- প্রচ্ছদ
- Topic
কানাডা
কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করলেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। স্টাডি পারমিট বা অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হলে এবং কানাডায় থাকার নতুন কোনো বৈধ পথ না থাকলে দেশে ফিরে যেতে হবে। আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এমন বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়া পোর্টেজ কলেজের একদল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের মধ্যে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন স্মিথ। সেখানে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এলে এবং তার ভিসা বা বৈধ স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি না পেলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। তবে স্মিথ একই সঙ্গে বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর এমন দক্ষতা থাকলে যা আলবার্টার শ্রমবাজারে প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে তাদের জন্য পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির বৈধ পথ তৈরির সুযোগ থাকা উচিত। অর্থাৎ তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, স্টাডি পারমিট নিজে থেকে স্থায়ীভাবে কানাডায় থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। কানাডার সরকারি ইমিগ্রেশন নীতিতেও একই মূলনীতি রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, স্টাডি পারমিটধারীদের তাদের পারমিটের শর্ত মেনে চলতে হয় এবং বৈধভাবে থাকার মেয়াদ শেষ হলে দেশ ছাড়তে হয়, যদি এর মধ্যে তারা অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস না পান। সাধারণভাবে একজন শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট তার শিক্ষা কার্যক্রমের মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে। এই সময় শিক্ষার্থী কানাডা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে অথবা বৈধভাবে অবস্থান বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারেন। আবার যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে কানাডায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় না। বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে আলবার্টার পোর্টেজ কলেজের কিছু গ্র্যাজুয়েট। কলেজটির নির্দিষ্ট কয়েকটি নন ক্রেডিট প্রোগ্রাম শেষ করা শিক্ষার্থীদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় শিক্ষার্থী। প্রত্যাখ্যানের পর ক্যালগারি ও এডমন্টনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিতেও অংশ নেন। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা যখন সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন, তখন তাদের ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হবেন। পরে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এই যুক্তিতে যে তারা যে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন সেটি নন ক্রেডিট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য নয়। তবে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা জানিয়েছে, নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে নতুন করে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে তাদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট পেতে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যোগ্য প্রোগ্রাম সম্পন্ন করাসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। পোর্টেজ কলেজও জানিয়েছে, কিছু নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটের ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি তারা জানে। তবে কারও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত কলেজ নেয় না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার কানাডার ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের। কলেজটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতি কানাডায় পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও সামনে এনেছে। কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কানাডার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেই সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রোগ্রাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য হবে, এমন নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম দুটির বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একইভাবে স্টাডি পারমিট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট এবং পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি তিনটি আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া। কানাডায় পড়াশোনা শেষ করার পর স্থায়ীভাবে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদা বৈধ ইমিগ্রেশন পথ অনুসরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করাই ভবিষ্যতে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
কানাডায় কাজ, পড়াশোনা বা ভ্রমণের জন্য ভিসা বা অনুমতিপত্রের আবেদন করা বিদেশিদের অনেকের ক্ষেত্রেই অভিবাসন-সংক্রান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু আবেদনকারীকে নতুন করে এই পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, আগের চিকিৎসা পরীক্ষা, কানাডায় বর্তমান অবস্থান এবং আবেদনকারীর স্বাস্থ্যঝুঁকির মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা না-ও চাইতে পারে কর্তৃপক্ষ। যে চার শ্রেণির আবেদনকারী ছাড়ের জন্য বিবেচিত হতে পারেন— ১. কানাডায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারী যারা কানাডায় স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আগের চিকিৎসা পরীক্ষার তথ্য বিবেচনা করে নতুন করে পরীক্ষা না করার সুযোগ থাকতে পারে। ২. ইতোমধ্যে কানাডায় বসবাসকারী বিদেশি কানাডায় অবস্থানরত কোনো বিদেশি নতুন কোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন করলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাকে আবার চিকিৎসা পরীক্ষা করতে নাও বলা হতে পারে। ৩. গত পাঁচ বছরের মধ্যে চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এমন আবেদনকারী কোনো আবেদনকারী গত পাঁচ বছরের মধ্যে অভিবাসন-সংক্রান্ত চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করে থাকলে, নতুন আবেদনের সময় নির্দিষ্ট শর্তে আগের পরীক্ষার ফল ব্যবহার করা যেতে পারে। ৪. আগের পরীক্ষায় জনস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার ঝুঁকি কম ছিল এমন আবেদনকারী আগের চিকিৎসা পরীক্ষায় যদি আবেদনকারীর স্বাস্থ্যগত অবস্থাকে জনস্বাস্থ্য বা জননিরাপত্তার জন্য কম বা কোনো ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে পরীক্ষা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরীক্ষা থেকে ছাড় স্বয়ংক্রিয় নয়। কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে কোনো আবেদনকারীর কাছ থেকে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা চাইতে পারেন। এ ছাড়া আবেদনকারীর নিজ দেশের পরিস্থিতি, কানাডায় কতদিন থাকার পরিকল্পনা, কী ধরনের কাজ করবেন এবং আগের কোথায় বসবাস বা ভ্রমণ করেছেন—এসব