সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেমিকের হাতে ১৭ বছরের তরুণী ও তার ভাই নিহত: বোনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ২১:১৩
টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টিতে গুলির ঘটনার পর তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টিতে গুলির ঘটনার পর তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সাবেক প্রেমিকের গুলিতে এক কিশোরী ও তার বড় ভাই নিহত হয়েছেন। পারিবারিক বাসভবনের সামনে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত একটি শিশু অক্ষত রয়েছে।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭ এবং হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকাল প্রায় ১০টা ৫০ মিনিটে উত্তর হ্যারিস কাউন্টির ওয়েস্ট ক্যানিনো রোডের ২০০ নম্বর ব্লকের একটি বাড়িতে গুলির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী একটি ছোট শিশুকে নিয়ে বাড়ির বাইরে ছিলেন। এ সময় তার ১৯ বছর বয়সী সাবেক প্রেমিক, যিনি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিলেন, সেখানে এসে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

 

শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন কিশোরীর ২৯ বছর বয়সী ভাই। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনি বোনকে রক্ষা করতে তার সামনে দাঁড়ান। কিন্তু অভিযুক্ত যুবক গুলি চালালে ভাই ও বোন দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। এরপর অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে শেরিফের কার্যালয়ের সদস্যরা জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চিকিৎসাকর্মীরা এসে দুজনকেই ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সময় সেখানে থাকা শিশুটি কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত পায়নি এবং নিরাপদ রয়েছে।

ঘটনার পরপরই হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের টহল দল, হাম্বল পুলিশ বিভাগের সদস্য এবং পুলিশ কুকুরের সহায়তায় অভিযুক্তের সন্ধানে অভিযান চালানো হয়। পরে উইল ক্লেটন রোডের ৮৮০০ নম্বর ব্লক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কী কারণে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল এবং গুলির ঘটনার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। সাম্প্রতিক এই ঘটনাও সেই ধরনের সহিংসতার আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার উদ্দেশ্য বা পেছনের কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বাড়ি কেনার সেরা ৫ শহর
গ্র্যাজুয়েশন শেষেই বাড়ি কেনার সুযোগ! যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী ৫ শহরের তালিকা জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও গৃহঋণের খরচ বাড়লেও কিছু কলেজ শহরে তরুণ স্নাতক ও নতুন পেশাজীবীদের জন্য তুলনামূলক কম খরচে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবাসনবিষয়ক ওয়েবসাইট রিয়েল্টর ডটকমের ২০২৫ সালের তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ২৩১টি আবাসন বাজারের মধ্যে ডেট্রয়েট, জ্যাকসন, পাইন ব্লাফ, ম্যাকম্ব ও পিওরিয়াকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী পাঁচ কলেজ শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের অর্থনীতিবিদেরা ২০২৫ সালে এসব এলাকার বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করেন। যেসব বাজারে ১৫টির কম বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল, সেগুলো বিশ্লেষণ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ থাকা ২৩১টি বাজারকে বাড়ির দামের ভিত্তিতে তুলনা করা হয়। তালিকায় দক্ষিণাঞ্চলের কলেজ শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলোর অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ। পশ্চিমাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ২০ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহরগুলো প্রায় ১২ শতাংশ জায়গা দখল করেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দক্ষিণ ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় জমি ও নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক কম। এসব এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিও ধীর এবং আগে নির্মিত বাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্থানীয় আয়ের সঙ্গে বাড়ির দামের সামঞ্জস্য তুলনামূলক ভালো। তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট। প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষের এই শহরটি তালিকায় থাকা সবচেয়ে বড় আবাসন বাজার। ডেট্রয়েট বিশ্ববিদ্যালয় মার্সি শহরটির শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল ডেট্রয়েট। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটের পর ২০১৩ সালে শহরটি দেউলিয়া ঘোষণা করে। এরপর ডাউনটাউন পুনর্গঠন, নতুন বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শহরটির পরিবর্তন শুরু হয়। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডেট্রয়েট মহানগর এলাকায় বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বৃহত্তম মহানগর এলাকার মধ্যে এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজার হিসেবে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিসিসিপির রাজধানী জ্যাকসন। ২০২৫ সালে শহরটির বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৬৫৪ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি কম। জ্যাকসন স্টেট ইউনিভার্সিটি শহরের একমাত্র শীর্ষ পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারি ও ব্যবসায়িক খাতে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শহরটির সংস্কৃতি, সংগীত ও শিল্পচর্চাও বাসিন্দাদের আকর্ষণ করে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে আরকানসাসের পাইন ব্লাফ। আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইন ব্লাফ শাখাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহরের জনসংখ্যা ৪৫ হাজারেরও কম। ২০২৫ সালে সেখানে বাড়ির মধ্যম চাওয়া দাম ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ৯৮০ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ এবং তুলনামূলক কম জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে শহরটির বাড়ির দাম এখনো জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় কম। চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের ম্যাকম্ব। পিওরিয়া থেকে প্রায় ৭৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছোট এই শহরের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ওয়েস্টার্ন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালে ম্যাকম্বে বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭ হাজার ১২৫ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, সংগীত, খেলাধুলা এবং ছোট শহরের জীবনযাত্রা এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইলিনয়ের পিওরিয়া। ব্র্যাডলি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শহরটিতে তরুণদের উপস্থিতি ও শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশ রয়েছে। ক্যাফে, ছোট দোকান, সংগীতের আয়োজন এবং হাঁটার উপযোগী বিভিন্ন এলাকা শহরটিকে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচও এর অন্যতম সুবিধা। ২০২৫ সালে পিওরিয়ায় বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬২ ডলার। রিয়েল্টর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, পিওরিয়ায় স্থানীয় কলেজ এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের নিয়োগদাতাদের মধ্যে সহযোগিতা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্নাতক হওয়ার আগেই স্থানীয় কমিউনিটি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। পড়াশোনা শেষে একই এলাকায় চাকরি নিয়ে থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আবাসন বাজারে বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রাথমিক বাড়ির সরবরাহ কম। বাড়ির দাম ও গৃহঋণের সুদের খরচ অনেক তরুণের জন্য বাড়ি কেনাকে কঠিন করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামের কলেজ শহরগুলো তরুণ স্নাতক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের পরিবার, সাবেক শিক্ষার্থী এবং অবসরপ্রাপ্তদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাশ্রয়ী কলেজ শহরগুলোর সুবিধা শুধু কম দামের বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় চাকরির বাজার, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং কমিউনিটি সুবিধা একসঙ্গে থাকায় এসব শহর নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বসবাসেরও সুযোগ তৈরি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:১৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদহার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

মাকে হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জমজ দুই বোন

মাকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত, ১২ বছর পর ছাড়া পেল কুখ্যাত ‘জমজদের’ একজন

ছবি: সংগৃহীত

বিমানে যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ, ডাক্ট টেপে সিটে বেঁধে রাখলেন সহযাত্রীরা

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রায় ২০ শতাংশ শৈশবে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেননি
প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করেন, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন শৈশবে মুসলিম ছিলেন না। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন মুসলিমদের ২০ শতাংশ ইসলাম গ্রহণের আগে অন্য ধর্মে ছিলেন অথবা কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তবে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা যায় না।  পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের হার বিশ্বের ১৩টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেননি। তাঁদের মধ্যে ১৭ শতাংশ অন্য ধর্মের পরিবারে এবং ৩ শতাংশ কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছাড়াই বেড়ে উঠেছেন।  তবে একই সময়ে ইসলাম ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। পিউর আগের গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা মোটামুটি সমানভাবে ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে ইসলাম ছেড়ে দেওয়া মানুষের সংখ্যার সঙ্গে। ফলে ধর্মান্তর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধিতে তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব ফেলেছে।  ২০১৭ সালের পিউ জরিপেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। তখন ২১ শতাংশ মার্কিন মুসলিম জানিয়েছিলেন, তাঁরা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আগে প্রোটেস্ট্যান্ট ছিলেন, ২০ শতাংশ ক্যাথলিক এবং ১৯ শতাংশ কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।  যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে বরং অভিবাসন ও প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রাখছে। পিউর জনমিতিক বিশ্লেষণে মুসলিমদের তুলনামূলক বেশি জন্মহার এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসনের ধারাবাহিকতাকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।  পিউ রিসার্চ সেন্টারের হিসাবে, ২০১১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যা বছরে আনুমানিক এক লাখ করে বেড়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে মুসলিমদের অভিবাসন এবং তুলনামূলক বেশি জন্মহার দুটিই ভূমিকা রেখেছে।  এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেন বলে যে দাবি প্রচলিত রয়েছে, পিউ রিসার্চ সেন্টারের পর্যালোচিত গবেষণায় তার সমর্থনে নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তাই এই সংখ্যাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম গ্রহণের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হলেও মুসলিম জনসংখ্যার সামগ্রিক বৃদ্ধির প্রধান ব্যাখ্যা হিসেবে শুধু ধর্মান্তরকে দেখলে চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অভিবাসন, জন্মহার এবং জনসংখ্যার বয়স কাঠামোও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৩০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণের সুদ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ছে ঋণের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণের সুদ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ৭ শতাংশের পথে মর্টগেজের হার

