- প্রচ্ছদ
- Topic
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ আয়ের মানুষের ভোগব্যয় শক্তিশালী থাকলেও সেই ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসছে, তা নিয়ে নতুন একটি চিত্র সামনে এসেছে। জেপিমরগ্যান চেজ ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আগের তুলনায় অনেক বেশি আমেরিকান এখন বিনিয়োগ হিসাব থেকে অর্থ তুলে চেকিং অ্যাকাউন্টে আনছেন, যেখান থেকে দৈনন্দিন খরচ মেটানো সম্ভব। প্রবণতাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে উচ্চ আয়ের ও বয়স্ক আমেরিকানদের মধ্যে। গবেষণাটি জেপিমরগ্যান চেজের ২ কোটির বেশি গ্রাহকের পরিচয় গোপন রাখা ব্যাংকিং তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসে ৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বিনিয়োগ হিসাব থেকে নিট অর্থ চেকিং অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছেন। ২০১৯ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৪ শতাংশ এবং ২০১৫ সালে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ। উচ্চ আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি আরও বড়। সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ২০১৫ সালে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ থেকে চেকিং অ্যাকাউন্টে অর্থ আনতেন। ২০২৬ সালে সেই হার বেড়ে ২০ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ উচ্চ আয়ের প্রতি পাঁচজনের প্রায় একজন সাম্প্রতিক তিন মাসের হিসাবে এ ধরনের অর্থ স্থানান্তর করেছেন। তবে এটিকে শুধু অর্থকষ্টের প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। জেপিমরগ্যানের গবেষণা বলছে, গত কয়েক বছরে শেয়ারবাজারে সম্পদের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অনেক পরিবারের বিনিয়োগ সম্পদ বেড়েছে। ফলে আয় থেকে সব খরচ না মিটিয়ে বিনিয়োগে জমে থাকা সম্পদের একটি অংশ ব্যবহার করার সুযোগও তৈরি হয়েছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিনিয়োগ থেকে আসা অর্থের ওপর ভোগব্যয়ের নির্ভরতাও বাড়ছে। ২০১৫ সালে মোট ব্যয়ের প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ আসছিল বিনিয়োগ হিসাব থেকে। ২০১৯ সালে তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। উচ্চ আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রতি মাসেই এই হার ১০ শতাংশের বেশি ছিল। এই প্রবণতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক ভোগব্যয়ের বড় বৈষম্যও সামনে এসেছে। মুডিজ অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ আমেরিকান দেশের মোট ভোগব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ করেছেন। সবচেয়ে বেশি আয় করা ২০ শতাংশ মানুষের অংশ ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। বয়সের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র রয়েছে। ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোগব্যয়ের প্রায় ৪৬ শতাংশ করেছেন। জেপিমরগ্যানের গবেষণাও বলছে, উচ্চ আয় ও অবসর বয়সের মানুষের মধ্যেই বিনিয়োগের অর্থ ব্যয়ে ব্যবহারের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এর পেছনে শেয়ারবাজারের বড় উত্থানও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ হিসাবে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন পরিবার ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ ১২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শুধু সরাসরি ও পরোক্ষভাবে থাকা করপোরেট শেয়ারের মূল্যই ওই প্রান্তিকে প্রায় ১০ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। তবে এখানেই অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগের জায়গা রয়েছে। জেপিমরগ্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেয়ারবাজার পতনের সময় বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে খরচ করার প্রবণতাও কমেছিল। অর্থাৎ মানুষের ভোগব্যয়ের একটি বড় অংশ যদি ক্রমেই বিনিয়োগ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে শেয়ারবাজারের বড় পতন সরাসরি ভোক্তা ব্যয়েও চাপ তৈরি করতে পারে। গবেষণাটি তাই শুধু ধনী আমেরিকানদের খরচের গল্প নয়। এটি দেখাচ্ছে, শেয়ারবাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব অর্থনীতির সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও গভীর হচ্ছে। বাজার বাড়লে বিনিয়োগের সম্পদ থেকে ব্যয়ের সুযোগ বাড়ছে, আর বড় ধরনের বাজার পতন হলে সেই ব্যয়ও দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মুদি ও কনভেনিয়েন্স স্টোরে চাকরির সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। জাতীয়ভাবে এ খাতে চাকরি কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ফেডারেল শ্রম বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস এ হিসাব দিয়েছে। একই সময়ে অ্যারিজোনার দোকানগুলোতে দেওয়া মোট মজুরির অঙ্ক কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। জাতীয়ভাবে কমেছে ১ শতাংশের কম। এটি খাতটিতে দেওয়া মোট মজুরির হিসাব; প্রত্যেক কর্মীর বেতন একই হারে কমেছে, এমন তথ্য নয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেওএলডির প্রতিবেদনে কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা খাবার কেনায় খরচ কমাচ্ছেন। এক মুদি দোকানের কর্মী জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগে লোক কম থাকলেও কাজের প্রত্যাশা আগের মতোই রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান্তা ক্রুজ কাউন্টিতে মুদি দোকানের চাকরি কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গ্রাহাম কাউন্টিতে ১৩ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে সবচেয়ে বেশি চাকরি কমেছে ম্যারিকোপা কাউন্টিতে, প্রায় ৯০০টি। অ্যারিজোনা সেন্টার ফর ইকোনমিক প্রগ্রেস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে রাজ্যটিতে স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জোসেফ পালোমিনোর মতে, খাদ্য সহায়তা কমলে পরিবারের কেনাকাটার সামর্থ্য এবং স্থানীয় দোকানের আয়েও চাপ পড়তে পারে। তবে স্ন্যাপ পাওয়া মানুষের সংখ্যা কমার কারণেই মুদি দোকানে চাকরি ও মোট মজুরি কমেছে, প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে তা নিশ্চিত করা যায় না। তথ্যগুলো একই সময়ে খাদ্য কেনাকাটা ও মুদি দোকানের কর্মসংস্থানে তৈরি হওয়া চাপের চিত্র তুলে ধরছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় পুরোনো পাওয়ার গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে দেশটির জ্বালানি বিভাগ। এই অর্থ ২৬টি অঙ্গরাজ্যের ৩১টি প্রকল্পে দেওয়া হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ২৩ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার সমান। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে শুধু নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য সেন্সরসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। কোথাও বিদ্যুতের লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ অন্য পথে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০০ মাইলের বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন উপাদান উন্নত করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার মাইলজুড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করার পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রিড থেকে অতিরিক্ত সক্ষমতা বের করে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ দেওয়া হবে। এর সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ৩৩৫ কোটি ডলার ব্যয় করবে। অর্থাৎ সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্থানীয় অংশীদারদের অর্থায়নও থাকছে। অর্থ পাবে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, কো-অপারেটিভ এবং কলোরাডো, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও ও ওকলাহোমার চারটি সরকারি সংস্থা। এসব অঙ্গরাজ্য সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮১ কোটি ডলার পাবে। এর মধ্যে কলোরাডো ও ওকলাহোমার প্রকল্পগুলো বড় আঞ্চলিক গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার, শিল্পকারখানা, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে দেশটির পুরোনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষমতা বাড়ানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করা হচ্ছে কংগ্রেসে পাস হওয়া দ্বিদলীয় অবকাঠামো আইনের অর্থ থেকে। আইনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় পাস হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান উদ্যোগের অর্থের উৎস আগের প্রশাসনের সময় অনুমোদিত অবকাঠামো তহবিল। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতকে আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার প্রশাসন দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর কিছু পরিবেশগত বিধিনিষেধ কমানো এবং পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘ সময় চালু রাখার মতো নীতির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন অফশোর উইন্ড প্রকল্পের ইজারা পুনরায় কিনতেও প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে নতুন গ্রিড প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো। ২৬টি অঙ্গরাজ্যে পরিকল্পিত ৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরোনো গ্রিড থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সরবরাহ করার সুযোগ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ২০২৪ সালের ৮৫ হাজার ২১০ ডলারের তুলনায় এই আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর ২০২৫ সালেই পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়েও পরিবর্তন দেখা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন এমন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, বিপরীতে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে বেশি। কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ ডলারে, যা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার। শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন। তবে কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি। ২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ারের আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেইডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্যারামাউন্ট তাদের প্রধান কার্যালয় ও কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনীতিতে বছরে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫৮ হাজার কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির (ডব্লিউবিডি) সঙ্গে প্যারামাউন্টের সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট বিতর্কের মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি প্রাথমিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকস প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রথম হাতে পায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। ডব্লিউবিডির সঙ্গে প্যারামাউন্টের একীভূতকরণ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার নেতৃত্বে ১২টি ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যের আইনি পদক্ষেপের পর। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এই একীভূতকরণ হলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন খাতে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্যারামাউন্টকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের প্রধান কার্যালয় ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সরিয়ে নিতে হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে জর্জিয়া, টেনেসি ও টেক্সাসের নামও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় প্রভাব হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তাদের সব কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটিতে স্থায়ীভাবে ২৮ হাজার ৯৯০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৯৮০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। এর মধ্যে প্যারামাউন্টের সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের ব্যয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বছরে ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে ২১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের কর রাজস্ব বছরে প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হিসাব মূলত সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য প্রভাবের একটি চিত্র। এর কারণ, প্যারামাউন্ট অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পরিচালন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, প্যারামাউন্টের মোট পরিচালন ব্যয়ের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অর্থের হিসাবে এর পরিমাণ বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন থেকে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এদিকে একীভূতকরণসংক্রান্ত প্রায় ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ফি ও অর্থায়ন ব্যয় সামাল দিতে প্যারামাউন্ট যদি ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যয় কমায়, সেক্ষেত্রেও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। পাঁচ বছরে সমান হারে ব্যয় কমানো হলে প্রতিবছর ৫৫০ থেকে ১ হাজার ১১০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ২০২ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ৪০৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমতে পারে। প্যারামাউন্ট ও ডব্লিউবিডির সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ১৩ জুলাই। সেদিন ১২টি অঙ্গরাজ্য চুক্তিটি রোধ করতে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের দাবি, একীভূতকরণ হলে বড় পরিসরের সিনেমা, সম্ভাব্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র এবং বেসিক কেবল চ্যানেলের স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ গত জুনে নিজস্ব পর্যালোচনা শেষ করলেও একীভূতকরণ ঠেকাতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। বিভাগের মূল্যায়ন ছিল, এই চুক্তির ফলে স্ট্রিমিং, প্রচলিত টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা ও বিতরণ খাতে প্রতিযোগিতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর চুক্তি সম্পন্ন হলে ডব্লিউবির শেয়ারহোল্ডারদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এলএইডিইসির প্রতিবেদনের হিসাবে, ১ অক্টোবর থেকে এই অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টিকিং ফি’ বাবদ প্যারামাউন্টকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে। বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যারামাউন্ট একীভূত প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে অন্তত ৩০টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ হাজার ২০ থেকে ২ হাজার ৭৬০টি চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ৩৭৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। .ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বলেছে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ব্যবসার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাদের মতে, শক্তিশালী অ্যান্টিট্রাস্ট আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা ও ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। .তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্যারামাউন্টের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের অবিশ্বাস্য সীমা অতিক্রম করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ ট্রিলিয়ন ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই বিশাল অঙ্কের ঋণকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। এর মানে হলো, দেশটিতে আজ যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করছে, তার নামে আলাদা করে কোনো ঋণ তৈরি না হলেও, গাণিতিক হিসাবে তার কাঁধেও প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলারের ঋণের বোঝা চেপে যাচ্ছে। ঋণের এই উল্লম্ফন বেশ দ্রুতগতিতেই ঘটছে। মাত্র কয়েক মাস আগে, চলতি বছরের মার্চেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল এবং এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তা ছিল ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের ফেডারেল বাজেট ঘাটতি। সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় ঘাটতি মেটাতে প্রতিনিয়ত ঋণ নিতে হচ্ছে, যার ফলে এই ঋণের সুদ পরিশোধের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। পাশাপাশি, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার কারণে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারের মতো খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান আইন ও নীতিগুলো অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৬ অর্থবছরে ফেডারেল বাজেট ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা ২০৩৬ সাল নাগাদ বেড়ে ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। শুধু তাই নয়, অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের এই বোঝা আরও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সিবিও ধারণা করছে, জনসাধারণের হাতে থাকা ফেডারেল ঋণ ২০২৬ সালে জিডিপির ১০১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩৬ সালে ১২০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে, যা ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রেকর্ড হওয়া ১০৬ শতাংশের সর্বোচ্চ মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাবে। যদিও বাস্তবে এই মাথাপিছু ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দায় নয়, তবে এই হিসাব থেকে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ঋণের বিশালত্ব ও ভবিষ্যৎ চাপ সহজেই অনুমান করা যায়। ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি, মাত্রাতিরিক্ত সুদ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এক বিশাল সতর্কবার্তা হিসেবেই সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণ বেড়ে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। একই সময়ে ৯০ দিনের বেশি বকেয়া থাকা ঋণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিমাণ গত বছরের ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি। ঋণের পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধের পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ৯০ দিনের বেশি বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের গবেষকেরা বলছেন, অনেক পরিবার বেতন-নির্ভর জীবনযাপন করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় কিছু পরিবার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ৯০ দিনের বেশি বকেয়ার হার বেড়েছে মানেই নতুন করে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন—এমনটা নয়। পুরোনো বকেয়া ঋণ দীর্ঘ সময় নথিতে থেকে যাওয়ায় এই হারও বেড়ে দেখা যেতে পারে। নতুন করে খেলাপি হওয়ার হার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ঋণের চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞরা মাসিক পরিশোধের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের ঋণ ও সুদের হার পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্রেডিট স্কোর ভালো হয়ে থাকলে কম সুদের হার নিয়ে ঋণদাতার সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। এছাড়া যোগ্যতা থাকলে সুদমুক্ত নির্দিষ্ট সময়ের ঋণ স্থানান্তর সুবিধা বা কম সুদের ব্যক্তিগত ঋণও বিবেচনা করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ আবারও বেড়েছে এবং তা সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রকাশিত নতুন তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট ক্রেডিট কার্ড ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মোট ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে গড়া ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভোক্তাদের শক্তিশালী ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এই ঋণ বাড়ার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু ঋণের পরিমাণই বাড়েনি, বরং অনেক পরিবার সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যেখানে ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, তা ২০২৬ সালের শুরুতে বেড়ে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক ফেডের গবেষকেরা সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও বিপুলসংখ্যক পরিবার মাসিক আয়ের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। এমন পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে একটি অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপই ঋণ পরিশোধে বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে গবেষকেরা আরও উল্লেখ করেন, বকেয়া ঋণের হার বৃদ্ধির পেছনে মূলত আগের জমে থাকা ঋণ দায়ী। নতুন করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা ব্যাপক হারে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, এমন চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। একই সময়ে অন্যান্য ভোক্তা ঋণের চিত্রেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে গাড়ি কেনার ঋণ এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট বেড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষাঋণ ও আবাসন ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আবাসন ঋণ, যার পরিমাণ ১৩ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ডলার। এছাড়া গাড়ির ঋণ বেড়ে নতুন রেকর্ড ১ দশমিক ৭১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শিক্ষাঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার, ক্রেডিট কার্ড ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিটের পরিমাণ ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার। নিউইয়র্ক ফেড জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনটি ইকুইফ্যাক্সের ক্রেডিট রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন পরিবারের পরিচয় গোপন রেখে সংগৃহীত প্রতিনিধিত্বমূলক তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ও খেলাপি পরিশোধের হার ভবিষ্যতে ভোক্তাদের ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হারের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ পরিশোধে ব্যর্থ ঋণগ্রহীতার সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মহামারিকালীন ঋণ পরিশোধ স্থগিত কর্মসূচির সমাপ্তি এবং শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে লাখো মানুষ কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়ছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৯৫ লাখ ফেডারেল শিক্ষাঋণগ্রহীতা যা মোট ঋণগ্রহীতার প্রায় ২০ শতাংশ টানা নয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া ঋণ পরিশোধ স্থগিত কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর খেলাপির সংখ্যা এক লাফে প্রায় ৪২ লাখ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের সহায়তায় দেওয়া মোট ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের শিক্ষাঋণের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২৩৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘প্রটেক্ট