ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা-র ‘বাজান’ তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই জ্বালানি শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। এতে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৯ মার্চও একই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সে সময় ইরান দাবি করে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং Al Jazeera কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে সর্বশেষ এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে মধ্যপ্রাচ্যের চার শক্তিধর মুসলিম দেশ একজোট হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’কে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ করা। বৈঠক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি বর্তমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চার দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে যাতে করে যুদ্ধের দাবানল পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে। প্রথম দিনের আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সংবাদমাধ্যমকে জানান, আঞ্চলিক শক্তিগুলো যুদ্ধের একটি দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। কূটনৈতিক এই তৎপরতার গুরুত্ব বোঝা যায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগে। বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দুই দেশের শীর্ষ নেতা প্রায় ৯০ মিনিট ফোনালাপ করেন, যা গত পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় দফার কথা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এই চতুর্পক্ষীয় বৈঠক যদি সফল হয়, তবে তা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা কমাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি ও রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য বা পরিমাণে অসত্য তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে যা ‘ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং’ নামে পরিচিত এই অর্থ পাচার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর ফাঁকি, মুনাফা স্থানান্তর এবং বিদেশে পুঁজি সরানোর উদ্দেশ্যে আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে কম মূল্য দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে এই কারসাজি করা হয়। জিএফআই-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মূল্যের গরমিলের দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, পাচার হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় ঘটেছে। মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে গরমিলের মাধ্যমে সরানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প ও আমদানিনির্ভর খাতগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম বেশি দেখা যায়। ফলে এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে দেখা যায়, একই সময়ে ভারত থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের গরমিল ধরা পড়েছে। পুরো এশিয়া অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২২ সালেই উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলমান এবং তা কমানোর সুস্পষ্ট কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কার্যকর নীতি ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই আর্থিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কারকে এখন থেকে ইরানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি বা শুল্ক প্রদান করতে হবে। ইরানের পার্লামেন্ট ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান পালন করছে, তাই এই করিডোর ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে অর্থ প্রদান করা যুক্তিসঙ্গত। ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে তেহরান এই নৌপথটিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি স্মার্টফোন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সার ও ওষুধের বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এই টোল ব্যবস্থা তদারকি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অনেক দেশ এখন এই পথ দিয়ে তাদের জাহাজ নিরাপদে পার করার জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি এই টোল আইন চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তবে এটি কেবল তেলের বাজার নয় বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট ৬টি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজে কোনো প্রকার হামলা করা হবে না। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই স্বস্তির খবর নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরাকের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় থাকবে। আরাগচি বলেন, “ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই ছয়টি দেশের জাহাজে কোনো হামলা চালানো হবে না। যুদ্ধের এই কঠিন সময়েও দেশগুলো সেখানে ‘নিরাপদ প্যাসেজ’ বা চলাচলের বিশেষ সুবিধা পাবে।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান এই কৌশলগত জলপথে অবরোধ জারি করে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং দাম বৃদ্ধিতে অনেক দেশ সংকটে পড়ে। তবে ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, এই কঠোরতা শুধু ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জন্য। এদিকে, মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কিছু নিয়ম জারি করেছে। প্রধান শর্ত হলো— হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, এই জলপথ ব্যবহারের জন্য সব বিদেশি জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে ‘টোল’ প্রদানের একটি আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।
আট বছরের দীর্ঘ আলোচনা আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বাণিজ্যের পরিধি প্রসারে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এই চুক্তি সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই একটি বড় অংশ। সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কেবল বাণিজ্যের কথা বলেননি, বরং একটি শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ঘোষণাও দিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, "ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও আমাদের বিশ্বদর্শন অভিন্ন। এই বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে আমরা একে অপরের আরও কাছে আসব।" রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন তদন্ত শুরু করেছে। সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুরু হওয়া এই তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ ১৫টি দেশের নাম রয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই ঘোষণা দেন। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী কিছু শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করার পর হোয়াইট হাউজ এই পাল্টা পদক্ষেপ নিল। আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। তবে দমে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এবার 'অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা'র অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পথে হাঁটছে। বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, এই তদন্তের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মধ্যেই চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর নতুন করে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে আরোপিত অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ওয়াশিংটন। তদন্তের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো—বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যদি তদন্তে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যের প্রমাণ মেলে, তবে সেই দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর চড়া আমদানি শুল্ক চাপাবে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। মজার বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও এই তদন্ত তালিকা থেকে কানাডাকে বাদ রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে মূলত ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ববাজারে তাদের শুল্ক নীতিকে আরও জোরালোভাবে কার্যকর করার সুযোগ খুঁজছে। আগামী সপ্তাহে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের আগে এই ঘোষণা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করছে এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা বলছেন, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা এবং কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিদ্যমান কর্মীদের মধ্যেও ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদন, নির্মাণ ও খুচরা খাতের অনেক ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাণিজ্য নীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে এবং এর প্রভাব শ্রমবাজারেও পড়তে পারে। ফলে আগামী মাসগুলোতে নিয়োগ ও বিনিয়োগের গতি আরও ধীর হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলায় স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস–কে আতিথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমরা স্পেনের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। আমরা স্পেনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। এর আগে সোমবার স্পেন সরকার জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করেনি এবং ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে না। মাদ্রিদ স্পষ্ট করে দেয়, তাদের সার্বভৌম সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্পেনের হাতেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে তা আটলান্টিকপারের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তিটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও গবেষকেরা। এই চুক্তির বেশ কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বিস্তারিত পর্যালোচনার (রিভিউ) পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব উঠে আসে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, চুক্তির শর্তাবলি অস্পষ্ট হওয়ায় বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করলে তৈরি পোশাকে শূন্য শুল্ক সুবিধার বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, তড়িঘড়ি না করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ও ধীরগতিতে এই চুক্তির ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করা প্রয়োজন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি করেছে, আমরা তার ভালো-মন্দ সব দিক খতিয়ে দেখছি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নানা উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। আমরা সব কিছু পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।’ চুক্তির সময় কেন গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছিল—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দ্বিপাক্ষিক কিছু সংবেদনশীল বিষয় এবং ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ (এনডিএ) থাকায় তখন সব কিছু প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সভায় সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘চুক্তিটিতে বাংলাদেশের স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত হয়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট যে পাল্টা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন, সেই রায়কেও আমাদের পক্ষে কাজে লাগানোর কৌশল নিতে হবে।’ অন্যদিকে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম মার্কিন তুলা ব্যবহারের বিপরীতে শূন্য শুল্ক পাওয়ার শর্তাবলি দ্রুত পরিষ্কার করার দাবি জানান। বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিটিএমএসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দ্রব্যমূল্য ও বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আসন্ন রমজানে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্বের দুই প্রধান অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কে এক নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। শুল্ক বাধা, প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আর ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই দেশ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না; বরং তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রবেশ করছে এক নতুন ‘কাঠামোগত সমন্বয়ে’। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কিছুটা হ্রাস পেলেও সহযোগিতার নতুন নতুন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। চীনের কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৮.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪.০১ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা একে বাণিজ্যের ধস হিসেবে না দেখে 'কাঠামোগত সমন্বয়' হিসেবে দেখছেন। সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ান সুয়েথোং মনে করেন, চীন-মার্কিন বাণিজ্য এখন কেবল পণ্য রপ্তানি উদ্বৃত্তের মডেল থেকে বেরিয়ে এসে বহুমুখী পণ্যের বাণিজ্যের দিকে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিপণ্যের পাশাপাশি বর্তমানে জ্বালানি খাত দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ডিউক কুনশান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন কুয়েলচ জানান, চিপ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়টি ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে। বাণিজ্যে ভাটা পড়লেও দুই দেশ এখনও একে অপরের প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদার। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের পণ্যের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। অন্যদিকে, চীন হলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৃতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ও রপ্তানি গন্তব্য। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করতে এবং স্থিতিশীল বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। যেমন—মার্কিন কেমিক্যাল কোম্পানি 'মিলিকেন অ্যান্ড কোং' চীনে তাদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। কোম্পানির ভাইস-প্রেসিডেন্ট সাইমন ওরামের মতে, চীন কেবল একটি বড় বাজারই নয়, বরং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অন্যতম বড় কেন্দ্র।
বিশ্বজুড়ে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ ও শুল্ক বাধার অস্থিরতার মাঝে ভারতের সামনে এক বিশাল কৌশলগত দ্বার উন্মোচন করছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন—এই ছয়টি দেশের জোট ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ বা জিসিসি এখন ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক শক্তি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও জিসিসি দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে। এর ফলে এই জোটটি বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একক বাজারগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। মূলত রত্ন পাথর, ইলেকট্রনিক্স এবং রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানিই এই বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ভারত এখন জিসিসির সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জিসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার রূপরেখা বা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে পণ্য ও পরিষেবার অবাধ আদান-প্রদান নিশ্চিত হবে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রায় এক কোটি ভারতীয় এই অঞ্চলে কর্মরত রয়েছেন, যা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং মানবিক ও কৌশলগতভাবেও শক্তিশালী করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিমা বাজারের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার এই উদীয়মান বাজারে মনোযোগ দেওয়া ভারতের জন্য একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভারতের পেট্রোকেমিক্যাল এবং আইসিটি (ICT) খাতের জন্য এক বিশাল বাজার উন্মুক্ত হবে। সূত্র: এনডিটিভি।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক মোকাবিলা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুসংহত করার লক্ষ্যে সোমবার ওয়াশিংটনে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। যদিও এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এক দিন আগে অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি। জাপানে পূর্বনির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কারণে এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তবে বাণিজ্য উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই ঢাকায় চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছেন এবং সেই কপিটিই প্রতিনিধি দল নিয়ে যাচ্ছেন ওয়াশিংটনে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শুক্রবার ঢাকা ত্যাগ করবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করবেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার। একই সময়ে জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি সইয়ের কর্মসূচিতে অংশ নিতে আজ দুপুরে ঢাকা ত্যাগ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও সচিব।
দিল্লি এখন উত্তপ্ত! লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কার্যত ‘দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন’। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি রাতারাতি সই করার নেপথ্যে কি কোনো বিশেষ চাপ কাজ করছে? রাহুল গান্ধীর দাবি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন মামলা এবং রহস্যময় 'এপস্টিন ফাইলস'-এর ভয়েই নাকি প্রধানমন্ত্রী এই আপস করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সত্যটা ঠিক কোথায়? কেন এই বিতর্ক? একনজরে দেখে নিন মূল পয়েন্টগুলো: তড়িঘড়ি চুক্তি: রাহুল গান্ধীর মতে, নিজের ভাবমূর্তি বাঁচাতে চাপের মুখে তাড়াহুড়ো করে এই বাণিজ্য চুক্তি সই করেছেন মোদি। সংসদে হট্টগোল: চীন ইস্যু এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন বিরোধী দলনেতা। এপস্টিন ফাইলস ও আদানি কানেকশন: রাহুল দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে এমন কিছু তথ্য আছে যা মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর, আর সেই কারণেই এই ‘আপস’। প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: এনডিএ বৈঠকে মোদি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ধৈর্য এবং সঠিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই এই অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশের অর্থনীতি কি সত্যিই সুরক্ষিত, নাকি ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে? আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews