সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

কানাডা

ভিসা প্রসেসিং এর প্রক্রিয়া ছবি : সংগৃহীত।
কানাডা থেকে ৩৪০ বাংলাদেশি বহিষ্কার, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন

কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশটি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক অপসারণ প্রক্রিয়ার আওতায় ছিলেন। কানাডার সরকারি সংস্থা কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।    সিবিএসএর হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কানাডা বিভিন্ন দেশের মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে অপসারণ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ৩৪০। নাগরিকত্বের হিসাবে এই সময়ে ভারতীয় ৪ হাজার ২২৭ জন, মেক্সিকোর ২ হাজার ২৮২ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জনকে অপসারণ করা হয়েছে।   তবে আলোচনার বড় বিষয় হলো, অপসারণ প্রক্রিয়ায় থাকা ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি। এই সংখ্যা এমন নয় যে সবাইকে ইতোমধ্যে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে বা সবাইকে শিগগিরই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। সিবিএসএর ভাষায়, ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে কাজ করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কাছ থেকে ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের মতো বিষয়ও থাকতে পারে।    কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় কোনো বিদেশি নাগরিকের দেশে প্রবেশ বা অবস্থানের আইনগত অধিকার না থাকলে তাকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপসারণ আদেশ থাকলেই তাকে সঙ্গে সঙ্গে দেশ থেকে বের করে দেওয়া যায় না।   সিবিএসএ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি সুযোগ ও প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই অপসারণ কার্যকর করা হয়। আদালতের স্থগিতাদেশ, প্রি-রিমুভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ফৌজদারি মামলা, কারাদণ্ড কিংবা ভ্রমণ নথি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপসারণ বিলম্বিত হতে পারে।   সংবাদে সাধারণভাবে ‘বহিষ্কার’ শব্দটি ব্যবহার করা হলেও কানাডার সরকারি পরিসংখ্যানে ‘removal’ বা অপসারণ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অপসারণ আদেশ রয়েছে।২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে কানাডায় কার্যকর হওয়া মোট ১৪ হাজার ৮৯৭টি অপসারণের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৭টি ছিল ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার এবং ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপার্চার অর্ডারের আওতায়।   অর্থাৎ, ৩৪০ বাংলাদেশির সবাই একই ধরনের আদেশের ভিত্তিতে অপসারিত হয়েছেন—এমন তথ্য সরকারি নাগরিকত্বভিত্তিক পরিসংখ্যানে নেই।   ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে নাগরিকত্বের হিসাবে সবচেয়ে বেশি অপসারণ হয়েছে ভারতের নাগরিকদের। এরপর রয়েছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া ও হাইতির নাগরিকরা। বাংলাদেশের ৩৪০ জনের অবস্থান এই তালিকায় সপ্তম।   অন্যদিকে, অপসারণ প্রক্রিয়ায় থাকা ৪৯ হাজার ৫৩৬ জনের নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকায় ভারতীয় নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন নিয়ে সর্বোচ্চ। এরপর মেক্সিকো ৬ হাজার ১০২, নাইজেরিয়া ২ হাজার ৫৮৫, চীন ১ হাজার ৯০৫, যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার ৬৫৫, পাকিস্তান ১ হাজার ৫১৯, কলম্বিয়া ১ হাজার ৪২৮ এবং বাংলাদেশ ১ হাজার ৩৬৮ জন।    সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যানেও কানাডায় অপসারণ কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট ১৫ হাজার ২৩১ জন, ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৩৯৭ জন এবং ২০২৫ সালে ২৩ হাজার ১৬০ জনকে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মাত্র প্রথম আট মাসেই সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৮৯৭ জনে।   তবে বছরের বিভিন্ন সময়ে পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হতে পারে এবং বর্তমানে ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অবস্থাও পরবর্তীতে বদলাতে পারে। সিবিএসএ নিজেই জানিয়েছে, একজন ব্যক্তির অবস্থা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইনভেন্টরিতে থাকতে পারেন।   ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক কানাডা থেকে অপসারিত হয়েছেন এবং আরও ১ হাজার ৩৬৮ জনের অপসারণ প্রক্রিয়া চলমান ছিল। তবে এই ১ হাজার ৩৬৮ জনের সবাই যে একই কারণে বা একই সময়ে কানাডা ছাড়বেন, এমন কোনো তথ্য সরকারি পরিসংখ্যানে নেই।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার অ্যালকোহল-মোটরসাইকেলসহ ১০০ কোটি ডলারের পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা
কানাডার অ্যালকোহল-মোটরসাইকেলসহ ১০০ কোটি ডলারের পণ্যে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ এবার আরও চরম আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার থেকে কানাডার প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, অ্যালকোহল থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল ও দুগ্ধজাতীয় পণ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে।   ডানপন্থি আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের বাণিজ্য নীতিবিষয়ক পরিচালক জ্যাকব জেনসেন জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কানাডা থেকে বছরে প্রায় ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের আমদানি প্রভাবিত হবে। এর মধ্যে প্রতি ১০ ডলারের ৯ ডলারই অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়, যা এই নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্যবস্তু। কানাডার কিছু প্রদেশ সম্প্রতি মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা, রাম এবং ব্র্যান্ডির মতো অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়র পাশাপাশি কিছু মপেড ও মোটরসাইকেল রয়েছে। এছাড়াও ডেইরি থেকে তৈরি জনপ্রিয় প্রোটিন-সমৃদ্ধ উপাদান ‘হুই’ এবং গুড় ও নন-অ্যালকোহলিক বিয়ারও নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে।   যদিও এই নিষেধাজ্ঞা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানাডিয়ান আমদানির একটি ক্ষুদ্র অংশ, তবুও এটি সাপ্লাই চেইনে প্রভাব ফেলবে। ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৮ হাজার ১০০ কোটি ডলারের কানাডিয়ান পণ্য আমদানি করেছিল, অর্থাৎ এই নিষেধাজ্ঞা মোট আমদানির মাত্র ০.২ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে।   এদিকে, মার্কিন অ্যালকোহল সরবরাহ চেইনের সঙ্গে যুক্ত ‘টোটস নট ট্যারিফস কোয়ালিশন’ এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকার রেস্তোরাঁ, বার, খুচরা বিক্রেতা এবং সাধারণ ভোক্তারা এমন এক বাণিজ্য বিরোধের গভীরে জড়িয়ে পড়ছেন, যা এরই মধ্যে মার্কিন উৎপাদকদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।   গত আগস্টে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে দুদেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডাও চলতি মাসের শুরুতে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে, যা মার্কিন শুল্কের সমপরিমাণ।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন যে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ভোক্তা বাজারের সুবিধা নিলেও মার্কিন বিক্রেতাদের তাদের বাজারে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি কানাডাকে ব্যবসার জন্য বিশ্বের অন্যতম ‘নিকৃষ্ট’ দেশ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “কানাডার আমাদের দরকার, আমাদের তাদের দরকার নেই!” অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন শুল্ক আরোপকে চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে সমালোচনা করেছেন।   তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সংঘাত বাড়ানো কোনো গঠনমূলক সমাধান নয়, তবে নিজেদের অর্থনীতি, কর্মী ও কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করতেই কানাডাকে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে হয়েছে। মার্কিন কোম্পানিগুলোকে করমুক্ত সুবিধা দিয়ে নিজেদের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে দিতে রাজি নয় কানাডা প্রশাসন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার পণ্যে নতুন মার্কিন নিষে ধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে
কানাডার ম দ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষে ধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চলমান বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন ধরনের ম দ, কিছু দুগ্ধপণ্য এবং মোটরসাইকেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষে ধাজ্ঞা মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য এই ব্যবস্থার আওতায় পড়ছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৮ সেপ্টেম্বর এসব আমদানি বন্ধের ঘোষণা দেন। তাঁর প্রশাসনের দাবি, কানাডা মার্কিন দুগ্ধ, অটোমোবাইল ও ম দজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের পরই ওয়াশিংটন নতুন এই পদক্ষেপ নেয়।   নতুন ব্যবস্থায় বিয়ার, বিভিন্ন ধরনের ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা, রাম, টেকিলা, ব্র্যান্ডি ও অন্যান্য ম দজাত পানীয়ের বেশির ভাগই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দুগ্ধপণ্যের ক্ষেত্রে হুই প্রোটিনসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং মোলাসেসের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে। ৮০০ সিসির বেশি ইঞ্জিনযুক্ত কিছু মোটরসাইকেল ও মোপেডও তালিকায় রয়েছে।   কানাডার ম দ শিল্পের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির ম দ রপ্তানির বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞায় বিশেষ করে ছোট উৎপাদকদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।   দুই দেশের মধ্যে এরই মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক চলছে। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। এর জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন মার্কিন পদক্ষেপের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও খাতগুলো বাস্তব চাপের মুখে পড়বে। তবে সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের তুলনায় নিষে ধাজ্ঞার আওতাধীন পণ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বছরে প্রায় ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়।   এদিকে দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনা এখনো স্থবির। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর তাড়া নেই। ফলে নতুন নিষে ধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধ সহজে কাটছে না।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পদক্ষেপের সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দুই বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্ক ও উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার মদ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেলে মার্কিন আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর
কানাডার মদ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেলে মার্কিন আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর

