ট্রাম্প প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য স্বস্তির আভাস, যুক্তরাষ্ট্রেই গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজারো বিদেশি পেশাজীবীর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। তবে নতুন ব্যাখ্যায় মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন।   মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন একটি নীতিগত নির্দেশনা জারি করে, যেখানে দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন সাধারণভাবে নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।   এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও আর্থিক খাতে কর্মরত বহু বিদেশি কর্মীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করে আসছিলেন।   তবে রোববার ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রশাসন মূলত কংগ্রেসের “মূল উদ্দেশ্য” পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন অথবা জাতীয় স্বার্থে ভূমিকা পালন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।   জ্যাক কাহলার বলেন, “যেসব আবেদন অর্থনৈতিকভাবে উপকারী অথবা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব আবেদনকারী সম্ভবত বর্তমান পথেই এগোতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু আবেদনকারীকে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে।”   এই বক্তব্যের পর অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিখাতের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে নতুন নীতির কারণে যদি কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারত বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।   অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবস্থান মূলত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রচেষ্টার অংশ। প্রশাসনের দাবি, কংগ্রেস কখনোই অস্থায়ী ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের “স্বয়ংক্রিয় পথ” হিসেবে বিবেচনা করেনি। তাই ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা দেখা যেতে পারে।   তবে এখনো অনেক বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন আবেদনকারী “জাতীয় স্বার্থ” বা “অর্থনৈতিক অবদান” ক্যাটাগরিতে পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাস্তব প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।   আইনজীবীদের আশঙ্কা, যদি আবেদনকারীদের বিদেশে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেকেই দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আটকে পড়তে পারেন। কারণ ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ জট রয়েছে। আবার কিছু দেশে মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে।   এ ছাড়া নতুন নীতির কারণে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, চাকরিতে অনিশ্চয়তা এবং করপোরেট কার্যক্রমে বিঘ্নের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে পড়াশোনা করছে এবং পরিবার নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হলে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও সর্বশেষ ব্যাখ্যা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্ভর করবে ইউএসসিআইএস ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্দেশিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে তার ওপর।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: এপি
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বছরে ৪৭৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও ধরপাকড় অভিযানের কারণে আগামী ১০ বছরে ফেডারেল সরকারের প্রায় ৪৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নথিপত্রহীন অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় তারা কর রিটার্ন দাখিল থেকে সরে আসছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির রাজস্ব আয়ে।   অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর অভিযানের ভয়ে বহু নথিপত্রহীন অভিবাসী কর ফাইল করা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে ট্যাক্স পরামর্শকরা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নথিপত্রহীন অভিভাবকদের জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা বাতিল হওয়ায় কর দাখিলের আগ্রহ কমে গেছে।   ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের একাধিক ট্যাক্স সেবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অনেক নিয়মিত ক্লায়েন্ট এবার কর রিটার্ন দাখিল করেননি। স্প্রিংফিল্ডের একটি ট্যাক্স কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশ নিয়মিত ক্লায়েন্ট কর ফাইল করেননি। মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার আরেক ট্যাক্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জানায়, তাদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্লায়েন্ট এবার কর দাখিল থেকে বিরত থেকেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের জন্য কর প্রদান আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হলেও বহু বছর ধরে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ করদাতাদের তথ্য গোপন রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে গত বছর একটি বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যমে কিছু তথ্য হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে উদ্বেগ আরও বাড়ে। পরে একটি ফেডারেল আদালত ওই চুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। তবুও করদাতাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।   ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে নথিপত্রহীন অভিবাসীরা প্রায় ৯৬.৭ বিলিয়ন ডলার কর প্রদান করেছেন। ইয়েল ইউনিভার্সিটির বাজেট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, কর ফাইল করার হার কমে গেলে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতি ১৪৭ বিলিয়ন থেকে ৪৭৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের হিসাব বলছে, স্বেচ্ছায় কর প্রদান মাত্র ১ শতাংশ কমলেও বছরে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে।   অভিবাসন নীতির প্রভাব শিশুদের ওপরও পড়ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নথিপত্রহীন অভিভাবকের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে প্রায় ২৭ লাখ শিশু এই সুবিধা হারাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর প্রভাবে শিশু দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।   জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের বড় একটি অংশ বর্তমানে বিতাড়নের আশঙ্কায় রয়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি বিশেষজ্ঞরা করদাতাদের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অভিবাসীরা আবারও কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা, সিলিকন ভ্যালিতে H-1B কর্মীর ন্যূনতম বেতন হতে পারে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত H-1B ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রযুক্তিখাতের বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতনের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, সিলিকন ভ্যালিতে H-1B ভিসায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ন্যূনতম বেতন হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার। একই ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার এবং টেক্সাসের ডালাসে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ডলার বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।   খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন H-1B কর্মীদের বেতনের ন্যূনতম সীমা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা প্রায় ১ লাখ ডলারের ফি ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আমাজন, মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা এবং অ্যাপল     প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোম্পানিগুলো বাড়তি খরচ বহন করতে পারলেও ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। এতে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষ আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।   প্রযুক্তি খাতের অনেকে আশঙ্কা করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি মেধাবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পে কর্মী সংকটও তৈরি হতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬% শিশুর নিশ্বাসে বিষ! অনুদান দিলেও ঘরের বাতাস সামলাতে ব্যর্থ আমেরিকা

