নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নির্বিচারে ছোড়া গুলিতে ৭ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে পূর্ব উইলিয়ামসবার্গ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, শিশুটি তার মা-বাবার সঙ্গে স্ট্রোলারে করে বাইরে বেরিয়েছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে প্রথমে তারা এটিকে আতশবাজি মনে করেছিলেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, একটি মোটরচালিত মোপেডে থাকা বন্দুকধারীরা ভিড়ের দিকে গুলি ছোড়ে। গুলির একটি শিশুটির মাথায় লাগে, এবং ঘটনাস্থলেই সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একই ঘটনায় তার ছোট ভাইও সামান্য আহত হয়েছে। শিশুটির মা জানান, আমার মেয়ে একদম নির্দোষ ছিল। সে এটা প্রাপ্য ছিল না।' পরিবার জানায়, শিশুটি সদ্য 'মা' বলা শিখেছিল এবং হামাগুড়ি দেওয়া শুরু করছিল। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ঘটনাটি গ্যাং-সংক্রান্ত হতে পারে। সন্দেহভাজনরা মোপেডে করে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তারা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়, এবং একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, শিশুটি লক্ষ্যবস্তু ছিল না; সে পথচারীদের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়। অন্য সন্দেহভাজনকে ধরতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। শিশুটির পরিবার এই ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেছে।
তুরস্কের জলসীমায় এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে এজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, একটি মোটরচালিত রাবার বোটে করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি দল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিল। তুরস্কের কোস্টগার্ড বারবার নৌকাটিকে থামার সংকেত দিলেও চালক তা উপেক্ষা করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে একপর্যায়ে নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বোদরুমের কাছে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধের চতুর্দশ দিনে এসে প্রাণহানির সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংস্থার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বিদেশি সেনারাও রয়েছেন। তেহরানের বেহেশত-ই জাহরা কবরস্থানে স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অঞ্চলভেদে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান: ইরান: জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্যমতে বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১,৩০০ থাকলেও, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (HRANA) শুক্রবার জানিয়েছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১,৮৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারিভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। লেবানন: লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৩ জনই নিষ্পাপ শিশু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক: ইরাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ মার্কিন সেনার মৃত্যুসহ এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন মার্কিন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরাকে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ২৭ সদস্যসহ মোট ৩২ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল: আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই সেনাসহ মোট ১৫ জন ইসরায়েলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও। কুয়েতে কুমেতীয় নাগরিক ও মার্কিন সেনাসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। আরব আমিরাতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৬ জন এবং ওমানে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া সৌদি আরব ও বাহরাইনেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও সরাসরি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ততই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির উন্নতি এখনো সুদূরপরাহত।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে লক্ষ্য করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলা ষষ্ঠ দিনে পদার্পণ করেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে এখন পর্যন্ত পুরো অঞ্চলজুড়ে নিহতের সংখ্যা ১,৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে লেবানন, কুয়েত, ইরাক এবং সিরিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোও এই সংঘাতের কবলে পড়েছে। ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১,২৩০ জন। যুদ্ধের প্রথম দিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও শিক্ষক নিহত হওয়ার বিষয়টি বিশ্বজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) কতজন সদস্য রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আঞ্চলিক প্রভাব ও হতাহতের চিত্র যুদ্ধ কেবল ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের দেশগুলোতেও। লেবানন: ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটিতে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইরাক ও সিরিয়া: ইরাকে ১১ জন মিলিশিয়া সদস্যসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার সুয়েদা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপসাগরীয় দেশসমূহ: কুয়েতে ইরানি হামলায় দুই সৈন্যসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বাহরাইন, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) নিশ্চিত করেছে যে, কুয়েতের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় ৬ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা 'মাগেন ডেভিড অ্যাডম' জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্যের হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। অস্থিরতার মুখে বিশ্ব গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। যুদ্ধের ফলে ওমান উপকূলে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা জাগিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জোয়াহেরুল ইসলাম আর নেই। শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর মাল্টি অর্গান ফেলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় এই পলাতক রাজনীতিকের। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতা বৃদ্ধির কারণে সপ্তাহখানেক আগে তাকে কলকাতার ফিনিক্স মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুকালে তার পাশে স্ত্রী ও বিদেশ থেকে আসা কন্যা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান এবং কলকাতার নিউটাউনে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে মরদেহের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তার পরিবার। বর্তমানে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য কলকাতার পিস হেভেনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পেশায় আইনজীবী জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৭ সালে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম খান কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী কারাগারের জেলা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রব মিয়া। শফিকুল ইসলাম খান উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত হাবিবুর রহমান খানের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনার পর ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে আটক হয়ে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে হাজতি ছিলেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার বিকেলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরিবার সূত্র জানায়, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। বর্তমানে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ বিলের মাত্র ৫ টাকা কম দেওয়া নিয়ে দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আলমগীর হোসেন। ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বড় ভাই খোরশেদ আলম–এর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর–এর উত্তর বদরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আলমগীর ও খোরশেদ একটি মিটারের মাধ্যমে যৌথভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন এবং বিল ভাগাভাগি করে পরিশোধ করতেন। চলতি মাসের বিল পরিশোধের সময় আলমগীর ৫ টাকা কম দেন—এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে আলমগীর চায়ের দোকানে গেলে সেখানে খোরশেদসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হাতাহাতির তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
সিলেটের জৈন্তাপুরে ‘নীল নদ’ খ্যাত সারি নদে চোরাবালিতে তলিয়ে গিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মো. মুসআব আমীন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের ছাত্র। মুসআব গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সকিপুর গ্রামের মো. শহিদুর রহমানের ছেলে। মুসআব শাকসু নির্বাচনে সৈয়দ মুজতবা আলী হল সংসদে সদস্যপদে প্রার্থী ছিলেন। আজ শুক্রবার বেলা একটার দিকে জৈন্তাপুরের সারি নদের সাহেবমারা এলাকায় চোরাবালিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন মুসআব। পরে বিকেল চারটার দিকে ডুবুরি দলের প্রচেষ্টায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জৈন্তাপুরের সারি নদে শুক্রবার সকালের দিকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন মুসআব আমীন। দুপুরের দিকে সারি নদের সাহেবমারা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে নদের পানিতে গোসলে নেমেছিলেন তিনি। এ সময় নদের পানির নিচে চোরাবালিতে তলিয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে সঙ্গে থাকা বন্ধুরা মুসআবকে খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে পাচ্ছিলেন না। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে জৈন্তাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও জৈন্তাপুর থানা–পুলিশের সদস্যরা যান। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পানিতে নেমে বিকেল চারটার দিকে নিখোঁজ মুসআবকে উদ্ধার করা হয়। পরে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মুসআবের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন সিলেটের লালাখাল ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেখানকার জিরোপয়েন্ট এলাকায় বেলা একটার দিকে নদীতে গোসল করতে নামি সবাই। ১০ মিনিট পর মুসআবকে তখন আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তারপর আমরা খোঁজাখুজি শুরু করি। পুলিশকে খবর দেই। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে।’ এ তথ্য নিশ্চিত করে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, মরদেহ জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ সুরতহালের একটি প্রতিবদেন তৈরি করবেন। এরপর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে ছাত্রের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসতেছেন। ময়নাতদন্তের না করার জন্য হয়তো পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিবেন।
রাজধানীর বাড্ডার লিংক রোডে রাইদা ও ভিক্টর পরিবহনের দুই বাসের মধ্যে চাপা পড়ে আবুল কাশেম আজাদ (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ইউসিবি ব্যাংকের খিলক্ষেত শাখার সাপোর্ট ষ্টাফ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। নিহত আবুল কাশেম চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার নেকদি গ্রামের মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে খিলক্ষেত এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহতের সহকর্মী ইফতেখার হোসেন জানান, আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার দিকে অফিসের কাজ শেষে বাড্ডার লিঙ্ক রোড দিয়ে বাসায় ফিরছিলেন আবুল কাশেম। রাস্তার পারাপারের সময় রাইদা ও ভিক্টর নামে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মাঝে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে খবর পেয়ে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিক্টর ও রাইদা পরিবহনের বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বাড্ডা থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews