- প্রচ্ছদ
- Topic
নির্বাচন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে। ১৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ছয় মিনিটের ভিডিওতে তিনি বলেন, নির্বাচনী লড়াইয়ে স্বতন্ত্রদেরও জায়গা পাওয়া উচিত। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওতে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিডিয়াইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাককনাহে মনে করেন, কংগ্রেসে স্বতন্ত্র প্রতিনিধিরা ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের ওপর স্থায়ী নজরদারি ও ভারসাম্য রক্ষার ভূমিকা রাখতে পারেন। তাঁর বক্তব্য, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শুধু প্রতিবাদের প্রতীক কিংবা অন্য প্রার্থীর ভোট কমানোর মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁদের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবেও গুরুত্ব দিতে হবে। ভিডিওতে কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীকে সমর্থন দেননি এই অভিনেতা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, নিজের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যতের বদলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের সামনে থাকা বিকল্পগুলোর ওপর জোর দেন তিনি। দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নিজ এলাকার প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার আহ্বানও জানান। ম্যাককনাহের যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে একই দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভোটারদের সব মত ও প্রত্যাশা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। স্বতন্ত্রদের ভোট দিলে তা নষ্ট হয়, এমন ধারণাকেও প্রশ্ন করেন তিনি। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার যোগ্য বিকল্প প্রার্থীদের বাস্তব সুযোগ থাকা প্রয়োজন। এই বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তাঁর দলীয় বিভাজনের বাইরে যাওয়ার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে এমন আহ্বান ভোট ভাগ করে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। সান অ্যান্টোনিও এক্সপ্রেস নিউজের প্রতিবেদনে এসব প্রতিক্রিয়ার কথা উঠে এসেছে। এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিয়ে জল্পনার কথা জানিয়েছে। এর আগে ২০২১ সালে টেক্সাসের গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন ম্যাককনাহে, যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে নামেননি। এবারের ভিডিওতেও ২০২৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি তিনি। ফলে তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আলোচনা এখনো জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক মুকেশকুমার সোমাভাই চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। ১৬ অক্টোবর ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রকাশিত বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর মিনেসোটার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দেয়। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য মিনেসোটার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একটি সনদে স্বাক্ষর করেন চৌধুরী। সেখানে তাঁকে শপথ করে অথবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। সরকারি কৌঁসুলিদের অভিযোগ, মার্কিন নাগরিক না হয়েও ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি জেনেশুনে ওই ঘোষণা দেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোটার নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। তবে প্রকৃত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল বিচারক, প্রযোজ্য সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনা করে। মামলাটির তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। তদন্তে সহায়তা করছে মিনেসোটার ফিলমোর কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের ক্রিমিনাল সেকশন মামলাটি পরিচালনা করছে। বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চৌধুরীকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের পোষা কুকুরকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে পরপর দুই নির্বাচনে তার নামে ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়েছিলেন এক নারী। কুকুরটির নামে পাঠানো প্রথম ব্যালটটি গণনা করা হলেও দ্বিতীয়টি বাতিল হয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের পর ওই নারীর বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং শাস্তির অংশ হিসেবে নিজের কুকুরের ছবি ব্যবহার করা ভোট জালিয়াতিবিরোধী চারটি বিলবোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার দেন। শর্ত পূরণের পর তাঁর মামলাটিও খারিজ হয়েছে। নারীর নাম লরা লি ইউরেক্স। ৬৪ বছর বয়সী এই নারী ক্যালিফোর্নিয়ার কোস্টা মেসা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পোষা কুকুরটির নাম ছিল মায়া জিন ইউরেক্স। ২০২০ সালের ৭ মে তিনি কুকুরটিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন। পরে ২০২১ সালের গভর্নর প্রত্যাহার নির্বাচন এবং ২০২২ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালট জমা দেন। তবে কুকুরটি আসলে কাকে ভোট দিয়েছিল, তা জানা যায়নি। প্রকাশিত নির্বাচনী তথ্যেও মায়ার ভোটের পছন্দ উল্লেখ নেই। কুকুরটির নামে নিবন্ধনের সময় রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে ‘কোনো দল পছন্দ নয়’—এমন অবস্থান নথিভুক্ত ছিল। ইউরেক্স নিজে ২০২০ সালে নিবন্ধিত রিপাবলিকান ভোটার ছিলেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থেকে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালটের ভোট কাকে দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ২০২১ সালের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার তৎকালীন গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ভোট হয়েছিল। মায়ার নামে পাঠানো ব্যালটটি গণনা করা হয়। ওই নির্বাচনে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার নিউসমকে প্রত্যাহারের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। কিন্তু এই ফলাফল থেকে মায়ার ব্যালটে কোন বিকল্প বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরের বছর ২০২২ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালটটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং বাতিল হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী নিয়মে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে পরিচয়পত্র বা বসবাসের প্রমাণ দেখানোর শর্ত না থাকলেও নির্দিষ্ট ফেডারেল নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়া ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হতে পারে। মায়ার নামে পাঠানো ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় সেটি গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তকারীদের নজরে আসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। অরেঞ্জ কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধকের কার্যালয় বিষয়টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তরকে জানায়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ইউরেক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুরটির নামে ব্যালট পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি মায়ার গায়ে ‘আই ভোটেড’ লেখা স্টিকার লাগানো এবং সামনে ব্যালট রাখা একটি ছবি পোস্ট করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আরেকটি পোস্টে কুকুরটির পরিচয়পত্রের ট্যাগ ও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালটের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘মায়া এখনো তার ব্যালট পাচ্ছে।’ তখন কুকুরটি আগেই মারা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরেক্সের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ছিল মিথ্যা শপথ, জাল বা মিথ্যা নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যালট জমা দেওয়া এবং অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা। সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ছয় বছর কারাদণ্ড হতে পারত। তবে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউরেক্স অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে জেনেশুনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের একটি কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। বাকি চারটি গুরুতর অভিযোগ বাদ দেওয়া হয় এবং একটি অভিযোগ গুরুতর অপরাধ থেকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধে রূপান্তর করা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, ইউরেক্সকে অরেঞ্জ কাউন্টির ৫৫ ও ২২ নম্বর ফ্রিওয়ের পাশে চারটি ভোট জালিয়াতিবিরোধী বিলবোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার দিতে হয়। বিলবোর্ডগুলোতে তাঁর পোষা কুকুর মায়ার সেই ছবিই ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে কুকুরটির গায়ে ‘আই ভোটেড’ স্টিকার এবং সামনে ব্যালট দেখা যায়। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘কুকুরের মতো আচরণ করবেন না। ভোট জালিয়াতি অপরাধ। আইনগতভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার না থাকলে ভোট দেবেন না। অরেঞ্জ কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ বিলবোর্ডগুলো ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা। ইউরেক্স সমঝোতার সব শর্ত পূরণ করার পর ১৩ অক্টোবর তাঁর মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ হয়। ফলে ঘটনাটি শুধু পোষা প্রাণীর নামে ভোট দেওয়ার অস্বাভাবিক কাহিনি নয়, বরং ভোটার নিবন্ধন ও নির্বাচনী যাচাইব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক নতুন যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোটার নিবন্ধনের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ অক্টোবর। নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন নাগরিকেরা। তাই ভোটারদের দ্রুত নিজেদের নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কে ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি নাগরিকদের সুবিধার্থে বেশ সহজ ও বহুমুখী করা হয়েছে। আগ্রহীরা চাইলে অনলাইনে, সরাসরি অথবা ডাকযোগে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের ভোটার নিবন্ধন পোর্টাল বা ডিএমভি (DMV) ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে। এই ক্ষেত্রে আবেদনকারীর একটি 'এনওয়াই.গভ' (NY.Gov) আইডির প্রয়োজন হবে। আগে থেকে অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটি দিয়ে, অন্যথায় নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সহজেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব। যারা সরাসরি নিবন্ধন করতে চান, তারা নিজ কাউন্টির বোর্ড অব ইলেকশনস অফিস, অনুমোদিত সরকারি সংস্থার নিবন্ধন কেন্দ্র বা ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের (DMV) মাধ্যমে এই কাজ করতে পারবেন। অন্যদিকে ডাকযোগে আবেদনের ক্ষেত্রে ফর্মটি পূরণ করে, স্বাক্ষর ও তারিখ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্টির নির্বাচন অফিসে পাঠাতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডাকযোগে পাঠানো আবেদনও অবশ্যই ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে হবে। ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য বেশ কিছু যোগ্যতার শর্তাবলি পূরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে এবং নির্বাচনের দিন তার বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত ৩০ দিন বসবাসের প্রমাণ থাকতে হবে। তবে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীরা আগাম নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে নিউইয়র্কের ড্রাইভিং লাইসেন্স বা নন-ড্রাইভার আইডি নম্বর, অথবা সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরের (SSN) শেষ চারটি সংখ্যা ব্যবহার করা যাবে। বাংলাভাষী প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনসের ওয়েবসাইটে বাংলা ভাষায় ভোটার নিবন্ধন ফর্ম যুক্ত করা হয়েছে, যা প্রিন্ট করে সহজেই পূরণ করে জমা দেওয়া সম্ভব। স্প্যানিশ, চীনা ও উর্দুর পাশাপাশি এটি অভিবাসীদের জন্য একটি বড় সুবিধা। নিবন্ধনের সময় কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই, তবে নিউইয়র্কে সাধারণত কোনো দলের প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে নির্দিষ্ট দলের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত হতে হয়। নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশনসের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনের শেষ দিন ১৯ অক্টোবর। ভোটার নিবন্ধন ও এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব ইলেকশনসের ওয়েবসাইট (elections.ny.gov/register-vote) এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (vote.gov) পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগ্য নাগরিকদের নিজেদের তথ্য যাচাই করে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্কনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাণিজ্যনীতি, নিত্যপণ্যের দাম এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের প্রভাব রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ৬৪ শতাংশের বেশি মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, ট্রাম্প শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন। জানুয়ারিতে একই ধরনের প্রশ্নে এই হার ছিল ৫৮ শতাংশ। জরিপের এই ফল শুল্কনীতি নিয়ে জনমতের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও নির্বাচনে ভোটাররা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিশ্চিত করে না। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, দেশীয় কারখানায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাণিজ্যে অন্যায্য প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করা সম্ভব। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কারখানা নির্মাণ এবং উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের তথ্যকে নীতিটির সম্ভাব্য সুফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশের উদ্বেগ, আমদানি করা কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও ভোগ্যপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ও বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের কিছু অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর সাধারণত দুই অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ের শুল্ক আরোপ করেছে, যদিও বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে হার আলাদা এবং আইনি ও নীতিগত পরিবর্তনের কারণে তা ওঠানামা করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারাসহ বিভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুল্কনীতির প্রভাব শুধু বিদেশি রপ্তানিকারকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে, তাদের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিল্প আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজা, নতুন চুক্তি করা এবং পণ্যের দাম সমন্বয় করা ব্যয়বহুল হতে পারে। শুল্কের কারণে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় সুবিধা পেতে পারেন—এমন যুক্তিও রয়েছে। তবে নতুন কারখানা নির্মাণ এবং স্থায়ী উৎপাদনভিত্তিক চাকরি তৈরির মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকে। কারখানা নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্থায়ী উৎপাদনকর্মীর চাকরি তৈরি হয় না। নির্বাচনের আগে এ বিতর্কের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভোটারদের কাছে মূল্যস্ফীতি, চাকরির নিরাপত্তা এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সরাসরি প্রভাব ফেলে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির বাস্তব ফলাফল নিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকও প্রশ্ন তুলছেন।
প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতা জানতে ঢাকায় এসেছে নেপালের নির্বাচন কমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের অংশ হিসেবে ৭ ও ৮ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী ‘লার্নিং অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও নেপাল নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। সভায় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আলমও আলোচনায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া দেশের বাইরে ভোটদান ব্যবস্থা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন প্রকল্পের টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ড. সালীম আহমদ খান এবং উপপ্রকল্প পরিচালক মামুনুর হোসেন বৈঠকে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির নির্বাচনি সহায়তা কার্যক্রমের প্রতিনিধিরাও এ সময় উপস্থিত থাকবেন। নেপালের প্রতিনিধি দলে দেশটির দুজন নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। ইউএনডিপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নেপালের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন বাস্তবায়নাধীন ‘দেশের বাইরে ভোটদান সিস্টেম উন্নয়ন এবং বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবে। ৭ ও ৮ অক্টোবর তারা প্রকল্পটির কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যে পদ্ধতি, প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে কাজ করছে, নেপালের প্রতিনিধিরা সেসব বিষয়ে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হবে। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পেশাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানো। বিশেষ করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও উত্তম চর্চা নেপালের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের চলমান ওসিভি-এসডিআই প্রকল্প সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে কাজ করছে, নেপালের প্রতিনিধিদের সফরের অন্যতম প্রধান আগ্রহের জায়গা সেটিই। দুই দিনের এই কর্মসূচিতে শুধু কারিগরি বিষয় নয়, ভোটার ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী ভোটার শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আশা করছে, এই অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির নতুন পথও খুলতে পারে। সূত্র: ইত্তেফাক
আগামী ৩ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটিক দল। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের প্রকাশিত এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস ও আলাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ৫০ শতাংশ বা তার বেশি সমর্থন পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই ফলাফল সিনেটের বর্তমান ৫৩-৪৭ ব্যবধানের রিপাবলিকান আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। নতুন জরিপের তথ্যানুযায়ী, টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটিক দলের জেমস টালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন পেয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে (৪৫%) ৬ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলা ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের (৪৩%) চেয়ে ৭ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এছাড়া, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট দৌড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শ্যারড ব্রাউন (৪৯%) রিপাবলিকান প্রার্থী জন হাস্টেডকে (৪৬%) সামান্য ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, আইওয়াতে রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসন ৪৮-৪৭ ব্যবধানে জশ টার্কের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন এবং কানসাসে ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টনের সঙ্গে রিপাবলিকান রজার মার্শালের ৪৫-৪৫ পয়েন্টে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখতে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড নর্থ ক্যারোলিনার বদলে কানসাসের মতো রাজ্যে তাদের বিপুল অর্থায়ন স্থানান্তর করেছে। এই ৫টি আসনের সবগুলোতেই যদি ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পারে, তবে আগামী দিনে তারা সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মেক্সিকোর এক গ্রিন কার্ডধারীকে গ্রে প্তার করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)। ৩ সেপ্টেম্বর টেক্সাসের এল পাসোতে লুডভিগ উরিয়েল এসপেহো-ক্যারিলোকে গ্রে প্তার করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, এসপেহো-ক্যারিলোর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ২০১৩ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী হন। বর্তমানে তাকে আইসিইর হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে ডিএইচএস। মার্কিন আইন অনুযায়ী, অ-মার্কিন নাগরিকরা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। একইভাবে কোনো অ-মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়া ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন। তবে কিছু স্থানীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ ভোট ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে দেশজুড়ে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকের ভোট দেওয়া, নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, তারের মাধ্যমে প্রতারণা, নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতারণা এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মতো অভিযোগ রয়েছে। টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টে সাতজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধেও ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বৈধ গ্রিন কার্ডধারী। তবে এসব মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে মাত্র; আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিই আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। বিচার বিভাগও তাদের সাম্প্রতিক ঘোষণায় বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, কোনো অ-মার্কিন নাগরিক ফেডারেল বা রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। তবে ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্মন্ট, মেরিল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসির অন্তত ১৬টি স্থানীয় এলাকায় স্কুল বোর্ড, সিটি কাউন্সিল বা মেয়র নির্বাচনের মতো কিছু স্থানীয় নির্বাচনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অনুমতি রয়েছে। এসপেহো-ক্যারিলোর ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মার্কিন বিচার বিভাগ অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট দেওয়া এবং নির্বাচনী নিবন্ধন নিয়ে একাধিক ফেডারেল মামলা ঘোষণা করেছে। তবে এসব পৃথক মামলার অভিযোগ ও প্রমাণ আদালতে বিচারাধীন।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনের নতুন এক জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে ৪ শতাংশ পয়েন্টে পেছনে ফেলেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এএআরপি’র জরিপটি পরিচালনা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নির্বাচনী জরিপকারী হিসেবে পরিচিত টনি ফ্যাব্রিজিওর প্রতিষ্ঠান ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড। জরিপে টালারিকোর পক্ষে ৪৮ শতাংশ এবং প্যাক্সটনের পক্ষে ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়া গেছে। জরিপটি ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড ও ডেমোক্র্যাটিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট রিসার্চ যৌথভাবে পরিচালনা করে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণাগুলোতেও ফ্যাব্রিজিও জরিপকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এদিকে, টেক্সাসের ডালাসে এ সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের সক্রিয় করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনে সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতেই এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি ও ইরানের যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অনেক মার্কিন নাগরিকের সমর্থন কমেছে- এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জরিপটি প্রকাশ হলো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্যাক্সটনের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি প্যাক্সটনের পোশাক ও কথাবার্তা নিয়ে সমালোচনা করলেও তাঁকে ‘দেশের সেরা অ্যাটর্নি জেনারেল’ বলে উল্লেখ করেন। জরিপে টালারিকোর এগিয়ে থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন স্বতন্ত্র ভোটাররা। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ টালারিকোকে এবং ৩৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ এ শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে টালারিকো ২২ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে প্যাক্সটন এখনো টালারিকোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। রিপাবলিকান ভোটারদের ৮৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৯৪ শতাংশ টালারিকোর পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া ৯ শতাংশ রিপাবলিকান টালারিকোকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে ডেমোক্র্যাট সমর্থন মাত্র ২ শতাংশ। টালারিকোর ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতার হার ৭ পয়েন্ট। ৪২ শতাংশ ভোটার তাঁকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, বিপরীতে ৩৫ শতাংশ নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। প্যাক্সটনের ক্ষেত্রে নেট গ্রহণযোগ্যতা ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট ৪৬ শতাংশ তাঁকে নেতিবাচক এবং ৩৫ শতাংশ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। আগস্ট ৩০ থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৯৫ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে ভুলের সম্ভাব্য সীমা ধরা হয়েছে প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল ভোটে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর রোববার আবারও জরুরি আবেদন করেছে প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্চে জারি করা নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে তৈরি নতুন নিয়মে মেইল ব্যালট পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শর্ত আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যগুলোকে মেইল ব্যালট পাওয়ার যোগ্য ভোটারদের তালিকা ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যালটের খামে ইউনিক বারকোড ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। নিয়ম না মানা হলে কিছু ব্যালট সরবরাহ না করার সুযোগও থাকবে পোস্টাল সার্ভিসের। তবে ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি নতুন নিয়ম কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি আবার সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের সলিসিটর জেনারেল জন সাওয়ার যুক্তি দিয়েছেন, রাজ্যগুলোতে ইতোমধ্যে মেইল ব্যালট পাঠানো শুরু হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, নিয়ম কার্যকর না হলে প্রতিটি দিন নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। বিশেষ করে নর্থ ক্যারোলাইনায় ইতোমধ্যে ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। আলাবামা ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এবং আরও কয়েকটি রাজ্য সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মেইল ব্যালট পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত রাজ্য ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নির্বাচনের এত কাছাকাছি সময়ে নিয়ম পরিবর্তন করলে বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। নির্বাচন কর্মকর্তারাও বলছেন, অল্প সময়ের মধ্যে পুরো ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা কঠিন। মেইল ভোট নিয়ে এই আইনি লড়াই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার কোনো না কোনোভাবে মেইল ব্যালট ব্যবহার করেন। এর আগে আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আদেশ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পথ খুলে দিলেও আদেশটি আইনসঙ্গত কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে নতুন করে আদালতে লড়াই শুরু হয়েছে। এবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন বুধবারের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।
উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন মেরিল্যান্ডের কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ কাজল। দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ফোবানার নেতৃত্বে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েছেন বলে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন তিনি। ফোবানার ৪০তম কনভেনশন ২০২৬ সালের ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই কনভেনশনকে ঘিরেই সংগঠনটির পরবর্তী নির্বাহী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। ফোবানার বর্তমান নির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২০২৫-২০২৬ এবং বর্তমান কমিটিতে মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ কাজল নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। আমেরিকা বাংলাকে মোহাম্মদ কাজল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংগঠনটির কার্যক্রম, সম্ভাবনা এবং কমিউনিটির প্রত্যাশা সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফোবানাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এবার তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাজল বলেন, “আমি যেহেতু অনেকদিন ধরে ফোবানার সঙ্গে জড়িত রয়েছি, তাই ফোবানাকে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। উত্তর আমেরিকার আরও বেশি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং সংগঠনটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এবার