দিয়েছে যে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা ও তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইসরাইলের বিমান ও স্থল অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাঠপর্যায়ে বিবদমান দুই পক্ষের এমন অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একদিকে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এবং অন্যদিকে চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরাইলের অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে এই অঞ্চলে বড় ধরনের মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের শঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের একটি ছবি তোলার জন্য মেলোনি তার কাছে ‘মিনতি’ করেছিলেন—ট্রাম্পের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জের ধরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে নির্ধারিত তার মার্কিন সফর বাতিল ঘোষণা করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, এই প্রকাশ্য বিরোধের মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জর্জিয়া মেলোনিকে বেশ আন্তরিকভাবে সোফায় বসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল এবং মেলোনি তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সম্মেলন শেষে ইতালির ‘লা সেভেন’ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য রীতিমতো মিনতি করেছিলেন এবং দয়া পরবশ হয়ে তিনি সেই অনুরোধে রাজি হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালীয় ভাষায় ডাব করে প্রচার করার পর পুরো ইতালিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের সাত মিলিয়ন অনুসারীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে তিনি স্তব্ধ। মেলোনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিত্রদের সাথে এমন আচরণ করছেন। ট্রাম্পের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এমন দৃঢ়তা দেখাতে পারেন না, উল্টো সেসব দেশের স্বৈরশাসকদের প্রতি তাকে অনেক বেশি নমনীয় দেখা যায়। একই সাথে ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি নিজে বা ইতালি রাষ্ট্র—কেউ কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা মিনতি করে না। এই ঘটনার পর ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জোয়ার বইছে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেন্সি বলেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সাথে এমন অহংকারী ভাষায় কথা বলার অধিকার কারও নেই। অন্যদিকে ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা কখনোই জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের মূল্যে হওয়া উচিত নয়। মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি'-র সিনেট নেতা লুসিও মালান বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত তার নিজের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করছে এবং ওয়াশিংটনের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেলোনির ‘না’ বলার সাহসী অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সুর মিলিয়ে মেলোনির সরকারি মিত্র মাত্তেও সালভিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেলোনির ওপর আক্রমণ মানে পুরো ইতালির ওপর আক্রমণ। ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া জর্জিয়া মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলো তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু মনে করত। তবে ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করায় গত এপ্রিল মাস থেকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। এছাড়া, সম্প্রতি পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তিকর মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি, যা দুই নেতার বর্তমান বৈরিতাকে আরও উসকে দিয়েছে।