সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

মানুষকে ছাড়িয়ে গেল যন্ত্রমানব: বেইজিং হাফ-ম্যারাথনে হিউম্যানয়েড রোবটের বিশ্বরেকর্ড

ইসমাইল হোসাইন প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ০:৩৬
ছবি: সংগৃহীত।
ছবি: সংগৃহীত।

প্রযুক্তির দৌড়ে এবার রক্ত-মাংসের মানুষকে পেছনে ফেলে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র। চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক হাফ-ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়েছে একটি ‘হিউম্যানয়েড’ বা মানবসদৃশ রোবট। মানুষের গড়া বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুততম সময়ে ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এই চীনা উদ্ভাবন।


রোববার বেইজিং ইকোনমিক-টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এরিয়াতে (বেইজিং ই-টাউন) আয়োজিত এই বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতায় চিনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অনার’ (Honor)-এর তৈরি একটি রোবট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২১ কিলোমিটার বা ১৩ মাইলের এই পথ পাড়ি দিতে রোবটটি সময় নিয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড।


বর্তমানে হাফ-ম্যারাথনে মানুষের দ্রুততম সময়ের বিশ্বরেকর্ডটি উগান্ডার অ্যাথলেট জ্যাকব কিপ্লিমোর দখলে। ২০২১ সালে লিসবনে তিনি ৫৭ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। বেইজিংয়ের এই রোবটটি কিপ্লিমোর চেয়েও প্রায় ৭ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করে প্রযুক্তির অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।


প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজকরা জানান, অংশ নেওয়া রোবটগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে (Autonomously) পথ খুঁজে দৌড়েছে, বাকিগুলো রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তবে বিজয়ী রোবটটি নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করেই এই সাফল্য পেয়েছে।


অবশ্য পুরো প্রতিযোগিতাটি নিখুঁত ছিল না। দৌড় শুরুর লাইনেই একটি রোবট আছড়ে পড়ে এবং অন্য একটি রোবট বেরিয়ারে ধাক্কা খায়। তা সত্ত্বেও গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। উপস্থিত দর্শক সান ঝিগ্যাং বলেন, "গত বছরের তুলনায় এবার রোবটদের বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। রোবট মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এটা আগে কখনো কল্পনাও করিনি।"


উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬-২০৩০ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বেইজিং। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অমডিয়া’র মতে, বর্তমানে চীনের এজিবট (AGIBOT) ও ইউনিট্রির (Unitree) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে হাজার হাজার হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করছে, যা এই খাতে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
নাসার ইন্টার্নশিপের তৃতীয় দিনেই ১৭ বছরের কিশোরের গ্রহ আবিষ্কার
নাসার ইন্টার্নশিপের তৃতীয় দিনেই ১৭ বছরের কিশোরের গ্রহ আবিষ্কার

নাসায় ইন্টার্নশিপ শুরুর মাত্র তিন দিনের মাথায় নতুন একটি গ্রহ শনাক্ত করে আলোচনায় আসেন ১৭ বছর বয়সী উলফ কুকিয়ার। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের স্কারসডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী কুকিয়ার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে গ্রীষ্মকালীন ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার সময় নাসার টিইএসএস মহাকাশ টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করছিলেন। সেখানেই ধরা পড়ে পৃথিবী থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরের এক অদ্ভুত গ্রহের সংকেত।    কুকিয়ারের কাজ ছিল এমন নক্ষত্রের তথ্য খতিয়ে দেখা, যেগুলো পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর একে অপরের আলো আড়াল করে। এমন একটি নক্ষত্রজোড়ার তথ্য বিশ্লেষণের সময় তিনি উজ্জ্বলতায় অস্বাভাবিক হ্রাস দেখতে পান। প্রথমে তার ধারণা হয়েছিল, একটি নক্ষত্র অন্যটির সামনে চলে যাওয়ায় এই পরিবর্তন ঘটেছে। কিন্তু সংকেতটির সময়ের হিসাব সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলছিল না।   আরও বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, সেটি কোনো নক্ষত্রের গ্রহণ নয়। বরং নক্ষত্র দুটির চারপাশে একটি গ্রহ ঘুরছে। গ্রহটির নাম দেওয়া হয় টিওআই ১৩৩৮ বি।   এই আবিষ্কারটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এটি নাসার টিইএসএস মিশনে শনাক্ত হওয়া প্রথম সার্কামবাইনারি গ্রহ। অর্থাৎ গ্রহটি একটি নয়, দুটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এমন গ্রহকে অনেক সময় ‘দুই সূর্যের গ্রহ’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়।    টিওআই ১৩৩৮ বি পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৯ গুণ বড়। আকারের দিক থেকে এটি নেপচুন ও শনির মাঝামাঝি। গ্রহটি পিক্টর নক্ষত্রমণ্ডলের একটি নক্ষত্রজোড়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। ওই দুই নক্ষত্র একে অপরকে প্রায় ১৫ দিনে একবার প্রদক্ষিণ করে, আর গ্রহটি তাদের চারপাশে একবার ঘুরতে প্রায় ৯৫ দিন সময় নেয়।    টিইএসএস গ্রহটির গতিবিধি শনাক্ত করতে পেরেছিল যখন এটি বড় নক্ষত্রটির সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল। এই সময় নক্ষত্রটির আলো সামান্য কমে যায়। এমন আলোর পরিবর্তন বিশ্লেষণ করেই দূরের গ্রহ শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।    নাসার তথ্য অনুযায়ী, টিওআই ১৩৩৮ বি সম্ভবত একটি গ্যাসীয় গ্রহ। এটি বসবাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণকারী সব গ্রহ যে প্রাণের জন্য অনুপযোগী হবে, এমন নয়। সঠিক দূরত্ব ও পরিবেশ থাকলে এ ধরনের কিছু গ্রহে বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।    কুকিয়ারের আবিষ্কার পরে বৈজ্ঞানিক গবেষণার অংশ হয় এবং তিনি ওই গ্রহ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সহলেখকও হন। নাসার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন দিনের ইন্টার্নশিপেই পাওয়া ওই সংকেত শেষ পর্যন্ত টিইএসএস মিশনের একটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কারে পরিণত হয়।    সাধারণত ইন্টার্নশিপের প্রথম কয়েক দিন নতুন পরিবেশ ও কাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই কেটে যায়। আর উলফ কুকিয়ারের ক্ষেত্রে সেই সময়টুকুই যথেষ্ট হয়েছিল মহাকাশের ১ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরের একটি নতুন পৃথিবীর সন্ধান পাওয়ার জন্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৩:২৯
পরিবারের কাছ থেকে পরিচয় লুকাতে ইমোজি মাস্ক পরে ১৮ কোটি টাকার লটারি নিলেন নারী

পরিবারের কাছ থেকে পরিচয় লুকাতে ইমোজি মাস্ক পরে ১৮ কোটি টাকার লটারি নিলেন নারী

বছরের পর বছর না খেয়ে একই জায়গায় থাকে ৭ বছর

প্রায় ১০০ বছর বাঁচে গুহার এই প্রাণী! বছরের পর বছর না খেয়ে একই জায়গায় থাকে ৭ বছর

আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান

আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান: নেতানিয়াহু

বৃষ্টিতে পর জেগে ওঠে ‘নাগার চোখ’, থাইল্যান্ডের নাকা গুহায় প্রকৃতির বিস্ময়
বৃষ্টিতে পর জেগে ওঠে ‘নাগার চোখ’, থাইল্যান্ডের নাকা গুহায় প্রকৃতির বিস্ময়

