- প্রচ্ছদ
- Topic
মৃত্যু
দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক জিওন গিয়ং-চিওল, যিনি গুরুতর অটিজমে আক্রান্ত ছেলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করে ‘পিটার প্যান বাবা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন, মারা গেছেন। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে ৬৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ২৭ বছর ধরে তিনি একাই তার ছেলের দেখাশোনা করছিলেন। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল, তিনি মারা গেলে কে তার সন্তানের দায়িত্ব নেবে এবং কোথায় সে নিরাপদে থাকতে পারবে। গত বছর চূড়ান্ত পর্যায়ের লিভার ক্যানসার ধরা পড়ার পরও নিজের চিকিৎসার চেয়ে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন জিওন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আবাসিক প্রতিষ্ঠান ও কল্যাণকেন্দ্র খুঁজতে থাকেন, যেখানে তার অনুপস্থিতিতেও ছেলে নিরাপদে থাকতে পারবে। একপর্যায়ে তিনি প্রায় এক হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ছেলের জন্য জায়গা খুঁজে পাননি। পরে নিজের গল্প প্রকাশ্যে তুলে ধরলে বিষয়টি ব্যাপক মানুষের নজরে আসে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও তার সংগ্রামের কথা উঠে আসে। দেশজুড়ে সহায়তা ও সমর্থন পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তার ছেলের জন্য একটি নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হয়। নিজের এই দীর্ঘ সংগ্রাম নিয়ে তিনি একটি বইও লেখেন। গুরুতর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও ভালো আবাসন ও যত্নের ব্যবস্থা প্রয়োজন, এই বার্তাও তিনি তুলে ধরেছিলেন। মৃত্যুর আগে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগই তাকে মানুষের কাছে আলাদা করে পরিচিত করে তোলে। তার গল্প দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুতর প্রতিবন্ধী সন্তানদের দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও পরিবারের ওপর থাকা চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। জিওনের ইচ্ছা অনুযায়ী তার মৃত্যুর পর আলাদা কোনো শোকসভা বা মরদেহ দর্শনের আয়োজন রাখা হয়নি।
নরওয়ের রাজপরিবারে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম সিংহাসনে বসায় ২২ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা এখন নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। ভবিষ্যতে তিনি রাজা হলে দেশটির ৬০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথম নারী শাসক হবেন। ১ সেপ্টেম্বর নরওয়ের পার্লামেন্ট স্টোরটিংয়ে নতুন রাজা হাকন অষ্টম সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন। এর চার দিন আগে, ২৮ আগস্ট রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর হাকন নরওয়ের নতুন রাজা হন। শপথ অনুষ্ঠানে বাবার পাশে ছিলেন ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা। বাবার শপথের পর তিনি লিখিত একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তাঁর উত্তরাধিকারীর অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। ফলে রাজা হাকন ভ্রমণে থাকলে, অসুস্থ হলে বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে ইনগ্রিড আইন অনুযায়ী রিজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ইনগ্রিডের উত্তরাধিকারী হওয়াটিও ঐতিহাসিক। নরওয়ের আধুনিক রাজতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নতুন উত্তরাধিকারী প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। তাঁর বাবা হাকন ও দাদা হ্যারাল্ড তাঁদের বাবারা রাজা হওয়ার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। ইনগ্রিডের উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পেছনে নরওয়ের ১৯৯০ সালের উত্তরাধিকার আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই পরিবর্তনের পর সিংহাসনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম বাতিল হয়ে বড় সন্তানকেই উত্তরাধিকারী করার বিধান চালু হয়। ফলে ইনগ্রিডের ছোট ভাই প্রিন্স স্ভের্রে ম্যাগনুস জন্ম নেওয়ার পরও তিনি উত্তরাধিকারীর অবস্থান হারাননি। ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা সিংহাসনে বসলে নরওয়ের ইতিহাসে ৬০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনো নারী আবার দেশটির শাসক হবেন। সর্বশেষ নারী শাসক ছিলেন কুইন মার্গারেট, যিনি ১৩৮৮ থেকে ১৪১২ সাল পর্যন্ত শাসন করেছিলেন। ইনগ্রিড বর্তমানে শিক্ষার্থী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। পরে দেশে ফিরে ইউনিভার্সিটি অব অসলোতে পড়াশোনা শুরু করেন। ইউরোপের ভবিষ্যৎ নারী শাসকদের সঙ্গেও ইনগ্রিডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের প্রিন্সেস এলিজাবেথ ও নেদারল্যান্ডসের প্রিন্সেস ক্যাথারিনা-আমালিয়ার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব রয়েছে। তিনজনই নিজ নিজ দেশের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। রাজপরিবারের এই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রার অবস্থান তাই শুধু নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই নয়, ইউরোপের রাজতন্ত্রে পরিবর্তনশীল নেতৃত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এবারের