গত বছর প্রায় ৫ হাজার মানুষ মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের অধিকার ত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ (আইআরএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নাগরিকত্ব ত্যাগকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর-সংক্রান্ত জটিলতা, স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ এই প্রবণতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মার্কিন সরকারের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ ব্যক্তি তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের মর্যাদা ত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮০০। যদিও ব্যবধান খুব বেশি নয়, তবুও এটি গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার মানুষ বিভিন্ন কারণে এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে চলতি পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ অনেকেই প্রকাশ্যে তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কারণের কথাও তুলে ধরছেন।
সুইজারল্যান্ডে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক লিলি, যিনি একই সঙ্গে বেলজিয়ামের নাগরিকও, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের সহায়তাকারী একটি সংস্থাকে বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত ছিল তার কাছে এক ধরনের প্রতিবাদ। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের একটি ব্যক্তিগত উপায়।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে বসবাসকারী এরিন ক্ল্যাট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, তিনি আর্থিক ও রাজনৈতিক উভয় কারণেই নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। স্থায়ীভাবে অন্য দেশে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগের মতো নেই।
ক্ল্যাট বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে খুব বেশি দেশপ্রেমিক বা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক মনে করেননি। পাশাপাশি দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপথ নিয়েও তিনি হতাশ ছিলেন।
একই ধরনের মতামত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক ব্যক্তি, যিনি গত বছর ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি না হলে তিনি নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতেন না।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক কারণ যতটা আলোচনায় আসে, বাস্তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা।
বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ নাগরিকদের বসবাসের স্থানের ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা কিছুটা ব্যতিক্রম। কোনো মার্কিন নাগরিক পৃথিবীর যে দেশেই বসবাস করুন না কেন, তাকে প্রতি বছর আইআরএসের কাছে কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হয়। এমনকি বহু বছর ধরে বিদেশে বসবাস করলেও এই বাধ্যবাধকতা বহাল থাকে।
ফলে বিদেশে বসবাসরত অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য দ্বৈত কর-সংক্রান্ত নথিপত্র, আর্থিক হিসাব এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি ঝামেলায় পরিণত হয়। অনেকেই এই জটিলতা থেকে মুক্তি পেতেই নাগরিকত্ব ত্যাগের পথ বেছে নেন।
নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়াও সহজ নয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে নাগরিকত্ব হারানোর সনদের জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অন্তত দুটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে হয়, যার একটি অবশ্যই সরাসরি উপস্থিত থেকে সম্পন্ন করতে হয়।
এ ছাড়া আবেদনকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয় এবং এ সিদ্ধান্তের ফলে তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিও স্বীকার করতে হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য কনস্যুলার ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। আগে এই প্রক্রিয়ার জন্য ২ হাজার ৩৫০ ডলার ফি দিতে হতো। বর্তমানে তা কমিয়ে ৪৫০ ডলার করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা ভাবলেও ব্যয়ের কারণে পিছিয়ে থাকা অনেক মানুষ এখন আবেদন করতে আগ্রহী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিবাসন, করনীতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নাগরিকত্ব ত্যাগের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও মোট জনসংখ্যার তুলনায় এই সংখ্যা এখনও খুবই ছোট, তবুও বিষয়টি দেশটির নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্বের ধারণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে।
সূত্র: আইআরএস, ফেডারেল রেজিস্টার, সিএনএন, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যে একটি স্কাইডাইভিং বিমানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১১ জন স্কাইডাইভার ও একজন পাইলট নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে, যা এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। বেটস কাউন্টি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি একটি স্কাইডাইভিং কোম্পানি ভাড়া নিয়েছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নির্ধারিত উচ্চতায় উঠতে ব্যর্থ হয়। পরে এটি হঠাৎ বাঁ দিকে মোড় নেয় এবং বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দরের অদূরে, মাত্র প্রায় ২০০ গজ দূরে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা সব ১২ আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেটস কাউন্টির শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন বলেন, “আমরা এটিকে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে দেখছি।” তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় পতিত বিমানটি কোনো বাণিজ্যিক এয়ারলাইনের নয়; এটি একটি স্থানীয় বিমান, যা ওই বিমানবন্দর থেকেই উড্ডয়ন করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, বিমানটি প্যাসিফিক অ্যারোস্পেস পি৭৫০ মডেলের ছিল—যা সাধারণত স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। সংস্থাটি আরও জানায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটির জন্য কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সার্ভিস সক্রিয় ছিল না। তবে সংশ্লিষ্ট আকাশসীমার নিয়ম অনুযায়ী এমন যোগাযোগ বাধ্যতামূলক ছিল না বলেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা আশপাশের এলাকা তল্লাশি চালান, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় দুর্ঘটনার আগে কোনো স্কাইডাইভার বিমান থেকে লাফ দিয়েছিলেন কি না। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেরিফ অ্যান্ডারসন জানান, নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের স্বজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা নিজের চোখে দুর্ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মিজৌরির বাটলার শহরটি কানসাস সিটি থেকে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা উড্ডয়নের সময় কোনো জটিলতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। স্কাইডাইভিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চারমূলক কার্যক্রমে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।
দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে নিউইয়র্ক নিক্স। তবে দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের আনন্দ উদযাপন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মিডটাউন ম্যানহাটনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। হাজার হাজার সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপন একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। এ সময় বিশ্বকাপের দর্শক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি শাটল বাসে আগুন দেওয়া হয়, ভাঙচুর করা হয় আরও কয়েকটি বাস এবং গোলাগুলির ঘটনায় এক কিশোর আহত হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে এনবিএ ফাইনালের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক নিক্স। ১৯৭৩ সালের পর এটি দলটির প্রথম এনবিএ চ্যাম্পিয়নশিপ হওয়ায় শহরজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। খেলা শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন বার, রেস্তোরাঁ এবং উন্মুক্ত দর্শনস্থল থেকে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। "নিক্স ইন ফাইভ" স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ম্যানহাটনের বিভিন্ন এলাকা। অনেকেই আতশবাজি ফোটান, ধোঁয়া তৈরির ফ্লেয়ার ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করেন, ফলে কয়েকটি এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একই সময়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ শেষে ফুটবল সমর্থকদের বহনকারী একাধিক শাটল বাস টাইমস স্কোয়ার এলাকায় পৌঁছায়। ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচ ড্র হওয়ার পর দর্শকদের বহনের জন্য প্রায় ১৫টি বাসের একটি বহর শহরের কেন্দ্রস্থলে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্কেটবল ও ফুটবল সমর্থকদের একটি উচ্ছৃঙ্খল অংশ বাসগুলোর চারপাশে জড়ো হয়। কেউ কেউ বাসের ছাদে উঠে পড়ে, আবার কেউ চালকের আসনে বসার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ফুটবল সমর্থকদের পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত একটি হলুদ স্কুল বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওচিত্রে বাসটিকে আগুনে পুড়তে দেখা গেছে। আগুন লাগার ঘটনায় বাসটি প্রায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি আরও অন্তত তিনটি শাটল বাস ভাঙচুর ও অন্যান্য ক্ষতির মুখে পড়ে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন একটি বাসের ছাদে কয়েকজন ব্রাজিলিয়ান সমর্থক জাতীয় পতাকা উড়াতে শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরই বিশৃঙ্খলার মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে অন্তত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং গোলাগুলির উৎস ও দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা বিশৃঙ্খলার পর নিউইয়র্ক পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ নেয়। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেন। নিক্সের হোম ভেন্যু ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশপাশের এলাকায় ঘোড়সওয়ার পুলিশও মোতায়েন করা হয়। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল সীমিত করা হয় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়। রবিবার ভোরের দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্ক নিক্সের ৫৩ বছর পর শিরোপা জয়ের আবেগ শহরের ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে বিরাট উচ্ছ্বাস তৈরি করেছিল। তবে বিপুল জনসমাগম এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টের সমর্থকদের একসঙ্গে উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ বলছে, অধিকাংশ সমর্থক শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে অংশ নিলেও একটি ছোট অংশের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এবং সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত মেরিন কর্পস বেস ক্যাম্প পেন্ডলটনে পুলিশের তাড়া খেয়ে অনুপ্রবেশ করা দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর প্রায় ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় তাদের ফেলে যাওয়া একটি গাড়ি থেকে ১১২ পাউন্ডেরও (প্রায় ৫১ কিলোগ্রাম) বেশি ভয়াবহ মাদক কোকেন ও ফেন্টানাইল উদ্ধার করা হয়। নেভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস (এনসিআইএস) জানিয়েছে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পালানোর সময় ওই দুই সন্দেহভাজন গাড়ি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে সরাসরি সামরিক ঘাঁটির গেটে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা ঘাঁটির ভেতরের একটি সামরিক আবাসিক এলাকায় নিজেদের গাড়িটি ফেলে রেখে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। এই আকস্মিক অনুপ্রবেশের পরপরই ঘাঁটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে 'শেল্টার-ইন-প্লেস' বা সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জরুরি নির্দেশ জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পলাতকদের ধরতে প্রায় ৩০ জন চৌকস সদস্যের সমন্বয়ে একাধিক সংস্থার একটি যৌথ অনুসন্ধান দল মাঠে নামে। এনসিআইএস মাল্টিপল থ্রেট অ্যালার্ট সেন্টার এবং রিজিওনাল এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন ক্যাপাবিলিটিস টিমের রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও ট্র্যাকিং সহায়তায় টানা ছয় ঘণ্টা ধরে বিশাল এই সামরিক ঘাঁটিতে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুই অভিযুক্তকে নিরাপদে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের ফেলে যাওয়া গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ এই মাদক উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। সফল এই অভিযানের পর এনসিআইএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট, ক্যাম্প পেন্ডলটন প্রোভোস্ট মার্শাল অফিস, ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এবং ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে তাদের অসামান্য দলবদ্ধ কাজ এবং সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। তবে গ্রেপ্তারকৃত ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় বা তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী কী অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।