থাইল্যান্ডের বুয়েং কান প্রদেশের ফু লাংকা ন্যাশনাল পার্কের নাকা গুহায় বর্ষাকালে দেখা মিলছে এক বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্যের। বৃষ্টির পানি গুহার পাথরের প্রাকৃতিক গর্তে জমে সূর্যের আলো প্রতিফলিত করলে পাথরের ওপর তৈরি হয় বিশাল এক চোখের মতো অবয়ব, যা স্থানীয়ভাবে ‘নাগার চোখ’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষও এই প্রাকৃতিক দৃশ্যকে বর্ষাকালের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেছে।    নাকা গুহা ফু লাংকা ন্যাশনাল পার্কের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। পুরো এলাকাজুড়ে থাকা বেলেপাথরের স্তরে দীর্ঘ সময়ের ক্ষয় ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে তৈরি হয়েছে সাপের শরীরের আঁশের মতো নানা নকশা। পাথরের বিভিন্ন অংশের আকৃতি দেখে অনেক দর্শনার্থীর কাছে পুরো পাহাড়টিই বিশাল এক কুণ্ডলী পাকানো সাপের মতো মনে হয়।   তবে বর্ষাকালেই এই দৃশ্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। পাথরের একটি প্রাকৃতিক গর্তে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ মিটার গভীর পর্যন্ত পানি জমতে পারে। বৃষ্টির মৌসুমে পানি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় সূর্যের আলো সেই পানিতে প্রতিফলিত হয়ে পাথরের ওপর চোখের মতো উজ্জ্বল অবয়ব তৈরি করে। থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়টিই এই দৃশ্য দেখার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।    এই ‘চোখ’ কোনো জীবন্ত প্রাণীর চোখ নয়, বরং পাথরের গর্ত, জমে থাকা পানি এবং সূর্যের আলোর সমন্বয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক আলোক-ভ্রম। বৃষ্টির পর ভেজা পাথরের গাঢ় অংশ এবং পানির প্রতিফলনের কারণে দূর থেকে এটি অনেকটা বিশাল সাপের চোখের মতো দেখায়।   নাকা গুহাকে ঘিরে থাইল্যান্ডের নাগা সংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসেরও গভীর প্রভাব রয়েছে। দেশটির লোককথায় নাগাকে পৌরাণিক সর্প হিসেবে দেখা হয়, যার সঙ্গে মেকং নদী ও বিভিন্ন পবিত্র স্থানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নাকা গুহা শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান নয়, অনেক দর্শনার্থীর কাছে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের সঙ্গেও যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।   প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীদের পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতে হয়। ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের পাথরের ওপর হাত না দেওয়া, কোনো ধরনের দাগ বা লেখা না করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতি না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।    বর্ষার পানিতে পাথরের গায়ে তৈরি হওয়া এই ক্ষণস্থায়ী দৃশ্য এখন নাকা গুহার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন, আলো ও পানির প্রতিফলন কীভাবে মানুষের চোখে একটি জীবন্ত প্রাণীর অবয়ম তৈরি করতে পারে, ‘নাগার চোখ’ তারই এক চমকপ্রদ উদাহরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ০:৫০
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সরকারি বাসভবনে তেলাপোকার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

বাসভবন থেকে তেলাপোকা তাড়ানোর পর ‘মন খারাপ ও একাকী’ বোধ করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

এল সালভাদরে পুরোহিতের ছদ্মবেশে চলাফেরা করার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির শরীরে এমএস-১৩ সংশ্লিষ্ট ট্যাটু পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে যাজক সাজলেন গ্যাং সদস্য, তবে শেষ রক্ষা হলো না ট্যাটুর কারণে

নিজের বাড়ি ভেবে ১১ বছর ধরে বাবা-মাকে কিস্তির টাকা দিয়ে আসছিলেন মেয়ে ব্রায়ানা লেন। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির কিস্তি ভেবে বাবা-মাকে দিলেন ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার, ১১ বছর পর জানলেন তিনি নাকি শুধু ভাড়াটিয়া

জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত সমাধানে ‘একমাত্র পথ’ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান: জর্ডান-চীন

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।   সোমবার বেইজিংয়ে বৈঠকে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জনগণের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।   চীন সফরে বাদশাহ আবদুল্লাহ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন।   বৈঠকে জর্ডান ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আলোচনার পর বেইজিংয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   আগামী বছর জর্ডান ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খনিজ, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, মানবসম্পদ ও সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানায়, তাদের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে সবুজ অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত শিল্পখাতেও সম্প্রসারিত হবে।   বৈঠকে জর্ডান চীনের ‘ওয়ান-চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং।   এদিকে, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। জর্ডান ও চীন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথেই এগোতে হবে।   এ বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে জর্ডান ও চীনের অভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৫:৫১
ন্যাশনাল চিপ ফ্লাইট ডে

সস্তায় ফ্লাইট টিকিট কিনতে চান? কখন বুক করলে খরচ কম হতে পারে জেনে নিন

রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস

সন্তান থাকলে দম্পতিদের বিয়ে করা উচিত, বললেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার

মোজতবা হোসেইনি খামেনি ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরানে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান, মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি

0 Comments