কানাডা থেকে নির্দিষ্ট কিছু মদ, দুগ্ধপণ্য ও মোটরসাইকেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আজ মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হয়েছে। চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঘোষিত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।   নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর ২০২৫ সালের আমদানিমূল্য প্রায় ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার, আমেরিকান অ্যাকশন ফোরামের হিসাব অনুযায়ী। এর ৮৭ শতাংশ মদজাতীয় পানীয়। এটি আগের বছরের আমদানি ধরে করা হিসাব; আজ সীমান্তে আটকে দেওয়া পণ্যের মূল্য নয়।   হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় তালিকাভুক্ত কানাডীয় পণ্যের আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। দুগ্ধপণ্যের মধ্যে রয়েছে দুধ থেকে তৈরি হুইজাতীয় কিছু পণ্য। মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক কুইবেকের প্রতিষ্ঠান বিআরপি জানিয়েছে, তাদের তিন চাকার ক্যান-অ্যাম স্পাইডার ও ক্যানিয়ন মডেল নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে। তবে চলতি মৌসুমের বেশির ভাগ উৎপাদন ও চালান শেষ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আগামী বছরের আগে বড় প্রভাব আশা করছে না।   বিরোধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের পণ্যে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। জবাবে কানাডা ৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক কার্যকর করেছে। কানাডার অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যভেদে সেই শুল্কের হার ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ।   হোয়াইট হাউসের দাবি, মার্কিন মদ, দুগ্ধপণ্য ও যানবাহনের প্রতি কানাডার আচরণ বৈষম্যমূলক। অন্যদিকে কানাডা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবেই তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। দুই দেশের এই বিরোধের মধ্যেই এবার কিছু কানাডীয় পণ্যে শুল্কের বদলে সরাসরি আমদানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো।   নিষেধাজ্ঞায় তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে বলে এপিকে জানিয়েছেন বাণিজ্য আইনজীবী প্যাট্রিক চাইল্ড্রেস। তাঁর যুক্তি, তালিকাভুক্ত অনেক পণ্যে আগে থেকেই ৫০ শতাংশ শুল্ক ছিল, যা সেগুলোর আমদানি ব্যয়বহুল করে তুলেছিল। তবে নতুন পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ল।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার ব্র্যাম্পটনে সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে প্রায় ২০ হাজার কানাডীয় ডলার মূল্যের স্বর্ণালংকার হারিয়েছেন এক প্রবীণ নারী। ছবি: সংগৃহীত
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম-আলিঙ্গন, কানাডায় ভারতীয় বৃদ্ধার ২০ হাজার ডলারের স্বর্ণালংকার চুরি

কানাডার ব্র্যাম্পটনে সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে প্রায় ২০ হাজার কানাডীয় ডলার মূল্যের স্বর্ণালংকার হারিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৭৮ বছর বয়সী এক নারী। তাঁর ছেলে রাঘবেন্দ্র কুমারের অভিযোগ, এক অচেনা নারী পায়ে হাত দিয়ে ও আলিঙ্গন করে আস্থা অর্জনের পর তাঁর মায়ের গলার আসল হার খুলে নকল হার পরিয়ে দেন। হাতের স্বর্ণের বালাও নিয়ে যাওয়া হয়। পিল আঞ্চলিক পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।    ঘটনাটি ঘটে ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টার কিছু আগে, ব্র্যাম্পটনের চিঙ্গুয়াকুসি রোড ও বোভেয়ার্ড ড্রাইভ ওয়েস্টের কাছের একটি আবাসিক এলাকায়। কুমার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪কে বলেন, তাঁর মা ভালো ইংরেজি বলতে পারেন না। কাছে আসা নারীকে তিনি প্রথমে প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ ভেবেছিলেন।    কুমারের হিসাবে, চুরি হওয়া অলংকারের ওজন প্রায় ১১০ গ্রাম। তাঁর প্রয়াত বাবা পেশায় স্বর্ণকার ছিলেন। ১৯৭১ সালে বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য তিনি নিজ হাতে অলংকারগুলো তৈরি করেছিলেন। তাই অর্থমূল্যের বাইরেও পরিবারের কাছে সেগুলোর বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে আছে।    ঘটনাটি বুঝতে পেরে তাঁর মা কাঁপছিলেন এবং বাড়ি ফেরার পর প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলতে পারেননি বলে জানান কুমার। হৃদ্‌রোগের সমস্যা থাকায় সে সময় মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়েই বেশি চিন্তিত ছিলেন তিনি। এরপর থেকে তাঁর মা নিয়মিত সন্ধ্যার হাঁটাও বন্ধ করে দিয়েছেন।    পিল পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে একটি সাদা শেভ্রোলেট ইকুইনক্স গাড়িকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কুমারের দেওয়া ভিডিওতে দেখা নারীও তদন্তে আগ্রহের ব্যক্তি। টরন্টোর আরেকটি অলংকার চুরির ঘটনার সঙ্গে মিল থাকলেও দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
কানাডিয়ান কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ, আমেরিকা- কানাডা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আটক
কানাডিয়ান কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ, আমেরিকা- কানাডা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি আটক

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সল্ট সেন্ট মেরিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, কিশোরকে একটি হোটেলে নেওয়ার সময় ভুল মোড় নিয়ে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রগামী সেতুতে উঠে পড়েন। কানাডায় ফেরার পথে সীমান্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসে গাড়িতে থাকা কিশোর।   সাডবেরি ডটকমের প্রতিবেদনে পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর। রাত সোয়া ১০টার কিছু পর কানাডার সীমান্ত কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।   পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, সেদিন এর আগে ওই দুই ব্যক্তি কিশোরকে গাড়িতে তোলেন এবং পরে তাকে গাড়ি থেকে নামতে দেননি। কিশোরটির সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিশোরকে একটি হোটেলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।   ভুল মোড় নেওয়ার পর গাড়িটি সল্ট সেন্ট মেরি আন্তর্জাতিক সেতুতে উঠে পড়ে। পরে কানাডায় ফেরার সময় সীমান্ত কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতর কিশোরকে দেখতে পান এবং দুই বাংলাদেশী ব্যক্তিকে আটক করেন।   অভিযুক্তরা হলেন সল্ট সেন্ট মেরির ৪০ বছর বয়সী সাহান আলম এবং সাডবেরির ২৯ বছর বয়সী হাসান আল মামুন। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জামিন শুনানির অপেক্ষায় তাঁদের হেফাজতে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।   অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত দুজনই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশি নাগরিকদের
কানাডা থেকে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি অপসারণ, প্রক্রিয়ায় আরও ১,৩৬৮ জন

কানাডা থেকে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি নাগরিকের অপসারণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।   ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ হিসাবে, ২০২৬ সালে কানাডা থেকে মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ বিদেশি নাগরিকের অপসারণ কার্যকর করেছে সিবিএসএ। নাগরিকত্বভিত্তিক তালিকায় ৩৪০ জন নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে সপ্তম অবস্থানে।   তবে বাংলাদেশিদের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে সিবিএসএর চলমান অপসারণের তালিকায়। সরকারি হিসাবে, বর্তমানে ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় রয়েছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।   সিবিএসএর ভাষায়, ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এই পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তার দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহসহ অপসারণের পথে থাকা বিভিন্ন বাধা সমাধানের চেষ্টা করে সংস্থাটি।   তবে তালিকায় থাকা ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশিকেই নিশ্চিতভাবে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হবে, এমন অর্থ এই পরিসংখ্যানের নয়। সিবিএসএ জানিয়েছে, একজন ব্যক্তির অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে এবং আইনি বা প্রশাসনিক পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি অপসারণ ব্যবস্থার বিভিন্ন তালিকায় স্থানান্তরিত হতে পারেন।   কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের অপসারণের কারণও এক নয়। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি অপসারণ হয়েছে ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত পূরণ না করা রিফিউজি ক্লেইমেন্টদের ক্ষেত্রে - সংখ্যাটি ১২ হাজার ৫। এছাড়া সাধারণ ইমিগ্রেশন নন-কমপ্লায়েন্স, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা, ভুল তথ্য দেওয়া এবং অন্যান্য কারণেও অপসারণ কার্যকর হয়েছে।   তবে সিবিএসএর প্রকাশিত তথ্যে ৩৪০ বাংলাদেশির মধ্যে কে কোন কারণে অপসারিত হয়েছেন, তার আলাদা হিসাব নেই। ফলে তাদের সবাই আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বা অন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণে অপসারিত হয়েছেন - এমন সিদ্ধান্ত সরকারি তথ্য থেকে দেওয়া যায় না।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কানাডার সরকারি হিসাবে সব অপসারণই ‘ডিপোর্টেশন’ নয়। দেশটিতে ডিপারচার অর্ডার, এক্সক্লুশন অর্ডার এবং ডিপোর্টেশন অর্ডার - তিন ধরনের রিমুভাল অর্ডার রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে ৮ হাজার ৫৭৭টি ডিপোর্টেশন অর্ডার, ৩ হাজার ৩০৩টি ডিপারচার অর্ডার এবং ৩ হাজার ১৭টি এক্সক্লুশন অর্ডার কার্যকর হয়েছে।   তাই বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ‘৩৪০ জনকে ডিপোর্ট করা হয়েছে’ বলার চেয়ে ‘৩৪০ বাংলাদেশিকে অপসারণ করা হয়েছে’ বলা বেশি নির্ভুল। কারণ নাগরিকত্বভিত্তিক সরকারি টেবিলে ওই ৩৪০ জনের মধ্যে কোন ধরনের রিমুভাল অর্ডার কতটি ছিল, তা আলাদাভাবে দেখানো হয়নি।   সিবিএসএর হিসাবে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডায় সব দেশের নাগরিক মিলিয়ে ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি। অর্থাৎ কানাডার অভিবাসন আইন প্রয়োগের চলমান প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন।   সূত্র: কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
কানাডা থেকে ভারতীয়দের অপসারণে রেকর্ড গতি
কানাডা থেকে ভারতীয়দের অপসারণে রেকর্ড গতি, ৮ মাসেই ৪,২২৭ জন

কানাডায় অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় ভারতীয় নাগরিকদের অপসারণের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএর সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ২২৭ ভারতীয় নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অন্য যেকোনো দেশের নাগরিকের তুলনায় এই সংখ্যা সর্বোচ্চ।   এর আগে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩২৩ ভারতীয়কে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই সংখ্যাটিই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু জুলাই ও আগস্টের তথ্য যুক্ত হওয়ার পর সংখ্যা আরও ৯০৪ বেড়ে ৪ হাজার ২২৭-এ পৌঁছেছে।   এই আট মাসেই ২০২৫ সালের পুরো বছরের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। গত বছর কানাডা থেকে ৩ হাজার ৭৭৯ ভারতীয় নাগরিককে অপসারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ২ হাজার ৪। অর্থাৎ ২০২৪ সালের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ভারতীয় নাগরিক অপসারণের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি।   দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির ২ হাজার ২৮২ নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১, কলম্বিয়ার ৫৮০ এবং হাইতির ৫৩৫ নাগরিক রয়েছেন।   তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৩৪০ বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, যা চলতি বছরের শীর্ষ ১০ নাগরিকত্বের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে।   আরও বড় সংখ্যা রয়েছে এখনো চলমান অপসারণ প্রক্রিয়ায়। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কানাডার ‘রিমুভাল ইন প্রগ্রেস’ তালিকায় ১০ হাজার ২৯৫ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। একই তালিকায় বাংলাদেশি রয়েছেন ১ হাজার ৩৬৮ জন। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সবাই শেষ পর্যন্ত অপসারিত হবেন - এমন নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার অবস্থার ওপর চূড়ান্ত ফল নির্ভর করতে পারে।   কানাডা থেকে কাউকে অপসারণের কারণও এক নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত না মানা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া কাজ বা পড়াশোনা, ভুল তথ্য দেওয়া, অপরাধসংক্রান্ত অগ্রহণযোগ্যতা কিংবা অন্য আইনি কারণে একজন বিদেশি নাগরিক অপসারণের মুখে পড়তে পারেন। প্রত্যাখ্যাত বা অযোগ্য আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে রিমুভাল অর্ডার কার্যকর হতে পারে।   এই বৃদ্ধি এমন সময়ে ঘটছে যখন কানাডা সামগ্রিকভাবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর নীতি নিয়েছে। সরকারের ২০২৬-২৮ ইমিগ্রেশন পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা আগমনের লক্ষ্য ৩ লাখ ৮৫ হাজারে নামানো হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর লক্ষ্য ১ লাখ ৫৫ হাজার এবং অস্থায়ী কর্মীর লক্ষ্য ২ লাখ ৩০ হাজার। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দেশের মোট জনসংখ্যায় অস্থায়ী বাসিন্দার অংশ ৫ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মাঝ আকাশে ত্রুটি! কানাডার কুইবেকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী নিহত
মাঝ আকাশে ত্রুটি! কানাডার কুইবেকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহী নিহত

কানাডার কুইবেক প্রদেশে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তাতে থাকা চারজনই নিহত হয়েছেন। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার পর মন্ট্রিয়ল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সাঁত-ব্রিজিদ-দিবেরভিল এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাদেশিক পুলিশ জানিয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১০ নম্বর মহাসড়কের কাছে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। চার আরোহীকেই সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়।    কুইবেক পুলিশের মুখপাত্র অড্রে-অ্যান বিলোদো জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটি সমস্যায় পড়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। কী ধরনের সমস্যা হয়েছিল এবং সেটিই দুর্ঘটনার কারণ কি না, তা এখনও নিশ্চিত হয়নি।    নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। কানাডার পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডকেও ঘটনা জানানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যু নিশ্চিত করতে কানাডায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় ব্যথামুক্ত ইনজেকশন বা ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় প্রতি দশজনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হচ্ছে স্বেচ্ছামৃত্যুর মাধ্যমে

কানাডায় চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের ব্যবস্থা চালুর এক দশক পূর্ণ হওয়ার সময়ে এ ব্যবস্থার আওতায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চালু হওয়া ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং’ বা এমএআইডির আওতায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মারা গেছেন ১৬ হাজার ৪৯৯ জন।   কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর হার আরও বেশি। বিশেষ করে কুইবেক প্রদেশের লানদিয়ের অঞ্চলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট মৃত্যুর ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এমএআইডির আওতায় হয়েছে বলে কুইবেকের জীবনাবসান-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে পুরো কুইবেকে ৬ হাজার ২৬৮ জন এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি।   তবে কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। এমএআইডিকে দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে মৃত্যুর একটি ‘কারণ’ হিসেবে গণ্য করা হয় না। যেমন, কোনো ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তি এমএআইডি গ্রহণ করে মারা গেলে মৃত্যুসনদে সাধারণত ক্যানসারকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাই এমএআইডির সংখ্যা সরাসরি অন্যান্য রোগ বা মৃত্যুর কারণের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়।   ২০২৪ সালের সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছর এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-১’ শ্রেণির। অর্থাৎ এসব ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু যুক্তিসংগতভাবে অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল। বাকি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-২’, যেখানে স্বাভাবিক মৃত্যু অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল না।   ২০১৯ সালে কানাডায় এমএআইডির আওতায় ৫ হাজার ৪৬১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৭ হাজার ৪৬৯, ২০২১ সালে ১০ হাজার ৬৬, ২০২২ সালে ১৩ হাজার ১৯৯ এবং ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৪২৭ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ১৬ হাজার ৪৯৯। যদিও সংখ্যা বাড়ছে, বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ।   ২০২৪ সালে এমএআইডির জন্য মোট ২২ হাজার ৫৩৫টি অনুরোধের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪৯৯ জন শেষ পর্যন্ত এমএআইডি পান। আরও ৪ হাজার ১৭ জন আবেদনকারী অন্য কোনো কারণে মারা যান, ১ হাজার ৩২৭ জনকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি এবং ৬৯২ জন নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করেন।   কানাডায় এমএআইডি চালুর পেছনে ২০১৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ছিল। এরপর ২০১৬ সালে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে নির্দিষ্ট শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের সুযোগ দেয়। বর্তমানে মানসিক অসুস্থতাকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে এমএআইডির যোগ্যতার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ১৭ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।   এদিকে কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ফ্রেজার ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের চিকিৎসা-অপেক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর পর চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত কানাডায় মধ্যমা অপেক্ষার সময় ছিল ২৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। অস্থি-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে তা ছিল ৪৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। তবে এটি একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের ওপর পরিচালিত জরিপভিত্তিক হিসাব, সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান নয়।   এমএআইডি নিয়ে বিতর্কের একটি বড় অংশ হলো, এটি রোগীর নিজের সিদ্ধান্ত ও কষ্ট থেকে মুক্তির অধিকারকে গুরুত্ব দেয়, নাকি গুরুতর অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলতে পারে। কানাডার সরকার বলছে, এমএআইডির জন্য কঠোর যোগ্যতার শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে কিছু চিকিৎসক, অধিকারকর্মী ও সংগঠন এসব সুরক্ষা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যক্তিগত ঘটনাও এ বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ৮৩ বছর বয়সী ব্রিজিট স্টেগেমানের মৃত্যুকে ঘিরে তার নাতনি অভিযোগ করেছেন, এমএআইডি গ্রহণের আগে তার দাদি সিদ্ধান্তটি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে বলেছিলেন, ‘আমি ভুল করেছি’। পরিবারটি ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও এমএআইডির সব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়।   আরেকটি আলোচিত ঘটনা ২৬ বছর বয়সী কিয়ানো ভাফাইয়ানের। তিনি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান। তার মা দাবি করেছেন, ছেলের শারীরিক সমস্যা ও মানসিক অবস্থার কারণে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থায় ছিলেন না। তবে এমএআইডি প্রদানকারী চিকিৎসক এলেন ভিয়েবে বলেছেন, তিনি কাউকে কেবল মানসিক অসুস্থতার ভিত্তিতে এমএআইডি দেননি। কানাডায় শুধু মানসিক অসুস্থতাকে ভিত্তি করে এমএআইডি দেওয়ার সুযোগ এখনও স্থগিত রয়েছে।   অন্যদিকে এমএআইডির সমর্থকেরা বলেন, গুরুতর ও অসহনীয় কষ্টে থাকা যোগ্য রোগীদের নিজেদের জীবনের শেষ পর্যায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কানাডার সরকারি প্রতিবেদনও এমএআইডিকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আইনি সুরক্ষার অধীনে দেওয়া একটি স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে বর্ণনা করেছে।   কানাডায় এমএআইডি চালুর ১০ বছর পূর্তির সময়ে তাই এ ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক কেবল মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধিকে ঘিরে নয়। রোগীর স্বায়ত্তশাসন, চিকিৎসকের ভূমিকা, প্যালিয়েটিভ বা জীবনাবসানকালীন সেবা, চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষার সময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সুরক্ষা, সবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।   সূত্র: কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কুইবেক কমিশন অন এনড-অব-লাইফ কেয়ার, ফ্রেজার ইনস্টিটিউট, নিউইয়র্ক পোস্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা
ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা দেবে কানাডা

ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই ঘোষণা দেন তিনি। নতুন সহায়তার ৮ কোটি কানাডীয় ডলার গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২ কোটি কানাডীয় ডলার শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যয় করা হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে।   কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তার অর্থ খাদ্য ও পুষ্টি, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যবহার করা হবে। আর শান্তি ও নিরাপত্তা খাতের অর্থের একটি অংশ ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে। কানাডা বর্তমানে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে।   কার্নি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে গাজাতেও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনা করবে কানাডা। দেশটি বহু বছর ধরে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহায়তা করে আসছে। নতুন অর্থায়নের ২ কোটি কানাডীয় ডলারের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।   জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বক্তব্যে কার্নি ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এমন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কানাডার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়।   নতুন অর্থায়নের ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের মানবিক ও সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজন মেটাতে কানাডার মোট সহায়তার প্রতিশ্রুতি ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি হয়েছে। কানাডা সরকারের হিসাবে, এই অর্থের বড় অংশ জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা।   এর আগে চলতি বছরের জুনে কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছিল। সেই অর্থের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা উদ্যোগের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল।   এদিকে নতুন সহায়তা ঘোষণার সময় গাজা ও পশ্চিম তীরে কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কানাডার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত নথিতে দেশটির অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি সহায়তা প্রকল্প ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব প্রকল্পের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে কানাডা কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে আলাদা আলোচনা রয়েছে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে কানাডার নতুন সহায়তার ঘোষণা ফিলিস্তিনের মানবিক পরিস্থিতি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যেই এসেছে। কানাডা বলছে, নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে একদিকে জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটানো হবে, অন্যদিকে শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগেও সহায়তা করা হবে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস

কানাডায় টিউটর উড়োজাহাজে শেষ পাবলিক এয়ার শো শেষ করেছে রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের স্নোবার্ডস। গ্যাটিনো-অটোয়া এলাকায় আয়োজিত অ্যারো গ্যাটিনো-অটোয়া শো শেষে দলটি তাদের ঘাঁটি মোজ জ-তে ফিরছে। পরিবারের সঙ্গে স্বল্প সময়ের বিশ্রামের পর আবার শেষ প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেবে দলটি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্নোবার্ডস জানায়, অ্যারো গ্যাটিনো-অটোয়া ছিল কানাডায় টিউটর উড়োজাহাজে তাদের শেষ পাবলিক শো। আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে দলটি বলেছে, গত ৫৫ বছর ধরে তাদের প্রতিটি প্রদর্শনী সম্ভব হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় আয়োজকদের সহযোগিতায়।   স্নোবার্ডসের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কানাডার বিভিন্ন বিমানঘাঁটি, সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন এলাকার মানুষের সামনে তারা প্রদর্শনী করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কানাডীয়দের সমর্থন তাদের আরও উঁচুতে উড়তে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।   তবে টিউটর যুগের সমাপ্তি হলেও স্নোবার্ডসের প্রদর্শনী পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। দলটি জানিয়েছে, কানাডীয়দের সঙ্গে তাদের শেষ সাক্ষাৎ হবে ক্যালগেরিতে গ্রে কাপ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।   স্নোবার্ডস বলেছে, টিউটর উড়োজাহাজের যুগ শেষের দিকে এগোলেও দলের সেই চেতনা অব্যাহত থাকবে। ৫৫ বছরের এই অধ্যায়ের জন্য কানাডার জনগণ, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা ক্যালগেরিতে আবার দেখা করার বার্তা দিয়েছে।   রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের স্নোবার্ডস কানাডার অন্যতম পরিচিত সামরিক এয়ার শো দল। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও এয়ার শোতে দলীয় উড্ডয়ন প্রদর্শনের মাধ্যমে কানাডার প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।   সোর্স: রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্স স্নোবার্ডস

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লগামী এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বরের AC1730 ফ্লাইটে থাকা এক মার্কিন নারী হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের কাছে কানাডায় আশ্রয় চাওয়ার কথা জানান। ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়েই মন্ট্রিয়লে পৌঁছায় এবং অবতরণের পর ওই যাত্রীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মন্ট্রিয়ল ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ওই নারী কেবিন ক্রুদের নজরে আসেন। তিনি ১৪ নম্বর সারিতে বসেছিলেন। তার আচরণ নিয়ে ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তিনি জানান, তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধ সেবন করছেন। এরপর তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হাতে হাতে লেখা কয়েকটি নোট দেন, যেখানে কানাডায় অ্যাসাইলাম চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।   ঘটনার পর পাইলট ও ফ্লাইট অপারেশনের মধ্যে যোগাযোগ হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিট থেকে জানানো হয় যে ওই যাত্রী শান্ত ছিলেন এবং বিমানের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না। এ কারণে ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে না নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য মন্ট্রিয়লের দিকেই এগিয়ে যায়।   প্রায় চার ঘণ্টা পর বিমানটি নিরাপদে মন্ট্রিয়লে অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার অ্যাসাইলাম আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, তার অ্যাসাইলাম চাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ বা কানাডার কর্তৃপক্ষ তার দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।   কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরসহ দেশটির যেকোনো বৈধ প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর কেউ অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি প্রোটেকশনের দাবি করতে পারেন। তবে আবেদন করলেই তা গ্রহণযোগ্য বা অনুমোদিত হয় না। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ প্রথমে আবেদনটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না তা যাচাই করে। যোগ্য হলে আবেদনটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আবেদনকারীর রিফিউজি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।   কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসাইলাম পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্দিষ্ট ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। শুধু উন্নত জীবন, চাকরি, শিক্ষা বা কানাডায় দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা অ্যাসাইলামের ভিত্তি নয়। আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং দাবির পক্ষে থাকা তথ্যও যাচাই করা হয়।   এ ঘটনার ক্ষেত্রে যেহেতু যাত্রী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি বিমানে কানাডায় পৌঁছেছেন, তাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তে প্রযোজ্য সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্টের নিয়মটি একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কানাডা সরকারের বর্তমান নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, এই চুক্তির নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   মাঝ আকাশে একজন যাত্রীর হাতে লেখা নোট দিয়ে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনাটি তাই ব্যতিক্রমী হলেও, কানাডায় অ্যাসাইলাম দাবি করার পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি আইনের অধীনেই পরিচালিত হবে। এখন ওই নারীর দাবির বিষয়ে কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
কানাডা–ইউরোপ অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান কানাডার
কানাডা–ইউরোপ অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান কানাডার

কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বদলে যাওয়া বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক বলয় গড়ে তুলতে অংশীদারত্বের ধরন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার মূল্যবোধ এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এক হওয়ায় এই জোটে তাদের যৌথ অংশগ্রহণ অত্যন্ত সময়োপযোগী হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।   সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউ-এর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ (Associate Member) করার নজিরবিহীন এক প্রস্তাব দেন। এরপরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক এই গভর্নর দীর্ঘদিন ধরে মাঝারি শক্তির গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক স্থিতিস্থাপকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি যৌথ জোট গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন।   শ্যাম্পেন জানান, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলের সাথে সাথে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর এমন সম্মিলিত উদ্যোগই হবে মূলত ‘ভবিষ্যতের জোট’।   যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাতের পটভূমিতে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত মাসে মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই পাল্টা শুল্ক আরোপ শুরু করে। শ্যাম্পেন স্পষ্ট জানান, নিজের দেশের শিল্প ও শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই অটোয়া শুল্কের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে।   তবে উত্তেজনার পারদ না বাড়িয়ে উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে তারা পুনরায় সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহযোগী সদস্যপদের পরিকল্পনাকে উপহাস করার পাশাপাশি ইউরোপ ও কানাডার বিরুদ্ধে আরও কঠোর বাণিজ্য পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন।   যদিও কানাডার ‘সহযোগী সদস্যপদ’-এর রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা তহবিল ও প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বয়ের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কানাডার খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি ইউরোপের সরবরাহ সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।   এছাড়া ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাস্তবতায় ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা ব্রিটেনের জন্য এই জোট নতুন একটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় ইউথ কনফারেন্স ২০২৭
কানাডায় ইউথ কনফারেন্স ২০২৭, যাতায়াত ও ফুল ফান্ডসহ রয়েছে আকর্ষণীয় সুবিধা

কানাডার টরন্টোতে আগামী বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়ান ফিউচার কনফারেন্স ২০২৭। ১২ থেকে ১৫ মে চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ নেতা, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, গবেষক ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ৪৭ বছর বয়সী বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক এই সম্মেলনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।   ২০২৭ সালের আয়োজনটি ওয়ান ফিউচার কনফারেন্সের তৃতীয় সংস্করণ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার টরন্টোর ডাউনটাউনে প্রায় ৩০০ অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি পুরোপুরি অর্থায়িত এবং ২৫টি আংশিক অর্থায়িত আসন রাখা হয়েছে।   পুরোপুরি অর্থায়িত আসনে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক যাওয়া-আসার বিমান ভ্রমণের জন্য সহায়তা, তিন রাতের আবাসন, সম্মেলনের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, খাবার ও কফির বিরতি, কর্মশালা, আলোচনা সভা, সনদ, সম্মেলনের স্মারকসামগ্রী এবং কানাডার ভিসা আবেদনের জন্য আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার কথা জানিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান।   আংশিক অর্থায়িত আসনে নির্বাচিতদের জন্য তিন রাতের আবাসন, সম্মেলনে পূর্ণ অংশগ্রহণ, কর্মশালা ও আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ, খাবার, সনদ, সম্মেলনের স্মারকসামগ্রী এবং ভিসার আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই ক্যাটাগরিতে বিমান ভ্রমণের খরচের জন্য সহায়তা থাকবে না।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, পুরোপুরি ও আংশিক অর্থায়িত আসনের জন্য আবেদনকারীদের একবার আবেদন করলেই দুই ধরনের অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের সম্ভাবনা, আবেদনকারীর আগ্রহ ও প্রেরণা, অর্জন, আবেদনপত্রে দেওয়া উত্তর এবং সামগ্রিক যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ভৌগোলিক এবং জেন্ডার ডাইভারসিটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।   আবেদনকারীদের বয়সসীমা ১৭ থেকে ৪৭ বছর। নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তরুণ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা এবং সামাজিক উদ্যোক্তারাও আবেদন করতে পারবেন।   সম্মেলনে নেতৃত্ব ও জননীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি, ডাইভারসিটি, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা ও বিভিন্ন কার্যক্রম থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ থাকবে।   আয়োজকদের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরোপুরি ও আংশিক অর্থায়িত আসনের আবেদনের শেষ সময় ১৫ নভেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া আবেদন অর্থায়িত আসনের জন্য বিবেচনা করা হবে না।   অর্থায়িত আসনের পাশাপাশি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আরও কয়েকটি সুযোগ রাখা হয়েছে। আবাসনসহ সম্মেলন পাসের মাধ্যমে তিন রাতের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সম্মেলনে অংশ নেওয়া যাবে। আবাসন ছাড়া পাসের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীকে নিজের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আলাদা ভিসা আমন্ত্রণ প্যাকেজও রয়েছে। এর মাধ্যমে সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু নথি পাওয়ার সুযোগ থাকছে।   তবে ভিসার আমন্ত্রণপত্র বা ভিসা সহায়তা পাওয়ার অর্থ কানাডার ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কানাডা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই সম্মেলনে নির্বাচিত হলেও কানাডায় প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসার আবেদন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া আলাদাভাবে সম্পন্ন করতে হবে।   আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওয়ান ফিউচার কনফারেন্সের প্রথম আয়োজন টরন্টোতে এবং দ্বিতীয় সংস্করণ স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৭ সালের আয়োজনটি আবার টরন্টোতে ফিরছে। এবারের সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩০০ আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ
ট্রাম্পের হাত থেকে কেনেডি সেন্টার বাঁচাতে মানববন্ধন, হাতে হাত রাখলেন শত শত মানুষ

ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ভবনটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে এর চারপাশে মানববন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। ‘হ্যান্ডস অফ দ্য আর্টস’ আয়োজিত ‘হ্যান্ডস অ্যারাউন্ড দ্য কেনেডি সেন্টার’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হাত ধরে ভবনটির চারপাশ ঘিরে দাঁড়ান। আয়োজকদের দাবি, ৪২টি অঙ্গরাজ্য ও বিদেশ থেকে ১ হাজারের বেশি মানুষ এতে অংশ নেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন।   সূর্যাস্তের সময় বিক্ষোভকারীরা ‘হ্যান্ডস অফ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ওয়াশিংটনের গে মেনস কোরাসও সেখানে গান পরিবেশন করে। ওয়ার্ল্ড প্রাইডের সময় কেনেডি সেন্টারে তাদের একটি পরিবেশনা বাতিল হওয়ার পর এটিই ছিল কেন্দ্রটির বাইরে তাদের প্রথম পরিবেশনা। মানববন্ধনটি কেন্দ্রের আশপাশ থেকে প্রায় ওয়াটারগেট হোটেল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।    কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধ। ট্রাম্পের নিয়োগ করা বোর্ড মঙ্গলবার কেন্দ্রটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার ভবনের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগে বাধা দেন এবং বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি মেমোরিয়ালের নাম পরিবর্তন করা যাবে না।    এরপর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ভবনটি মেরামত না হলে শেষ পর্যন্ত এটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে। বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তাকে এমন একটি প্ল্যাকার্ড দেখতে দেখা যায়, যাতে ‘কেনেডি সেন্টার ডেমোলিশড’ লেখা ছিল। ছবিটি এএফপির আলোকচিত্রী ধারণ করেন; তবে প্ল্যাকার্ডটি কোনো আনুষ্ঠানিক ধ্বংস পরিকল্পনার প্রমাণ কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়নি।    বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিচারক কুপার নির্দেশ দেন, কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের কোনো শারীরিক পরিবর্তন—ধ্বংসের মতো কাজসহ—করার আগে অন্তত ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনের কিছু অংশে কাঠামোগত ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, নাম সংক্রান্ত আদালতের আদেশ এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে মামলা এখনো চলমান।    এদিকে কেন্দ্রটি কর্মীসংকটে পড়েছে। শুক্রবার আরও প্রায় এক ডজন কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও কেন্দ্রটির বন্ধ থাকার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে।    ফলে শুক্রবারের মানববন্ধন শুধু একটি ভবন বন্ধের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি; কেনেডি সেন্টারের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার জায়গা এবং প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক-আইনি বিরোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ভবনটির বড় কোনো পরিবর্তনের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়

