নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি । নিউ ইয়র্কের কুইন্সে এক অ্যাপার্টমেন্টে গুলিতে ২০ বছর বয়সী এক তরুণ ও তার ১৮ বছর বয়সী প্রেমিকার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড-আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে জ্যাকসন হাইটস এলাকার ৮৪তম স্ট্রিট ও ৩৪তম অ্যাভিনিউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তর্ক-বিতর্কের শব্দ শোনা যায়। এরপর একাধিক গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের এক সদস্য ও পাশের বাসিন্দা ৯১১-এ ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তরুণীকে মাথা, বুক ও পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত অবস্থায় পায়। তার প্রেমিকের মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়, এবং তাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তরুণটি প্রথমে তার প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যা করে, এরপর নিজেই আত্মহত্যা করে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মেডিকেল এক্সামিনার ময়নাতদন্ত করবেন। এ ঘটনায় এর আগে ওই দম্পতির মধ্যে কোনো বিরোধের অভিযোগ পুলিশ পেয়েছিল কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় সিনেটর জেসিকা রামোস বলেন, গার্হস্থ্য সহিংসতা বাস্তব এবং অনেক সময় তা এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে পৌঁছে যায়।
বাগেরহাট সদর মডেল থানায় গ্রাহক সুমন কুমার দাস লিখিত অভিযোগ করেছেন যে, তার লকারে রাখা প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালংকার পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখায় উপস্থিত ছিলেন সিআইডি, জেলা পুলিশ এবং পিবিআই কর্মকর্তারা। তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছেন। ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মনিরুল আমিন জানিয়েছেন, লকার খোলার জন্য দুটি চাবি প্রয়োজন, যার একটি গ্রাহকের কাছে এবং অপরটি ব্যাংকের কাছে। অভিযোগকারী গ্রাহকের চাবি তার কাছে থাকায় লকার তার ছাড়া খোলা সম্ভব নয়। গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর পরিবারসহ স্বর্ণালংকার লকারে রাখা হয়েছিল। বুধবার লকার খুলে দেখা গেলে সেটি ফাঁকা পাওয়া যায়। ঘটনায় অন্যান্য লকার ব্যবহারকারীরাও সতর্ক হয়ে ব্যাংকে যান এবং তাদের লকারে কোনো সমস্যা নেই। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তদন্ত চলছে। এই ঘটনার দুই দিন আগে একই ভবনের নগদ ডিস্ট্রিবিউশন হাউস থেকে হিসাবরক্ষক ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে পালানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান চলছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়া আট বছরের শিশু ইরা আর বাঁচল না। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার দুর্গম পাহাড়ি অংশ থেকে গলাকাটা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় শ্রমিকেরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা যায়, শিশুটি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ইরার বাড়ি কুমিরা এলাকায়। উদ্ধারস্থল তার বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, কেউ তাকে প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিশু ইরার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মাহাবুল হোসেন রনি (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের পোড়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাহাবুল শুক্রবার রাতে তারাবিহর নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বের হন এবং আর বাড়ি ফেরেননি। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মাহাবুল খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাগ মিয়ার ছেলে এবং বর্তমানে পরিবারসহ ভবানীপুর এলাকায় বসবাস করতেন। পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পাশের একটি মসজিদে তারাবিহ পড়তে গিয়ে মাহাবুল বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে শনিবার সকালে স্থানীয়রা হোটেলের পেছনের ঝোপের মধ্যে তার পোড়া লাশ দেখতে পান। পরে জয়দেবপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মাহাবুলের বাবা সোহাগ মিয়া জানিয়েছেন, তাদের কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই এবং কে বা কারা তাঁর সন্তানকে হত্যা করেছে তা বোঝা যাচ্ছে না। জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, দুর্বৃত্তরা মাহাবুলকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
রাজধানীর টিএসসি মোড়ে বুধবার ভোরে দুই তরুণী ও এক যুবককে মারধরের ঘটনা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুই শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে। সিসিটিভিতে দেখা যায়, বাইকচালক যুবকের ওপর প্রথমে হামলা চালানো হয় এবং পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও দুই তরুণী ও এক যুবককে লক্ষ্য করে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে লাঠি, ঘুষি, হেলমেট ও ফ্লাইং কিক ব্যবহার করে মারধর করা হয়। প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, ভিডিও বিশ্লেষণে আহমেদ রাকিব (বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ২০২৩-২৪ সেশন) এবং শাহরিয়ার তুষার (থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ)কে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে উভয় শিক্ষার্থী পলাতক এবং তাদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ। ভুক্তভোগীদের একজন জানান, মারধরের কারণ তিনি জানেন না। ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো হস্তক্ষেপ পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার কারণে ঢাবির সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর তাবাসসুম (৪) নামে এক কন্যাশিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে একটি বিদ্যালয়ের পেছন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তাবাসসুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল হোসেনের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে শিশুটির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে এক কৃষক মাঠে যাওয়ার পথে বাদুড়গাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে রক্তমাখা একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তার মুখ খুলে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে ফেলে রেখে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।