বরোয়ার্স’-এর নীতিনির্ধারণ পরিচালক আইসা কানচোলা বানিয়েজ এপিকে বলেন, “মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। এর সঙ্গে বাড়তে থাকা শিক্ষাঋণের কিস্তি তাদের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। ফলে অনেকেই নিয়মিত কিস্তি দিতে পারছেন না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক মাস কিস্তি বকেয়া থাকলেই একজনের ঋণমান (ক্রেডিট স্কোর) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর ঋণ খেলাপি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে সরকার ভবিষ্যতে বেতন বা সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার একটি অংশ কেটে নেওয়ার মতো ব্যবস্থা নিতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত বেতন থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার পদক্ষেপ স্থগিত রেখেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লাভজনক (ফর-প্রফিট) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহীতারা সরকারি বা অলাভজনক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে পড়ছেন। এই শ্রেণির ৩৩ শতাংশ ঋণগ্রহীতা অন্তত ৯০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে কিস্তি পরিশোধ করেননি। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মিসিসিপিতে শিক্ষাঋণ খেলাপির হার সবচেয়ে বেশি ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে লুইজিয়ানা, আলাবামা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, ওকলাহোমা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেক্সাস। এছাড়া আলাস্কা, অ্যারিজোনা, ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, নিউ মেক্সিকো এবং নেভাদাও খেলাপির দিক থেকে শীর্ষ ১৫ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অনেকের ধারণা শিক্ষাঋণ খেলাপিরা বেকার বা কর্মহীন। বাস্তবে এর বড় অংশই কর্মজীবী মানুষ, যারা ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে শিক্ষাঋণের কিস্তির চাপ সামলাতে পারছেন না। কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ ফেডারেল শিক্ষাঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। যদিও ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কিস্তি পরিশোধ পুনরায় চালু হয়, বাইডেন প্রশাসন এক বছরের জন্য একটি ‘সুরক্ষা সময়’ (বাফার পিরিয়ড) দিয়েছিল। এই সময়ে কিস্তি বকেয়া থাকলেও ঋণ খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয়নি। সেই সময়সীমা ২০২৪ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের জুন থেকে আবারও ঋণ খেলাপির হিসাব শুরু হয়। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষাঋণ পরিশোধ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। আয়ভিত্তিক সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিশোধ কর্মসূচি ‘সেভ’ (SAVE) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেক ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ঋণগ্রহীতাদের জন্য একাধিক বিকল্পের পরিবর্তে একটি সাধারণ পরিশোধ পরিকল্পনা এবং একটি আয়ভিত্তিক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। ফলে আগে ‘সেভ’ কর্মসূচির আওতায় থাকা লাখো ঋণগ্রহীতাকে এখন তুলনামূলক বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে যেসব ঋণ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়েছে, সেগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য ঋণগ্রহীতারা আয়ভিত্তিক ধারাবাহিক নয়টি কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন অথবা নতুন ফেডারেল ডাইরেক্ট লোনের মাধ্যমে ঋণ একীভূত (কনসোলিডেশন) করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এখনো এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের ধারাবাহিক পতনের পর দেশটির আবাসন খাতের সামর্থ্যের সূচক কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, একটি বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ৬ অঙ্কের বা কমপক্ষে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি উপার্জনের প্রয়োজন পড়ছে। আবাসন খাতের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির উপাত্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি গড়পরতার বাড়ি কেনা এবং তার বিপরীতে আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের মধ্যে মাসিক ঋণের কিস্তি (মর্গেজ) সীমাবদ্ধ রাখার জন্য একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার। যদিও এক বছর আগে রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলারের তুলনায় এই অঙ্ক মাত্র ০.৫ শতাংশ কমেছে, তবুও তা বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকের আয়ের সাধ্যের বাইরে। বাস্তবতার সঙ্গে এই প্রয়োজনীয় আয়ের বড় ফারাক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাধারণ পরিবারের গড় বার্ষিক আয় বর্তমানে ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়লেও বাড়ি কেনার জন্য দরকারি অঙ্কের চেয়ে অনেক কম। হিসাব অনুযায়ী, একজন গড় আয়ের আমেরিকান পরিবার যদি একটি মাঝারি দামের বাড়ি কিনতে যায়, তবে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই চলে যাবে কেবল বাড়ির কিস্তি মেটাতে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রেডফিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়িংকি সু জানান, কয়েক বছর টানা অবস্থা খারাপ হওয়ার পর বাড়ি কেনার প্রয়োজনীয় আয়ের অঙ্কটি কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে বা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বাড়ি কেনা সহজ বা সাশ্রয়ী হয়ে গেছে। এখনো একজন সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি কেনার খরচের মধ্যে দুই অঙ্কের শতাংশের এক বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে। ফলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া বহু প্রাক-ক্রেতা বাজারের বাইরে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এই সংকটের মধ্যেও অর্থনীতির খাতায় সামান্য কিছু স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আয় ও প্রকৃত আয়ের মধ্যবর্তী ঘাটতি গত দুই বছরের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। দুই বছর আগে যেখানে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৮৩৪ ডলার এবং গত বছর ছিল ২৬ হাজার ১২৫ ডলার, তা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ ডলারে। পাশাপাশি বাজারে সক্রিয় বিক্রির জন্য থাকা মোট বাড়ির ৩৪.২ শতাংশ এখন সাধারণের কেনার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০.৫ শতাংশ। অন্যদিকে যারা জীবনে প্রথমবারের মতো প্রারম্ভিক স্তরের (এন্ট্রি-লেভেল) বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে খরচ সামান্য কমেছে। এ ধরনের বাড়ি কেনার জন্য বর্তমানে বার্ষিক ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয়ের প্রয়োজন, যা এক বছর আগের চেয়ে ১.৫ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এবং সান হোসে-এর মতো প্রধান প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে আবাসন সাশ্রয়ের সূচকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে কেবল সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপলিস এবং পিটসবার্গ এই তিনটি শহরেই সাধারণ পরিবারের বর্তমান গড় আয় দিয়ে একটি মাঝারি মানের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্টি হওয়া নতুন চাকরির বড় অংশই নারীদের দখলে গেছে। নতুন এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার নতুন নন-ফার্ম বেতনভুক্ত চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ লাখ ৩ হাজার চাকরি পেয়েছেন নারী কর্মীরা। পুরুষদের ভাগে এসেছে মাত্র ৬৫ হাজার চাকরি। অর্থনীতিবিদ জাস্টিন উলফার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মূল কারণ কর্মসংস্থানের ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে যেখানে ঐতিহাসিকভাবেই নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুবিধাও তুলনামূলকভাবে নারীরাই বেশি পেয়েছেন। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম খাতে কর্মরত নারীর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে সামান্য বেশি। দেশটির ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বারের মতো ঘটল। ১৯৭০ সালে একই খাতে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে গত পাঁচ দশকে ধীরে ধীরে সেই ব্যবধান কমে এসে এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নন-ফার্ম কর্মসংস্থানের হিসাবের বাইরে কৃষি খাতের চাকরি রাখা হয়। উলফার্সের মতে, এটি নারীদের প্রতি নিয়োগদাতাদের বিশেষ পক্ষপাতের ফল নয়। বরং অর্থনীতির যে খাতগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেগুলোতেই আগে থেকেই নারী কর্মীর আধিক্য ছিল। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী-প্রধান শিল্পখাতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে পুরুষ-প্রধান খাতে ২ লাখ ১৮ হাজার এবং তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ খাতে ১ লাখ ৪২ হাজার চাকরি কমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান দ্রুত বেড়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই খাতে কর্মরতদের ৭৫ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ফলে নতুন নিয়োগের বড় অংশও স্বাভাবিকভাবেই নারীদের ঝুলিতে গেছে। অর্থনীতিবিদ উলফার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন ক্রমেই সেবাভিত্তিক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং বয়স্কদের সেবার মতো খাতে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একটি দেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ হয়, তখন অর্থনীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশের মানুষ কৃষি ও উৎপাদনশিল্পে কাজ করলেও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এখন অনেক কম শ্রমিক দিয়েই একই বা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমশক্তি ধীরে ধীরে সেবা খাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। আধুনিক কারখানা ও খামারে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের ধরণও বদলে যাচ্ছে। উলফার্সের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে খাতগুলো সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, সেগুলোকে অনেক সময় "পিঙ্ক-কলার অর্থনীতি" বলা হয়। এসব পেশায় ঐতিহাসিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি এবং এখনও পুরুষদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের কর্মসংস্থানও বাড়াতে হলে দ্রুত সম্প্রসারিত এসব খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ির দাম বাড়া শহরগুলোর একটি ছিল টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল। সে সময় ক্রেতাদের তীব্র প্রতিযোগিতা, একের পর এক উচ্চমূল্যের প্রস্তাব এবং দ্রুত বিক্রি হওয়া বাড়ি ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির জন্য সবচেয়ে কঠিন বাজারগুলোর মধ্যে ন্যাশভিল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ তালিকায় প্রথমে রয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামি। ন্যাশভিলের পর রয়েছে টেক্সাসের কয়েকটি বড় মহানগর এলাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ন্যাশভিলে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা ১২৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ এত বেশি যে ক্রেতাদের হাতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বিকল্প রয়েছে। ফলে তারা ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, দরদাম করছেন এবং কম দামে বাড়ি কেনার চেষ্টা করছেন। রেডফিনের ন্যাশভিলভিত্তিক প্রধান এজেন্ট অ্যারন গ্লিকেন বলেন, এখনকার ক্রেতারা কোনো তাড়াহুড়া করছেন না। বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি থাকায় তারা অপেক্ষা করে নিজেদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বাড়ি বেছে নিচ্ছেন। এমনকি বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ করা বাড়িতেও অনেক ক্রেতা প্রত্যাশার চেয়ে কম দামের প্রস্তাব দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক বিক্রেতা শুরুতে কম দামের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও পরে বুঝতে পারছেন, একই ধরনের কম প্রস্তাবই বারবার আসছে। শেষ পর্যন্ত অনেককেই দাম কমাতে বাধ্য হতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিল মহানগর এলাকায় নতুন বাড়ির তালিকা গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে সারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তালিকা বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। একই সঙ্গে বাড়ি বিক্রির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ন্যাশভিলে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৭৮ দিন সময় লাগছে। যেখানে জাতীয় গড় মাত্র ৪৯ দিন। গত জুন মাসে সারা যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে ন্যাশভিলে এই ব্যবধান জাতীয় গড়ের প্রায় তিন গুণ। রেডফিনের আরেক এজেন্ট ক্রিস্টিন সানচেজ বলেন, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত কম সুদের হার থাকায় অনেক বাড়ির মালিক নতুন বাড়ি কেনা বা স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এখন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কারণে তারা আর অপেক্ষা করছেন না। উচ্চ মর্টগেজ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তার ভাষ্য, অনেক বিক্রেতাই বুঝতে পারছেন ২০২১ ও ২০২২ সালের মতো অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় শেষ হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে বাজার আরও অনিশ্চিত হওয়ার আগেই বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন। মহামারির সময় ন্যাশভিলে বাড়ির দাম বছরে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তখন শহরের একটি সাধারণ বাড়ির দাম ছিল চার লাখ ডলারেরও কম। কিন্তু বর্তমানে সেই দাম বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও গত জুন পর্যন্ত এক বছরে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ নতুন আবাসন নির্মাণ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে বাড়ির উচ্চ মূল্য ও মর্টগেজ ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজার থেকে সরে গেছেন। এতে দরকষাকষির ক্ষমতা এখন পুরোপুরি ক্রেতাদের দিকে চলে গেছে। সানচেজ জানান, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও শিকাগো থেকে এখনো কিছু মানুষ ন্যাশভিলে বসবাসের জন্য আসছেন। তবে মহামারির সময় নিউইয়র্ক থেকে যে বড় ঢল নেমেছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। শুধু দাম কমানো নয়, এখন ক্রেতারা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ক্লোজিং খরচ বহন, বাড়ি মেরামতের ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক নির্মাতা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ স্থির সুদের বিশেষ মর্টগেজ সুবিধা ও ক্লোজিং খরচে সহায়তা দিচ্ছেন। সম্প্রতি সানচেজ প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া এক দম্পতিকে মূল্যায়িত দামের চেয়ে ১৫ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কিনতে সহায়তা করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই লেনদেনে বিক্রেতা পুরো ক্লোজিং খরচ বহন করেছেন এবং বিক্রির আগে প্রয়োজনীয় মেরামতও সম্পন্ন করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার আরেকজন ক্রেতা তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে ৬০ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কেনার চুক্তি করেছেন। কয়েক বছর আগে একই ধরনের ক্রেতাদের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতো, যেখানে দরকষাকষির সুযোগ প্রায় থাকত না। অ্যারন গ্লিকেনের মতে, বর্তমানে যেসব বিক্রেতা বাড়ি রং করা, ছোটখাটো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন করে বাজারে আনছেন, তাদের বাড়ি তুলনামূলক দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। কারণ এখনকার ক্রেতারা এমন বাড়িই বেশি পছন্দ করছেন, যেখানে কেনার পর অতিরিক্ত কোনো কাজ করতে হবে না। রেডফিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে ন্যাশভিলের আবাসন বাজারে যে বড় ধরনের মূল্যসংশোধন শুরু হয়েছে, তা এখনো চলমান। ফলে আগের মতো চাহিদার জোয়ারে বাড়ি বিক্রির দিন আপাতত শেষ, আর বর্তমান বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণই বিক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী শহরগুলোর নতুন তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে এসেছে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল। জীবনযাত্রার মান, আয়, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, শিক্ষা ও সামগ্রিক জীবনসন্তুষ্টির মতো সূচকে ভালো ফল করায় শহরটি এ স্বীকৃতি পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কাইরো ৭ নিউজ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত অর্থনীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের প্রকাশিত ‘২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুখী শহর’ প্রতিবেদনে সিয়াটল দেশের অন্যতম সুখী শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে। দেশজুড়ে ১৮০টিরও বেশি বড় শহরের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করে এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল্যায়নে তিনটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে, মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা, আয় ও কর্মসংস্থান এবং সামাজিক জীবন। এসব সূচকের অধীনে মোট ২৯টি ভিন্ন মানদণ্ড বিশ্লেষণ করা হয়, যার মধ্যে ছিল জীবন প্রত্যাশা, বিষণ্নতার হার, অবসর সময়, গড় আয়, কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা, পারিবারিক সম্পর্ক, সবুজ পরিবেশ এবং কমিউনিটিতে সম্পৃক্ততা। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রযুক্তিখাতের শক্তিশালী কর্মসংস্থান, তুলনামূলক উচ্চ আয়, প্রাকৃতিক পরিবেশ, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সিয়াটলকে এগিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যদিও শহরটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আবাসন খরচ তুলনামূলক বেশি, তবুও অন্যান্য ইতিবাচক সূচকে ভালো ফলের কারণে সামগ্রিক সুখের সূচকে এটি উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ওয়ালেটহাবের গবেষকদের মতে, শুধু উচ্চ আয় বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই সুখের একমাত্র মানদণ্ড নয়। মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক সম্পর্ক, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশও মানুষের সুখ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের জীবনযাত্রার মান মূল্যায়নে এ ধরনের গবেষণার গুরুত্ব বেড়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, আবাসন ব্যয় এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কারণে কোন শহরে বসবাস মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তোষজনক, তা জানতে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের র্যাঙ্কিং কোনো শহরের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরলেও ব্যক্তিভেদে সুখের সংজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। তারপরও জীবনমান উন্নয়ন এবং নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এসব গবেষণা নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়ে এসেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বার্ষিক হিসেবে ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশ কম। এর আগে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রবৃদ্ধির হার ছিল সংশোধিত ২.১ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অন্তর্ভুক্ত বিউরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের প্রকাশিত প্রাথমিক প্রাক্কলন বা অ্যাডভান্স এস্টিমেটে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে অর্থনীতিবিদরা দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। মূলত সরকারি ব্যয় কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও রপ্তানির গতি মন্থর হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এই ধীরগতি দেখা দিয়েছে। যদিও এই সময়ের মধ্যে ভোক্তাদের ব্যয় এবং ব্যক্তিগত খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মূল চালিকাশক্তি ছিল ভোক্তা ব্যয়, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, যা সরকারি খাতের ব্যয়ের পতনের কারণে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যক্তিগত খাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদার মূল পরিমাপক ‘রিয়েল ফাইনাল সেলস টু প্রাইভেট ডমেস্টিক পারচেজার্স’ ৩.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ। অন্যদিকে, জিডিপি গণনার সময় আমদানি ব্যয় বাদ দেওয়া হয়, এবং এই প্রান্তিকে আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় বেশি ছিল। এদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হলেও এই প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশ অনেকটাই বেড়েছে। দেশটির গ্রস ডমেস্টিক পারচেসেস প্রাইস ইনডেক্স ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের তিন মাসের সময়সীমায় ছিল ৩.৬ শতাংশ। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত খরচ বা পিসিই মূল্যসূচক বেড়ে ৫.১ শতাংশ হয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৪.৬ শতাংশ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো—খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থিতিশীল খাতগুলো বাদ দিয়ে পরিমাপ করা মূল পিসিই মূল্যস্ফীতি ৪.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সাথে বর্তমান ডলারে হিসাবকৃত জিডিপি এই প্রান্তিকে বার্ষিক ৭.৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা সামনের দিনগুলোতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাণিজ্য বিভাগ পরবর্তীতে এই প্রবৃদ্ধির আরও দুটি সংশোধিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু) এবং জেএমসি বিল্ডার্সকে ঘিরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্ট-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএফআইইউর অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার অধিগ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেয়ার কেনার অর্থ এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে জেএমসি বিল্ডার্সকে এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে সাহাবুদ্দিন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন এবং পরে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ বিতরণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আদালতে উপস্থাপিত বিএফআইইউর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট দুদককে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টে নির্ধারিত রয়েছে। তবে এ পর্যায়ে আদালতে উপস্থাপিত তথ্যগুলো তদন্ত-সংক্রান্ত অভিযোগ ও অনুসন্ধানের অংশ। আদালতের চূড়ান্ত রায় বা যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনগতভাবে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন যৌথভাবে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট চুক্তি ঘোষণা করেছেন। বাজেট ঘোষণার পর সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী মেয়র মামদানী দাবি করেন, পুঁজিবাদীদের