যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করে ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন অভিবাসন প্রয়োগ বিলে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন সংক্রান্ত এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের পর ডেমোক্র্যাটদের তীব্র আপত্তির মুখে এই বিলটি কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সব বাধা পেরিয়ে বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এই বিলে স্বাক্ষর করেন তিনি। নতুন এই আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোল (সিবিপি)-এর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত জুলাইয়ে পাস হওয়া কর ও ব্যয় সংক্রান্ত অপর একটি বিল থেকে পাওয়া ১৪০ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি নতুন এই ৭০ বিলিয়ন ডলার অভিবাসন সংস্থাগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিলটিতে স্বাক্ষরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সব ধরনের অর্থায়ন আটকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা সম্পূর্ণ অরক্ষিত করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, যা দেশটিকে পুনরায় অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প দেশজুড়ে গণ-বহিষ্কার বা 'মাস ডিপোর্টেশন' অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। শুরুতে শুধু অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের ওপরও এই অভিযান সম্প্রসারিত করা হয়। লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নামের একটি সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম নয় মাসে আইসিই-এর রাস্তায় ধরপাকড় আগের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে, যার মধ্যে নির্দোষ বা আগে কোনো সাজা পাননি এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে অন্তত সাত গুণ।
মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলো অবশ্য এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের জবাবদিহিতা বা রক্ষাকবচ ছাড়াই এই বিপুল অর্থায়ন অভিবাসী সম্প্রদায়কে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। আইসিই এবং সিবিপি-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য, মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিনা পরোয়ানায় তল্লাশির মতো অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালীন রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি নামের দুই মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরই মূলত ডেমোক্র্যাটরা এই বিলের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তারা দাবি করেছিল, কর্মকর্তাদের আচরণের ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা ও জবাবদিহিতা যুক্ত না করা পর্যন্ত তারা কোনো অর্থায়ন বিলে সমর্থন দেবে না। এর জেরে ডিএইচএস-এর অর্থায়ন আটকে যায় এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ (টিএসএ) সংস্থাটির অপরিহার্য নয় এমন কার্যক্রম টানা ৭৬ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
অবশেষে রিপাবলিকানরা সিনেটের বিশেষ ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ বা বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস করতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিক নিয়মে এই বিল পাসের জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন হলেও, এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা খুব সহজেই বাধা অতিক্রম করে। তবে এই অর্থায়নের কড়া সমালোচনা করে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের (এনওয়াইআইসি) প্রেসিডেন্ট মুরাদ আওয়াউদেহ এক বিবৃতিতে বলেন, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানালে জনসাধারণের নিরাপত্তা বাড়বে—এমন এক মিথ্যা ধারণার ওপর ভিত্তি করেই করদাতাদের এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিলের ফলে আইসিই মিনিয়াপোলিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে আগের মতোই আইনবহির্ভূত ও সহিংস কার্যক্রম চালানোর একটি অবাধ লাইসেন্স পেয়ে গেল, যা পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি গোটা সমাজ ব্যবস্থাকেই চরম অস্থিতিশীল করে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করে ৭০ বিলিয়ন বা ৭ হাজার কোটি ডলারের একটি নতুন অভিবাসন প্রয়োগ বিলে চূড়ান্ত স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন সংক্রান্ত এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের পর ডেমোক্র্যাটদের তীব্র আপত্তির মুখে এই বিলটি কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলের সব বাধা পেরিয়ে বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এই বিলে স্বাক্ষর করেন তিনি। নতুন এই আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোল (সিবিপি)-এর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত জুলাইয়ে পাস হওয়া কর ও ব্যয় সংক্রান্ত অপর একটি বিল থেকে পাওয়া ১৪০ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি নতুন এই ৭০ বিলিয়ন ডলার অভিবাসন সংস্থাগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিলটিতে স্বাক্ষরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সব ধরনের অর্থায়ন আটকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা সম্পূর্ণ অরক্ষিত করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, যা দেশটিকে পুনরায় অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প দেশজুড়ে গণ-বহিষ্কার বা 'মাস ডিপোর্টেশন' অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। শুরুতে শুধু অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের ওপরও এই অভিযান সম্প্রসারিত করা হয়। লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নামের একটি সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম নয় মাসে আইসিই-এর রাস্তায় ধরপাকড় আগের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে, যার মধ্যে নির্দোষ বা আগে কোনো সাজা পাননি এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে অন্তত সাত গুণ। মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলো অবশ্য এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের জবাবদিহিতা বা রক্ষাকবচ ছাড়াই এই বিপুল অর্থায়ন অভিবাসী সম্প্রদায়কে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। আইসিই এবং সিবিপি-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য, মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিনা পরোয়ানায় তল্লাশির মতো অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালীন রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি নামের দুই মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরই মূলত ডেমোক্র্যাটরা এই বিলের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তারা দাবি করেছিল, কর্মকর্তাদের আচরণের ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা ও জবাবদিহিতা যুক্ত না করা পর্যন্ত তারা কোনো অর্থায়ন বিলে সমর্থন দেবে না। এর জেরে ডিএইচএস-এর অর্থায়ন আটকে যায় এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ (টিএসএ) সংস্থাটির অপরিহার্য নয় এমন কার্যক্রম টানা ৭৬ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন। অবশেষে রিপাবলিকানরা সিনেটের বিশেষ ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ বা বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস করতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিক নিয়মে এই বিল পাসের জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন হলেও, এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা খুব সহজেই বাধা অতিক্রম করে। তবে এই অর্থায়নের কড়া সমালোচনা করে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের (এনওয়াইআইসি) প্রেসিডেন্ট মুরাদ আওয়াউদেহ এক বিবৃতিতে বলেন, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানালে জনসাধারণের নিরাপত্তা বাড়বে—এমন এক মিথ্যা ধারণার ওপর ভিত্তি করেই করদাতাদের এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিলের ফলে আইসিই মিনিয়াপোলিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে আগের মতোই আইনবহির্ভূত ও সহিংস কার্যক্রম চালানোর একটি অবাধ লাইসেন্স পেয়ে গেল, যা পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি গোটা সমাজ ব্যবস্থাকেই চরম অস্থিতিশীল করে তুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে কঠোর হামলার হুমকির পর কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের চাপ বা সামরিক হুমকির মুখে তার দেশ দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেন যে, তার প্রশাসন ইরানের ওপর ‘খুব কঠোরভাবে হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা করছে। এই মন্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান দ্রুত ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার মার্কিন হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়াটা কোনো শক্তির বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং এটি একটি স্বাধীন জাতির প্রবল ইচ্ছাশক্তির সামনে শত্রুর চরম হতাশারই লক্ষণ। মার্কিন প্রশাসনের এমন আগ্রাসী মনোভাবের মুখে ইরান যে নিজেদের রক্ষায় এক বিন্দুও ছাড় দেবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল থাকবে, বিশ্ববাসীর কাছে সেই বার্তাই আবারও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে কঠোর হওয়া এই অবস্থানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকা, ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকায় একাধিক “বার্থ ট্যুরিজম” চক্র শনাক্ত ও বন্ধ করার দাবি করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তারা মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে দেখছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া নথিপত্র ও তথাকথিত “ভিসা ফিক্সারদের” সহায়তায় এসব ব্যক্তি মার্কিন ভিসা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তাদের শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়। তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অনুরূপ আরও নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ চলছে। ইউরোপেও ২০২৪ সাল থেকে ৪০০টির বেশি সন্দেহজনক “বার্থ ট্যুরিজম” ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তদন্তে অন্তত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীদের ভিসা সাক্ষাৎকারে কী বলতে হবে তা শেখানো, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ব্যবস্থা করা এবং সন্তান জন্মদানের পরিকল্পনা সাজিয়ে দেওয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজনকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধও করা হয়েছে। এদিকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত আরেকটি মার্কিন দূতাবাস “বার্থ ট্যুরিস্ট” হিসেবে সন্দেহভাজন ১০০টির বেশি ব্যক্তির ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এসব নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ।” সংস্থাটি আরও জানায়, ভিসা জালিয়াতি ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে বিশ্বজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।