ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীন ও রাশিয়ার জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবেন না। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, বেইজিংয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি তাকে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই চীন ইরানকে অস্ত্র দেবে বা বিক্রি করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রতিশ্রুতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, দুই দেশের বর্তমান সম্পর্কের কারণে তিনি শি জিনপিংয়ের কথায় আস্থা রাখছেন। একই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাকে একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, পুতিন জানেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে না; বরং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করা হয় এবং সেসব দেশই পরে ইউক্রেনকে সহায়তা দেয়। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে যেসব দেশের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে, সেই দুই দেশ—চীন ও রাশিয়া—বর্তমানে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তবে যদি তারা ভবিষ্যতে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ বা সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে তা তাদের জন্য ‘খুবই খারাপ’ হবে এবং সেটি তাদের নিজেদের স্বার্থেরও পরিপন্থী। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ভিন্ন ধরনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসে বলেন, রাশিয়া ও চীন বিভিন্ন উপায়ে ইরানকে সহায়তা করছে, যদিও তিনি সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইরানের সামরিক সক্ষমতায় সম্ভাব্য রুশ সহায়তার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এ বিষয়ে মস্কো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না। এদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের একাধিক দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন ডিসিতে পুনঃনির্ধারিত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানি প্রতিনিধিরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছেন। তবে তাঁর মতে, তেহরান এখনো চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বক্তব্য শুনতে প্রস্তুত রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। তারা একটি চুক্তি করতে পারলে খুশি হবে। কিন্তু আমার মনে হয়, তারা এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। আমরা তাদের কথা শুনব, তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।” ভাষণের এক পর্যায়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ২৫০টি যুদ্ধবিমান ও ১৫৯টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে, দেশটির রাডার ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং ড্রোনের মজুদও প্রায় শেষ। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক বা সরকারি সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর দাবি, ইরান যদি এমন অস্ত্রের অধিকারী হয়, তাহলে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তেজনা বাড়লেও উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন সমঝোতা বা আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের অধিকাংশ পণ্যে নতুন করে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আমদানিনির্ভর ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোক্তাপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানিয়েছে, নতুন শুল্কব্যবস্থা দেশটির মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ সরবরাহকারী শীর্ষ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, তাদের পণ্যে সাধারণভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হচ্ছে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট হার ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সব পণ্য এ শুল্কের আওতায় পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদিত হয় না—এমন কিছু কাঁচামাল, অর্থনীতিতে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি করতে পারে এমন পণ্য, তথ্যসামগ্রী, অনুদান ও যাত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাগেজসহ নির্দিষ্ট পণ্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোগের জন্য প্রবেশ করা বা গুদাম থেকে ছাড়া পণ্যের ওপর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালিফোর্নিয়া চেম্বার অব কমার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে অঙ্গরাজ্যটি বিদেশ থেকে ৪৮৮ দশমিক ২১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর প্রধান উৎস ছিল চীন, তাইওয়ান, মেক্সিকো, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া। এত বড় আমদানি বাজার হওয়ায় শুল্কের বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ভোক্তাদের ওপর চাপানো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ইলেকট্রনিকস, পোশাক, যন্ত্রাংশ, গৃহস্থালি পণ্য এবং বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমদানিনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফাও কমে যেতে পারে। তবে শুল্ক আরোপের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কার্যকরভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করলে ভবিষ্যতে শুল্ক পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করা হতে পারে। বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের জন্য আলাদা শুল্কমুক্ত কোটা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন শুল্কের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আমদানিকারকেরা কতটা অতিরিক্ত ব্যয় নিজেরা বহন করেন এবং কতটা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করেন তার ওপর। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার বিপুল আমদানি নির্ভরতা বিবেচনায় এখানকার ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর এর প্রভাব অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালালে প্রতিবার দেশটির একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ হুমকি দেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ঘোষণা এলো। ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন কিংবা অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি সেতু অথবা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করবে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রাজধানী তেহরান ও এর আশপাশের অবকাঠামোও থাকতে পারে বলে তিনি জানান। ইরান ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জবাব শক্তিশালী ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তিনি জানান, তেহরান এখন থেকে পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতি অনুসরণ করবে। ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা পর ইরানে টানা দ্বাদশ রাতের মতো হামলা চালানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, আঞ্চলিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুমকি দেওয়ার ইরানি সক্ষমতা আরও দুর্বল করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ, রামশির ও আন্দিমেশক শহরের কাছে বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরাক সীমান্তের কাছে শালামচেহ শহরে একটি হামলায় দুজন নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে তেহরান। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে ইরানের হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। কুয়েতি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুপক্ষের ড্রোন মোকাবিলা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কয়েকটি দেশ। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার পর সাময়িকভাবে সংঘাত কমেছিল। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ভেতরে সামরিক অভিযান শুরু করে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বহুল আলোচিত প্রাইমটাইম ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার না করায় দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম এবিসি, এনবিসি ও সিএনএনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভাষণ চলাকালেই তিনি অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য জনগণের কাছে পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে এবং এ কারণে তাদের সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল করা উচিত। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ওই ভাষণে ট্রাম্প নির্বাচন নিরাপত্তা, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য দেন। তবে এবিসি, এনবিসি ও সিএনএন তাদের প্রধান সম্প্রচার চ্যানেলে ভাষণটি সরাসরি দেখায়নি। পরিবর্তে তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং, সংক্ষিপ্ত সম্প্রচার অথবা ভাষণ-পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের পথ বেছে নেয়। অন্যদিকে ফক্স নিউজ পুরো ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে এবং সিবিএস আংশিক সম্প্রচারের পর বক্তব্যের তথ্য যাচাই শুরু করে। ভাষণের একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, জনগণের জানার অধিকার থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম সমন্বিতভাবে তাঁর বক্তব্য প্রচার না করে রাজনৈতিক পক্ষপাতের পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে এমন সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হওয়া উচিত। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পরপরই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারাও সংবাদমাধ্যমগুলোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্টের জাতীয় ভাষণ সম্প্রচার না করা জনগণকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে বঞ্চিত করার শামিল। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অবস্থান ভিন্ন। তারা বলছে, ট্রাম্প অতীতেও নির্বাচন নিয়ে বহুবার প্রমাণহীন দাবি করেছেন। তাই ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে তারা বক্তব্যের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ও প্রেক্ষাপট যুক্ত করে সংবাদ পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে নেই। এ দায়িত্ব স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি)। এছাড়া জাতীয় সংবাদ নেটওয়ার্ক নয়, বরং স্থানীয় সম্প্রচার স্টেশনগুলো এফসিসির লাইসেন্সের আওতায় পরিচালিত হয়। ফলে প্রেসিডেন্টের এমন হুমকি বাস্তবায়ন করা আইনি ও সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত জটিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সরকারের সমালোচনা প্রচারের অধিকার এবং সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ও নতুন করে অবরোধ আরোপের প্রেক্ষাপটেও ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা এখনো উড়িয়ে দিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৩ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইচ্ছা থাকলে দুই দেশের মধ্যে সমাধান সম্ভব। “হ্যাঁ, আমি মনে করি একটি চুক্তি সম্ভব—অবশ্যই সম্ভব,” বলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই দিন আগেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছিল। তবে পরে ইরান আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ভূমিকার কথাও জানান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং প্রয়োজনে এর পরিচালনার দায়িত্বও গ্রহণ করবে। “আমরা এই প্রণালির অভিভাবক হব,” মন্তব্য করে তিনি জানান, এই দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। তার ভাষ্য, বিশ্বের বহু ধনী দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে থাকে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তবে সেই সেবা বিনামূল্যে দেওয়া যৌক্তিক নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দেশ ও জাহাজ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলমান থাকলেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। (সূত্র: এএফপি)
