দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মানুষের চন্দ্রাভিযানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার পথে নাসা। ১০ দিনের সফল মিশন শেষে আজ শুক্রবার পৃথিবীর বুকে ফিরে আসছেন 'আর্তেমিস-২' (Artemis II) মিশনের চার মহাকাশচারী। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ (Splashdown) করবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন তাদের 'ইন্টিগ্রিটি' নামক ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ২৫,০০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবেন। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ঘর্ষণের ফলে ক্যাপসুলটির বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অবতরণের ঠিক আগে প্রায় ছয় মিনিটের একটি 'রেডিও ব্ল্যাকআউট' বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সময় পার করতে হবে তাদের। এরপর বিশালকার প্যারাশুটের মাধ্যমে গতি কমিয়ে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে আছড়ে পড়বে ক্যাপসুলটি। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল আর্তেমিস-২। এই মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদের অন্ধকার দিক (Far side) প্রদক্ষিণ করেছেন এবং মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছেছিলেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই মিশনটি বেশ কিছু কারণে ঐতিহাসিক। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের গৌরব অর্জন করেছেন। আর্তেমিস-২ মূলত নাসার একটি পরীক্ষামূলক মিশন। এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই চলতি দশকের শেষের দিকে আর্তেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে চাঁদকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ 'ইউএসএস জন পি. মার্থা' ইতিমধ্যে সমুদ্রের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করছে ওরিয়ন ক্যাপসুল ও মহাকাশচারীদের উদ্ধার করার জন্য। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই চার বীরের নিরাপদে ঘরে ফেরার।
মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে চাঁদের বুক থেকে সংগৃহীত মাটি। চীনের চ্যাং'ই-৫ এবং চ্যাং'ই-৬ মিশনের মাধ্যমে আনা চন্দ্ররেণু বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা একাধিক নাইট্রোজেনযুক্ত জৈব যৌগের সন্ধান পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক গবেষক দলের এই আবিষ্কার সৌরজগতে জৈব পদার্থের বিবর্তন এবং পৃথিবীতে প্রাণের উৎস সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আদি সৌরজগতে গ্রহাণু এবং ধূমকেতুগুলো ছিল মূলত মহাজাগতিক বার্তাবাহক। এগুলোই বিভিন্ন গ্রহে কার্বন, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেনের মতো প্রাণের জন্য অপরিহার্য উপাদান পৌঁছে দিত। পৃথিবীর সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে এই আদি রেকর্ডগুলো মুছে গেলেও চাঁদের শান্ত পরিবেশে এই উপাদানগুলো কোটি কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মাটিতে থাকা এই জৈব উপাদানগুলো মূলত তিনটি অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এগুলোতে অ্যামাইড ফাংশনাল গ্রুপের উপস্থিতি রয়েছে, যা জটিল রাসায়নিক রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মহাকাশ থেকে আসা জৈব পদার্থগুলো কেবল চাঁদে জমা হয়নি, বরং সেখানে সৌর বিকিরণ ও উল্কাপাতজনিত প্রভাবে নতুন রূপে বিবর্তিত হয়েছে।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় সূচিত হলো। দীর্ঘ ৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে দূরতম পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে নাসার ‘আর্টেমিস ২’ মিশন। সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) চার নভোচারীবাহী এই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭৩ কিলোমিটার দূরে পৌঁছে মানব ইতিহাসের নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো ১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার দূরে গিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। আর্টেমিস ২ সেই সীমানাকে আরও ৬ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা তিন আমেরিকান এবং এক কানাডীয় নভোচারী বর্তমানে চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) প্রদক্ষিণ করছেন। এই যাত্রায় তারা প্রথমবারের মতো খালি চোখে চাঁদের এমন কিছু দৃশ্য দেখছেন যা এর আগে কোনো মানুষ সরাসরি দেখার সুযোগ পায়নি। চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে ‘ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি’ পদ্ধতিতে মহাকাশযানটি এখন পৃথিবীর পথে ফিরে আসবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক মিশনের সমাপ্তি ঘটবে। এই মিশনের সাফল্য ২০২৮ সালে চাঁদে পুনরায় মানুষের অবতরণ এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের পথ আরও প্রশস্ত করবে।