বিষয়ও চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের দেখাশোনা কিংবা এমন কিছু পেশায় কাজ করতে গেলে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোনো আবেদনকারী নিজেকে এই চার শ্রেণির একটির মধ্যে মনে করলেই চিকিৎসা পরীক্ষা লাগবে না—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন করার আগে কানাডার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ। এদিকে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় এক্সপ্রেস এন্ট্রি নিয়েও বিভিন্ন পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিদেশি কর্মী ও দক্ষ পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় নতুন অগ্রাধিকার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কানাডায় থাকার বৈধতা হারানো বা অভিবাসন আইন না মানার কারণে দেশটি থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯৬৮ বাংলাদেশিকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সিবিএসএর সর্বশেষ প্রকাশিত অভিবাসন অপসারণসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩০ জুন পর্যন্ত কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪০ হাজার ৮২৭। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক, ৭ হাজার ৬৬৯ জন। এরপর মেক্সিকোর ৬ হাজার ৫৬১, যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৭৯, চীনের ১ হাজার ৮৯২, নাইজেরিয়ার ১ হাজার ৬৪৭, কলম্বিয়ার ১ হাজার ২৩৭, পাকিস্তানের ১ হাজার ১৩৯, ব্রাজিলের ১ হাজার ১১৮ এবং চিলির ১ হাজার ৩০ জন রয়েছেন। ৯৬৮ জন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, এই ৪০ হাজার ৮২৭ জনের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জন এমন শরণার্থী আবেদনকারী, যাদের আবেদন বা সংশ্লিষ্ট অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে কানাডা থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৫৯১ জন শরণার্থী আবেদনকারী নন এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন না মানার অভিযোগে অপসারণ প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ, ভুল তথ্য দেওয়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারণেও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ফেরত পাঠানো একই বিষয় নয়। সিবিএসএর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ তালিকায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে এখনই দেশে ফেরত পাঠানো হবে, এমন নয়; অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, ভ্রমণ নথি সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে সময় লাগে। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে ৩০৮ জন বাংলাদেশিকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৭ জনে। কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় শরণার্থী আবেদনকারীদের একটি বড় অংশের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে বাংলাদেশিদের জন্য শুধু কানাডা নয়, ইউরোপেও আশ্রয় পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের সর্বশেষ বার্ষিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রায় ৩৭ হাজার আশ্রয় আবেদন করেন। আগের বছরের তুলনায় আবেদন কমলেও বাংলাদেশ তখনও ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করা নাগরিকদের প্রধান উৎস দেশগুলোর একটি ছিল। প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ২০২৬ সালেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে বাংলাদেশিরা প্রায় ৩ হাজার আশ্রয় আবেদন করেন এবং ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের স্বীকৃতির হার ছিল ৩ শতাংশ। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আশ্রয় ব্যবস্থায় কম স্বীকৃতির হার থাকা দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুততর প্রক্রিয়ার আওতায় আনার ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। কানাডার ক্ষেত্রে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা ৯৬৮ বাংলাদেশির সংখ্যা তাই দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে শুধু এই পরিসংখ্যান দিয়ে বাংলাদেশিদের সবাই অবৈধভাবে কানাডায় অবস্থান করছেন বা সবাই একই কারণে ফেরত পাঠানোর মুখে রয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সিবিএসএর তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, অপসারণের পেছনে শরণার্থী আবেদন, অভিবাসন আইন না মানা, অপরাধ, ভুল তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া থেকে টরন্টোগামী পোর্টার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ছোট এক শিশু সিটে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে না পারায় শেষ পর্যন্ত পুরো ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ৬ আগস্টের এ ঘটনায় শিশুটিকে নিরাপদে সিটবেল্ট পরাতে তার অভিভাবক ও কেবিন ক্রুরা একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হননি। ফলে উড়োজাহাজটি টার্মিনালে ফিরে যায় এবং পরদিন পর্যন্ত যাত্রীদের ভিক্টোরিয়াতেই থাকতে হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, উড্ডয়নের আগে শিশুটি বারবার নিজের সিটে দাঁড়িয়ে পড়ছিল এবং সিটবেল্ট দিয়ে তাকে নিরাপদে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। যেহেতু একজন যাত্রীকে নিরাপদভাবে সিটে সুরক্ষিত না করে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করা সম্ভব নয়, তাই ক্রুরা বিমানটি আবার টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর শিশুটি, তার অভিভাবক এবং তাদের লাগেজ বিমান থেকে নামানো হয়। একই সঙ্গে নতুন করে ফ্লাইট পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ করতে সময় লাগে। সব মিলিয়ে এত দেরি হয়ে যায় যে ভিক্টোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের রাত ১২টা ৩০ মিনিটের রানওয়ে বন্ধ হওয়ার সময় পেরিয়ে যায়। ফলে সেদিন আর টরন্টোর উদ্দেশে ফ্লাইটটি ছাড়তে পারেনি। ফ্লাইটের অন্য যাত্রীদেরও বিমান থেকে নেমে রাতটি ভিক্টোরিয়ায় কাটাতে হয়। পরে তাদের পরদিনের ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং দেওয়া হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই বিমান ভ্রমণের সময় ছোট শিশুদের নিরাপদে সিটে রাখার দায়িত্ব এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শিশুটির পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পোর্টার এয়ারলাইন্সের নীতিমালা অনুযায়ী, ফ্লাইট বাতিল বা বড় ধরনের বিলম্ব হলে যাত্রীদের পরবর্তী উপলভ্য ফ্লাইটে বিনা খরচে পুনরায় বুকিং দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৩ হাজার ৩২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে ডিপোর্ট বা দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর দেওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ডিপোর্টের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মোট ডিপোর্টের প্রায় ৮৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। গত বছর মোট ৩ হাজার ৭৭৯ জন ভারতীয়কে কানাডা থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছিল। অন্যদিকে, চলতি বছরের একই সময়ে মেক্সিকোর ১ হাজার ৫৭৩ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সিবিএসএ-এর তথ্যমতে, এই বিপুলসংখ্যক নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরও বর্তমানে আরও ৭ হাজার ৬৬৯ জন ভারতীয় কানাডা থেকে ডিপোর্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, যা অন্য যেকোনো দেশের নাগরিকদের তুলনায় সর্বোচ্চ। মূলত ভিসা জালিয়াতি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান, কানাডার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়াকেই ভারতীয় নাগরিকদের এই রেকর্ডসংখ্যক ডিপোর্টের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে কানাডা সরকার তাদের অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীদের ওপর। কানাডার অভিবাসন আইন অনুযায়ী, সাধারণত তিন ধরনের আইনি নির্দেশনার মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। এগুলো হলো—ডিপার্চার অর্ডার, এক্সক্লুশন অর্ডার এবং ডিপোর্টেশন অর্ডার।
