আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নেমেই নতুন এক ইতিহাস গড়লেন মেক্সিকোর উইঙ্গার হুলিয়ান কুইনোনাস। ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৮ মিনিট, ঠিক তখনই এক নির্ভুল ও দুর্দান্ত স্ট্রাইকে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়ান তিনি। এই এক গোলের মাধ্যমেই কুইনোনাস ভেঙে দিয়েছেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অক্ষত থাকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের রেকর্ড। এক যুগেরও বেশি সময় আগে, ২০১৪ সালের সাও পাওলোর সেই রাতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১১ মিনিটে ব্রাজিলের তারকা মার্সেলোর আত্মঘাতী গোলটি ছিল এতদিন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের তালিকায় সবার ওপরে। মার্সেলোর সেই স্মৃতিকে পেছনে ফেলে আজতেকার গ্যালারি কাঁপিয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন মেক্সিকান এই ফরোয়ার্ড। উদ্বোধনী ম্যাচের দ্রুততম গোলের এই নতুন রেকর্ডটি কুইনোনাস নিজের করে নিলেও, বিশ্বকাপের সর্বকালের দ্রুততম গোলের রেকর্ডের সিংহাসনটি কিন্তু এখনও অনেক দূরের পথ। মেক্সিকান এই উইঙ্গারের গোলটি বর্তমান টুর্নামেন্টে দারুণ শুরুর বার্তা দিলেও, বিশ্বকাপের সর্বকালের দ্রুততম গোলের অনন্য রেকর্ডটির তুলনায় এটি বেশ পিছিয়ে আছে। কুইনোনাসের গোলটি আসতে মূলত ৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড বেশি সময় লেগেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের অবিসংবাদিত রেকর্ডটি এখনও তুরস্কের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার হাকান শুকুরের দখলে। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রেফারির বাঁশি বাজার মাত্র ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে তিনি এক মহাকাব্যিক রেকর্ড গড়েছিলেন, যা আজও যেকোনো ফুটবলারের জন্য এক অলীক চ্যালেঞ্জ হিসেবে টিকে আছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় পা রাখার আগে কুইনোনাস সৌদি প্রো লিগে কাটিয়েছেন দুর্দান্ত এক মৌসুম। ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। লিগে সর্বোচ্চ ৩৩টি গোল করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন, এমনকি ঘরোয়া লিগের শেষ সপ্তাহেও হ্যাটট্রিক করে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের জানান দিয়েছিলেন। সৌদি লিগের সেই অসাধারণ ছন্দের ধারাবাহিকতা কুইনোনাস এবার বজায় রাখলেন মেক্সিকোর জাতীয় জার্সি গায়েও। এবারের বিশ্বকাপের স্বপ্নের মিশনে 'এল ট্রাই'দের আক্রমণভাগে কুইনোনাস এখন আস্থার প্রতীক। মেক্সিকোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের পথে ফরোয়ার্ডদের ফর্মে থাকা যেখানে অপরিহার্য ছিল, সেখানে কুইনোনাস সেই পরীক্ষায় যেন নিজেকে শতভাগ প্রমাণ করেই বিশ্বমঞ্চে হাজির হয়েছেন।
অ্যাথলেটিক্সের দুনিয়ায় এখন সবথেকে আলোচিত নাম ১৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় স্প্রিন্টার গাউট গাউট। গতি আর দৌড়ানোর ধরনে কিংবদন্তি উসাইন বোল্টের সাথে তার মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি সম্প্রতি ২০০ মিটার দৌড়ে বোল্টের গড়া অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন এই তরুণ। নিজের ছায়া দেখতে পাওয়া সেই গাউট গাউটকে এবার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন খোদ ‘গতিদানব’ উসাইন বোল্ট। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিএনএন স্পোর্টসের সাথে আলাপকালে বোল্ট জানান, গাউট গাউটের প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে এই বয়সে মনোযোগ ধরে রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। বোল্ট বলেন, "এত অল্প বয়সে চারপাশ থেকে অনেক মনোযোগ এবং প্রলোভন আসবে। ডানে-বামে হাজারো হাতছানি তোমাকে ট্র্যাক থেকে দূরে সরিয়ে নিতে চাইবে।" বোল্ট আরও যোগ করেন, "আমি আশা করি তার পাশে এমন কিছু সঠিক মানুষ থাকবে যারা তাকে সঠিক পথ দেখাবে এবং শুধুমাত্র অ্যাথলেটিক্সেই ফোকাস রাখতে সাহায্য করবে। কারণ সাফল্য এলে বাকি সব সুযোগ এমনিতেই আসবে। কিন্তু যদি মাঠের খেলায় ভুল হয়ে যায়, তবে অর্জিত সবকিছুই হারিয়ে যেতে পারে।" দক্ষিণ সুদান বংশোদ্ভূত গাউট গাউট এরই মধ্যে অ্যাথলেটিক্স বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। চলতি মাসে অস্ট্রেলীয় সিনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০ মিটার দৌড়ে ১৯.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি নতুন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্ব রেকর্ড গড়েন, যা ২০০৪ সালে করা বোল্টের রেকর্ডকেও (১৯.৯৩ সেকেন্ড) ছাড়িয়ে গেছে। আগামী জুনে ডায়মন্ড লিগে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন লেটসিলে তেবোগোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এই বিস্ময় বালক।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশটিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবৃদ্ধির এই হার দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম দ্রুততম বর্ধনশীল অভিবাসী গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। সম্প্রতি মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (MPI) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে উন্নত জীবনযাপন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশিদের এই প্রবৃদ্ধির হার অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের পরে তালিকার অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান এবং নেপাল। বাংলাদেশের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি মার্কিনী অর্থনীতি ও সমাজে বাঙালিদের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শ্রমশক্তির প্রায় ১৮ শতাংশই অভিবাসী। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি অভিবাসী মার্কিন শ্রমবাজারে সক্রিয় রয়েছেন। মজার বিষয় হলো, অভিবাসী পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় আয় (৮২,৪০০ ডলার) বর্তমানে মার্কিন বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর গড় আয়ের (৮১,৪০০ ডলার) তুলনায় কিছুটা বেশি। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক কারণে দেওয়া সুরক্ষা (Humanitarian protections) বাতিল এবং অস্থায়ী ভিসা ও গ্রিন কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন কমে গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রযুক্তির দৌড়ে এবার রক্ত-মাংসের মানুষকে পেছনে ফেলে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র। চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক হাফ-ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়েছে একটি ‘হিউম্যানয়েড’ বা মানবসদৃশ রোবট। মানুষের গড়া বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুততম সময়ে ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এই চীনা উদ্ভাবন। রোববার বেইজিং ইকোনমিক-টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এরিয়াতে (বেইজিং ই-টাউন) আয়োজিত এই বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতায় চিনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অনার’ (Honor)-এর তৈরি একটি রোবট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২১ কিলোমিটার বা ১৩ মাইলের এই পথ পাড়ি দিতে রোবটটি সময় নিয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড। বর্তমানে হাফ-ম্যারাথনে মানুষের দ্রুততম সময়ের বিশ্বরেকর্ডটি উগান্ডার অ্যাথলেট জ্যাকব কিপ্লিমোর দখলে। ২০২১ সালে লিসবনে তিনি ৫৭ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। বেইজিংয়ের এই রোবটটি কিপ্লিমোর চেয়েও প্রায় ৭ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করে প্রযুক্তির অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজকরা জানান, অংশ নেওয়া রোবটগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে (Autonomously) পথ খুঁজে দৌড়েছে, বাকিগুলো রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তবে বিজয়ী রোবটটি নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করেই এই সাফল্য পেয়েছে। অবশ্য পুরো প্রতিযোগিতাটি নিখুঁত ছিল না। দৌড় শুরুর লাইনেই একটি রোবট আছড়ে পড়ে এবং অন্য একটি রোবট বেরিয়ারে ধাক্কা খায়। তা সত্ত্বেও গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। উপস্থিত দর্শক সান ঝিগ্যাং বলেন, "গত বছরের তুলনায় এবার রোবটদের বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। রোবট মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এটা আগে কখনো কল্পনাও করিনি।" উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬-২০৩০ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বেইজিং। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অমডিয়া’র মতে, বর্তমানে চীনের এজিবট (AGIBOT) ও ইউনিট্রির (Unitree) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে হাজার হাজার হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করছে, যা এই খাতে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ব ক্রিকেটে এক অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য ইতিহাস গড়লেন ব্রাজিলের ২১ বছর বয়সী পেসার লরা কার্দোসো। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক ইনিংসে ৯ উইকেট নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। নারী বা পুরুষ— ক্রিকেটের কোনো সংস্করণেই এর আগে এমন কীর্তি কেউ গড়তে পারেননি। লেসোথোর বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ৩ ওভার বোলিং করে মাত্র ৪ রান খরচায় ৯টি উইকেট তুলে নেন কার্দোসো। তার এই বিধ্বংসী স্পেলে ছিল একটি হ্যাটট্রিকও। লরার এই জাদুকরী পারফরম্যান্সে লেসোথো মাত্র ১৩ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং ব্রাজিল ১৮৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়। এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিং ফিগার ছিল ভুটানের সোনম ইয়োশের (৮/৭)। নারী ক্রিকেটে এই রেকর্ড ছিল ইন্দোনেশিয়ার রহমালিয়ার (৭/০)। লরা কার্দোসো আজ সেই সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে ক্রিকেট বিশ্বকে নতুন এক উচ্চতা দেখালেন।
ক্রিকেট বিশ্ব আজ এক নতুন বিস্ময়বালিকার সাক্ষী হলো। মাত্র ১৫ বছর ২২৩ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন রুয়ান্ডার ফ্যানি উতাগুশিমানিন্দে। নারী কিংবা পুরুষ—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে এত কম বয়সে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়ার নজির আর দ্বিতীয়টি নেই। নাইজেরিয়া আমন্ত্রণমূলক নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ঘানার বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দেন এই কিশোরী। ৬৫ বলের বিধ্বংসী ইনিংসে ১৭টি চারের সাহায্যে তিনি করেন ১১১ রান। এটি কেবল রেকর্ড বইয়ের নতুন পাতাই নয়, বরং অভিষেক ম্যাচে কোনো নারী ক্রিকেটারের করা সর্বোচ্চ রানের নতুন বিশ্বকীর্তিও বটে। এর আগে অভিষেক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯৬ রানের রেকর্ড ছিল অস্ট্রেলিয়ার কারেন রোল্টনের। উতাগুশিমানিন্দে ভেঙে দিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের অ্যামি হান্টারের রেকর্ড। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের ১৬তম জন্মদিনে হান্টার করেছিলেন ১২১ রান। এমনকি ছেলেদের ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান শহীদ আফ্রিদির রেকর্ডও এখন এই রুয়ান্ডান কিশোরীর পেছনে। আফ্রিদি ১৬ বছর ২১৭ দিন বয়সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন। উতাগুশিমানিন্দের এই অতিমানবীয় ইনিংসের ওপর ভর করে রুয়ান্ডা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১০ রানের বিশাল পুঁজি গড়ে। জবাবে মাত্র ৮৮ রানেই থমকে যায় ঘানার ইনিংস। ১২২ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রুয়ান্ডা। বল হাতে দলটির বেলিসে মুরেকাতেতে শিকার করেন ৩টি উইকেট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।