গ্রীষ্ম দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার দিনে জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (DWD) জানায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৩ সালে গড় তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ। এবার জার্মানিতে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। প্রায় পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। জুনের শেষ দিকে দেশটির কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উঠেছিল। রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (RKI) হিসাব অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুনের শেষের তীব্র তাপপ্রবাহেই মারা গেছেন প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জন। জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহ ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। সংস্থাটি বলছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তীব্র গরমের পাশাপাশি দীর্ঘ খরায়ও বিপর্যস্ত হয়েছে জার্মানি। পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় ফেরি চলাচলও বন্ধ রাখতে হয়েছে। পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের দাবানল। এদিকে প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াতেও এবারের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ড উষ্ণ। দেশটির ২৬০ বছরের আবহাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্ম ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। প্রথমবারের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর পর পরিবারের ওপর পড়া আর্থিক চাপও বাড়ছে। শেষকৃত্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের এই বাড়তি বোঝা বিশেষ করে মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলছে। দেশটিতে একের পর এক বেবি বুমার প্রজন্মের মানুষ জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শেষকৃত্যের খরচও অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক উদ্বেগ হয়ে উঠছে। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি পরিবারকে সামলাতে হচ্ছে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ব্যয়। মধ্য ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই চাপ তুলনামূলক বেশি। কারণ এসব পরিবারের অনেকেই বড় ধরনের উত্তরাধিকার পাওয়ার সুযোগ কম থাকায় প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ সামলাতে নিজেদের সঞ্চয় বা আয় থেকে অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হন। ফলে অনেক পরিবারের কাছে মৃত্যুর পরের আনুষ্ঠানিকতাগুলোও ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শেষকৃত্য, দাফন বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারের দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনাতেও চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে যখন পরিবারগুলো আগে থেকেই বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছে, তখন মৃত্যুর পরের এই ব্যয় আরেকটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসছে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রিয়জনের শেষকৃত্যের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোরো রাজ্যের রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ ৩৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন রোমউইরে আকিইকি। অজ্ঞাত এক অসুস্থতার কারণে বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাজা ওয়ো মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। ১৯৯৫ সালে তার বাবা রাজা প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো অলিমি তৃতীয়ের মৃত্যুর পর তাকে তোরো রাজ্যের রাজা করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত রিজেন্ট ও রাজপরিবারের সদস্যরা রাজ্যের দায়িত্ব পরিচালনা করেন। ১৮ বছর বয়সে তিনি নিজে রাজ্যের নেতৃত্ব নিতে শুরু করেন। তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজা ওয়োর একজন পুত্র ও উত্তরাধিকারী রয়েছেন। তবে তোরো রাজপরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী উপযুক্ত সময়ে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজমুকুটের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ওয়োর মৃত্যুর আগে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তোরো রাজ্যে ব্যাপক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। রাজ্য কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল, তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ বা চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ১৯৯২ সালের ১৬ এপ্রিল জন্ম নেওয়া ওয়ো প্রায় ৩১ বছর তোরো রাজ্যের সিংহাসনে ছিলেন। তিন বছর বয়সে রাজা হওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সে সিংহাসনে বসা এবং সবচেয়ে কম বয়সী জীবিত রাজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার শৈশবের রাজত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল। উগান্ডা একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় তোরো রাজা দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী নন। দেশটির ঐতিহ্যবাহী রাজ্যগুলো মূলত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভূমিকা পালন করে। ১৯৬০-এর দশকে বিলুপ্ত করা ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্রগুলো ১৯৯৩ সালে আবার পুনর্বহাল করা হয়। তোরো রাজ্য পশ্চিম উগান্ডায় অবস্থিত এবং এর জনগোষ্ঠী বাটো’রো নামে পরিচিত। রাজা ওয়ো ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন বেশ নিরিবিলি স্বভাবের। তিনি বিয়ে করেননি। খেলাধুলার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং ফুটবলকে ঘিরে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব আর্সেনালের সমর্থক ছিলেন এবং তোরো রাজ্যের স্থানীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা আমাসাজা কাপেরও নিয়মিত সমর্থন করতেন। তার মৃত্যুর পর তোরো রাজ্যে শোকের পরিবেশ নেমে এসেছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ নয় দিনের শোক পালন শুরু করেছে এবং রাজা ওয়োর শেষকৃত্যসহ পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে ধাপে ধাপে তথ্য জানানোর কথা জানিয়েছে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বৌভাতের আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহমেদ আনাস বাপ্পি নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগের দিনই নববধূকে বাড়িতে এনেছিলেন বাপ্পি। বাপ্পি ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে। প্রায় দুই মাস আগে ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইরা খাতুনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, বৌভাত উপলক্ষে বাড়িতে অতিথিদের খাবারের জায়গা ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চলছিল। বাপ্পিও সেখানে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতির কাজ তদারকি করছিলেন। একপর্যায়ে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, স্ট্যান্ড ফ্যান সরানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাপ্পির মৃত্যু হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় বৌভাতের সব আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শুক্রবার যে বাড়িতে নববধূকে ঘিরে অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানেই বাপ্পির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ইংল্যান্ডের পশ্চিম সাসেক্স উপকূলে সাগরে ডুবে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন ৫৫ বছর বয়সী হোসাম আল-খাওয়াস, তার স্ত্রী ৩৭ বছর বয়সী জেইনা আলায়ন এবং তাদের ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সারা। পরিবারের আরেক কিশোরীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে শোরহ্যাম-বাই-সি এলাকার শোরহ্যাম ফোর্টের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টা ৪০ মিনিটে পানিতে কয়েকজনের বিপদে পড়ার খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড, উদ্ধারকারী নৌযান, অ্যাম্বুলেন্স ও আকাশপথের জরুরি চিকিৎসা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চারজনকে পানি থেকে তীরে তোলা হলেও তিনজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি লন্ডন থেকে শোরহ্যাম-বাই-সি এলাকায় বেড়াতে এসেছিল। পানিতে নামার পর তারা বিপদে পড়েন। ঘটনাটিকে এখন পর্যন্ত একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে। তৃতীয় কোনো পক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিহত হোসাম আল-খাওয়াস ছিলেন ফিলিস্তিনি শরণার্থী। ফিলিস্তিনি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, তার পরিবারের শিকড় দক্ষিণ লেবাননের রাশিদিয়েহ শরণার্থী শিবিরে। পরিবারটি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে লন্ডনে বসবাস করত। ১৪ বছর বয়সী সারা যে স্কুলে পড়ত, সেই পশ্চিম লন্ডনের এলিং এলাকার এলেন উইলকিনসন স্কুল ফর গার্লসও তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সারাকে মিষ্টি স্বভাবের এবং শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছে জনপ্রিয় একজন ছাত্রী হিসেবে স্মরণ করেছে। এই ঘটনায় ব্রিটেনে বসবাসরত ফিলিস্তিনি কমিউনিটির মধ্যেও শোক নেমে এসেছে। ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরীর দ্রুত সুস্থতার জন্যও তারা শুভকামনা জানিয়েছে। ঘটনার পর খোলা পানিতে সাঁতারের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রের স্রোত, পানির তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি কমিউনিটির সদস্যরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রথম দিনেই আবর্জনার ট্রাক থেকে পড়ে এক কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় ওই ট্রাকটির চালকের আসনে ছিলেন নিহত কর্মীরই বাবা। গত সোমবার ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএইচএনএস-এর বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে চেরোকি কাউন্টি করোনার অফিস। নিহত ওই কর্মীর নাম জন ডেরিক ডোভার (৩২)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে জন ডোভার ট্রাকটির পেছনের নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কাজ করছিলেন। ট্রাকটি মোড় ঘোরার সময় তিনি হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত স্পার্টানবার্গ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জানা গেছে, চেরোকি কাউন্টির সলিড ওয়েস্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে সেদিনই তিনি নতুন কর্মী হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছে চেরোকি কাউন্টি কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, "আমাদের এক কর্মীর এই অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এটি আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে জনের পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা ও প্রার্থনা রইল।" জনগণের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঘটনার সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে বর্তমানে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিটেনের সাসেক্সের শোরহ্যাম-বাই-সি উপকূলে সপরিবারে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক ফিলিস্তিনি দম্পতি ও তাদের ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। লন্ডনের ফিলিস্তিনি দূতাবাস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন বাবা হোসাম আল-খাওয়াস, মা জেইনা আলায়ন এবং তাদের মেয়ে সারা আল-খাওয়াস। তারা লেবাননের রাশিদিয়েহ শরণার্থী শিবির থেকে আসা ফিলিস্তিনি। মঙ্গলবার ঘটা এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় তাদের ছয় বছর বয়সী আরেক কন্যাকে উদ্ধারকর্মীরা জীবিত উদ্ধার করলেও বর্তমানে সে হাসপাতালে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, পানিতে নামার পর পরিবারের এক শিশু মাছ ধরার জালে আটকে পড়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি সম্ভবত ওই এলাকায় ক্যাম্পিং করছিল এবং একপর্যায়ে হার্বারে সবাই মিলে সাঁতার কাটতে নামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শোরহ্যাম হার্বারের সমুদ্রের তলদেশ হঠাৎ করেই অনেক গভীর হয়ে গেছে, যার ফলে সাঁতারুদের ভারসাম্য বজায় রাখা সেখানে বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ব্রিটেনে ফিলিস্তিনি ফোরাম ও ফিলিস্তিনি দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করার পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট মেয়েটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পুরো পরিবারটি বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ নিহতদের স্বজনদের খবর দিয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, এটি একটি চরম পারিবারিক ট্র্যাজেডি। সরকারের পক্ষ থেকে পানি নিরাপত্তা বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি গ্রীষ্মের দাবদাহে উন্মুক্ত জলাশয়ে সাঁতার কাটার বিপদ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করেন। আবহাওয়া গরম থাকলেও উন্মুক্ত জলাশয়ের শীতল পানি যে হঠাৎ বিপদ ডেকে আনতে পারে, সে বিষয়ে তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য জরুরি সেবাকর্মীদের প্রশংসাও করেন তিনি। ইস্ট ওয়ার্দিং এবং শোরহ্যামের সংসদ সদস্য টম রুটল্যান্ডও এই ঘটনায় স্থানীয়দের শোকাহত হওয়ার কথা জানিয়ে সমুদ্র উপকূলে সাঁতারের বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মা ও অন্য দুই প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু। চারদিকে ঘন আমাজন জঙ্গল, বিষধর সাপ ও বন্য প্রাণীর ঝুঁকি। সঙ্গে ১১ মাস বয়সী এক শিশু। এমন পরিস্থিতিতেও ১৩ বছরের বড় বোনের নেতৃত্বে চার ভাইবোন টানা ৪০ দিন নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। ২০২৩ সালে কলম্বিয়ার আমাজনে ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১ মে। একটি সেসনা ২০৬ উড়োজাহাজ কলম্বিয়ার কাকেতা অঞ্চলের আরারাকুয়ারা থেকে সান হোসে দেল গুয়াভিয়ারে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটিতে চার শিশুসহ সাতজন ছিলেন। যাত্রাপথে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পাইলট জরুরি সংকেত পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি আমাজনের দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজে থাকা চার ভাইবোন লেসলি, সোলেইনি, তিয়েন নোরিয়েল ও ক্রিস্টিন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। সে সময় তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৩, ৯, ৪ বছর এবং প্রায় ১১ মাস। পরে জঙ্গলের মধ্যে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিশুদের মা মাগদালেনা মুকুতুই। দুর্ঘটনার পর চার শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ধ্বংসাবশেষের আশপাশে পাওয়া বিভিন্ন চিহ্ন দেখে উদ্ধারকারীরা ধারণা করেন, শিশুরা বেঁচে আছে এবং জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে। এরপর তাদের উদ্ধারে বড় পরিসরে শুরু হয় ‘অপারেশন এসপেরানজা’ বা ‘অপারেশন হোপ’। চার ভাইবোনকে বাঁচিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বড় বোন লেসলির জঙ্গল সম্পর্কে জ্ঞান। শিশুরা আদিবাসী উইতোতো জনগোষ্ঠীর সদস্য। ছোটবেলা থেকেই বনজ ফল চেনা, জঙ্গলে চলাচল এবং বিপদ এড়িয়ে টিকে থাকার বিষয়ে তাদের পারিবারিক ও ঐতিহ্যগত শিক্ষা ছিল। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ থেকে পাওয়া কাসাভার আটা কিছুদিন তাদের খাবারের প্রধান উৎস ছিল। সেটি শেষ হয়ে গেলে জঙ্গল থেকে পরিচিত ফল ও বীজ সংগ্রহ করে খেতে শুরু করে তারা। লেসলি ছোট ভাইবোনদের জন্য ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ও তৈরি করেছিল। সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব ছিল তখনো এক বছর পূর্ণ না হওয়া ছোট বোন ক্রিস্টিনকে নিরাপদ রাখা। শিশুদের খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর শতাধিক সদস্যের পাশাপাশি বহু আদিবাসী অনুসন্ধানকারী জঙ্গলে নামেন। দুর্গম ভূখণ্ড সম্পর্কে আদিবাসীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তি ও উদ্ধার সক্ষমতার সমন্বয় করা হয়। হেলিকপ্টার থেকে জঙ্গলে খাবারের প্যাকেট ফেলা হয়। শিশুদের দাদির কণ্ঠে রেকর্ড করা বার্তাও লাউডস্পিকারে বাজানো হয়েছিল। সেখানে শিশুদের এক জায়গায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে উদ্ধারকারীরা সহজে তাদের খুঁজে পেতে পারেন। দিন যত গড়াচ্ছিল, জঙ্গলে একের পর এক আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। শিশুর ব্যবহৃত বোতল, অস্থায়ী আশ্রয়, খাওয়া ফলের অংশ এবং ছোট ছোট পায়ের ছাপ উদ্ধারকারীদের আশা জাগিয়ে রাখে। এসব চিহ্নই নিশ্চিত করছিল, শিশুরা দুর্ঘটনার পরও বেঁচে ছিল এবং জঙ্গলের মধ্যে চলাচল করছিল। অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জুন, দুর্ঘটনার ঠিক ৪০ দিন পর চার শিশুকে জীবিত খুঁজে পান সেনাসদস্য ও আদিবাসী অনুসন্ধানকারীদের যৌথ দল। উদ্ধারের সময় তারা অপুষ্ট ও অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তবে চারজনই জীবিত ছিল। পরে তাদের হেলিকপ্টারে করে বোগোটার একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। কলম্বিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো চার শিশুর জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে পুরো দেশের জন্য আনন্দের খবর হিসেবে বর্ণনা করেন। চার ভাইবোনের বেঁচে থাকার পেছনে তাদের আদিবাসী জ্ঞান ও জঙ্গলের সঙ্গে পরিচিতির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এই অভিযানের আরেক আলোচিত সদস্য ছিল উইলসন নামের একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে উইলসন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের আঁকা ছবিতে একটি কুকুরের উপস্থিতি দেখা যায় এবং তারা জানিয়েছিল, জঙ্গলে একটি কুকুর কিছু সময় তাদের সঙ্গে ছিল। সেটি উইলসন ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। ব্যাপক অনুসন্ধানের পরও উইলসনকে আর পাওয়া যায়নি। আমাজনের দুর্গম পরিবেশে চার শিশুর ৪০ দিন বেঁচে থাকার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের গল্প হয়ে থাকেনি। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও আদিবাসীদের শতাব্দীপ্রাচীন বনজ জ্ঞানের সমন্বয় কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে, কলম্বিয়ার ‘অপারেশন হোপ’ তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে।
উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাসিন্দা তৈওয়েব আলী। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটিয়ে স্ত্রী ও তিন কন্যার মুখে হাসি ফোটানোর আশা ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই প্রবাসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুর সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি তার মরদেহ। ফলে শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখতে এবং বাবাকে একনজর দেখতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তার স্ত্রী ও তিন কন্যা। নিহত তৈওয়েব আলী (৫৩) মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত হালিম মোল্যার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে নানা চেষ্টা করছিলেন তৈওয়েব আলী। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শুরুতে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয় করে সৌদি আরবে যান। বিদেশে যাওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে হয়েছিল। সৌদি আরবে গিয়ে তিনি রড মিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই ঋণের প্রায় দুই লাখ টাকা এখনও পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকেরা তার লিভার ক্যান্সার শনাক্ত করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, সৌদি আরবে অবস্থানরত পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি এবং দূর সম্পর্কের কিছু আত্মীয় মরদেহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ফলে মরদেহ দেশে পাঠানোর কার্যক্রম জটিল হয়ে পড়েছে। নিহতের স্ত্রী বিউটি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়েছিলেন। সংসারের জন্য কত স্বপ্ন ছিল তার। এখনও দুই লাখ টাকার বেশি ঋণ বাকি আছে। তিন মেয়েকে নিয়ে এখন কীভাবে চলব জানি না। সাতদিন হয়ে গেল, কিন্তু তার মরদেহ এখনও দেশে আসেনি। শেষবারের মতো স্বামীর মুখটা দেখতে চাই।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেশে থাকাকালে তৈওয়েব আলী কৃষিকাজের পাশাপাশি দিনমজুরি ও অন্যান্য শ্রমভিত্তিক কাজ করতেন। তার উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে গেলেও সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গ্রামের মানুষও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পরিবারের সদস্যরা চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, যদি তৈওয়েব আলী বৈধভাবে সৌদি আরবে গিয়ে থাকেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়, তাহলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিদেশে কর্মরত অনেক বাংলাদেশির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যথাযথ নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় থাকলে সাধারণত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এদিকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথভাবে দাফনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। তাদের একটাই প্রত্যাশা, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যেন স্ত্রী ও তিন কন্যা শেষবারের মতো তাদের প্রিয় মানুষটিকে দেখতে পারেন।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০টি শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫০ জনের শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংক্রমণের ভয়াবহতা বিচার করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫৩ জনে এবং নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসে ১০ হাজার ২২৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৬৫৬ জন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং শিশুদের দ্রুত টিকাদানের পরামর্শ দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের New York অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে Claverack এলাকার স্টেট রুট ৯এইচ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় শেরিফ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লাউডনভিলের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল একটি টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি চালিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা ছিলেন। পথিমধ্যে অজানা কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টয়োটা ক্রাউনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই নাজমুল রুবেল নিহত হন। এ ঘটনায় তার বাবা ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী বন্ধু ফাহিম হালিমও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অপর গাড়ির ৬২ বছর বয়সী যাত্রী জুলিয়া রিচিও নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় Albany Medical Center-এ ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। এছাড়া এক বছর বয়সী শিশুকন্যা ইকরা আয়াতকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে; সে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, অপর গাড়ির চালক ২৪ বছর বয়সী লুক পালভেনিয়ান আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। কীভাবে গাড়িটি কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। নিহতদের জানাজা বুধবার (৮ এপ্রিল) যোহরের পর Baitul Aman Islamic Center-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় নির্বিচারে ছোড়া গুলিতে ৭ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে পূর্ব উইলিয়ামসবার্গ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, শিশুটি তার মা-বাবার সঙ্গে স্ট্রোলারে করে বাইরে বেরিয়েছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে প্রথমে তারা এটিকে আতশবাজি মনে করেছিলেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, একটি মোটরচালিত মোপেডে থাকা বন্দুকধারীরা ভিড়ের দিকে গুলি ছোড়ে। গুলির একটি শিশুটির মাথায় লাগে, এবং ঘটনাস্থলেই সে মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। একই ঘটনায় তার ছোট ভাইও সামান্য আহত হয়েছে। শিশুটির মা জানান, আমার মেয়ে একদম নির্দোষ ছিল। সে এটা প্রাপ্য ছিল না।' পরিবার জানায়, শিশুটি সদ্য 'মা' বলা শিখেছিল এবং হামাগুড়ি দেওয়া শুরু করছিল। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ঘটনাটি গ্যাং-সংক্রান্ত হতে পারে। সন্দেহভাজনরা মোপেডে করে এসে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তারা একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায়, এবং একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, শিশুটি লক্ষ্যবস্তু ছিল না; সে পথচারীদের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়। অন্য সন্দেহভাজনকে ধরতে পুলিশ ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। শিশুটির পরিবার এই ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেছে।
তুরস্কের জলসীমায় এক ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে এজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, একটি মোটরচালিত রাবার বোটে করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি দল সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিল। তুরস্কের কোস্টগার্ড বারবার নৌকাটিকে থামার সংকেত দিলেও চালক তা উপেক্ষা করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে একপর্যায়ে নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বোদরুমের কাছে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কোস্টগার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।