- প্রচ্ছদ
- Topic
ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বাস্তবায়িত হলে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা কিছু বিবাহিত দম্পতি, যাদের একজন বাইরে কাজ করবেন আর অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তানের যত্ন নেবেন, তারা ফেডারেল সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পরিকল্পনাটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। বর্তমানে যে ফেডারেল তহবিল থেকে কম ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী পরিবারগুলো শিশু যত্নের খরচের জন্য সহায়তা পায়, সেই চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকেই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তহবিলটির আকার প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো পরিবারকে যোগ্য হতে হলে আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি একজন বিবাহিত অভিভাবককে সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে নিজের সন্তানের যত্ন নেবেন। এ ক্ষেত্রে বাড়িতে থাকা অভিভাবকের যত্নকে শিশু পরিচর্যার একটি ধরন হিসেবে বিবেচনা করে ভাতা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণত বাবা-মাকে কাজ, পড়াশোনা অথবা প্রশিক্ষণে থাকার শর্ত পূরণ করতে হয়। সরকারি সহায়তাটি মূলত শিশুদের ডে-কেয়ার বা অন্যান্য পরিচর্যার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে একই তহবিলের অর্থ বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করা কিছু পরিবারও পেতে পারে। বর্তমানে এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবার শিশু যত্নের ভর্তুকি পাচ্ছে। এর প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে একক কর্মজীবী অভিভাবক রয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগই নারী। নতুন পরিকল্পনার সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, একই পরিমাণ অর্থ আরও বেশি পরিবারের মধ্যে ভাগ হলে কর্মজীবী ও একক অভিভাবকদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বাড়িতে থাকা অভিভাবককে সরাসরি অর্থ দেওয়ার ফলে শিশু যত্নের বর্তমান বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল ডে-কেয়ার কেন্দ্রগুলো শিশু হারালে আয় কমে যেতে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে। অন্যদিকে, পরিকল্পনাটির সমর্থকেরা বলছেন, সন্তান লালন-পালনে বাড়িতে থাকা অভিভাবকের অবদানও আর্থিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে পরিবার ও শিশুদের জন্য সহায়তা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে নতুন নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ ও জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করা কিছু বাবা-মাকে ফেডারেল চাইল্ড কেয়ার সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনাটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে একজন বাবা বা মা ঘরে থেকে নিজের সন্তানের যত্ন নিলে এবং অন্য স্বামী বা স্ত্রী সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে পরিবারটি চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা সিসিডিএফ-এর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এই অর্থ নতুন কোনো আলাদা ফেডারেল তহবিল থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা নয়। বরং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীনে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থ ব্যবহারের নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন ধরনের চাইল্ড কেয়ার সহায়তা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই তহবিল বর্তমানে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মা, স্কুলে থাকা কিংবা চাকরির প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া অভিভাবকদের সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার খরচে সহায়তা করে। খসড়া নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় একজন বিবাহিত বাবা বা মা নিজের সন্তানকে ঘরে থেকে দেখাশোনা করলেও চাইল্ড কেয়ার সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য হবে ঘরে থাকা অভিভাবকের হারানো আয়ের একটি অংশ পুষিয়ে দিতে সহায়তা করা। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলার সমপরিমাণ চাইল্ড কেয়ার সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে নতুন প্রস্তাবের অর্থ সরাসরি ৯ হাজার ডলার নগদ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রস্তাবিত নিয়মে বিবাহিত দম্পতিদের জন্য বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, একজন স্বামী বা স্ত্রীকে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং অন্যজন নিজের সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরে থাকতে পারবেন। নির্দিষ্ট আয়ের সীমাও প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, অবিবাহিত দম্পতি যেখানে একজন বাবা বা মা ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করেন, তারা এই প্রস্তাবিত নতুন ক্যাটাগরির আওতায় থাকবেন না। একইভাবে কাজ না করা একক অভিভাবকরাও এই নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য হবেন না। বর্তমান সিসিডিএফ নিয়মেও পরিবারের আয় এবং বাবা-মায়ের কাজ, শিক্ষা অথবা চাকরির প্রশিক্ষণের সঙ্গে যোগ্যতার সম্পর্ক রয়েছে। ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যগুলো তাদের নির্ধারিত রাজ্যের মধ্যম আয়ের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করা পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় নিতে পারে। তবে অনেক রাজ্য এর চেয়ে কম আয়ের সীমা নির্ধারণ করে। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। চাইল্ড কেয়ার নীতির বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, একই তহবিল থেকে ঘরে থাকা বাবা-মাকে সহায়তা দেওয়া হলে বর্তমানে যারা কাজ করার জন্য চাইল্ড কেয়ার ভর্তুকি ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। এতে কিছু চাইল্ড কেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন কোনো বিল নয়। প্রশাসন বিদ্যমান সিসিডিএফ কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য নতুন করে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে খসড়া নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার মতো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তাবটি এখনো পরিবর্তিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনুমোদিত হলে আগামী বছর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বর্তমানে যারা ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন এই সুবিধার নামে এখনই কোনো আবেদন বা অর্থ পাওয়ার দাবি করার সুযোগ তৈরি হয়নি। নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার পরই যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং কোন রাজ্যে কীভাবে সুবিধাটি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ড কেয়ার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ফেডারেল চাইল্ড কেয়ার অর্থ কীভাবে পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আপাতত এটি একটি প্রস্তাবিত নীতি, চালু হওয়া সরকারি সুবিধা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর জন্য বিলিয়ন ডলারের মেডিকেইড তহবিল আটকে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে সোমবার থেকে হাসপাতালগুলো প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার করে অর্থ হারাচ্ছে। তহবিল আটকে দেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেক্সাসের হাসপাতালগুলোর ওপর আরোপিত একটি করব্যবস্থা। এই করের মাধ্যমে রাজ্য ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে মেডিকেইডের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিজস্ব অংশ সংগ্রহ করে। তবে এই অর্থায়ন পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্র ও টেক্সাসের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। টেক্সাসের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা কমিশনার বিষয়টি সমাধানে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। এখনও এই অর্থ আটকে যাওয়ার কারণে মেডিকেইড রোগীদের চিকিৎসাসেবায় তাৎক্ষণিক কোনো বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রোগী, হাসপাতালের কর্মী এবং চিকিৎসাসেবায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ হাসপাতাল কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন লাভ বলেন, নিরাপত্তাবেষ্টিত হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের দপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের হাসপাতালগুলোর অর্থায়ন ব্যবস্থা ফেডারেল আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্য অর্থ পাওয়া উচিত। কতদিন এই তহবিল আটকে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নির্দেশনায়, সন্তানের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদের নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন status-এর প্রমাণ দিতে হতে পারে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। তবে বাবা-মা মার্কিন নাগরিক কি না, তা জানাতে আবেদনপত্রে ঘর পূরণ করলেও সাধারণত আলাদা করে নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে হয় না। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাবা-মাকে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দিতে হতে পারে। আর মার্কিন নাগরিক না হলে বৈধ অভিবাসন status-এর প্রমাণ হিসেবে স্থায়ী বসবাসের কার্ড, যেটি গ্রিন কার্ড নামে পরিচিত, কিংবা আই-৯৪-এর মতো নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট শিশু নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য কি না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়ায় বলা হয়েছে, সন্তানের পাসপোর্ট আবেদনের সময় বাবা-মায়ের তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে, সংশ্লিষ্ট শিশু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ছে কি না, তা নির্ধারণ করা। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে আরও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করা। সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়। ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের প্রচেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, ওই আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ববিষয়ক ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপর ৬ আগস্ট ট্রাম্প আরও সীমিত পরিসরে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বিশেষভাবে তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ‘জন্ম পর্যটন’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো নারী যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করেন এবং সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্পের নতুন আদেশে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন ক্ষেত্রে, যখন শিশুর বাবা-মায়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকে, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই নতুন নির্দেশনা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। শিশুদের হয়ে মামলা করা আইনজীবীরা দুটি পৃথক ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন, যাতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ কার্যকর হওয়া ঠেকানো যায়। এর মধ্যে একটি মামলা মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে মার্কিন জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আদেশটি স্থগিত করেননি। তবে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এবং বাদীপক্ষকে তাদের মামলার আবেদন সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন, যাতে নতুন আদেশটি আটকে দেওয়া যায় কি না তা আদালত বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, নতুন নির্দেশনার বিরুদ্ধে এখনই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উপযুক্ত হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তখনও প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবস্থায়ও শিশুদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর মার্কিন জন্মসনদ, আগের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট কিংবা নাগরিকত্বের অন্য গ্রহণযোগ্য নথি দিয়ে তার নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায়। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণত বাবা-মা বা অভিভাবকদের উপস্থিতি এবং তাদের পরিচয়পত্রও প্রয়োজন হয়। তবে নতুন প্রস্তাবের পার্থক্য হলো, সন্তানের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পাশাপাশি বাবা-মায়ের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর নথিও চাওয়া হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়াও সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা শুধু পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবে না, বরং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককেও আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে বাবা-মায়ের status কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটিই এখন আদালত ও প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় ঠিক কবে থেকে এবং কোন কোন পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা নিশ্চিত নয়। আদালতে চলমান মামলাগুলোর সিদ্ধান্তও এই নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের 'শক গ্লাভস' বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার গ্লাভস ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সম্প্রতি একটি নতুন বিল পাস করেছেন। 'অ্যাসেম্বলি বিল ২৭৬০' নামের এই প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের ডেস্কে পাঠানো হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়ার যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য পরিধানযোগ্য ইলেকট্রোশক বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। ফেডারেল সরকার এই বিশেষ গ্লাভস কেনার জন্য ২ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়ার খবরের পরপরই ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা লাশায় শার্প-কলিন্স তড়িঘড়ি করে বিলটি উত্থাপন করেন। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা এই প্রযুক্তিটি মূলত 'জি.এল.ও.ভি.ই' (জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার) নামে পরিচিত। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই গ্লাভসকে পরিস্থিতি শান্ত করার একটি হাতিয়ার বা 'ডি-এসকেলেশন টুল' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই কর্মকর্তারা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। শার্প-কলিন্সের মতে, এই গ্লাভসগুলো সবচেয়ে কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বেপরোয়া কর্মকর্তাদের হাতে গিয়ে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ক্যালিফোর্নিয়ার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে 'অসাংবিধানিক' আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিষিদ্ধ করার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি তাদের কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ'-এর বরাত দিয়ে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অঙ্গরাজ্যের কোনো আইন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ খাটাতে পারে না, তাই তারা এই নিষেধাজ্ঞা মানবে না। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় পুলিশও বিলটির বিরোধিতা করেছে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির শেরিফ জিম কুপার জানান, তার বিভাগ প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যেই ৩৫ হাজার ডলার খরচ করে ১০টি শক গ্লাভস কিনেছে এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে এটি অস্বস্তিকর এবং এতে ব্যথা লাগে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটি বেশ কার্যকর। উল্লেখ্য, গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া আইসিই এজেন্টদের ফেস মাস্ক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি আইন করলেও পরবর্তীতে একজন ফেডারেল বিচারক তা বাতিল করে দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো অবসরে যাওয়ার সময় একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের মুখে ছিলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথির বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ফেডারেল আদালতে দেওয়া তার বিতর্কিত সাক্ষ্য এবং অতীতের ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) গত ২ মার্চ এক ইমেইলে বোভিনোকে তার বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর কথা জানায়। এই বার্তার মাত্র ১৬ দিন পরই তড়িঘড়ি করে তিনি অবসরের আবেদন জমা দেন। মিনিয়াপোলিসে দুই মার্কিন নাগরিক রেনে গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটির প্রাণঘাতী গোলাগুলির ঘটনার পর গত জানুয়ারির শেষের দিকে বোভিনোকে তার ‘কমান্ডার অ্যাট লার্জ’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর কোনো প্রমাণ ছাড়াই বোভিনো দাবি করেছিলেন যে, প্রেটি ফেডারেল এজেন্টদের ‘গণহত্যা’ করার পরিকল্পনা করছিলেন। তার এমন মন্তব্যে সেসময় ব্যাপক রাজনৈতিক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর আগে থেকেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য বর্ডার প্যাট্রল সমালোচনার মুখে ছিল। বিশেষ করে বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর টিয়ারগ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোঁড়ার মতো অমানবিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছিল। তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ সারা এলিসের একটি পর্যবেক্ষণ। তিনি লিটল ভিলেজে বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বোভিনোকে আদালতে বারবার মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। সিবিপি কর্মকর্তারা তদন্তের অংশ হিসেবে বোভিনোর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বিচারকের এই মন্তব্যের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তার নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া, মিনিয়াপোলিসের একজন বিচারককে নিয়ে তার কথিত ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য নিয়েও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিশেষ করে, "অর্থোডক্স অপরাধীরাও কি শনিবারে ছুটি কাটায়?" বা "মনোনীত জাতি" শীর্ষক তার বৈষম্যমূলক মন্তব্যগুলো সিবিপি’র পেশাদারিত্ব ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন কি না, তদন্তে সেটিই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীসহ কয়েক ধরনের বিদেশি কর্মীর জন্য বড় পরিবর্তন আসতে পারে। চাকরি চলে যাওয়ার পর নতুন চাকরি খোঁজা বা অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মটি ৬ আগস্ট হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যালয়ের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট প্রস্তাবটি সংশোধন সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষ করেছে ওই কার্যালয়। প্রস্তাবটির নিবন্ধন নম্বর আরআইএন ১৬১৫-এডি২২ এবং এর শিরোনাম ‘Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period’। তবে এখনই এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। এটি এখনও প্রস্তাবিত নিয়মের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিএইচএসকে প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণত জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই মতামত পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারবে। বর্তমান নিয়মে যোগ্য এইচ-১বি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পান। তবে তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ যদি ৬০ দিনের আগেই শেষ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে সেই আগের তারিখই প্রযোজ্য হয়। এই সুবিধা ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। এই সময়টুকু বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি হারানোর পর তারা নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন, নতুন অভিবাসন শ্রেণিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন অথবা প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এইচ-১বি কর্মীরা ইচ্ছামতো যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করতে পারেন না। নতুন চাকরির ক্ষেত্রেও সাধারণত নতুন নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া দরকার হয়। প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ অভিবাসন অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে, ওই কর্মীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে। তবে চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা কর্তৃপক্ষ বা ইউএসসিআইএস আলাদা বিবেচনামূলক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তাই বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকি এবং সরাসরি বহিষ্কার প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়। প্রস্তাবটি এগিয়ে যাওয়ার খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কঠোর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, গবেষণা, শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে, বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে নতুন এইচ-১বি নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি ফি প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে আলাদা নিয়ম প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। ফলে এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগের খরচ ও চাকরি হারানোর পর বৈধ অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ, দুই দিক থেকেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি নথিতে অবশ্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো হয়নি। ২৭ আগস্টের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মূলত নিয়ম প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ। এখন নজর থাকবে প্রস্তাবটি কবে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয় এবং সেখানে ঠিক কী ধরনের ব্যতিক্রম বা সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বর্তমান ৬০ দিনের সুবিধাই কার্যকর রয়েছে। শুধু হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কারণে তাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না এবং এই পর্যালোচনার ফলে নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন কোনো তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়নি। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে মত প্রকাশের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল বা দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বাক্স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করে। সান হোসের ফেডারেল বিচারক নোয়েল ওয়াইজ শুক্রবার দেওয়া ৯০ পৃষ্ঠার রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কিছু অভিবাসন পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন। মামলাটি করেছিল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত সংবাদপত্র ‘দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি’। পত্রিকাটির দাবি ছিল, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মত প্রকাশের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের আশঙ্কায় নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকছিলেন। বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী নাগরিকদের পাশাপাশি বৈধভাবে দেশটিতে অবস্থানরত অ-নাগরিকদেরও মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করে। সরকারের পছন্দ নয় এমন মত প্রকাশ করলেই অভিবাসন আইন ব্যবহার করে কাউকে শাস্তি দেওয়া সেই অধিকারকে কার্যত সীমিত করে দেয়। মামলার সূত্রপাত মূলত ২০২৫ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীকে ভিসা বাতিল, আটক এবং বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদ খলিল এবং টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের রুমাইসা ওজতুর্কের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনায় আসে। এসব ঘটনার পর স্ট্যানফোর্ড ডেইলি আশঙ্কা প্রকাশ করে যে তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী সাংবাদিকরাও একই ধরনের সরকারি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, স্ট্যানফোর্ড ডেইলির কয়েকজন বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে লেখা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন। কেউ আগে প্রকাশিত লেখা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন, কেউ নতুন লেখা প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছেন, আবার কেউ নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। এমনকি কয়েকজন শিক্ষার্থী সংবাদপত্রটির কাজ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। বিচারক ওয়াইজ বলেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে কার্যত এমন বার্তা পৌঁছেছিল যে ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কথা বললে তাদের ভিসা বাতিল এবং বহিষ্কার করা হতে পারে। ফলে অনেকেই নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত হয়েছেন। রায়ে বিচারক আরও বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও অভিবাসন বিষয়ে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা এমনভাবে প্রয়োগ করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতেই না পারেন কোন ধরনের বক্তব্য আইনসম্মত এবং কোন বক্তব্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি এই ধরনের অস্পষ্ট মানদণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। ওয়াইজের মতে, গণতন্ত্রে বাক্স্বাধীনতার অর্থ শুধু সরকারের সঙ্গে একমত হওয়ার অধিকার নয়। সরকারের নীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক কর্মকাণ্ড বা যুদ্ধের সমালোচনা করার অধিকারও এর অংশ। এমনকি কোনো মতামত প্রচলিত রাজনৈতিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য হলেও, সেটি প্রকাশের অধিকার সংবিধান সুরক্ষা দিতে পারে। এই মামলায় স্ট্যানফোর্ড ডেইলির পক্ষে কাজ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। সংগঠনটির আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাক্স্বাধীনতা শুধু সরকারের পছন্দের মত প্রকাশকারীদের জন্য নয়। স্ট্যানফোর্ড ডেইলির প্রধান সম্পাদক জর্জ পোরটিয়াসও রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবাদকক্ষে কাজ করা সাংবাদিকদের কোনো প্রতিবেদন লেখার কারণে দেশ থেকে বহিষ্কারের ভয় পাওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে সেই ভয় অনেকটাই দূর হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ রায়টির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার এই রায়টি এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনের পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক আইনি লড়াই চলছে। এর আগে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারকও রায় দিয়েছিলেন যে শুধু ফিলিস্তিনিদের সমর্থন বা ইসরায়েলের সমালোচনার কারণে অ-নাগরিকদের বহিষ্কারের উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী। সাম্প্রতিক রায়টি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আদালত স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক বাক্স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রযোজ্য এবং অভিবাসন আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক মত প্রকাশ দমন করা যাবে না। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও স্ট্যানফোর্ড ডেইলি।
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠানোর যে উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছিল, তা অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল বিচারক। শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে-তে মার্কিন জেলা জজ নোয়েল ওয়াইজ এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। রায়ে তিনি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে বাকস্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জানান যে, শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের কারণে অ-নাগরিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চরম লঙ্ঘন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত পত্রিকা ‘দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি’-এর দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়। পত্রিকাটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভিসা বাতিল ও ডিপোর্টেশনের হুমকির কারণে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ বা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন। বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আমেরিকার টেকসই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি শুধু তাদের অপছন্দের মতামতের কারণে কাউকে বিতাড়িত করে, তবে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই রায়টি প্রায় এক বছর আগে বোস্টনের এক মার্কিন জেলা জজের দেওয়া অনুরূপ একটি রায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, যেখানে ইসরায়েলকে সমালোচনার জেরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছিল। বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে ২০২৫ সালের মার্চে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনকারী এবং পরবর্তীতে চার্লি কার্কের সমালোচনাকারীদের ওপর মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এই আইনি লড়াইয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে লড়া সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন’-এর আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আমেরিকায় বাকস্বাধীনতা কেবল সরকারের সঙ্গে একমত পোষণকারীদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাবেক বর্ডার পেট্রোল কমান্ডার-অ্যাট-লার্জ গ্রেগরি বোভিনো দাবি করেছেন, বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন তাকে হত্যা করতে চায়। রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও পডকাস্টার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইতোমধ্যেই ২০ লাখেরও বেশি বার দেখা ওই সাক্ষাৎকারে বোভিনো বলেন, “তারা কি আমাকে মেরে ফেলতে চায়? অবশ্যই।” তবে হোয়াইট হাউস তার এই দাবিকে পুরোপুরি ‘হাস্যকর ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ৫৬ বছর বয়সী বোভিনো ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের অন্যতম বিতর্কিত মুখ ছিলেন। মিনেসোটায় পরিচালিত অভিযানের সময় তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপসহ বিভিন্ন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের কারণে তীব্র আইনি পর্যালোচনার মুখে পড়েন। গত জানুয়ারিতে মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান এবং কয়েক মাস পর অবসরে যান। এই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে তাকে ‘একটু বেশিই চরমপন্থী স্বভাবের’ বলে মন্তব্য করেন এবং অভিবাসনে তুলনামূলক ‘নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণের আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকারে বোভিনো অভিযোগ করেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার পরপরই তার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যদিও তিনি প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন। তার দাবি, তাকে ‘চিরতরে স্তব্ধ’ করে দেওয়ার অংশ হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে নিরাপত্তা বাতিল করা হয়েছে। তবে এই চক্রান্তের পেছনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি জড়িত নন উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের নীতি-নির্ধারকদের, বিশেষ করে ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যানকে দায়ী করেন। এর জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস জানান, বোভিনোর বক্তব্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং টম হোম্যান একজন দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা, যার সাবেক বা বর্তমান কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে নাক গলানোর কোনো সুযোগ নেই। বোভিনো আরও দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক হারে অভিবাসী বিতাড়নের বিরোধী এবং বাস্তবে এমন কোনো বড় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না। এছাড়া কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ অবৈধ অভিবাসী বাস করছেন—যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তবে মার্কিন আদমশুমারি ও পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে মোট অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি এবং এর মধ্যে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ।
ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে, যা তাদের অভিবাসন নীতির ওপর চলমান কড়াকড়িরই একটি অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাসে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে সাক্ষাৎকারের পর্যায়ে পৌঁছানো ভিসা আবেদনগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে সমন্বয় করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, কর্মকর্তাদের দিয়ে আবেদনকারীদের সার্বিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এই প্রশিক্ষণ। বিশেষ করে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে কি না, সেটি যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা বলে প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন, ভিসা বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিল করার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণ-ভিসা বাতিলের ঘটনা। তবে প্রশাসনের এসব কঠোর নীতি ও অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ ক্রমাগত আইনি বাধার মুখে পড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন জেলা জজ জ্যানেট ভারগাস রাশিয়া ও আফগানিস্তানসহ ৭৫টি দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার একটি সরকারি নীতি বাতিল করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া ওই সিদ্ধান্তকে তিনি 'আইন পরিপন্থী এবং বিধিবদ্ধ ক্ষমতার অপব্যবহার' বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের বর্তমান সিদ্ধান্তটিও ভবিষ্যতে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারে। চলমান এই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতাদেশ কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে সম্পর্কে তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট সামনে এসেছে। প্রথমত, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেই এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে। এটি সবচেয়ে সহজ সমাধান, অর্থাৎ প্রশিক্ষণ শেষ হলেই ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তর এই অবস্থাকে সাময়িক এবং বিশ্বব্যাপী চলমান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রশিক্ষণ কতদিন চলবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি নিছকই একটি সাময়িক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলে, নীতিগত বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুতই সমস্যার সমাধান হতে পারে। দ্বিতীয় দৃশ্যপটটি হলো আদালতের হস্তক্ষেপ। এই স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হতে পারে এবং বিচারক পররাষ্ট্র দপ্তরকে ফের ভিসা সাক্ষাৎকার শুরুর নির্দেশ দিতে পারেন। কারণ, প্রশাসন এটিকে সাময়িক বললেও দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার সমতুল্য হতে পারে। এর আগে ৭৫টি দেশের ভিসা বাতিলের বিষয়ে বিচারক ভারগাস এবং বিচারক অমিত মেহতার রায় প্রমাণ করে যে, দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশ যোগ্য আবেদনকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করলে আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তৃতীয় সম্ভাব্য দৃশ্যপট হিসেবে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা মূলত কংগ্রেসের তৈরি। ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্ব দেখা দিলে কংগ্রেস নতুন আইন পাস করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইন পাসের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। অন্যদিকে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসন এবং ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাহী বিভাগকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়ে এসেছে। যেমন ১৯৭২ সালের 'ক্লাইনডিনস্ট বনাম ম্যান্ডেল', ২০১৫ সালের 'কেরি বনাম ডিন' এবং ২০১৮ সালের 'ট্রাম্প বনাম হাওয়াই' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থে প্রেসিডেন্টের বিদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কী সমাধান আসে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র থাকতে পারে, যেখানে প্রমাণিত মজুত রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার বিষয়টি ভেনেজুয়েলার পুরো প্রমাণিত তেল মজুত নিয়ে নয়। দেশটির মোট প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল হলেও সম্ভাব্য চুক্তিতে এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এসব তেলক্ষেত্রে মালিকানার অংশ পাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেসরকারি কোম্পানিগুলো তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল রাজস্ব তৈরি হবে, যা ভেনেজুয়েলা সরকারের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জনগণ উপকৃত হবে, এমন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে সমালোচনার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে সম্ভাব্য ব্যবস্থাটির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে রাখতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানা যায়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা সফর করতে পারেন। সেখানে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে নানা কারণে চাপ তৈরি হওয়ার সময়েই এই আলোচনা সামনে এসেছে। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দেশটির তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মগুলোর জন্য পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে তৈরি মূল্যচাপ কমানো। এরই অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠনে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো যুক্ত হয়েছে। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির তেল খাত নিয়ে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছে এবং দেশটির জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সম্পৃক্ততার জন্য কাজ করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সংস্কার পরিকল্পনা আদালত আটকে দিলে ভবনটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, সংস্কার ও অর্থায়নের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটি আরও জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়তে পারে। বিষয়টি সামনে এসেছে কেনেডি সেন্টার নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে। ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রটিতে বড় ধরনের সংস্কার করতে চায়। একই সঙ্গে ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের এখতিয়ার নেই বলে এর আগে একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছে। বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক আদালত নথিতে বলা হয়েছে, সংস্কার পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে আটকে গেলে কেন্দ্রটি আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভবনটি ভেঙে সেখানে পটোম্যাক নদীর তীরে একটি বড় উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার নির্মাণের মতো বিকল্প বিবেচনা করা হতে পারে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা গুরুতর এবং বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সংস্কার প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে অর্থ সংগ্রহ ও সংস্কারের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটির আর্থিক অবস্থা আরও দুর্বল হতে পারে। তবে এই দাবিকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নাম কেন্দ্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর টিকিট বিক্রি ও তহবিল সংগ্রহ কমেছে বলে কিছু অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে। ফলে কেন্দ্রটির আর্থিক সংকটের জন্য ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা কতটা দায়ী এবং প্রশাসনের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেনেডি সেন্টারের নাম নিয়ে আইনি লড়াইও এখনো চলছে। মে মাসে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার রায় দেন, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে। এরপর ভবনের সামনে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প-সমর্থিত পরিচালনা পর্ষদ আগস্টে নতুন করে ভবনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম অপরিবর্তিত রেখে ভবনের সামনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের আশপাশের চত্বরের নাম ট্রাম্পের নামে করার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, এটি কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন নয়। এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিটি। তিনি আদালতের কাছে ট্রাম্পের নাম বা তার ভূমিকা তুলে ধরার নতুন উদ্যোগ বন্ধ করার আবেদন করেছেন। তার যুক্তি, কেনেডি সেন্টারকে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে জাতীয় স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামোর সঙ্গে এসব পরিবর্তন সাংঘর্ষিক। ১৯৭১ সালে চালু হওয়া কেনেডি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মিং আর্টস প্রতিষ্ঠান। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান নয়, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় স্মারক হিসেবেও পরিচিত। সংস্কার পরিকল্পনা, ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ এখন কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎকে ঘিরে বড় আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপর সংস্কার প্রকল্প এবং কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত ও পুনর্বিন্যাস করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য শুরু হওয়া একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এরই মধ্যে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ থাকা কিছু আবেদনকারী ইমেইলে তাদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্বিন্যাসের বার্তা পেয়েছেন। নতুন তারিখ ও সময় পরে জানানো হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া কতদিন চলবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করা। বিশেষ করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রাখেন কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের এই পরিবর্তন ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেই এসেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থায়ও কঠোর যাচাই-বাছাই জোরদার করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও সামনে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই তালিকায় বাংলাদেশও ছিল। তবে গত ২১ আগস্ট নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস ওই নীতি বাতিল করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছে, কিছু অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকি যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর জন্য পাবলিক চার্জ বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। এদিকে পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাসহ আরও কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশাসন এগোচ্ছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এসব পদক্ষেপকে ভিসা ব্যবস্থাপনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সরকারি সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর অংশ হিসেবে দেখাচ্ছে। তবে অভিবাসন অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের সমালোচনা করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধের ফলে বৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে এবং নাগরিক অধিকার ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ। ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল। বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর। আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন। তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যারা পর্যটক বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজ ও সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ এবং বি-২ ভিসাগুলো বাতিল করা, যেসব ভিসাধারী পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের প্রার্থনা করেছেন। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একযোগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই বিশাল পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যারা সাময়িক সময়ের দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা বলে প্রবেশ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এসব অ-অভিবাসী ভিসাগুলো বাতিল করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঠিক কতজন মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেননি পিগট। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চলবে এবং মোট সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল থাকবে। তবে কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হবে। যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের নতুন করে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। তবে তারা তাদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার বৈধতা পুরোপুরি হারাবেন। সাধারণত বি-১ ভিসা দেওয়া হয় ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য। অন্যদিকে বি-২ ভিসা দেওয়া হয় পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। বর্তমানে এসব ভিসার আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হয় যে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন। অভিবাসন আইনের অপব্যবহার নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সম্প্রতি আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত সোমবার মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদনকে কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত হয়ে গেছে বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের অপব্যবহার রোধে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই নীতির অংশ হিসেবে গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এবার এই তালিকায় আরও দুই লাখ মানুষের নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ ও এপি
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন এইচ-১বি ভিসা আবেদনে ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের বিশেষ ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কর্মী আনার খরচ আগের তুলনায় বড় ধরনের বাড়বে। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর ৩০ দিনের গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর প্রশাসন মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত বিধিমালা জারি করতে পারে। এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন কিছু এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থপ্রদানের শর্ত চালু করেছিল। সেই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন, নিয়োগকর্তা ও বিভিন্ন পক্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে। নতুন প্রস্তাবটি সেই নীতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বিশেষায়িত দক্ষতার বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেয়। প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসার সীমা রয়েছে। নতুন প্রস্তাবের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোম্পানিগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও অন্যান্য উচ্চ দক্ষতার খাতে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু কোম্পানি তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন কর্মীদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, অনেক বিশেষায়িত পদে পর্যাপ্ত মার্কিন কর্মী না থাকায় বিদেশি দক্ষ কর্মী ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে নিয়োগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ব্যবস্থায় উচ্চ দক্ষতা ও উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের যুক্তি, বাড়তি খরচ ও কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো এবং প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীদের দিকে সুযোগ কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত বিধিমালা নিয়ে আইনগত চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনাও রয়েছে। অতিরিক্ত ফি আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক চলছে। ফলে নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলেও আদালতে এর বৈধতা নিয়ে লড়াই গড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের জন্য এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কর্মরত ভারতীয়, চীনা ও অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মীরা এই কর্মসূচির বড় অংশ ব্যবহার করেন। ফলে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু আবার শুরু হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট জজ জেনেট ভার্গাসের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, ৭৫ দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ করার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালত আরও বলেছে, এই নীতি ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রসেসিং কার্যত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছিল। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটিকে নীতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যাথলিক লিগাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, ইএনসি ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলাটির নাম ক্লিনিক বনাম রুবিও। শুক্রবারের রায়ে আদালত শুধু ৭৫ দেশের ওপর ভিসা স্থগিতের নীতিই বাতিল করেনি, এই নীতির ভিত্তিতে যেসব ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভিসা আবেদনগুলো আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে, অর্থাৎ কেস -বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে ৭৫ দেশের সব আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের অন্যান্য সব ইমিগ্রেশন ও ভিসা সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করবেন। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, অথবা রায় স্থগিত রাখার জন্য উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন করবে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে ভিসা ইস্যু কত দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। শুক্রবারের রায়ের পর শনিবার সকাল পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু এখনই শুরু হয়েছে বলা যাচ্ছে না। মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল জানিয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ৭৫ দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে ভিসা আবেদন পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ইন্টারভিউ দিয়েছেন, ভিসা ইস্যুর অপেক্ষায় রয়েছেন অথবা শুধুমাত্র ৭৫ দেশের স্থগিত নীতির কারণে ভিসা পাননি, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের এখনই নতুন করে আবেদন করার আগে বা কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজেদের কেসের সর্বশেষ স্ট্যাটাস এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের রায় কার্যকর করার বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে তখন স্পষ্ট হবে কোন আবেদন কীভাবে আবার প্রসেস করা হবে।
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। আজ শুক্রবার, ২১ আগস্ট, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতের বিচারক জেনেট এ. ভার্গাস সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করা হয়েছে। মামলাটি কয়েকটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন, অভিবাসী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে করা হয়। মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর ঘোষণা এবং পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতির আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়। আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখা হয়েছিল। মার্কিন সরকারের যুক্তি ছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশও ওই ৭৫ দেশের তালিকায় রয়েছে। শুক্রবারের রায়ে বিচারক ভার্গাস পররাষ্ট্র দপ্তরের এই সামগ্রিক নীতিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করেন। আদালতের সিদ্ধান্তের মূল বিষয় হলো, শুধু কোনো দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে একজন আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা আটকে রাখা যাবে না। আইনের অধীনে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি পৃথকভাবে মূল্যায়নের যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করতে হবে। আদালত প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে পুরো নীতিটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু বন্ধ রাখার মূল নীতির ওপরই সরাসরি প্রভাব পড়েছে। মামলায় বাদীপক্ষের অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের তৈরি অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের পৃথকভাবে ভিসা আবেদন যাচাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ৭৫ দেশের জন্য জারি করা নীতিতে কর্মকর্তাদের সেই ব্যক্তিগত মূল্যায়নের সুযোগ কার্যত সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। আদালত সরকারের এই পদ্ধতিকে আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার বিষয় হিসেবে দেখেছেন। এর আগে একই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে অন্য ফেডারেল আদালতেও মামলা হয়। ৩১ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন দে মোরাউ গোমেস ও তার পরিবারের মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। তবে সেই রায়ে মূলত ওই পরিবারের আবেদন ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৭৫ দেশের পুরো নীতি বাতিল করা হয়নি। আজকের নিউইয়র্কের রায়টি সে কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু একজন বা একটি পরিবারের ভিসা আবেদন নিয়ে নয়, বরং ৭৫ দেশের নাগরিকদের ওপর প্রয়োগ করা পুরো ভিসা স্থগিত নীতির বৈধতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নীতিটি বাতিল করার আদেশ দিয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত থাকায় অনেক পরিবার, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে আদালতের রায়কে এমন অর্থে নেওয়া ঠিক হবে না যে আজই প্রত্যেক বাংলাদেশি আবেদনকারীর হাতে ভিসা চলে আসবে। নীতি বাতিল হলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ভিসা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো আবেদনকারীর অন্য কোনো আইনগত অযোগ্যতা থাকলে সেটিও কর্মকর্তারা পৃথকভাবে বিবেচনা করতে পারবেন। এ ছাড়া মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ফলে রায়ের পর ভিসা প্রক্রিয়া বাস্তবে কীভাবে এগোবে, আগে স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো কীভাবে পুনরায় বিবেচনা করা হবে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো কখন স্বাভাবিকভাবে ভিসা ইস্যু শুরু করবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য তাই শুক্রবারের রায়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হলেও, সব আবেদনকারীর ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে ইস্যু হবে এমন নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি। পরবর্তী আদালতের কার্যক্রম এবং মার্কিন সরকারের পদক্ষেপের ওপর এর বাস্তব প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে।
গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স বা আইএসএফ গঠনে ২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই অর্থ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় ফোর্সটি কবে গাজায় মোতায়েন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৩০ জুলাই মার্কিন কংগ্রেসকে অর্থায়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এর মধ্যে আইএসএফের সরঞ্জাম, অবকাঠামো, যানবাহন ও অপারেশনাল খরচের জন্য ২০ কোটি ডলার রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬৩ লাখ ডলার ব্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নয়টি আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার এই ফোর্সের কাজে ব্যবহারের জন্য পুনর্বিন্যাস করা হবে। রয়টার্সের হাতে আসা কংগ্রেশনাল নোটিফিকেশন অনুযায়ী, গাজায় আইএসএফ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা এবং মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন সামগ্রী নিরাপদে পৌঁছাতে ভূমিকা রাখবে। ফোর্সটির চূড়ান্ত কাঠামো ও সদস্যসংখ্যা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তার ২১ দফা শান্তি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইএসএফ ওই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফোর্সকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন একটি ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো ও আলবেনিয়া আইএসএফে সেনা পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছে। মিসর ও জর্ডান ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ফোর্সটি কবে গাজায় প্রবেশ করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। এরই মধ্যে পরিকল্পনাটি বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের একটি রোডম্যাপ সামনে আনলেও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। অন্যদিকে হামাসও পরিকল্পনাটিতে সম্মতির কথা বললেও ইসরায়েলকে আগে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার চলতি সপ্তাহে হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিসরে এবং পরে ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে জেরুজালেমে বৈঠক করেছেন। তবে এসব বৈঠকে মূল বিরোধগুলোর কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও জানিয়েছে, গাজায় আন্তর্জাতিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স প্রবেশের জন্য এখনো ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোনো অনুমোদন দেয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থায়নের মাধ্যমে পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিলেও এর বাস্তবায়ন এখনো নির্ভর করছে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সমঝোতার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের জন্য কিছু ফেরতযোগ্য কর সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট চার ধরনের কর ক্রেডিট থেকে করের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন যোগ্যতা না থাকা অভিবাসীরা। তবে তাঁরা নিজেদের বকেয়া আয়কর কমানোর জন্য এসব কর ক্রেডিটের মূল অংশ ব্যবহার করতে পারবেন। বুধবার প্রকাশিত প্রস্তাবিত বিধিমালায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) বলেছে, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল কল্যাণ আইন অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ নন এমন ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তার আওতায় ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশও পড়বে। প্রস্তাবটি এখন জনমত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামতের জন্য উন্মুক্ত। নতুন প্রস্তাবটি চার ধরনের কর ক্রেডিটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এগুলো হলো দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিট, শিশু কর ক্রেডিট, আমেরিকান অপরচুনিটি কর ক্রেডিট এবং অর্জিত আয় কর ক্রেডিট। এই কর ক্রেডিটগুলোর বিশেষত্ব হলো, এগুলো ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ কোনো করদাতার পাওনা করের পরিমাণের চেয়ে ক্রেডিট বেশি হলে অতিরিক্ত অংশ সাধারণত কর ফেরত হিসেবে পাওয়া যায়। নতুন নিয়ম চূড়ান্ত হলে অননুমোদিত অভিবাসীরা তাঁদের করের দায় কমানোর জন্য ক্রেডিট ব্যবহার করতে পারলেও অতিরিক্ত অংশ নগদ ফেরত হিসেবে পাবেন না। অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের ফেরতযোগ্য অংশ পেতে হলে করদাতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বসম্পন্ন ব্যক্তি অথবা ১৯৯৬ সালের আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘যোগ্য অভিবাসী’ হতে হবে। কর ক্রেডিট প্রথমবার দাবি করার সময় এই যোগ্যতা থাকতে হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, করদাতাদের অর্থ এমন ব্যক্তিদের সুবিধায় ব্যবহার করা উচিত নয়, যাঁরা ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আইআরএস কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানোও বলেছেন, নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো ফেডারেল অর্থায়নে দেওয়া সুবিধা কেবল যোগ্য করদাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং করদাতাদের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আইআরএসের হিসাবে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে সরকারের বছরে সর্বোচ্চ ২.৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তবে এই হিসাব প্রস্তাবিত নিয়মের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, নিশ্চিত সাশ্রয়ের পরিমাণ নয়। এই উদ্যোগের পেছনে ১৯৯৬ সালের ‘পার্সোনাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড ওয়ার্ক অপরচুনিটি রিকনসিলিয়েশন অ্যাক্ট’ বা কল্যাণ সংস্কার আইনকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই আইনে নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের জন্য যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। তবে কয়েক দশক ধরে কর ক্রেডিটকে ওই আইনের আওতায় সরাসরি ‘সরকারি সুবিধা’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। নতুন প্রস্তাবের যুক্তি হলো, কোনো কর ক্রেডিট শুধু করের দায় কমিয়ে দিলে সেটি এক বিষয়, কিন্তু করের দায়ের অতিরিক্ত অর্থ সরকার থেকে সরাসরি ফেরত দেওয়া হলে সেটি সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অবশ্য সব ধরনের অভিবাসন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে না। আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, শরণার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক বছরের জন্য বিশেষ ‘প্যারোল’ মর্যাদায় প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিটি কর ক্রেডিটের নিজস্ব আয়সীমা ও অর্থ পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দত্তক গ্রহণের কর ক্রেডিটের একটি নির্দিষ্ট অংশ ফেরতযোগ্য। আবার শিশু কর ক্রেডিট ও অর্জিত আয় কর ক্রেডিট মূলত নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা পরিবার ও কর্মজীবীদের করের বোঝা কমাতে সহায়তা করে। আইআরএসের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কোনো দম্পতি যৌথভাবে কর বিবরণী জমা দিলে তাঁদের মধ্যে একজন সংশ্লিষ্ট কর ক্রেডিটের যোগ্য হলেই ফেরতযোগ্য অংশ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। অর্থাৎ যৌথ কর বিবরণীর ক্ষেত্রে উভয় ব্যক্তির একই ধরনের যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা শেষে ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস প্রস্তাবটি পরিবর্তন, চূড়ান্ত বা প্রত্যাহার করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের একটি নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। ওই নির্দেশনায় ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ১৯৯৬ সালের কল্যাণ সংস্কার আইনের বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ট্রেজারি বিভাগ বিচার বিভাগের আইন পরামর্শ দপ্তরের কাছে ফেরতযোগ্য কর ক্রেডিটের নগদ অংশ ওই আইনের আওতায় পড়ে কি না, সে বিষয়ে মতামত চায়। প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন পরামর্শ দপ্তর মত দিয়েছে যে কর ক্রেডিটের যে অংশ করদাতাকে নগদ অর্থ হিসেবে ফেরত দেওয়া হয়, সেটি সরকারি সুবিধার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। নতুন নিয়মটি অবশ্য ওবামা প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ‘ওবামাকেয়ার’-এর প্রিমিয়াম কর ক্রেডিটে প্রযোজ্য হবে না। ট্রেজারি ও আইআরএস জানিয়েছে, ওই কর সুবিধা নিয়ে ইতোমধ্যেই পৃথক আইনগত বিধিনিষেধ রয়েছে। একইভাবে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু হওয়া নতুন ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ এবং যোগ্য শিশুদের জন্য নির্ধারিত এককালীন ১ হাজার ডলারের অর্থও এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বে না। কারণ এসব সুবিধা আইন অনুযায়ী শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে চলমান বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের অংশ। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় বাস্তবে কখন থেকে এর প্রভাব পড়বে এবং কোন কোন করদাতা ঠিক কতটা সুবিধা হারাবেন, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।