ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ পাইলট সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ওপর নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্যের উৎস বা ‘সোর্স’ প্রকাশ না করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কারাবরণ করতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ, গত শুক্রবার ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন F-15 ফাইটার জেট ভূপাতিত হওয়ার পর সেখানে থাকা দ্বিতীয় পাইলটের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ইরান জানত না। কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো এই স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান চরম ঝুঁকিতে পড়ে। ট্রাম্পের দাবি, সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পরই ইরান সতর্ক হয়ে যায় এবং মার্কিন উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করে। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই তথ্য ফাঁসকারীকে খুঁজছি। আমরা সরাসরি সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে যাব এবং বলব—হয় তথ্যের উৎস জানান, না হয় জেলের জন্য প্রস্তুতি নিন। এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।” যদিও প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নেননি, তবে সিএনএন, সিবিএস নিউজ এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্প এই তথ্য সরবরাহকারীকে একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এদিকে, মার্কিন মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই হুমকিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে নিখোঁজ দুই পাইলটকেই সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তা সত্ত্বেও, হোয়াইট হাউস ও সংবাদমাধ্যমের এই সংঘাত নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিশ্ব রাজনীতিতে।
ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ থাকা দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। দীর্ঘ দুই দিন বৈরী এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার পর অবশেষে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ভোরে এক বার্তায় এই সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “WE GOT HIM! (আমরা তাকে পেয়েছি!)”। তিনি এই উদ্ধার অভিযানকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ‘দুঃসাহসিক’ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প জানান, উদ্ধারকৃত ওই অফিসার বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। গত শুক্রবার ইরানের পাহাড়ি এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্যই প্যারাসুটের মাধ্যমে সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। বিমানের পাইলটকে ঘটনার কিছুক্ষণ পরই উদ্ধার করা গেলেও ‘উইপনস সিস্টেম অফিসার’ নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে তিনি ইরানের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অফিসারকে খুঁজে পেতে ইরান সরকার বড় অংকের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এবং স্থানীয়দের তাকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইরানি টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয়দের সশস্ত্র অবস্থায় ওই অফিসারকে খুঁজতে পাহাড়ী এলাকায় তল্লাশি চালানোর দৃশ্যও দেখা যায়। তবে মার্কিন ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে কমান্ডো বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে কয়েক ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার অংশ নেয়। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো যখন পাহাড়ি এলাকায় নিচ দিয়ে উড়ছিল, তখন ইরানি বাহিনী এবং স্থানীয় মিলিশিয়ারা নিচ থেকে গুলিবর্ষণ করে। এতে দুটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওই অফিসার কিছুটা আহত হয়েছেন তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম কোনো আমেরিকান যুদ্ধবিমান শত্রু এলাকায় ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল। একই দিন একটি এ-১০ (A-10) অ্যাটাক প্লেনও ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেটির পাইলট কোনোমতে কুয়েত সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযান সফল না হলে এবং মার্কিন বৈমানিক ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি হলে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। আপাতত নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের স্নায়ুচাপের অবসান ঘটল পেন্টাগনের জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচার ও শত্রুপক্ষকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে দেশটির বিমান বাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরাল্ড এডি ব্রাউন জুনিয়র (৬৫) নামের ওই ব্যক্তি এক সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ইনস্ট্রাক্টর বা প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের জেফারসনভিল থেকে তাকে হেফাজতে নেয় মার্কিন কর্তৃপক্ষ। কলম্বিয়া ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্রাউনের বিরুদ্ধে 'আর্মস এক্সপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাক্ট' লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ারফোর্স (PLAAF)-এর পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, ব্রাউন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীন সফরে যান এবং চলতি মাসের শুরু পর্যন্ত সেখানে প্রায় দুই বছর অবস্থান করেন। চীনে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই তিনি মার্কিন বিমান বাহিনী সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন এবং পরবর্তীতে চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে ব্রিফিং প্রদান করেন। এ বিষয়ে এফবিআই-এর নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর জেমস বারনাকল বলেন, "ব্রাউনের এই বিশ্বাসঘাতকতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবেদনশীল সামরিক কৌশলগুলোকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে, যা আমাদের দেশ, সশস্ত্র বাহিনী এবং মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।" কর্মজীবন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জেরাল্ড ব্রাউন মার্কিন বিমান বাহিনীতে ২৪ বছর সেবা দিয়ে ১৯৯৬ সালে মেজর হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি এফ-৪ ফ্যান্টম, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ এর মতো শক্তিশালী যুদ্ধবিমান চালিয়েছেন। অবসরের পর তিনি দুটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হয়ে এফ-৩৫ লাইটনিং-২ এবং এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফটের সিমুলেটর প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ব্রাউন একজন সহ-ষড়যন্ত্রকারীর মাধ্যমে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। এই সহ-ষড়যন্ত্রকারী স্টিফেন সু বিন নামের এক চীনা নাগরিকের সংস্পর্শে ছিলেন, যিনি ২০১৬ সালে মার্কিন সামরিক তথ্য চুরির অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বর্তমানে ব্রাউনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকার দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সাতটি মন্ত্রণালয়ের সচিব। কমিটি ফ্যামিলি কার্ডের উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন, সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ এবং ডাটাবেজ তৈরি করবে। সুবিধাভোগীর তথ্য সংরক্ষণের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ডিজিটাল এমআইএস তৈরির সুপারিশ করা হবে। কমিটি ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবে এবং প্রয়োজনে সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কমিটি সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে। সরকারের লক্ষ্য আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা।
প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সরকারের উপদেষ্টা ও সচিবরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে। তবে নির্দিষ্ট উপজেলাগুলোর নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও যথাযথ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতির প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কার্ডকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। সুবিধাভোগীদের নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডাটাবেজের ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করা হবে। ১৫ সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন। কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews