নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সব রাজনৈতিক দলই এখন মাঠে নেমে প্রচারে ব্যস্ত। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা—কোথাও চলছে সভা-সমাবেশ, কোথাও কর্মসূচি, কোথাও আবার ডিজিটাল প্রচার। এই নির্বাচনী মাঠে এখন আর ক্ষমতাসীন দল কিংবা বিরোধী দল—এমন কোনো স্পষ্ট বিভাজন চোখে পড়ে না।
আগে ক্ষমতাসীনেরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা বলত, আর বিরোধীরা বলত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির কথা। এবার সবাই যেন এক লাইনে—সবার মুখেই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি।
নির্বাচন কমিশনও বসে নেই। তারা নিয়মিত প্রস্তুতির কথা জানাচ্ছে, আর সরকার বলছে—সংবিধান অনুযায়ী সময়মতো নির্বাচন আয়োজনই তাদের অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যেও নির্বাচনী প্রস্তুতি কম নয়। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচনী মাঠের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের বাধা দেওয়া কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘র্যাগিং’-এর চেষ্টা করা হলে সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টার বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।
এই চিত্র দেখে স্বাভাবিকভাবেই মনে হওয়ার কথা—দেশ নির্বাচনের পথেই এগোচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। জনমনে এখনো রয়ে গেছে গভীর সংশয়। অনেক মানুষ প্রকাশ্যেই বলছেন—নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা নিয়েই তাঁরা নিশ্চিত নন। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, নির্বাচন হলেও সেটি হবে কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
প্রশ্ন হলো, এত আয়োজনের মধ্যেও কেন জনমনে এত অনিশ্চয়তা?
নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে যে সারমর্ম পাওয়া যায়, তা হলো—এই সংশয়ের পেছনে প্রথম এবং সবচেয়ে বড় কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা। সাম্প্রতিক কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের স্মৃতি মানুষের মন থেকে এখনো মুছে যায়নি। ভোট দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়া, ভোটের আগেই ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার অভিযোগ, বিরোধী প্রার্থীদের মাঠে টিকে থাকতে না পারা—এসব অভিজ্ঞতা মানুষের মধ্যে নির্বাচনের প্রতি এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করেছে। ফলে নতুন করে নির্বাচন এলেই মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়ছে।
এর পেছনে বাস্তব কারণও আছে। নির্বাচন শুধু একটি দিনের ঘটনা নয়; এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিবেশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ লক্ষ্য করছে, রাজনৈতিক উত্তাপ থাকলেও আস্থার জায়গাটি এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। মাঠে দলগুলো সক্রিয় থাকলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই মাঠ কি সবার জন্য সমান? মতপ্রকাশ, সভা-সমাবেশ, প্রচারণা—সব ক্ষেত্রে কি সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মানুষ এখনো পাচ্ছে না বলেই মনে হচ্ছে। দু-একটি দলের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগও উঠেছে।
আরেকটি বড় বিষয় হলো রাজনৈতিক সংলাপের অভাব। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক আস্থার পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে যে অনাস্থা ও সংঘাতের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা এখনো কাটেনি। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার বিশ্বাসের ঘাটতিও স্পষ্ট। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—সব পক্ষ কি সত্যিই এই নির্বাচনকে নিজেদের নির্বাচন বলে মনে করছে?
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বয়ের কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু মানুষ এখন শুধু বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে চায় না। তারা দেখতে চায়—প্রশাসন বাস্তবে কতটা নিরপেক্ষ থাকে, নির্বাচন কমিশন কতটা দৃঢ় ভূমিকা নেয়। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে এই জায়গায় মানুষের প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি সন্দেহও প্রবল।
এখানে নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থার প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন যতই বলুক তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে, মানুষের মনে সেই বিশ্বাস এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কমিশনের সিদ্ধান্ত, বক্তব্য ও ভূমিকা—সবকিছুই এখন বাড়তি নজরে দেখা হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে গণতন্ত্রের জন্যও একটি সতর্ক সংকেত।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও এই সংশয়ের পেছনে ভূমিকা রাখছে। আগের নির্বাচনগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষও জানে। বিদেশি পর্যবেক্ষক, কূটনৈতিক তৎপরতা, ভিসা নীতি—এসব বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। অনেকেই ভাবছেন, আন্তর্জাতিক চাপ বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের গতিপথ বদলে দিতে পারে কি না।
এখানে একটি মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা মানুষকে সতর্ক করে তুলেছে। মানুষ এখন আর আগেভাগে আশাবাদী হতে চায় না। তারা অপেক্ষা করতে চায়—শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখার জন্য। এই অপেক্ষা থেকেই জন্ম নেয় সংশয়—নির্বাচন হবে কি না, আর হলেও তা কতটা অর্থবহ হবে।
তবে এই সংশয়ের সব দায় একতরফাভাবে সরকারের ওপর চাপানোও বাস্তবসম্মত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন সামনে রেখে যদি দলগুলো নিজেরাই বারবার অনিশ্চয়তার কথা বলে, তাহলে জনমনে আস্থা তৈরি হবে কীভাবে? রাজনীতিবিদদের বক্তব্য ও আচরণ সাধারণ মানুষের মনোভাব গঠনে বড় ভূমিকা রাখে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
নির্বাচন নিয়ে এই অনিশ্চয়তা গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। কারণ, গণতন্ত্রের মূল শক্তি মানুষের বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাস দুর্বল হলে নির্বাচন আয়োজন যতই নিয়মমাফিক হোক না কেন, তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তখন নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও একেবারে অজানা নয়। কথার চেয়ে কাজে আস্থা ফেরানোই এখানে সবচেয়ে জরুরি। নির্বাচন কমিশনকে আরও দৃশ্যমানভাবে স্বাধীন ও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যেন মানুষ তা চোখে দেখতে পায়। রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে—নির্বাচনকে কেবল জয়ের লড়াই নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে হবে।
সবশেষে বলতে হয়, “নির্বাচন হবে কি না”—এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট। এই প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিতে পারলেই জনমনের সংশয় অনেকটাই কাটবে। সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল সেই আস্থা ফিরতে পারে। কারণ, নির্বাচন শেষ পর্যন্ত শুধু ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার বিশ্বাসের একটি বড় পরীক্ষা। এখন সেই পরীক্ষার ফল কী হয়, তা দেখার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।
প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির সময় দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের ‘মেঘনা হল’-এ এই সাক্ষাৎ হয়। অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গ্যালারিতে গিয়ে উপস্থিত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা ভেঙে এক আন্তরিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান এবং চিকিৎসা ও অন্যান্য বিষয়ে খোঁজ নেন। কারও পরিবারের সদস্য হারানোর বেদনা, কারও চলমান চিকিৎসা—সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লে তাঁদের সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ৬০ জন জুলাই গণ-আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্য এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বাকিরা আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখনো চিকিৎসাধীন। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়লে তিনি তাঁদের সান্ত্বনা দেন। সংক্ষিপ্ত এই সাক্ষাৎ সংসদের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপস্থিতদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পাশে থাকবে।
সংবিধান কখনো 'সংস্কার' হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা 'সংশোধন' হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি 'বিশেষ সংসদীয় কমিটি' গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে ২০২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাস সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে, যা সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি গুরুত্বের সাথে স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনা চলে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে, যার কিছু অংশ হাইকোর্ট ইতোমধ্যে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে এবং বাকি অংশ এই সার্বভৌম সংসদই সংশোধন করবে। সালাউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে ঘোষণা দেন; এই প্রকৃত ইতিহাসই সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার। এছাড়া জিয়াউর রহমানের অন্তর্ভুক্ত করা 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান। রাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমেই প্রয়োগ হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পরিশেষে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি বাইরে থেকে আসা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয়, বরং সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
সাউন্ড সিস্টেমে যান্ত্রিক বিভ্রাটের কারণে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ৪০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমাদ এই মুলতবি ঘোষণা করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনে আজ শুরু থেকেই মাইক ও স্পিকার সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলেও সংসদ সদস্যরা একে অপরের কথা শুনতে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আমাদের মাইকে সমস্যা দেখা যাচ্ছে, আপনার মাইকেও সমস্যা হচ্ছে।" পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে স্পিকার মাগরিবের আজানের জন্য ২০ মিনিট এবং সাউন্ড সিস্টেম মেরামতের জন্য আরও ২০ মিনিটসহ মোট ৪০ মিনিটের বিরতি ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিনও একই ধরনের মাইক বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। ওইদিনও সাময়িকভাবে অধিবেশন মুলতবি করতে হয়েছিল। একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় সংসদের কারিগরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অধিবেশন শুরুর প্রথম দিন থেকেই এমন বিভ্রাট সংসদীয় কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০ মিনিট পর মাগরিবের নামাজ ও বিরতি শেষে কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে পুনরায় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের প্রকৌশলীরা দ্রুত সমস্যা সমাধানের কাজ করছেন।