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে দাবি ছড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয় ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একটি পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি লেখেন, তিনি একটি “নিখুঁত” স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করেছেন এবং নিজের অনুরোধে আরেকটি কগনিটিভ (মানসিক সক্ষমতা) পরীক্ষাও দিয়েছেন। পোস্টে তিনি কোথাও উল্লেখ করেননি যে ইরানের হামলার আশঙ্কায় বা জরুরি পরিস্থিতিতে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসও ট্রাম্পকে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বা নিরাপত্তা হুমকির কারণে তাঁকে ওয়াল্টার রিডে নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি। বরং প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ প্রকাশিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিয়মিত মেডিকেল মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই ওয়াল্টার রিডে গিয়েছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও ট্রাম্পকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার দাবিটি নির্ভরযোগ্য কোনো সরকারি সূত্র বা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেনি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো এ তথ্যকে অযাচাইকৃত দাবি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম ৭১ বছর বয়সে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল।” সিনেটর গ্রাহামের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার পর শনিবার মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পরিবার সবার কাছে দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করেছে। ট্রাম্প তাঁর শোকবার্তায় গ্রাহামের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সবসময় দেশের নিরাপত্তা, সেনাবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, গ্রাহামের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষ খুব কমই দেখা যায়। লিন্ডসি গ্রাহাম ২০০২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হলেও পরে তিনি তাঁর অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রে পরিণত হন। জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রতিরক্ষা ইস্যুতে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। দুই দশকের বেশি সময় সিনেটে দায়িত্ব পালন করা লিন্ডসি গ্রাহাম যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মৃত্যু রিপাবলিকান পার্টি এবং মার্কিন রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য শূন্যতা তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযানে ইরানকে “খুব কঠোরভাবে” আঘাত করা হয়েছে এবং প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখাই ছিল এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনা ও উপকূলীয় সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ওপর হুমকির জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তেলের দামেও ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা দিয়েছে। এদিকে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে এর আগে তেহরান মার্কিন সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করে পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা বিমান হামলা এবং উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করে ভিডিওও প্রকাশ করে। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। নতুন এই হামলা দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের কথিত ‘হত্যার তালিকায়’ তার নাম শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জুন মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি তেহরান বারবার লঙ্ঘন করছে। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং উড়োজাহাজে দেশে ফিরবেন না। পরিবর্তে আগে এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত একটি পুরোনো উড়োজাহাজেই ফিরবেন। বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। হাস্যরসের সুরে ট্রাম্প আরও বলেন, “গতকাল আরেকটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেখানে হত্যার তালিকায় আমি এক নম্বরে। যদিও টিকটকে এক নম্বরে থাকতে আমার বেশি ভালো লাগে।” তার এই মন্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। যুদ্ধবিরতি ঘিরে নতুন উত্তেজনা জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা ও নৌযান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। পরে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে বলে জানা যায়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর অভিযোগ ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং এ নিয়ে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি দেশটিকে গত কয়েক দশক ধরে ‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারকারী শক্তি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি টিকবে।” পাশাপাশি সতর্ক করে দেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বাহিনী এক রাতেই ইরানের ২৮টি নৌযান ধ্বংস করেছে এবং প্রয়োজনে আরও নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তার বক্তব্য, “ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক বোমা থাকত, তারা সেটি ব্যবহার করত।” খারগ দ্বীপ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা কূটনৈতিক সমাধান না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেবে না বলে স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ইরানের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হতে পারে, যদিও তিনি এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে এবং প্রয়োজন হলে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তথ্যসূত্র: সামা টিভি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পর দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক হামলায় দেশটির অন্তত আটজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় একাধিক স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে নিহতদের মধ্যে ইরানের বিমান বাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলার পর ওই এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই তেহরান থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘দুঃসাহসিকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই হামলা শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো গাল্ফ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বেলায়েতি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মৌখিক সম্মতি অঞ্চলটিকে আবারও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, এই অঞ্চল কোনো ছোট দেশের রাজনৈতিক জুয়ার ক্ষেত্র নয়। অতীতে যেমন দুঃসাহসিকতার জবাব দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও তাৎক্ষণিক ও উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চলতি সপ্তাহে তুরস্কের আঙ্কারায় যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বৈঠকগুলোর আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পেতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন না হওয়ায় কিয়েভ চাইছে ট্রাম্পের দৃষ্টি আবারও যুদ্ধের দিকে ফেরাতে। ইউক্রেনের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করবে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনের পাশাপাশি ট্রাম্পের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও বৈঠকের সূচি রয়েছে। সম্মেলনে ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জোটের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেন। যুদ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সম্মেলনের এই বৈঠকগুলো শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, সিরিয়া সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির পরবর্তী দিকনির্দেশনাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার একটি বিকৃত (ডক্টরড) ছবি পোস্ট করায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, পোস্ট করা ছবিতে ওবামা দম্পতিকে একটি গ্রাফিতি-আঁকা এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে উঠতে দেখা যায়। ছবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও লেখাও সংযোজন করা হয়েছিল, যা সমালোচকদের মতে রাজনৈতিক ও বর্ণগত ইঙ্গিত বহন করে। এটি প্রথমবার নয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে এমন একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়েছিল, যেখানে ওবামা দম্পতিকে প্রাইমেট বা বনমানুষের আদলে দেখানো হয়। পোস্টটি প্রকাশের পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতাদের সমালোচনার মুখে সেটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। সে সময় ট্রাম্প এ জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেননি। নতুন পোস্টটি এমন সময় এলো, যখন ট্রাম্প সম্প্রতি কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহারের পর আবারও বিমানটি নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন। একই দিনে তিনি ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে নিয়েও একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করেন। এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বারাক ওবামা বা মিশেল ওবামার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ট্রাম্পের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ন্যাটোর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে জোটটির মহাসচিব মার্ক রুটে নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার শুধু সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়েই জোর দিচ্ছেন না, বরং ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত ‘আনুগত্য’ নিয়েও প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, গত বছর ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরান ইস্যুসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে অনেক ইউরোপীয় মিত্র যথেষ্ট সমর্থন দেয়নি। ফলে তার মতে, শুধু অর্থ ব্যয় বাড়ালেই হবে না—মিত্রদের রাজনৈতিক সমর্থন ও নির্ভরযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় দুই বছর ধরে ন্যাটোর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মার্ক রুটে যুক্তরাষ্ট্রকে জোটের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করে আসছেন। তিনি একাধিকবার বলেছেন, ইউরোপ ও কানাডা প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বোঝা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি ভূমিকা রাখছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবারের তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে রুটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ট্রাম্পের নতুন প্রত্যাশা সামাল দেওয়া এবং একই সঙ্গে জোটের ৩২ সদস্য দেশের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা। ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা—এসব বিষয় সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কমিউনিজমের তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘ক্যানসারের মতো’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন ফিরে এসেছে।” দেশটির স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে দেওয়া এক ভাষণে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ভাষণে তিনি বলেন, কমিউনিজম যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও মূল্যবোধের জন্য একটি বড় হুমকি। তার ভাষায়, “কমিউনিজম একটি ব্যর্থ মতবাদ। এটি সব সময় ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থই থাকবে। এটি আমাদের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত।” ট্রাম্প আরও বলেন, এ ধরনের মতাদর্শকে শুরুতেই প্রতিহত করা জরুরি। “এটি ক্যানসারের মতো—তাই শুরুতেই দ্রুত এটিকে কেটে ফেলতে হবে,” মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশটি কখনোই তার স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার বিসর্জন দেবে না। তিনি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নাগরিক স্বাধীনতার বিষয়গুলোও উল্লেখ করেন। “আমাদের বাক্স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের চোখে সমান বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে—যা বিশ্বের অনেক দেশের থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে আলাদা করে,” বলেন ট্রাম্প। এর আগে গত শুক্রবার সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিসৌধে দেওয়া ভাষণেও তিনি কমিউনিজমের ‘হুমকি’ নিয়ে কথা বলেন। তখনও তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন এক মতাদর্শিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যদিও তার বক্তব্যে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করা হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে নিউইয়র্কের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হওয়া কিছু ডেমোক্র্যাট সমাজতন্ত্রী নেতাদের পরোক্ষভাবে লক্ষ্য করে এসব মন্তব্য করেছেন। স্বাধীনতা দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সমর্থকদের সামনে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন আবারও ফিরে এসেছে।” তবে অনুষ্ঠানের আগে প্রতিকূল আবহাওয়া কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। তীব্র গরম ও সম্ভাব্য বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় অনুষ্ঠানস্থল থেকে সাময়িকভাবে হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়—কেউ দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যেকোনো অবস্থায় তিনি ভাষণ দেবেন। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বাধীনতা দিবসের এই ভাষণে ট্রাম্পের বক্তব্য মূলত তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং আসন্ন সময়ের জন্য তার বার্তাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি বলেন, দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সাময়িক বিরতি দিয়েছিল। তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রশংসা করে বলেন, “আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হয়েছি।” স্নায়ুযুদ্ধের সময় আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘ইতিহাসের অতল গহ্বরে’ পাঠানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা একদিনে ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে কঠিন শিক্ষা দিয়েছি। তারা এখন আপস করতে মরিয়া। আমরা মানবিকতার কারণে তাদের নেতার দাফনের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম।” যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানরা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন মানুষ এবং মানবকল্যাণ, ক্ষুধা মোকাবিলা ও রোগ নিরাময়ে তাদের অবদান অনন্য। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ‘কমিউনিস্ট চিন্তার’ পুনরুত্থান ঘটছে, যা দেশের জীবনধারা ও সাফল্যের পরিপন্থী। তিনি কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ৯/১১ হামলার চেয়েও বড় হুমকি হতে পারে।” আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা কখনো কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হবে না। আমরা যদি নিজেরা পরাজয় মেনে না নিই, তবে হারার কোনো সুযোগ নেই।” এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ আইন পাস হলে রিপাবলিকান পার্টি আগামী এক শতাব্দী পর্যন্ত নির্বাচনে পরাজিত হবে না। ট্রাম্পের এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ—দুই ক্ষেত্রেই উত্তেজনা ও বিতর্ক চলছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে আগ্রহী—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর ইরান এখন সমঝোতার পথ খুঁজছে। তিনি বলেন, “আমরা এক দিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করেছি। তারা এখন সমঝোতা করতে মরিয়া; তারা খুব করে সমঝোতা করতে চায়।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য ওয়াশিংটন তেহরানকে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিয়েছিল। “আমরা ভালো বলেই তাদের শেষ বিদায়ের জন্য সময় দিয়েছি,” যোগ করেন তিনি। এদিকে খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়কে ঘিরে ইরানে শুরু হয়েছে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে এ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তেহরান ছাড়াও ইরাকের বিভিন্ন শহরে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে তাকে দাফন করা হবে। রাজধানী তেহরান-এর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে মরদেহ পৌঁছানোর আগেই হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা, যা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা স্লোগান দেন এবং প্রতিশোধের দাবি তোলেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। বিশাল এই প্রাঙ্গণের মূল চত্বর শোকাহত মানুষের ভিড়ে দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীজুড়ে কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান নয়; বরং এটি বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শক্তির ভারসাম্যের প্রতিফলনও বহন করছে। একই সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন লেখক ও কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল দায়ের করা যৌন নির্যাতন মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আপিল খারিজ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া ক্ষতিপূরণের রায় বহাল থাকল। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন। তবে গতকাল সেই আবেদন নাকচ করে দেন বিচারপতিরা। কেন এই আবেদন খারিজ করা হলো, সে বিষয়ে আদালত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি—যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক নয়। মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন যে, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালের মে মাসে নিম্ন আদালত ক্যারলের পক্ষে রায় দেন। আদালত ট্রাম্পকে দায়ী সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ফেডারেল আপিল আদালতে আবেদন করা হলে সেখানেও নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট আপিল গ্রহণ না করায় কার্যত ফেডারেল ও নিম্ন আদালতের রায়ই চূড়ান্ত রূপ পেল। এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত আইনি লড়াইগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবেক একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং আদালতের ধারাবাহিক রায় দেশটির বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও প্রক্রিয়াগত ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দ্রাবাদে একটি সড়কের নাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। শনিবার (২৭ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যার নামে ভারতে কোনো সড়কের নামকরণ করা হলো। তিনি এই সম্মানকে বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। এর আগে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার হায়দ্রাবাদের মার্কিন কনসুলেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ’ রাখার ঘোষণা দেয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সড়কের নামফলক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তেলেঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমর্ক এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গর। ট্রাম্প তার পোস্টে এই অনুষ্ঠানের একটি ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে তাদের দুজনকে নামফলক উন্মোচন করতে দেখা যায়। নতুন নামকরণ করা সড়কটির আশপাশে রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস, যার মধ্যে মাইক্রোসফট, গুগল ও আমাজনের মতো মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ফলে এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘টেক হাব’ হিসেবে পরিচিত। তেলেঙ্গানা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নামকরণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের পাশাপাশি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার প্রতিফলন। একই সঙ্গে হায়দ্রাবাদ যে দুই দেশের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে, সেটিরও স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে একটি সড়কের নাম মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে রাখা প্রতীকী হলেও তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত হতে যাওয়া সীমিত সংস্করণের (লিমিটেড এডিশন) নতুন মার্কিন পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে। নতুন এই পাসপোর্টের নকশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করে ট্রাম্প লিখেছেন, “Welcome, but be good!” (স্বাগতম, তবে নিয়ম মেনে চলুন)। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি এই স্মারক পাসপোর্টে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণা (Declaration of Independence)-এর অংশবিশেষ, তার স্বাক্ষর এবং ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক দৃশ্যও যুক্ত করা হয়েছে। এটি ‘আমেরিকা ২৫০’ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্ম থেকেই এই বিশেষ সংস্করণের পাসপোর্ট ইস্যু শুরু হবে। এটি অতিরিক্ত কোনো ফি ছাড়াই সীমিত সংখ্যক মার্কিন নাগরিকের জন্য উপলভ্য হবে। মূলত যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করবেন, তারাই এই সংস্করণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পাসপোর্টটির নকশা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সমর্থকদের একাংশ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তির স্মারক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, একটি সরকারি ভ্রমণ নথিতে দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্টের ছবি ও ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং যুক্ত করা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে এই বিশেষ পাসপোর্ট অন্যতম আলোচিত উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর সীমান্ত ও অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন চলায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে সৃষ্ট মানবিক সংকট মোকাবিলায় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও মানবিক সহায়তা নিয়ে ওয়াশিংটন দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবে। বুধবার (২৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “ভেনেজুয়েলার মহান জনগণের ওপর আঘাত হানা দুটি বড় ভূমিকম্প অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং এতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।” এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব ফেডারেল সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, এই কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে থাকবে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মূল্যায়নের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় ক্যারিবীয় উপকূলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূবিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ইয়ারাকুই রাজ্যের সান ফেলিপ এলাকার কাছে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়। এর প্রায় ৪০ সেকেন্ড পর ইউমারে শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের পরপরই ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। ভূমিকম্পের প্রভাবে বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়নি। উদ্ধার তৎপরতা চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার, উদ্ধারকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।