ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমের কাছে একটি বিশেষ কৃতজ্ঞতা বার্তা পাঠিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা কর্তৃক প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি উল্লেখ করেন যে, হিজবুল্লাহর নেতৃত্ব বর্তমান সময়ে এই আন্দোলনের অগ্রসেনানী হিসেবে কাজ করছে। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, হিজবুল্লাহর নেতারা "ইসলামি বিশ্বের চরম শত্রুদের" বিরুদ্ধে আপসহীন নীতি, অটল মনোবল এবং ধৈর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর এই অবস্থানকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে অভিহিত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরাকের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ‘ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক’ (ISCI)-এর প্রধান শেখ হাম্মাম হামুদির কাছে একটি ব্যক্তিগত বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনী। ইরানের বার্তা সংস্থা জামারান নিউজ জানিয়েছে, ইরাকে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এক বিশেষ বৈঠকে শেখ হামুদির হাতে এই বার্তাটি তুলে দেন। বার্তার মূল বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে আনা না হলেও, বৈঠকে ইরানি রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের অনড় অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি হামুদির ‘অকপট ও সাহসী’ অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য যে, গত মাসে যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনী জনসমক্ষে আসছেন না। সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, হামলার প্রথম দিকে তিনি পায়ে ফ্র্যাকচার ও মুখে আঘাতসহ সামান্য আহত হয়েছিলেন। এই বিশেষ বার্তাটি এমন এক সময়ে এলো যখন পুরো অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
চিরশত্রু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী সংঘাত আজ ২৮তম দিনে পদার্পণ করেছে। যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে নীল নকশা ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তৈরি করেছিল, তা আজ এক নতুন মোড় নিল। চরম উত্তেজনার এই আবহে তেহরান এবার প্রকাশ করেছে তাদের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জীবনের শেষ মুহূর্তের এক সংবেদনশীল ছবি। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডন' এবং 'আল মায়াদিন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি খামেনির মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে তোলা। ছবিতে দেখা যায়, তেহরানে নিজ কার্যালয়ে অত্যন্ত নিবিষ্ট মনে দাপ্তরিক কাজ সামলাচ্ছেন তিনি। যা প্রমাণ করে, আমৃত্যু তিনি নিজ কর্তব্যে অবিচল ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে খামেনির বাসভবন ও প্রাসাদ লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, এক সময়ের সুরক্ষিত সেই প্রাসাদটি এখন কেবলই এক বিশাল ধ্বংসস্তূপ। ইরানি সংবাদ সংস্থা 'ফার্স নিউজ এজেন্সি' নিশ্চিত করেছে, নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'চ্যানেল-১২' জানিয়েছে, হামলার পর পরই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে। ওই হামলায় কেবল সর্বোচ্চ নেতাই নন, তার কন্যা, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি উদ্ধারকারীরা প্রাসাদ প্রাঙ্গণ থেকেই তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। নেতৃত্বের এই বিশাল শূন্যতা ইরানকে দমাতে পারেনি। বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। নজিরবিহীন এই চ্যালেঞ্জের মুখে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীও।
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি একটি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই একই হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন বলেও সেই অসমর্থিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও দাবি করা হয় যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় মস্কো নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি রাষ্ট্রদূত জালালি এই পুরো বিষয়টিকে গুজব হিসেবে আখ্যা দিয়ে সত্যতা নাকচ করেছেন।
ইরানের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ প্রোগ্রামের আওতায় ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি এবং প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানিসহ একাধিক কর্মকর্তার তথ্যের বিনিময়ে ১ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১২০ কোটি টাকা) পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র বিভিন্ন শাখাকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত। পুরস্কারের পাশাপাশি তথ্যদাতাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের (রিলোকেশন) সুযোগ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তালিকায় থাকা অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হলেন: গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ আলী আসগর হেজাজি মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস্কান্দার মোমেনি সুপ্রিম কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি উল্লেখ্য, মার্কিন এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই আলী লারিজানিকে তেহরানে ‘আল-কুদস দিবস’-এর মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে। মিছিলে অংশগ্রহণের বেশ কিছু ছবি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এই ঘোষণার ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরানের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির উত্থানকে মোটেও ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোজতবাকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার আগেই মোজতবা খামেনিকে ‘লাইটওয়েট’ বা ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কূটনৈতিক ভাষায় কাউকে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বেশ বিরল হলেও, ট্রাম্পের এই অবস্থানে পরিষ্কার যে তিনি এই নিয়োগের ব্যাপারে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না। পরবর্তীতে সরাসরি একটি প্রশ্নে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মোজতবা ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি কি নিজের জয় ঘোষণা করতে পারবেন? এর উত্তরে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে তার এই নীরবতা এবং আগের অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। মোজতবার এই 'অবাধ্য' ইমেজ বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে আপসহীন অবস্থানের জানান দিলেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আল-জাজিরা পরিবেশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান তার লড়াই থেকে একচুলও সরবে না এবং প্রতিটি শহীদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে। ভাষণে খামেনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, এই অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখতে হলে সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইরানি বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু আধিপত্যবাদীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই লড়াইয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি জানান, ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধা এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসলামি বিপ্লবের সমর্থনে যেকোনো মুহূর্তে অ্যাকশনে যেতে প্রস্তুত। নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই তারা ইরানের পক্ষে তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করবে। এর আগে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানি সামরিক বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে এই বাহিনীই ইরানকে পরাধীনতা ও বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করেছে। বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তার এই ভাষণ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের প্রথম ভাষণেই বিশ্ব রাজনীতিতে কম্পন ধরিয়ে দিলেন মোজতবা খামেনি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে এই অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার মূল উৎস হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রকে অঞ্চল ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছেন। খামেনির দাবি, অনতিবিলম্বে সকল মার্কিন ঘাঁটি সরিয়ে না নিলে তেহরানের পক্ষ থেকে শুরু হবে ইতিহাসের নজিরবিহীন ও নিরবচ্ছিন্ন হামলা। কৌশলী অবস্থান ও হরমুজ প্রণালী অবরোধের হুমকি বক্তব্যে কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের কৌশলও বাতলে দিয়েছেন খামেনি। তিনি ঘোষণা করেন: টার্গেট নির্দিষ্ট: ইরান কেবল সেইসব বিদেশি ঘাঁটিতেই হামলা চালাবে যেখান থেকে ইরান বিরোধী তৎপরতা চালানো হয়। প্রতিবেশী নীতি: পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সুসম্পর্ক ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। হরমুজ প্রণালী: শত্রু পক্ষকে চরম চাপে রাখতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক জলপথ বন্ধ রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে না দেওয়ার অঙ্গীকার করে খামেনি বলেন, নিহত সাবেক নেতা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণ হারানো শিশুদের প্রতিটি মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে ইরান। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করার পাশাপাশি যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। পরিশেষে, জাতির এই কঠিন সময়ে সকল অভ্যন্তরীণ ভেদাভেদ ভুলে ইরানি জনগণকে ইস্পাতকঠিন ঐক্যের আহ্বান জানান এই প্রভাবশালী নেতা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী 'সুপ্রিম লিডার' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই নিয়োগ ঘিরেই এখন উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতি। 'দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট'-এর একটি বিস্ফোরক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, খোদ খামেনি তাঁর উইলে মোজতবাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করতে নিষেধ করেছিলেন। রিপোর্টে ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেসি ইন ইরান (NUFDI)-এর গবেষক খসরো ইসফাহানি জানিয়েছেন, খামেনির মতে মোজতবার নিজস্ব কোনো রাজনৈতিক ক্যারিশমা বা স্বাধীন পরিচিতি নেই। তা সত্ত্বেও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর প্রবল চাপে মোজতবাকে এই পদে বসাতে বাধ্য হয়েছে ইরানের 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস'। অভিযোগ উঠেছে, বহু ধর্মীয় নেতাকে সভায় যোগ দিতেই দেওয়া হয়নি। মূলত সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকতেই এই ছক কষা হয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হলেও, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে যে তিনি বর্তমানে 'সুস্থ ও নিরাপদ' আছেন। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম বাবার পর ছেলে শীর্ষ পদে বসার ঘটনায় ইরানি বিপ্লবের 'পরিবারতন্ত্র বিরোধী' আদর্শ বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ইরানের ক্ষমতার মসনদে বসার পর প্রথম দিনেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা শুরুর প্রথম দিনেই তিনি গুরুতর আহত হন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির একটি পা ভেঙে গেছে এবং মুখমণ্ডলে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, তার বাম চোখের চারপাশে কালশিটে এবং মুখে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বাহিনীর একটি গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টায় তিনি আহত হন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মোজতবা খামেনি তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব গ্রহণ করলেও গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি কোনো পাবলিক স্টেটমেন্টও তিনি দেননি। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বর্তমানে তার পুরনো ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি ছবি প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করছে। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ইউসেফ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ আছেন এবং উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, তবে সিএনএন-এর এই প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির অন্তরালে থাকা ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
এক উত্তাল ও অনিশ্চিত সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসলেন মোজতবা খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দেশটির তৃতীয় ‘সুপ্রিম লিডার’। তবে এমন এক মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান তার ইতিহাসের কঠিনতম অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, বংশপরম্পরা ও রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা এখন তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাবার ছায়া থেকে ক্ষমতার শীর্ষে মোজতবা খামেনি গত কয়েক দশক ধরে তার বাবার ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করেছেন। ইরানের প্রভাবশালী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে মনোনীত করার পরপরই কট্টরপন্থিরা রাজপথে নেমে উল্লাস প্রকাশ করেন। দেশটির সকল নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নতুন কমান্ডারের প্রতি 'শেষ রক্তবিন্দু' দিয়ে অনুগত থাকার শপথ নিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রের গায়েও লেখা ছিল, "আপনার সেবায় নিয়োজিত, সৈয়দ মোজতবা"। ব্যক্তিগত শোক ও প্রতিশোধের আগুন মোজতবার এই উত্থান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অত্যন্ত ব্যক্তিগত। সাম্প্রতিক সেই ভয়াবহ হামলায় তিনি শুধু বাবাকেই হারাননি, হারিয়েছেন মা, স্ত্রী এবং এক সন্তানকেও। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি তাকে আরও রহস্যময় ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও আন্তর্জাতিক চাপ ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই মোজতবাকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা। গত রাতেই তেহরানের রাজপথে "মোজতবার মৃত্যু চাই" স্লোগান শোনা গেছে। বিরোধীদের মতে, তার শাসনামলে ইরান আরও কট্টরপন্থি ও দমনমূলক হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক মহলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবার নেতৃত্বকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তিনি বেশিদিন টিকবেন না। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাকে ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রহস্যময় ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ গতিপথ মোজতবা খামেনি বরাবরই জনসমক্ষে আসতে অপছন্দ করেন। তার কোনো পাবলিক বক্তৃতার রেকর্ড নেই এবং তিনি কখনো আনুষ্ঠানিক সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি। তবে ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) সাথে তার গভীর সম্পর্ক তাকে এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেউ কেউ তাকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ইরানি সংস্করণ’ হিসেবে দেখছেন—যিনি কি না কঠোর হাতে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করেও কিছুটা সামাজিক পরিবর্তনের আভাস দিতে পারেন। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির মাঝে মোজতবা খামেনি ইরানকে কোন দিকে নিয়ে যান, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশটিতে পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী আলেমদের নিয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ জানিয়েছে, তারা পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মতৈক্যে পৌঁছেছে। রোববার (৮ মার্চ) ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ-মাহদি মিরবাঘেরি জানান, পরবর্তী নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে পরিষদ একটি ‘চূড়ান্ত এবং সর্বসম্মত’ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে। তবে প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সম্পন্ন করতে এখনো কিছু "কারিগরি বাধা" দূর করা বাকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় দীর্ঘ ৩৭ বছর ক্ষমতায় থাকা খামেনেই নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ নবম দিনে গড়িয়েছে। এদিকে, ইরানের এই উদ্যোগের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফার্সি ভাষায় এক সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় হুমকি দিয়ে বলেছে, খামেনেইর উত্তরসূরি নির্বাচনের সভায় যারা অংশ নেবেন, তাদের প্রত্যেককে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। বার্তায় বলা হয়, "আমরা স্পষ্ট করছি, যারা এই সিলেকশন মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, আমরা আপনাদের ওপর হামলা চালাতে দ্বিধা করব না।" বিশেষজ্ঞ পরিষদের অপর এক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসেন হায়দারি আলেকাসির জানিয়েছেন, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে পরিষদের সকল সদস্যের সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে খামেনেইর রেখে যাওয়া পরামর্শ অনুযায়ী এমন একজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে যাকে "শত্রুরা ঘৃণা করবে"। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একজনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে যাকে খোদ যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের ভাষায় 'মহা শয়তান' ইতিমধ্যেই চেনে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনেইর ছেলে মোজতবা হোসাইনি খামেনেইর নাম উল্লেখ করে তাকে উত্তরসূরি হিসেবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে আয়াতুল্লাহ আলেকাসিরের মন্তব্যটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ পরিষদই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। গত কয়েকদিন ধরে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন তেল শোধনাগারে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলেও দেশটির নীতিনির্ধারকরা দ্রুত রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাতে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসে পৌঁছেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আজ রোববার সকালে দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন দলের শীর্ষ নেতারা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি দূতাবাসে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহান আবাদি। শোক বইয়ে স্বাক্ষর শেষে তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং ইরানের শোকার্ত জনগণের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ এবং কেন্দ্রীয় শ্রম ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপকালে নেতারা এই কঠিন সময়ে ইরানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে এই সহমর্মিতার জন্য ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সুপ্রিম লিডারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে যাচ্ছে Iran। দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর বরাতে জানা গেছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে যে, সুপ্রিম লিডার নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা Assembly of Experts (Iran) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। সংস্থাটির সদস্য হোসেন মোজাফারি বলেন, ঐশ্বরিক সহায়তা নিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khamenei যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে খামেনির ছেলে Mojtaba Khamenei–এর নাম আলোচনায় এসেছে। তবে ইরান কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার গভীর রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে এই শোক প্রকাশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ক্রেমলিনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে পুতিন খামেনির মৃত্যুকে একটি "নৃশংস হত্যাকাণ্ড" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে কঠোর নিন্দা জানান। উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তেহরানে বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে খামেনিকে একজন 'অসামান্য রাষ্ট্রনায়ক' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।" খামেনির পাশাপাশি ওই হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের বিদেহী আত্মার প্রতিও সমবেদনা জানান পুতিন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুতিন স্পষ্ট জানান, সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাত পরিহার করে কূটনৈতিক পথে ফেরার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যাতে দ্রুত একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যায়। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়ার এই অবস্থান ইরানের জনগণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং স্পর্শকাতর ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার লক্ষ্য করে স্মরণকালের ভয়াবহতম হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই বিশাল আস্তানাটি ধ্বংস করতে একসঙ্গে ৫০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরাই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সটি ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত। যেখান থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সামরিক কৌশল পরিচালনা করতেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বাঙ্কারটি তেহরানের একটি বিশাল এলাকা এবং প্রধান সড়কজুড়ে বিস্তৃত ছিল। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও শাসকরা এই গোপন আস্তানাটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্ভুল নিশানায় চালানো এই হামলায় বাঙ্কারের অভ্যন্তরে থাকা অসংখ্য কক্ষ এবং প্রবেশপথ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর স্মরণে দেশজুড়ে শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা এই কর্মসূচি পালন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিভিন্ন শহরে মানুষ শোক মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা খামেনির ছবি হাতে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে প্রথম জুমার নামাজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। অনেক মুসল্লির হাতে খামেনির প্রতিকৃতি ছিল এবং তারা দেশের সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানান। রাজধানী তেহরান–এ বোমা হামলার আতঙ্ক থাকলেও মুসল্লিরা জুমার নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন এবং যুদ্ধবিরোধী ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেন। তবে আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে সাম্প্রতিক হামলায় খামেনি বা তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যু-পরবর্তী শেষকৃত্যের সূচি নিয়ে এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ১ মার্চ তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে চলতি সপ্তাহে একাধিকবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা শঙ্কা, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে অনীহা এবং পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের অমীমাংসিত প্রশ্নই এই বিলম্বের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরান, কোম এবং মাশহাদ—এই তিন শহরে শোকমিছিল শেষে তাঁর নিজ শহরে দাফনের কথা ছিল। কিন্তু এর একদিন পরই তাঁর স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদের মৃত্যুর খবর আসায় পরিকল্পনা বদলে মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে যৌথ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়। তবে বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দফায় দফায় অসংগতি দেখা দেয়। সকালে কফিন তেহরানের মোসাল্লায় রাখার কথা থাকলেও দুপুরে তা স্থগিত করে সন্ধ্যায় নেওয়া হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পর আবারও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। বুলেপ্রুফ কাঁচের ঘেরা তৈরি করে সেখানে কফিন প্রদর্শনের প্রস্তুতিও দেশটিতে বিরাজমান চরম নিরাপত্তা অস্থিরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে এবং ইসরায়েলের কঠোর হুঁশিয়ারির মুখে ইরান কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজায় অংশ নিতে আসা হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া তেহরানেই নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ও হুথি নেতাদের মধ্যে এবার উপস্থিত হওয়া নিয়ে প্রবল ভীতি কাজ করছে। যদিও চীন ও রাশিয়ার নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে প্রভাবশালী বৈশ্বিক নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে এখনো সংশয় কাটেনি। এদিকে, দাফনের আগেই নতুন উত্তরসূরি ঘোষণা করা হবে কি না, তা নিয়ে ইরানি নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র বিভাজন দেখা দিয়েছে। অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের সদস্য আহমদ খাতামি জানিয়েছেন, উত্তরসূরি নির্বাচনে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কেউ কেউ দাফনের আগে ঘোষণা দেওয়াকে অনুচিত মনে করলেও, অন্য পক্ষ মনে করছে বিশাল জনসমাবেশে নতুন নেতার নাম ঘোষণা করলে সরকারের বৈধতা ও ঐক্য দৃঢ় হবে। বিশেষ করে এ বছরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর জনসমর্থন প্রমাণের জন্য একটি বিশাল গণজমায়েত নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ এখন মরিয়া হয়ে বিভিন্ন শহর থেকে বাসযোগে লোক আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার একনায়কদের বিদায় সচরাচর সসম্মানে হয় না। গাদ্দাফিকে পাওয়া গিয়েছিল নর্দমায়, সাদ্দাম হোসেনকে গর্ত থেকে টেনে বের করেছিল মার্কিন বাহিনী। এমনকি হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের শেষ মুহূর্তের সঙ্গী ছিল ধুলোবালি আর একটি ভাঙা লাঠি। কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা থাকার পর আয়াতোল্লা আলি খামেনির প্রস্থান কি কেবলই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সাফল্য, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে খামেনির নিজস্ব কোনো মাস্টারস্ট্রোক? বাঙ্কার প্রত্যাখ্যান ও শাহাদতের পরিকল্পনা সূত্র বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন তেহরানে তাঁর বাসভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হয়, তখন উপদেষ্টারা তাঁকে সুরক্ষিত