১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদের বুকে প্রথম পা রেখেছিলেন, তখন পুরো নাসা টিমের কাছে যে কম্পিউটিং ক্ষমতা ছিল, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী প্রসেসর আজ আপনার হাতের স্মার্টফোনটিতে রয়েছে। প্রযুক্তির এই অবিশ্বাস্য উন্নতির পরও প্রশ্ন জাগে—৫০ বছর আগে যা সম্ভব হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসেও সেই চাঁদে পা রাখতে আমাদের এতোটা বেগ পেতে হচ্ছে কেন? কেনই বা ঐতিহাসিক 'আর্টেমিস-২' মিশনের চার নভোচারী চাঁদের এতো কাছে গিয়েও পৃষ্ঠে নামবেন না? ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপিত ওরিয়ন মহাকাশযানে থাকা চার সাহসী নভোচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কচ, ভিক্টর জে. গ্লোভার এবং জেরেমি হ্যানসেন—১০ দিনের এক রোমাঞ্চকর মিশনে রয়েছেন। তবে তারা চাঁদে নামবেন না, বরং চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবেন। মূলত ২০২৮ সালের 'আর্টেমিস-৪' মিশনে মানুষের চূড়ান্ত অবতরণ নিশ্চিত করতেই এই পরীক্ষামূলক মহড়া। অ্যাপোলো মিশনের সময় আমেরিকার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক আধিপত্য। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে টেক্কা দিতে নাসা তাদের মোট বাজেটের ৫ শতাংশ খরচ করত, যা বর্তমানে মাত্র ০.৩৫ শতাংশ। আধুনিক যুগে মহাকাশ অভিযান কেবল 'পতাকা ওড়ানোর' লড়াই নয়, বরং এটি একটি টেকসই বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরির চেষ্টা। চাঁদে নামার জন্য প্রয়োজনীয় স্পেসস্যুট এবং ল্যান্ডার (ইলন মাস্কের স্পেসএক্স বা জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন নির্মিত) তৈরির কাজ এখনো শেষ হয়নি। এছাড়াও নাসা এবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জলের সন্ধান ও খনিজ সম্পদের দিকে নজর দিচ্ছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে চীনও পৌঁছাতে চায়। এই নতুন 'মহাকাশ প্রতিযোগিতা' এবং প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবই মূলত আমাদের ফের চাঁদে নামার পথকে দীর্ঘায়িত করেছে। মিশনের মূল আকর্ষণ: চাঁদের অন্ধকার দিক আর্টেমিস-২ এর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি আসবে যখন এই চার নভোচারী ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সশরীরে চাঁদের সেই রহস্যময় 'অন্ধকার অংশ' বা ফার সাইড (Far Side) দেখতে পাবেন। যদিও চীন ও ভারতের রোভার সেখানে পৌঁছেছে, কিন্তু মানুষের চোখে সেই দুর্গম ভূখণ্ড দেখা হবে বিজ্ঞানের এক বিশাল জয়। চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি বা 'লুনার গেটওয়ে' তৈরি এবং সেখান থেকে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে পাড়ি জমানোর যে স্বপ্ন নাসা দেখছে, আর্টেমিস-২ সেই দীর্ঘ পথের প্রথম সোপান।
দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষা শেষে নাসা যখন আবারও মানুষকে চাঁদের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই অরিওন ক্যাপসুল থেকে পাঠানো পৃথিবীর কিছু মনোমুগ্ধকর ছবি বিশ্ববাসীকে নতুন করে শিহরিত করে তুলেছে। মহাকাশের নিকষ কালো অন্ধকারের বুকে আমাদের চিরচেনা নীল গ্রহের এই অপরূপ উজ্জ্বলতা যেন এক অলৌকিক ক্যানভাস। মহাকাশযানটির জানালা দিয়ে তোলা হাই-রেজোলিউশনের ছবিগুলোতে প্রশান্ত মহাসাগর এবং মেঘমালার নীল-সাদা ঘূর্ণন স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। মহাকাশচারীরা যখন এই দৃশ্য দেখছিলেন, তখন হয়তো কয়েক দিন আগেই ছেড়ে আসা নিজ গ্রহের জন্য তাঁদের মনে বিষণ্ণতা আর শিহরণ একসাথে খেলা করছিল। এই ছবিগুলো কেবল ইতিহাসের অংশই নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য চন্দ্রাভিযানের এক জীবন্ত দলিলে পরিণত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ওরিয়ন ক্যাপসুল নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেয় দানবীয় রকেটটি। নাসা ও সিএসএ-র এই অভিযানে রয়েছেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। আগামী ১০ দিন ধরে মহাকাশযানটি প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে। যদিও এই অভিযানে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের পরিকল্পনা নেই, তবে এটি সফল হলে পরবর্তী 'আর্তেমিস ৩' অভিযানে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখবে। তবে এই যুগান্তকারী সাফল্য সত্ত্বেও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উৎসাহের ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো দৈনন্দিন সমস্যাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে মহাকাশ বিজ্ঞানের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। তবুও বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় আর্তেমিস ২-এর পাঠানো এই ছবিগুলো মানবজাতির জন্য এক অনন্য পাওনা।