চেয়ে সমাজতন্ত্রীরা অর্থনীতি ভালো বোঝেন এবং পূর্বসূরিদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা তাঁরা সহজেই সমাধান করতে পারেন। তবে ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও আইনি নীতি বিষয়ক গবেষক জন কেচাম মেয়রের এই দাবিকে নিছক সস্তা প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সিটির এই নতুন বাজেটটি মোটেও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নেই। আপাতদৃষ্টিতে বাজেটটিকে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হলেও এটি মূলত কিছু সাময়িক কৌশল ও আর্থিক কারচুপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে সিটির জন্য বড় সংকট ডেকে আনবে। বিশ্লেষকদের মতে, মেয়র মামদানী তাঁর সম্ভাব্য দুই মেয়াদের পেনশনের কিস্তি বাবদ প্রতি বছর ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়া থেকে বাঁচতে বর্তমানের বিলটি ভবিষ্যতের করদাতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানের কিস্তি ফাঁকি দেওয়ার এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আগামী ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সিটিকে অতিরিক্ত প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সুদ গুনতে হবে। বর্তমানের দায় এড়াতে গিয়ে সিটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। সিটির এই চূড়ান্ত বাজেটে গত বছরের তুলনায় ব্যয় প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১১৬ বিলিয়ন ডলার। মে মাসের প্রস্তাবিত খসড়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এজেন্সির কর্মসূচিতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সিটির অভ্যন্তরীণ অর্থ প্রবাহ বা নগদ তহবিলের অবস্থা ক্রমশ মন্থর হয়ে পড়েছে, যেখানে ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি খুবই নগণ্য। বর্তমান বাজেটে সংকট এড়ানো গেলেও আগামী জানুয়ারি মাসেই মেয়রকে আবারও বড় ধরনের ঘাটতির মুখোমুখি হতে হবে। মেয়রের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যা সিটির হিসাব নিয়ন্ত্রকের মতে ৮.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগামী বছর সিটির সরকারি কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেতন বাড়ানোর জন্য ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের চাপ আসবে, যা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তহবিল সিটির হাতে নেই। তাছাড়া সমাজতান্ত্রিক এবং পুলিশ-বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে মেয়র মামদানী সিটির পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে ৫৮০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, যা নিয়ে স্পিকারের সাথে তাঁর তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। একই সাথে হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পে খরচ বাড়ানোর ফলে সিটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রকম সমাজতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থনীতির এই কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করা সম্ভব নয়। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক কেন্দ্র নিউইয়র্ক থেকে গত কয়েক বছরে শত শত কোম্পানি অন্য অঙ্গরাজ্যে কার্যক্রম স্থানান্তর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএস)-এর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ে নিউইয়র্ক থেকে ৮৯২টি কোম্পানি অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারের আয়ও স্থানান্তরিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল ফ্লোরিডা। চার বছরে সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে ৩৪১টি কোম্পানি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে টেক্সাস, যেখানে গেছে ১৮৭টি প্রতিষ্ঠান। এরপর নর্থ ক্যারোলিনায় স্থানান্তরিত হয়েছে ১২৯টি কোম্পানি। বিশ্লেষণে ব্যবহৃত তথ্য আইআরএসের আন্তঃরাজ্য অভিবাসন-সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এই তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এটি কোনো সাম্প্রতিক একক ঘটনার চিত্র নয়; বরং ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিগুলোর স্থানান্তরের সামগ্রিক হিসাব। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক কম করহার, ব্যবসাবান্ধব নীতি, কম পরিচালন ব্যয়, আবাসন খরচ এবং কর্মপরিবেশের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। কোভিড-১৯ মহামারির পর দূরবর্তী কর্মব্যবস্থার বিস্তার এবং ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তনও এই প্রবণতাকে আরও জোরালো করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কোম্পানি স্থানান্তরের এই প্রবণতা সত্ত্বেও নিউইয়র্ক এখনও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ওয়াল স্ট্রিট, বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাত, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগের কারণে বহু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় এখনো নিউইয়র্কেই অবস্থিত। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতা আগামী বছরগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। করনীতি, নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, অবকাঠামো, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয়—এসব বিষয়ই ভবিষ্যতে আরও বেশি কোম্পানির অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইআরএসের তথ্যভিত্তিক এই বিশ্লেষণ যুক্তরাষ্ট্রে করপোরেট স্থানান্তরের বর্তমান প্রবণতা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির বিপরীতে জুন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এ মাসে দেশে এসেছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া টানা ছয় মাস পর এই প্রথম কোনো মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো। বিশ্লেষকদের মতে, মাসভিত্তিক ওঠানামা থাকলেও পুরো অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এক বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এ আয় তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিচালিত বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগে অংশগ্রহণ ও লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিকতা বিষয়ক সরকারি দপ্তর ৯২৭ পৃষ্ঠার একটি আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনানশিয়াল নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টার্টআপের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থেকে ৫৫০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। ডব্লিউএলএফ নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের তিন ছেলে এবং তাঁর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের ছেলে। এ ছাড়া $TRUMP নামে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সির লাইসেন্সিং চুক্তি থেকে ট্রাম্প আরও ৬৩৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি এই ক্রিপ্টোকারেন্সিকে নিজের নাম ব্যবহারের অনুমতি দেন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে পাওয়া বিপুল আয়ের কারণে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফোর্বসের বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর অবস্থান ৬৯২তম। রাজনীতিতে আসার আগে ট্রাম্প একজন আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আশির দশকেই তিনি বিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিতি পান। তবে প্রেসিডেন্ট থাকাকালেই ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে বিনিয়োগ এবং একই সময়ে এ খাতের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের ফলে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের প্রধান উপপ্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা কখনোই স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে পরিণত করতে কাজ করেছেন। তাঁর প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তই মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া হয়েছে। আনা কেলির দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনায় যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোর মাধ্যমে কিছু গণমাধ্যম ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বক্তব্যকেই পুনরায় প্রচার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৮ সালের একটি আইন অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে নিয়মিতভাবে তাঁদের আয়, সম্পদ ও আর্থিক স্বার্থের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হয়।