সারা বিশ্বে শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন (ALA)-এর ২৭তম বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার প্রায় ৪৬ শতাংশ শিশু অত্যন্ত বিষাক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ শিশু এমন এলাকায় বসবাস করছে যেখানে বায়ুদূষণের মাত্রা সহনসীমার বাইরে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।   ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশটির প্রায় ৭০ লাখ শিশু এমন অঞ্চলে থাকে যেখানে বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান মাপকাঠিতেই বাতাস চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ফুসফুস বড়দের তুলনায় বেশি বাতাস গ্রহণ করায় তারা দ্রুত হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই ভয়াবহ দূষণের নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র দাবানলের ধোঁয়া এবং নতুন উপদ্রব হিসেবে বিশাল ‘ডেটা সেন্টার’গুলোকে দায়ী করা হচ্ছে।   প্রতিবেদনে এক ভয়াবহ বৈষম্যের চিত্রও উঠে এসেছে; অশ্বেতাঙ্গ শিশুদের ক্ষেত্রে এই বায়ুদূষণের ঝুঁকি শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ২.৪২ গুণ বেশি। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, পরিবেশ সুরক্ষা আইন (EPA) শিথিল করার ফলেই শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আজ গৌণ হয়ে পড়েছে। বিশ্বকে স্বাস্থ্য সচেতনতার পাঠ দিলেও আমেরিকার নিজের আকাশ এখন শিশুদের জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘ডনরো ডকট্রিন’ প্রয়োগে কড়া বার্তা: ২৬ প্রভাবশালীর ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন থেকে নতুন এক কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণার মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে নতুন এই নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।   বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বা প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন এই নীতির লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখা এবং বহিরাগত প্রভাব মোকাবিলা করা।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গৃহীত এই পদক্ষেপ ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে চীনের বাড়তে থাকা বিনিয়োগ ও প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর পক্ষে কাজ করবে, অর্থায়ন দেবে কিংবা কৌশলগত সম্পদে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো কর্মকাণ্ডকেও এই নীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তবে বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।   সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই নীতির মাধ্যমে বিদেশি সমালোচক বা রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। অতীতে রাজনৈতিক কারণে ভিসা বাতিলের নজির থাকায় এ আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।   ‘ডনরো ডকট্রিন’ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান প্রসব ও নাগরিকত্ব: সুযোগ বন্ধ করছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তাকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।   রয়টার্সের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা দেশজুড়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ‘জন্ম পর্যটন’ প্রতিরোধে বিশেষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিদেশি নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে এমন চক্রগুলো শনাক্ত ও ভেঙে দেওয়া।   প্রশাসনের মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নবজাতকের জন্য নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার প্রবণতা বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ ধরনের কার্যক্রম করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব পাওয়ার যে নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে, সেটি সীমিত করার প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এ লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—বাবা-মায়ের কেউ নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ উঠেছে। একাধিক ফেডারেল বিচারক আদেশটি স্থগিত করে দিয়েছেন এবং বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই কোনো অপরাধ নয়। তবে ভিসা জালিয়াতি, প্রতারণা বা তথ্য গোপনের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জন্ম পর্যটনের প্রকৃত সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও অতীতে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর কয়েক হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেছেন। তবে সামগ্রিক জন্মহারের তুলনায় এই সংখ্যা খুবই সীমিত।   এর আগে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘জন্ম নিবাস’ পরিচালনার অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যেখানে বিদেশি নারীদের এই সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই মামলায় কয়েকজন দোষী সাব্যস্তও হন। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
স্যাংচুয়ারি সিটিতে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ বন্ধের হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিতে সহযোগিতা না করলে তথাকথিত ‘স্যাংচুয়ারি সিটি’গুলোর প্রধান বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের কাস্টমস প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।   মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নর্থ ক্যারোলিনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েইন মুলিন এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, কোনো শহর যদি ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে সেই শহরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নেই।   তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন মুলিন।   এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিচার বিভাগের তালিকা অনুযায়ী, স্যাংচুয়ারি সিটির মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ডেনভার, ফিলাডেলফিয়া এবং নিউয়ার্ক। এসব শহরের বিমানবন্দরগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।   বিশেষ করে নিউইয়র্কের তিনটি বড় বিমানবন্দর দিয়েই বছরে পাঁচ কোটির বেশি আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল করে, ফলে সেখানে প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ হলে বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।   এদিকে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচলে বাধা তৈরি হলে এই বৈশ্বিক আসরের আয়োজনেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, কংগ্রেসে অর্থায়ন নিয়ে চলমান অচলাবস্থার কারণেও এই বিকল্পটি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন অভিযান জোরদার করতে অতিরিক্ত বাজেট অনুমোদন নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের আপত্তির প্রেক্ষাপটেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   মুলিন দাবি করেন, স্যাংচুয়ারি সিটিগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগে অনীহা ফেডারেল আইনের পরিপন্থী এবং তা অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট । ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। বেসেন্ট পরিষ্কারভাবে জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে এবং এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী পিছু হটবে না।   সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বর্তমান যুদ্ধের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের ধরনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ও সামরিক কর্মকর্তারা প্রকৃতপক্ষে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না। তার মতে, গণমাধ্যমগুলোতে প্রকৃত ঘটনার পরিবর্তে ভিন্ন পরিস্থিতি চিত্রায়িত হচ্ছে।   অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে দাবি করেন যে, সরকার বর্তমানে যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মারফির এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণ করে বেসেন্ট বলেন, সিনেটরের দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0