ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করল অস্ট্রেলিয়া ও ইইউ
আট বছরের দীর্ঘ আলোচনা আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
সোমবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বাণিজ্যের পরিধি প্রসারে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এই চুক্তি সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই একটি বড় অংশ।
সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কেবল বাণিজ্যের কথা বলেননি, বরং একটি শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ঘোষণাও দিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, "ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও আমাদের বিশ্বদর্শন অভিন্ন। এই বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে আমরা একে অপরের আরও কাছে আসব।"
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreরাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে নির্মিত একটি ৫০ ফুট উচ্চতার স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে জাপান ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গ্রানাইটের তৈরি ওই স্মৃতিস্তম্ভে দেখা যায়, এক সোভিয়েত সেনা তার রাইফেলের বাট দিয়ে একটি সীমান্তচিহ্ন ভেঙে ফেলছেন। ওই সীমান্তচিহ্নে জাপানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ক্রিস্যান্থেমাম বা সম্রাটের প্রতীক খোদাই করা রয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় খাবারভস্কে স্মৃতিস্তম্ভটি উন্মোচন করা হয়। এতে যে সীমান্তচিহ্ন দেখানো হয়েছে, সেটি প্রশান্ত মহাসাগরের সাখালিন দ্বীপে একসময় ব্যবহৃত সীমান্তচিহ্নের আদলে তৈরি। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন জাপানের নিয়ন্ত্রণে থাকা দ্বীপটির দক্ষিণ অংশ দখল করে নেয়। এর মধ্য দিয়ে পুরো সাখালিন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। রাশিয়া স্মৃতিস্তম্ভটিকে ১৯৪৫ সালে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে দেখছে। তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি স্মৃতিস্তম্ভটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাপানের ক্রিস্যান্থেমাম প্রতীক ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে এমন কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, টোকিও কূটনৈতিক চ্যানেলে রাশিয়ার কাছে স্মৃতিস্তম্ভটি সরানোর অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা চাপ অব্যাহত রাখবে। রাশিয়া অবশ্য জাপানের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের বিষয়টি মস্কো ভুলে যায়নি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভাও জাপানকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাপানের উচিত এ নিয়ে ‘চিরকাল অনুতপ্ত থাকা’। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন স্মৃতিস্তম্ভটি রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির আরেকটি প্রতীক। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের অধ্যাপক পল রিচার্ডসন বলেন, স্মৃতিস্তম্ভটির নকশায় ‘আক্রমণাত্মক ও বিজয়োল্লাসের’ আবহ রয়েছে। টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের অধ্যাপক জেমস ব্রাউন মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়কে গুরুত্ব দিয়ে স্মরণ করার ক্ষেত্রে মস্কোর সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সঙ্গে চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক রয়েছে। এদিকে রাশিয়া-জাপান সম্পর্কে ইউক্রেন যুদ্ধও বড় প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর টোকিও মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। গত আগস্টে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন। জাপান এসব দ্বীপকে ‘নর্দার্ন টেরিটরিজ’ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং পুতিনের সফরের প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের জবাবে জাপান ইউক্রেনকে আরও জোরালো সমর্থন দিতে পারে। দেশটির কিছু রক্ষণশীল মহল ইতোমধ্যে কিয়েভকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়টিও জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে জাপানের আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ৯ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হলেও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ব্রিকস সম্মেলনের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর
কঙ্গোতে স্কুলে আগুন, পদদলিত হয়ে নিহত ২৪ শিশু
ভারতে মানুষের মল থেকে তৈরি হচ্ছে কংক্রিট, যা প্রচলিত কংক্রিটের চেয়েও শক্তিশালী
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি অবস্থায় তার হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার অবনতি হয়েছে দাবি করে গৃহবন্দিত্বের আবেদন করেছেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ কারাগারে নেই দাবি করে নিউইয়র্কের একটি আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। বুধবার আদালতে দাখিল করা আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে নিউইয়র্কের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে স্থানান্তর করে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আটক রাখার অনুমতি চেয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, তাকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হবে, ইলেকট্রনিক নজরদারি করা হবে, তার চলাচল সীমিত থাকবে এবং আদালতের অনুমোদন ছাড়া কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তার ফোনকলও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে যাওয়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং হৃদ্যন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যার নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ওষুধের ইনজেকশন ছাড়া নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করতেন না। তবে কারাবন্দির পর তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছে তার প্রতিরক্ষা দল। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে চার ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য তার কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনও রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা হৃদ্যন্ত্রের আরও পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্লোরেসের আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, গত ২৯ জুলাই হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার এমন একটি শারীরিক সমস্যা হয়েছিল, যা হালকা মাত্রার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এটি চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য নেই। আবেদনে বুকে ব্যথা, হৃদ্স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, শ্বাসকষ্ট এবং আটক হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য ওজন কমার কথাও বলা হয়েছে। তার আইনজীবীরা অবশ্য আদালতের নথিতে স্বীকার করেছেন, কারাগারের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মূল যুক্তি হলো, সম্ভাব্য হৃদ্যন্ত্রের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য একটি আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারবে না। এ কারণে তারা ব্যক্তিগত বাসভবনে রেখে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন। প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বে ফ্লোরেস পুরোপুরি স্বাধীন থাকবেন না। আইনজীবীরা নিজেরাই কঠোর নজরদারির শর্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা, ইলেকট্রনিক অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র, সীমিত সাক্ষাৎ এবং ফোনকল পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তার ভ্রমণ নথি আদালতের কাছে জমা রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরেস ও মাদুরো দুজনকেই ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়। পরে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন অবস্থায় আছেন। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কাঠামো ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছিলেন। তবে মামলাটি এখনো বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলেরও চেষ্টা করছেন। তাদের অন্যতম যুক্তি হলো মাদুরো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কূটনৈতিক বা সার্বভৌম দায়মুক্তির অধিকার ভোগ করেন। ফ্লোরেসের আইনজীবীরাও তার সাবেক ফার্স্ট লেডি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দায়মুক্তির প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তাদের আটক ও দেশ থেকে নিয়ে আসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রতিরক্ষা দল। ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং চার বছরের বেশি সময় জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হন। মাদুরো সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিল। একই সময়ে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগও মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের অংশ। নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইন এখনো ফ্লোরেসের গৃহবন্দিত্বের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। মাদুরো ও ফ্লোরেসের মূল বিচার ২০২৭ সালের ১ জুন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আগামী ১৭ নভেম্বর তাদের আইনজীবীদের মামলাটি বাতিলের আবেদনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ফ্লোরেসের আইনজীবীদের আবেদনের মূল বিষয় এখন তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং কারাগারের বাইরে চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া যায় কি না। আদালত তার চিকিৎসা পরিস্থিতি, পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং প্রস্তাবিত কঠোর নজরদারির শর্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র: আল জাজিরা
ইসরায়েল নির্বাচনে বড় চাপে নেতানিয়াহু, ৭ অক্টোবরের হামলার সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ
নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার
১৫ বার অ্যামাজনের প্রত্যাখ্যান, শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে ১.১ কোটি রুপির চাকরি
চীনের গুয়াংডং প্রদেশের হুইঝৌ শহরের এক পেশাদার স্ক্র্যাপ-মেটাল রিফাইনার প্রায় দুই টন টেলিকম ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১৯১ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছেন। সোনাটির মূল্য প্রায় ২ লাখ ইউয়ান বা ২৯ হাজার মার্কিন ডলার। তাঁর এই প্রক্রিয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর পুরোনো সিম কার্ড ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য নিয়ে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ‘চাও’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি মূল্যবান ধাতু রিফাইনিংয়ের কাজ করেন। ২০ জানুয়ারি তিনি সোনা উদ্ধারের প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ মানুষ সেটি দেখেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পুরোনো সিম কার্ডসহ বিভিন্ন স্ক্র্যাপ রাসায়নিক দ্রবণে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। এরপর ক্ষয়, রাসায়নিক বিক্রিয়া, পরিশোধন ও উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করার বিভিন্ন ধাপের মাধ্যমে সোনাযুক্ত অবশিষ্টাংশ আলাদা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে ১৯১ গ্রাম সোনা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন চাও। তবে বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৯১ গ্রাম সোনা শুধু সিম কার্ড থেকেই পাওয়া যায়নি। চাও জানিয়েছেন, তিনি প্রায় দুই টন স্ক্র্যাপ প্রক্রিয়াজাত করেছেন, যার মধ্যে টেলিকম খাতের চিপ বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক উপাদান ছিল। সিম কার্ড ও কিছু ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্টে খুব অল্প পরিমাণে সোনার প্রলেপ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ভালো হওয়া এবং সহজে ক্ষয় না হওয়ার কারণে ইলেকট্রনিক সংযোগস্থলে সোনা ব্যবহার করা হয়। তবে একটি সিম কার্ডে থাকা সোনার পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা পেতে বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য প্রয়োজন হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পুরোনো সিম কার্ড কেনাবেচার আগ্রহও বেড়ে যায়। অনেকেই পুরোনো সিম কার্ডে মূল্যবান ধাতু থাকার বিষয়টি জানতে পেরে এগুলো সংগ্রহ করতে শুরু করেন। তবে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট রিফাইনাররা সতর্ক করেছেন, এটি কোনো সাধারণ ঘরোয়া পদ্ধতি নয়। সোনা উদ্ধারের এই প্রক্রিয়ায় বিপজ্জনক রাসায়নিক, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি এবং নিয়ন্ত্রিত শিল্পপ্রক্রিয়া প্রয়োজন হতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও দেখে ব্যক্তিগতভাবে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা গুরুতর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চাও নিজেও সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রক্রিয়া বাড়িতে অনুসরণ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর প্রদর্শন মূলত শিল্প পর্যায়ের স্ক্র্যাপ রিফাইনিংয়ের উদাহরণ, পুরোনো সিম কার্ড থেকে সহজে সোনা তৈরির কোনো ঘরোয়া কৌশল নয়।
জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল!
মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ১২০ বিলাসবহুল বাড়ি, কিনতে পারবেন বিদেশি মুসলিমরাও