কানাডার নাগরিক জ্যাকুলিন মুসা, যিনি জ্যাকি নামেই বেশি পরিচিত, একটি ঐতিহ্যবাহী ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও উপলব্ধির পর ২০১১ সালে তিনি ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। তার এই ধর্মান্তরিত হওয়ার গল্পটি বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে 'দ্য রিলিজিয়ন অব ইসলাম'-এর মতো বিভিন্ন ওয়েবসাইটের আর্কাইভে তার এই অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনযাত্রা সংরক্ষিত রয়েছে।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি বক্তব্য বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি ইসলামে 'ব্যাপক সম্মান' পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপগুলোতে অন্যান্য ধর্মান্তরিত নারীদের মতো তিনিও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।   জ্যাকুলিন প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, ইসলাম ধর্ম তার ব্যক্তিগত যুক্তি, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যান্য ধর্ম থেকে ইসলামে আসা অনেক নারীই প্রায়শই এমন সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন যে, এই ধর্মটি তাদের যে সম্মান, মর্যাদা ও জীবনের স্বচ্ছতা প্রদান করেছে, তা সত্যিই অনন্য ও অতুলনীয়।   জ্যাকুলিনের এই ধর্মান্তরের কাহিনি ও প্রাসঙ্গিক ভিডিওগুলো বর্তমানে ইউটিউবে '#thequranmotivation' হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ব্যাপক সচেতনতা ও তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব কনটেন্টের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, ভিডিওর কিছু ছবিতে সামান্য সম্পাদনা বা এডিটিং করা হলেও জ্যাকুলিনের মূল বক্তব্য এবং তার ইসলাম গ্রহণের পুরো কাহিনিটি সম্পূর্ণ খাঁটি ও প্রামাণিক।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের জেরে কানাডায় প্রায় ৯০ হাজার কর্মসংস্থান তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ শুল্কে কানাডায় ৯০ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকলে কানাডায় ৯০ হাজারের কাছাকাছি চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগেরির অর্থনীতির অধ্যাপক ট্রেভর টম্বে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুল্কের সরাসরি আওতায় থাকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি তাদের সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও কর্মসংস্থান কমতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত চাকরি হারানোর সংখ্যা নয়; শুল্ক কতদিন বহাল থাকবে এবং ব্যবসাগুলো কীভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেবে, তার ওপর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।   টম্বের হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির মধ্যে ৫২ হাজারের বেশি সরাসরি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকারী ও সেবা প্রদানকারী খাতের আরও প্রায় ৩৫ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির সংখ্যা ৮৭ হাজারের কিছু বেশি, যাকে প্রায় ৯০ হাজার হিসেবে ধরা হচ্ছে।   এই হিসাব একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। টম্বে ধরে নিয়েছেন, শুল্ক দীর্ঘ সময় বহাল থাকবে এবং শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি শুল্কের হারের সমান অনুপাতে কমবে। তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, বাস্তবে ব্যবসা ও ভোক্তাদের আচরণ ভিন্ন হতে পারে। ফলে প্রকৃত চাকরি ক্ষতির পরিমাণ তার অনুমানের চেয়ে কম বা বেশি হতে পারে।   শুল্কের প্রভাব সব খাতে সমান হবে না। টম্বের বিশ্লেষণে যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিকস, প্লাস্টিক ও রাবার, আসবাবপত্র, খেলনা, কাঠজাত পণ্য, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও পোশাক খাতকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরাসরি রপ্তানি কমে গেলে পরিবহন, গুদামজাতকরণ, পাইকারি ব্যবসা এবং পেশাগত ও কারিগরি সেবার মতো খাতেও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান কমতে পারে।   প্রদেশভেদেও সম্ভাব্য প্রভাবের পার্থক্য রয়েছে। টম্বের হিসাবে অন্টারিওতে প্রায় ৩৬ হাজার, কুইবেকে ১৮ হাজার, ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় ১১ হাজার এবং আলবার্টায় প্রায় ৯ হাজার চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আলবার্টার নিজস্ব রপ্তানি নতুন শুল্কে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হলেও অন্য প্রদেশের রপ্তানিকারকদের সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সেখানে কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নিয়ে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউনাইটেড স্টিলওয়ার্কার্সের আন্তর্জাতিক প্রেসিডেন্ট রক্সান ব্রাউন বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব উভয় দেশের শ্রমিকদের ওপর পড়ছে। সংগঠনটি দুই দেশের সরকারকে দ্রুত বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।   টম্বে বলেন, শুল্ক কতদিন বহাল থাকবে সেটিই কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বল্পমেয়াদে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত খরচ নিজেরা বহন করতে পারে বা কর্মীদের কাজের সময় কমাতে পারে। কিন্তু শুল্ক দীর্ঘস্থায়ী হলে চাকরি কমানোর চাপ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসাগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ ও নতুন পদ তৈরির গতিও কমিয়ে দিতে পারে।   তবে সম্ভাব্য ৯০ হাজার চাকরি ক্ষতির হিসাবকে কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না টম্বে। তার হিসাবে, এই শুল্কের কারণে কানাডার অর্থনীতি প্রায় ০.৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির অনিশ্চয়তা দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে অথবা দুই দেশ দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছালেও পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।   কানাডার শ্রমবাজারে শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব তাই শুধু সরাসরি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রপ্তানি কমে গেলে তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবহন, সরবরাহ ও বিভিন্ন সেবা খাতেও কর্মসংস্থানের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বাণিজ্য বিরোধ কতদিন স্থায়ী হয় এবং দুই দেশের আলোচনায় কী ধরনের সমাধান আসে, তার ওপর সম্ভাব্য চাকরি ক্ষতির মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করবে।   সূত্র: দ্য হাব

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত
কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধ করা কিংবা বড় ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, কানাডাকে ইইউর সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠ করার উদ্দেশ্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ওয়াশিংটন কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।   বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইইউর এই পদক্ষেপকে তিনি শত্রুতামূলক মনে করলে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ‘খুব কঠোর শুল্ক’ আরোপ করবেন। এমনকি ইউরোপের সঙ্গে বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি। তবে উদ্যোগটির উদ্দেশ্য ভালো হলে সেটিকে ভিন্নভাবে দেখবেন বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   ট্রাম্প কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া আসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েনের বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ ভাষণের এক দিন পর।   ১৬ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে ফন ডার লাইয়েন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি কানাডাকে ইইউর প্রথম সহযোগী সদস্য করার পথ খুলতে কাজ করতে চান। এ সময় পার্লামেন্টে উপস্থিত সদস্যরা কার্নিকে দাঁড়িয়ে অভ্যর্থনা জানান। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর।   ফন ডার লাইয়েন বলেন, ইউরোপ ও কানাডার মধ্যে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত অংশীদারত্বে নিয়ে যেতে চায় ইইউ। কানাডা ও ইইউর মধ্যে বর্তমানে কানাডা-ইইউ ব্যাপক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি বা সিইটিএ রয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।   প্রস্তাবিত সহযোগিতার ক্ষেত্রও শুধু বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইইউর পরিকল্পনায় উন্নত উৎপাদন, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মতো বিষয় রয়েছে। আর্কটিক অঞ্চলকেও কানাডা ও ইউরোপের যৌথ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন ফন ডার লাইয়েন।   ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, কানাডার সঙ্গে এই অংশীদারত্ব কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে গড়ে তোলা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি দুই পক্ষের অভিন্ন সক্ষমতা ও স্বার্থকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ। ইইউর সরকারি নথিতেও কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে বাণিজ্য থেকে আরও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, কার্নি ও ফন ডার লাইয়েন ১৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাসবুর্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা সিইটিএর বাইরে আরও উচ্চাভিলাষী ও বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, মহাকাশ, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।   তবে কানাডার সম্ভাব্য সহযোগী সদস্যপদের কাঠামো এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি। ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক একীভূতকরণ প্রয়োজন, কানাডা সেই পথে যাচ্ছে না। বরং কানাডা নিজের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে ইইউর সঙ্গে যতটা সম্ভব ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী বলে কানাডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যের পর অটোয়া ওয়াশিংটনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগকে কানাডার জন্য নতুন বাজার ও অংশীদার তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   কার্নি এর আগে ইইউর সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গড়ার কথা বলেছিলেন। তাঁর সরকারের লক্ষ্য হলো কানাডার অর্থনীতিকে এমনভাবে বৈচিত্র্যময় করা, যাতে কোনো একটি দেশের বাজার বা নীতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা না থাকে। ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি কানাডা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও নতুন প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে।   ইইউর সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের মধ্যে একটি বাণিজ্য সমঝোতা রয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই সময়ে কানাডার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে।   প্রস্তাবিত সহযোগী সদস্যপদ কার্যকর হলে এটি ইইউর জন্যও নতুন ধরনের সম্পর্কের মডেল তৈরি করবে। কারণ কানাডা হবে এই ধরনের মর্যাদা পাওয়া প্রথম দেশ। এর মাধ্যমে পূর্ণ সদস্যপদ ছাড়াই কোনো দেশের সঙ্গে ইইউ কতটা গভীর অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারে, তার একটি নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট শর্ত, ইইউর একক বাজারে কানাডার প্রবেশাধিকার এবং দুই পক্ষের নাগরিকদের চলাচল বা কাজের অধিকার কী হবে, সেসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে কানাডা ও ইইউর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগামী মাসে মন্ট্রিয়েলে একটি শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে।   ফলে কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নয়। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপ ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, ইউরোপীয় কমিশন, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, আমেরিকান পণ্য ও ভ্রমণ বর্জনের পথে
ট্রাম্পের নীতিতে ক্ষুব্ধ কানাডিয়ানরা, বয়কট করছেন আমেরিকা: বন্ধ হচ্ছে কেনাকাটা ও ভ্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী বক্তব্য ও নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে দেশটির কিছু নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন, কেউ আবার আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। লেক অন্টারিওর পশ্চিম প্রান্তের একটি শহরের বাসিন্দা ফ্রান্সিন পিশে তাঁদেরই একজন। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ করেছেন এবং অ্যামাজনের সাবস্ক্রিপশনও বাতিল করেছেন। পাশাপাশি আমেরিকান তৈরি শ্যাম্পুর পরিবর্তে অন্য পণ্য ব্যবহার শুরু করেছেন। বাজারে কেনাকাটার সময়ও পিশে এখন পণ্যের উৎপাদনস্থল পরীক্ষা করে দেখেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যেন ভুল করে তাঁর কেনাকাটার তালিকায় না আসে, সেদিকেও তিনি সতর্ক থাকছেন। তবে বছরের পর বছর ধরে পছন্দের একটি পণ্য তিনি এতদিন বাদ দিতে পারেননি। সেটি ছিল বব’স রেড মিলের গ্লুটেনমুক্ত প্যানকেক মিক্স। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত সেটিও বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন পিশে। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে পাঠানো এক ই-মেইলে তিনি জানান, ওই পণ্য আর তাঁর বাড়িতে ঢুকবে না। ভবিষ্যতে আবার পণ্যটি কিনতে চান বলেও জানান তিনি। তবে তার আগে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কানাডার সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন পিশে। দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসের একটি নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিশের মতো কানাডার আরও অনেক নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। কানাডার বিভিন্ন এলাকায় কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমাচ্ছেন, আবার কেউ আমেরিকান পণ্য কেনা এড়িয়ে চলছেন। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি এবং কানাডার প্রতি তাঁর আগ্রাসী বক্তব্যের বিরুদ্ধে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ
কানাডায় মাস্টার্স-ডক্টরালে বাড়ছে সুযোগ, শিক্ষার্থীদের আকর্ষণে কানাডা সরকারের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর নীতির মধ্যেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কানাডা। বিশ্বের মেধাবী গবেষক ও উচ্চশিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে দেশটির সরকার গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য কিছু প্রক্রিয়া সহজ করেছে এবং ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত স্টাডি পারমিট প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থা চালু করেছে।   কানাডার ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা বা আইআরসিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও মাস্টার্স ও ডক্টরাল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কানাডায় আকৃষ্ট করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৫ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার পাবলিক ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশনে মাস্টার্স বা ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্টাডি পারমিট আবেদনে প্রভিন্সিয়াল বা টেরিটোরিয়াল অ্যাটেস্টেশন লেটার, অর্থাৎ PAL বা TAL জমা দিতে হচ্ছে না। তবে কুইবেকে পড়তে চাইলে প্রদেশটির নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।   ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আরও দ্রুত প্রসেসিংয়ের সুবিধা। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে অনলাইনে আবেদন করা যোগ্য PhD শিক্ষার্থীদের আবেদন সম্পূর্ণ হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার যাচাই করার পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রসেস করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সঙ্গে যাওয়া স্বামী বা কমন-ল পার্টনার এবং নির্ভরশীল সন্তানদের আবেদনও এই দ্রুত প্রসেসিংয়ের আওতায় আসতে পারে।   তবে এই দুই সপ্তাহের প্রসেসিং সুবিধা সব গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য নয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাস্টার্স, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা বা সার্টিফিকেট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট দ্রুত প্রসেসিং সুবিধা পাবেন না। অসম্পূর্ণ আবেদন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা বা মেডিকেল যাচাই প্রয়োজন হলে প্রসেসিং সময়ও বেড়ে যেতে পারে।   কানাডা একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থার সামগ্রিক আকার কমাচ্ছে। ২০২৬ সালে দেশটি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৮ হাজার স্টাডি পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে নতুন শিক্ষার্থী ও কানাডায় থাকা শিক্ষার্থীদের পারমিট এক্সটেনশন উভয়ই রয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় আসার সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৪০৫, যা আগের কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।   এই নীতির মধ্যেই কানাডা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মাস্টার্স ও ডক্টরাল শিক্ষার্থীদের জন্য PAL বা TAL ছাড়া স্টাডি পারমিট পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪৯ হাজার স্টাডি পারমিটের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   কানাডায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ করার পর যোগ্য শিক্ষার্থীরা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে দেশটিতে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এটি স্বয়ংক্রিয় বা সবার জন্য নিশ্চিত নয়; প্রোগ্রাম, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হয়। মাস্টার্স ও ডক্টরাল ডিগ্রি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের নিয়ম অন্যান্য নন-ডিগ্রি প্রোগ্রামের তুলনায় ভিন্ন।   কানাডা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থায় সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ দক্ষতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কানাডায় মাস্টার্স বা PhD করার পরিকল্পনা থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েট পর্যায়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ডালাসে নিখোঁজের পর বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীর মৃ ত দে হ উদ্ধারের খবর

ডালাসে নিখোঁজের পর বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীর মৃ ত দে হ উদ্ধার

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০