ব্রেক্সিটের গণভোটের এক দশক পূর্ণ হলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি যুক্তরাজ্য। ২০১৬ সালের ২৩ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার পক্ষে গণভোটের ফল প্রকাশের পর যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো দেশটির প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, মূল্যস্ফীতি ও জনসেবায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্রেক্সিটের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে এবং এর প্রভাব আগামী বছরগুলোতেও বহাল থাকতে পারে। ব্রেক্সিটের ১০ বছর পূর্তিতে জনমতেও পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেওয়া প্রায় ২৩ শতাংশ ভোটার এখন সেই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। কেউ ইউরোপ সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছেন, আবার কেউ মনে করেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্যের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অর্থাৎ, ব্রেক্সিট না হলে দেশটির অর্থনীতি বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হতে পারত। এর ফলে সরকারের কর আদায়ও কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য জনসেবার বাজেটে। লন্ডনের কিংস কলেজের অর্থনীতি ও জননীতি বিভাগের অধ্যাপক জোনাথন পোর্টেস বলেন, অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এখন প্রায় স্পষ্ট ঐকমত্য রয়েছে যে ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চের গবেষকেরা দুটি পৃথক পদ্ধতিতে ব্রেক্সিটের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন। প্রথম বিশ্লেষণে গত ১০ বছরের প্রবৃদ্ধিকে অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়। সেখানে কোভিড-১৯, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো বৈশ্বিক ঘটনাগুলোর প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, ব্রেক্সিট না হলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বড় হতে পারত। দ্বিতীয় বিশ্লেষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ব্যবসা করা ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। এই বিশ্লেষণেও অর্থনীতি প্রায় ৬ শতাংশ ছোট হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেক্সিটের সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে বাণিজ্যে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর সীমান্তে নতুন কাস্টমস বিধি, অতিরিক্ত কাগজপত্র ও প্রশাসনিক জটিলতায় ব্যবসার ব্যয় এবং সময় দুটিই বেড়েছে। বিশেষ করে গাড়ি শিল্প, কৃষি ও খাদ্যপণ্য রপ্তানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের এক শুনানিতে এক লজিস্টিকস ব্যবসায়ী জানান, ব্রেক্সিটের আগে ইউরোপে মাংস রপ্তানিতে একটি কাগজই যথেষ্ট ছিল, অথচ এখন একই পণ্য পাঠাতে প্রয়োজন হয় ২৬টি সরকারি অনুমোদনপত্র। যদিও যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা কার্যকর হলে দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম, মাছ ও তাজা মাংস রপ্তানি সহজ হতে পারে। তবে সেটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময় ২০২৭ সালের গ্রীষ্ম। এরই মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় ও জটিলতায় অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। ব্রিটেনের ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির খাদ্যপণ্য রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। ব্রেক্সিটের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও স্পষ্ট। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। কমলার রসের মতো কিছু নিত্যপণ্যের দাম ১৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি থওয়েটস বলেন, এই মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দারিদ্র্য বা খাদ্য ব্যাংকের ব্যবহার বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে শুধু ব্রেক্সিটের ফল হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; এর পেছনে আরও নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের একমাত্র অর্থনৈতিক সমস্যা নয়। বিনিয়োগের ঘাটতি, ধীর প্রবৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতার সংকট আগে থেকেই ছিল। তবে ব্রেক্সিট এসব সমস্যাকে আরও তীব্র করেছে। জিডিপি কমে যাওয়ার ফলে সরকারের কর রাজস্বও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো ও অন্যান্য জনসেবায়। একই সঙ্গে কারাগার ব্যবস্থা, সড়ক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতেও আর্থিক চাপ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ নীতি সংস্কারের মাধ্যমে এর প্রভাব কিছুটা কমানো যেতে পারে। অর্থনীতিবিদ গ্রেগরি থওয়েটসের ভাষায়, বর্তমান ক্ষতির বড় অংশ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি একই ধরনের চাপে থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে মার্কিন আর্থিক বাজারে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ঋণ বা মর্টগেজের সুদের হার এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের গড় সুদের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশে। আগের সপ্তাহে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ। আবাসন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক জানিয়েছে, এক বছর আগে একই সময়ে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। একই সঙ্গে ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের গড় সুদের হারও কিছুটা কমে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা কমার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য কাঠামোগত চুক্তির অগ্রগতি বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বন্ড মার্কেটে, যা মর্টগেজ সুদের হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটার বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে ভোক্তাদের ব্যয় স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রয় ও বাড়ি কেনার আগ্রহেও কিছুটা উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে আবাসন বাজারে ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মর্টগেজের সুদের হার সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী সুদের হারের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলেও ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এর ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে সুদের হার কমার সম্ভাবনার দিকেও নজর রাখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ইস্যুকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে আর্থিক বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির কারণে তা কিছুটা কমেছে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে আগামী মাসগুলোতে মর্টগেজ হারের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তাদের মতে, সুদের হার কিছুটা কমলেও তা এখনো তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার খরচ অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।