কানাডায় উড্ডয়নের ঠিক আগে এক শিশুর সিটবেল্ট না বাঁধাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি মেনে শিশুটিকে সিটবেল্ট পরানো সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সিটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেদিন পোর্টার এয়ারলাইন্সের পিডি৪৪৪ ফ্লাইটটি টরন্টোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিমানটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে যাওয়ার পর কেবিন ক্রুরা দেখতে পান, এক শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী উড্ডয়নের সময় প্রত্যেক যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক। এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, শিশুটির বাবা-মা এবং কেবিন ক্রুরা তাকে সিটবেল্ট পরানোর একাধিক চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপদ অবস্থায় না থাকায় বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। তাই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে বিমান থেকে নামানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে রাত সাড়ে ১২টার বেশি বেজে যায়। ওই সময়ের পর ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ ছিল না। ফলে যাত্রীদের রাতটি ভিক্টোরিয়াতেই কাটাতে হয়। পরদিন শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে একই ফ্লাইট আবার যাত্রা শুরু করে এবং নির্ধারিত গন্তব্য টরন্টোতে পৌঁছে। ঘটনার পর যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পোর্টার এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উড্ডয়নের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি এমন প্রথম ঘটনা নয়। গত মাসেও সুইডেনগামী একটি ফ্লাইটে এক শিশুকে সিটে বসিয়ে সিটবেল্ট পরানো না যাওয়ায় উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়েছিল। সেই ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট শিশুদের আচরণ অনেক সময় অনিশ্চিত হতে পারে। তবে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী সিটবেল্ট সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো যাত্রী, বিশেষ করে শিশু, নিরাপদ অবস্থানে না থাকলে বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয় না।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আটলান্টিক উপকূলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাদা হাঙরের চলাচল নতুন করে গবেষকদের নজর কেড়েছে। প্রায় ১৪ ফুট দীর্ঘ ও ১ হাজার ৬৫০ পাউন্ডের বেশি ওজনের এই পুরুষ সাদা হাঙরের নাম ‘কনটেন্ডার’। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উপকূলে হাঙর দেখা যাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি হাঙর প্রজাতির স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র বদলে যাচ্ছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওশার্চ (Ocearch) জানায়, কনটেন্ডার আটলান্টিক মহাসাগরে এখন পর্যন্ত উপগ্রহ যন্ত্র বসানো সবচেয়ে বড় পুরুষ সাদা হাঙর। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এর পৃষ্ঠপাখনায় স্যাটেলাইট ট্যাগ সংযুক্ত করা হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর বয়সী এই হাঙর প্রতি বছর মৌসুমি অভিবাসনের অংশ হিসেবে ফ্লোরিডা থেকে কানাডা পর্যন্ত যাতায়াত করে। চলতি বছরের ১১ জুলাই সর্বশেষ কানাডার নোভা স্কশিয়া উপকূলে এর অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে উত্তর ক্যারোলাইনা ও মেইনের কাছেও একাধিকবার এর অবস্থান ধরা পড়ে। কনটেন্ডারের এই যাত্রাপথ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকতে হাঙর দেখা যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। শুধু জুলাই মাসেই নিউইয়র্ক সিটির রকঅ্যাওয়ে সৈকতের আশপাশে ১৬ বার হাঙর দেখা গেছে। এতে অনেক পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঙর দেখা যাওয়ার সংখ্যা বাড়লেও মানুষের ওপর হামলার ঝুঁকি এখনও খুবই কম। ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক শ্যানন ব্যারি বলেন, সমুদ্রের পানি উষ্ণ হওয়ার কারণে হাঙরের অনেক প্রজাতি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে চলে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বুল হাঙরও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ধরে আগের তুলনায় আরও উত্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব হাঙর নদীর মোহনা ও স্বল্প লবণাক্ত পানিতেও সহজে চলাচল করতে পারে। ফলে যেসব এলাকায় মানুষ সাঁতার কাটেন বা মাছ ধরেন, সেখানে মানুষ ও হাঙরের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে গবেষকদের মতে, এ পরিবর্তনকে আতঙ্কের চেয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান প্রভাব হিসেবে দেখা উচিত। গত মাসে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্র শোষণ করে নিচ্ছে। এর সঙ্গে চলমান এল নিনো পরিস্থিতিও সমুদ্রকে আরও উষ্ণ করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ হাঙর ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলে। তাই সমুদ্র উষ্ণ হলে তারা নতুন এলাকায় চলে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বড় সাদা হাঙরের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, অতিরিক্ত উষ্ণ পানিতে এ ধরনের হাঙরের শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে প্রাণঘাতী ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এ মাসেই ফ্লোরিডার একটি সৈকতে এক ব্যক্তি হাঙরের কামড়ে আহত হন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন এমন ঘটনা ঘটলেও বিশ্বজুড়ে হাঙরের আক্রমণ এখনও অত্যন্ত বিরল। গত বছর বিশ্বে উসকানিবিহীন হাঙরের কামড়ের ঘটনা ছিল মাত্র ৬৫টি, যার মধ্যে ২৫টি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে প্রতি বছর মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রায় ১০ কোটি হাঙর মারা যায়। মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে কিংবা খাদ্য, খেলাধুলা ও হাঙরের পাখনার বাণিজ্যের জন্য বিপুলসংখ্যক হাঙর নিধন করা হয়। গবেষকদের মতে, সমুদ্রে হাঙরের উপস্থিতি সাধারণত একটি সুস্থ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের লক্ষণ। কারণ খাদ্যশৃঙ্খল স্বাভাবিক থাকলেই শীর্ষ শিকারি হিসেবে হাঙরের সংখ্যা টিকে থাকে। শার্ক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নিল হ্যামারশলাগ বলেন, সংরক্ষণ কার্যক্রম ও আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার কারণে এখন অনেক এলাকায় হাঙর সহজে শনাক্ত হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবেও তারা এমন সব অঞ্চলে যাচ্ছে, যেখানে আগে খুব কম দেখা যেত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কেপ কডের আরও উত্তরে এখন টাইগার হাঙর দেখা যাচ্ছে, যা আগে ছিল অত্যন্ত বিরল। তিনি আরও বলেন, হাঙরের ভয়ে সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। কারণ হাঙর সাধারণত মানুষকে এড়িয়ে চলতে চায়। তবে সমুদ্রে নামার সময় কিছু সতর্কতা মানা উচিত। যেমন চকচকে গয়না না পরা, সন্ধ্যার সময় বা মাছের অস্বাভাবিক চলাচল দেখা গেলে পানিতে না নামা। তার ভাষায়, মানুষ সমুদ্রের স্থায়ী বাসিন্দা নয়, বরং অতিথি। আর হাঙরের জন্য সমুদ্রই তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত বিখ্যাত ইলেক্ট্রনিক মিউজিক ফেস্টিভ্যাল থেকে ২৮ বছর বয়সী এক নারী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। কায়লা বোইসভার্ট নামের ওই তরুণী পেশায় একজন ইভেন্ট প্যারামেডিক বা চিকিৎসাকর্মী। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার রাত সোয়া ২টার দিকে সালমো শহরের শাম্ভালা মিউজিক ফেস্টিভ্যালে তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ যৌথভাবে জোর তল্লাশি ও তদন্ত শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্টারিওর ট্রেনটনের বাসিন্দা কায়লা কেবল এই উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্যই ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসেছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, রবিবার বিকেলে 'থ্রেডস'-এ এক বন্ধুর সঙ্গে হাসিমুখে তোলা একটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেখানে ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, অবশেষে এই রত্নের (বন্ধুর) সঙ্গে আনন্দ করতে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় এসে পৌঁছেছেন। উৎসবস্থলে তার সঙ্গে থাকা এক বন্ধু জানিয়েছেন, রাত ৩টার দিকে কায়লার সঙ্গে তার সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর থেকে কায়লার ফোন বন্ধ বা সংযোগের বাইরে রয়েছে। কায়লার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তার ওই বন্ধু ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন যে, তিনি স্থানীয় সব হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছেন, কিন্তু কোথাও কায়লার কোনো নাম বা তথ্য নেই। নিখোঁজ হওয়ার সময় কায়লার পরনে একটি গ্রাফিক টি-শার্ট ও সাইকেডেলিক বা রঙিন প্যাটার্নের প্যান্ট ছিল এবং তার পিঠে একটি ব্যাকপ্যাক ছিল। জনসাধাণের সাহায্যে তাকে যেন দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়, সেজন্য ওই বন্ধু কায়লার সর্বশেষ পরিহিত পোশাকের ছবিও অনলাইনে শেয়ার করেছেন।
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি দক্ষিণ ফ্রান্সে দারুণ রোমান্টিক সময় কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার বন্ধুদের একটি দলের সঙ্গে নৌবিহারে গিয়ে এই জুটিকে বেশ অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে। পেজ সিক্সের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা যায়, হালকা নীল রঙের একটি স্প্যাগেটি-স্ট্র্যাপ পোশাক পরিহিত কেটি পেরির বুকে পরম যত্নে সানস্ক্রিন মাখিয়ে দিচ্ছেন ট্রুডো। চোখে রোদচশমা এবং কানে বড় দুল পরা ‘ফায়ারওয়ার্ক’ খ্যাত এই গায়িকা তখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে খালি পায়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরে দুজনকে নৌকায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখে সেলফি তুলতেও দেখা যায়। শনিবার সুইজারল্যান্ডে পারফর্ম করার মাধ্যমে নিজের ‘ইউরো সামার ফেস্টিভ্যাল’ ট্যুর শেষ করেছেন কেটি পেরি। মূলত দীর্ঘ এই কনসার্ট ট্যুরের ক্লান্তি দূর করতেই তিনি এই অবকাশ যাপনে বের হয়েছেন। গত মাসেই একটি সূত্র জানিয়েছিল যে, কাজের ফাঁকে প্রেমিক এবং সম্ভব হলে সন্তানদের নিয়ে ইয়টে করে সুন্দর কোনো জায়গায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এই পপ তারকা। নৌবিহার শেষে এই জুটিকে ডক ধরে হাঁটতেও দেখা যায়। সে সময় ৪১ বছর বয়সী পেরির চোখ ছিল মোবাইল ফোনে এবং ৫৪ বছর বয়সী ট্রুডোর কাঁধে ছিল একটি বড় টোট ব্যাগ। ক্যাজুয়াল এই আউটিংয়ে ট্রুডোর পরনে ছিল জলপাই রঙের লম্বা হাতার শার্ট, খাকি রঙের প্যান্ট এবং বাদামি স্যান্ডেল। দীর্ঘ এক বছর ধরে প্রেম করছেন ট্রুডো ও পেরি এবং নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে তাদের কোনো রাখঢাক নেই। গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় একটি রোমান্টিক পিকনিকের সময় তাদের আবেগঘন চুম্বনের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছিল। একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মন্ট্রিয়লে প্রথম ডেটের পর থেকেই তারা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। সূত্রটি আরও জানায়, দুজনেই তাদের আগের সিরিয়াস সম্পর্ক থেকে সদ্য বেরিয়ে এসেছিলেন এবং পেরি নিজেও ভাবেননি যে তিনি এত দ্রুত কারও প্রেমে পড়বেন। কেটি পেরি তার প্রাক্তন বাগদত্ত অরল্যান্ডো ব্লুমের ৫ বছর বয়সী মেয়ে ডেইজির মা। অন্যদিকে, জাস্টিন ট্রুডো তার প্রাক্তন স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের ঘরের তিন সন্তান—জেভিয়ার (১৮), এলা-গ্রেস (১৭) এবং হ্যাড্রিয়েন (১২)-এর বাবা। আগের সম্পর্কের তিক্ততা ভুলে বর্তমানে তারা দুজন দারুণ সময় পার করছেন। পেরির মতে, জীবনসঙ্গীর মধ্যে তিনি যা যা খুঁজছিলেন, ট্রুডোর মধ্যে তার সবই আছে। কানাডার সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দুর্দান্ত রসবোধ, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব এবং পুরোদস্তুর ভদ্রোচিত আচরণের কারণেই পেরি তার প্রতি ভীষণ মুগ্ধ।
পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা জারি করেছে কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি)। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ভারতীয় শিক্ষার্থীর ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতি বাতিল হওয়ার পর উদ্ভূত বিভ্রান্তি দূর করতেই এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য আসা বিদেশি শিক্ষার্থীরা ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ করলে কাজ করার আইনি বৈধতা পাবেন, তা নতুন এই নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্দেশনায় আইআরসিসি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, হাতে শুধু স্টাডি পারমিট থাকলেই কোনো শিক্ষার্থী শর্তহীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন না। ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ করতে চাইলে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে অবশ্যই কানাডা সরকার অনুমোদিত কোনো 'ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশন' (ডিএলআই)-এ পূর্ণকালীন (ফুল-টাইম) শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়নরত থাকতে হবে। এছাড়া তাদের এমন কোনো একাডেমিক, ভোকেশনাল বা প্রফেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রামে যুক্ত থাকতে হবে, যার মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস এবং পড়াশোনা শেষে যা একটি সুনির্দিষ্ট ডিগ্রি, ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রদান করবে। নির্দেশনায় সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ক্লাস বা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হওয়ার আগে কোনোভাবেই কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী কানাডায় কোনো ধরনের কাজ শুরু করতে পারবেন না। কানাডা সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে না যান, তা নিশ্চিত করা। ইমিগ্রেশন দপ্তর কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, উল্লেখিত নিয়মগুলোর সামান্যতম লঙ্ঘন হলেও শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হতে পারে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে তাদের কানাডায় অবস্থান করা বা ইমিগ্রেশন আবেদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকটের কারণে কানাডা সরকার অভিবাসন নীতিতে যেসব কড়াকড়ি আরোপ করছে, এই নির্দেশনা তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো কানাডার টরন্টোয় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট ভবনে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় সোমবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে কনস্যুলেট ভবনের বাইরে পাহারারত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপরই লাইসেন্স প্লেটবিহীন একটি সাদা গাড়িকে দ্রুতগতিতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ভবনের বাইরের দেওয়ালে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। ঘটনার সময় কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এই ভবনের ভেতরে অন্তত দুজন কর্মী উপস্থিত থাকলেও পুরু দেওয়ালের কারণে তারা গুলির কোনো শব্দ শুনতে পাননি। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। টরন্টো পুলিশের উপপ্রধান ফ্র্যাঙ্ক বারেডো জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের ধরতে শহরজুড়ে পুলিশি সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়া গাড়িটির পিছু নিলেও জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরে ধাওয়া বন্ধ করে দেয়। টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এই হামলাকে 'দুঃসাহসী' আখ্যা দিয়ে অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্তমানে এই তদন্তকাজে টরন্টো পুলিশকে সহায়তা করছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এবং বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এর আগে গত মার্চ মাসেও একই কনস্যুলেটে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যেটিকে পুলিশ ‘জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সেই ঘটনার তদন্তে অভিযান চালাতে গিয়ে গত জুনে পুলিশ কর্মকর্তা মার্ক পিনিজোট্টো নিহত হন। পরবর্তীতে ১৮ ও ১৯ বছর বয়সী কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, কনস্যুলেটে হামলার এই ঘটনাগুলো মূলত ভাড়াটে বন্দুকধারীদের একটি বৃহত্তর চক্রের কাজ। এদিকে, গত রবিবার টরন্টোয় ইহুদি মালিকানাধীন দুটি বেকারিতেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অন্তত একটিতে গুলি চালানো হয়। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত কনস্যুলেট ও বেকারিতে হামলার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সাম্প্রতিক এসব সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই ঘটনায় মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মে মাসে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ইহুদি প্রতিষ্ঠান এবং টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে মোহাম্মদ বাকের সাদ দাউদ আল-সাদি (৩২) নামের এক ইরাকি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে সর্বশেষ এই কনস্যুলেট হামলার সঙ্গে তার বা তার চক্রের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।
কানাডা সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় ভুল পরিচয়ের কারণে এক এইচ-১বি ভিসাধারী ভ্রমণকারীকে আটক করে হাতকড়া পরায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা। পরে আঙুলের ছাপ ও পরিচয় যাচাই শেষে এটি নামের বিভ্রান্তি ছিল বলে নিশ্চিত হয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সপ্তাহান্তে ডেট্রয়েট-উইন্ডসর সীমান্তে ঘটে। ভ্রমণকারী প্রথমবারের মতো সড়কপথে কানাডা সফর করে মিশিগানে ফিরছিলেন। তার এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ শেষ হতে তখনও এক মাসের বেশি সময় বাকি ছিল। সীমান্তে নিয়মিত জিজ্ঞাসাবাদের পর এক কর্মকর্তা তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। বাইরে অপেক্ষমাণ দুই কর্মকর্তা তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে একটি আটককক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার শরীর তল্লাশি করা হয়। পরে হাতকড়া খুলে অন্য কক্ষে নিয়ে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং নাম, কানাডা সফরের উদ্দেশ্য ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন, তারা যাকে খুঁজছিলেন এই ভ্রমণকারী তিনি নন। পরিচয় যাচাইয়ে দেখা যায়, একই বা কাছাকাছি নামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গে বিভ্রান্তির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর তাকে আরও কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয় এবং কম্পিউটারে তথ্য যাচাই শেষে প্রায় ৩০ মিনিট পর জানিয়ে দেওয়া হয় যে এটি কেবল পরিচয়গত বিভ্রান্তি ছিল। এরপর তাকে যেতে দেওয়া হয়। ঘটনার পর ওই ভ্রমণকারী নিজের অভিজ্ঞতা অনলাইনে প্রকাশ করে জানতে চান, ভবিষ্যতেও এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন কি না। তার পোস্টের জবাবে অনেকেই জানান, মিশিগান সীমান্তে একই ধরনের পরিচয় বিভ্রান্তির কারণে তারা অতীতে অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ বা আটকের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত পরিচয়জনিত বিভ্রান্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তার আবেদন করা যায়। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অন্টারিওর এক সংগীতশিল্পী একই নামের এক অপরাধীর সঙ্গে বিভ্রান্তির কারণে ডেট্রয়েট সীমান্তে আটক হয়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর তার পরিচয় নিশ্চিত হলে তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশের সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভিজিট ভিসায় কানাডায় গিয়ে ১৭৫ জন দর্শনার্থী রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১০ জন বাংলাদেশি। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। আইআরসিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট অস্থায়ী বসবাসের আবেদন অনুমোদন পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে ১৭৫ জন পরবর্তীতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন করেন। আবেদনকারীরা নিজেদের অস্থায়ী বসবাসের আবেদনে ফিফা বিশ্বকাপের দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তথ্যে দেখা গেছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ জন ঘানার নাগরিক। এছাড়া মিশর ও কলম্বিয়া থেকে ১৫ জন করে, সেনেগাল থেকে ১০ জন এবং ইকুয়েডর থেকে ৫ জন আবেদন করেছেন। বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে এমন কয়েকটি দেশের নাগরিকদের আবেদন, যাদের জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে কেনিয়া, চীন, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তান। এর মধ্যে কেনিয়া থেকে ১৫ জন, চীন, বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়া থেকে ১০ জন করে এবং বুরুন্ডি, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে ৫ জন করে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। জুন ও জুলাই মাসে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারে বিশ্বকাপের মোট ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ২৬ হাজারের বেশি ভিসা ইস্যু করেছিল কানাডা। তবে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে কতজন ফুটবলার, কোচ, কর্মকর্তা বা দলের সহায়তাকারী সদস্য ছিলেন, সে তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আইআরসিসি। কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব দর্শনার্থী এখনও বৈধ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আশ্রয়ের আবেদন করেননি, তাদের মধ্যে কেউ পরে আবেদন করলে মোট সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কানাডা সরকার সতর্ক করেছিল, টুর্নামেন্ট শেষে দর্শনার্থীরা যাতে নিজ নিজ দেশে ফিরে যান, তা নিশ্চিত করতে ভিসা আবেদন কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যদি কর্মকর্তারা মনে করেন তিনি ভ্রমণের আড়ালে কানাডায় থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে অথবা দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে ভোরে গুলি বর্ষণের একটি ঘটনা ঘটেছে। গত চার মাসের মধ্যে কূটনৈতিক এই মিশনে এ ধরনের হামলার দ্বিতীয় ঘটনা এটি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত শুরু করেছে কানাডার পুলিশ। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে কনস্যুলেটের কাছাকাছি এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের বিকট শব্দ শুনতে পান দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। ঘটনার পরপরই একটি সাদা রঙের সেডান গাড়িকে দ্রুত ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এবং আলামত সংগ্রহের জন্য কনস্যুলেটের আশেপাশের পুরো এলাকাটি সাময়িকভাবে ঘিরে রেখেছে। এর আগে গত ১০ মার্চ একই কনস্যুলেট ভবন লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পরবর্তীতে ১৮ ও ১৯ বছর বয়সী দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করেছিল যে আগের সেই গুলির ঘটনাটি মূলত টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা কোনো বন্দুকধারীর কাজ ছিল, যেখানে কম বয়সী তরুণদের সুনির্দিষ্ট ওই লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ভাড়া করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই নতুন ঘটনার পর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সীমান্ত পারাপারকে আরও সহজ করতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু। সোমবার (২৭ জুলাই) যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় উত্তর আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগস্থলটি। নতুন এই সেতুটি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরের সঙ্গে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের উইন্ডসর শহরকে সরাসরি সংযুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ কেবল-স্টেইড এই আন্তর্জাতিক সেতুটি কানাডা সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে। গর্ডি হাও ইন্টারন্যাশনাল ব্রিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক এই সেতু উত্তর আমেরিকার অন্যতম ব্যস্ত সীমান্ত করিডরে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনকে আগের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত, নিরাপদ এবং কার্যকর করে তুলবে। এতে অত্যাধুনিক কাস্টমস প্লাজা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক ট্রাক চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে ডেট্রয়েট-উইন্ডসর করিডরে দীর্ঘদিনের যানজট যেমন কমবে, তেমনি সীমান্ত পারাপারের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সেতুটিকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কর্মকর্তারা জানান, ডেট্রয়েট–উইন্ডসর করিডর দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন হয়। নতুন এই সংযোগ সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় কমাবে এবং দুই দেশের মধ্যকার শত শত বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করবে। বিশেষ করে মোটরগাড়ি, উৎপাদন ও কৃষিশিল্পের পণ্য পরিবহনে এই সেতু অভাবনীয় ভূমিকা রাখবে। কানাডার কিংবদন্তি আইস হকি তারকা গর্ডি হাওয়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে নামকরণ করা এই সেতুটি কয়েক বছরের ব্যাপক নির্মাণযজ্ঞ শেষে অবশেষে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা করল।
কানাডার এডমন্টনে নিজ বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণী। নিহত ওই তরুণীর নাম দমনপ্রীত কৌর, যিনি ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লুধিয়ানা জেলার সামরালা এলাকার বাসিন্দা। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত তরুণীর ২২ বছর বয়সী প্রেমিক রিতিশ কুমারকে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডার’-এর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে কানাডার পুলিশ। এডমন্টন পুলিশ সার্ভিসের (ইপিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুলাই (২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে সিলভারবেরি এলাকার একটি বাড়ি থেকে সন্দেহজনকভাবে আহত ও অচেতন অবস্থায় দমনপ্রীতকে উদ্ধার করা হয়। এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জুলাই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হেফাজতে নেয়। গত ১৪ জুলাই এডমন্টন মেডিকেল এক্সামিনার অফিসের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এই মৃত্যুকে সুস্পষ্ট ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রথমে গোপন রাখা হলেও, গত ২৩ জুলাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, শ্বাসরোধ করার কারণেই দমনপ্রীতের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি ‘ইন্টিমেট পার্টনার হোমিসাইড’ বা সঙ্গীর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং তারা আপাতত এই ঘটনায় অন্য কোনো সন্দেহভাজনকে খুঁজছে না। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গত ২২ জুলাই প্রেমিক রিতিশ কুমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদিকে, নিহত তরুণীর মরদেহ নিজ দেশ ভারতে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নিতে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আন্তর্জাতিক পরিবহন, আইনি নথিপত্র এবং শেষকৃত্যের বিপুল খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষের কাছে অনুদানের আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে। ইতোমধ্যে ২০ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুমতি সীমার অতিরিক্ত মার্কিন ও কানাডিয়ান ডলার বহনের অপরাধে এক কানাডিয়ান নাগরিককে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। কাস্টমস, ট্যাক্সেশন অ্যান্ড অ্যান্টি-স্মাগলিং বিষয়ক বিশেষ আদালত এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম রাহিল ধন্নানি। বিশেষ আদালতের বিচারক ড. শাবান ওয়াহিদ কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারায় তাকে পাঁচ ও তিন বছর করে মোট আট বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি রাহিল ধন্নানি তার পরিবারসহ ব্যাংকক হয়ে করাচি থেকে কানাডার ভ্যানকুভারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সে সময় কাস্টমস কর্মকর্তারা তাকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে আছে কি না তা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তবে তার লাগেজ তল্লাশি করে ১ লাখ ১১ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার এবং ৩১ হাজার ৪২৫ কানাডিয়ান ডলার উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নাইমাতুল্লাহ সুমরো জানান, আইনগত সীমার অতিরিক্ত এই বৈদেশিক মুদ্রা অবৈধভাবে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, অভিযুক্তকে কোনো ডিক্লেলারেশন ফর্ম দেওয়া হয়নি এবং কাস্টমস তল্লাশির চূড়ান্ত ধাপ অতিক্রম করার আগেই তাকে আটক করা হয়েছিল। তবে আদালত ডিফেন্সের এই যুক্তি খারিজ করে দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী হওয়ায় কাস্টমস নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন। কাস্টমস কর্মকর্তার সরাসরি প্রশ্নের পরও মিথ্যা বলা এবং কোনো সন্তোষজনক বৈধ ব্যাখ্যা না দেওয়ায় এটি স্পষ্ট যে তিনি জেনেশুনে এবং সচেতনভাবে আইন লঙ্ঘন করে মুদ্রা পাচারের চেষ্টা করেছিলেন। সব তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন। সূত্র: ডন
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের এডমন্টনে বসবাসরত ভারতের পাঞ্জাবের ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী দামানপ্রীত কৌরের মৃত্যুর ঘটনায় তার ২২ বছর বয়সী লিভ-ইন সঙ্গী ঋতীশ কুমারের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে ‘ইনটিমেট পার্টনার হোমিসাইড’ বা ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছেন। এডমন্টন পুলিশ সার্ভিস (ইপিএস) জানায়, গত ৯ জুলাই শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিলভারবেরি এলাকার একটি বাসা থেকে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় দামানপ্রীত কৌরকে উদ্ধার করা হয়। জরুরি চিকিৎসা সেবা কর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ১২ জুলাই তিনি মারা যান। ১৪ জুলাই সম্পন্ন হওয়া ময়নাতদন্তে তার মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ বলে নিশ্চিত করা হয় এবং ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২২ জুলাই ভারতীয় নাগরিক ঋতীশ কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কোনো সন্দেহভাজনকে খোঁজা হচ্ছে না। অভিযোগটি আদালতে এখনও প্রমাণিত হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দামানপ্রীত কৌর পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার সামরালা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং শিক্ষার্থী ভিসায় কানাডায় পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনতে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কানাডায় ‘ইনটিমেট পার্টনার হোমিসাইড’ বলতে বর্তমান বা সাবেক স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা একসঙ্গে বসবাসকারী সঙ্গীর হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে বোঝানো হয়। এ ধরনের মামলায় তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারিক প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
শিশুদের নিয়ে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে এক কানাডীয় পরিবারকে সীমান্তে প্রায় ১২ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মুঠোফোন তল্লাশি করা হয় এবং একজনের ফোন রেখে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফোনটি ফেরত পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের এক বন্ধুর ভাষ্য। ঘটনাটি সামনে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে প্রকাশিত একটি পোস্টের মাধ্যমে। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। ভ্রমণকারীদের এক বন্ধু ওই পোস্টে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সীমান্তে কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। পরে ভ্রমণবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রাভেল ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, পরিবারটির সদস্যরা কানাডার নাগরিক। তবে সীমান্তে নথিপত্র পরীক্ষা করার সময় তাদের কাছে তিউনিসিয়ার পাসপোর্টও পাওয়া যায়। এরপর তাদের আরও বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তিউনিসিয়ার দ্বিতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণেই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, এমন কোনো তথ্য মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি নিশ্চিত করেনি। পরিবারটির প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নির্দিষ্ট কারণও প্রকাশ্যে জানা যায়নি। পরিবারটির বন্ধুর দাবি, সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনের সময় তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় এবং মুঠোফোন পরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে একজনের ফোন নিজেদের কাছে রেখে দেন সিবিপি কর্মকর্তারা। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, শুরুতে কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে প্রক্রিয়াটি শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না। কিন্তু অপেক্ষা দীর্ঘ হতে হতে প্রায় ১২ ঘণ্টায় গড়ায়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে কানাডায় ফেরত পাঠানো হয়। পরিবারটির একজনের মুঠোফোন ঘটনার তিন সপ্তাহ পরও ফেরত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন পোস্টদাতা। ফোনটির বিষয়ে জানতে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান। এই নির্দিষ্ট ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সিবিপির পক্ষ থেকেও পরিবারটির পরিচয়, ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের কারণ কিংবা ফোনটি দীর্ঘ সময় ধরে রাখার বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে বিদেশি ভ্রমণকারীদের সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। সিবিপির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক যাচাইয়ের সময় নথিপত্র বা দেওয়া তথ্যে কোনো বিষয় আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে, অভিবাসনসংক্রান্ত প্রশ্ন দেখা দিলে অথবা কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন মনে করলে একজন যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠাতে পারেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রীকে দৈবচয়নের ভিত্তিতেও অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়। সিবিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথগুলোতে ৪২ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় এক কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার যাত্রীকে সেকেন্ডারি ইন্সপেকশনে পাঠানো হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর প্রায় ৩ শতাংশ। সীমান্তে মুঠোফোন তল্লাশির বিষয়েও সিবিপির নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশটি থেকে বের হওয়ার সময় কর্মকর্তারা প্রয়োজনে যাত্রীর মুঠোফোন, কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরীক্ষা করতে পারেন। সিবিপির হিসাবে, ২০২৪ অর্থবছরে ৪৭ হাজার ৪৭ জন আন্তর্জাতিক যাত্রীর ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হয়েছিল, যা মোট যাত্রীর শূন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশেরও কম। সিবিপির নীতিমালা অনুযায়ী, সীমান্ত তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সাময়িকভাবে নিজেদের কাছে রাখতে পারেন কর্মকর্তারা। পাঁচ দিনের বেশি ডিভাইস রাখতে হলে উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে এবং ১৫ দিনের বেশি রাখার ক্ষেত্রেও আরও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন। তাই আলোচিত ঘটনায় ফোনটি সত্যিই তিন সপ্তাহ ধরে সিবিপির কাছে থেকে থাকলে সেটি সাধারণ প্রাথমিক সময়সীমার চেয়ে দীর্ঘ। তবে কেন ফোনটি রাখা হয়েছে বা এর জন্য প্রয়োজনীয় ঊর্ধ্বতন অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। কানাডার নাগরিকদের সাধারণ পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কানাডার নাগরিকত্ব বা পাসপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথে একজন বিদেশি নাগরিককে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সিবিপি কর্মকর্তাদের রয়েছে। এ কারণে পরিবারটির দ্বিতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর অতিরিক্ত যাচাই শুরু হওয়ার দাবি সংবাদটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, সেই পাসপোর্টকেই তাদের প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখানোর মতো সরকারি তথ্য এখন পর্যন্ত নেই।
কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় ৪ হাজার ৩০০ পাউন্ড ক্যানজাত চিকেন নুডলস স্যুপ বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইনস্পেকশন সার্ভিস (FSIS)। কারণ, পণ্যগুলো বাধ্যতামূলক আমদানি পুনঃপরিদর্শন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালার লঙ্ঘন। এফএসআইএস জানিয়েছে, কানাডার কুইবেকভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান BCI Foods Inc. স্বেচ্ছায় এই রিকল কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রত্যাহার করা পণ্যটি ১০ দশমিক ৫ আউন্সের “tasty KITCHEN Chicken Noodle Condensed Soup PRODUCT OF CANADA” নামে বিক্রি হচ্ছিল। এটি ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে উৎপাদিত হয় এবং ক্যানে “Best By: 2028 FE 04”, লট কোড “5 9 2 26 035” ও কানাডার প্রতিষ্ঠান নম্বর “EST. 142” উল্লেখ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই চালানটি ওকলাহোমার বিভিন্ন ফুড ব্যাংক ও খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি নিজেই এফএসআইএসকে জানায় যে, পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় আমদানি পুনঃপরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়নি। এরপরই রিকলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এফএসআইএস বলেছে, এখন পর্যন্ত এই স্যুপ খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির শিকার হয়েছেন—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট পণ্য যাদের কাছে রয়েছে, তাদের এটি না খেয়ে ফেলে দেওয়া অথবা কেনা প্রতিষ্ঠানে ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রত্যাহার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত নজরদারি চালাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানকে বাজার থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকদের ভিজিটর বা দর্শনার্থী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৬টি আবশ্যিক শর্তের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা নামে পরিচিত এই ভিসার মাধ্যমে মূলত পর্যটন, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন কাজের জন্য দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা ও অপরাধমূলক রেকর্ডের পাশাপাশি আবেদনকারীর সঙ্গে তার নিজ দেশের সম্পর্ক কতটা দৃঢ় এবং নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সদিচ্ছা আছে কি না—সেসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। ভিসা পাওয়ার প্রথম শর্ত অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রত্যেক আবেদনকারীর অবশ্যই একটি বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে এবং প্রয়োজনে তা প্রমাণে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন করতে হতে পারে। তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, কানাডার আইন অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য এমন কোনো অপরাধমূলক বা ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত রেকর্ড থাকলে আবেদনকারী ভিসার জন্য সরাসরি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। চতুর্থ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো, নিজ দেশের সাথে আবেদনকারীর দৃঢ় সম্পর্ক থাকা। নিজ দেশে আবেদনকারীর চাকরি, স্থাবর সম্পত্তি বা পরিবারের মতো শক্তিশালী কারণগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কানাডা যাচ্ছেন। চতুর্থ শর্তটির সাথেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছে পঞ্চম শর্তটি। এখানে আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি কানাডা ত্যাগ করবেন। এটি আবেদনের অন্যতম সংবেদনশীল দিক, যা প্রতিটি কেস অনুযায়ী ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সর্বশেষ ও ষষ্ঠ শর্তটি হলো আর্থিক সক্ষমতা। কানাডায় অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ খরচ বহনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে থাকতে হবে। ভ্রমণের সময়কাল এবং তিনি কোথায় থাকবেন (হোটেলে নাকি পরিচিত কারও বাসায়), তার ওপর ভিত্তি করে এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। এই ছয়টি মূল শর্তের বাইরেও অনেক সময় কানাডায় বসবাসরত কোনো আয়োজকের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র বা ইনভাইটেশন লেটার চাওয়া হতে পারে, যা ভিসা আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে। তবে ভিজিটর ভিসার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি, তাই আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপরই নির্ভর করে। এদিকে, আরেকটি পৃথক ঘোষণায় কানাডা তাদের 'প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রাম' (PGP)-এর আওতায় নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) জানিয়েছে, দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে টেকসই ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।