বাঙ্কারে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু খামেনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবারসহ নিজের সাধারণ বাসভবনেই অবস্থান করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং ছিল পরিকল্পিত। মৃত্যুর ১২ দিন আগে দেওয়া তাঁর শেষ ভাষণে তিনি কারবালার যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, "আমার মতো কেউ ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার করবে না।" অর্থাৎ, তিনি আগেই নিজের মৃত্যুর ধরন ঠিক করে নিয়েছিলেন। মৃতপ্রায় আন্দোলনে নতুন প্রাণের সঞ্চার খামেনি জানতেন, বাঙ্কারে লুকিয়ে মারা যাওয়া মানে পরাজয়। আর প্রকাশ্য হামলায় মৃত্যুবরণ করলে তা হবে ‘শাহাদত’। ঠিক তা-ই হয়েছে। যে ইরানে কিছুদিন আগেও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছিল, খামেনির মৃত্যুর পর সেখানে এখন শোকের ঢল। ঝিমিয়ে পড়া ইসলামি বিপ্লবী আন্দোলন যেন নতুন সঞ্জীবনী মন্ত্র খুঁজে পেয়েছে। ক্ষমতার রদবদল ও কট্টরপন্থীদের উত্থান খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপন্থীদের সরিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে শুরু করেছে কট্টরপন্থীরা। অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে আলিরেজা আরাফির নাম উঠে আসার পাশাপাশি খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনির পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। এমনকি খামেনির নিজের জারি করা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ’ সংক্রান্ত ফতোয়াটিও এখন বাতিলের পথে, যা ইরানকে পুরোদস্তুর পারমাণবিক শক্তিতে রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করতে পারে। অস্থিতিশীল পশ্চিম এশিয়া খামেনির এই ‘পরিকল্পিত’ প্রস্থান শিয়া বিশ্বকে উস্কে দিয়েছে। পাকিস্তান থেকে ইরাক—সর্বত্র মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থে আঘাত হানছে বিক্ষোভকারীরা। হিজবুল্লাহ এবং হাউথিরা নতুন করে হামলা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, নিজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরানের নড়বড়ে শাসনব্যবস্থাকে আরও কয়েক দশকের অক্সিজেন দিয়ে গেলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনি। তিনি বাঙ্কারে বসে মর্যাদাহীন মৃত্যু নয়, বরং নিজের আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার যে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন, তা বর্তমানে সফল বলেই মনে হচ্ছে।
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নিজের অংশগ্রহণ বা ভূমিকা থাকার দাবি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এই পদের জন্য তার কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নন। সংবাদ মাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খামেনির ছেলে একজন গুরুত্বহীন ব্যক্তি (লাইটওয়েট)। ভেনিজুয়েলার ডেলসি রদ্রিগুয়েজের ক্ষেত্রে আমরা যেমন ভূমিকা রেখেছিলাম, ইরানের নতুন নেতা নিয়োগের ক্ষেত্রেও আমাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ইরানে যদি একজন ‘অনুকূল’ বা বন্ধুসুলভ নেতা না আসেন, তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন, খামেনির ছেলে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এমন একজনকে চাই যিনি ইরানে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে পারবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। তবে শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক ও সিনিয়র আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ যেভাবে তাদের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে, সেখানে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভূমিকা রাখার আইনি বা রাজনৈতিক সুযোগ কতটা আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, তিনি ইরান সরকারকে পুরোপুরি উৎখাত করার চেয়ে বরং নিজেদের পছন্দমতো কোনো নেতার মাধ্যমে তেহরানের সাথে কাজ করতে বেশি আগ্রহী। বর্তমানে ইরানের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতার পদটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এই পদের উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনা চলছে। ট্রাম্পের এমন সরাসরি হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপকে দিল্লির অবস্থানে একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার নিন্দা করেনি ভারত এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের জোরালো দাবির মুখেও নীরবতা বজায় রেখেছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা পশ্চিম এশিয়াকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বিক্রম মিসরি ইরানের দূতাবাসে গিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের বিরোধের সমাধানে ভারত সবসময় সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে। এদিকে, ভারতের বিরোধী দলগুলো ইরানের সঙ্গে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে হামলার বিরোধিতা করার দাবি জানিয়েছিল। এক সময় ভারত তার তেলের প্রায় ১৩ শতাংশ ইরান থেকে আমদানি করত এবং দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্য ছিল। তবে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে এসে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর সেই বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।