আমেরিকা

আমেরিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীকে দেশছাড়া করার নির্দেশ, ভাঙছে সুখের সংসার

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ২৩:৪৩
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ট্রুজিল্লো ও স্ত্রী বারাহোনা-মার্টিনেজ | ছবি: সংগ্রহীত
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ট্রুজিল্লো ও স্ত্রী বারাহোনা-মার্টিনেজ | ছবি: সংগ্রহীত

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের দেশান্তর সংক্রান্ত জটিলতার বেশ কয়েকটি ঘটনা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তীব্র নজর কেড়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্যের স্ত্রী ডেইজি রিভেরা-অরতেগাকে আটক করেছিল দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা। যদিও গত মাসে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে তার দেশান্তরের মামলাটি এখনও আদালতে পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে।

 

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আমেরিকার একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী বারাহোনা-মার্টিনেজকে দেশছাড়া করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একটি সাজানো সুন্দর পরিবার পুরোপুরি ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। মার্টিনেজের অতীতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নন।

 

এ ছাড়া তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত স্টাফসার্জেন্টের স্ত্রী এবং তাদের একমাত্র সন্তানটি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। অভিবাসন আইনজীবী শ্মুয়েলি জানান, একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করার সুবাদে মার্টিনেজের সামনে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বা সবুজ কার্ড পাওয়ার একটি বৈধ পথ খোলা রয়েছে।

 

তবে মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী এই কার্ডের জন্য যোগ্য হতে হলে মার্টিনেজের বিরুদ্ধে চলমান দেশান্তরের মামলাটি আদালতে পুনরায় চালু করতে হবে। আইনজীবী শ্মুয়েলি জানান, আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তারা ইতিমধ্যে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি খুব শীঘ্রই মার্টিনেজের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষার আবেদন করবেন।

 

এদিকে মার্টিনেজের স্বামী ট্রুজিল্লো তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন অভিবাসন সংস্থা তার নিরপরাধ স্ত্রীকে একজন দাগী অপরাধীর মতো বিবেচনা করছে। তিনি অবিলম্বে তার স্ত্রীকে বন্দিশালা থেকে মুক্তি দিয়ে বাইরে থেকে স্বাভাবিকভাবে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

 

নিজের চরম অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে ট্রুজিল্লো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তিনি কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহ বা দয়া ভিক্ষা চাচ্ছেন না। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে অনেক মার্কিন সামরিক সদস্যের পরিবারই বর্তমানে এই একই ধরণের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি কেবল তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার এবং তাদের এই সাজানো সুন্দর পরিবারটিকে ভেঙে না দেওয়ার জন্য আকুল অনুরোধ জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ট্রুজিল্লো ও স্ত্রী বারাহোনা-মার্টিনেজ | ছবি: সংগ্রহীত
আমেরিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তার স্ত্রীকে দেশছাড়া করার নির্দেশ, ভাঙছে সুখের সংসার

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যদের দেশান্তর সংক্রান্ত জটিলতার বেশ কয়েকটি ঘটনা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তীব্র নজর কেড়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্যের স্ত্রী ডেইজি রিভেরা-অরতেগাকে আটক করেছিল দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা। যদিও গত মাসে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে তার দেশান্তরের মামলাটি এখনও আদালতে পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে।   এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আমেরিকার একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী বারাহোনা-মার্টিনেজকে দেশছাড়া করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একটি সাজানো সুন্দর পরিবার পুরোপুরি ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। মার্টিনেজের অতীতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নন।   এ ছাড়া তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত স্টাফসার্জেন্টের স্ত্রী এবং তাদের একমাত্র সন্তানটি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। অভিবাসন আইনজীবী শ্মুয়েলি জানান, একজন মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করার সুবাদে মার্টিনেজের সামনে আইনিভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বা সবুজ কার্ড পাওয়ার একটি বৈধ পথ খোলা রয়েছে।   তবে মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী এই কার্ডের জন্য যোগ্য হতে হলে মার্টিনেজের বিরুদ্ধে চলমান দেশান্তরের মামলাটি আদালতে পুনরায় চালু করতে হবে। আইনজীবী শ্মুয়েলি জানান, আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তারা ইতিমধ্যে একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি খুব শীঘ্রই মার্টিনেজের জন্য বিশেষ আইনি সুরক্ষার আবেদন করবেন।   এদিকে মার্টিনেজের স্বামী ট্রুজিল্লো তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন অভিবাসন সংস্থা তার নিরপরাধ স্ত্রীকে একজন দাগী অপরাধীর মতো বিবেচনা করছে। তিনি অবিলম্বে তার স্ত্রীকে বন্দিশালা থেকে মুক্তি দিয়ে বাইরে থেকে স্বাভাবিকভাবে মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছেন।   নিজের চরম অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে ট্রুজিল্লো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে তিনি কোনো ব্যক্তিগত অনুগ্রহ বা দয়া ভিক্ষা চাচ্ছেন না। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে অনেক মার্কিন সামরিক সদস্যের পরিবারই বর্তমানে এই একই ধরণের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি কেবল তার স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার এবং তাদের এই সাজানো সুন্দর পরিবারটিকে ভেঙে না দেওয়ার জন্য আকুল অনুরোধ জানান।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ২৩:৪৩
মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে আলোচনায় বাংলাদেশি-আমেরিকান রাদওয়ান চৌধুরী

মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে আলোচনায় বাংলাদেশি-আমেরিকান রাদওয়ান চৌধুরী

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

অবৈধ অভিবাসন ও আর্থিক জালিয়াতি ঠেকাতে মার্কিন ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ক্ষমতা দিল ট্রাম্প প্রশাসন

ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যাকডোনাল্ডসে ফুটন্ত তেলে দগ্ধ হওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুললেন ম্যানেজার

ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় অভিবাসনবিরোধী অভিযান তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি, প্রায় ৩৯ হাজার গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন আইন প্রয়োগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জানুয়ারি ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ হাজার গ্রেপ্তার হয়েছে, যা দেশটিতে টেক্সাসের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের “ডিপোর্টেশন ডাটা প্রজেক্ট”-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ৪১৬ দিনে ফ্লোরিডায় দৈনিক গড়ে ৯৩টি করে অভিবাসন-সম্পর্কিত গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে পূর্ববর্তী প্রশাসনের তুলনায় এই সংখ্যা ছিল দৈনিক প্রায় ২৭টি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার এই অভিযানে ৩৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থা অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন পুলিশ বিভাগ, শেরিফ অফিস, ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন, ফ্লোরিডা লটারি বিভাগ, হাইওয়ে পেট্রোল এবং ন্যাশনাল গার্ড।   এই সংস্থাগুলো ২৮৭(জি) নামে পরিচিত চুক্তির আওতায় কাজ করছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এই ধরনের চুক্তির একটি বড় অংশই বর্তমানে ফ্লোরিডায় কেন্দ্রীভূত।   তবে এই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। একাধিক সংস্থা গ্রেপ্তার সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশে অনীহা দেখিয়েছে। তাদের দাবি, এসব তথ্য ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের নির্দেশনার আওতায় এবং ফেডারেল অনুমোদন ছাড়া প্রকাশ করা সম্ভব নয়।   আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এই অবস্থান ফ্লোরিডার “সানশাইন আইন”-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই আইন অনুযায়ী সরকারি নথি সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি কর্মকর্তার জন্য সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ৭ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত এবং নতুন যানবাহনের জন্য প্রতিটি সংস্থাকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা।   সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোরিডায় অভিবাসন নীতি প্রয়োগের এই বিস্তৃতি একদিকে আইন প্রয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নও সামনে আনছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৪:৮
ছবিঃ গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চিকিৎসাসামগ্রীর বিশাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ছবি:সংগৃহীত

মেডিকেড জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যক্তিকে ৩৩০ হাজার ডলার জরিমানা ও কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বন্দুকধারীর রক্তাক্ত তাণ্ডব, নিহত ১ আহত অন্তত ১০

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যময় আলোক গোলক শনাক্ত, গোয়েন্দা তদন্তে নতুন অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশে রহস্যময় আলোক গোলকের (অজানা উড়ন্ত বস্তু) পুনরাবৃত্ত উপস্থিতির একটি নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইউএফও রহস্যের ব্যাখ্যার কাছাকাছি পৌঁছানোর পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় এক বাসিন্দার তথ্যের ভিত্তিতে এবং পরে এফবিআইয়ের তদন্তের মাধ্যমে একটি নির্জন জলাশয়ের কাছে এই ঘটনাস্থল চিহ্নিত করা হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।   প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ওই এলাকায় বিভিন্ন সময়ে এসব আলোক গোলক দেখা গেছে। একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উজ্জ্বল আলো আকাশে ভেসে থাকা অবস্থায় আকার পরিবর্তন করছে, কখনও একাধিক আলোতে বিভক্ত হচ্ছে, আবার কখনও রঙ পরিবর্তন করছে।   একটি ২০২১ সালের ভিডিওতে একটি উজ্জ্বল আলোকবিন্দু ধীরে ধীরে দুই থেকে তিনটি আলোক গোলকে বিভক্ত হতে দেখা যায়। ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভিডিওতেও লাল ও সাদা আভাযুক্ত আলোর ভিন্ন আচরণ ধরা পড়ে।   এফবিআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তথ্যদাতা ব্যক্তি বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরাসরি কিছু অস্বাভাবিক আলো পর্যবেক্ষণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিকবার তারা গাছের মাথার কাছাকাছি আলো জ্বলে উঠতে ও হঠাৎ মিলিয়ে যেতে দেখেন।   তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু আলোর নড়াচড়া অনিয়মিত ও দ্রুত ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও জিপিএস সিগন্যালেও অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।   তবে কর্তৃপক্ষ এখনো এসব আলোর প্রকৃতি নিশ্চিত করতে পারেনি এবং এর উৎস সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। প্রাথমিকভাবে ড্রোন বা মানবসৃষ্ট প্রযুক্তির সম্ভাবনাও পরীক্ষা করে তা যথাযথ মনে হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, একই ধরনের আলোক ঘটনা পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে আগে একাধিকবার দেখা গেছে, তবে নির্দিষ্ট এই স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে পুনরাবৃত্ত ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে।   নতুন করে প্রকাশিত নথিগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে গোপন নথি প্রকাশ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।'   বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এখনো রহস্যাবৃত থাকলেও এটি ভবিষ্যতে অজানা আকাশীয় ঘটনা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১২:১৩
আমেরিকা বাংলা কোলাজ

বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে সক্রিয় প্রতারক চক্র, ভুয়া টিকিট ও ফিশিং ই-মেইলে সতর্কতা

নিউইয়র্কের আর্চি স্প্রিগনার পার্কে সবুজ মাঠে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ । আমেরিকা বাংলা কোলাজ

সবুজ মাঠে প্রবাসীদের মিলনমেলা, নিউইয়র্কে “বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল” জমকালো আয়োজন

ইয়ংকার্সের স্কুলে বুধবার শ্বাসরোধে মৃত্যুর শিকার ১২ বছর বয়সী জ্যাকব মেদিনা । ছবি: মেডিনা পরিবার

টিকটক ভিডিও চ্যালেঞ্জের মুখে নিউইয়র্কের ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

0 Comments