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের এআই পোস্টকে ‘ব্রেইন রট’ বললেন সাবেক সহযোগী

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়

ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র আইসিই এজেন্ট মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাস সিনেট জরিপে রিপাবলিকানদের পেছনে ফেলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে সিনেট নির্বাচনের নতুন এক জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে ৪ শতাংশ পয়েন্টে পেছনে ফেলেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এএআরপি’র জরিপটি পরিচালনা করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ নির্বাচনী জরিপকারী হিসেবে পরিচিত টনি ফ্যাব্রিজিওর প্রতিষ্ঠান ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড। জরিপে টালারিকোর পক্ষে ৪৮ শতাংশ এবং প্যাক্সটনের পক্ষে ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়া গেছে। জরিপটি ফ্যাব্রিজিও ওয়ার্ড ও ডেমোক্র্যাটিক জরিপকারী প্রতিষ্ঠান ইমপ্যাক্ট রিসার্চ যৌথভাবে পরিচালনা করে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণাগুলোতেও ফ্যাব্রিজিও জরিপকারী হিসেবে কাজ করেছেন। এদিকে, টেক্সাসের ডালাসে এ সপ্তাহে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দলীয় সমর্থকদের সক্রিয় করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী আসনে সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতেই এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি, অর্থনীতি ও ইরানের যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অনেক মার্কিন নাগরিকের সমর্থন কমেছে- এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জরিপটি প্রকাশ হলো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্যাক্সটনের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি প্যাক্সটনের পোশাক ও কথাবার্তা নিয়ে সমালোচনা করলেও তাঁকে ‘দেশের সেরা অ্যাটর্নি জেনারেল’ বলে উল্লেখ করেন। জরিপে টালারিকোর এগিয়ে থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন স্বতন্ত্র ভোটাররা। তাঁদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ টালারিকোকে এবং ৩৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন। অর্থাৎ এ শ্রেণির ভোটারদের মধ্যে টালারিকো ২২ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে নিজ দলের ভোটারদের মধ্যে প্যাক্সটন এখনো টালারিকোর তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। রিপাবলিকান ভোটারদের ৮৩ শতাংশ প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৯৪ শতাংশ টালারিকোর পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া ৯ শতাংশ রিপাবলিকান টালারিকোকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে প্যাক্সটনের পক্ষে ডেমোক্র্যাট সমর্থন মাত্র ২ শতাংশ। টালারিকোর ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতার হার ৭ পয়েন্ট। ৪২ শতাংশ ভোটার তাঁকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন, বিপরীতে ৩৫ শতাংশ নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। প্যাক্সটনের ক্ষেত্রে নেট গ্রহণযোগ্যতা ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট ৪৬ শতাংশ তাঁকে নেতিবাচক এবং ৩৫ শতাংশ ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। আগস্ট ৩০ থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৯৫ জন সম্ভাব্য ভোটারের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে ভুলের সম্ভাব্য সীমা ধরা হয়েছে প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৬:১২
৫০০ ডলারের রিবেট চেক দেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের, অক্টোবর থেকে পেতে পারেন যোগ্য আমেরিকানরা

১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে দিচ্ছেন ট্রাম্প! যারা পাবেন এই টাকা

ট্রাম্পের সঙ্গে সমর্থকদের শপথ, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা

সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতারণা করে হলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতার শপথ নিলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ওসামা বিন লাদেনের ‘লেটার টু আমেরিকা’

0 Comments