সভাপতি পদে নির্বাচন করছি।” তিনি বলেন, ফোবানার কার্যক্রমে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, কমিউনিটির নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করা এবং ফোবানার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিতে চান। ফোবানার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া সদস্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কাজল বলেন, যারা ফোবানার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন, তারা তাঁর প্রার্থিতা ও পরিকল্পনা বিবেচনা করে তাকে সমর্থন করবেন বলে তিনি আশা করেন। ভোটার সদস্য সংগঠনগুলোর সমর্থন পেলে ফোবানার নেতৃত্বে থেকে সংগঠনটিকে আরও গতিশীল করার জন্য কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি। মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা: মোহাম্মদ কাজল মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন। সংগঠনটি মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। ফোবানার অফিসিয়াল তালিকাতেও মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি একটি সদস্য সংগঠন হিসেবে রয়েছে এবং বর্তমান নির্বাহী কমিটিতে এই সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ কাজলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নোয়াখালীর সন্তান কাজল দীর্ঘদিন ধরে মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কমিউনিটি উদ্যোগেও তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে। কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি রাজনৈতিক পরিসরেও তিনি সক্রিয়। তিনি মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ফোবানায় তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে কমিউনিটি সংগঠন ও ফোবানার কার্যক্রমকে সামনে রেখে কাজ করার লক্ষ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। ফোবানার নেতৃত্বে নতুন পরিকল্পনার প্রত্যাশা: ফোবানার সভাপতি পদে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে কাজল বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য শুধু একটি পদে দায়িত্ব নেওয়া নয়। বরং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি সংগঠন ও কমিউনিটিকে আরও কার্যকরভাবে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। তিনি মনে করেন, ফোবানার মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও ফোবানা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ফোবানার বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, সংগঠনটির নির্বাহী কমিটিতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি, জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ও ট্রেজারারসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। সদস্য সংগঠনগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কর্মীর বিদায়ের খবর সামনে আসছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিদায়গুলোর একটি হলো হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের। তিনি আগস্টের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়ছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার জন্য লেভিট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পরও তিনি ট্রাম্পের বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। লেভিটের বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার চলে যাওয়ার খবর এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর জেমস ব্রেইড, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটন এবং ইউএস পারডন অ্যাটর্নি এড মার্টিন। জেমস ব্রেইড কংগ্রেসের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্প তার বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে কংগ্রেসে প্রশাসনের বিভিন্ন আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে ব্রেইডের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনও প্রশাসন ছাড়ছেন। তার জায়গায় দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সহযোগী উইল শার্ফকে নতুন শীর্ষ আইনজীবী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে সাম্প্রতিক এই বিদায়গুলোকে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না কিছু পর্যবেক্ষক। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমত, প্রশাসনের জনপ্রিয়তা এবং আসন্ন রিপাবলিকান প্রাইমারি নিয়েও হোয়াইট হাউসের ভেতরে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেভিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন মুখপাত্রের বিদায়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন। তার বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনে সাম্প্রতিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদায়কে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদল, নাকি মধ্যবর্তী নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগাম প্রস্তুতি? আগামী কয়েক মাসে আরও কর্মকর্তা হোয়াইট হাউস ছাড়েন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
ওয়েলসের পার্লামেন্ট সেনেড নির্বাচনে প্রার্থীদের মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে নতুন আইন অনুমোদন করেছে। ১৭ মার্চ ২০২৬ ভোটের মাধ্যমে পাস হওয়া এই আইনে নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন বিধান তৈরির বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। ‘সেনেড সাইমরু (মেম্বার অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড ইলেকশনস) বিল’ নামে পরিচিত এই আইনটির মূল লক্ষ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বাড়ানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার প্রবণতা মোকাবিলা করা। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আইনের মাধ্যমে ওয়েলশ মন্ত্রীরা সেনেড নির্বাচনের নিয়মে মিথ্যা তথ্য নিষিদ্ধ করার বিধান আনতে বাধ্য থাকবেন। তবে নতুন বিধানটি ২০২৬ সালের মে মাসের সেনেড নির্বাচনে কার্যকর হয়নি। আইনটি পাস হওয়ার সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রয়োজনীয় বিধি তৈরি ও পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে এই ব্যবস্থা ২০৩০ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ওয়েলশ সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, বিষয়টি বাস্তবায়নে বিস্তারিত কাজ ও পরামর্শ প্রয়োজন। বর্তমানে ওয়েলসে নির্বাচনী আইনে কোনো প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র বা আচরণ সম্পর্কে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। নতুন আইনের মাধ্যমে এই কাঠামো আরও বিস্তৃত করার পথ তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে মতভেদও রয়েছে। সেনেডের বিভিন্ন কমিটি সতর্ক করেছে, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে নতুন বিধান স্বাধীন মতপ্রকাশ ও নির্বাচনী বিতর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোন বক্তব্যকে মতামত এবং কোনটিকে মিথ্যা তথ্য হিসেবে গণ্য করা হবে, সেটি নির্ধারণে সতর্কতা প্রয়োজন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। নতুন আইনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে ইচ্ছাকৃত প্রতারণা মোকাবিলায় ওয়েলস একটি নতুন কাঠামো তৈরি করছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ, অপরাধের সংজ্ঞা ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়গুলো পরবর্তী বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
ফ্লোরিডায় আগামী ১৮ আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। এবারের নির্বাচনে গভর্নর, সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রার্থী বাছাই হবে। গভর্নর পদে বর্তমান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মেয়াদসীমার কারণে আবার প্রার্থী হতে পারছেন না। ফলে রিপাবলিকান শিবিরে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার লড়াই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রতিনিধি বায়রন ডোনাল্ডস এবং ডিস্যান্টিস-সমর্থিত লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্সসহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডেমোক্র্যাট শিবিরেও গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। সাবেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডেভিড জলি এখন ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন এবং তহবিল সংগ্রহে তিনি এগিয়ে রয়েছেন। সিনেট নির্বাচনেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। নিয়োগপ্রাপ্ত রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডির বিরুদ্ধে নভেম্বরে লড়ার জন্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাছাই হবে। এবারের নির্বাচনের আরেকটি বড় বিষয় হলো নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র। নতুনভাবে নির্ধারিত আসনগুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের সুবিধা দিতে পারে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-অধ্যুষিত আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। ফ্লোরিডার এই প্রাইমারি তাই শুধু দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচন নয়; নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য কোন দিকে যাবে, তারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের ভুল ভোটার নিবন্ধনের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসন ও ভোটাধিকারবিষয়ক গবেষক প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা। তার মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত ভোট জালিয়াতি নয়; বরং সরকারি সফটওয়্যারের ত্রুটির ফল, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের মতামতমূলক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, নিউ জার্সির মোটর ভেহিকেল কমিশনের (MVC) একটি পুরোনো সফটওয়্যার সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন, যদিও তারা আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি কোনো তথ্য গোপন করেননি কিংবা মিথ্যা তথ্য দেননি। বরং সরকারি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। পরে গভর্নর মিকি শেরিল বিষয়টি জানতে পেরে তা প্রকাশ করেন এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেন। প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা, যিনি নিজেও একজন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, লেখায় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে তার পরিবারকে বছরের পর বছর আইন মেনে চলতে হয়েছে, কর পরিশোধ করতে হয়েছে, নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। তাই নতুন অভিবাসীরা ভোটাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং আইন ভঙ্গের ঝুঁকি নিতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের ভোট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ বর্তমান ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সেই দাবি সমর্থন করে না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ লাখ। ভুলবশত নিবন্ধিত ৬ হাজার ৬০০ জন মোট ভোটারের ০.০১ শতাংশেরও কম। তাদের মধ্যে মাত্র ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে পড়া ৪৩ লাখ ভোটের ০.০০৯ শতাংশেরও কম। কাম্পোস-মেদিনার মতে, এসব পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে ঘটনাটি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি, যা দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি গভর্নর শেরিলের প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি বিষয়টি গোপন না করে প্রকাশ করেছেন, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভুলভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কীভাবে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনটি প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনার একটি মতামতমূলক নিবন্ধের ভিত্তিতে তৈরি। এতে প্রকাশিত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত তার ব্যক্তিগত অবস্থান, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নতুন জরিপের গড় ফলাফলে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে যেখানে রিপাবলিকানরা এগিয়ে ছিল, জুলাইয়ে সেখানে ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে। ভোটহাব (VoteHub)-এর ২১ জুলাই প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইওয়া, মিশিগান ও ওহাইওর সিনেট নির্বাচনের পাশাপাশি ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এখন গড় হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন। আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক এখন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ০.৭ শতাংশের লিড থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ০.৫ শতাংশের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। মিশিগানে অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসন ঘিরেও পাল্টেছে পরিস্থিতি। এপ্রিলে রিপাবলিকানদের গড়ে ১.৯ শতাংশ এগিয়ে থাকার চিত্র থাকলেও জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের গড় লিড দাঁড়িয়েছে ১.৮ শতাংশ। ওহাইওর সিনেট নির্বাচনেও রিপাবলিকানদের প্রাথমিক সুবিধা হারিয়ে গেছে। এপ্রিলের গড়ে রিপাবলিকানরা ০.৩ শতাংশ এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ জরিপে ডেমোক্র্যাটরা ০.৯ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। একইভাবে ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে এপ্রিলের সামান্য রিপাবলিকান লিড জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটদের ০.৯ শতাংশের গড় ব্যবধানে রূপ নিয়েছে। তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও বাজিভিত্তিক নির্বাচনী পূর্বাভাস প্লাটফর্মগুলোর মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। কালশি ও পলিমার্কেট -এর মতো পূর্বাভাস বাজার এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখাচ্ছে, বিশেষ করে আইওয়া ও ওহাইওর কিছু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে। অন্যদিকে মিশিগান সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনাই বেশি বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের ভোটের চিত্র খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ভোটারদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না ভোটারদের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের দিন বাংলাদেশি ভোটারদের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে না যাওয়ায় বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে সম্প্রদায়টির রাজনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই শক্তি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। একই সঙ্গে শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশ, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করেছে। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। বাংলা ভাষায় ব্যালট, ভোটার গাইড এবং নির্বাচনী সহায়তা চালু হওয়াও এই সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি। তবুও নির্বাচনের দিন বহু নিবন্ধিত ভোটার কেন্দ্রে যান না। কমিউনিটির রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন, ‘আমার একটি ভোটে কিছু আসে-যায় না।’ আবার অনেকে নির্বাচনের তারিখ, আগাম ভোট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্পর্কেও অবগত নন। ফলে নিবন্ধিত ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না। গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কে সিটি কাউন্সিল, ডিস্ট্রিক্ট লিডার, জুডিশিয়াল ডেলিগেট, পার্টি কমিটি এবং বিভিন্ন পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তাদের অনেকেই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পরাজিত হয়েছেন। সর্বশেষ ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনের প্রার্থী শামসুল হক মাত্র ১১ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। অথচ তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের বাংলাদেশি ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তিনি দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারতেন। শামসুল হক বলেন, “অনেকের সঙ্গে দেখা হলে তারা ফলাফল শুনে আফসোস করছেন। তারা বলছেন, এত কম ব্যবধান জানলে অবশ্যই ভোট দিতে যেতাম। এই ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহাই বাংলাদেশি প্রার্থীদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিন দফায় ১০ হাজার বাড়ির দরজায় প্রায় ৩০ হাজার বার কড়া নাড়া হয়েছে। সবাই ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের দিন উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ। তার ভাষায়, “জ্যাকসন হাইটসের সিংহ মার্কাসহ ৮ থেকে ১০টি ভবনে শত শত বাংলাদেশি বসবাস করেন। প্রতিদিন তারা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। অথচ ভোটের দিন তাদের বড় একটি অংশ ঘর থেকে বের হননি।” তিনি মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তবে এটি কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমষ্টিগত উদ্যোগ। কমিউনিটির ভূমিকা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন শামসুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অনেক নেতা আছেন। তারা মাঠে নামলে ফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু অনেককেই নির্বাচনী প্রচারে পাশে পাইনি। অনেকেই মূলধারার রাজনীতির দাবি করলেও বাস্তবে তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।” তিনি জানান, ফলাফল যাই হোক, তিনি থেমে থাকবেন না। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন এবং ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবেন। এদিকে ১১ ভোটে পিছিয়ে থাকলেও এখনও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী শামসুল হক। তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ২০৩টি ব্যালট পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে। এতে আমার ভোট বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশি ভোটারদের উপস্থিতি আরও বেশি হলে অনেক নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবধান ছিল কয়েকশ ভোটেরও কম, অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধিত রয়েছেন। কমিউনিটির প্রবীণ নেতাদের মতে, বাংলাদেশিরা নির্বাচন এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, কিন্তু ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এখনও শক্তিশালী হয়নি। অন্যদিকে ইহুদি, চীনা, ভারতীয়, কোরিয়ান ও লাতিনো সম্প্রদায় বছরের পর বছর ধরে ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিন ভোটার পরিবহনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবও অনেক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগের তুলনায় বাড়লেও সেই আগ্রহ এখনও ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পুরোপুরি পৌঁছায়নি। সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বাড়লেও বাস্তবে ভোটদানের হার আশানুরূপ নয়। সাম্প্রতিক নিউইয়র্কের বিভিন্ন নির্বাচনে স্বল্প ভোটার উপস্থিতির মধ্যেই অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুসংগঠিত ভোটার উপস্থিতিই অনেক সময় নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দেয়। কমিউনিটির নেতাদের মতে, এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সময়। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সারা বছরব্যাপী ভোটার নিবন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা, নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে সহায়তা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং নির্বাচনের দিন স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ভোটার পরিবহনের ব্যবস্থা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। ব্যবসা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। এখন সেই সামাজিক শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ। কমিউনিটির প্রবীণদের ভাষায়, “প্রার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতে যাওয়া।” কারণ একটি নির্বাচনে কয়েকটি ভোটই একজন বাংলাদেশি প্রার্থীর জয় কিংবা পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে। আর সেই বাস্তবতাই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতির ওপর।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলের বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি নির্বাচন সংক্রান্ত আবেদন (ইলেকশন পিটিশন) দায়ের করেছেন তিনি। তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, ভোট গণনার সময় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি করা হয়েছে। আর এই কারণেই আদালতের মাধ্যমে পুরো বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্ত দাবি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সময় তার সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা, আইনজীবী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আদালত চত্বরে পৌঁছে তিনি নিয়ম অনুযায়ী শপথ কমিশনের কার্যালয়ে যান এবং পিটিশন দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও তিনি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলাটি দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এবারের হাইভোল্টেজ নির্বাচনেও ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনি ফলাফলে তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই দলের পক্ষ থেকে ভোট গণনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আপত্তি তোলা হতে থাকে। অবশেষে আইনি পথ বেছে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফলকে আদালতের এজলাসে চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি। এদিকে একই দিনে কলকাতা হাইকোর্টে পশ্চিমবঙ্গের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মামলার শুনানি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলার দ্বিতীয় দফার শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেন। তার মূল দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধানসভার প্রচলিত নিয়মাবলী ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে বিধানসভার অধ্যক্ষের (স্পিকার) এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে এবং আদালত যেন এই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে। আদালতে মামলার শুনানিতে তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জোরালো সওয়াল করে প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, এই পুরো প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে করা হয়নি এবং আদালতের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, স্পিকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এতে আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, গত শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়নি। যার ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত বিরোধী দলনেতা হিসেবেই তার স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তবে মঙ্গলবারের এই দ্বৈত শুনানিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবানীপুরের নির্বাচনি ফল চ্যালেঞ্জ এবং বিরোধী দলনেতার পদের বৈধতা সংক্রান্ত মামলার শুনানি একই দিনে হওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী শিবিরের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল।
মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের অ্যাট-লার্জ আসনের নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাদওয়ান চৌধুরী ক্রমেই আলোচনায় আসছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে তিনি কাউন্টির সব বাসিন্দার প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল হলো কাউন্টির আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণী সংস্থা। কাউন্টির বাজেট অনুমোদন, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা, আবাসন, পরিবহন এবং বিভিন্ন স্থানীয় নীতিমালার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এই পরিষদ। অ্যাট-লার্জ সদস্যরা নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়, বরং পুরো কাউন্টির ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রচারণার শুরু থেকেই রাদওয়ান চৌধুরী জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, শিক্ষা, অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি জবাবদিহিতা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততাকে তার অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছেন। তার মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল মন্টগোমারি কাউন্টির চাহিদা পূরণে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রয়োজন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় রাদওয়ান চৌধুরী তার প্রচারণাকে সমর্থন জানানো স্বেচ্ছাসেবক, কমিউনিটি নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই সমর্থন শুধু রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং মন্টগোমারি কাউন্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি যৌথ স্বপ্ন ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, তার প্রচারণা কোনো একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে নয়; বরং পুরো কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানান। রাদওয়ান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে তার কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা তাকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় পরিচিত একটি মুখে পরিণত করেছে। তার সমর্থকদের মতে, অভিবাসী পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির উপকণ্ঠে অবস্থিত মন্টগোমারি কাউন্টি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৈচিত্র্যময় জনপদ হিসেবে পরিচিত। এখানে দক্ষিণ এশীয়, আফ্রিকান, লাতিনো এবং অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে বহুসাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচন শুধু স্থানীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয় নয়; বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই প্রেক্ষাপটে রাদওয়ান চৌধুরীর প্রচারণা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মন্টগোমারি কাউন্টির বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান ও পরিকল্পনা ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। এর মধ্যেই রাদওয়ান চৌধুরী তার প্রচারণাকে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক ও অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ২০২৬–২০২৭ লায়ন্স বর্ষের নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন জেএফএম রাসেল। একই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন মাসুদ রানা তপন। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ এই ক্লাবের সদস্যদের সমর্থনে বর্তমান সভাপতি রাসেল আবারও নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন। তিনি এর আগে এক মেয়াদে সভাপতি, দুই মেয়াদে সেক্রেটারি, দুই মেয়াদে মেম্বারশিপ চেয়ারম্যান এবং দুই মেয়াদে জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, মাসুদ রানা তপন গত দুই মেয়াদে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সদস্যদের আস্থা অর্জন করেন। তার সততা, নেতৃত্বগুণ ও ক্লাবের প্রতি আন্তরিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিনি সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম সেরা ও সম্মানজনক ক্লাব হিসেবে পরিচিত। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর ৫১টি ক্লাবের মধ্যে সদস্য সংখ্যার দিক থেকে এই ক্লাব দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সেবামূলক প্রকল্পের দিক থেকে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্লাব। গত বছর ক্লাবটি স্থানীয় কমিউনিটি এবং দেশের বাইরের মানবসেবামূলক কার্যক্রমে ২ লক্ষ ডলারের বেশি সেবা প্রদান করেছে। নবনির্বাচিত সভাপতি লায়ন জেএফএম রাসেল এবং সেক্রেটারি লায়ন মাসুদ রানা তপন বলেন, “আমরা সকল লায়ন্স সদস্যকে একটি পরিবারের মতো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে কমিউনিটি, অসহায় মানুষ এবং দেশের বাইরের দরিদ্র মানুষের সেবায় আরও বড় পরিসরে কাজ করা। আমরা এই ক্লাবকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই এবং আগামী বছরকে একটি স্মরণীয় বছরে পরিণত করতে চাই।” নবনির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন, নির্বাচিত কমিটি এবং সকল সদস্যদের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে আবারও নিজের রাজনৈতিক দাপট প্রমাণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার লিটমাস টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যেখানে বড় জয় পেয়েছেন তার সমর্থিত প্রার্থীরা। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা, যারা জেলা পুনর্নির্ধারণ বা 'রিস্ট্রিক্টিং' পরিকল্পনায় তার বিরোধিতা করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্প সমর্থিত চ্যালেঞ্জারদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন একাধিক অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলের ভেতরে ট্রাম্পবিরোধীদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন বিবেক রামাস্বামী। প্রযুক্তি খাতের এই উদ্যোক্তা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রামাস্বামী এখন মূল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের মুখোমুখি হবেন। ওহাইওতে সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সহজ জয় পেয়েছেন শেরড ব্রাউন, যা আগামী দিনে ওহাইওতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও-র এই ফলাফল প্রমাণ করে যে রিপাবলিকান পার্টির ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ এখনো অটুট। বিশেষ করে দলের ভেতরের বিদ্রোহীদের হটিয়ে ট্রাম্প অনুসারীদের এই জয় আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।