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে ‘আর্টেমিস-টু’। শক্তিশালী ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে মহাকাশযানটি সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে চন্দ্রপৃষ্ঠের দিকে নিজের পথ পরিবর্তন করেছে। অ্যাপোলো-১৭ মিশনের সেই ঐতিহাসিক যাত্রার ঠিক অর্ধশতাব্দী পর, এবার তিন মার্কিন এবং এক কানাডিয়ান মহাকাশচারীকে নিয়ে এই রোমাঞ্চকর অভিযানে নেমেছে নাসা। মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ অতিক্রম করার মাত্র ১০ মিনিট পরেই এক আবেগঘন বার্তা পাঠান কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। তিনি জানান, মহাশূন্য থেকে চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর দৃশ্য এতটাই মন্ত্রমুগ্ধকর যে, তার সহকর্মী মহাকাশচারীরা জানলা থেকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরাতে পারছেন না। এই মিশনটি শুধুমাত্র চাঁদে ফেরার লড়াই নয়, বরং গভীর মহাকাশ গবেষণায় মানুষের সক্ষমতার এক অনন্য প্রমাণ। বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও মানুষের চাঁদযাত্রা শুরু হয়েছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সফলভাবে আর্টেমিস-২ মিশনের উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশযানটি যাত্রা শুরু করে। ঐতিহাসিক এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন চারজন নভোচারী—তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের এবং একজন কানাডার। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ৫৩ বছর পর আবারও মানুষ চাঁদের উদ্দেশে রওনা হলো। ৩২ তলা সমান উচ্চতার শক্তিশালী রকেটটি উৎক্ষেপণের সময় কেপ ক্যানাভেরালের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এলাকায় হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উৎক্ষেপণের মুহূর্তে নাসার কর্মী থেকে শুরু করে দর্শনার্থী—সবার মধ্যেই ছিল তুমুল উচ্ছ্বাস। উৎক্ষেপণের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় নভোচারীরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, তারা পুরো মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করেই এই অভিযানে যাচ্ছেন। এরপর মিশনের লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের উদ্দেশে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই যাত্রা শুধু একটি মিশন নয়—এটি বিশ্বজুড়ে মানুষের আশা ও স্বপ্ন বহন করছে। এই মিশনে অংশ নেওয়া চার নভোচারী হলেন—রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কক এবং জেরেমি হ্যানসেন। মিশনের শুরুতে মহাকাশযানটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হবে, কারণ এটি আগে কখনও মানুষ বহন করেনি। এরপর প্রায় ১০ দিনের অভিযানে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে সেখানে অবতরণ করবেন না। পাশাপাশি মহাকাশযানের ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো অভিযানের পর সেটিই হবে চন্দ্রপৃষ্ঠে নাসার প্রথম মানব অবতরণ। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ভবিষ্যৎ অভিযানের এক উচ্চাভিলাষী রূপরেখা প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটনে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে সংস্থাটির প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান ঘোষণা করেছেন যে ২০২৮ সালের মধ্যে চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সেখান থেকে পরবর্তী ধাপ হিসেবে মঙ্গল গ্রহে সফল মানব অভিযান পরিচালনা করা। নাসা এই চন্দ্র ঘাঁটি নির্মাণের জন্য আগামী সাত বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে যা কয়েক ডজন রোবটিক ও মানববাহী মিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এই মহাকাশ অভিযানের সবচেয়ে বড় চমক হলো পারমাণবিক শক্তিচালিত মহাকাশযান বা নিউক্লিয়ার-পাওয়ারড স্পেসক্রাফট। বর্তমান প্রযুক্তিতে মঙ্গল গ্রহে পৌঁছাতে যে দীর্ঘ সময় লাগে এই বিশেষ ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে সেই সময় কয়েক মাস কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। নাসা জানিয়েছে যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পানির উৎস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে সেখানে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কলোনি স্থাপনের প্রাথমিক কাজ ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অভিযানে স্পেসএক্স এবং ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নাসার অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। নাসার এই নতুন পরিকল্পনায় আর্টেমিস মিশনকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে প্রতি মাসে অন্তত একটি রোবটিক ল্যান্ডার চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠের এই ঘাঁটিটি মঙ্গল অভিযানের জন্য একটি রিফুয়েলিং স্টেশন বা গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। যদিও এই প্রজেক্টের বাজেট এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে নানামুখী আলোচনা চলছে তবে নাসা আত্মবিশ্বাসী যে এই দশকের শেষ নাগাদ আমেরিকা মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এই পদক্ষেপ কেবল বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রাই নয় বরং মহাকাশ অর্থনীতিতেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।